ব্যবহারকারী:Ramshankar Maity

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কবিতার নাম--=='আমার স্বর্গ==

        -------রামশংকর মাইতি

ললাট খানি তোমার 'মা'গো আকাশ যদি হয়, সূয্যি সিঁদুর-টিপ্ টি হয়ে সেই আকাশে রয়। আমায় পেয়ে তোমার খুশির ভাঙে'মা'গো বাঁধ, তুমি আমার পৃথিবী'মা'গো আমি তোমার চাঁদ।

গর্ভ থেকে যেই না আমায় পেলে তোমার কোলে, প্রসব-ব্যাথা তক্ষুনি 'মা' গেলেই তুমি ভুলে।. তুমি তো 'মা' বলতে কত আমার জন্মের কথা, রাত্রি জেগে বদলেছ কত আমার ভেজা কাঁথা। রাত-বিরেতে কাঁদতাম যখন, আমার কষ্ট দেখে, বুক টি খুলে স্তনটি 'মা'গো ধরিয়ে দিতে মুখে। ছোট্ট হাতে জড়িয়ে তোমায় খেতাম যখন স্তন,. বলতে তুমি কষ্ট-সকল জুড়াত তখন।

তোমার কাজে তুমি যখন বেড়াও চক্রাকারে, আমিও ঘুরি পেছন পেছন তোমার আঁচল ধরে। গায়ের গন্ধে কি মেশানো বলতে পারো সে কী! তাইতো তোমার বুকের মাঝে মুখ ঢুকিয়ে রাখি। কানামাছি খেলায় তুমি চোখ বাঁধতে আমার, গন্ধ শুঁকে-ই তোমায় আমি ছুঁয়েছি কতো বার।

ক্ষনিক কাজে যখন তুমি থাকতে না 'মা' ঘরে,. বুকের মাঝে কি যেন নেই খুঁজতাম চুপিসারে। যখন আমি কষ্ট পেতাম ভুগে প্রবল জ্বরে, পাশে এসে বসলে 'মা'গো কষ্ট যেত দুরে। রোজ সকালে যখন তুমি বসাতে আমায় কোলে, স্বর্গ এসে ধরা দিত তোমার চরণ-তলে।

তোমার অপার স্নেহ ধারার অন্তহীন ঋণ, মহাবিশ্ব শোধ করতে পারেনি কোনোদিন। সে-জন অধম-মূ্র্খ-পাপী কাড়ায় তোমার হাসি, জানে না সে নিজের-ই ফাঁসে পরবে গলায় ফাঁসি।

স্বর্গ কোথায় জানি নে 'মা', শুধু এটুকুই জানি, তুমি-ই স্বর্গ, তোমার কোল 'মা' আমার জন্মভূমি। এই বাসনা মনে 'মা'গো, যেন না যায় বিফলে, জন্ম নিলে নেই যেন 'মা' তোমার-ই পদতলে।

                         ---------রামশঙ্কর মাইতি।


কবিতার নাম-==শিশুর সত্য-শিক্ষা==


রামশঙ্কর মাইতি ।

ৰাবার পাশে বসে খুকু পড়ছে বই-এর পাঠ, পড়ছে জোরে মিথ্যা কথা বলা মহাপাপ। পড়ে লিখে বড় হয়ে মানুষ হতে হৰে, হোক্ না পথ যতই কঠিন সদা সত্য বলবে। হঠাৎ খুকু প্রশ্ন করে বাবার পানে চেঁয়ে, কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যা বুঝবো কেমন করে? প্রশ্ন শুনে বলেন বাবা বলি তবে শোনো, তোমার দেখা, তোমার শোনা তাহা-ই সত্যি জেনো।যতই আসুক্ জীবনে ঝড় যতই করুক ভয়, সত্য ছেড়ে মিথ্যাকে কভু দেবে না আশ্রয়। হঠাৎ কড়া উঠল নড়ে আসে গলার আওয়াজ, আছেন নাকি বাড়িতে বাবু?? পাওনা টা দিন আজ!!শুনেই বাবা খুকুকে বলেন চোখটি করে বড়, মন দিয়ে শোনো,বলছি কানে সেটাই শুধু করো পাওনাদার কে গিয়ে বলো বাবা বাড়িতে নাই, তোমার কথায় বুঝবে তবে সত্যি হবে তাই। খুকু গিয়ে বলল কাকু যা বলছি শোনো তাই, বলল বাৰা আমাকে এখন বাবা বাড়িতে নাই।

         Ramshankar Maity ১৪:০৩, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ (ইউটিসি) রামশঙ্কর মাইতি।


কবিতার নাম--==ঋতুরাজ==

    ------- রামশঙ্কর মাইতি।

এসো ঋতুরাজ এসো হে নুতন তৃষিত বক্ষে করো আগমন, ঊষর মরু-প্রস্তর ভেদি যৌবন দান করো হে, হৃদয় সরসী উছলিয়া যাক যৌবন-নীর প্রবাহে।

শুষ্ক কানন তব আহ্বানে জাগে নবরূপে নব যৌবনে, পাতায় পাতায় একি শিহরণ, পুলকিয়া উঠে হরষে, এসো ঋতুরাজ এসো হে নুতন যৌবন দান করো হে।

ওগো গৃহবাসী এসো গো বাহিরে দেখো,ফাগুন এসেছে তোমাদের দ্বারে, বসাও তাহারে পাতিয়া আসন হৃদি-অন্তর গভীরে, এসো ঋতুরাজ এসো হে নুতন যৌবন দান করো হে।

         Ramshankar Maity ১৪:১০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ (ইউটিসি)রামশঙ্কর মাইতি

কবিতার নাম-- ==নিমন্ত্রণ==

   --------- রামশঙ্কর মাইতি।

আজ ফাগুনের প্রভাত বেলায় মন দুলিতেছে মন-দোলনায় নাচে প্রাণ অনুক্ষণ, দখিনা বাতাস বলে যায় কানে মেতেছে ধরনী নব যৌবনে নব বসন্তের উৎসবে আজ আমার নিমন্ত্রণ।

বনানী সেজেছে সবুজের সাজে বায়ু করে খেলা তাহাদের মাঝে, পলাশ, বকুল, মহুলের ফুল রুপে যৌবনে দুলিছে দোদুল করে খেলা অলি তাহাদের পরে মেতে ওঠে যৌবন, নব বসন্তের উৎসবে আজ আমার নিমন্ত্রণ।

ভ্রমরের দল বলে গেল এসে মন রাঙা হলো ফাগুন আবেশে, নাচে রে হৃদয় নাচে সবখানে কুজন-কাকলী বিহগের গানে নব বসন্তের অরুণ আলোয় পূর্ণ দুই নয়ন, নব বসন্তের উৎসবে আজ। আমার নিমন্ত্রণ।

কিবা অপরুপ তব রুপ খানা এ যেন ষোড়শী নবযৌবনা, রুপ হেরি তব হয়েছি ধন্য সার্থক এই জনম, সার্থক আমি তোমার সভায় পেলাম নিমন্ত্রণ।

        Ramshankar Maity ১৪:১৭, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ (ইউটিসি)রামশঙ্কর মাইতি

কবিতার নাম-=='"প্রেমের-ই হোক্ জয়"==

          --------- রামশঙ্কর মাইতি।

'ওরে', খোল্ আঁখি খোল্ লেগেছে রে দোল্ পর্ণে-পূষ্পে লাগে হিন্দোল, বাজে,দখিন দুয়ারে হৃদয়-সাগরে লহরী প্রেমের কল-কল্লোল।

হৃদয়ের সূধা-ভান্ড খানি উজাড় করি দে রে ঢালি মানবের মাঝে উদার হস্তে কর রে বিতরন, বিভেদ প্রাচীর যাক্ মুছে যাক্ জাতি,ধর্ম যাক্ রে নিপাত্ আয় সবে মিলি, আয় গড়ে তুলি আনন্দ-নিকেতন।

প্রেমের রঙেতে রাঙিয়ে দে তুই সবার মলিন হৃদয়, মুছে যাক্ গ্লানি, মুছে যাক্ ঘৃণা মুছে যাক্ যত ভয়, এ ধরা হোক্ পূণ্য-শীতল করুক শোভিত প্রেম-শতদল প্রেম-সরসীর পূণ্য-প্লাবণে আন্ রে শান্তির লয়।

এ বিশ্ব-নিখিল আমাদের গৃহ হেথা সবাই আপন,পর নহে কেহ বসন্তের-ই রঙিন পরশে শুরু হোক্ নব-লয়, আকাশ,বাতাস ওই নভোনীলে পাহাড়,মরু দুর নদীকুলে ভেদাভেদ ভুলে,গাই সবে মিলে প্রেমের-ই হোক্ জয় ।

                      ------------- রামশঙ্কর মাইতি। ।
সুখ 

--------- রামশংকর মাইতি ।।

সুখ সুখ বলে খুঁজে বেড়াই

পাই তারে কোথা এ সংসারে,

অন্ধ এ মন বোঝে কি কখন

সুখ সদা রয় নিজ-অন্তরে ।

সুখ সুখ বলে কেঁদে মরি সদা

সুখ কি হাতের মোয়ার খই ?

সুখ অনুভবে স্বার্থ-ত্যাগে

এর বেশী সুখ মিলবে কই ?

খোলা আকাশের নিচে অগুণিত

ওরাই তো সোনা খাঁটি নিখাদ ,

শত কষ্টেও সদা ঝরে হাসি

ওরাই তো পায় সুখের স্বাদ ।

সুখ সুখ করে যত মর মিছে

সুখ নাই শুধু দুঃখ বাড়িছে ,

সুখ মায়া-মৃগ, মরিচিকা-ভ্রম

তত দুরে সরে যত ছোট পিছে ।

সুখ পাখিটারে আশার বাঁধনে

বাঁধার যত কর প্রয়াস,

সুখ পাখি তত উড়ে যাবে দুরে

পাবে দুঃখ হবে নিরাশ ।

সুখ হল জেনো অরূপরতন

রেখো তারে হৃদে অতি সযতন,

স্বার্থে মগ্ন  হয় যে অধম

সুখ বিনে সদা করে সে যাপন ।

তব অন্তরে বসাও "তাঁহারে"

ত্যাগী পার্থিব রাজ্যপাট,

তবেই হৃদয়ে ঘূচবে আঁধার

বসবে সেথায় সুখের হাট ।

                 Ramshankar Maity

কালচক্র

    ---------রামশংকর মাইতি ।

ছোট্টো টুপাই জানালা দিয়ে

                       অপলক্ চোখে চেয়ে,

মনে করে যেন, ওই আসে দাদু

                          দুরে ওই পথ দিয়ে ।

দাদু তার অতি প্রাণের প্রিয়

                          যত প্রিয়জন আছে,

বছরে মাত্র চার টি বার

                     দাদু কে পায় সে কাছে।

ঠাকুমা যে তার জন্মের আগে

                               করেন  স্বর্গবাস,

কল্পনা দিয়ে ছবি খানি এঁকে

                          মেটায় মনের আশ্।

যে কটি দিন আসেন দাদু

                         মেটাতে মনের স্বাদ,

আলাদিন থেকে টেনিদা,ফেলুদা

                          কিছুই যায় না বাদ।

অবশেষে যবে আসবে সেদিন

                           দাদুর যাবার পালা,

অবুঝ নাতি-কে কিভাবে বোঝাবে

                          দাদুর বুকের জ্বালা!

অতি স্বযতনে আদরে সোহাগে

                          বুলায়ে নাতির গাল,

কাঁদিস্ না দাদু ,"এই তো এলাম্,

                      আবার আসবো কাল!"

বৃদ্ধের ভাঙা বুকের মাঝে

                        জড়ায়ে নাতির মাথা,

আধ্ বোজা চোখে অস্ফুট স্বরে

                          কত না কইল কথা।

কত আশা,কত স্বপ্নে মানুষ

                                সন্তান করে বড়,

শেষ বয়সে, সেই সন্তান-ই

                           তাদের বানায় জড়।

আত্ম-সুখে সন্তান-দল

                    বাবা-মা কে ভাবে বোঝা,

বিবেক কে বধ করে কোনোমতে

                          শুধু বৃদ্ধাশ্রম খোঁজা।

"তুমি দাদুভাই,তুমি অতি ছোট

                         বুঝবে না ব্যাথা মোর,

ওদের সুখের কথা ভেবে তবু

                           কত রাত হয় ভোর !"

দাদু চললেন বৃদ্ধাশ্রম

                          নিয়ে একরাশ ব্যাথা,

টুপাই-র ব্যাথা দাদু  শুধু বোঝে

                    কে আর বোঝে সে কথা!

কিছুদিন পরে আশ্রম থেকে

                              ফোন আসল ঘরে,

টুপাই-র দাদু টুপাই কে ছেড়ে

                           গেছে চলে চিরতরে।

বাড়িতে এলে পরত দাদু

                           যেই জামা আর ধুতি,

টুপাই-র এখন সেগুলিই হল

                         দাদু-র একমাত্র স্মৃতি।

দাদু-স্নেহ-লাভে টুপাই যে পেত

                                   এক পরম তৃপ্তি!

দাদুকে টুপাই পায় যে এখন

                              হাতড়ে জামা-ধুতি।

একদিন বাবা বলল এসে

                          এগুলোর কী দরকার?

কাজের মাসীকে দিলে তবু

                              কাজে লাগবে তার।

শুনে টুপাই বলল চেঁচিয়ে

                     "বাবা' করছ কী কারবার?

দাদুর বয়সে গেলে এগুলো

                             লাগবে যে তোমার!!"

শুনে বাবার চোখ টি খোলে

                            পালটে যায় যে ভোল,

এতদিনে  বুঝল বাবা                                       

                                 পৃথিবী টা গোল।।

-------------------রামশংকর মাইতি ।।

মৃৃৃত-বিবেক

কবিতার নাম--"মৃত-বিবেক"

     ----------রামশংকর মাইতি ।

কড়া নেড়েই চলেছি  বন্ধ দরজার,

,কতক্ষন ধরে ডেকে চলেছি তোমায়,                  এখোনো কী ঘুম ভাঙেনি তোমার?

চোখে কী পড়েছে তোমার?---------

ওই ওখানে,দেখো শিশু মেয়েটিকে!

সজ্ঞাহীন,মৃতপ্রায়,রক্তাক্ত,ক্ষতবিক্ষত,

ব্লেড ফাল্ ফাল্ করেছে যোনী টা কে।

তুমি হয়ত শুনে থাকবে-----------

বড়ই গরীব ছিল নিরু-র বাপের বাড়ি,

বিয়েতে বাপ পারেনি দিতে টাকা-কড়ি,

কপালে জুটল মাত্র  কয়েক হাত দড়ি!!

তুমি নিশ্চই অনুভব করেছো------------

কাপুরুষ পৌরুষের সদা উন্মত্ত তান্ডবে,

অন্ধকারে,ঝোপে-ঝাড়ে বা খোলা রাস্তায়,

ধর্ষিতার আর্তনাদ প্রতিধ্বনিত হয় নিরবে!!

কদিন আগের খবরে পড়েছো নিশ্চই-------------

শিশু সন্তানটি কে হত্যা করেছে নির্দয়  পিতা,

আছাড়ের পর আছাড়,সিগারেটের ছ্যাঁকা,

অপরাধ- নির্বাক করে পাঠিয়েছেন বিধাতা!!

তোমার কী মনে হয়নি কখোনো?---------------

বিজ্ঞান-কে আজও হারায় আদিম বন্যতা,

অন্ধ কুসংস্কার আজও ওড়ায় জয়ধ্বজা,

ডাইনীর অপবাদে সমাজ করে নারী-হত্যা।

এই নির্মম বাস্তব তোমাকে কী কষ্ট দেয় না?-------

কন্যা,মাতা,পত্নী-এ সব ই নারীর বহুরুপতা,

আজব্ সমাজ বউ চায়,  চায় না শধু কন্যা,

নির্বিচারে কন্যা-ভ্রুণ হত্যা করেন পিতা-মাতা!!

কখনো কী তোমার মনে হয় না?----------------

আমাদের সমাজে  বিধবার কতটুকু অধিকার?

সমাজের পেষনযন্ত্রে পিষে গেছে আশা, স্বপ্ন ওদিকে বিপত্নিকের বিয়ে এ সমাজ করে স্বীকার!!

তুমি কী জেনেছো কখনো?-----------------

কোনো পরিবারে গৃহবধুর কতখানি মুল্য?

শোনো তবে,সব কন্যা ই সর্বদা বধু হয় ,

বধুরা বধু-ই থাকে,হয় না তারা মেয়ের তুল্য!!

তোমার কর্তব্য, মূল্যবোধ আদৌ বেঁচে আছে?--------

শিশুকালে তোমার কষ্ট দেখে 'মা' কাঁদতেন,        খিদে পেলে 'মা' এর বুক ফাটত,কিন্তু আজ তুমি??

সেই 'মা' কে দাও না ভাত,'মা' আজ-ও কাঁদেন!!

অনেক প্রশ্ন করলাম তোমায়,কোনো উত্তর

পাই নি,কিন্তু তোমার দরজা ভাঙা দেখছি যে!!

ঘরের ভেতরে এ কী দেখছি!! তোমার কঙ্কাল!!

তবে কী বিবেক আজ তুমি মৃত!!!!!--------

---------------রামশংকর মাইতি।

বিষাদময় বাইশে শ্রাবণ

        --রামশংকর মাইতি

উদ্ভাসিত গগনে চিরদীপ্তময় চিরবিরাজিত রবি,

বিশ্বমানসে সদা জাগ্রত তুমি মহাবিশ্বের কবি।

অপরুপ সৃষ্টি তোমার মেঘপুঞ্জ রুপে চির-ভাস্মর

তব নভোমন্ডলে,এ মহাবিশ্ব তৃপ্ত, মোহিত তোমার

সৃষ্ট সূধা-রস আস্বাদনে। তুমি শুধু নও সাহিত্যের

কবি, তুমি মানুষের কবি, তুমি মহাকবি জগতের।

তোমার সৃষ্টিতে উন্মুক্ত বিশ্বপ্রকৃতি। দুঃখ-সুখের

অনাবিল মেলবন্ধনে সদা জয় হয় বিশ্ব প্রেমের।

এই মহাজগত আজ আলোকময়, নিশ্চিহ্ন তমসা,

তোমার বাণী শুধু বাণী নয়, নবরুপে বাঁচার আশা।

তুমি বাংলার রবি, বিশ্বের কবি, মানবজাতির প্রাণ,

অকৃপণ দানে লেখনী তোমার করেছে মাধুরী দান।

সেই কবে তুমি পাড়ি দিয়েছো মহাপ্রস্থানের পথে,

বিলীন হয়ে গেছে শুধু নশ্বর দেহ খানি পঞ্চভূতে।

কে বলে তুমি নেই?তোমার মৃত্যু নেই,তুমি মৃত্যুঞ্জয়,

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতি অনুভবে অনুভূত হয়

তোমার স্বশব্দ বিচরণ, আমার সর্ব চিন্তার,চেতনার

অধিস্বর তুমি, অতি প্রিয়জন তুমি,অতি আপনার।

কিন্তু কবি প্রকৃতি আজ এতো বিষণ্ণ কেন? আকাশ

জুড়ে আচ্ছন্ন ঘন মেঘ, এ কোন্ সে কষ্টের প্রকাশ?

নিঃসৃত বৃষ্টিধারায় ধ্বনিত প্রকৃতির অস্ফুট-রোদন!

কোন্ সে বিয়োগ-বেদনায় পরিপূর্ণ বিহঙ্গের কূজন!

ভুলে গেছো কবি? আজ কোন্ সে বিষাদময় ক্ষণ?

নিয়েছিলে তুমি চির-বিদায়,আজ বাইশে শ্রাবণ।                                 

-------------রামশঙ্কর মাইতি ।

থাক না মা আর ক'টা দিন (গীতি-কবিতা-আলেখ্য)

বঙ্গের ঋতুচক্রের ধারায় বরষার ঘটলেও তখনও পর্যন্ত তার পুরোপুরিভাবে অস্তিত্বের বিলোপ ঘটে নি।তাই নীল গগনপারে শ্বেতশুভ্র মেঘপুঞ্জের দল একত্রিতহয়ে মাঝে মাঝেই বিদায়ের সুরে এ ধরিত্রী কে করে স্নাত।এ ধরিত্রী তখন শস্যশ্যামলা,তাকে ঘিরে রয়েছে এক মনোরম স্নিগ্ধতা, পল্লীপ্রকৃতি এক নব সাজে সজ্জিত হয় , মেঘমুক্ত অম্বরে ক্ষনে ক্ষনে শুভ্রবলাকার ন্যায় মেঘ-ভেলা ভেসে চলে আপন মনে সুুদুর পানে, দোলায় মাথ শুুভ্র কাাশেদের দল-----

এসেছো শরৎ, এ ধরার বুকে এত রুপ দিলে ঢেলে, যত দেখি দেখা হয়না তো শেষ। শুধু, দেখি দু-নয়ন মেলে।। এনেছো বহে অপরুপ দ্যুতি। কোন্ আয়োজনে এত প্রস্তুতি, কিসের তরে রুপের সাগরে করেছো অবগাহন , তবে কি ধরায় উমার আসার। দিয়েছো নিমন্ত্রণ।

যুগ যুগ ধরে এ ধরাবক্ষে সংসার পেতে আসছে গিরি ও মেনকা-রা । একই ধারায় তাদের কোলে জন্ম নেয় ভবিষ্যতের মেনকা-রা।শুধু যে গিরিরাজ হিমালয়ের মেয়ে উমার জন্য মা মেনকা কে আক্ষপ করতে দেখা যায় তা নয়, কালচক্রের আবহমান গতিধারায় যুগ যুগ ধরে সব গিরি ও মেনকাদেরকে তাদের উমাদের জন্য আক্ষেপ করতে দেখা যায়।সম্পর্কের এক বিচিত্র আবর্তনে আজ যে উমা কাল সে মেনকা, আজ যে হর কাল সে গিরি----- ফি- বছর কৈলাশে-- একবার 'উমা' আসে। সেই 'উমা' আর কেউ নয় !  'উমা' যদি মেয়ে হয়-- তুমি হও হিমালয   তব জায়া মেনকা-ই হয় !  এই ধারা বহে চলে-- চিরকালই এক লয়।   বদলটা হয় শুধু ভূমিকা   আজ যিনি 'উমা' হন-- কাল তিনি মা রুপে।   নব পরিচয়ে হন মেনকা এ জগত-সংসার-- বিছায়েছে চক্রাকার   সম্পর্কের প্রবহমান স্রোত, এ  যেন নাট্যশালা-- সময়ের সাথে পালা। চরিত্র বদলায় রোজ ।

 মেনি ও হুলো  

(মেনি) :-- বুঝলি হুলো আমায় খান্ বদ্যি দেখা ভাই, হঠাৎ দেশে হোলো কি যে বুঝলাম না তা ছাই। থাকি তো সেই আস্তাকুঁড়ের এক কোণাতে গিয়ে সারা-বছর চোখ-রাঙানি এঁটো-কাঁটা খেয়ে। পাঁচটি বছর ধরে যাদের দেখা-সাক্ষাত নাই, দেখা হলেই করছে আমায় হ্যাল্-লো বাই বাই । বুঝিনাকো রকম-সকম বুঝিনা মতি-গতি, মাথাটা আমার গেছে , না কি ওদের ভিমরুতি ?? (হুলো) :-- মাথাটা তোর সত্যি গেছে বুঝলি রে ভাই মেনি, আর হবেনা কেন ? এঁটো-কাঁটা খেয়ে আর ভালো থাকবি কতখানি? বছর ঘুরে আসে হোলি রঙ লাগানোর খেলা, তেমনি আসে পাঁচ বছরে রঙ-বদলের পালা। নিজের-নিজের রঙ টি যাতে বদলে না যায় তাই, তাই তো এখন বলে হেসে হ্যালো-বাই-বাই। (মেনি) :-- কি যে বলিস্ আবোল-তাবোল আটকে গেরোর ফাঁসে, বুঝিনা তার মুন্ডু-মাথা, শুধু এটুকুই মাথায় আসে, দোহাই তোর, খোলসা করে বল না এবার ভাই, নয়ত চল দুজন মিলে বদ্যি-বাড়ি যাই। (হুলো) :-- বলছি শোন্ এবার খুলে মাথামোটা মেনি ভোট টি এলেই মোদের বানায় ওদের নয়নমনি তাও তো ভালো ভোট এলে ডাকে দাদা, ভাই কিংবা পিসি কিংবা মাসী কিংবা জ্যাঠামশাই। "আসুন দাদা, কেমন আছেন?" ভক্তিতে অপার, খাল পেরোলেই জানবি মেনি শেয়াল পগারপার। কথায় ভুলে যতই ওদের আপনজন মানি পাঁচ বছরের আগে দেখা মিলবে না তা জানি। নীতির রাজা রুপকথাতে, এখন রাজার নীতি-গান, পলিটিক্স মানেই এখন এ গ্রেডেড প্রফেশান। রঙ টি মেখে সঙ টি সেজে সকাল-সন্ধে বেলা, সুযোগ বুঝে কোপ টি মেরে দল বদলের পালা। দশের,দেশের যাগগে চুলোয়,গোছা আখের যতখুশি, বুঝলি মেনি একেই বলে মর্ডান ডেমোক্রেশি।

Ramshankar Maity                      

কবিতার নাম - "হে প্রিয়তম"

হে প্রিয়তম কেন আজও মোরে রেখেছো আপন করে। কিবা প্রয়োজনে হৃদয়ের টানে দিয়েছো এ সাড়া বিনা আহ্বানে আমি অতি দীন,সম্বলহীন নেই কিছু মোর ঘরে, কেন আজও মোরে হে প্রিয়তম রেখেছো আপন করে ।

দুদিনের তরে এসে ফিরে যাওয়া তার মাঝে শুধু চাওয়া ও না পাওয়া, জীবনপাতার একটিও খালি রাখিনি তোমার তরে , তবু কেন মোরে বাঁধো স্নেহ-ডোরে রেখেছো আপন করে ।

কেন সারাদিন শুধু সুখ-খোঁজা বাড়িয়ে চলেছি পৃথিবীর বোঝা, জীবন-মরুর তপ্ত বালুকা করেছে সৃষ্টি আশা-মরিচিকা, যত ছুটি পিছে নব নব সাজে দেয় সাজা বারে বারে, মানুষ হয়েছি মানুষের তরে করেছি কি কিছু ক্ষনিকের তরে তবু কেন সাড়া দাও বারে বারে বাঁধো বাহু-স্নেহ-ডোরে---- হে প্রিয়তম কেন আজও মোরে রেখেছো আপন করে---- ।

                  -----------রামশঙ্কর মাইতি ।।"আজ থেকে শতবর্ষ পরে"

আজ থেকে শতবর্ষ পরে, অম্লান থাকবে তোমার শহর, তোমার প্রান্তর, হয়তো বা কোনো নতুন সাজে সাজবে তোমার প্রেয়সী সেদিন, কতো নামিদামি অলঙ্কারে সজ্জিত হয়ে মন ভরাবে কতো ইন্দ্রসভার--- একটু খেয়াল করে দেখো তো ! সেদিনের সেই জনারণ্যে একজনকে তুমি খুজে পাবে না !! কে সে? সে আর কেউ নয়,সে হলে তুমি !!

কালের চাকাটি কালের নিয়মে ঘুরে চলে অবিরাম,

        এই কালের-ই প্রবাহে মুছে যায় কতো                            
                       তোমার আমার নাম !!                          
তবে কিসের তরে 'আমার' বলে উঠাও কলতান ? 
                কেন বুনে চল বিভেদের জাল  
                         নিরলস অবিরাম !!

আজ থেকে শতবর্ষ পরে তুমিতো ঘুমোতেই চাও তোমার প্রেয়সীর বুকে !! তা তুমি ঘুমোতেই পারো, কেউ তোমায় ডাকবে না তোমার নাম ধরে--- তবু মনে রেখো---

তুমি চাইলে জেগে থাকতে পারতে তোমার

প্রেয়সীর বুকে -- না না শুধু একশত নয়, শতশত বৎসরের জন্যে--

এসেছ ধরায় দুদিনের তরে রেখে যাও কিছু ছাপ, তুমি এসেছিলে ধুয়ে মুছেছিলে ধরনীর কিছু পাপ। তুমি তুচ্ছ ! তুমি নগন্য ! --তাতে কি বা আসে যায় !

         চেতনার আলো জ্বেলে ও জ্বালিয়ে 
                  সদা জেগে থাকা যায় ‌।
               ---------রামশঙ্কর মাইতি  ।