ব্রজানন্দ সরস্বতী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

"জগৎ গুর্ব্বাচার্য্য পরমহংস পরিব্রাজক শ্রীমৎ স্বামী ব্রজানন্দ জীউ" (১৭১৯ - ১৯৭৯খ্রিঃ) হলেন সনাতন ধর্মের পরমপুরুষ(পরম সত্ত্বা) এবং তাঁর অনুসারীদের মধ্যে তিনিই আরাধ্য ভগবান । "পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম্মাবলম্বী চিরস্মরণীয় সাধক ও মহাপুরুষগণের মধ্যে ঠাকুর ব্রজানন্দের স্থান একটু স্বতন্ত্র কারণ তিনি সাধক নহেন স্বয়ং স্বাধ্য উপাসক নহেন উপাস্য"- তাঁর শিষ্যসমাজে, এমনকি তাঁর আধুনিক ভক্তসমাজেও তিনি ঈশ্বরের অবতাররূপে পূজিত হন।

ভগবান ব্রজানন্দই ভব ভয় হারি সেই গোলকের শ্রীহরি যিনি বার বার এসেছেন নানা রুপে জীবের ত্রাণের জন্য ।

ব্রজানন্দ সরস্বতী
ব্রজানন্দ.jpeg
উপাধিসরস্বতী
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্মমাঘীপূর্ণিমা, ১৭১৯ খ্রিঃ তে আবির্ভাব
মৃত্যুনিত্যানন্দ ত্রয়োদশী, ১৯৭৯খ্রিঃ তে তিরোধান
ধর্মব্রজানন্দ ধর্ম
দর্শনবেদান্ত দর্শন
ঊর্ধ্বতন পদ
ওয়েবসাইটhttps://brojananda.com/

জীবনী[সম্পাদনা]

ভগবান ব্রজানন্দের আবির্ভাব(১৭১৯ – ১৯৭৯খ্রিঃ)ভারত বর্ষের কনৌজে। তাঁর গুরু পিতার নাম ত্রিপুরানন্দ যিনি ছিলেন কঠোরতপা উগ্র শিবসাধক এবং মাতার নাম দূর্গাবতী। উল্লেখ্য দাদাগুরুর নাম স্বামী মথুরানন্দ সরস্বতী। যে দিন "স্বামী ব্রজানন্দ" ভূমিষ্ঠ হন সেদিন পূর্ব্বাহ্নে তিনি(স্বামী মথুরানন্দ সরস্বতী) স্বপ্নে পান তিনি(স্বামী ব্রজানন্দ) স্বয়ং ভগবান বুড়াশিব এবং তিনি রাধাকৃষ্ণের পূর্ণ ভাবকান্তি নিয়ে আসছেন। মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন শিবোহহম্‌ শিবোহহম্‌ ধ্বনি মুখে নিয়ে সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর সহজাত কোঁয়া কোঁয়া ধ্বনিতে মুখর হননি। উগ্র শিবসাধক স্বামী ত্রিপুরানন্দ সদ্যজাত শিশুর মুখে সাবলীল শিবোহহম্‌ ধ্বনি শুনে তৎক্ষণাৎ বিল্ল পত্রাঞ্জলিযোগে ঐ শিবোহহম্‌ মুখর শিশুকে ভক্তি দেন। তৎপরে কনৌজে বিদগ্ধ ব্রাহ্মণ ও পন্ডিৎ সমাজ সদ্যজাত শিশুর অলৌকিকত্ব প্রত্যক্ষ করেন ও ভক্তি দেন।

ব্রজানন্দের মায়ের মৃত্যুর পর স্বামী মথুরানন্দ সরস্বতীর আদেশে গুরু পিতা ত্রিপুরানন্দ সন্ন্যাস নেন এবং ৩/৪ বছর বয়সে শিশু স্বামী ব্রজানন্দকে নিয়ে গুরু পিতা তীর্থ ভ্রমনে বেরিয়ে যান। গুরুপিতার স্কন্ধে চেপে তিনি ভ্রমণ করেছেন ভারতের সমস্ত তীর্থক্ষেত্র ।

উত্তর-পূর্ব ভূখন্ড পরিক্রমায় কোন এক মঠে অবস্থান কালে রাত্রিতে স্বপ্নে দেখেন বুড়াশিব ধাম সম্পর্কে এবং স্বপ্নাদেশ মোতাবেক স্বামী ব্রজানন্দ সহ ত্রিপুরানান্দ এসে পৌছালেন বাংলাদেশের ঢাকার তৎকালিন রমনার শিববাড়িতে বর্তমান শাহবাগে যা তখন জঙ্গল ছিলো যেখানে বাস করত বাঘ, বিষধরসাপ, বিচ্ছু সহ নানা ধরনের পশু পাখিরা অর্থাৎ গভীর জঙ্গল । এখান থেকেই তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন ।

তিনি ৩ বছর বয়স থেকেই কৃষ্ণের পূর্ণভাবকান্তিতে ঝুলন উৎসব করতেন ঝুলনে আরোহন করতেন । শ্রীমুখে ঘোষণাও করেছেন

                                          "ব্রজানন্দ মানবে কৃষ্ণ, তাজা গোবিন্দ ।
                                          আমাকে মনুষ্যজ্ঞান করলে সর্বনাশ হবে ।"   

মানুষের কল্যাণের জন্যই ভগবান ব্রজানন্দের মর্ত্যে আবির্ভার । জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মনে আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে, সকল ব্যথা ও দুঃখ দূর করে জীবনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে তিনি নূতন পথের সন্ধান দিয়েছেন । হিংসা, লোভ ও ক্রোধের বহ্নিশিখায় তপ্ত পৃথিবীর মানুষকে নূতন মানব ধর্মে দীক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ঢাকার সুপ্রাচীন বুড়াশিবধাম, ঢাকা বাংলাদেশ এর অধীন প্রেম ও শান্তির স্বর্গরাজ্য -

■গুরুধাম, বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ, কলকাতা, ভারতবর্ষ ।[সম্পাদনা]
■কৈলাশ ধাম, বাগুইয়াটী, কলকাতা, ভারতবর্ষ ।[সম্পাদনা]
■বুড়শিব ব্রজধাম, নবদ্বীপ, ভারতবর্ষ ।[সম্পাদনা]
■বুড়াশিব ব্রজানন্দধাম, বৃন্দাবন, ভারতবর্ষ ।[সম্পাদনা]
■গুপ্তবৃন্দাবন ব্রজানন্দধাম, দেউন্দি বটতলা, হবিগঞ্জ, বাংলাদেশ ।[সম্পাদনা]
■বুড়াশিব ব্রজধাম, ব্রাহ্মণডুরা, বাংলাদেশ ।[সম্পাদনা]
■পূর্ণানন্দভবন, মানিকগঞ্জ, বাংলাদেশ ।[সম্পাদনা]
                                     বিশ্বগুরু ব্রজানন্দ নিজে প্রতিষ্ঠা করেন ।

বুড়াশিবধাম, ঢাকা, বাংলাদেশ−[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়) শ্রীশ্রী বুড়াশিব ধাম প্রতিষ্ঠীত। এমন্দিরটি দেখতে প্রাচীনতম আদলে নির্মিত। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে এটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত। এক কথায় এর জবাব জানা নেই। এ প্রশ্নের জবাব এক কথায় দেয়া মুসকিল। কারণ ঐতিহাসিক মতে এ প্রশ্নের উত্তর খুজে নিতে হবে।


শঙ্করাচার্য্যদেব (মহাশাস্ত্রবিধ, আত্মজ্ঞান, আত্মশক্তিতে মহাশক্তিধর ও সর্বজ্ঞাতা) প্রথম আবিষ্কার করেন বৃদ্ধগঙ্গার (বুড়িগঙ্গা) তীরবর্তী রমণার ঐ ভয়ঙ্কর বনমধ্যে মহাদেবের স্বয়ম্ভু মহালিঙ্গ এই বৃদ্ধ গঙ্গাধরকে। তিনি কাঁশিতে বসে কালিকাপুরানের অশীতিতম (৮০তম)অধ্যায় অধ্যয়কালে লক্ষ্য করেন –

বৃদ্ধগঙ্গা জলস্যান্তস্তীরে ব্রহ্মসূতস্যবৈ

বিশ্বনাথাহবয়ো দেবঃ শিবলিঙ্গ সমন্বিতঃ ।। ২৩


বঙ্গানুবাদঃ বৃদ্ধগঙ্গা জল মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে, বিশ্বনাথ নামে শিবলিঙ্গ এবং যোনী মন্ডলরুপা মহাদেবী অবস্থিত।


কতিপয় পংক্তিমালার উল্লেখ আছে। তিনি শাস্ত্রের বচন সত্য ভেবে বৃদ্ধগঙ্গার তীরে গঙ্গাধর বিশ্বনাথ দর্শন ও ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান তর্পন কর্ম সম্পন্ন সংকল্পে তাঁর শিষ্য সহ পায়ে হেটে কাঁশি থেকে রওনা হলেন। বহুদূর পথ পাড়ি দিয়ে বহু মন্দির দর্শন করে শেষে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রান্তদেশে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গার তীরে এসে পৌছালেন। তিনি দেখলেন এক ভয়ংকর বনাকীর্ণ নির্জন স্থান । জনমানবহীন বনভূমি। কোন দেবতার মন্দির কোথাও চোখে পড়ে না। বহু খুজাখুজি করে শংকরাচার্য্যদেব প্রথম আবিষ্কার ও দর্শন লাভ করেন বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ বেশে এবং আদিষ্ট হন বুড়াশিব নামে জগৎ মাঝে প্রচার করতে । তার উল্লেখ রয়েছে স্বামী ভূমানন্দ কর্তৃক রচিত বুড়াশিব মাহাত্ম্য গ্রন্থে। তারপর শঙ্করাচার্য্যদেব মন্দিরটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন যা কালান্তরে আবার হারিয়ে যায়।

ব্রজানন্দের মায়ের মৃত্যুর পর স্বামী মথুরানন্দ সরস্বতীর আদেশে পিতা ত্রিপুরানন্দ সন্ন্যাস নেন । ৩/৪ বছর বয়সে শিশু ব্রজানন্দ গুরু পিতাকে হতচকিত করে বলেন "বাবা তোমার তো সংসার ধর্ম হয়েছে এবার চল আমরা তীর্থে যাই । গুরুপিতার স্কন্ধে চেপে তিনি ভ্রমণ করেছেন ভারতের সমস্ত তীর্থক্ষেত্র ।

উত্তর-পূর্ব ভূখন্ড পরিক্রমকালে পুত্র ব্রজানন্দ সহ ত্রিপুরানান্দ এসে পৌছালেন বাংলাদেশের ঢাকার তৎকালিন রমনার শিববাড়িতে বর্তমান শাহবাগে যা তখন জঙ্গল ছিলো যেখানে বাস করত বাঘ, বিষধরসাপ, বিচ্ছু সহ নানা ধরনের পশু পাখিরা অর্থাৎ গভীর জঙ্গল । এখান থেকেই তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন এবং মন্দিরটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে যা এখনো চলমান।

ব্রজানন্দ উপাসনা[সম্পাদনা]

ভগবান ব্রজানন্দের ধর্ম সাধনার পথ অত্যন্ত সহজ । সংসারে থেকে কীভাবে মানুষ নির্বাণ মুক্তির মাধ্যমে পরম আনন্দ লাভ ও জীবনকে সর্বোচ্চ মহীমা দান করতে পারে । তিনি সব সময় তাঁর অনুসারীদের উপদেশ দিতেন নিজেকে চিনতে, নিজের অসীমতা উপলব্দি করতে এবং সরল সাধনার মাধমে স্বল্পায়ু কলির জীব যেন পরমগতি লাভ করতে পারে । নিজেকে প্রস্তুত করতে মায়াবদ্ধ জীবকে পথের সন্ধান দিয়েছেন যেন আত্নমুক্ত হয়ে জীব প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারে ।

তিনি জীব উদ্ধারের জন্য আবতীর্ণ হয়েছে এবং তারকব্রহ্ম নাম বিলিয়ে গেছন যা শ্রবণ করে গভীর ধ্যানে যে কেউ ভগবান ব্রজানন্দকে অনুধাবন করতে পারি

                                                  “হরে ব্রজানন্দ হরে, 
                                                   হরে ব্রজানন্দ হরে,  
                                                   গৌর হরি বাসুদেব,
                                                   রাম নারায়ণ হরে ।।” – এই নাম আমি গোলক থেকে এনেছি । এই নামের  মধ্যেই আমার পরিচয় । সত্যযুগে আমি নারায়ণরূপে, ত্রেতাযুগে রামরূপে, দ্বাপরযুগে কৃষ্ণরূপে ও কলিযুগে গৌরহরিরূপে । এখন ঘোর কলিতে পাপী উদ্ধারী ব্রজানন্দ রুপে'

ব্রজানন্দ সরস্বতীর গ্রন্থ[সম্পাদনা]

                                                      Group A

১. বুড়াশিব মাহাত্ম্য  ভূমানন্দ সরস্বতী ১৩৩০ সন

২. লীলা পরিচয় (বাংলা) শ্রীমৎ গনপতি দেব ১৩৩৮ সন

৩. লীলা পরিচয় (ইংরেজী) শ্রীমৎ গনপতি দেব ট্রান্সলেটেট বাই শ্রী প্রাণকুমার ভট্টাচার্য্য ১৯৬৭ খিঃ

৪. ভজন রত্নমালা প্রকাশক শ্রীমৎ গোবিন্দানন্দ ১৩৮৪ সন

৫. শ্রীশ্রী গুরুভজন শ্রী শচীন্দ্র নারায়ণ রায়৩রা ফাল্গুন  ১৩৭১ সন

৬. শ্রীশ্রী ব্রজানন্দ ভজনশ্রী বরদা সুন্দর ভৌমিক–

৭. শ্রী গুরুর ভজন––

৮. ব্রজানন্দ ভজন বুদ্ধদেবকার্তিক ১৩৭২ সন

৯. শিবরাত্রি মহাব্রত––

১০. ব্রজানন্দের অষ্টোত্তর শতনাম গীতমাল্য শ্রী চিত্তদাস রায়–

১১. শ্রী শ্রী ব্রজানন্দ সত্যনারায়ণের পাঁচালিশ্রী রমণী মোহন দাস–

১২. The omnipotent শ্রীমৎ রমেশানন্দ ২য় সংস্করণ ১৯৬৯ খ্রিঃ

১৩. অমৃত সাগর প্রকাশক শ্রীমৎ বলানন্দরথযাত্রা ২৮ শে আষাঢ় ১৩৯৮ সন ১৩ই জুলাই ১৯৯১ খ্রিঃ শনিবার

১৪. গুরুধাম পত্রিকা (১০টি সংখ্যা) গুরুধাম, কলকাতা ১ম সংখ্যা মাঘী পূর্ণিমা ১৩৭৬ সন থেকে

১৫. অর্ঘ্যম কুমার শিবচতুর্দশী ১৩৪৫ সন

১৬. লীলা পরিচয়– ২৯ শে মাঘ,১৩৬৬

১৭. যুগাবতার শ্রীশ্রী ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ রামকৃষ্ণপাল–

১৮. শ্রীশ্রী ব্রজানন্দাষ্টকম্‌ কুমার–

১৯. আত্মসমর্পন স্তোত্র পুলিন ৩২শে শ্রাবণ ১৩৪৫ সন

২০. শ্রীশ্রী ব্রজানন্দ প্রসস্তি শ্রী সুশীল রায় চৌধুরী ২৯ শে মাঘ,১৩৬৬ সন (শুক্রবার)


                                    Group – B ভগবান ব্রজানন্দের তিরোধান পরবর্তী সময়ে রচিত 

২১. গুরুদর্শন সম্পাদনা শ্রী সুনীল বিশ্বাস ৩০ শে কার্তিক ১৩৯৯ সন ১৬ ই নভেম্বর ১৯৯২ খ্রিঃ সোমবার

২২. ব্রজানন্দ আবির্ভাব নাটক শ্রীমৎ রমেশানন্দ ও রেণুকা মাই–

২৩. ব্রজানন্দ পরমেশ্বর স্বয়ং (৪টি খন্ড) শ্রী সুবিমল কান্তি মজুমদার মাঘী পূর্ণিমা ১৪ই ফাল্গুন ১৪০৮ সন ২৭ শে ফেব্রুয়ারি ২০০২ খ্রিঃ

২৪. ঠাকুরের তারক ব্রহ্মনাম ও ব্রজানন্দ স্মরণম ক্ষমাপরানন্দ সরস্বতী রথযাত্রা ২৫ শে আষাঢ় ১৪২০ সন ১০ই জুলাই ২০১৩ খ্রিঃ

২৫. ভগবান ব্রজানন্দের  বেদবাণী ও আমার ঠাকুর ক্ষমাপরানন্দ সরস্বতী গুরুপূর্ণিমা ২৭ শে আষাঢ় ১৪২১ সন ১২ই জুলাই ২০১৪ খ্রিঃ

[১]

বিশেষ উক্তি[সম্পাদনা]

১ জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন ।

২ স্বপ্রয়োজন অপেক্ষা মুক্তি প্রয়োজনই শ্রেষ্ঠ ।

৩ নির্ব্বান মুক্তিই একমাত্র কাম্য । মনুষ্য জন্ম লাভ ও সেই জন্যই ।

৪ তুমি আত্মজয়ী হইয়া জন্মমৃত্যুর হাত হইতে মুক্ত হও । তোমার জন্ম সফল হউক ।

৫ সংসারী লোক তো মরিতে আসিয়াছে । আর আমরা মৃত্যুকে জয় করিতে আসিয়াছি ।

৬ ত্যাগেই সুখ, ভোগে সুখ নাই । তন্‌ মন্‌ ধন্‌ সব কিছুই ধর্ম্মার্থে লাগাইয়া দাও । জীবনের উদ্দেশ্যও তাই বটে ।

৭ খাওন নিধনের জন্য কাঁদিও না । তোমার গোপাল লাভ হয় নাই সেই জন্য কাঁদ । এ দুদিনের ভোগ সুখ দিয়া কি করিবে ? ভোগে কি সুখ আছে ? সুখ যোগে । সুখ গুরু পাদ পদ্মে । সে সুখ কোনকালে ফুরায় না । সংসার সুখে কেবলি দুঃখ আর জ্বালা । কেবল ঘোরাঘুরি, আসা যাওয়া । মুক্তি নাই ।

৮ এই পথে কিছু রাখিয়া কিছু দিলে চলিবে না । ফাঁক রাখিয়া ধর্ম্ম করিতে নাই ।

৯ তুমি উদ্দেশ্য হারাইয়া খালি উপায় নিয়া ঝগড়া করিয়া আত্মচিন্তা হইতে বিমুখ হইও না ।

১০ ইচ্ছাময়ের ইচ্ছায় ইচ্ছা মিলাইয়া দাও । তাঁহার যাহা ইচ্ছা তাহাই ভাল, তাহাই আদরের সহিত গ্রহণ কর । ভগবান যতই কেন কষ্ট দিন না ভক্ত তাঁহার দিক ভিন্ন অন্য দিকে তাকান না[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "গ্রন্থ তালিকা – ভগবান ব্রজানন্দ বুড়াশিব" (পিডিএফ) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২২-০১-২৯ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০৪ 
  2. "বাণী কনিকা – Page 2 – ভগবান ব্রজানন্দ বুড়াশিব" (পিডিএফ) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২২-০১-২৯ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]