ব্রায়ান লাকহার্স্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ব্রায়ান লাকহার্স্ট
ব্রায়ান লাকহার্স্ট.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামব্রায়ান উইলিয়াম লাকহার্স্ট
জন্ম(১৯৩৯-০২-০৫)৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯
সিটিংবোর্ন, কেন্ট
মৃত্যু১ মার্চ ২০০৫(2005-03-01) (বয়স ৬৬)
কেন্ট
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেফট-আর্ম স্লো অর্থোডক্স
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৪৫)
২৭ নভেম্বর ১৯৭০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট১৭ ডিসেম্বর ১৯৭৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৩০)
১ জানুয়ারি ১৯৭৫ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই৯ মার্চ ১৯৭৫ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৮–১৯৭৬কেন্ট
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২১ ৩৮৯ ১৫৩
রানের সংখ্যা ১,২৯৮ ১৫ ২২,৩০৩ ৫,৪৮৫
ব্যাটিং গড় ৩৬.০৫ ৫.০০ ৩৮.১২ ৪০.৬২
১০০/৫০ ৪/৫ ০/০ ৪৮/১১৫ ৭/৩৯
সর্বোচ্চ রান ১৩১ ১৪ ২১৫ ১৪২
বল করেছে ৫৭ ৫৬,৪৩ ২৬৬
উইকেট ৬৪
বোলিং গড় ৩২.০০ ৪২.৮৭ ২২.৮৭
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৯ ৪/৩২ ৩/২২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৪/– ০/– ৩৯২/– ৬২/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ব্রায়ান উইলিয়াম লাকহার্স্ট (ইংরেজি: Brian Luckhurst; জন্ম: ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৯ - মৃত্যু: ১ মার্চ, ২০০৫) কেন্টের সিটিংবোর্নে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, দলের প্রয়োজনে মাঝে-মধ্যে স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন ব্রায়ান লাকহার্স্ট

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

কেন্টের সিটিংবোর্নে ব্রায়ান লাকহার্স্টের জন্ম। কেন্টের মূল একাদশে বামহাতি স্পিনার হিসেবে অংশ নিতেন। ১৯৬১ সালের শেষদিকে কেন্টের সদস্য থেকে তাঁকে মুক্তি দেবার চিন্তা-ভাবনা চলতে থাকে। মাত্র এক বছর চুক্তির মেয়াদ সম্পন্ন হবার পূর্বে তিনি নিজের কৌশল গ্রহণে পুণঃচিন্তা করতে থাকেন ও ব্যাটিংয়ের দিকে জোর দেন। ঐ সময় তাঁর দলের ব্যাটিং নির্ভরতা কম ছিল। ব্যাটিংয়ের অবস্থান পরিবর্তন করে আশাতীত সাফল্য লাভ করেন ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রায় ২,০০০ রান সংগ্রহ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রায় ২,০০০ রান সংগ্রহ করেন।

১৯৫৮ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের পক্ষে খেলেছেন। মূলতঃ ব্যাটিং উদ্বোধনে মাঠে নামতেন। তবে, আপদকালীন সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে আরও একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

সমগ্র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ৩৫৫টি খেলায় অংশ নিয়েছেন ব্রায়ান লাকহার্স্ট। এ সময়ে ৩৮.১২ গড়ে ২২,৩০৩ রান তুলেছেন। ১৪ মৌসুমে সহস্রাধিক রান তুলেন। তন্মধ্যে, ১৯৬৯ সালে ৪৭.৮৫ গড়ে এক মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১,১৯৪ সংগ্রহ করেছিলেন। পুরো খেলোয়াড়ী জীবনে ৪৮টি সেঞ্চুরি করেছেন। ১৯৭৩ সালে ডার্বির কাউন্টি গ্রাউন্ডে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৫ রানের ইনিংস খেলেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ২১ টেস্টে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেন। পাশাপাশি তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিকেও অংশগ্রহণ ছিল তাঁর। ২৭ নভেম্বর, ১৯৭০ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে তাঁর। ১৯৭০ সালে বাদ-বাকী বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে অভিষেক ঘটে তাঁর। টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের একমাত্র বিজয়ে তিনি অপরাজিত ১১৩ রান তুলেন। তবে, আইসিসি পরবর্তীতে এ সিরিজটিকে টেস্টের মর্যাদা দেয়নি ও রানগুলো তাঁর টেস্টের ব্যাটিং গড় থেকে বাদ পড়ে যায়।

১৯৭০-৭১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ঐ সিরিজেই তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫৬.৮৭ গড়ে ৪৫৫ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, দুইটি সেঞ্চুরিও করেছিলেন ব্রায়ান লাকহার্স্ট। সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।

জিওফ বয়কটজন এডরিচের সাথে প্রথম উইকেট জুটিতে ৬৯.৯৩ গড়ে ৬২৪ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, উদ্বোধনী জুটিতে দুইটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন। পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডের প্রথম টেস্ট ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি করার ফলে মাঠের প্রথম সেঞ্চুরিকারী হন। প্রস্তুতিমূলক খেলায় নর্দার্ন নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ১১১ ও ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন। তবে আঙ্গুলে চোঁট পেয়ে রিটায়ার হার্ট হতে বাধ্য হন। মেলবোর্নের পঞ্চম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভাঙ্গা হাত নিয়েও ১০৯ রান তুলেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। ষষ্ঠ টেস্টে দলের বাইরে অবস্থান করেন। জিওফ বয়কটের অনুপস্থিতিতে ব্রায়ান লাকহার্স্ট সপ্তম টেস্টে মাঠে নামেন। তবে, গার্থ ম্যাকেঞ্জির বলে পুণরায় আহত হন। এ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। জন এডরিচের সাথে প্রথম উইকেটে ৯৪ রান তুলেন। এডরিচ ৫৭ রান তুলেন। ফলে, ইংল্যান্ড দল ৮০ রানে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০২ তুলে। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া দল ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় ও স্বাগতিক দলকে ৬২ রানে পরাজিত করে অ্যাশেজ করায়ত্ত্ব করে।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলারদের যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হননি। ফলশ্রুতিতে, ১৯৭৬ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন। তাসত্ত্বেও, ক্যান্টারবারিতে কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর ব্যবস্থাপক ও যুব উন্নয়নে জড়িত থাকার পর সর্বশেষ পর্যায়ে ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে ক্রিকেট ম্যানেজার ও পরবর্তীতে ক্রিকেট প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। এরপর ক্লাবের সভাপতির আসনও অলঙ্কৃত করেন ও মৃত্যু-পূর্ব পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন ব্রায়ান লাকহার্স্ট। এছাড়াও, অল-রাউন্ডারের ভূমিকায়ও অবতীর্ণ হতেন তিনি। ৪২.৮৭ গড়ে ৬৪ উইকেট পান। ডানহাতে ব্যাটিং করলেও স্লো লেফট-আর্ম স্পিন বোলিংয়ে অভ্যস্ত ছিলেন। তবে, খুব কম সময়ই টেস্ট খেলায় তাঁকে বোলিং করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতো।

খেলায় জয়ের কোন সম্ভাবনা না থাকলেই কেবল তিনি বল হাতে মাঠে নামতেন। এ পর্যায়ে একটিমাত্র টেস্ট উইকেট পান তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ব্যক্তিগত জীবনে দুইবার পাণিগ্রহণ করেছেন ব্রায়ান লাকহার্স্ট। তন্মধ্যে, এলেইনের সংসারে দুই পুত্র ও এক সৎপুত্র ছিল। ১ মার্চ, ২০০৫ তারিখে কণ্ঠনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৬৬ বছর বয়সে কেন্টে ব্রায়ান লাকহার্স্টের দেহাবসান ঘটে।

‘বুট বয় টু প্রেসিডেন্ট’ শীর্ষক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 114। আইএসবিএন 1-869833-21-X 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]