ব্যাটন রুজ, লুইজিয়ানা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ব্যাটন রুজ (ফ্রেঞ্চ: লাল খুঁটি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। শহরটি মিসিসিপি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। এটি জনসংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ১০০-তম বৃহত্তম শহর। ব্যাটন রুজ জনসংখ্যায় লুইজিয়ানার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ব্যাটন রুজের জনসংখ্যা ছিল ২,২৯,৪৯৩। ২০১৯ এর হিসাব অনুযায়ী ব্যাটন রুজের জনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২,২০,২৩৬। [১]

ব্যাটন রুজ শহরটি আমেরিকান দক্ষিণাঞ্চলের শিল্প, পেট্রোরসায়ন, চিকিৎসা, গবেষণা, চলচ্চিত্রশিল্প ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। [২] লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লুইজিয়ানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাটন রুজ শহরে অবস্থিত।[৩] কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়-ও ব্যাটন রুজ শহরে অবস্থিত। শহরটির বন্দর যুক্তরাষ্ট্রের দশম বৃহত্তম বন্দর।[৪]

মিসিসিপি নদীর উপরিভাগে অবস্থিত ইস্ত্রোমা খাঁড়ি ব্যাটন রুজ শহরে অবস্থিত। এর ফলে শহরটি বন্যার হাত থেকে রক্ষা পায়। ব্যাটন রুজ সাংস্কৃতিকভাবে অনেক সমৃদ্ধ। এটি সাতবার সাতটি ভিন্ন সরকার দ্বারা শাসিত হয়েছিল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১২০০০-৬৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাটন রুজ এলাকায় মানববসতি স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া যায়। [৫] প্রোটো-মাস্কোগিয়ানভাষীরা ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ এলাকায় বিভক্ত হতে শুরু করে। ১২০০-৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাদের মধ্যে ভৌগোলিক সীমানার সৃষ্টি হয়।

মাস্কোগিয়ানরা "মিসিসিপিয়ান কালচার(মিসিসিপিতে খ্রিস্টপূর্ব যুগে বসবাসকারী উপজাতি)" সভ্যতার ধারক ও বাহক। মিসিসিপি ও ওহাইও উপত্যকায় ক্রমশ তাদের সাংস্কৃতিক বিস্তার ঘটতে থাকে। ষোড়শ শতকে সর্বপ্রথম স্পেনীয়রা এখানে এসে পৌঁছায়।

ঔপনিবেশিক আমল[সম্পাদনা]

১৬৯৮ সালে ফ্রেঞ্চ অভিযাত্রী পিয়ের দি লা মোই ইবারভিল মিসিসিপি নদীতীরবর্তী এলাকায় অভিযান শুরু করেন। তারা হুমা ও বায়াগোলা শিকারক্ষেত্রের মাঝখানে একটি লাল খুঁটি দেখতে পান। এ থেকেই শহরটির নাম হয় "লা ব্যাটন রুজ", যার অর্থ লাল খুঁটি।

ধারণা করা হয়, লাল খুঁটিটি স্কট উপত্যকায় অবস্থিত ছিল। বর্তমানে এখানে সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অবস্থিত।[৬] খুঁটিটির উচ্চতা ছিল ৩০ ফুট ও এটি মাছের কাঁটা দ্বারা সজ্জিত ছিল।

১৭২১ সালে ইউরোপীয় ফ্রেঞ্চরা সর্বপ্রথম এখানে বসতি স্থাপন করে। ১৭৫৫ সালে ব্রিটিশরা কানাডার সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল থেকে ফ্রেঞ্চদের বিতাড়িত করে। তখন কানাডীয় ফ্রেঞ্চরাও লুইজিয়ানার গ্রামাঞ্চলে অভিবাসী হয়।

১৮১৭ সালে ব্যাটন রুজকে স্থানীয় শাসনের আওতাভুক্ত করা হয়। ১৮২২ সালে এখানে ঐতিহাসিক পেন্টাগন ব্যারাক নির্মিত হয়। ১৯৫১ সালে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য এর মালিকানা লাভ করে।

১৮০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র লুইজিয়ানা দখল করে নেওয়ার পর অ্যাংলো-আমেরিকানরা দ্রুত এখানে বসতি স্থাপন করে। ১৮৪৬ সালে রাজ্য বিধানসভা নিউ অর্লিন্সের পরিবর্তে ব্যাটন রুজকে রাজধানী ঘোষণা করা হয়। ১৮৪৭ সালে জেমস ড্যাকিন ক্যাপিটল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্গঠন যুগে নিউ অর্লিন্স লুইজিয়ানার রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কিন্তু বুরবোঁ ডেমোক্রেটরা ১৮৮২ সালে নানা কৌশল অবলম্বন করে ব্যাটন রুজকে পুনরায় লুইজিয়ানার রাজধানী করে।

১৯৫০ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত ব্যাটন রুজ শহরে পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের বিকাশ ঘটে। ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে ব্যাটন রুজে আবাসন ও প্রযুক্তিশিল্পের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়।[৭]

ভূগোল[সম্পাদনা]

ব্যাটন রুজ মিসিসিপি নদীর তীরে, দক্ষিণ-পূর্ব লুইজিয়ানার ফ্লোরিডা প্যারিশেস অঞ্চলে অবস্থিত। এটি নিউ অর্লিন্স থেকে ৭৯ মাইল, আলেক্সান্দ্রিয়া থেকে ১২৬ মাইল, শ্রিভপোর্ট থেকে ২৫০ মাইল, জ্যাকসন থেকে ১৭৩ মাইল ও হিউস্টন থেকে ২৭২ মাইল দূরে অবস্থিত।[৮][৯] ব্যাটন রুজ সমুদ্রপৃষ্ঠের ৫৬-৬২ ফুট উপরে অবস্থিত।[১০] শহরটির আয়তন ৭৯.১ বর্গমাইল, যার ৭৬.৮ বর্গমাইল স্থল ও বাকিটুকু জল।

জলবায়ু[সম্পাদনা]

ব্যাটন রুজের জলবায়ু আর্দ্র উপক্রান্তীয় ধরনের। শহরে গড়ে ৫৫.৫৫ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত ও ০.১ ইঞ্চি তুষারপাত হয়। ব্যাটন রুজ শহরের গড় তাপমাত্রা ৬৮.৪ ডিগ্রি। ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর গুস্তাভ নামক ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় এখানে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি সাধন করে।

জনমিতি[সম্পাদনা]

২০১৮ সালের সম্প্রদায়গত সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটন রুজের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গমাইলে ২৯৮২.৫ জন।[১১]

২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাসিন্দাদের ৫৪.৫৪% কৃষ্ণাঙ্গ, ৩৯.৩৭% শ্বেতাঙ্গ, ০.৫% আদিবাসী আমেরিকান ও ৩.৫% এশীয়।

শহরের পরিবারগুলোর গড় আয় ৪০,২৬৬ ডলার। পুরুষদের গড় আয় ৩৪,৮৯৩ ও নারীদের গড় আয় ২৩,১১৫ ডলার। শহরের মাথাপিছু আয় ১৮,৫১২ ডলার। ১৮% পরিবার ও ২৪% বাসিন্দা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এদের ৩১.৪% এর বয়স ১৮ এর নিচে ও ১৩.৮% এর বয়স ৬৫ এর উপরে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bureau, US Census। "Census.gov"Census.gov। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  2. http://theadvocate.com/home/5551260-125/state-expected-to-make-ibm
  3. http://www.lsu.edu/about/index.php
  4. "Freight Facts and Figures 2006 - Figure 2-8. Top 25 Water Ports by Weight: 2004 - FHWA Freight Management and Operations"ops.fhwa.dot.gov। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  5. "Comite River Basin, Amite River and Tributaries Flood Protection, Baton Rouge/Livingston Parishes: Environmental Impact Statement"। ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ – Google Books-এর মাধ্যমে। 
  6. Maio, Irene S. Di (১ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "Gerstäcker's Louisiana: Fiction and Travel Sketches from Antebellum Times through Reconstruction"। LSU Press। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ – Google Books-এর মাধ্যমে। 
  7. "'Business Report': As companies along Airline migrate south, what does it mean for those left behind?"businessreport.com। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  8. "Distance between Baton Rouge, LA and Jackson, MS"www.distance-cities.com। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  9. "Distance between Baton Rouge, LA and Houston, TX"www.distance-cities.com। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  10. "Weather averages Baton Rouge, Louisiana"www.usclimatedata.com। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  11. "U.S. Census Bureau QuickFacts: Baton Rouge city, Louisiana"www.census.gov। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০