ব্যবহারকারী:Rahi Raihan/খেলাঘর
এটি Rahi Raihan-এর ব্যবহারকারী খেলাঘর। ব্যবহারকারী খেলাঘর হচ্ছে ব্যবহারকারী'র ব্যবহারকারী পাতার একটি উপপাতা। এটি ব্যবহারকারীর জন্য একটি তৎক্ষণাৎ পরীক্ষা এবং পাতা উন্নয়নের স্থান হিসেবে কাজ করে এবং এটি বিশ্বকোষীয় নিবন্ধ নয়। আপনি এখানে নিজস্ব খেলাঘর তৈরি করতে বা সম্পাদনা করতে পারেন। অন্যান্য খেলাঘরগুলি: প্রধান খেলাঘর | খেলাঘর ২, খেলাঘর ৩ | টেমপ্লেট খেলাঘর একটি নিবন্ধ লিখেছেন এবং তা সৃষ্টির অনুরোধ করতে প্রস্তুত? |
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের একটি পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস (Compound) বলে। বাংলা ভাষায় যে সকল প্রক্রিয়ায় নতুন পদ বা শব্দ তৈরি হয় সমাস তার একটি। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। যেমন: দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম, তুষারের মতো ধবল = তুষারধবল। এই সমাস শব্দের আক্ষরিক অর্থ – “এক হওয়া” বা "সংক্ষেপ"। আর ব্যাকরণসম্মত অর্থ হলো — "সংক্ষেপণ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ"। একে বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করা যায়:
সমাসের প্রয়োজনীয়তা
[সম্পাদনা]বাংলা ভাষায় সমাসের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। অন্যান্য ভাষায়ও এই প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য করা যায়। বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনে সমাসের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সমাস বাংলা ভাষাকে সুগঠিত, সুন্দর ও সংক্ষিপ্ত করে তোলে। রায়হান সাহেব একজন বিলাত হতে ফেরত ডাক্তার, কিংবা চাঁদের মত মুখ যে মেয়েটির তার কথাগুলি অসম্ভব সুন্দর। এই দুটি বাক্যকে সমাসের সাহায্যে আমরা আরো সুন্দর, সহজ, সংহত, সমৃদ্ধ করে লিখতে পারি। প্রথম বাক্যটি সমাসের সাহায্যে লেখা যায় এভাবে- রায়হান সাহেব একজন বিলাতফেরত ডাক্তার। দ্বিতীয় বাক্যটি লেখা যায়- চাঁদমুখ মেয়েটির কথাগুলি অসম্ভব সুন্দর! সুতরাং সমাস বাক্যকে সংক্ষিপ্ত করে, শ্রুতিমধুর করে, সংহত করে। সংক্ষিপ্তাকারে অধিক ভাব প্রকাশ করা যায় সমাসের সাহায্যে। অর্থাৎ জানার সংহতি ও শ্রীবৃদ্ধিতে সমাসের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সমাসের বিভিন্ন পরিভাষা
[সম্পাদনা]| ব্যাসবাক্য | সমাসনিষ্পন্ন পদ | ||
|---|---|---|---|
| সিংহ | চিহ্নিত যে | আসন | সিংহাসন |
| সমস্যমান পদ |
সমস্যমান পদ |
সমস্যমান পদ | |
| পূর্বপদ | মধ্যপদ | পরপদ | সমস্তপদ |
সমস্যমান পদ
[সম্পাদনা]যে সকল পদ একত্রিত হয়ে সমাস সংগঠিত হয়, তাদের প্রত্যেকটি পদকে সমস্যমান পদ বলে। যেমন – বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি। এখনে ‘বীণা’ ‘পাণিতে’ হল সমস্যমান পদ ও ‘যার’ হল সমস্যমান সহায়ক অন্য পদ। অনুরূপভাবে, বিলাত হতে ফেরত= বিলাতফেরত। এখানে ‘বিলাত’ ও ‘ফেরত’ পদ দুটো সমস্যমান পদ ও ‘হতে’ হল সমস্যমান সহায়ক অন্য পদ।
সমস্ত পদ
[সম্পাদনা]সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটিকে সমস্তপদ বলে। অর্থাৎ সমাসে একাধিক পদ মিলিত হয়ে যে একটি নতুন পদ গঠন করে, তাকে সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ বলে। যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, এখানে ‘সিংহাসন’ পদটি সমস্ত পদ।
ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহ বাক্য বা সমাসবাক্য
[সম্পাদনা]ব্যাসবাক্য শব্দের অর্থ হল বিস্তৃত বাক্য বা বিশ্লেষণকারী বাক্য। যেহেতু এই শ্রেণির বাক্যের দ্বারা সমস্তপদকে বিশ্লেষণ করা যায় বা সমস্তপদের মূল অর্থ বিশ্লেষন করে পাওয়া যায়, তাই এই বাক্যের নাম ব্যাসবাক্য। আবার, ‘বিগ্রহ’ শব্দের অর্থ বিশেষ রূপ বা মূর্তি ধারণ করা, যেহেতু ব্যাসবাক্য সমস্তপদের মূল অর্থকে বিশ্লেষণ করার জন্য বা নির্ণয় করার জন্য বিশেষ রূপ বা মূর্তি ধারণ করে বাক্য গঠন করে, তাই ব্যাসবাক্যের নাম বিগ্রহ বাক্য। সমাসের অর্থ বোঝানোর জন্য যে পদগুলোকে ব্যাখ্যা করা হয়, তাদেরকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহ বাক্য বলা হয়। যেমন: বিলাত হতে ফেরত = বিলাতফেরত। এখানে ‘বিলাত হতে ফেরত’ হলো ব্যাসবাক্য।
পূর্বপদ এবং উত্তরপদ বা পরপদ
[সম্পাদনা]সমাসবদ্ধ পদে প্রথম অংশকে পূর্বপদ এবং দ্বিতীয় বা পরবর্তী অংশকে উত্তরপদ বা পরপদ বলা হয়। যেমন: কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল; এখানে ‘কুসুম’ পূর্বপদ এবং ‘কোমল’ উত্তরপদ বা পরপদ।
সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য
[সম্পাদনা]বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ গঠনে সন্ধি ও সমাসের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এদের মধ্যকার মূল সাদৃশ্য হলো বাক-সীমিত ও সৌন্দর্য সৃষ্টি। যদিও উভয়ের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য আছে, তবে এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে এই বৈসাদৃশ্যগুলো তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | সন্ধি | সমাস |
|---|---|---|
| অর্থ | সন্ধি শব্দের অর্থ হলো মিলন। | সমাস শব্দের অর্থ হলো সংক্ষেপণ। |
| সংজ্ঞা | সন্ধি হলো পাশাপাশি দুটি ধ্বনি বা বর্ণের মিলন। উদাহরণ: অতি + অন্ত = অত্যন্ত। |
সমাস হলো একাধিক পদের একপদে মিলন। উদাহরণ: বিলাত হতে ফেরত = বিলাতফেরত। |
| আলোচনা | সন্ধি আলোচিত হয় ধ্বনিতত্ত্বে। | সমাস আলোচিত হয় রুপতত্ত্বে। |
| লক্ষ্য | সন্ধির লক্ষ্য বর্ণের মিলন, অর্থের সাথে তেমন সম্পর্ক নেই। | সমাসের লক্ষ্য পদের মিলন, এটি অর্থের সাথে সম্পর্কিত। |
| বিভক্তি | সন্ধিতে পদের বিভক্তি লোপ পায় না। | সমাসে (অলুক সমাস ব্যতীত) প্রতিটি পদের বিভক্তি লোপ পায়। |
| প্রভাব | সন্ধি উচ্চারণের কাঠিন্য দূর করে ও লঘুতা সৃষ্টি করে। | সমাস বাক্যকে সংক্ষেপ করে ও শ্রুতিমধুরতা বৃদ্ধি করে। |
| স্বকীয়তা | সন্ধিতে পদের স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকে। | সমাসে পদগুলো একপদের মধ্যে হারিয়ে যায়। |
| চিহ্ন | সন্ধিতে দুই বর্ণের মাঝে যোগ চিহ্ন (+) ব্যবহার করতে হয়। | সমাসে দুই পদের মাঝে সাধারণত অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়। |
| প্রকারভেদ | সন্ধি প্রধানত তিন প্রকার: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি, বিসর্গসন্ধি। |
সমাস প্রধানত ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, দ্বিগু, বহুব্রীহি, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, অব্যয়ীভাব। |
সমাসের প্রকারভেদ
[সম্পাদনা]বাংলা ব্যকরণে সমাসকে সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা হয়েছে। যেমন—
- সংস্কৃতে সমাস ৪ প্রকার দেখা যায়:
- দ্বন্দ্ব
- তৎপুরুষ
- বহুব্রীহি
- অব্যয়ীভাব
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সমাসের ৩টি ভাগ দেখিয়েছেন:
- সংযোগমূলক সমাস (Collective Compounds) – দ্বন্দ্ব সমাস।
- ব্যাখ্যামূলক সমাস (Determinative Compounds) – কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু সমাস।
- বর্ণনামূলক সমাস (Relative or Descriptive Compounds) – বহুব্রীহি সমাস।
- আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পদের অর্থগত দিক থেকে সমাসকে ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
- উভয় পদের অর্থপ্রধান – দ্বন্দ্ব সমাস।
- পরপদের অর্থপ্রধান – তৎপুরুষ, কর্মধারয়, দ্বিগু।
- পূর্বপদের অর্থপ্রধান – অব্যয়ীভাব সমাস।
- অন্যপদের অর্থপ্রধান – বহুব্রীহি সমাস।
| সমাস | অর্থপ্রাধান্য | |
|---|---|---|
| অব্যায়ীভাব | পূর্বপদ | অপূর্ব |
| তৎপুরুষ, কর্মধারয়, দ্বিগু | পরপদ | তকদিরের উপর |
| দ্বন্দ্ব | উভয় পদ | দ্বন্দ্বে উভয়ে জড়িত |
| বহুব্রীহি | ভিন্ন পদ | বহু=ভিন্ন ভিন্ন |
- সমাস প্রধানত ৬ প্রকার। যথা:
- দ্বন্দ্ব সমাস
- কর্মধারয় সমাস
- তৎপুরুষ সমাস
- বহুব্রীহি সমাস
- দ্বিগু সমাস
- অব্যয়ীভাব সমাস।
তবে নিচে প্রয়োজনীয় সকল সমাসের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
দ্বন্দ্ব সমাস
[সম্পাদনা]| ও এবং আর, দ্বন্দ্ব নাম তার |
| সমজাতীয় পদ + ও + সমজাতীয় পদ |
'দ্বন্দ্ব' শব্দের অর্থ জোড়া। যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদে অর্থের প্রাধান্য থাকে এবং কেউ কারও দ্বারা সঙ্কুচিত হয় না, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—জীবন ও মরণ = জীবন-মরণ, পোকা ও মাকড় = পোকা-মাকড়, সাত ও সতেরো = সাত-সতেরো, গমন ও আগমন = গমনাগমন।
দ্বন্দ্ব সমাসের শ্রেণীবিভাগ
[সম্পাদনা]১. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
[সম্পাদনা]যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর মধ্যে অভিন্ন সম্পর্ক থাকে, তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—
- ছেলে ও মেয়ে = ছেলে-মেয়ে
- পিতা ও পুত্র = পিতা-পুত্র
- মাছ ও ভাত = মাছ-ভাত
- ভাই ও বোন = ভাই-বোন
- জিন ও পরী = জিন-পরী
২. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
[সম্পাদনা]যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বৈরী অর্থ বা ভাব প্রকাশ করে, তাকে বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—
- অহি ও নকুল = অহি-নকুল
- দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া
- স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক
- দেও ও দানব = দেও-দানব
৩. সমার্থক দ্বন্দ্ব
[সম্পাদনা]একই জাতীয় বস্তুর সংযোগে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয়, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—
- হাট ও বাজার= হাট-বাজার
- বই ও পুস্তক = বই-পুস্তক
- চিঠি ও পত্র = চিঠি-পত্র
- ঘর ও বাড়ি = ঘর-বাড়ি
- জন ও মানব = জনমানব
৪. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
[সম্পাদনা]যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—
- ছোট ও বড় = ছোট-বড়
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ
- দেশ ও বিদেশ = দেশ-বিদেশ
- সত্য ও মিথ্যা = সত্য-মিথ্যা
- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়
- জোয়ার ও ভাটা = জোয়ার-ভাটা
- আকাশ ও পাতাল = আকাশ-পাতাল
- হিত ও অহিত = হিতাহিত
৫. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব
[সম্পাদনা]যে দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের দ্বারা সংখ্যা বোঝায়, তাকে সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—
- বিশ ও পঁচিশ = বিশ-পঁচিশ
- লক্ষ অথবা কোটি = লক্ষ-কোটি
- সাত ও সতের = সাত-সতের
- সাত ও পাঁচ = সাত-পাঁচ
| “ | সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্বে উভয় পদের অর্থই প্রাধান্য পায় এবং উভয় পদই সংখ্যা(বিশেষ্য) হয়। কিন্তু সংখ্যাবাচক বহুব্রীহিতে পূর্বপদ এবং পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে। যেমন, দশ গজ পরিমাণ — দশগজি। এই দশগজি দ্বারা দশগজ পরিমাণ কোন একটি বস্তুকে বোঝাচ্ছে। তাই এটি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। এরকম আরো-চৌচালা,চারহাতি,পঞ্চানন ইত্যাদি। | ” |
৬. সহচর দ্বন্দ্ব
[সম্পাদনা]যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের সহচর হিসেবে যুক্ত হয়, তাকে সহচর দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—
- সর্দি ও কাশি = সর্দি-কাশি
- খানা ও পিনা = খানা-পিনা
- বন ও বাদাড় = বন-বাদাড়
- ছল ও চাতুরী = ছল-চাতুরী
- ধর ও পাকড় = ধর-পাকড়
- কাপড় ও চোপড় = কাপড়-চোপড়
- পোকা ও মাকড় = পোকা-মাকড়
- চুরি ও চামারি = চুরি-চামারি
- হৈ ও হল্লা = হৈ-হল্লা
- ধুতি ও চাদর = ধুতি-চাদর
৭. বহুপদী দ্বন্দ্ব
[সম্পাদনা]যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুয়ের অধিক পদের মধ্যে সমাস হয়, তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—
- সাহেব, বিবি ও গোলাম = সাহেব-বিবি-গোলাম
- জন্ম, মৃত্যু আর বিবাহ = জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ
- রূপ, রস, গন্ধ ও স্পর্শ = রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ
- চন্দ্ৰ, সূর্য, গ্রহ ও নক্ষত্র = চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-নক্ষত্র
- ইট, কাঠ ও পাথর = ইট-কাঠ-পাথর
- টাকা, আনা ও পাই = টাকা-আনা-পাই
- চর্ব্য, চোষ্য, লেহ্য ও পেয় = চর্ব্যচোষ্যলেহ্যপেয়
- স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল = স্বর্গমর্ত্যপাতাল
- কায়, মনঃ ও বাক্য = কায়মনোবাক্য
- কাক, চিল ও মাছরাঙ্গা = কাক-চিল-মাছরাঙ্গা
- পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা = পদ্মা-মেঘনা-যমুনা
- কোপ, প্রেম আর গর্ব ও সৌভাগ্য = কোপপ্রেমগর্বসৌভাগ্য
- আদি ও মধ্য এবং অন্ত = আদিমধ্যান্ত
- টক, ঝাল ও মিষ্টি = টক-ঝাল-মিষ্টি
- আম, জাম ও কাঁঠাল = আম-জাম-কাঁঠাল
এরূপ : হাত-পা-মুখ, আকাশ-বাতাশ-পাতাল[১], ঝাল-নুন-তেল, হীরা-চুনি-পান্না ইত্যাদি।
৮. একশেষ দ্বন্দ্ব
[সম্পাদনা]যে দ্বন্দ্ব সমাসে প্রধান পদটি অবশিষ্ট থাকে ও অন্য পদগুলো লোপ পায় এবং শেষ পদ অনুসারে শব্দ নির্ধারিত হয়, তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস বলা হয়। যেমন—
- তুমি ও আমি = আমরা
- তুমি ও সে = তোমরা।
- তুমি, সে ও আমি= আমরা
- জায়া ও পতি = দম্পতি [সংস্কৃত শব্দ জায়া হতে দম]
৯. অলুক দ্বন্দ্ব
[সম্পাদনা]যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোন সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে
- পথে ও ঘাটে = পথে-ঘাটে
- দেশে ও বিদেশে = দেশে-বিদেশে
- জলে ও স্থলে = জলে-স্থলে
এরূপ: সাপে-নেউলে[২], পথে-প্রান্তরে[৩], হেসে-খেলে[৪], বনে-বাঁদাড়ে[৫] ইত্যাদি।
দ্বন্দ্ব সমাসের গঠন
[সম্পাদনা]বিভিন্নভাবে দ্বন্দ্ব সমাস গঠিত হয়। যেমন:
| ১. মিলনার্থক শব্দযোগে: | মা-বাপ, মাসি-পিসি,ভাই-বোন, জ্বিন-পরি, দীন-দুঃখী, চা-বিস্কুট, চাল-ডাল |
| ২. বিরোধার্থক শব্দযোগে: | চোর-পুলিশ, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি |
| ৩. বিপরীতার্থক শব্দযোগে: | ধনী ও দরিদ্র = ধনিদরিদ্র; দিবস ও রজনী = দিবস-রজনী।
সেইরূপ বেচাকেনা, বিকিকিনি, জানা-অজানা, লাভ-লোকসান, দেনা-পাওনা, ক্ষুদ্র-বৃহৎ/ছোটোবড়ো/ছোট-বড়, বাঁচামরা, জলস্থল, ক্রয়বিক্রয়, পাপ-পুণ্য, স্বর্গনরক, শীতগ্রীষ্ম, ভালোমন্দ, সন্ধিবিগ্রহ, আয়ব্যয়, রাজাপ্রজা, আদ্যন্ত, আকাশ-পাতাল, চুনকালি, দিনরাত, ভাঙাগড়া, কমবেশী, অল্প-বিস্তর, অগ্রপশ্চাৎ, আগাগোড়া, জমা-খরচ, ছেলে-বুড়ো, শত্রু-মিত্র, জন্ম-মৃত্যু, সৎ-অসৎ। |
| ৪. অঙ্গবাচক শব্দযোগে: | হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুণ্ডু, নাক-মুখ, চোখ-কান |
| ৫. সংখ্যাবাচক শব্দযোগে: | সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ |
| ৬. সমার্থক শব্দযোগে: | হাট-বাজার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভি, খাতা-পত্র, রাজা-বাদশা, ধন-দৌলত, বই-পুস্তক, দয়া-মায়া, পাহাড়-পর্বত, আত্মীয়-স্বজন, জপতপ, সাধনভজন, পোষ্য-পরিজন, দীনদরিদ্র, লোকজন, ব্যবসায়বাণিজ্য/ব্যবসা-বাণিজ্য, সন্তান-সন্ততি, যুদ্ধবিগ্রহ, কাজকর্ম, ছাইভস্ম, বসবাস, মামলামকদ্দমা, ভয়ডর, খোঁজখবর, ঠাকুর-দেবতা, ধরপাকড়, জন্তুজানোয়ার, কাঙাল-গরীব, চালাক-চতুর, বলা-কওয়া, ছেলে-ছোকরা, লজ্জাশরম, ফন্দিফিকির, খড়কুটা। |
| ৭. প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: | গ্রাস ও আচ্ছাদন = গ্রাসাচ্ছাদন; হাট ও বাজার = হাটবাজার; পাঁজি ও পুঁথি = পাঁজিপুঁথি।
সেইরূপ গীতবাদ্য, দানধ্যান, অন্নজল, ঔষধপত্র, পঠনপাঠন, চাষাবাদ, ভাত-কাপড়, চাষবাস, আদর-অভ্যর্থনা, গানবাজনা, দইসন্দেশ, নামধাম, টাকাপয়সা, ইস্কুল-কলেজ, খালবিল, গল্প-গুজব, মানইজ্জত, বিন্দুবিসর্গ, আদব-কায়দা, হাসিঠাট্টা, কাপড়-চোপড়, পোকা-মাকড়, ধূতি-চাদর, ঘর-দুয়ার, চা-কফি। |
| ৮. দুটি বিশেষ্যযোগে: | কুশ ও লব = কুশীলব, ভীম ও অর্জুন = ভীমার্জুন; ভাই আর বোন = ভাইবোন; ধর্ম ও কর্ম = ধর্মকর্ম (কিন্তু ধৰ্মমূলক কর্ম—মধ্যপদলোপী কর্মধারয়); দুধ ও ভাত = দুধভাত (কিন্তু দুধমিশ্ৰিত ভাত—মধ্যপদলোপী কর্মধারয়); মন ও তনু = মনস্তনু।
তদ্রূপ রাজা-রানী, ভাই-বোন, মা-বাবা, চোখ-কান, জন্ম-মৃত্যু, নদ-নদী, জীবন-মরণ, ধান-পাট, যুগযুগান্তর, বল্লরীপল্লব, দেবতাদনুজ, নিশিদিন, ধান্যদূর্বা, সোনারূপা, অশনবসন, জাতিধর্মবৃত্তিবর্ণ, ক্রিয়াকর্ম, দোলদুর্গোৎসব, সত্য-শিব-সুন্দর, অমর-দানব-যক্ষ-মানব, শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম, ভয়-বিস্ময়-শ্রদ্ধা-কৌতূহল, হারানো-প্রাপ্তি-নিরুদ্দেশ, তনুমন, রবিশশী, মন্তরতন্তর, নাড়িভুঁড়ি, কায়দাকানুন, ঝোলাঝুলি। |
| ৯. দুটি বিশেষণযোগে: | সিত ও অসিত = সিতাসিত; পণ্ডিত ও মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ (ভিন্ন ব্যক্তি; একই ব্যক্তিকে বুঝালে ব্যাসবাক্য হবে: পণ্ডিত অথচ মূর্খ—কর্মধারয়); শীত ও উষ্ণ = শীতোষ্ণ; গত এবং আয়াত = গতায়াত।
তদ্রূপ ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া, ছোট-বড়, সৎ-অসৎ, সহজ-সরল, সত্য-মিথ্যা, উঁচু-নিচু, হিতাহিত, নরমগরম, ন্যায়ান্যায়, কোমলশ্যামল, লালনীল, সরুমোটা, দীনদুঃখী, চেনা-অচেনা, কানাকানী, ঝলসাপোড়া। [কিন্তু বিশেষণ দুইটি যদি একই বস্তু বা ব্যক্তিকে বুঝায়, তাহলে দ্বন্দ্ব না হয়ে কর্মধারয় হবে।] |
| ১০. দুটি সর্বনামযোগে: | তুমি আর আমি = তুমি-আমি।
তদ্রুপ যা-তা, যে-সে, যার-তার, যথা-তথা, যেখানে-সেখানে, যখন-তখন, যেমন-তেমন। |
| ১১. দুটি ক্রিয়াযোগে: | হাসি ও খেলি = হাসি-খেলি।
সেইরূপ নাচ-গাও, মারধর, ছুঁয়ে-ধরে, আসা-যাওয়া, বলা-কওয়া, বাঁচা-মরা, ভাঙা-গড়া, দেখা-শোনা, লেখা-পড়া, দেওয়া-নেওয়া, চলা-ফেরা |
| ১২. দুটি ক্রিয়াবিশেষণযোগে: | ধীরে-সুস্থে, আগে-পিছে, আকারে-ইঙ্গিতে, পাকে-প্রকারে |
দ্বন্দ্ব সমাসের কতিপয় নিয়ম
[সম্পাদনা]- উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়: কোনো পদই অন্যটির অর্থকে ছোট করে না।
- সংযোগকারী অব্যয় ব্যবহৃত হয়: যেমন– “ও”, “এবং”, “আর”। উদাহরণস্বরূপ: মা ও বাবা = মা-বাবা।
- সমজাতীয় পদ (Parts of speech) ব্যবহৃত হয়: সমজাতীয় পদ = বিশেষ্য-বিশেষ্য, বিশেষণ-বিশেষণ, সর্বনাম-সর্বনাম বা ক্রিয়া-ক্রিয়া। উদাহরন:
- বিশেষ্য-বিশেষ্য: ভাই(বিশেষ্য) + ও + বোন(বিশেষ্য) = ভাই-বোন
- বিশেষণ-বিশেষণ: ভালো(বিশেষণ) + ও + মন্দ(বিশেষণ) = ভালো-মন্দ
- সর্বনাম-সর্বনাম: যা(সর্বনাম) + ও + তা(সর্বনাম) = যা-তা
- ক্রিয়া-ক্রিয়া: হেসে(ক্রিয়া) + ও + খেলে(ক্রিয়া) = হেসে-খেলে
- শ্রদ্ধেয়, স্ত্রীবাচক ও গৌরববোধক শব্দ আগে বসে:
- মা ও বাপ = মা-বাপ (স্ত্রীবাচক শব্দ "মা" আগে বসেছে)
- গুরু ও শিষ্য = গুরু-শিষ্য (শ্রদ্ধেয় শব্দ "গুরু" আগে বসেছে)
- রাজা ও প্রজা = রাজা-প্রজা ("রাজা" শব্দটি গৌরববোধক তাই আগে বসেছে)
- দেব ও দ্বিজ = দেব-দ্বিজ
তদ্রুপ মাতাপিতা, স্ত্রীপুরুষ, রামলক্ষ্মণ, রামসীতা, সৈন্যসামন্ত, ভীষ্মার্জুন, লক্ষ্মীজনার্দন, পার্বতীপরমেশ্বর, বামুন-শূদ্র, বৃহৎ-ক্ষুদ্র ইত্যাদি।
অবশ্য ব্যতিক্রমও আছে— যজমান-শিষ্য, সীতারাম, কিশোর-কিশোরী, হরগৌরী, পিতামাতা, বাপ-মা, ভাইবোন, বরবধূ ইত্যাদি।
কিন্তু ছেলেমেয়ে, খোকাখুকু, দেবদেবী, নদনদী, নরনারী, মানবমানবী, বরকনে, দাসদাসী, সখাসখী প্রভৃতি কয়েকটি শব্দের উপাদান-শব্দগুলির ক্রম অক্ষুণ্ণ থাকে।
- ছোট শব্দটি আগে বসে:
- দেনা ও পাওনা = দেনা-পাওনা
- পান ও তামাক = পান-তামাক
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ
- মুড়ি ও মুড়কি = মুড়ি-মুড়কি
- লাভ ও লোকসান = লাভ-লোকসান
- হসন্ত, আ-কারান্ত ও সন্ধিযুক্ত শব্দ আগে বসে:
- সুখ্ ও দুঃখ = সুখ-দুঃখ
- নদ্ ও নদী = নদ-নদী
- দাস্ ও দাসী = দাস-দাসী
- খাল্ ও বিল = খাল-বিল
- সমান স্বরবিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে উ-কার বা ও-কার যুক্ত শব্দ পরে বসে:
- হাতি ও ঘোড়া = হাতি-ঘোড়া ("ঘোড়া" শব্দে ও-কার আছে, তাই পরে বসেছে)
- নাক ও মুখ = নাক-মুখ ("মুখ" শব্দে উ-কার আছে, তাই পরে বসেছে)
- কানা ও ঘুষা = কানা-ঘুষা ("ঘুষা" শব্দে উ-কার আছে, তাই পরে বসেছে)
কর্মধারয় সমাস
[সম্পাদনা]কর্মধারয় সমাসের শ্রেণীবিভাগ
[সম্পাদনা]১. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
[সম্পাদনা]| যে যা সে যিনি তিনি, সাধারণ কর্মধারয়ের কাছে সবাই ঋণী। |
বিশেষণে-বিশেষণে, বিশেষণে-বিশেষ্যে এবং বিশেষ্যে-বিশেষ্যে যে কর্মধারয় সমাস হয়, তাকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন—
বিশেষণে-বিশেষ্যে কর্মধারয়
[সম্পাদনা]- নীল যে উৎপল = নীলোৎপল
- রক্ত (লাল) যে উৎপল = রক্তোৎপল
- নীল যে দল = নীলদল
- লাল যে পাথর = লালপাথর
- রক্ত (লাল) যে চন্দন = রক্তচন্দন
- নব যে অন্ন = নবান্ন
- শুদ্ধ যে অন্ন = শুদ্ধান্ন
- মিষ্ট যে অন্ন (খাদ্য) = মিষ্টান্ন
- সু যে পুরুষ = সুপুরুষ
- কু যে পুরুষ = কুপুরুষ (শ্রীহীন)/কাপুরুষ (ভীরু)
- শুভ যে বিবাহ = শুভবিবাহ
- খাস যে মহল = খাসমহল
- খুল্ল (ক্ষুদ্র) যে তাত = খুল্লতাত
- শুচি যে বস্ত্ৰ = শুচিবস্ত্র
- ছিন্ন যে বস্তু = ছিন্নবস্তু
- সুদৃঢ় যে সংকল্প = সুদৃঢ়সংকল্প
- পূর্ব যে রাত্রি = পূর্বরাত্রি (আগের দিনের রাত্রি; কিন্তু রাত্রির পূর্ব = পূর্বরাত্র — সম্বন্ধ-তৎপুরুষ, রাত্রির প্রথমাংশ অর্থে)
- নব যে যৌবন = নবযৌবন
- বাহ্য যে আড়ম্বর = বাহ্যাড়ম্বর
- কাল (ভয়ঙ্কর) যে ফাঁদ = কাল-ফাঁদ
- রুদ্র যে বীণা = রুদ্রবীণা
- কম (কমনীয়) যে কলেবর = কম-কলেবর
- বালা (প্রাথমিক অবস্থায়) যে গঙ্গা = বালগঙ্গা
- বর (বরণীয়) যে বপু = বরবপু
- ভর (পরিপূর্ণ) যে সন্ধ্যা = ভরসন্ধ্যা
- বিশ্ব (সকল) যে মানব = বিশ্বমানব
- পুণ্য যে অহ = পুণ্যাহ
- গুপ্ত যে চর = গুপ্তচর
- পাণ্ডু (খসড়া) যে লিপি = পাণ্ডুলিপি
- উড়ো যে জাহাজ = উড়োজাহাজ
- হেড যে মাস্টার = হেডমাস্টার
- কু (কুৎসিত) যে অন্ন = কদন্ন
- পরমা যে ঈশ্বরী = পরমেশ্বরী
- বি (ভিন্ন) যে মাতা = বিমাতা
- প্রিয় যে সখা = প্রিয়সখ
- গণ্ড (বর্ধিষ্ণু) যে গ্রাম = গণ্ডগ্রাম
- দুঃ এমন অবস্থা = দুরবস্থা
- রাম (বড়) যে ছাগল = রামছাগল
- আলগা (অগভীর) যে চটক (সৌন্দর্য) = আলগাচটক
- জিবে (< জিবিয়া — জিবের আকৃতি-বিশিষ্ট) যে গজা = জিবেগজা
এরূপ: কালোপেঁচা[৬], লালফুল[৭], ফুলবাবু[৮], পূর্ণচন্দ্র[৯], নয়াদিল্লী[১০], কাঁচকলা[১১], প্রধানশিক্ষক/হেডমাস্টার[১২], হেডপণ্ডিত[১৩], গুণীজন[১৪], ছিন্নপত্র[১৫], ঝরাপাতা[১৬], টকদই[১৭], শ্বেতপাথর[১৮], শ্বেতপদ্ম[১৯], শ্বেতশ্মশ্রু[২০], পুণ্যতিথি[২১], সজ্জন[২২], নীলকমল[২৩], নীলশাড়ী[২৪], কদক্ষর[২৫], স্নিগ্ধদৃষ্টি[২৬], শুভোৎসব[২৭], বিকম্পিত-চেলাঞ্চল[২৮], নবপল্লব[২৯], পরমসুন্দরী[৩০], দুরাকাঙ্ক্ষা[৩১], নষ্টনীড়[৩২], দুশ্চেষ্টা[৩৩], বদহজম[৩৪], কানাকড়ি[৩৫], হেঁড়েগলা[৩৬], কড়াপাক[৩৭], রাঙাবউ[৩৮], ভরপেট[৩৯], ভরাযৌবন[৪০], হাফমোজা[৪১], নতুন-গিন্নী[৪২] ইত্যাদি।
বিশেষণে-বিশেষণে কর্মধারয়
[সম্পাদনা]- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর
- যিনি শান্ত তিনিই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট
- যে কানা সেই খোঁড়া = কানাখোঁড়া
- যিনি গণ্য তিনিই মান্য = গণ্যমান্য
- যা শীত তাই উষ্ণ = শীতোষ্ণ
- যা মৃদু তাই মন্দ = মৃদুমন্দ
- কাঁচা অথচ মিঠা/যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচামিঠা
- যে হৃষ্ট সেই পুষ্ট = হৃষ্টপুষ্ট
- যা স্নিগ্ধ তাই উজ্জ্বল = স্নিগ্ধোজ্জ্বল
- খানিক মিঠে খানিক কড়া = মিঠেকড়া
- যা সহজ তাই সরল = সহজসরল
- তাজা অথচ মরা = তাজামরা
- সরল অথচ উন্নত = সরলোন্নত
- মধুর যা শ্যামল তা = মধুরশ্যামল
- বিষণ্ণ অথচ মধুর = বিষণ্নমধুর
- ভীষণ অথচ মধুর = ভীষণমধুর
- আগে গত পরে আয়াত = গতায়াত
- পূর্বে স্নাত পরে অনুলিপ্ত = স্নাতানুলিপ্ত
- (কণ্ঠে) নীল অথচ (কেশে) লোহিত = নীললোহিত (শিব)
- আগে বাছা পরে ধোয়া = বাছাধোয়া (মাছ)
এরূপ সুপ্তোত্থিত, শয়িতোখিত, দত্তাপহৃত, জীবনাত, করুণকোমল, কান্তকোমল, ধোয়ামোছা (ঘর), কাঁচাপাকা (চুল), কচিকাচা, ক্লিষ্টক্লান্ত, অম্লমধুর, পণ্ডিতমূর্খ, সাদাসিধে[৪৩], বাঁধাধরা[৪৪], দীনহীন[৪৫] ইত্যাদি।
| “ | দুইটি বিশেষ্য/বিশেষণ বিভিন্ন বস্তু বা ব্যক্তিকে বুঝালে দ্বন্দ্ব সমাস হয়। সেখানে প্রতিটি পদেরই অর্থপ্রাধান্য থাকে। রামকৃষ্ণ — যিনি রাম তিনি কৃষ্ণ (একই ব্যক্তি)–কর্মধারয় সমাস, কিন্তু রাম ও কৃষ্ণ — রামকৃষ্ণ (বিভিন্ন ব্যক্তি)–সমাস তখন দ্বন্দ্ব। একইভাবে, পণ্ডিতমূর্খ — পণ্ডিত (জ্ঞানে) অথচ মূৰ্খ (ব্যবহারে) – একই ব্যক্তি, তাই কর্মধারয়; কিন্তু পণ্ডিত ও মূর্খ — পণ্ডিতমূর্খ (বিভিন্ন ব্যক্তি)–তাই দ্বন্দ্ব। | ” |
বিশেষ্যে-বিশেষ্যে কর্মধারয়
[সম্পাদনা]- যিনি রাজা তিনিই বাদশাহ = রাজাবাদশাহ
- যিনি ডাক্তার তিনিই সাহেব = ডাক্তারসাহেব
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব
- যিনি শিক্ষক তিনিই মহাশয় = শিক্ষকমহাশয়
- যিনি গুরু তিনিই দেব = গুরুদেব
- যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি
- যিনি চিৎ তিনিই আনন্দ = চিদানন্দ
- যিনি শিব তিনিই নাথ = শিবনাথ
- যিনি পিতা তিনিই দেব = পিতৃদেব
- যিনি কারু তিনি শিল্পী = কারুশিল্পী
- জ্ঞাতি যিনি শত্রুও তিনি = জ্ঞাতিশত্রু
- যিনি নৃপ তিনিই শিষ্য = নৃপশিষ্য
- যিনি বউ তিনি ঠাকুরানী = বউঠাকুরানী
- যিনি মা তিনিই ঠাকরুন = মা-ঠাকরুন
- যিনি শশী তিনি বাবু = শশীবাবু
- যা হল (Hall) তাই ঘর = হলঘর
- যা বাংলা তাই দেশ = বাংলাদেশ
- যা পল্লী তাই গ্রাম = পল্লীগ্রাম
- যা গোলাপ তাই ফুল = গোলাপফুল
- যা মলয় তাই অনিল = মলয়ানিল
এরূপ গিন্নিমা[৪৬], বধূমাতা[৪৭], লাটসাহেব[৪৮], খোকাবাবু[৪৯], দাদাবাবু[৫০], দাদাঠাকুর[৫১], রাজসন্ন্যাসী[৫২], ঋষিকবি, মাতৃদেবী, ঠাকুরদাদা, ঠানদিদি, মৌলবীসাহেব, দারোগাবাবু, মাস্টারমশায়, কথকঠাকুর, কলিকাতানগরী, বৈদ্যনাথ, রামকৃষ্ণ, শিবশঙ্কর ইত্যাদি।
সাধারণ কর্মধারয় সমাসের কতিপয় নিয়ম
[সম্পাদনা]- কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যে সাধারণত— যিনি-তিনি, যে-সে, যা-তা, যেই-সেই ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।
- কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে:
- সুন্দর যে পুরুষ = সুপুরুষ
- রক্ত যে কমল = রক্তকমল
- নীল যে অক্ষি = নীলাক্ষি
- নীল যে মণি = নীলমণি
- নীল যে আকাশ = নীলাকাশ
- ভরা যে যৌবন = ভরাযৌবন
- নব যে যৌবন = নবযৌবন
- কয়েকটি ক্ষেত্রে পূর্বপদটি বিশেষ্য হওয়া সত্ত্বেও বিশেষণ-রূপে ব্যবহৃত হয়:
- মূল যে সুর = মূলসুর
- সত্য যে বার্তা = সত্যবার্তা
- জোর যে বরাত = জোরবরাত
- আঁধার যে ঘর = আঁধারঘর
এরূপ মিথ্যাভাষণ, সারসত্য ইত্যাদি।
- দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্য বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়:
- যা মৃদু তাই মন্দ = মৃদুমন্দ
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর
- যে শান্ত সেই শিষ্ট= শান্তশিষ্ট
- সে হৃষ্ট সেই পুষ্ট = হৃষ্টপুষ্ট
- যা মিষ্টি তাই মধুর = মিষ্টিমধুর
- যা সহজ, তাই সরল = সহজসরল
- দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়:
- যিনি রাজা তিনি ঋষি = রাজর্ষি
- যিনি দেব তিনি ঋষি = দেবর্ষি
- যিনি জজ তিনি সাহেব = জজসাহেব
- যিনি মৌলভী তিনি সাহেব = মৌলভীসাহেব
- যিনি নর তিনি দেবতা = নরদেবতা
- যিনি দীন তিনিই দরিদ্র = দীনদরিদ্র
- কর্মধারয় সমাসে বিশেষণ পদের পুংলিঙ্গ রূপ হয়:
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি
- মহতী যে রানী = মহারানী
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
- মহতী যে নদী = মহানদী
- মহতী যে অষ্টমী = মহাষ্টমী
- পূর্বপদে 'মহৎ'/'মহান' থাকলে এর পরিবর্তে 'মহা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়:
- মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
- মহৎ যে জন = মহাজন
- মহৎ যে আশয় = মহাশয়
- মহৎ যে অরণ্য = মহারণ্য
- মহান যে নবী = মহানবী
- মহান যে বীর = মহাবীর
- মহান যে মনীষী = মহামনীষী
- মহান যে উপাধ্যায় = মহোপাধ্যায়
- মহতী যে সভা = মহাসভা
- মহৎ যে বল = মহাবল
- মহৎ যে ধন = মহাধন [কিন্তু মহতের ধন = মহধন—সম্বন্ধ-তৎপুরুষ]
- মহান যে রাজা = মহারাজ [‘মহারাজা’ পদটিও বাংলায় চলে : সন্তোষের মহারাজা, দ্বারভাঙ্গার মহারাজা ইত্যাদি]
এরূপ মহর্ষি, মহারাত্রি ইত্যাদি।
- পরপদে 'রাজা' শব্দ থাকলে 'রাজ' হয় এবং 'রাত্রি' শব্দ থাকলে 'রাত্র' হয়:
- মহান যে রাজা = মহারাজ
- দীর্ঘ যে রাত্রি = দীর্ঘরাত্র
- পূর্বপদে সুন্দর স্থানে 'সু' এবং কুৎসিত স্থানে 'কু' বা 'কদ' হয়:
- সুন্দর যে নিয়ম = সুনিয়ম
- কুৎসিত যে কথা = কুকথা
- কু যে আচার = কদাচার
- কু যে অর্থ = কদৰ্থ
- কু যে আকার = কদাকার
- বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষণ পরে আসে, বিশেষ্য আগে যায়:
- সাধারণ যে জন = জনসাধারণ
- বৃদ্ধ যে ঋষি = ঋষিবৃদ্ধ
- উত্তম যে পুরুষ = পুরুষোত্তম
- উত্তম যে নর = নরোত্তম
- অধম যে নর = নরাধম
- প্রবর যে সাধক = সাধকপ্রবর
- কিশোর যে কৃষ্ণ = কৃষ্ণকিশোর
- বাটা যে লঙ্কা = লঙ্কাবাটা
- বাটা যে হলুদ = হলুদবাটা
- ছন্ন (আচ্ছন্ন) যে মতি = মতিচ্ছন্ন
- বীর যে শিশু = শিশুবীর
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ
- পোড়া যে কচু = কচুপোড়া
- পোড়া যে বেগুন = বেগুনপোড়া
- পোড়া যে তেল = তেলপোড়া
- ভাজা যে চাল = চালভাজা
- ভাজা যে মাছ = মাছভাজা
- ভাজা যে পটল = পটলভাজা [কিন্তু লঙ্কাবাটা বন্ধ করে পটলভাজায় হাত দাও—এখানে “লঙ্কাকে বাটা”, “পটলকে ভাজা” অর্থে কর্ম-তৎপুরুষ সমাস হবে; ক্রিয়ার অর্থই এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে]
এরূপ পণ্ডিতপ্রবর, লোকবিশেষ ইত্যাদি।
- কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুইটি কৃদন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়:
- আগে ধোয়া পরে মোছা= ধোয়ামোছা
২. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
[সম্পাদনা]| মাঝের পদসমূহ লোপ পাবে এবং ব্যাসবাক্যে "যে/যা/যার/যাতে" প্রভৃতি শব্দগুলি থাকবে না। |
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্য পদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন—
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ
- ব্রাহ্মণ ধর্মীয় প্রধান পুরোহিত = ব্রাহ্মণপুরোহিত
- সূর্য উদয়কালীন মন্ত্র = সূর্যমন্ত্র
- গাছে ফুটিত কদম = গাছকদম
- চিকিৎসা বিষয়ক শাস্ত্র = চিকিৎসাশাস্ত্র
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ
- বৌ পরিবেশন করা ভাত = বৌভাত
- মৌ সংগ্রহকারী/সঞ্চয়কারী/আশ্রিত মাছি = মৌমাছি
- মৌ ভর্তি চাক = মৌচাক
- মোম নির্মিত বাতি = মোমবাতি
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ
- ভাই কল্যাণে ফোঁটা = ভাইফোঁটা
- রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি = রাষ্ট্রনীতি
- জল রাখার পাত্র = জলপাত্র
- ঘি মাখা ভাত = ঘিভাত
- প্রীতি উপলক্ষে ভোজ = প্রীতিভোজ
- ভিক্ষা লব্ধ অন্ন = ভিক্ষান্ন
- বাষ্প চালিত যান = বাষ্পযান
- সংবাদ বহনকারী পত্র = সংবাদপত্র
- শহীদ স্মরণে পালনীয় দিবস = শহীদ দিবস
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতি উপহার
- বর অনুগমনকারী যাত্রী = বরযাত্রী
- স্বর্ণের ন্যায় উজ্জ্বল অক্ষর = স্বর্ণাক্ষর
- আয়ের উপর (ধার্য/অর্পিত) কর = আয়কর
- মাতার মৃত্যু জনিত দায় = মাতৃদায়
- আক্ষেপ-দ্যোতক অনুরাগ = আক্ষেপানুরাগ
- ছাত্র থাকাকালীন জীবন = ছাত্রজীবন
- সিঁদুর রাখার কৌটা = সিঁদুরকৌটা
- বৃত্রনামক অসুর = বৃত্রাসুর
- কর্ণিকার নামক বৃক্ষ = কর্ণিকার-বৃক্ষ
- উদয়-নামক গিরি = উদয়গিরি
- মরুময়ী ভূমি = মরুভূমি
- (শ্রীকৃষ্ণের) জন্মসংলগ্না অষ্টমী = জন্মাষ্টমী
- গীতিভূয়িষ্ঠ নাট্য = গীতিনাট্য
- স্পর্শসিদ্ধ মণি = স্পর্শমণি
- আদিভূত পিতা = আদিপিতা
- স্বর্ণনির্মিত আভরণ = স্বর্ণাভরণ
- উদয়কালীন রবি = উদয়রবি
- আকাশ-মারফত প্রেরিত বাণী = আকাশবাণী
- ধন্যবাচক ধ্বনি = ধন্যধ্বনি
- জীবনহানির আশঙ্কায় বীমা = জীবনবীমা
- রাজকার্যে নিযুক্ত পুরুষ = রাজপুরুষ
- রাজার অনুসৃত নীতি = রাজনীতি
- রাজার পৃষ্ঠপোষিত কবি = রাজকবি
- আকাশে (ঊর্ধ্বে) প্রদত্ত প্রদীপ = আকাশপ্রদীপ
- পদচালিত ব্রজ (পথ) = পদব্রজ
- পদ-সংরক্ষণের আয়ুধ (অস্ত্রশস্ত্র) = পদায়ুধ
- পথে অনুষ্ঠিত সভা = পথসভা
- বেণুধারী গোপাল = বেণুগোপাল
- বরের অনুগামী যাত্রী = বরযাত্রী
- জামাইয়ের কল্যাণার্থে ষষ্ঠী = জামাইষষ্ঠী
- ননীলোভী গোপাল = ননীগোপাল
- রজতনির্মিত মুদ্রা = রজতমুদ্রা
- আক্ষেপ-দ্যোতক অনুরাগ = আক্ষেপানুরাগ
- স্বর্ণনির্মিত দ্বীপ = স্বর্ণদ্বীপ
- প্রাণিবিষয়ক বিদ্যা = প্রাণিবিদ্যা
- কনকপূর্ণা অঞ্জলি = কনকাঞ্জলি
- রহস্যপূর্ণ আলাপ = রহস্যালাপ
- কস্তুরীযুক্ত মৃগ = কস্তুরীমৃগ
- লোকসমাজে প্রচলিত গীতি = লোকগীতি
- সন্ধিযোগঘটানো গীত = সন্ধিগীত
- মাননির্দেশক পত্ৰ = মানপত্র
- মায়াপ্রকাশক কান্না = মায়াকান্না
- ফল-নিষ্পন্ন আহার = ফলাহার
- ভ্রাতৃকল্যাণ—সূচক দ্বিতীয়া = ভ্রাতৃদ্বিতীয়া
- জ্ঞানলাভের ইন্দ্রিয় = জ্ঞানেন্দ্রিয়
- লক্ষ্মীযুক্তা শ্রী = লক্ষ্মীশ্রী
- যজ্ঞলব্ধ উপবীত = যজ্ঞোপবীত
- বহিঃস্থিত আবরণ = বহিরাবরণ
- পাদে (পৃষ্ঠার নিম্নদিকে) লিখিত টীকা = পাদটীকা
- দাসযোগ্য মনোভাব = দাসমনোভাব
- আয়ুবিষয়ক বেদ = আয়ুর্বেদ
- বিম্বসদৃশ অধর = বিম্বাধর
- ছাত্র থাকাকালীন জীবন = ছাত্রজীবন
- অস্তকালীন রাগ = অস্তরাগ
- সন্ধ্যাকালীন আহ্নিক = সন্ধ্যাহ্নিক
- প্রভাতকালীন নিদ্রা = প্ৰভাতনিদ্রা
- ব্যোমে (আকাশপথে) যাইবার যান = ব্যোমযান
- ছায়া-দানকারী তরু = ছায়াতরু
- শোকপ্রকাশিকা সভা = শোকসভা
- প্রতিজ্ঞাসূচক পত্র = প্রতিজ্ঞাপত্ৰ
- বজ্রসদৃশ মুষ্টি = বজ্রমুষ্টি
- জয়যুক্ত নাদ = জয়নাদ
- রুচি-অনুযায়ী সম্পন্ন = রুচিসম্পন্ন
- পাটে অধিষ্ঠিতা রানী = পাটরানী
- অগ্নিবর্ষী বীণা = অগ্নিবীণা
- স্পর্ধাজনিত উক্তি = স্পর্থোক্তি
- মাৎসর্য-বিষযুক্ত দশন = মাৎসর্যবিষদশন
- পদ্মচিহ্নিত বেদী = পদ্মবেদী
- দারুময় ব্রহ্ম = দারুব্রহ্ম
- ত্রিতাপাত্মক দুঃখ = ত্রিতাপদুঃখ
- পাদস্পৃষ্ট উদক = পাদোদক
- দর্শনবিষয়ক শাস্ত্র = দর্শনশাস্ত্র
- মধুময় ব্ৰহ্ম = মধুব্ৰহ্ম
- বিজয়সূচক শঙ্খ = বিজয়শঙ্খ
- কাঞ্চনময় কোকনদ = কাঞ্চনকোকনদ
- নাতি-সম্পৰ্কীয় জামাই = নাতজামাই
- আমের আকৃতিবিশিষ্ট (বা গন্ধবিশিষ্ট) সন্দেশ = আমসন্দেশ
- আমের গন্ধবিশিষ্ট আদা = আম-আদা
- গন্ধদ্রব্য-বিক্রয়কারী বণিক = গন্ধবণিক
- খ্রীষ্টপ্রবর্তিত ধর্ম = খ্রীষ্টধর্ম
- (শ্বশুরের) ঘরে পালিত জামাই = ঘরজামাই
- কীর্তিজ্ঞাপক মন্দির = কীর্তিমন্দির
- এক অধিক দশ = একাদশ
- ষট্ অধিক দশ = ষোড়শ
- নাভিজাত পদ্ম = নাভিপদ্ম
- ষট্ অধিক নবতি = ষণ্ণবতি (সন্ধি এবং ণত্ববিধি লক্ষণীয়)
- হাতে পরার ঘড়ি = হাতঘড়ি
- হাতে/হাত দিয়ে চালানো পাখা = হাতপাখা
- বয়ন-নামক শিল্প = বয়নশিল্প
- সূচিসাধ্য শিল্প = সূচিশিল্প
- ধান্যদূর্বায় ভরা মুষ্টি = ধান্যদূর্বা মুষ্টি
- শববাহকের যাত্রা = শবযাত্রা
- বাক্যের মাধ্যমে আলাপ = বাক্যালাপ
- অন্দরস্থিত মহল = অন্দরমহল
- গ্যাসপ্রতিরোধক মুখোশ = গ্যাসমুখোশ
- গাড়ি দাঁড়াইবার বারান্দা = গাড়িবারান্দা
- হাঁটু-পরিমাণ জল = হাঁটুজল
- গোবর-মিশ্রিত জল = গোবরজল
- সকড়িমাখা হাত = সকড়িহাত
- তেল মাখিবার ধুতি = তেলধুতি
- (অলংকারের) নকশা-চিত্রিত বড়ি = নকশা-বড়ি
- চিনিযোগে পাতা = চিনিপাতা (দই)
[মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসে 'দশ/বিংশতি/ত্রিংশৎ' শব্দ পরে থাকলে প্রথম পদ তথা 'দ্বি/ত্রি/অষ্টন্' শব্দের স্থানে যথাক্রমে 'দ্বা/ ত্রয়ঃ/অষ্টা' হয়। কিন্তু 'চত্বারিংশৎ/পঞ্চাশৎ/ষষ্টি/সপ্ততি/নবতি' শব্দ পরে থাকলে 'দ্বি/ত্রি/অষ্টন্' শব্দ বিকল্পে 'দ্বা/ত্রয়ঃ/অষ্টা' হয়:]
- দ্বি অধিক দশ = দ্বাদশ
- দ্বি অধিক বিংশতি = দ্বাবিংশতি
- ত্রি অধিক দশ = ত্রয়োদশ
- ত্রি অধিক ত্রিংশৎ = ত্রয়স্ত্রিংশৎ
- অষ্ট অধিক দশ = অষ্টাদশ
- দ্বি অধিক চত্বারিংশৎ = দ্বিচত্বারিংশৎ/দ্বাচত্বারিংশৎ
- ত্রি অধিক ষষ্টি = ত্রিষষ্টি/ত্রয়ঃষষ্টি
- অষ্ট অধিক সপ্ততি = অষ্টসপ্ততি/অষ্টাসপ্ততি
এরূপ : বিজয়পতাকা[৫৩], জয়ধ্বনি[৫৪], জীবন্মৃত[৫৫], কাঁচকলা[৫৬], ডাকগাড়ি, ডাকবাক্স[৫৭], নারীদিবস, সিংহদ্বার, চালকুমড়া, বনফুল[৫৮], জয়মুকুট[৫৯], সন্ধ্যাপ্রদীপ[৬০], টিপসই, ধর্মঘট[৬১], গীতিকবিতা[৬২], জগদীশ্বর, শাখামৃগ, বৌদ্ধধর্ম, সপ্তদশ, মমতারস[৬৩], মধ্যাহ্নভোজন, পল্লীসাহিত্য, গঙ্গানদী, পানাপুকুর[৬৪], নলরাজা, জলযান, অর্ণবযান, ইচ্ছামৃত্যু, বায়ুরোগ, গৃহদেবতা, কেশতৈল, দুধভাত, স্বর্ণমুদ্রা, অশ্রুআঁখি, স্বাধীনতাদিবস, দিবানিদ্রা, হস্তশিল্প, ধর্মসভা, সাহিত্য-অধিবেশন, পদার্থবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র, ঝাঁকামুটে, কোমরজল, মাসমাহিনা, রাজধানী এক্সপ্রেস, সুটকেস, কাঁটাপেরেক ইত্যাদি।
৩. উপমান কর্মধারয় সমাস
[সম্পাদনা]| Noun + Adjective |
| উপমান = কমন বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান |
উপমান পদের সাথে সাধারণ ধর্ম বা গুণবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। এতে গুণের উল্লেখ থাকে বলে, প্রথমটি বিশেষ্য পদ এবং পরের পদটি বিশেষণ পদ হয়। উপমান পদটি পূর্বপদ হয়। যেমন—
| উপমান কর্মধারয় সমাস | কমন বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র | উভয়ই সাদা |
| কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল | উভয়ই কোমল |
| স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল = স্বর্ণোজ্জ্বল | উভয়ই উজ্জ্বল |
| বজ্রের ন্যায় কঠোর = বজ্রকঠোর | উভয়ই কঠোর |
| কাজলের মতো কালো = কাজলকালো | উভয়ই কালো |
| অরুণের মতো রাঙা = অরুণরাঙা | উভয়ই রঙিন |
| ইস্পাতের ন্যায় কঠিন = ইস্পাতকঠিন | উভয়ই কঠিন |
| দধির মতো থলথল = দধিথলথল | উভয়ই থলথলে |
| গরুর ন্যায় বেচারা = গোবেচারা | উভয়ই বেচারা |
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ
- সিঁদুরের মতো রাঙা = সিঁদুররাঙা
- শঙ্খের মতো ধবল = শঙ্খধবল
- শিশিরের ন্যায় বিমল = শিশিরবিমল
- জ্যোৎস্নার মতো স্নিগ্ধ = জ্যোৎস্নাস্নিগ্ধ
- ঘনের (মেঘের) ন্যায় শ্যাম = ঘনশ্যাম
- মিশির মতো কালো = মিশকালো
- শশের (শশকের) ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- ফুটির মতো ফাটা = ফুটিফাটা (মাঠ)
- শালের মতো প্রাংশু (দীর্ঘ) = শালপ্রাংশু
- শৈলের মতো উন্নত = শৈলোন্নত
এরূপ কমলকোমল, নবনীতকোমল (শয্যা), আলতারাঙা, আপেলরাঙা, বান্ধুলিরাঙা, তমালশ্যামল, পরাগপবিত্র, ভ্রমরকৃষ্ণ, ঘনকৃষ্ণ, কুমুদশুভ্র, কুন্দশুভ্র, শঙ্খশুভ্র, চন্দনস্নিগ্ধ, নীরদনীল, ইন্দীবরসুন্দর, ভ্রূকুটিকুটিল, নবদূর্বাদলশ্যাম, নভোনীল, দূর্বাকোমল, কণ্টকতীক্ষ্ণ, তুষারশুভ্র (কেশ), বজ্রকঠিন (হৃদয়), অয়স্কঠিন, পল্লবপেলব (বাহু), বিদ্যুদ্দীপ্ত (ব্যক্তিত্ব), হীরকোজ্জ্বল, অনলোজ্জ্বল, স্ফটিকস্বচ্ছ, মেঘমেদুর, স্বপ্নমধুর, সুধাধবল, মুক্তাধবল, তুষারধবল, কর্পূরধবল, কম্বুগম্ভীর, জলদগম্ভীর, লতানমনীয়, পালকনরম, লৌহদৃঢ়, বরফি-কাটা (মাঠ), রেশমচিকন (চুল), অশোকলাল, রক্তলাল, ফেনাধবধবে, পান্নাসবুজ, ধুলোগুঁড়ো, কজ্জলকালো, আবলুস কালো, বরফসাদা, বরফশীতল, তুহিনশীতল, মলয়জশীতল, বিড়ালবেহায়া, বিড়ালতপস্বী, বকধার্মিক, গজমূর্খ/হস্তীমূর্খ, নিমতিতা, ধনুকবাঁকা, হরিণচপল, চিঁড়েচ্যাপটা ইত্যাদি।
৪. উপমিত কর্মধারয় সমাস
[সম্পাদনা]| Noun + Noun |
| উপমিত = মিথ্যে উপমা দেয়া হয় |
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এক্ষেত্রে সাধারণ গুণটি উহ্য থাকে। এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বপদ হয়। যেমন—
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্ৰ
- চরণ কমলের/পদ্মের ন্যায় = চরণকমল/চরণপদ্ম
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
- অধর কমলের ন্যায় = অধরকমল
- নয়ন কমলের ন্যায় = নয়নকমল
- কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব
- কথা অমৃতের তুল্য = কথামৃত
- নর দেবের তুল্য = নরদেব
- পুরুষ ঋষভের ন্যায় = পুরুষষভ
- কপি ফুলের ন্যায় = ফুলকপি
- আলু শাঁখের ন্যায় = শাঁখ-আলু
- সন্দেশ আমের মতো = আমসন্দেশ [মধ্যপদলোপী কর্মধারয় হলে ব্যাসবাক্য হবে— আমের গন্ধযুক্ত বা আকৃতিবিশিষ্ট সন্দেশ; আবার, সাধারণ কর্মধারয় হলে ব্যাসবাক্য হবে— আম (সাধারণ) যে সন্দেশ (সংবাদ)]
- অন্ন সুধার মতো = সুধান্ন
- বৈশাখী (বৈশাখমাসের ঝড়বৃষ্টি) কালের (মহাকালের) মতো = কালবৈশাখী
- পোকা কাঁচের মতো = কাঁচপোকা
- বেদী পদ্মের ন্যায় = পদ্মবেদী
- অধর বিম্বের ন্যায় = বিম্বাধর
- কণ্ঠ কম্বুর ন্যায় = কম্বুকণ্ঠ [আকৃতির প্রাধান্য; কিন্তু কম্বুর ন্যায় গভীর কণ্ঠ যার = কম্বুকণ্ঠ — বহুব্রীহি]।
এরূপ নরশার্দূল, পুরুষপুঙ্গব, পাদপদ্ম, পদাম্বুজ, ভরতর্ষভ, বদনকমল, রাজচন্দ্র, মুখশশী [এখানে সিংহ, শার্দূল, ব্যাঘ্র, ঋষভ, পুঙ্গব প্রভৃতি শব্দ শ্রেষ্ঠত্ববাচক], বাহুলতা[৬৫], চন্দ্রবদন[৬৬], নরসিংহ[৬৭], পদপল্লব[৬৮], অধরপল্লব[৬৯], কালাচাঁদ, চাঁদমুখ[৭০], সোনামুখ[৭১], পদ্মলোচন/পদ্মআঁখি[৭২], ফুলকুমারী[৭৩], বাহুবল্লরী[৭৪], পদলোহা[৭৫], মনবিহঙ্গ[৭৬], ফুলবাতাসা, ফুলবাবু, ফুলঝুরি, কাঁটাপেরেক, কদমছাঁট, চন্দ্রপুলি ইত্যাদি।
| “ | উপমান মানে Noun+Adjective । যেমন, তুষারশুভ্র শব্দটির তুষার মানে বরফ যা Noun, আর শুভ্র মানে সাদা এবং তা Adjective । কাজলকালো শব্দটির কাজল হলো Noun, এবং কালো হলো Adjective । অতএব Noun+Adjective — উপমান কর্মধারয় সমাস। একইভাবে উপমিত মানে Noun+Noun । যেমন, পুরুষসিংহ শব্দটির পুরুষ ও সিংহ দুটোই Noun । অর্থাৎ Noun+Noun । একইভাবে চন্দ্রমুখ শব্দটির চন্দ্র ও মুখ দুটিই Noun । অর্থাৎ Noun+Noun । অতএব Noun+Noun — উপমিত কর্মধারয় সমাস। | ” |
৫. রূপক কর্মধারয় সমাস
[সম্পাদনা]উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এ সমাসে উপমেয় পদ আগে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে। এছাড়া সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যুক্ত হয়ে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। যেমন—
- স্নেহ রূপ সুধা = স্নেহসুধা
- ভব রূপ নদী = ভবনদী
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি
- হৃদয় রূপ আকাশ = হৃদয়াকাশ
- শোক রূপ অনল = শোকানল
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল
- দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি
- আঁখি রূপ পাখি = আঁখিপাখি
- জীবন রূপ প্রদীপ = জীবনপ্রদীপ
- সংসার রূপ সমরাঙ্গন = সংসার-সমরাঙ্গন
- প্রাণ রূপ প্রবাহিণী = প্রাণপ্রবাহিণী
- যৌবন রূপ কুসুম = যৌবনকুসুম
- নদী রূপ জপমালা = নদীজপমালা
- মাৎসর্য রূপ বিষ = মাৎসর্যবিষ
- মানবমনঃ রূপ মন্দির = মানবমনোমন্দির
এরূপ : জীবনতরী, জীবনস্রোত, জীবনযুদ্ধ, জ্ঞানবৃক্ষ, প্রাণবায়ু, দেহমাতৃকা, যৌবনসূর্য, হৃদয়কুসুম, হৃদয়ারণ্য, অলসতন্দ্রা, মায়াডোর, প্রেমডোর, ভবসাগর/সংসারসাগর, ভবসিন্ধু, বিদ্যাধন, দেহ-আকাশ, দেহপিঞ্জর, পঞ্জরপিঞ্জর, স্নেহনীড়, স্নেহসমুদ্র, ভক্তিসুধা, শোকসিন্ধু, ক্ষুধানল, রোষানল, সমরানল, সুখদীপ, সুখসায়র, করুণামন্দাকিনী, হিংসাবিষ, জীবন-উদ্যান, আলোক-ঝরনা, চিত্তপট, মনবেড়ি ইত্যাদি।
তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]|
বিভক্তি লোপ পাবে। | ||
| তৎপুরুষ সমাস | বিভক্তি | বিশেষ শব্দাবলী |
|---|---|---|
| ২য়া তৎপুরুষ (কর্ম তৎপুরুষ) | কে, রে (সাধারণ অর্থে), ব্যাপিয়া | চির, অতীত, আপন্ন, গত, প্রাপ্ত, প্রবিষ্ট, সংক্রান্ত, আশ্রিত, আরূঢ়, অর্ধ/আধ, গামী |
| ৩য়া তৎপুরুষ (করণ তৎপুরুষ) | দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক (by) | ঊন, হীন, শূন্য, কম, রহিত, অন্বিত |
| ৪র্থী তৎপুরুষ (নিমিত্ত তৎপুরুষ) | কে/রে (নিঃস্বার্থে প্রদান/প্রদর্শন), জন্য, নিমিত্ত, উদ্দেশ্য (for) |
— |
| ৫মী তৎপুরুষ (অপাদান তৎপুরুষ) | হতে, থেকে, চেয়ে, অপেক্ষা (from/than) | চ্যুত, বিচ্যুত, ভীত, ভ্রষ্ট, মুক্ত (খালাস), আগত (ফেরত), গৃহীত, উত্তীর্ণ, পালানো |
| ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ) | র, এর (of) | সহ, সম, তুল্য, প্রায়, গণ, নিভ, গ্রাম, প্রতিম, যূথ, বৃন্দ, পুঞ্জ, রাজি |
| ৭মী তৎপুরুষ (অধিকরণ তৎপুরুষ) | এ, তে, এতে (at) | — |
| উপপদ তৎপুরুষ | বিশেষ্য + ক্রিয়া + যে/যা/যার | — |
| নঞ তৎপুরুষ | ন/না/নাই (not) | — |
| অলুক তৎপুরুষ | বিভক্তি থাকবে, কিন্তু লোপ পাবে না | — |
তৎপুরুষ কথাটির সাধারণ অর্থ ‘তার পুরুষ’। যে সমাসের ব্যাসবাক্যে সমস্যমান পদদুটির মধ্যে পরপদটি প্রধান হয় এবং পূর্বপদের কারকবোধক ও সম্বন্ধবোধক বিভক্তি বা অনুসর্গ লোপ পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যেমন – রান্নাঘর রান্নার জন্য ঘর। এই ব্যাসবাক্যে ‘রান্না’ ও ‘ঘর’-এর মধ্যে ‘ঘর’-এর প্রাধান্য আছে। ব্যাসবাক্যে ‘জন্য’ বিভক্তিটি সমাসনিষ্পন্ন পদে লোপ পেয়েছে।
তৎপুরুষ সমাসের শ্রেণীবিভাগ
[সম্পাদনা]১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]পূর্বপদে দ্বিতীয়া বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। প্রাপ্ত, আশ্রিত, সংক্রান্ত, গত, অতীত, আপন্ন, প্রবিষ্ট, আরূঢ় প্রভৃতি শব্দযোগে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। আবার, 'ব্যাপ্তি' বোঝাতে কালবাচক পদের সাথে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়ে থাকে। যেমন–
| অর্ধ রূপে/আধ ভাবে⇌ অর্ধ/আধ |
| যথা...তথা... ⇌ গামী |
| চিরকাল ব্যাপিয়া/ব্যাপ্ত করে⇌ চির |
| ...কে ...⇌ অন্যান্য |
- রথকে দেখা = রথদেখা
- বীজকে বোনা = বীজবোনা,
- লুচিকে ভাজা = লুচিভাজা
- গাকে ঢাকা = গা-ঢাকা
- দেশকে উদ্ধার = দেশোদ্ধার
- কলাকে বেচা = কলাবেচা
- লোককে দেখানো = লোকদেখানো
- তরীকে বাওয়া = তরীবাওয়া
- গাঁটকে কাটা = গাঁটকাটা (কাজ; মানুষটাকে বুঝালে ব্যাসবাক্য হবে: গাঁট কাটে যে = গাঁটকাটা — উপপদ তৎপুরুষ)
- ছেলেকে ভুলানো = ছেলেভুলানো (কাজ; ছড়া/লোক বুঝালে ব্যাসবাক্য: ছেলে ভুলায় যা/যে — উপপদ তৎপুরুষ)
[বিশেষ শব্দাবলী দ্বারা গঠিত:]
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ক্ষমতাকে প্রাপ্ত = ক্ষমতাপ্রাপ্ত
- বয়ঃ (বয়স)-কে প্রাপ্ত = বয়ঃপ্রাপ্ত
- বৃদ্ধিকে প্রাপ্ত = বৃদ্ধিপ্রাপ্ত
- যৌবনকে প্রাপ্ত = যৌবনপ্রাপ্ত
- চরণকে আশ্রিত = চরণাশ্রিত
- পদকে আশ্রিত = পদাশ্রিত
- দেশকে আশ্রিত = দেশাশ্রিত
- ব্যক্তিকে গত = ব্যক্তিগত
- পরলোকে গত = পরলোকগত
- পুঁথিতে গত = পুঁথিগত
- শরণকে আগত = শরণাগত
- স্মরণকে অতীত = স্মরণাতীত
- সংখ্যাকে অতীত = সংখ্যাতীত
- ধর্মকে অতীত = ধর্মাতীত
- বিস্ময়কে আপন্ন = বিস্ময়াপন্ন
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন
- গৃহকে প্রবিষ্ট = গৃহপ্রবিষ্ট
- অশ্বকে আরূঢ় = অশ্বারূঢ়
- অর্ধ রূপে সিদ্ধ = অর্ধসিদ্ধ
- অর্ধ রূপে স্ফূট = অর্ধস্ফুট
- অর্ধ রূপে সমাপ্ত = অর্ধসমাপ্ত
- অর্ধ ভাবে উন্মীলিত = অর্ধোন্মীলিত
- দৃঢ়ভাবে বদ্ধ = দৃঢ়বদ্ধ
- নিম রূপে রাজী = নিমরাজী
- আধ ভাবে মরা = আধমরা
- আধ ভাবে ফোটা = আধফোটা
- যথা দ্রুত তথা গামী = দ্রুতগামী
- যথা শীঘ্র তথা গামী = শীঘ্রগামী
['ব্যাপ্তি' অর্থে:]
- চিরকাল ব্যাপিয়া বসন্ত = চিরবসন্ত
- চিরকাল ব্যাপিয়া সুন্দর = চিরসুন্দর
- চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী
- দীর্ঘকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = দীর্ঘস্থায়ী
- ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী
- চিরকাল ব্যাপিয়া বঞ্চিত = চিরবঞ্চিত
- জীবন ব্যাপিয়া আনন্দ = জীবনানন্দ
- বিশ্ব ব্যাপীয়া যুদ্ধ = বিশ্বযুদ্ধ
- নিত্যকাল ব্যাপিয়া আনন্দ = নিত্যানন্দ
- পক্ষ ব্যাপিয়া অশৌচ = পক্ষাশৌচ
এরূপ : স্বগত[৭৭], আত্মহত্যা[৭৮], বইপড়া, নভেল-পড়া, ভাতরাঁধা, বাসনধোয়া, ঘরমোছা, ঘাসকাটা, গুণটানা, মাথাগোঁজা, ফুলতোলা, কাপড়কাঁচা, চিরশত্রু, চিরকৃতজ্ঞ, চিরহরিৎ, চিরচঞ্চল, চিরস্মরণীয়, চিরজীবী, চিরযুবা, চিরনির্বাসিত, চিররুগ্ন, চিরসুন্দর, চিরকুমার, যুগান্তসঞ্চিত[৭৯], মাসাশৌচ, লোকঠকানো, গাড়িচালানো, সাপখেলানো, মালাবদল, বধূবরণ/বউবরণ, নবীনবরণ, যুগাতীত, দিনগত, স্বর্গপ্রাপ্ত, সাহায্যপ্রাপ্ত, রথারূঢ়, দেবাশ্রিত, সঙ্কটাপন্ন, শিক্ষাসংক্রান্ত, মজ্জাগত, শয্যাগত, মরণাপন্ন, ঘনসন্নিবিষ্ট, আধপাকা ইত্যাদি
| “ | সমস্ত পদে বিশিষ্ট শব্দ "অর্ধ"-এর পর যদি বিশেষ্য থাকে তবে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হবে। যেমন: অর্ধদিন — দিনের অর্ধ; অর্ধপথ — পথের অর্ধ ইত্যাদি। | ” |
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন–
- শোক দ্বারা আকুল = শোকাকুল
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপচার
- শ্রী দ্বারা যুক্ত = শ্রীযুক্ত
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা
- বজ্র দ্বারা আহত = বজ্রাহত
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া
- ঢেঁকি দিয়ে ছাঁটা = ঢেঁকিছাঁটা
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- কুসুম ধারা আস্তীর্ণ = কুসুমাস্তীর্ণ
- রত্ন দ্বারা শোভিত = রত্নশোভিত
- ট্রেন দ্বারা ভ্রমণ = ট্রেনভ্রমণ
- বাক দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা
- অস্ত্রের দ্বারা আহত = অস্ত্রাহত
- গুরু-কর্তৃক দত্ত = গুরুদত্ত
- তৃষ্ণার দ্বারা ঋত = তৃষ্ণার্ত
- জবায় রাঙা = জবারাঙা
- দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট = দারিদ্র্যক্লিষ্ট
- পরান্নের দ্বারা প্রতিপালিত = পরান্নপ্রতিপালিত
- আশার দ্বারা আহত = আশাহত (আশা কিছুটা মিটেছে)
- আশার দ্বারা হত = আশাহত (আশা আদৌ মিটেনি)
- পরের দ্বারা ভূত (পালিত) = পরভূত
- শস্যে আঢ্য (সমৃদ্ধ) = শস্যাঢ্য
- ঋণ দ্বারা প্রস্ত ঋণগ্রস্ত
- শোণিতে লিপ্ত = শোণিতলিপ্ত
- অশ্রুতে ভরা = অশ্রুভরা
- প্রথার দ্বারা বদ্ধ = প্রথাবদ্ধ
- ছাতা দিয়া পেটা = ছাতাপেটা
- গোঁজার দ্বারা মিল = গোঁজামিল
- লক্ষ্মীর দ্বারা ছাড়া = লক্ষ্মীছাড়া
[বিশেষ শব্দাবলী দ্বারা গঠিত:]
- এক দ্বারা ঊন = একোন
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম
- ছটাকের দ্বারা কম = ছটাক-কম
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য
- জনের দ্বারা শূন্য = জনশূন্য
- জ্ঞানের দ্বারা হীন = জ্ঞানহীন
- শ্রী দ্বারা হীন = শ্রীহীন
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন
- পিতার দ্বারা হীন = পিতৃহীন
- পিতামাতার দ্বারা হীন = পিতামাতৃহীন
- বলের দ্বারা হীন = বলহীন (কিন্তু হীন হয়েছে বল যার = হীনবল—বহুব্রীহি)
- শোভার দ্বারা অন্বিত = শোভান্বিত
- বুদ্ধি দ্বারা রহিত = বুদ্ধিরহিত
এরূপ : স্বর্ণমণ্ডিত, হিরককখচিত, চন্দনচর্চিত, কণ্টকাকীর্ণ, জুতো-পেটা, ঘিভাজা, শান-বাঁধানো, পদাঘাত, বিধিবদ্ধ, মোহান্ধ, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, স্নেহাস্প, স্বনামধন্য, রসসিক্ত, শ্রমলব্ধ, বিপদসঙ্কুল, মেঘাচ্ছন্ন, বায়ুপূর্ণ, নারদোক্ত, দ্বিজদত্ত, কুসুমাকীর্ণ, সর্বজননন্দিত, নিপাতনসিদ্ধ, শতকণ্টকিত, ছায়াস্নিগ্ধ, মায়াবদ্ধ, অগ্নিশুদ্ধা, ঘটনাবহুল, অর্থসাহায্য, সর্পদষ্ট, জরাজীর্ণ, দুগ্ধপোষ্য, দুগ্ধধৌত, রোগগ্রস্ত, রসপুষ্ট, বিদ্যুদমিশ্রিত, শস্যশ্যামল, ভিক্ষালব্ধ, ধনাঢ্য, বর্ণাঢ্য, স্নেহশীতল, মলয়জস্নিগ্ধ, প্রীতিবিকশিত, লিপিবদ্ধ, মন্ত্রপুত, বেদনার্ত, শোকার্ত, ভক্তিবিগলিত, রৌদ্রতপ্ত, কীটদষ্ট, যন্ত্রচালিত, স্নানসিক্ত, বন্যাবিধ্বস্ত, শিশিরসিক্ত, ছায়াবৃতা, মায়াচ্ছন্ন, যৌবনদীপ্ত, সুরসিদ্ধ, যুগজীর্ণ, রোগাক্রান্ত, ধীশক্তিসম্পন্ন, প্রলয়ঝটিকা-মুখর, দানব-অমর-যক্ষ-বানরঘৃণিত, কৌতুক-প্ৰফুল্ল, উদয়রবি-রশ্মি-সমুজ্জ্বল, পারাবত-কাকলিসঙ্কুল, ছায়াঘেরা, কিস্তিবন্দি, পাতাছাওয়া, ঢেঁকিছাঁটা, বাদুড়চোষা, সোনামোড়া, জাঁতাভাঙ্গা, পাথরচাপা, দর্শকঠাসা,, অঙ্গহীন, সদ্যোমাতৃহীন, রবিশশিহীন, যুক্তিযুক্ত, মায়াযুক্ত, মহিমান্বিত, গুণসম্পন্ন, নীলচন্দ্রাতপমণ্ডিত, প্রতাপান্বিত, আদিমধ্যান্তশূন্য, নজিরহীন, লেজবিশিষ্ট ইত্যাদি।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন–
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি
- দেবকে দত্ত = দেবদত্ত
- দেবতাকে নিবেদিত = দেবতানিবেদিত
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি
- শয়নের নিমিত্ত কক্ষ = শয়নকক্ষ
- হজ্বের উদ্দেশ্যে যাত্রা = হজ্বযাত্রা
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
- ডাকের নিমিত্ত মাশুল = ডাকমাশুল
- জীয়নের নিমিত্ত কাঠি = জীয়নকাঠি
- স্বদেশের জন্য প্রেম = স্বদেশপ্রেম
- শিশুদের জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য
- জপের জন্য মালা = জপমালা
- জলের জন্য কর = জলকর
- ছাত্রদের জন্য আবাস = ছাত্রাবাস
- শিক্ষার জন্য আয়তন = শিক্ষায়তন
- উন্নতির জন্য বিধান = উন্নতিবিধান
- তীর্থের উদ্দেশে যাত্রা = তীর্থযাত্রা
- মেয়েদের জন্য স্কুল = মেয়েস্কুল
- ধানের জন্য জমি = ধানজমি
- মালের জন্য গুদাম = মালগুদাম
এরূপ : মুক্তিযুদ্ধ, দূতাবাস, পান্থনিবাস, এতিমখানা, অনাথ-আশ্রম, মুসাফিরখানা, মালগুদাম, পাঠকক্ষ, বিশ্রামকক্ষ, রান্নাঘর[৮০], সাজনঘর/সাজঘর, শান্তিনিকেতন, স্মৃতিমন্দির, ঘরপাগল, পাগলাগারদ, শিশুমঙ্গল, শিশুবিভাগ, শিশুসাহিত্য, পুত্রশোক, মরাকান্না মড়াকান্না, তপোবন, চোষকাগজ, রক্ষাকবচ, মাপকাঠি, সত্যাগ্রহ, সংবাদপত্র, খাদ্যআন্দোলন, লোকহিত, বালিকাবিদ্যালয় ইত্যাদি।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে, চেয়ে, অপেক্ষা ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন–
- গণ হতে মুক্তি = গণমুক্তি
- বিলাত হতে ফেরত = বিলাতফেরত
- স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো
- সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট
- ঐশ্বর্য হইতে ভ্রষ্ট = ঐশ্বর্যভ্রষ্ট
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ
- জেল থেকে খালাস/মুক্ত = জেলখালাস/জেলমুক্ত
- প্রাণের/পরাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়/পরাণপ্রিয়
- মানব অপেক্ষা ইতর = মানবেতর
- বাম হতে ইতর = বামেতর (ডান/দক্ষিণ)
- স্বাধিকার হতে বঞ্চিত = স্বাধিকারবঞ্চিত
- শতমুক্তা হতে অধিক = শতমুক্তাধিক
- শিখরতুষার হতে নিঃসৃত = শিখরতুষারনিঃসৃত
- পারী (সমুদ্র) হতে জাত = পারিজাত
- স্নাতক হতে উত্তর = স্নাতকোত্তর
- অশীতি হতে পর = অশীতিপর
- পাঠ হতে বিরত = পাঠবিরত
- আহারে নীরত = আহারনীরত
- ব্যক্তি হতে নিরপেক্ষ = ব্যক্তিনিরপেক্ষ
- মায়া হতে মুক্ত = মায়ামুক্ত
- জন্ম হতে স্বাধীন = জন্মস্বাধীন
- দূর হতে আগত = দূরাগত
- পাঠশালা হতে পলায়ন = পাঠশালা-পলায়ন
- মৃত্যু হতে উত্তীর্ণ = মৃত্যুত্তীর্ণ
- বৃত্ত হতে চ্যুত = বৃত্তচ্যুত
- দুগ্ধ হতে জাত = দুগ্ধজাত
- দত্ত-বংশ হতে জাত = দত্তজা
- জল হতে আতঙ্ক = জলাতঙ্ক
- রাজা হতে ভয় = রাজভয়
এরূপ : বোঁটাখসা, আগাগোড়া, ঘরপালানো, রোগমুক্তি, শাপমুক্তি, ব্যাধিমুক্ত, ঋণমুক্ত, মেঘমুক্ত, যুদ্ধোত্তর, খাঁচাছাড়া, দলছাড়া, দেশছাড়া, গ্রামছাড়া, সৃষ্টিছাড়া, পদচ্যুত, ক্ষমতাচ্যুত, রাজ্যচ্যুত, স্বর্গচ্যুত, প্রাণাধিক, শ্রীভ্রষ্ট, যূথভ্রষ্ট, লোকভয়, মৃত্যুভয়, বিদেশাগত, ব্রাহ্মণেতর, আহারক্ষান্ত, বর্ষণক্ষান্ত, বীণানিঃসৃত, বিপন্মুক্তি, বন্যাত্রাণ, ইস্কুলফেরত, খাপখোলা, হারছেঁড়া, চাকভাঙা, থলিঝাড়া ইত্যাদি।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]পূর্বপদের ষষ্ঠী বিভক্তি (র, এর) লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন–
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট
- নদীর জল = নদীজল
- চায়ের বাগান = চা-বাগান
- মনের রথ = মনোরথ
- মন্ত্রীদের সভা = মন্ত্রীসভা
- বৃক্ষের শাখা = বৃক্ষশাখা
- দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু
- কবিদের গুরু = কবিগুরু
- নরের অধম = নরাধম
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ
- ভোটের অধিকার = ভোটাধিকার
- রাজার প্রাসাদ = রাজপ্রাসাদ
- রাজার পুত্র/কুমার = রাজপুত্র/রাজকুমার
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ
- স্ব-এর অধীন = স্বাধীন
- রাজার ধানী (আবাসস্থল) = রাজধানী
- যশের লিপ্সা = যশোলিপ্সা
- সুধার আকর = সুধাকর
- ঘনের (মেঘের) ঘটা = ঘনঘটা
- কালীর পদ = কালীপদ
- শ্রীর ঈশ = শ্রীশ
- কমলার ঈশ = কমলেশ (নারায়ণ)
- বহ্নির ভোজ্য = বহ্নিভোজ্য
- বিদ্যুতের দীপ্তি = বিদ্যুদ্দীপ্তি
- মহতের প্রাণ = মহৎপ্রাণ (কিন্তু মহান্ প্রাণ যাঁর = মহাপ্রাণ—বহুব্রীহি)
- মহতের ধন = মহদ্ধন (কিন্তু মহৎ যে ধন = মহাধন—কর্মধারয়)
- ব্রাহ্মণের ভোজন = ব্রাহ্মণভোজন
- আঁখির লোর = আঁখিলোর
- গুণীর সমাজ = গুণিসমাজ
- পণ্ডিতগণের মহল = পণ্ডিতমহল
- বিদ্বানের সভা = বিদ্বৎসভা
- গল্পের গুচ্ছ = গল্পগুচ্ছ
- বীরের পূজা = বীরপূজা
- মা’র (লক্ষ্মীর) ধ (স্বামী) = মাধব
- বুধের (পণ্ডিতগণের) মণ্ডলী = বুধমণ্ডলী
- পরীক্ষার অর্থী = পরীক্ষার্থী
- ভ্রাতার দ্বয় = ভ্রাতৃদ্বয়
- বসন্তের সখা = বসন্তসখ (কোকিল) (কিন্তু বসন্ত সখা যার = বসন্তসখা (মদন)—বহুব্রীহি)
- উদয়রবির রশ্মি = উদয়রবিরশ্মি
- ক্রিয়াকর্মের উপলক্ষ = ক্রিয়াকর্মোপলক্ষ
- ধনির গৃহ = ধনিগৃহ
- স্বামীর সন্দর্শন = স্বামিসন্দর্শন
- পিতার মাতা = পিতৃমাতা
- মাতার মূর্তি = মাতৃমূর্তি
- যুবার সংঘ = যুবসংঘ
- তপের বল = তপোবল
- মধুকের মালা = মধুকমালা
- নরকুলের ধন = নরকুলধন
- মানিকের গুচ্ছ = মানিকগুচ্ছ
এরূপ: জাতিসংঘ, রাষ্ট্রপতি, রাজমাতা, ঘোড়দৌড়, বিড়ালছানা, নাট্যাভিনয়, যমালয়, সূর্যালোক, কর্মফল, বনফুল, বাঁদরনাচ, ছবিঘর, রান্নাঘর[৮১], বটতলা, রথতলা, মাঝপথ, দেশসেবা, পিতৃতুল্য, ধানক্ষেত, পাটক্ষেত, গৃহশিশু, সাহিত্যবিশারদ, নদীতীর, সমুদ্রতট, দানসামগ্রী, স্বক্ষেত্র, বন্ধুদ্বয়, বিষজ্বালা, দিগন্ত, পৌরসভা, গঙ্গাধর, বিদ্বৎসমাজ, মাতৃভাষা, রাধাবল্লভ, নীরাকার, কলিঙ্গরাজ, মহদাশয়, পাঠচক্র, অর্থগৌরব, চন্দ্রোদয়, বিশ্বভারতী, দেশনেতা, রজনীশ, গিরীশ, অনিলসখ, কমলেশ (সূর্য), রাধেশ, রাকেশ, মৃত্যুপথযাত্রী, পুত্রচতুষ্টয়, বিশ্বনাথ, বিশ্বামিত্র, ইষ্টদর্শন, ব্রাহ্মণপাড়া, শ্বশুরবাড়ি, ফুলবাগান, ভোটদাতা, জাহাজঘাটা, ঠাকুরপো ইত্যাদি।
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের সাধারণ নিয়ম
[সম্পাদনা]- ‘শ্রেষ্ঠ’ অর্থে রাজা-পদটি ব্যাসবাক্যের শেষের দিকে বসে:
- পথের রাজা = রাজপথ (রাজার নির্মিত পথ = রাজপথ—মধ্যপদলোপী কর্মধারয় করা খুব সংগত নয়; কেননা, রাজার নির্মিত সকল পথই তো আর রাজপথ নয়)
- রোগের রাজা = রাজরোগ
- তরুদিগের রাজা = রাজতরু
- হাঁসের/হংসের রাজা = রাজহাঁস/রাজহংস
- মিস্ত্রীদের রাজা = রাজমিস্ত্রী
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ
- দিল্লীর রাজা = দিল্লীরাজ
এরূপ রাজযক্ষ্মা, রাজরোগ, রাজসর্প, রাজসর্ষপ ইত্যাদি।
- ‘অর্ধ’ শব্দ পরে থাকলে আগে বসে:
- টাকার অর্ধ = অর্ধটাকা
- পথের অর্ধ = অর্ধপথ
- দিনের অর্ধ = অর্ধদিন
- পূর্বপদের ঈ-কার যুক্ত শব্দে ই-কার যুক্ত হয়:
- প্রাণীর বিদ্যা/বিজ্ঞান = প্রাণিবিদ্যা/প্রাণিবিজ্ঞান
- স্বামীর গৃহ = স্বামিগৃহ
- পিতা, মাতা, ভ্রাতা শব্দের পরিবর্তে পিতৃ, মাতৃ, ভ্রাতৃ ব্যবহার:
- মাতার সোহাগ = মাতৃসোহাগ
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা
- মাতার হৃদয় = মাতৃহৃদয়
- পিতার ধন = পিতৃধন
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ
- পরপদে সহ, তুল্য, প্রায়, সম, নিভ, প্রতিম ইত্যাদি শব্দ থাকলে পূর্বপদে এর লোপ পায়:
- পিতার তুল্য = পিতৃতুল্য
- গুরুর তুল্য = গুরুতুল্য
- অনুজের প্রতিম = অনুজপ্রতিম
- সহোদরের প্রতিম = সহোদরপ্রতিম/সোদরপ্রতিম
- পত্নীর সহ = পত্নীসহ
- কন্যার সহ = কন্যাসহ
- পিতার সম = পিতৃসম
- কালের কোন অংশবোধক শব্দ পরে থাকলে তা আগে বসে:
- অহ্নের (দিনের) পূর্বভাগ = পূর্বাহ্ণ
- রাত্রির মধ্যভাগ = মধ্যরাত্র
- বহুর মধ্যে একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ দেখাতে তুল্য, সম, সদৃশ, পারা ইত্যাদি এবং গণ, বৃন্দ, রাজি, যূথ ইত্যাদি সমষ্টিবাচক শব্দ পরে থাকলে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হয়:
- ছাত্রের বৃন্দ = ছাত্রবৃন্দ
- শিক্ষকের বৃন্দ = শিক্ষকবৃন্দ
- ফুলের রাজি = ফুলরাজি
- তারকার/নক্ষত্রের রাজি = তারকারাজি/নক্ষত্ররাজি
- হস্তীর যূথ = হস্তীযূথ
- গুণের গ্রাম = গুণগ্রাম
- বীরগণের অগ্রগণ্য = বীরাগ্রগণ্য
- ধনীর গণ = ধনিগণ
- পিতার তুল্য = পিতৃতুল্য
- নরের উত্তম = নরোত্তম
- অমৃতের সমান = অমৃতসমান
- কবীশদের দল = কবীশদল
- তোমার সদৃশ = ত্বৎসদৃশ
- তাহার তুল্য = তত্তুল্য
- যোগিনীর পারা (মতো) = যোগিনীপারা
এরূপ দ্বিজশ্রেষ্ঠ, রত্নরাজি, যমসম, দেবতুল্য, মেঘমালা, গুণিগণ, শিশুগণ, রাজগণ, মহাত্মগণ, কবিকুল ইত্যাদি।
- দুগ্ধ, শিশু, ডিম্ব, শাবক ইত্যাদি শব্দ পরে থাকলে স্ত্রীবাচক পূর্বপদটি পুরুষবাচক হয়:
- মৃগীর/হরিণীর শিশু = মৃগশিশু/হরিণশিশু
- ছাগীর দুগ্ধ = ছাগদুগ্ধ
- বাঘিনীর দুগ্ধ = ব্যাঘ্রদুগ্ধ
- হংসীর ডিম্ব = হংসডিম্ব
- হস্তিনীর শাবক = হস্তিশাবক
এরূপ শার্দূলশাবক, মেষশিশু, পক্ষিশাবক ইত্যাদি।
- ‘দাস’ শব্দ পরে থাকিলে কালী,দেবী,চণ্ডী,ষষ্ঠী প্রভৃতি স্ত্রীবাচক শব্দের অন্ত্য ঈ-কার ই-কার হয়:
- কালীর দাস = কালিদাস
- দেবীর দাস = দেবিদাস
এরূপ ষষ্ঠিদাস, চণ্ডিদাস (কিন্তু বিকল্পে চণ্ডীদাসও হয় এবং চণ্ডিদাস অপেক্ষা চণ্ডীদাস রূপটিই বেশী প্রচলিত)।
- কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্বন্ধপদের বিভক্তিযুক্ত পদটি শেষে বসে:
- রাত্রির মধ্য = মধ্যরাত্র
- রাত্রির পূর্ব (প্রথমাংশ) = পূর্বরাত্র (কিন্তু পূর্ব যে রাত্রি = পূর্বরাত্রি (গতরাত্রি)—কর্মধারয়)
- ‘অহ’র (দিনের) পূর্ব (প্রথমাংশ) = পূর্বাহ্ণ
- ‘অহ’র মধ্য = মধ্যাহ্ন
- ‘অহ’-র অপর (শেষাংশ) = অপরাহ্ণ (ণত্ব-বিধি)
- ‘অহ’-র সায় (সমাপ্তি) = সায়াহ্ন
- দরিয়ার মাঝ = মাঝদরিয়া
এরূপ প্রাহু, মাঝপথ ইত্যাদি।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন–
- বিশ্বে বিখ্যাত = বিশ্ববিখ্যাত
- পাপে আসক্ত = পাপাসক্ত
- নামাজে রত = নামাজরত
- মনে মরা = মনমরা
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু
- গাছে পাকা = গাছপাকা
- গোলায় ভরা = গোলাভরা
- বাক্সতে বন্দী = বাক্সবন্দী
- গৃহে বন্দী = গৃহবন্দী
- ধূলিতে লুণ্ঠিতা = ধুলিলুণ্ঠিতা
- সভায় আসীন = সভাসীন
- অগ্রে গণ্য = অগ্রগণ্য
- গঙ্গায় স্নান = গঙ্গাস্নান
- স্বার্থে পর (আসক্ত) = স্বার্থপর
- অন্তরে স্থিত = অন্তরস্থিত
- গ্রীষ্মে কৃশ = গ্রীষ্মকৃশ
- পদে আনত = পদানত
- বিদ্যায় উৎসাহী = বিদ্যোৎসাহী
- ধ্যানে লীন = ধ্যানলীন
- সংসারে বিরাগী = সংসারবিরাগী
- শ্রমে কুণ্ঠ = শ্রমকুণ্ঠ
- ছায়ায় সুপ্ত = ছায়াসুপ্ত
- প্রাতে ভ্রমণ = প্রাতভ্রমণ
- নরগণে প্রীতি = নরপ্রীতি
- ক্ষমায় সুন্দর = ক্ষমাসুন্দর
- মৃৎ-এ প্রোথিত = মৃৎ-প্রোথিত
- সর্বাঙ্গে সুন্দরী = সর্বাঙ্গসুন্দরী
- মাতার প্রতি ভক্তি = মাতৃভক্তি
- গৃহে প্রবেশ = গৃহপ্রবেশ
- তর্কে পটু = তর্কপটু
- মৰ্মে আহত = মর্মাহত
- আহারে নিরত (ব্যাপৃত) = আহারনিরত
- গৃহে আগত = গৃহাগত
- পাঠে অনুরাগী = পাঠানুরাগী
- বিশ্বে বিশ্ৰুত = বিশ্ববিশ্রুত
- শয্যায় শায়ী = শয্যাশায়ী
- বনে বাস = বনবাস
- বনে গমন = বনগমন
- ক্ষমতায় আসীন = ক্ষমতাসীন
- শীর্ষে স্থিত = শীর্ষস্থিত
- কারায় অবরুদ্ধ = কারারুদ্ধ
- একে নিষ্ঠা = একনিষ্ঠা (কিন্তু একে নিষ্ঠা যার = একনিষ্ঠ — বহুব্রীহি, স্ত্রীবাচক: একনিষ্ঠা)
- রোদনে প্রবণতা = রোদনপ্রবণতা
- সর্ববিদ্যায় বিশারদ = সর্ববিদ্যা-বিশারদ
- গীতায় উক্ত = গীতোক্ত
- নীরে মজ্জন = নীরমজ্জন
- দ্বিজগণের মধ্যে সুলভ = দ্বিজসুলভ
- দাঁতে কপাটি = দাঁত-কপাটি
- রাতে কানা = রাতকানা
- বাটায় ভরা = বাটাভরা
- গলাতে ধাক্কা = গলাধাক্কা
[সমস্ত পদটির পরপদে "পূর্ব" শব্দটি থাকলে ব্যাসবাক্যে তা আগে বসে:]
- পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব
- পূর্বে শ্রুত = শ্রুতপূর্ব
- পূর্বে অশ্রুত = অশ্রুতপূর্ব
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব
এরূপ : দিবানিদ্রা, মাথাব্যথা, জলমগ্ন, ধ্যানমগ্ন, পিঞ্জরাবদ্ধ, বস্তাপঁচা, বাক্সপঁচা, ভোজনপটু, বাকপটু, গৃহবাস, বনভোজন, দানবীর, ধর্মবিশ্বাস, সিংহাসনাসীন, শীলবৃদ্ধ, বক্ষলীন, কর্মব্যস্ত, বচনবাগীশ, রণবীর, তীর্থাগত, মনোরুদ্ধ, রূপানুরাগ, সাহিত্যপ্রীতি, অকালপক্ক, ধ্যানসমাহিত, শিরঃস্থিত, যোগরত, ওষ্ঠাগত, ধরাশায়ী, ক্রীড়ামত্ত, শিল্পনৈপুণ্য, যৌবনযোগিনী, কর্মকুশল, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, আকাশ-ভ্রমণ, হাড়বজ্জাত, কোণঠাসা, কণ্ঠাগত, দিনকানা, কোলকুঁজো, ঘরপাতা (দই), তালকানা, পাড়াবেড়ানো, লিস্টভূত ইত্যাদি।
৭. অলুক তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]‘অলুক’ অর্থ লোপ না পাওয়া। যদি পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না হয়, তাহলে তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন–
- সোনার তরী = সোনারতরী
- ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা
- পড়ার ঘর = পড়ার ঘর
- কলুর বলদ = কলুর বলদ
এরূপ : ঘোড়ার ডিম, হাতের পাঁচ, সাপের পা, তেলেভাজা, চায়ের কাপ, পড়ার টেবিল, চোখের জল, কলে ছাঁটা, কলের পানি, কলের গান, খবরের কাগজ, ভোরের পাখি, মাটির মানুষ, মনের মানুষ, চোখের বালি, মামার বাড়ি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, কলেজে পড়া, গায়ে পড়া, দিনে ডাকাতি, খেচর, পথে নামা, বানে ভাসা ইত্যাদি।
কিন্তু ভ্রাতার পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র (নিপাতনে সিদ্ধ)।
৮. নঞ তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে না-সূচক অব্যয় থাকে, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন–
- উত্তরপদের প্রথমবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ হইলে "নঞ" স্থানে "অ", আর স্বরবর্ণ হইলে "অন্" হয়।
- ম্লান নয় = অম্লান
- আবশ্যক নয় = অনাবশ্যক
- আময় (অসুস্থতা) নয় = অনাময়
- অবদ্য (নিন্দনীয়) নয় = অনবদ্য
- রসিক নয় = অরসিক
- নিবার্য নয় = অনিবার্য
- ঋত (সত্য) নয় = অনৃত
- গণ্য নয় = অগণ্য
- এক নয় = অনেক
- মোঘ (নিষ্ফল) নয় = অমোঘ
- ঈহা (ইচ্ছা বা চেষ্টা) নয় = অনীহা
- অটন (গমন) নয় = অনটন
- আহূত নয় = অনাহুত
- ঋণী নয় = অঋণী/অনুণী
- ধৃষ্ট (প্রগল্ভ) নয় = অধৃষ্ট
- নির্বচনীয় নহে = অনির্বচনীয়
- অন্বিত নয় = অনন্বিত
- উন্নীত নয় = অনুন্নীত
- ব্রাহ্মণ নয় = অব্রাহ্মণ
এরূপ অচেনা, অজানা, অচল, অমিল, অজ্ঞান, অনুর্বর, অনাদর, অনাসৃষ্টি, অবিশ্বাস, অনাবাদী, অনিচ্ছা, অনৈক্য, অবাধ্য, অসুখ, অদৃষ্ট, অকুণ্ঠিত, অধীর, অভাব, অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত, অনীপ্সিতা, অনাস্বাদিত, অনবনত, অননুমোদিত, অননুভূত, অননুকূল, অনমনীয়, অনুজ, অনায়ত্ত, অনাস্থা, অরতি, অনলস, অব্যক্ত, অজ্ঞাত, অসঙ্গত, অনভিজ্ঞ, অস্থির, অনতিতীক্ষ্ণ, অনৈশ্বর্য, অনাচার, অনুচিত, অসাধু, অক্ষম, অনাসক্ত, অকাল, অবেলা, অনর্থ, অশুভ, অসৎ, অকাতর, অনাঘ্রাতা, অনশন, অনাবাদী, অশরীরী, অকাট্য, অকাজ, অফুরন্ত, অনধিক।
- কখনও কখনও নঞ-এর ন সমস্ত-পদটিতে রয়ে যায়:
- অতি বৃহৎ নয় = নাতিবৃহৎ
- অতিশীতোষ্ণ নয় = নাতিশীতোষ্ণ (শব্দটিতে দ্বন্দ্ব ও কর্মধারয়ও রয়েছে)
- গণ্য নয় = নগণ্য (তুচ্ছ)
- ক্ষত্ৰ নয় = নক্ষত্র
এরূপ নাতিদুর, নাতিদীর্ঘ, নাতিতীক্ষ্ণ।
- খাঁটি বাংলা সমাসে নঞ-স্থানে অ, না, নি, বি, বে, অনা, গর, নির্ প্রভৃতি হয়:
- কাল নয় = অকাল
- রাজী নয় = নারাজ
- বলা নয় = না-বলা (কথা)
- খরচা নয় = নিখরচা [কিন্তু খরচ নাই যার = নিখরচিয়া > নিখরচে—বহুব্রীহি]
- মামা নয় = নেই-মামা
- তাল নয় = বেতাল
- মিল নয় = গরমিল
- সৃষ্টি নয় = অনাসৃষ্টি
- ভরসা নয় = নির্ভরসা
এরূপ আভাঙা (গম), আছোলা (বাঁশ), আধোয়া (চাল), আবাঁধা (চুল), আখোলা (দরজা), আলুনী (তরকারী), আফোটা (দুধ), আকাচা (কাপড়), আগাছা, না-পাওয়া (বেদনা), নামঞ্জুর, গরমঞ্জুর, গরহাজির, গররাজী, বেমানান, বেবন্দোবস্ত, বেগতিক, বেচাল, বেহিসাবী, বেসরকারী (সংবাদ), বে-অকুফ, বেরসিক, নির্ঝঞ্ঝাট, নিখুঁত, নিখোঁজ, নির্ভুল, নিরাশা, নিরামিষ, নিরুৎসাহিত, বিজোড়, বিদেশ, বেঢপ, বেটাইম, বিসদৃশ, বিভুঁই, বেআইনি।
৯. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]যেসব পদের পরবর্তী ধাতুর সাথে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে বলে উপপদ। আর উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস। যেমন—
- জলে জন্মে যা = জলজ
- জল দেয় যে = জলদ
- জলে চরে যে = জলচর
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ
- অগ্রে জন্মে যে = অগ্রজ
- মধু পান করে যে = মধুপ
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা
- স্থলে চরে যে = স্থলচর
- জাদু করে যে = জাদুকর
- গণিত জানেন যিনি = গণিতজ্ঞ
- শাস্ত্র জানেন যিনি = শাস্ত্রজ্ঞ
- ঘুষ খায় যে = ঘুষখোর
- অরিকে দমন করে যে = অরিন্দম
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ
- মধু করে যে = মধুকর
- বসু (ধন) ধরে যে = বসুন্ধরা
- গুপ্তভাবে চরে যে = গুপ্তচর
- সার দেন যে দেবী = সারদা
- সন্দেশ (সংবাদ) বহন করে যে = সন্দেশবহ
- নৃ (নরগণকে) পালন করেন যিনি = নৃপ
- সহ (সঙ্গে-সঙ্গে) জন্মে যা = সহজ
- সুযোগের সন্ধান করে যে = সুযোগসন্ধানী
- রস জানেন যিনি = রসজ্ঞ
- এক দেশ (অংশ) দেখে যে = একদেশদর্শী
- সর্বত্র গমন করে যে = সর্বত্রগামী
- মনকে মোহিত করে যে = মনোমোহী (স্ত্রীলিঙ্গে মনোমোহিনী)
- গো পালন করে যে = গোপ
- সূত্র ধারণ করেন যিনি = সূত্রধার
- কৌপীন ধারণ করে যে = কৌপীনধারী
- একান্নে বর্তন করে যে = একান্নবর্তী
- মৃৎ (মৃত্তিকা) ভেদ করে যে = মৃদভেদী
- অণ্ড হইতে জন্মে যে = অণ্ডজ
- নীর দান করে যে = নীরদ [কিন্তু নিঃ (নাই) রদ (দন্ত) যার = নীরদ—বহুব্রীহি]
- মুখে থাকে যা = মুখস্থ
- নিশা করে যে = নিশাকর
- পাদ দ্বারা পান করে যে = পাদপ
- বর দান করেন যিনি = বরদ (স্ত্রীলিঙ্গে বরদা)
- নানা চিহ্ন ধারণ করে যে = নানাচিহ্নধারী
- পয়ঃ ধারণ করে যে = পয়োধর [কিন্তু গঙ্গাধর, বংশীধর, বংশধর ইত্যাদি সম্বন্ধ-তৎপুরুষ; ব্যাসবাক্য হবে—গঙ্গার ধর (ধারক), বংশীর ধর ইত্যাদি]
- নভঃ (আকাশে) চরে যে = নভশ্চর
- পত্রে পত্রে চরে যে = পত্রচর
- দ্বি (দুইয়ের দ্বারা) পান করে যে = দ্বিপ (হস্তী)
- ত্রি (তিন) পথে গমন করে যে = ত্রিপথগ (স্ত্রীলিঙ্গে—ত্রিপথগা)
- পুরে বাস করে যে নারী = পুরবাসিনী
- মিথ্যা বলে যে = মিথ্যাবাদী
- বিহায়সে (আকাশে) গমন করে যে = বিহগ [নিপাতনে সিদ্ধ]
- শত্রুকে বধ করে = শত্রুঘ্ন
- বিশ্ব জয় করেছে যে = বিশ্বজিৎ
- মাতাকে হত্যা করেছে যে = মাতৃঘাতী
- রুচি করে যে = রুচিকর
- আত্মা হতে জন্মে যে = আত্মজ
- সব্য (বাম)-দ্বারা সচন (কার্য) করেন যিনি = সব্যসাচী
- মলয়ে জন্মে যে = মলয়জ;
- গিরিতে শয়ন করেন যিনি = গিরিশ (মহাদেব) [কিন্তু গিরির ঈশ = গিরীশ(হিমালয়)—সম্বন্ধ-তৎপুরুষ]
- পার (সীমা) দর্শন করে যে = পারদর্শী
- ভূমিতে থাকে যে = ভূমিষ্ঠ
- সর্বনাশ করে যে = সর্বনাশা
- পাস করেছে যে = পাসকরা [কিন্তু পাস করা হয়েছে যার দ্বারা (ব্যক্তি) বা পাস করা যায় যার দ্বারা (বুদ্ধি) = পাসকরা-বহুব্রীহি]
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা
- বোল ধরেছে যে = বোলধরা
- বাস্তু হারিয়েছে যে = বাস্তুহারা
- বালককে ভুলায় যে = বালকভুলানো
- মন লুব্ধ করে যে = মনোলোভা
- ডাণ্ডা পিটিয়ে থাকে যে = ডানপিটিয়া > ডানপিটে
- পুঁথি পড়ে যে = পুঁথিপড়ো
- কাঠে ঠোকরায় যে = কাঠঠোকরা
- একঘরে বাস করে যে = একঘরিয়া > একঘরে
- দুনিয়া জুড়ে থাকে যে = দুনিয়াজোড়া
- কুল মজায় যে নারী = কুলমজানী
- লুচি ভাজে যে = লুচিভাজা (বামুন) [কিন্তু লুচি ভাজে যাতে = লুচিভাজা (কড়াই অথবা ঘি)—বহুব্রীহি; লুচিকে ভাজা = লুচিভাজা — কর্ম-তৎপুরুষ]
এরূপ দিবাকর, কুম্ভকার[৮২], ইন্দ্রজিৎ, উরগ, মদ্যপ, অনুজ, মৃত্যুঞ্জয়, ভুজঙ্গ, চমকপ্রদ, সর্বশব্দগ্রাহী, সর্ব-উপদ্রবসহা, শোলোকবলা, আলোকরা, অর্থবহ, তাপসহ, সুখপ্রদ, শশধর, সরোজ, মনোজ, হৃদয়গ্রাহী, মর্মদাহী, ধারাধর, হৃদয়হরণ, সর্বগ্রাসী, দনুজ, সত্যবাদী, মাতৃহারা, মৃত্যুজিৎ, হাস্যাবহ, পার্শ্বচর, মিতভাষী, স্তন্যপায়ী, অরিন্দম[৮৩], সর্বংসহা, ভূচর, মালাকার, মুখরোচক, দিগ্বিজয়ী, সূত্রধর, অভ্রভেদী, নভোলোভী, গগনচুম্বী, নভচারী, বিমানবিধ্বংসী, শ্রুতিধর, অন্তোজ, চিত্তাকর্ষক, নিশাচর, ভুবনমোহন, ক্লেশহর, শুভবহা, অম্ভোদ (মেঘ), পথিকৃৎ, হিতকর, ভবঘুরে, ধাননাচানো, সবজান্তা, গলাকাটা (দোকানী), পকেটমার[৮৪], ধামাধরা, পা-চাটা, সর্বহারা, নিদহারা, হাড়ভাঙা, মাছিমারা (কেরানী), ভাতখেকো, মানুষখেকো, ঘরভাঙা, কর্তাভজা, পাড়াবেড়ানি, ঘরজ্বালানী, সাঁঝঘুমানী, ঘুমভাঙানে, কাঠকুডুনী, কানভাঙানী, কপালজোড়া, আঁধারভাঙা, তল্পিবহা, মনচোরা, ঘরছাড়া, চুলচেরা, কর্মনাশা, মানুষছাঁকা (রাজা), মিছ-কহনিয়া, দুখ-জাগানিয়া, ভুবনভোলানো, বউলধরা (গাছ), দিশাহারা, শাস্ত্রকার, প্রজাপালক, কলাধর, পাতাচাটা, ঘরপোড়া, ছাপোষা, গা-সহা, ছারপোকা ইত্যাদি।
বহুব্রীহি সমাস
[সম্পাদনা]| "যার" এবং "যাতে" বহুব্রীহি হয় তাতে |
| সমস্ত পদটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করবে |
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে সমস্তপদে অন্য কোন ব্যক্তি, বস্তু বা পদার্থকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন— দশ আনন (মুখ) যার = দশানন (দশটি মাথা) এখানে পূর্বপদ ‘দশ’ এবং পরপদ ‘আনন’। সমস্তপদে ‘দশ’ কিংবা ‘আনন’ কোনটিরই অর্থ না বুঝিয়ে একটি ভিন্ন অর্থ বুঝিয়েছে। ‘দশানন' বলা হয় রাবণকে।
| সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | প্রকৃত নির্দেশক |
|---|---|---|
| বীণাপাণি | বীণা পাণিতে (হাত) যার | সরস্বতী |
| বজ্রপাণি | বজ্র পাণিতে যার | ইন্দ্র |
| দণ্ডপাণি | দণ্ড পাণিতে যার | যম |
| চক্রপাণি | চক্র পাণিতে যার | শ্রীকৃষ্ণ |
| শূলপাণি | শূল পাণিতে যার | শিব |
| নীলকন্ঠ | নীল কন্ঠ যার | শিব |
| ত্রিনেত্র/ত্রিনয়ন | ত্রি নেত্র/নয়ন আছে যার | শিব |
| পঞ্চানন | পঞ্চ আনন (মুখ) যার | শিব |
| দশানন | দশ আনন যার | রাবণ |
| গজানন | গজের (হাতি) ন্যায় আনন যার | গনেশ |
| একদন্ত | একটি দাঁত যার | গনেশ |
| বক্রতুন্ড | বক্র (বাঁকানো) তুন্ড (মুখ/নাক) যার | গনেশ |
| লম্বোদর | লম্বা (বড়) উদর যার | গনেশ |
| দামোদর | দাম উদরে (পেট) যার | শ্রীকৃষ্ণ |
| পীতাম্বর | পীত (হলদে) অম্বর (বস্ত্র) যার | শ্রীকৃষ্ণ |
| নীলাম্বর | নীল অম্বর যার | বলরাম |
| শ্বেতাম্বর | শ্বেত অম্বর যার | সরস্বতী |
| গৌরাঙ্গ | গৌর অঙ্গ যার | শ্রী চৈতন্য |
| সুলোচনা | সু (সুন্দর) লোচন (চোখ) যার | মেঘনাদের স্ত্রী |
| শূর্পনখা | শূর্পের ন্যায় নখ যার | রাবণের বোন |
| শ্রীনিবাস | শ্রীতে নিবাস যার | বিষ্ণু |
| দশরথী | দশ দিকে রথ চলে যার | রামের পিতা |
| দশভুজা | দশ ভুজ আছে যার | দুর্গা |
যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ কোনটিরই অর্থ না বুঝিয়ে, তৃতীয় পদ তথা সমস্ত পদকে বুঝিয়ে থাকে,তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। এখানে সবসময়ই তৃতীয় অর্থ প্রকাশ পাবে।
উদাহরণ: খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ
এখানে,পূর্বপদ খোশ মানে খুশি, আবার মেজাজ মানে মানসিক অবস্থা। তবে, সমস্তপদে খুশিকেও বোঝায়নি আবার মেজাজকেও বোঝায়নি । অর্থাৎ, 'খোশমেজাজ'কে বুঝিয়েছে। মানে, ভালো মেজাজওয়ালা ব্যক্তিকে বুঝিয়েছে।
আশীতে বিষ যার = আশীবিষ
এখানে,পূর্বপদ আশী মানে সাপের বিষ দাঁত । আবার বিষ মানে ভীষন ক্ষতিকর তরল পদার্থ। কিন্তু, সমস্তপদে আশীবিষ মানে সাপ । অর্থাৎ সাপের বিষ দাঁতকেও বোঝায়নি, আবার বিষকেও বোঝায়নি, বুঝিয়েছে সাপকে।
হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী
এখানে, হত মানে চুরি আবার শ্রী মানে মুখমন্ডল বা সৌন্দর্য। অথচ, সমস্তপদে হতশ্রী মানে, যে খুব অসহায়,যার কিছু নেই। অর্থাৎ, হতকেও বোঝায়নি আবার মুখকেও বোঝায়নি, বুঝিয়েছে যার কিছু নেই।
| “ | অনেকেই ‘সেতার’ শব্দটিকে দ্বিগু সমাস মনে করে যেভাবে ব্যাসবাক্য করে তা হলো: সে (এটি একটি ফারসি শব্দ যার বাংলা অর্থ: তিন) তারের সমাহার — সেতার। কিন্তু ‘সেতার’ বলতে শুধু তিনটি তারকে বুঝায়না; এটি একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বুঝায় যার তিনটি তার রয়েছে। অর্থাৎ এটি বহুব্রীহি সমাসের নিয়মানুযায়ী অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এটিকে দ্বিগু সমাসে না করে সংখ্যাবাচক বহুবীহি সমাসের নিয়মে করতে হবে। | ” |
বহুব্রীহি সমাসের শ্রেণীবিভাগ
[সম্পাদনা]১. সাধারণ/সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
[সম্পাদনা]| Adjective—Noun |
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন–
- গৌর অঙ্গ যার = গৌরাঙ্গ
- শ্যাম অঙ্গ যার = শ্যামাঙ্গ
- কৃত অঞ্জলি যার = কৃতাঞ্জলি
- দৃঢ় প্রতিজ্ঞা যার = দৃঢ়প্রতিজ্ঞ
- নীল বসন যার = নীলবসনা
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ
- স্বল্প আয়ু যার = স্বল্পায়ু
- পেট সর্বস্ব যার = পেটসর্বস্ব
- দিক অম্বর যার = দিগম্বর
- মূঢ় মতি যার = মূঢ়মতি
- বিশিষ্ট লোচন যার = বিলোচন
- পক্ক কেশ যার = পক্ককেশ
- দৃঢ় প্রতিজ্ঞা যার = দৃঢ়প্রতিজ্ঞ
- বিশাল আকার যার = বিশালাকার
- প্রবল প্রতাপ যার = প্রবলপ্রতাপ
- স্বচ্ছ সলিল যার = স্বচ্ছসলিলা
- হাঁস মার্কা যার = হাঁসমার্কা
- সু (শোভন) হৃদয় যার = সুহৃদ
- প্র (আরব্ধ) দোষা (রাত্রি) যেখানে = প্রদোষ
- দৃঢ় ধনু যার = দৃঢ়ধন্বা
- সু (শোভন) ধী যার = সুধী
- কৃত হয়েছে বিদ্যা যার দ্বারা = কৃতবিদ্য
- বিশাল অক্ষি যাহার = বিশালাক্ষ (অক্ষি স্থানে অক্ষ—স্ত্রীলিঙ্গে বিশালাক্ষী)
- বিশিষ্ট লোচন যার = বিলোচন
- হরি (হরিণ) অক্ষি যার = হর্যক্ষ
- সু অর্ণ (বর্ণ) যার = স্বর্ণ
- শুভ্র মুখ যার = শুভ্রমুখ (স্ত্রী—শুভ্রমুখী)
- সমান (একই) ধর্ম যার = সধর্মা
- সমান উদর (মাতৃগর্ভ) যার = সহোদর/সোদর
- সমান জাতি যার = সজাতি
- সু গন্ধ যার = সুগন্ধি (পুষ্প)/সুগন্ধ (বায়ু) [গন্ধটি পুষ্পের নিজস্ব বলে সুগন্ধি, কিন্তু বায়ুর বা তেলের নিজস্ব নয় বলে সুগন্ধ]
- চারু গন্ধ যার = চারুগন্ধি (চন্দন)/চারুগন্ধ (বায়ু)
- ছিন্ন হয়েছে শাখা যার = ছিন্নশাখা (বৃক্ষ) [কিন্তু ছিন্ন যে শাখা = ছিন্নশাখ—কর্মধারয়]
- বি (বহু) হয়েছে বিধা (প্রকার) যার = বিবিধ
- সিদ্ধ হয়েছে অর্থ যার = সিদ্ধার্থ
- সৎ অর্থ যার = সদর্থক
- প্রিয় সখা যার = প্রিয়সখা [কিন্তু প্রিয় যে সখা = প্রিয়সখ–কর্মধারয়]
- পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা যার = পূর্ণাকাঙ্ক্ষ
- প্রোষিত (বিদেশস্থ) ভর্তা যার = প্রোষিতভর্তৃকা
- প্রোষিতা ভার্যা যার = প্রোষিতভার্য
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ
- বহু পত্নী যার = বহুপত্নীক
- সু (তীক্ষ্ণ) দর্শন যার = সুদর্শন (শকুন)
- ভীম দর্শন যার = ভীমদর্শন
- কু (কুৎসিত) বের (শরীর) যার = কুবের
- অপ (বিচিত্র) রূপ যাহার = অপরূপ
- নষ্ট হয়েছে কীর্তি যার = নষ্টকীর্তি
- হীন হয়েছে শক্তি যার = হীনশক্তি [কিন্তু শক্তির দ্বারা হীন = শক্তিহীন—করণ-তৎপুরুষ]
- হীন হয়েছে প্রভা যার = হীনপ্রভ
- জিতা নিদ্রা যৎকর্তৃক = জিতনিদ্র
- সমান পতি যাদের = সপত্নী [কিন্তু স্ব (নিজ)-এর পত্নী = স্বপত্নী—সম্বন্ধ-তৎপুরুষ]
- লব্ধ হয়েছে প্রতিষ্ঠা যার = লব্ধপ্ৰতিষ্ঠ
- পরাক্ মুখ যার = পরান্মুখ
- ছন্ন হয়েছে মতি যার = ছন্নমতি [কিন্তু ছন্ন যে মতি = মতিচ্ছন্ন—কর্মধারয়]
- মধ্য (মধ্যম) বিত্ত যার = মধ্যবিত্ত
- দুঃ অবস্থা যার = দুরবস্থ
- দুঃ হইয়াছে আকাঙ্ক্ষা যার = দুরাকাঙ্ক্ষ [কিন্তু দুঃ যে আকাঙ্ক্ষা = দুরাকাঙ্ক্ষা—কর্মধারয়]
- কু আকার যার = কদাকার
- অল্প সংখ্যা যার = অল্পসংখ্যক
- বহু বীজ যার = বহুবীজক (দাড়িম্ব)
[বিশেষ্যপদটি পূর্বে বসে এমন উদাহরন:]
- মা মরা যার = মা-মরা
- হীরে বসানো যাতে = হীরেবসানো (আংটি)
- ফুল (নকশা) কাটা যাতে = ফুলকাটা (জামা)
- কান কাটা যার = কানকাটা
- বুক ফাটে যার দ্বারা = বুকফাটা (কান্না)
- পাখি ডাকে যেখানে = পাখিডাকা
- পদ্ম কাঁপে যেখানে = পদ্মকাঁপা (বিল)
- পাস করা যায় যার দ্বারা = পাসকরা (বুদ্ধি)
- মাছ ধরা যায় যাতে = মাছধরা (জাল)
- পেট ভরে যার দ্বারা = পেটভরা (খাদ্য)
- বুক ভরে যাতে = বুকভরা (স্নেহ)
- লক্ষ্মী ছেড়েছে যাকে = লক্ষ্মীছাড়া
- পাতা ছিঁড়েছে যার = পাতাছেঁড়া ( বই)
- সরিৎ উত্তম যে নদীর = সরিদুত্তমা
- স্বার্থই পর (পরম) যার = স্বার্থপর
[দুইটি পদই বিশেষ্য, কিন্তু পূর্বপদটি কখনওবা বিশেষণ-ভাবাপন্ন এমন উদাহরন:]
- সীতা জায়া যার = সীতাজানি
- গাণ্ডীব ধনু যার = গাণ্ডীবধন্বা
- পদ্ম আসন যার = পদ্মাসন
- কৃষ্ণই কান্ত যার = কৃষ্ণকান্ত
- ক্ষীর হয়েছে উদ (জল) যার = ক্ষীরোদ
- চন্দ্র হয়েছে শেখর (মুকুট) যার = চন্দ্রশেখর (শিব)
- চন্দ্ৰ হয়েছে আপীড় (শিরোভূষণ) যার = চন্দ্রাপীড়
- অহি হয়েছে ভূষণ যার = অহিভূষণ
- গর (বিষ) আভরণ যার = গরাভরণ (মহেশ্বর)
- তুষার হয়েছে মৌলি (কিরীট) যার = তুষারমৌলি
- তপস্যাই ধন যার = তপোধন
- পতিই ব্রত যার = পতিব্রতা
- রাজা সখা যার = রাজসখা [কিন্তু রাজার সখা = রাজসখ—সম্বন্ধ-তৎপুরুষ]
- বসন্ত সখা যার = বসন্তসখা (কামদেব) [কিন্তু বসন্তের সখা = বসন্তসখ (কোকিল)—সম্বন্ধ-তৎপুরুষ]
- দিক্ (শূন্য) অম্বর যার = দিগম্বর
- মিলনই আত্মা যার = মিলনাত্মক
- নদী মাতা যাহার = নদীমাতৃক
- ধূম কেতু (কেতন) যার = ধূমকেতু
- ঘৃতই অন্ন যার = ঘৃতা/ঘৃতান্ন (অগ্নি)
- উদ্ভিদ্ বিষয় যার = উদ্ভিদ্বিষয়ক (প্রবন্ধ)
- মৃগ আজীব (জীবিকা) যার = মৃগাজীব
- চিন্তাই শীল (স্বভাব) যার = চিন্তাশীল
- ভুঁড়িই সার যার = ভুঁড়িসার
['মহান/মহৎ' স্থানে 'মহা':]
- মহান প্রাণ যার = মহাপ্রাণ [কিন্তু মহতের প্রাণ = মহৎপ্রাণ—সম্বন্ধ-তৎপুরুষ]
- মহৎ আশয় (চিত্ত) যার = মহাশয় [কিন্তু মহতের আশয় = মহদাশয়—সম্বন্ধ-তৎপুরুষ]
- মহান মহিমা যার = মহামহিম
- মহতী মতি যার = মহামতি
এরূপ : ভগ্নশাখা (বৃক্ষ), সুধন্বা, দৃঢ়ধন্বা, জিতক্রোধ, শ্রুতকীর্তি, দীর্ঘায়ু, লঘুভঙ্গিম, বিলুপ্তসংজ্ঞ, অল্পবিদ্য, প্রিয়জানি, বাসন্তদুকূলা, একাগ্রচিত্ত, শ্লথবৃত্ত, সগোত্র, নীলপ্রভ, প্রোষিতপত্নীক, নষ্টবুদ্ধি, সতীৰ্থ, পক্ককেশ, নতশির, ছিন্নতন্ত্রী, অনন্তযৌবনা, সলোক, হতশ্রদ্ধ, তীক্ষ্ণবুদ্ধি, ক্ষীণপ্রাণ, সুরভিগন্ধি, সবর্ণ, হাফহাতা, লালপাগড়ি, ভাঙাহাতা, হতভাগা, লালপেড়ে, অল্পেয়ে, পাকাচুলো, কালোবরন, অল্পপ্রাণ, অল্পবয়স্ক, মন্দভাগ্য, উচ্চশির, সুশীল, সদর্থক, সতীর্থ, লেজকাটা, ঠোঁটকাটা, মাথা-খারাপ, ঘরপোড়া, কঙ্কালসার, নতজানু, হতশ্রী, সুশ্রী, হৃতসর্বস্ব, কমবখ্ত, বদবখ্ত, ভুবনভরা (আলো), গালভরা (বুলি), আদর্শপর, পেটমোটা, দিলখোশ, হাড়বেরুনো, মনরাখা (কথা), দাগলাগা, রাসভারী (লোক), মধ্যপদলোপী (সমাস), আরামপ্রিয়, ঘরপোড়া (গোরু), পিঠভরা (চুল), চোখভরা (জল), মহাবল, মহামনা, পুষ্পধন্বা, ব্যবহারাজীব, অস্ত্রাজীব, পুষ্পাজীব, তেজোমূর্তি, ব্যোমকেশ, পয়োব্রতা, ইন্দুমৌলি, শিখিবাহন, অর্ধেন্দুশেখর, সুধাংশুশেখর, সিতাংশুভূষণ, চন্দ্রভূষণ, শশিশেখর, নৃমুণ্ডমালিনী, পুষ্পাভরণা, বেদনাত্মক ইত্যাদি।
২. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
[সম্পাদনা]| Noun—Noun |
বিশেষ্য ও বিশেষ্য পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন–
- বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি
- শূল পাণিতে যার = শূলপাণি
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব
- ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ (বিষ্ণু)
- রত্ন গর্ভে যার = রত্নগর্ভা
- জ্ঞান গর্ভে যার = জ্ঞানগর্ভ
- কর্ণে ফুল যার = কর্ণফুলী
- মধু কণ্ঠে যার = মধুকণ্ঠ
- কল (সুমধুর ধ্বনি) কণ্ঠে যার = কলকণ্ঠ
- হাসি মুখে যার = হাসিমুখ/হাসিমুখো
- খড়গ হস্তে যার = খড়গহস্ত
- ছেলে কাঁখে যাহার = ছেলেকাখী (স্ত্রী)
- ইতি আদিতে যার = ইত্যাদি
- তুলনামূলক মানব আদিতে যার = মানবাদি
- তুলনা মূলে যার = তুলনামূলক
- মিলন অন্তে যার = মিলনান্তক
- প্রণাম পূর্বে যাহার = প্রণামপূর্বক
- অন্য বিষয়ে মন যার = অন্যমনস্ক
- চন্দ্র চূড়ায় যার = চন্দ্রচূড়
- পদ্ম পদে যার = পদ্মপাদ/পাদপদ্ম
- ণিচ্ অন্তে যার = ণিজন্ত
- কৃৎ অন্তে যার = কৃদন্ত
- তি অন্তে যাহার = তিঙন্ত
- (শুভ) ক্ষণে জন্ম যার = ক্ষণজন্মা
- সত্যে সন্ধা (স্থিরনিষ্ঠা) যার = সত্যসন্ধ
- পাপে মতি যার = পাপমতি
- সুন্দর মতি যার = সুমতি
- কর্মে মতি যার = কর্মমতি
- আশীতে (দন্তে) বিষ যার = আশীবিষ (সর্প)
- ধর্মে বুদ্ধি যার = ধর্মবুদ্ধি
- অন্য বিষয়ে মন যার = অন্যমনস্ক
- নেই (ন্যায়ে) আঁকড় (আগ্রহ) যার = নেই-আঁকড়া [অথবা, নেই-তে (নাভিতে) আঁকড় যার = নেই-আঁকড়ে]
- নিম্নে রেখা যার = নিম্নরেখ
- অন্তঃ (অন্তরে—শেষে) অপ যার = অন্তরীপ
এরূপ : দণ্ডপাণি, বজ্রপাণি, ধনুষ্পাণি, পিনাকপাণি, গবাদি, শশাঙ্ক, সুবন্ত, অজন্ত, প্রদানপূর্বক, বর্ণনামূলক, কলসকক্ষা, সারগর্ভ, নোলকনাকী, বেদনান্তক, চাঁদকপালে, ছাতাহাতে, ছেলেকোলে, হাঁড়িহাতে, লকড়িঘাড়ে, বোঁচকামাথায়, চশমানাকে, কোঁচাকাঁধে, চাদরগলায়, পাঞ্জাবিগায়ে, গামছাকাঁধে, ঘরমুখো, ছাপোষা, কানকাটা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা, পাছাপেড়ে, সত্যনিষ্ঠ, একনিষ্ঠ, অধোরেখ ইত্যাদি।
৩. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
[সম্পাদনা]| মাঝের পদসমূহ লোপ পাবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো "অনুষ্ঠান" বোঝাবে [তাই এদেরকে অনেক সময় অনুষ্ঠানসূচক বহুব্রীহিও বলা হয়], নয়তো কোনো "বিশেষ গুণসম্পন্ন নারীকে" বোঝাবে; এবং ব্যাসবাক্যে অবশ্যই বহুব্রীহির বিশেষ শব্দাবলী তথা "যে/যার/যা" প্রভৃতি থাকবে। |
যে বহুব্রীহি সমাসে ব্যাসবাক্যের ব্যাখ্যামূলক মধ্যপদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন–
- গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি
- কমলের মতো অক্ষি যার = কমলাক্ষ (স্ত্রীলিঙ্গে কমলাক্ষী)
- কপোতের অক্ষির ন্যায় অক্ষি যার = কপোতাক্ষ
- মৃগের নয়নের ন্যায় চঞ্চল নয়ন যার = মৃগনয়না
- কাঞ্চনের প্রভার ন্যায় প্রভা যার = কাঞ্চনপ্রভ
- স্বর্ণের মতো আভা যার = স্বর্ণাভ
- অগ্নির ন্যায় উগ্রমূর্তি প্রকাশে শর্ম (সুখ) হয় যার = অগ্নিশর্মা
- কুশের অগ্রভাগের মতো তীক্ষ্ণ ধী যার = কুশাগ্রধী
- চন্দ্রের ন্যায় স্নিগ্ধোজ্জ্বল মুখ যে নারীর = চন্দ্ৰমুখা/চন্দ্রমুখী
- বিড়ালের অক্ষির মতো অক্ষি যার = বিড়ালাক্ষ (স্ত্রীলিঙ্গে—বিড়ালাক্ষী)
- কম্বুর (শঙ্খ) ন্যায় গম্ভীর কণ্ঠ যার = কম্বুকণ্ঠ
- ধর্মের (আদর্শ) উদ্দেশ্যে ঘট স্থাপনপূর্বক যে আন্দোলন = ধর্মঘট
- (নতুন) বউয়ের দ্বারা ভাত পরিবেশনের যে উৎসব/বউয়ের সম্মানে ভাত খাওয়ানো হয় যে অনুষ্ঠানে = বউভাত
- রাখী বেঁধে ভাই সম্পর্ক পাতানো হয় যার সঙ্গে = রাখীভাই
- ভাইয়ের কপালে কল্যাণসূচক ফোঁটা দেওয়ার যে অনুষ্ঠান = ভাইফোঁটা
- শুকের নাসার মতো তীক্ষ্ণ নাসা যার = শুকনাস
- বিম্বের ন্যায় রঞ্জিত অধর যে নারীর = বিম্বাধরা/বিম্বাধরী
- দন্তের ন্যায় শুভ্র বীজ যার = দন্তবীজ (ডালিম ফল)
- এক চেটীর (শ্রেষ্ঠীর) অধিকার যাতে = একচেটিয়া
- শ্বা (কুকুর)-এর পদের মতো পদ যার = শ্বাপদ
- নাদার (বড়ো জালার) মতো পেট যার = নাদাপেটা
- পাঁচ সের ওজন যার = পাঁচসেরী (বাটখারা)
- ঘৃতের গন্ধের মতো গন্ধ যার = ঘৃতগন্ধী (মিষ্টান্ন)
- হাঙরের মুখের মতো মুখ যার = হাঙরমুখো (নৌকা বা বজরা)
- টিয়ার ঠোঁটের মতো রঙ যার = টিয়াঠোঁটা (আম)
- মীনের (মাছ) অক্ষির মতো অক্ষি যে নারীর = মীনাক্ষী
- দুধের মতো নাক যার = দুধনেকো (বাঁদর)
- দেখনমাত্র হাসি যার = দেখনহাসি
- দেড়গজ পরিমাণ যার = দেড়গজি (গামছা)
- চিরুনির দাঁতের মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতী
- মুলার ন্যায় দাঁত আছে যার = মুলাদাঁতী
- গোঁফে খেজুর পড়ে রয়েছে যার = গোঁফখেজুরিয়া > গোঁফখেজুরে
- এক বুক গভীরতা যেখানে = একবুক (জল)
- ডাকাতের বুকের মতো বুক (সাহস) যার = ডাকাবুকো
- তিমিরের (কালো) ন্যায় কুন্তল (চুল) যার = তিমিরকুন্তলা
- রসে পূর্ণ যে গোল্লা = রসগোল্লা
এরূপ : মুখেভাত, মেনিমুখো, ঘরমুখো, মকরমুখো, বাঁদরমুখো, সোনামুখী, বিধুমুখী, কমললোচন, বিদ্যুৎপ্রভ, হেমপ্রভা, ক্ষুরধার (বুদ্ধি), খঞ্জননয়নী, বিদ্যুদ্বরণী, তড়িরণী, এণাক্ষী, পদাগন্ধী, চন্দ্রাননা, চাঁদবদনী, হরিণাক্ষ, চন্দ্রবদন, সূর্যতেজা, ধামাপেটা, নীলচোখো, হলুদচুলো, হাতিশুঁড়ো ইত্যাদি।
৪. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
[সম্পাদনা]যদি পূর্বপদ সংখ্যাবাচক হয়, পরপদ বিশেষ্য হয় এবং সমস্ত পদটি যদি বিশেষণ পদ বোঝায়, তাহলে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন–
- চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা
- চার হাত পরিমাণ = চারহাতি
- চতুঃ (চার) ভুজ যার = চতুর্ভুজ
- পাঁচ সের পরিমাণ ওজন যার = পাঁচসেরী
- পঞ্চ আনন যার = পঞ্চানন
- ত্রি লোচন/নয়ন যার = ত্রিলোচন/ত্রিনয়ন (মহাদেব/শিব; স্ত্রীলিঙ্গে — ত্রিনয়না : দুর্গা/কালী)
- চতুঃ মুখ যার = চতুর্মুখ (ব্রহ্মা)
- ষট্ আনন যার = ষড়ানন (কার্তিকেয়)
- দশ আনন যার = দশানন (রাবণ)
- সহস্র লোচন যার = সহস্রলোচন (ইন্দ্র)
- দশ গজ পরিমাণ দৈর্ঘ্য যার = দশগজি
- সে (ফারসী শব্দ: তিন) তার যার = সেতার (বাদ্যযন্ত্র)
- দুই দিকে হার পরিমিত যার = দোহারা
- দুই দিকে অপ্ (জল) যার = দ্বীপ
- দুইটি নল যার = দু'নলা/দোনলা (বন্দুক)
- একটি ডাল যার = একডালিয়া > একডেলে
- একদিকে রোখ যার = একরোখা (মানুষ)
- একদিকে চোখ যার = একচোখো
- সহস্ৰ বিধা যার = সহস্রবিধ
- তিনটি তলা যার = তেতলা (বাড়ি)
- আটটি চালা যার = আটচালা (ঘর)
- দুইবার ফল ফলে যার = দোফলা (গাছ)
- দুইবার ফসল হয় যেখানে = দোফসলী (জমি)
- দুই দিকে ধার যার = দোধারী
- ছয়টি ঘর যার = ছয়ঘরা (রিভলবার)
- চৌ (চারটি) রাস্তার মিলন যেখানে = চৌরাস্তা [কিন্তু সমষ্টি বুঝালে ব্যাসবাক্য চার রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা—দ্বিগু]
এরূপ : একতারা, দোতরা, দোতলা (বাড়ি, বাস, ট্রেন), তেশিরে (মনসা), তেপায়া, তেমাথা (রাস্তা), চতুষ্পদ, চৌচির, পঞ্চানন, সাতরঙা, সাতনরী, নবপত্রিকা (মূর্তি), নবদ্বার (দেহ), দশভুজা, দশমণি, চতুর্দশপদী, ষড়ানন, শতচ্ছিন্ন ইত্যাদি।
৫. ব্যতিহার বহুব্রীহি
[সম্পাদনা]পরস্পর ক্রিয়া বিনিময় বোঝাতে একই শব্দের পুনরুক্তি দ্বারা যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদে ‘আ’ এবং পরপদে ‘ই’ যোগ হয়। যেমন–
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি
- কেশে কেশে আকর্ষণ করে যে যুদ্ধ = কেশাকেশি
- পরস্পরকে হানা = হানাহানি
- দণ্ডে দণ্ডে যে যুদ্ধ = দণ্ডাদণ্ডি
- পরস্পরকে টানা = টানাটানি
- পরস্পর গালিবর্ষণ করে যে বিবাদ = গালাগালি
- পরস্পর দর হাঁকা = দরাদরি
- পরস্পরকে কাটা = কাটাকাটি
- পরস্পর যোঝা (যুদ্ধ করা) = যোঝাযুঝি
- পরস্পরের মধ্যে আড়ি = আড়াআড়ি
- গলায় গলায় যে মিল = গলাগলি
- বলায় বলায় যে কথা = বলাবলি
- বকায় বকায় যে বাকযুদ্ধ = বকাবকি
- লাঠিতে লাঠিতে যে মারামারি/লড়াই = লাঠালাঠি
- কানে কানে যে কথা/মন্ত্রণা = কানাকানি [কিন্তু কানা ও কানী = কানাকানী — দ্বন্দ্ব]
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি
- হেসে হেসে যে আলাপ/হাসতে হাসতে যে ক্রিয়া = হাসাহাসি
- পরস্পর সরা = সরাসরি
- পরস্পর জানা = জানাজানি
এরূপ : তর্কাতর্কি, নখানখি, , রক্তারক্তি, খুনাখুনি/খুনোখুনি, কাড়াকাড়ি, ঘুষাঘুষি/ঘুষোঘুষি, গুঁতাগুঁতি/গুঁতোগুঁতি, চুলাচুলি, ঝাঁকাঝাঁকি, (মুখ) চাওয়াচাওয়ি, দেখাদেখি, চোখোচোখি, মুখোমুখি, ধস্তাধস্তি, দলাদলি[৮৫], কাড়াকাড়ি, গড়াগড়ি, বাঁধাবাঁধি, টানাটানি ইত্যাদি।
| “ | কিন্তু "তাড়াতাড়ি, বেলাবেলি (বেলা থাকতেই), রাতারাতি, বাড়াবাড়ি, আড়াআড়ি (বাঁকাভাবে স্থিত অর্থে), সোজাসুজি" প্রভৃতি শব্দে পারস্পরিক ক্রিয়াবিনিময় বুঝায় না, তাই এই শব্দগুলি বহুব্রীহি সমাসজাত নয়, এগুলো শুদ্ধ শব্দদ্বৈত। | ” |
৬. অলুক বহুব্রীহি
[সম্পাদনা]যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বা পরপদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন–
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা
- কানে খাটো যে = কানেখাটো
- হাতে খড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি
এরূপ : হাতেছড়ি, হাতেবেড়ি, পায়েবেড়ি, মাথায়ছাতা, মুখেভাত, খড়মপেয়ে, গায়েপড়া, কানেকলম ইত্যাদি।
৭. নঞ বহুব্রীহি
[সম্পাদনা]যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় থাকে, তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন–
- নেই ভুল যার = নির্ভুল
- নেই অন্ত যার = অনন্ত
- নেই থৈ যার = অথৈ
- নাই আদি যার = অনাদি
- নাই হায়া যার = বেহায়া
- নাই মমতা যার = নির্মম
- অ (হয়না) মূল্য যার = অমূল্য
- অ (নেই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান
- বি (নেই) শ্রী যার/ বি (বিগত) হয়েছে শ্রী যার = বিশ্রী
- বে (নেই) ইমান যার = বেইমান
- নিঃ (নাই) রদ (দন্ত) যাহার = নীরদ [সন্ধির ফলে ই-কার ঈ-কার হয়েছে; কিন্তু “নীর দান করেন যিনি” ব্যাসবাক্য করলে নীরদ—উপপদ তৎপুরুষ হবে]
- নিঃ (নাই) শঙ্কা যার = নিঃশঙ্ক
- নাই অর্থ যার = নিরর্থক
- নিঃ রজঃ (ধুলি) যার = নীরজ
- নিঃ (নাই) কলঙ্ক যার = নিষ্কলঙ্ক
- নাই ঈশ যার = অনীশ
- নাই নিশা (বিরামকাল) যাতে = অনিশ
- বি (বিগত) হয়েছে ধব (স্বামী) যার = বিধবা
- বিগত পত্নী যার = বিপত্নীক
- বিগত হয়েছে রাগ (অনুরাগ) যার = বীতরাগ
- বিগত হয়েছে শ্রদ্ধা যার = বীতশ্রদ্ধ
- নাই কুল যার = নকুল (মহাদেব)
- বিগত হয়েছে নিদ্রা যার = বিনিদ্র
- নাই তন্দ্রা যাতে = অতন্দ্র
- বিগত ক্লম (ক্লান্তি) যার = বিগতক্লন
- নিঃ (নাই) দায় যাতে = নির্দায়
- নাই ঈহা (ইচ্ছা) যার = অনীহ
- বিগত ধর্ম যার = বিধর্মা
- নাই লাজ যার = নিলাজ
- নাই লজ্জা যার = নির্লজ্জ
- নিঃ (নাই) প্রতিভা (বুদ্ধি) যার = অপ্রতিভ
- নিঃ (নাই) খিল (অকর্ষিত জমি) যেখানে = নিখিল
- বিগত অর্থ যার = ব্যর্থ
- কোথা হতেও ভয় নাই যার = অকুতোভয়
- নাই চার (চার = চারা = উপায় বা প্রতিকার) যার = নাচার
- বে (নাই) ইমান (বিশ্বস্ততা) যার = বেইমান
- বে (নাই) কার (কর্ম) যার = বেকার
- বে (নাই) তার যাতে = বেতার (যন্ত্র)
- নাই ছোড় (ছাড়ান) যার নিকট হতে = নাছোড় (বান্দা)
- নাই নাড়ী (নাড়ীজ্ঞান) যার = আনাড়ী
- নিঃ (নাই) আমিষ যাতে = নিরামিষ
- নাই সহায় যার = নিঃসহায়
- নিঃ (নাই) জীব (জীবন) যার = নির্জীব
- নিঃ (নাই) বিশেষ যাতে = নির্বিশেষ
- নিঃ (নাই) বিকল্প (বিশেষ) যাতে = নির্বিকল্প
- নিঃ (নাই) অপেক্ষা যাতে = নিরপেক্ষ
এরূপ : বেয়াদব, বেতার, বেসুরো, অপ্রতিভ, অনর্থক, অচেতন, অজানা, নির্বোধ, নির্জন, নিখোঁজ, নিরাকাঙ্ক্ষ, নির্দ্বন্দ্ব, নির্দ্বিধ, নিরক্ষর (অনক্ষর), নিরুপাধি (নিরুপাধিক), নির্বিবেক, নির্বাধ, নিশ্চেষ্ট, অমূলক, নিশ্চিন্ত, অনিবার, নীরক্ত, নীরস, অসীম, নিরিন্ধন, নির্বান্ধব, নিরবদ্য, নিরাবেগ, নিরবয়ব, নিরিন্দ্রিয়, অনর্থক, বিশৃঙ্খল, বিচ্ছায়, বীতশোক, অপয়া (বউ বা মেয়ে), বেহাল, বেচারা, বে-নজির, নিটোল, নিখুঁত, নির্জলা (দুধ), বেহুঁশ, বে-আদব, বেপরোয়া, বে-ওয়ারিশ (মাল), বে-দরজা (ঘর), বেপাত্তা (লোক), নিখরচে ইত্যাদি।
৮. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
[সম্পাদনা]যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্ত পদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন–
- দুই দিকে টান যার = দোটানা
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা
- নিঃ (নাই) খরচ যার = নিখরচে
- ঊন পাজর যার = ঊনপাঁজুরে
- এক গোঁ যার = একগুঁয়ে
এরূপ : একরোখা, একঘরে, দোমনা, অকেজো, হাতিশুঁড়ো ইত্যাদি।
৯. সহাৰ্থক বহুব্রীহি সমাস
[সম্পাদনা]সহার্থক বা তুল্য পদের সাথে বিশেষ্য পদের যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে সহাৰ্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন–
- বান্ধবের সহিত বর্তমান = সবান্ধব
- স্ত্রীর সহিত বর্তমান = সস্ত্রীক
- বাকের সাথে বর্তমান = সবাক (চিত্র)
- পরিবারের সহিত বর্তমান = সপরিবার
- অর্থের সাথে বর্তমান = সার্থক
- অপেক্ষা সহ বর্তমান = সাপেক্ষ
- সহ তীর্থ যার = সতীর্থ
- শ্রদ্ধার সঙ্গে বর্তমান = সশ্রদ্ধ
- বেগের সঙ্গে বর্তমান = সবেগ
- প্রতিভার সহিত বর্তমান = সপ্রতিভ
- চকিতের (ভয়ের) সহিত বর্তমান = সচকিত
- অবধানের সঙ্গে বিদ্যমান = সাবধান
- ক্রিয়ার সঙ্গে বর্তমান = সক্রিয়
- পুত্রের সহিত বর্তমান = সপুত্র
- ত্বরার সহিত বর্তমান = সত্বর
- টীকার সহিত বর্তমান = সটীক
- মন্ত্রের সহিত বর্তমান = সমন্ত্রক
- গর (বিষ)-এর সহিত বিদ্যমান = সগর
- অমর্ষের (ক্রোধ) সহিত বিদ্যমান = সামর্ষ
- শঙ্কার সহিত বর্তমান = সশঙ্ক
- অবলীলার সঙ্গে বর্তমান = সাবলীল
- অবয়বের সহিত বিদ্যমান = সাবয়ব
- ঘৃণার সহিত বর্তমান = সঘৃণ
- তর্কের সহিত বিদ্যমান = সতর্ক
- হর্ষের সহিত বর্তমান = সহর্ষ
- সম্ভ্রমের সহিত বিদ্যমান = সসম্ভ্রম
- ধবের (ধব = স্বামী) সহিত বিদ্যমান = সধবা (নিত্য স্ত্রী)
- সত্ত্ব (ভ্রূণ)-এর সহিত বিদ্যমান = সসত্ত্বা (নিত্য স্ত্রী)
- অপরাধের সঙ্গে বিদ্যমান = সাপরাধ
- চরাচরের সহিত বিদ্যমান = সচরাচর
- অন্তের সঙ্গে বর্তমান = সান্ত
- অম্বরের সহিত বিদ্যমান = সাম্বর
এরূপ : সবিনয়, সদয়, সাবলীল, সফল, সলজ্জ, স্বপত্নীক, সশরীর, সসম্মান, সদর্প, সহৃদয়, সপ্রসঙ্গ, সলঙ্কারা, সশিষ্য, সোল্লাস, সাষ্টাঙ্গ, সনিষ্ঠ, সাশ্রয়, সস্পৃহ, সমাতৃক, সপ্রশংস, সাকাঙ্ক্ষ, সতৃষ্ণ, সফেন, সানুজ, সবিশেষ ইত্যাদি।
১০. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
[সম্পাদনা]যে বহুব্রীহি সমাস কোন নিয়মের অধীনে নয়, তাকে নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন–
- পঞ্চ বটের সমাহার = পঞ্চবটী
- জীবিত থেকেও মৃত = জীবন্মৃত
- নরাকারের যে পশু = নরপশু
- অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ
- দুদিকে অপ যার = দ্বীপ
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্খ
বহুব্রীহি সমাসের সাধারণ নিয়ম
[সম্পাদনা]- সাধিত পদটি অনেক সময় বিশেষ্য হয়:
- পীত অম্বর যার = পীতাম্বর (শ্রীকৃষ্ণ)
- বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি (সরস্বতী)
- সাধিত পদটি অনেক সময় বিশেষণ হয়:
- মা মরেছে যার = মা-মরা
- সাধিত পদ ও সপ্তমী বিভক্তিযুক্ত পদ সাধারণত পূর্বপদে বসে:
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ (সাপ)
- ছন্নু মতি যার = মতিচ্ছন্ন [ব্যতিক্রম উদাহরণ]
- 'সহিত' ও 'সমান' শব্দের পরিবর্তে 'স' বা 'সহ' ব্যবহৃত হয়:
- সমান তীর্থ যার = সতীর্থ
- পরিবারের সহিত বর্তমান = সপরিবার
- সমান উদর যার = সহোদর
- স্ত্রীবাচক বোঝাতে সাধিত পদে সাধারণত 'আ' বা 'ঈ' যোগ হয়:
- নীল নয়ন যার = নীলনয়ন
- কোকিলের মতো কন্ঠ যার = কোকিলকণ্ঠী
- যদি 'সহ' কিংবা 'সহিত' শব্দের সাথে অন্য পদের বহুব্রীহি সমাস হয়, তখন প্রায়ই 'সহ' ও 'সহিত' স্থলে 'স' ব্যবহৃত হয়:
- বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব
- দর্পের সহিত বর্তমান = সদর্প
- পরস্পরিক একই ক্রিয়াতে বহুব্রীহি সমাসে, পূর্বপদ আ-কারান্ত এবং পরপদ ই-কারান্ত হয়:
- লাঠিতে লাঠিতে মারামারি = লাঠালাঠি
- হাতে হাতে যে লড়াই = হাতাহাতি
- ‘মহৎ’ শব্দের ক্ষেত্রে, পূর্বপদে 'মহা' বসে:
- মহৎ প্রাণ যার = মহাপ্রাণ
- মহৎ আশয় যার = মহাশয়
- কিছু ক্ষেত্রে সমস্ত পদে 'ক' যুক্ত হয়:
- নদী মাতা যার = নদীমাতৃক
- বিগত হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক
- পরপদের ক্ষেত্রে, যদি আ-কার থাকে তবে তা অ-কারে রূপান্তরিত হয়:
- দৃঢ় প্রতিজ্ঞা যার = দৃঢ়প্রতিজ্ঞ
- নাই দয়া যার = নির্দয়
- এবং যদি পূর্বপদে অ-কার থাকে, তবে তা আ-কারে রূপান্তরিত হয়:
- বিশ্ব মিত্র যার = বিশ্বামিত্র
- কিছু বহুব্রীহি সমাসে বিশেষ শব্দের শেষে 'ই' যোগ হয়:
- দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি
- পাঁচ হাত লম্বা যা = পাঁচহাতি
- পাঁচ সের পরিমাণ যার = পাঁচসেরি
- বিশেষ ক্ষেত্রে 'অক্ষি' শব্দের পরিবর্তে 'অক্ষ' ব্যবহার হয়:
- বিরূপ অক্ষি যার = বিরূপাক্ষ
- বিশাল অক্ষি যার = বিশালাক্ষ
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার = কমলাক্ষ
- কপোতের অক্ষির ন্যায় অক্ষি যার = কপোতাক্ষ
- 'নাভি' শব্দের পরিবর্তে 'নাভ' ব্যবহৃত হয়:
- ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ (মাকড়সা)
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ
- কিছু ক্ষেত্রে 'ধনু' শব্দের পরিবর্তে 'ধন্বা' রূপে ব্যবহৃত হয়:
- পুষ্প ধনু যার = পুষ্পধন্বা
- গাভীব ধনু যার = গাভীবধন্বা
- 'জায়া' শব্দের পরিবর্তে 'জানি' ব্যবহৃত হয়:
- দেবী জায়া যার = দেবজানি
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি
দ্বিগু সমাস
[সম্পাদনা]| সংখ্যা + Noun + সমাহার |
সংখ্যাবাচক বিশেষণ পূর্বে বসে সমষ্টি বা সমাহার বোঝালে দ্বিগু সমাস হয়। এ সমাসে সমস্তপদটি বিশেষ্য পদ হয়। দ্বিগু সমাসে প্রথম পদটি সংখ্যাবাচক হয় এবং পরপদটি বিশেষ্য হয়। সমস্ত পদটি দ্বারা সমষ্টি বা সমাহার বোঝায়। যেমন—
- দুই নয়নের সমাহার = দুনয়না
- দুইটি গোরুর সমাহারে ক্রীত = দ্বিগু
- তিনটি কড়ির বিনিময়ে ক্রীত = তিনকড়ি
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা
- ত্রি (তিন) প্রান্তরের সমাহার = ত্রিপ্রান্তর > তেপান্তর
- ত্রি (তিন) ফলের সমাহার = ত্রিফলা
- ত্রি (তিন) ভুবনের সমাহার = ত্রিভুবন
- চার রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা
- চার মোহনার সমাহার = চৌমোহনী
- চতুঃ (চার) অক্ষরের সমাহার = চতুরক্ষর
- চতুঃ অঙ্গের সমাহার = চতুরঙ্গ
- পাঁচ সেরের সমাহার = পসুরি
- পঞ্চ নদীর সমাহার = পঞ্চনদ
- পঞ্চ প্রদীপের সমাহার = পঞ্চপ্রদীপ
- পঞ্চ রাত্রির সমাহার = পঞ্চরাত্র
- ছয় মাতার সন্তান = ষাণ্মাতুর
- সপ্ত অহ (দিন)-এর সমাহার = সপ্তাহ
- সপ্ত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি
- নব (নয়টি) রাত্রির সমাহার = নবরাত্র
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী
এরূপ : দ্বিপ্রহর[৮৬], দ্বৈমাতুর[৮৭], ত্রিকাল[৮৮], ত্রিপদী[৮৯], ত্রিমোহিনী/তেমোহনা[৯০], ত্রিলোকী[৯১], ত্রিতাপ[৯২], ত্রিরাত্র[৯৩], চতুষ্পদী[৯৪], চতুর্ভুজ[৯৫], চৌদিক[৯৬], চৌহদ্দি[৯৭], চৌচির[৯৮], পঞ্চভূত[৯৯], পঞ্চবটী[১০০], পাঁচসালা[১০১], পাঁচফোড়ন[১০২], পঞ্চশস্য[১০৩], পঞ্চগব্য[১০৪], পঞ্চকন্যা[১০৫], পঞ্চরত্ন[১০৬], পঞ্চামৃত[১০৭], পঞ্চগু[১০৮], ষড়ঋতু[১০৯], ষড়রিপু[১১০], সপ্তরথী[১১১], সপ্তডিঙ্গা[১১২], সপ্তশতী[১১৩], সপ্তসুর[১১৪], সাতঘাট[১১৫], সাতসমুদ্র[১১৬], সাতনরী[১১৭], অষ্টবসু[১১৮], অষ্টধাতু[১১৯], অষ্টপ্রহর[১২০], নবরত্ন[১২১], নবগ্রহ[১২২], নবদুর্গা[১২৩], দশচক্র[১২৪], দশদিগন্ত[১২৫], দশাবতার[১২৬], দশদশা[১২৭], দশ-আনি[১২৮], বারোমাসী[১২৯], তেরোনদী[১৩০], চতুর্দশভুবন[১৩১], চতুর্দশপদী[১৩২], ষোলকলা[১৩৩], শতবার্ষিকী[১৩৪] ইত্যাদি।
| “ | দ্বিগু সমাসের সাথে নিম্নোক্ত সমাসগুলিকে গুলিয়ে ফেলা যাবেনা:
|
” |
অব্যয়ীভাব সমাস
[সম্পাদনা]'অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। যে সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবলমাত্র অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। যেমন— পর্যন্ত, অভাব, পশ্চাৎ, যোগ্যতা, সাদৃশ্য, সামীপ্য, বীপ্সা, ঈষৎ, ক্ষুদ্র, বিরোধ, অতিক্রান্ত, অনতিক্রম্যতা ইত্যাদি অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
| “ | অব্যয়ীভাব সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাসবাক্যে 'সমীপে, সদৃশ, মতো, পুনঃপুনঃ, অভাব, পর্যন্ত, অতিক্রম না করে, অধিকার করে, অতিক্রান্ত, বিরুদ্ধ, যোগ্য, ক্ষুদ্র, সকলেই, পশ্চাৎ, ঈষৎ' প্রভৃতি থাকবে এবং সমস্ত পদের প্রথমে উপসর্গ যেমন: 'উপ, অনু, প্রতি, দূর, আ, যথা' ইত্যাদি থাকবে এবং পূর্ব পদের অর্থ প্রাধান্য পাবে। উপসর্গকে অব্যয়জাত শব্দাংশ বলা হয়। | ” |
- (সীমা/ব্যাপ্তি) পর্যন্ত অর্থে—
- জীবন পর্যন্ত = আজীবন/যাবজ্জীবন
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ
- শৈশব থেকে আরম্ভ করে = আশৈশব
- বাল্য হইতে = আবাল্য
- কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ
- কর্ণ পর্যন্ত = আকর্ণ
- মূল পর্যন্ত = আমূল
- আশ্বিন পর্যন্ত = আশ্বিনতক
- দিগন্ত পর্যন্ত = আদিগন্ত
- আদি হতে অন্ত পর্যন্ত = আদ্যন্ত/আদ্যোপান্ত
- পা থেকে মাথা পর্যন্ত/পদ হতে মস্তক পর্যন্ত = আপাদমস্তক
- বালক হতে বৃদ্ধ ও বনিতা পর্যন্ত = আবালবৃদ্ধবনিতা
- সমুদ্র হতে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল
- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত
- দিন ব্যাপিয়া = দিনভর
- গলা পর্যন্ত = গলানাগাল
- কুঁচকি হতে কণ্ঠা পর্যন্ত = কুঁচকিকণ্ঠা
- অভাব অর্থে-
- মিলের অভাব = গরমিল
- তালের অভাব = হরতাল
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ
- ভাতের অভাব = হাভাত
- ঘরের অভাব = হাঘর
- নুনের/লবণের অভাব = আলুনি
- জনের অভাব = নির্জন
- আমিষের অভাব = নিরামিষ
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন
- ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা
- জলের অভাব = নির্জল
- উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ
- মক্ষিকার অভাব = নির্মক্ষিক
- মানানের অভাব = বেমানান
- টকের অভাব = না-টক
- হায়ার (লজ্জা) অভাব = বেহায়া
- পশ্চাৎ অর্থে—
- ক্রমের পশ্চাৎ = অনুক্রম
- তাপের পশ্চাৎ = অনুতাপ
- রাগের পশ্চাৎ = অনুরাগ
- ধাবনের পশ্চাৎ = অনুধাবন
- গমনের পশ্চাৎ = অনুগমন
- রণনের পশ্চাৎ = অনুরণন
- গৃহের পশ্চাৎ = অনুগৃহ
- ইন্দ্রের পশ্চাৎ = উপেন্দ্র
- যোগ্যতা অর্থে—
- প্রেরণার যোগ্য = অনুপ্রেরণা
- গুণের যোগ্য = অনুগুণ
- রূপের যোগ্য = অনুরূপ
- ভাবের যোগ্য = অনুভাব
- সাদৃশ্য অর্থে—
- নদীর সদৃশ = উপনদী
- দ্বীপের সদৃশ = উপদ্বীপ
- বনের সদৃশ = উপবন
- ভাষার সদৃশ = উপভাষা
- গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ
- শহরের সদৃশ = উপশহর
- আচার্যের সদৃশ = উপাচার্য
- কথার সদৃশ = উপকথা
- লক্ষ্যের সদৃশ = উপলক্ষ্য
- মূর্তির সদৃশ = প্রতিমূর্তি
- ধ্বনির সদৃশ = প্রতিধ্বনি
- ধ্যানের সদৃশ = অনুধ্যান
- দানের সদৃশ = অনুদান
- সামীপ্য (নিকটে) অর্থে—
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ
- অক্ষির সমীপে = সমক্ষ
- কূলের সমীপে = উপকূল
- নগরীর সমীপে = উপনগরী
- সকালের কাছাকাছি = সকালনাগাত
- বীপ্সা (পুনরাবৃত্তি/পুনঃপুনঃ) অর্থে—
- দিন দিন = প্রতিদিন
- গৃহে গৃহে = প্রতিগৃহে
- বার বার = প্রতিবার
- বছর বছর = ফি-বছর
- অঙ্গে অঙ্গে = প্রতি-অঙ্গ (প্রত্যঙ্গ নয়)
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ/অনুক্ষণ
- জনে জনে = প্রতিজন/জনপ্রতি/জনপিছু/জনা-কি
- সেরে সেরে = প্রতিসের/সেরকরা/সেরপ্রতি
- দমে দমে = হরদম
- রোজ রোজ = প্রতিরোজ/হররোজ
- মাসে মাসে = প্রতিমাস/ফি-মাস
- সনে সনে = ফি-সন
- প্রতি মাঠ = মাঠকে-মাঠ
- ঈষৎ অর্থে—
- ঈষৎ নত = আনত
- ঈষৎ রক্তিম = আরক্তিম
- ক্ষুদ্র অর্থে—
- ক্ষুদ্র অঙ্গ = প্রত্যঙ্গ
- ক্ষুদ্র শাখা = প্রশাখা
- ক্ষুদ্র বিভাগ = উপবিভাগ
- জেলার ক্ষুদ্র = উপজেলা
- ক্ষুদ্র জাতি = উপজাতি
- ক্ষুদ্ৰ নদী = উপনদী/শাখানদী
- ক্ষুদ্র সাগর = উপসাগর
- ছোট দ্বীপ = উপদ্বীপ
- ক্ষুদ্র গ্রহ = উপগ্রহ
- বিরোধ অর্থে—
- বিরুদ্ধ কূল/কূলের বিপরীতে = প্রতিকূল
- বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ
- ঘাতের বিরুদ্ধে = প্রতিঘাত
- বিরুদ্ধ পক্ষ/পক্ষের বিরুদ্ধে = প্রতিপক্ষ
- ক্রিয়ার বিপরীতে = প্রতিক্রিয়া
- শোধের বিপরীতে = প্রতিশোধ
- দানের বিপরীতে = প্রতিদান
- ফলের বিপরীত = প্রতিফল
- পক্ষের বিপরীতে = বিপক্ষ
- অক্ষির অগোচর = পরোক্ষ
- সম্মুখ অর্থে—
- অক্ষির সম্মুখে= প্রত্যক্ষ
- কূলের সম্মুখে = অনুকূল
- প্রবেশের সম্মুখে = অনুপ্রবেশ
- অতিক্রান্ত অর্থে—
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল
- শ্বাসকে অতিক্রান্ত = উচ্ছ্বাস
- মাত্রাকে অতিক্রান্ত = অতিমাত্রা
- মানবকে অতিক্রান্ত = অতিমানব
- অনতিক্রম্যতা অর্থে—
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি
- বিধিকে অতিক্রম না করে = যথাবিধি
- শাস্ত্রকে অতিক্রম না করে = যথাশাস্ত্র
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য
- ক্রমকে অতিক্রম না করে = যথাক্রম
- যোগ্যতাকে অতিক্রম না করে = যথাযোগ্য
- ইচ্ছাকে অতিক্রম না করে = যথেচ্ছা
- ইষ্টকে অতিক্রম না করে = যথেষ্ট
- আয়কে অতিক্রম না করে = আয়মাফিক
- বিবিধ অর্থে—
- পিতামহের পূর্ব = প্রপিতামহ
- দস্তুর অনুযায়ী = দস্তুরমতো
- হীন দেবতা = উপদেবতা
- মুখের অভিমুখে = সম্মুখ
- আত্মাকে অধিকার করে = অধ্যাত্ম
- দৈবকে অধিকার করে = অধিদৈব
- পৌত্রের পরে = প্রপৌত্র
- ক্রমের অনুসারে = অনুক্রম
- বাস্তু হতে উৎখাত = উদ্বাস্তু
- নিদ্রা হতে উত্থিত = উন্নিদ্ৰ
- ঝুড়িকে বাদ না দিয়ে = ঝুড়িসুদ্ধ
- কাজ চালাবার মতো = কাজচলাগোছ
- প্রত্যাশার আধিক্য = হাপিত্যেশ
আরও কিছু উদাহরণ : আমৃত্যু, আ-মরা, আযৌবন, আচণ্ডাল, আজানু, অনুগঙ্গ, সন্ধ্যানাগাত, অনর্থ, বেগোছ, বেবন্দোবস্ত, গাঁকে-গাঁ, দিনকে-দিন, বছরকে-বছর, যথাশক্তি, যথাজ্ঞান, যথার্থ, যথারুচি, যথাপূর্ব, নিয়মমাফিক, উপাধ্যক্ষ, উপমন্ত্রী, উপরাষ্ট্রপতি, আপাদশীর্ষ, আশিরপদনখ, আগাগোড়া, আগাপাছতলা, উপহার, উপপ্রধান, উপপদ, উপপর্ব, অনুকরণ, প্রতিবিম্ব, প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রত্যুত্তর, সম্পূর্ণ, পরিপূর্ণ ইত্যাদি।
প্রাদি সমাস
[সম্পাদনা]| প্র+আদি — প্রাদি; অধিকাংশ উদাহরণে "প্র" উপসর্গটি থাকে |
| প্রকৃষ্ট/প্রকৃষ্টরূপে ⇌ প্র |
| পরিপার্শ্বে/চতুর্দিকে ⇌ পরি |
| পশ্চাতে ⇌ অনু |
প্রাদি সমাস মূলত অব্যয়ীভাব সমাসের অন্তর্গত। গঠনের দিক থেকে বিবেচনা করলে, অব্যয়ীভাবের মতোই প্রথমে উপসর্গ এবং পরে কৃত প্রত্যয়ের সাথে সংযুক্ত হয়ে প্রাদি সমাস গঠিত হয়। তবে অব্যয়ীভাবের সাথে মূল পার্থক্য হল প্রাদি সমাসের পূর্বপদে উপসর্গের প্রাধান্য থাকে, বিশেষ করে সংস্কৃত উপসর্গযোগে (প্র,পরা,অপ,সম,নি,অব,অনু,পরি ইত্যাদি) গঠিত হয়। সংস্কৃত উপসর্গ মোট ২০টি। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাদি সমাসগুলো নিচে দেওয়া হল:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ =অনুতাপ
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি
- প্র (প্রগত) পিতামহ = প্রপিতামহ
এরূপ: প্রকাশ[১৩৫], প্রবাদ[১৩৬], প্রভাব[১৩৭], প্রদর্শন[১৩৮], প্রনাম[১৩৯], সমাদর[১৪০], প্রভাষক ইত্যাদি।
নিত্য সমাস
[সম্পাদনা]| অধিকাংশ উদাহরণে "অন্তর/মাত্র" শব্দটি থাকে |
| অধিকাংশ ব্যাসবাক্যে "অন্য","কেবল" বা "ঈষৎ" শব্দগুলি থাকে |
| অন্তর ⇌ অন্য |
| মাত্র ⇌ কেবল/শুধু |
| সুদ্ধ ⇌ সমস্ত |
| বর্ণ/দশা+চে/টে ⇌ ঈষৎ |
| সংখ্যা:টি/টা/খানা/খানি ⇌ একটি |
| নিভ/সন্নিভ/সঙ্কাশ ⇌ তুল্য |
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো পাশাপাশি অবস্থান করে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন—
- 'অন্য' যোগে:
- অন্য দেশ = দেশান্তর
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
- অন্য মনু = মন্বন্তর
- অন্য রূপ = রূপান্তর
- অন্য হস্ত = হস্তান্তর
- অন্য গতি = গত্যন্তর
- অন্য কাল = কালান্তর
- অন্য মত = মতান্তর
- অন্য স্থান = স্থানান্তর
- অন্য ভাষা = ভাষান্তর
- অন্য দিন = দিনান্তর
- অন্য মাস = মাসান্তর
- অন্য দ্বীপ = দ্বীপান্তর
- অন্য যুগ = যুগান্তর
- অন্য উপায় = উপায়ান্তর
- অন্য ধর্ম = ধর্মান্তর
- অন্য ভাব = ভাবান্তর
- অন্য পক্ষ = পক্ষান্তর
- অন্য জন্ম = জন্মান্তর
- অন্য লোক = লোকান্তর
- অন্য দেহ = দেহান্তর
- অন্য সময় = সময়ান্তর
- অন্য দৃশ্য = দৃশ্যান্তর
- অন্য বাক্য= বাক্যান্তর
| “ | "তেপান্তর" শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো: তিন প্রান্তরের সমাহার। এটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ। কেননা এখানে "অন্তর" শব্দটি নেই বরং "প্রান্তর" শব্দটি রয়েছে। | ” |
- 'কেবল' বা 'শুধু' যোগে:
- কেবল তা/তৎ = তন্মাত্র
- কেবল নাম = নামমাত্র
- কেবল জল = জলমাত্র
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র
- কেবল শোনা = শোনামাত্র
- কেবল চিৎ = চিন্মাত্র
- কেবল একটি = কেবলমাত্র
- শুধু কিছু = কিছুমাত্র
- শুধুই চিহ্ন = চিহ্নমাত্র
- কেবল হাঁটা = হাঁটাহাঁটি
- কেবল লেখা = লেখালেখি
| “ | গুলিয়ে ফেলা যাবেনা: অতিমাত্র — মাত্রাকে অতিক্রান্ত (অব্যয়ীভাব সমাস)। | ” |
- 'সুদ্ধ' যোগে:
- সমস্ত গ্রাম = গ্রামসুদ্ধ
- সমস্ত পাড়া = পাড়াসুদ্ধ
- সারা দিন = দিনভর
- 'বর্ণ/দশা' যোগে:
- ঈষৎ নীলবর্ণ = নীলাভ
- ঈষৎ লাল = লালচে
- ঈষৎ কৃষ্ণ/কালো = কালচে
- ঈষৎ রক্তবর্ণ = আরক্ত
- ঈষৎ ঘোলা = ঘোলাটে
- ঈষৎ রুগ্ন/রোগা = রোগাটে
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- তুমি,আমি ও সে = আমরা
- 'সংখ্যা' যোগে:
- একটি লোক = লোকটি
- একটি পাখি = পাখিটি
- এক জন = জনৈক্য
- একটি কাপড় = কাপড়খানা
- অনেক মানুষ = মানুষগুলো
- 'তুল্য' যোগে:
- বজ্রের তুল্য = বজ্রসন্নিভ
- মর্মরের তুল্য = মর্মরনিভ
- কুন্দের তুল্য = কুন্দনিভ/কুন্দসন্নিভ
- কমলকোরকের তুল্য = কমলকোরকসন্নিভ
- ইন্দুর (চাঁদের) তুল্য = ইন্দুনিভ
- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ
- জবাকুসুমের তুল্য = জবাকুসুমসঙ্কাশ
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ [কালো বর্ণের সাপ বোঝায় না, বরং ভীষণ বিষাক্ত সাপকে বোঝায়।]
তদ্রুপ শূলীশম্ভুনিভ, রজতগিরিনিভ, অনলসঙ্কাশ ইত্যাদি।
- সর্বদাই সমাসবদ্ধ এমন নিত্যসমাস:
- কৃষ্ণ সর্প = কৃষ্ণসর্প ["কৃষ্ণ যে সৰ্প"— ব্যাসবাক্য করলে শুধু কালো রঙের সাপকেই বুঝাবে, কিন্তু বিশেষ ধরনের বিষধর সাপকে বুঝাবে না। ফলে 'কৃষ্ণসর্প' কথাটির আসল অর্থটি মাঠে মারা যাবে। এইজন্য ব্যাসবাক্য হয় না।]
- কাঁচা কলা = কাঁচকলা [কারণ পাকলেও কাঁচকলা কাঁচকলাই থাকে, পাকাকলা হয় না।]
তেমনি দাঁড়কাক, ইচ্ছাবসন্ত ইত্যাদি।
বিবিধ সমাস
[সম্পাদনা]অলুক/অলোপ সমাস
[সম্পাদনা]'লুক' কথার অর্থ হল 'লোপ'। অলুক সমাস আলাদা কোন সমাস নয়, যে কোন সমাস অলুক হতে পারে। যেমন অলুক দ্বন্দ্ব,অলুক তৎপুরুষ, অলুক বহুব্রীহি। এখন প্রশ্ন হল অলুক কেন হয় বা কিসের জন্য অলুক বলা হয়? যে সমাসের সমস্তপদে ব্যাসবাক্যের বিভক্তি লোপ পায় না তাদের অলুক সমাস বলে । সাধারণত দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি সমাসে অলুক সমাস দেখা যায়। যেমন—
- অলুক দ্বন্দ্ব—
- মায়ে ও ঝিয়ে = মায়ে-ঝিয়ে
- হাটে ও বাজারে = হাটে-বাজারে
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে
- আগে ও পিছে = আগেপিছে
- বুকে ও পিঠে = বুকেপিঠে
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে
- পথে ও ঘাটে = পথেঘাটে
- হাতে ও কলমে = হাতেকলমে
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে
- অলুক তৎপুরুষ—
- পড়ার জন্য ঘর = পড়ার ঘর
- মেঘ দ্বারা ঢাকা = মেঘে ঢাকা
- হাতে কাটা = হাতেকাটা
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা
- বালির বাঁধ = বালিরবাঁধ
- হাতে গড়া = হাতেগড়া
- কলে ছাঁটা = কলেছাঁটা
- ছিপে গাঁথা = ছিপেগাঁথা
- মেঘে ঢাকা = মেঘেঢাকা
- মুড়ির জন্য চাল = মুড়িরচাল
- জামার জন্য কাপড় = জামার কাপড়
- পরস্মৈ (পরের জন্য ) পদ = পরস্মৈপদ
- পড়ার জন্য ঘর = পড়ার ঘর
- খেলার জন্য মাঠ = খেলারমাঠ
- ভাতের নিমিত্তে হাঁড়ি = ভাতের হাঁড়ি
- সারাৎ ( সার হইতে ) সার = সারাৎ সার
- আকাশ থেকে পড়া = আকাশপড়া
- ঘানি হতে তেল = ঘানির তেল
- চোখ থেকে জল = চোখের জল
- যুধি (যুদ্ধে ) স্থির = যুধিষ্ঠির
- দিনে ডাকাতি = দিনেডাকাতি
- দুধে আলতা = দুধে-আলতা
- গোড়ায় গলদ = গোড়ায় গলদ
- মামার বাড়ি = মামারবাড়ি
- তুষের আগুন = তুষের আগুন
- রাজার মেয়ে = রাজার মেয়ে
- ঘরের ছেলে = ঘরেরছেলে
- খ-তে ( আকাশে ) চরে যে = খেচর
- কলেজে পড়েছে যে = কলেজেপড়া
- অন্তে (গুরুগৃহে) বাস করে যে = অন্তবাসী
- রৌদ্রে পড়েছে ( তাপিত হয়েছে ) যে = রোদেপোড়া
- সরসি জন্মে যে = সরসিজ
- অলুক বহুব্রীহি—
- মুখে মধু যার = মুখে মধু
- মুখে প্রথম ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখেভাত
বাক্যাশ্রয়ী সমাস
[সম্পাদনা]যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদগুলি একমাত্রায় লেখা হয় না এমনকি সবসময় পদসংযোজক চিহ্ন দ্বারাও যুক্ত করে লেখা হয় না, অর্থাৎ বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত এই সমাসকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস। সহজ কথায় যে সমাসের সমস্তপদগুলো একটি মাত্র শব্দে পরিণত করা যায় না তাকেই বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। কিছু উদাহরণ:
- রক্তকে দান (কর্ম তৎপুরুষ), তার জন্য শিবির (নিমিত্ত তৎপুরুষ) = রক্তদানশিবির
- সবুজকে বাঁচাও (কর্ম তৎপুরুষ), তার জন্য কমিটি (নিমিত্ত তৎপুরুষ)= সবুজ-বাঁচাও-কমিটি
- চক্ষুর অপারেশন (সম্বন্ধ তৎপুরুষ), তার জন্য শিবির (নিমিত্ত তৎপুরুষ) = চক্ষু-অপারেশন-শিবির
- গল্পকে বলা (কর্ম তৎপুরুষ), তার প্রতিযোগিতা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ) = গল্পবলা-প্রতিযোগিতা
এরূপ : বসে-আঁকো-প্রতিযোগিতা, সব-পেয়েছির-দেশ, সব-পেয়েছির-দল, গ্রাম-রক্ষা-কমিটি, ডানকুনি-জুনিয়র-স্পোর্টিং-ক্লাব, পশ্চিমবঙ্গ-মাদ্রাসা-শিক্ষা-পরিষদ ইত্যাদি।
সহসুপা বা সুপসুপা সমাস
[সম্পাদনা]ভিন্ন বিভক্তি যুক্ত দুটি পদের সমাস যে গুলোকে সাধারণত সমাসের কোন শ্রেণীতে ফেলা যায় না তাদেরকে সুপসুপা সমাস বলে।
যেমন- মায়ে-ঝিয়ে, এক্ষেত্রে দুটি পদেই একই বিভক্তি(এ) যুক্ত তাই এটি সুপসুপা সমাস নয়। আবার নৌকার ডুবি = নৌকাডুবি, সমস্যমান পদ দুটিতে যথাক্রমে ষষ্ঠী ও শুন্য বিভক্তি থাকলেও এরা সুপসুপা সমাস নয়, কেননা নৌকাডুবি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। রাত্রির পূর্ব = পূর্বরাত্রি, রাত্রির মধ্য = মধ্যরাত্রি, পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব । এগুলো সহসুপা সমাসের উদাহরণ।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, এটি সপ্তমী তৎপুরুষ থেকে কিছুটা আলাদা। কেননা ভূতপূর্ব, শ্রুতপূর্ব, অদৃষ্টপূর্ব সব ক্ষেত্রে ‘পূর্ব’ শব্দটি পরে বসেছে। প্রত্যেকটি সমাসের ক্ষেত্রেই এরকম সুনির্দিষ্ট ভিন্নতা পরিলক্ষিত হলে সুপসুপা সমাস হয়।
মিশ্র সমাস
[সম্পাদনা]মিশ্র সমাস সমাসের মূল শ্রেণিবিভাগের মধ্যে পড়েনা। বিভিন্ন প্রকার সমাসের সমাসবদ্ধ পদ মিলে যখন একটি সমাসবদ্ধ পদ গঠন করে তখন তাকে মিশ্র সমাস বলে। সমাস বদ্ধপদটি একাধিক পদ সহযোগে গঠিত হয় বলে একে পদগর্ভ সমাসও বলে। যেমন— নদীজপমালাধৃতপ্রান্তর!
জপের মালা = জপমালা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ), নদী রূপ জপমালা = নদীজপমালা (রূপক কর্মধারয়), নদী জপমালা দ্বারা ধৃত = নদীজপমালাধৃত (করণ তৎপুরুষ), নদীজপমালাধৃত যে প্রান্তর = নদীজপমালাধৃতপ্রান্তর (কর্মধারয়)।
এরূপ : জনগণমনঅধিনায়ক, নবজলধরপটলসংযোগ, বেশ-একটু-রোগাগোছের, দশের-ইচ্ছা-বোঝাই করা-জীবনতরী, কোণছেঁড়ামলাটওয়ালা ইত্যাদি।
নিরেট, সংযোজক ও অসংলগ্ন সমাস
[সম্পাদনা]বাংলা ভাষায় সমাসের মাধ্যমে গঠিত শব্দের বানান তিনভাবে লেখা হয়:- ১. নিরেট বা অবিচ্ছিন্নভাবে; ২. মধ্যখানে হাইফেন দিয়ে; ৩. বিচ্ছিন্ন বা অসংলগ্নভাবে। সমাবদ্ধ পদ লেখার এই ভিন্নতা অনুসারে বাংলা সমাসকে নিম্নোক্ত তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়— ক. নিরেট সমাস; খ. সংযোজক সমাস; গ. অসংলগ্ন সমাস।
ক. নিরেট সমাস: এক্ষেত্রে সমাসনিষ্পন্ন পদের বানানে সমস্যমান পদ দুটির মধ্যখানে কোনোরূপ ফাঁকা বা হাইফেন রাখা হয় না। অর্থাৎ, ব্যাসবাক্য নিষ্পন্ন হওয়ার পর গঠিত সমস্ত পদের বানান নিরেটভাবে লেখা হয়। উদাহরণস্বরুপ: ০১. ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল; ০২. আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ; ০৩. তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র; ০৪. সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন; ০৫. মহান যে রাজা = মহারাজ।
এরূপ : ধীরবুদ্ধি, অকাতর, খোশমেজাজ, মনগড়া, সর্বনাম ইত্যাদি।
খ. সংযোজক সমাস: এক্ষেত্রে সমাসবদ্ধ পদের বানানে সমস্যমান পদ দুটির বা পদগুলোর মধ্যখানে হাইফেন ( – ) ব্যবহৃত হয়। যেমন— হাত ও পা = হাত-পা। মূলত দুই বা ততোধিক পদের মধ্যখানে হাইফেনকে সংযোজক হিসেবে ব্যবহার করে ওই পদ দুটির বা পদগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয় বলে এরূপ সমাসকে সংযোজক সমাস বলা হয়। উদাহরণস্বরুপ: ০১. মা ও বা = মা-বাবা; ০২. ছাত্র ও শিক্ষক = ছাত্র-শিক্ষক; ০৩. ভালো ও মন্দ = ভালো-মন্দ; ০৪. আকারে ও ইঙ্গিতে = আকারে-ইঙ্গিতে; ০৫. স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক।
এরুপ : চা-বিস্কুট, ছোটো-বড়ো, যা-তা, নয়-ছয় ইত্যাদি।
গ. অসংলগ্ন বা শিথিল সমাস: বাংলা ভাষায় আরও একধরনের সমাস দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে সমাসবদ্ধ পদের বানানে সমস্যমান পদগুলো একসঙ্গে না-লিখে বা হাইফেন যোগে না লিখে একেবারেই বিচ্ছিন্নভাবে লেখা হয়। সমাসবদ্ধ পদের বানান এরুপ বিচ্ছিন্নভাবে লেখার রীতিকে অসংলগ্ন সমাস বলা হয়। যেমন— যুবকদের সমাজ = যুব সমাজ। মূলত এধরনের সমাসে সমাসবদ্ধ পদের বানানে বড় শব্দগুলোকে নিরেটভাবে না লিখে পৃথকভাবে লেখা হয়। উদাহরণস্বরুপ: ০১. সংগীত বিষয়ক যে সম্মেলন = সংগীত সম্মেলন; ০২. প্রধান যে শিক্ষক = প্রধান শিক্ষক; ০৩. জামরুল ধরে যে গাছে = জামরুল গাছ; ০৪. হাতের দ্বারা তৈরি = হাতে তৈরি।
এরুপ : সমাজ সংস্কার আন্দোলন, মৈত্রী সেতু, স্বাধীনতা দিবস, নারকেল গাছ, ঘোড়ার ডিম, কলের গান, গোরুর গাড়ি, বালিকা বিদ্যালয় প্রভৃতি।
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ই সমাসসাধিত পদের বানান এরুপ বিচ্ছিন্নভাবে লেখাকে অসংলগ্ন সমাস বলে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
ড. মোহাম্মদ আমীনের মতে, বাংলায় সমাসবদ্ধ পদ ইচ্ছানুযাযী সংলগ্ন বা অসংলগ্ন রাখার যাবতীয় অধিকার ব্যাকরণই দিয়ে রেখেছে। অতএব, বাংলা ব্যাকরণে প্রবহমান সংস্কৃত সমাসকে অত গুরুত্ব দেওয়া অনাবশ্যক। যেখানে অনিবার্য নয় এবং সমাসবদ্ধ করা না হলে শোভন দেখায় না; দৃষ্টিকটু মনে হয়— কেবল সেসব ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও সমাসবদ্ধ পদকে একসঙ্গে লেখা বাধ্যতামূলক করার কোনো হেতু নেই। এটি লেখকের ইচ্ছানির্ভর হওয়া সমীচীন। তবে, একই লেখায় যেন ভিন্নতা না হয়, সেটি লক্ষ রাখা সমীচীন।
একদেশী সমাস
[সম্পাদনা]ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের মধ্যে দুইটি পদের যদি অঙ্গাঙ্গী বা অংশাশী ভাব বর্তমান থাকে তবে তাকে একদেশী সমাস বলে। একদেশী সমাসে ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত পদটি পরে যায়। যথা: রাত্রের মধ্যে = মধ্যরাত্রি; দরিয়ার মাঝ = মাঝদরিয়া।
গতি তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]ধাতুর সঙ্গে গতির যে সমাস, তাকে গতি সমাস বলে। যথা: প্রবিশ্য, পরাভূয়, ঊরীকৃত্য।
প্রাদি তৎপুরুষ সমাস
[সম্পাদনা]গত,বিগত প্রভৃতি অর্থে প্রথমান্ত পদের সঙ্গে প্র প্রভৃতির প্রাদি তৎপুরুষ সমাস হয়। যথা:
- প্রগতঃ আচার্য = প্রাচার্য
- প্রগতঃ পিতামহঃ = প্রপিতামহঃ
- বিশ্লিষ্টা মাতা = বিমাতা
- দুষ্টঃ জনঃ = দুর্জনঃ
ব্যাসবাক্য
[সম্পাদনা]- ↑ আকাশ, বাতাস ও পাতাল
- ↑ সাপে ও নেউলে
- ↑ পথে ও প্রান্তরে
- ↑ হেসে ও খেলে
- ↑ বনে ও বাঁদাড়ে
- ↑ কালো যে পেঁচা
- ↑ লাল যে ফুল
- ↑ ফুল যে বাবু
- ↑ পূর্ণ যে চন্দ্র
- ↑ নয়া যে দিল্লী
- ↑ কাঁচা যে কলা
- ↑ প্রধান যে শিক্ষক/হেড যে মাস্টার
- ↑ হেড যে পণ্ডিত
- ↑ গুণী যে জন
- ↑ ছিন্ন যে পত্র
- ↑ ঝরা যে পাতা
- ↑ টক যে দই
- ↑ শ্বেত যে পাথর
- ↑ শ্বেত যে পদ্ম
- ↑ শ্বেত যে শ্মশ্রু
- ↑ পুণ্য যে তিথি
- ↑ সৎ যে জন
- ↑ নীল যে কমল
- ↑ নীল যে শাড়ী
- ↑ কু যে অক্ষর
- ↑ স্নিগ্ধ যে দৃষ্টি
- ↑ শুভ যে উৎসব
- ↑ বিকম্পিত যে চেলাঞ্চল
- ↑ নব যে পল্লব
- ↑ পরম যে সুন্দরী
- ↑ দুঃ যে আকাঙ্ক্ষা
- ↑ নষ্ট যে নীড়
- ↑ দুঃ যে চেষ্টা
- ↑ বদ যে হজম
- ↑ কানা যে কড়ি
- ↑ হেঁড়ে যে গলা
- ↑ কড়া যে পাক
- ↑ রাঙা যে বউ
- ↑ ভরা যে পেট
- ↑ ভরা যে যৌবন
- ↑ হাফ যে মোজা
- ↑ নতুন যে গিন্নী
- ↑ যা সাদা তাই সিধে
- ↑ যা বাঁধা তাই ধরা
- ↑ যে দীন সেই হীন
- ↑ যিনি গিন্নি তিনিই মা
- ↑ যিনি বধূ তিনিই মাতা
- ↑ যিনি লাট তিনিই সাহেব
- ↑ যে খোকা সেই বাবু
- ↑ যে দাদা সেই বাবু
- ↑ যিনি দাদা তিনিই ঠাকুর
- ↑ যিনি রাজা তিনিই সন্ন্যাসী
- ↑ বিজয়সূচক পতাকা
- ↑ জয়সূচক ধ্বনি
- ↑ জীবিত থেকেও যে মৃত
- ↑ কাঁচা অবস্থায় কলা
- ↑ ডাক ফেলার বাক্স
- ↑ বনে ফুটিত ফুল
- ↑ জয়সূচক মুকুট
- ↑ সন্ধ্যায় জ্বালানো প্রদীপ
- ↑ ধর্ম রক্ষার্থে ঘট
- ↑ গীতি সংবলিত কবিতা
- ↑ মমতা মিশ্রিত রস
- ↑ পানা ভরা পুকুর
- ↑ বাহু লতার ন্যায়
- ↑ বদন চন্দ্রের ন্যায়
- ↑ নর সিংহের ন্যায়
- ↑ পদ পল্লবের ন্যায়
- ↑ অধর পল্লবের ন্যায়
- ↑ মুখ চাঁদের ন্যায়
- ↑ মুখ সোনার ন্যায়
- ↑ লোচন/আঁখি পদ্মের ন্যায়
- ↑ কুমারী ফুলের ন্যায়
- ↑ বাহু বল্লরীর ন্যায়
- ↑ পদ লোহার ন্যায়
- ↑ মন বিহঙ্গের ন্যায়
- ↑ স্ব-কে গত
- ↑ আত্মকে হত্যা
- ↑ যুগ অন্ত করে সঞ্চিত
- ↑ রান্নার নিমিত্ত ঘর
- ↑ রান্নার ঘর
- ↑ কুম্ভ করে যে
- ↑ অরিকে (শত্রু) দমন করে যে
- ↑ পকেট মারে যে
- ↑ দলে দলে যে বিবাদ
- ↑ দুই প্রহরের সমাহার
- ↑ দুই মাতার সন্তান
- ↑ তিন কালের সমাহার
- ↑ তিন পদের সমাহার
- ↑ তিন মোহনার সমাহার
- ↑ তিন লোকের সমাহার
- ↑ তিন তাপের সমাহার
- ↑ তিন রাত্রির সমাহার
- ↑ চার পদের সমাহার
- ↑ চার ভুজের সমাহার
- ↑ চার দিকের সমাহার
- ↑ চার হদ্দের(সীমানার) সমাহার
- ↑ চার চিরের(ছিদ্র) সমাহার
- ↑ পাঁচ ভূতের সমাহার
- ↑ পঞ্চবটের সমাহার,
- ↑ পাঁচ সালের সমাহার
- ↑ পাঁচ ফোড়নের(মশলার মিশ্রণ) সমাহার
- ↑ পাঁচ শস্যের সমাহার
- ↑ পাঁচ গো-উপাদানের সমাহার
- ↑ পাঁচ কন্যার সমাহার
- ↑ পাঁচ রত্নের সমাহার
- ↑ পাঁচ অমৃতের সমাহার
- ↑ পাঁচ গোরুর সমাহার
- ↑ ছয় ঋতুর সমাহার
- ↑ ছয় রিপুর সমাহার
- ↑ সাত রথীর সমাহার
- ↑ সাত ডিঙার সমাহার
- ↑ সাত শতকের সমাহার
- ↑ সাত সুরের সমাহার
- ↑ সাত ঘাটের সমাহার
- ↑ সাত সমুদ্রের সমাহার
- ↑ সাত নরীর সমাহার
- ↑ আট বসুপুত্রের সমাহার
- ↑ আট ধাতুর সমাহার
- ↑ আট প্রহরের সমাহার
- ↑ নয় রত্নের সমাহার
- ↑ নয় গ্রহের সমাহার
- ↑ নয় দুর্গার সমাহার
- ↑ দশ চক্রের সমাহার
- ↑ দশ দিগন্তের সমাহার
- ↑ দশ অবতারের সমাহার
- ↑ দশ দশার সমাহার
- ↑ দশ আনার সমাহার
- ↑ বারো মাসের সমাহার
- ↑ তেরো নদীর সমাহার
- ↑ চৌদ্দ ভুবনের সমাহার
- ↑ চৌদ্দ পদের সমাহার
- ↑ ষোল কলার সমাহার
- ↑ শত বর্ষের সমাহার
- ↑ প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) কাশ
- ↑ প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) বাদ
- ↑ প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাব
- ↑ প্র (প্রকৃষ্ট রুপে) দর্শন
- ↑ প্র (প্রত্যয়) দ্বারা নাম
- ↑ সম্ (সম্যক) যে আদর
অনুশীলন
[সম্পাদনা]1. অক্ষম = নয় ক্ষম (নঞ তৎপুরুষ);
2. অকাজ = নয় কাজ (নঞ তৎপুরুষ);
3. অকালপক্ব = অকালে পক্ব (অধিকরণ তৎপুরুষ);
4. অকালবোধন = অকালে বোধন (অধিকরণ তৎপুরুষ);
5. অকিঞ্চন = নেই কিঞ্চন যার (নঞ বহুব্রীহি);
6. অকুণ্ঠিত = নয় কুণ্ঠিত (নঞ তৎপুরুষ);
7. অকপট = নয় কপট (নঞ তৎপুরুষ);
8. অগ্নিবীণা = অগ্নিবর্ষী বীণা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
9. অগ্নিভয় = অগ্নি হইতে ভয় (অপাদান তৎপুরুষ);
10. অগ্নিশর্মা = অগ্নির মতো উগ্র শর্ম যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
11. অগ্রগণ্য = অগ্রে গণ্য (অধিকরণ তৎপুরুষ);
12. অগ্রজ = অগ্রে জন্মে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
13. অগ্রপশ্চাৎ = অগ্র ও পশ্চাৎ (দ্বন্দ্ব);
14. অতিথিশালা = অতিথির নিমিত্তে শালা (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
15. অতন্দ্র = নেই তন্দ্রা যাতে (নঞ বহুব্রীহি);
16. অথই = নেই থই যার (নঞ বহুব্রীহি);
17. অধ্যাত্ম = আত্মাকে অধিকার করে (অব্যয়ীভাব);
18. অধিদৈব = দৈবকে অধিকার করে (অব্যয়ীভাব);
19. অধীর = নয় ধীর (নঞ তৎপুরুষ);
20. অধর্ম = নয় ধর্ম (নঞ তৎপুরুষ);
21. অন্যমনস্ক = অন্যে মন যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
22. অন্তরীপ = অন্তঃ অপ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
23. অন্দরমহল = অন্দরে স্থিত মহল (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
24. অন্নজল = অন্ন ও জল (দ্বন্দ্ব);
25. অন্নবস্ত্র = অন্ন ও বস্ত্র (দ্বন্দ্ব);
26. অনুক্ষন = ক্ষণে ক্ষণে (অব্যয়ীভাব);
27. অনুকূল = কূলের সম্মুখে (অব্যয়ীভাব);
28. অনুগমন = গমনের পশ্চাৎ (অব্যয়ীভাব);
29. অনাচার = নয় আচার (নঞ তৎপুরুষ);
30. অনাথ-আশ্রম = অনাথের জন্য আশ্রম (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
31. অনাবাদী = নয় আবাদী (নঞ তৎপুরুষ);
32. অনাবিষ্কৃত = নয় আবিষ্কৃত (নঞ তৎপুরুষ);
33. অনাবৃত = নয় আবৃত (নঞ তৎপুরুষ);
34. অনাবশ্যক = নয় আবশ্যক (নঞ তৎপুরুষ);
35. অনাবৃষ্টি = নয় বৃষ্টি (নঞ তৎপুরুষ);
36. অনাস্থা = নেই আস্থা (নঞ তৎপুরুষ);
37. অনাসক্ত = নয় আসক্ত (নঞ তৎপুরুষ);
38. অনাসৃষ্টি = নয় সৃষ্টি (নঞ তৎপুরুষ);
39. অনাহার = নেই আহার (নঞ তৎপুরুষ);
40. অনাহূত = নয় আহূত (নঞ তৎপুরুষ);
41. অনির্বচনীয় = নয় নির্বচনীয় (নঞ তৎপুরুষ);
42. অনিষ্ট = নয় ইষ্ট (নঞ তৎপুরুষ);
43. অনুচিত = নয় উচিত (নঞ তৎপুরুষ);
44. অনীশ = নেই ঈশ যার (নঞ বহুব্রীহি);
45. অনীহা = নেই ঈহা যাতে (নঞ বহুব্রীহি);
46. অনেক = নয় এক (নঞ তৎপুরুষ);
47. অনৈক্য = নয় ঐক্য (নঞ তৎপুরুষ);
48. অনুজ = অনুতে জন্ম যার (উপপদ তৎপুরুষ);
49. অনুত্তীর্ণ = নয় উত্তীর্ণ (নঞ তৎপুরুষ);
50. অনুতাপ = তাপের পশ্চাৎ (অব্যয়ীভাব);
51. অনুদ্বিগ্ন = নয় উদ্বিগ্ন (নঞ তৎপুরুষ);
52. অনুদার = নয় উদার (নঞ তৎপুরুষ);
53. অনুধাবন = ধাবনের পশ্চাৎ (অব্যয়ীভাব);
54. অনধিকার = নেই অধিকার (নঞ তৎপুরুষ);
55. অনন্য = নয় অন্য (নঞ তৎপুরুষ);
56. অনুপ্রেরণা = প্রেরণার যোগ্য (অব্যয়ীভাব);
57. অনবদ্য = নয় অবদ্য (নঞ তৎপুরুষ);
58. অনভিজ্ঞ = নয় অভিজ্ঞ (নঞ তৎপুরুষ);
59. অনভিপ্রেত = নয় অভিপ্রেত (নঞ তৎপুরুষ);
60. অনুরূপ = রূপের যোগ্য (অব্যয়ীভাব);
61. অনলস = নয় অলস (নঞ তৎপুরুষ);
62. অনশন = নয় অশন (নঞ তৎপুরুষ);
63. অপরাহ্ন = অহের অপর (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
64. অপরূপ = অপ রূপ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
65. অফুরন্ত = নয় ফুরন্ত (নঞ তৎপুরুষ);
66. অব্যক্ত = নয় ব্যক্ত (নঞ তৎপুরুষ);
67. অভ্রভেদী = অভ্র ভেদ করে যা (উপপদ তৎপুরুষ);
68. অভাব = নেই ভাব (নঞ তৎপুরুষ);
69. অম্লান = নয় ম্লান (নঞ তৎপুরুষ);
70. অম্ল-মধুর = অম্ল অথচ মধুর (সাধারণ কর্মধারয়);
71. অমঙ্গল = নয় মঙ্গল (নঞ তৎপুরুষ);
72. অমিল = নয় মিল (নঞ তৎপুরুষ);
73. অমোঘ = নয় মোঘ (নঞ তৎপুরুষ);
74. অমৃতসমান = অমৃতের সমান (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
75. অর্থবহ = অর্থ বহন করে যা (উপপদ তৎপুরুষ);
76. অর্থমন্ত্রী = অর্থ বিষয়ক মন্ত্রী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
77. অর্থলিপ্সা = অর্থের লিপ্সা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
78. অর্থসাহায্য = অর্থ দ্বারা সাহায্য (করণ তৎপুরুষ);
79. অর্ধোন্মীলিত = অর্ধ ভাবে উন্মীলিত (কর্ম তৎপুরুষ);
80. অর্ধমৃত = অর্ধ ভাবে মৃত (কর্ম তৎপুরুষ);
81. অর্ধস্ফূট = অর্ধ ভাবে স্ফূট (কর্ম তৎপুরুষ);
82. অর্ধসমাপ্ত = অর্ধ ভাবে সমাপ্ত (কর্ম তৎপুরুষ);
83. অরিন্দম = অরিকে দমন করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
84. অরণ্যে-রোদন = অরণ্যে রোদন (অলুক্ অধিকরণ তৎপুরুষ);
85. অরসিক = নয় রসিক (নঞ তৎপুরুষ);
86. অল্পবিস্তর = অল্প ও বিস্তর (দ্বন্দ্ব);
87. অশ্বারূঢ় = অশ্বকে আরূঢ় (কর্ম তৎপুরুষ);
88. অশ্রুতপূর্ব = পূর্বে অশ্রুত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
89. অশীতিপর = অশীতি হইতে পর (অপাদান তৎপুরুষ);
90. অশনবসন = অশন ও বসন (দ্বন্দ্ব);
91. অশুভ = নয় শুভ (নঞ তৎপুরুষ);
92. অশরীরী = নয় শরীরী (নঞ তৎপুরুষ);
93. অষ্টাদশ = অষ্ট অধিক দশ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
94. অষ্টধাতু = অষ্ট ধাতুর সমাহার (দ্বিগু);
95. অষ্টবসু = অষ্ট বসুর সমাহার (দ্বিগু);
96. অস্ত্রাহত = অস্ত্রের দ্বারা আহত (করণ তৎপুরুষ);
97. অস্ত্রবল = অস্ত্রের বল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
98. অস্তরাগ = অস্ত কালীন রাগ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
99. অস্থির = নয় স্থির (নঞ তৎপুরুষ);
100. অসুখ = নয় সুখ (নঞ তৎপুরুষ);
101. অসঙ্গত = নয় সঙ্গত (নঞ তৎপুরুষ);
102. অসাধু = নয় সাধু (নঞ তৎপুরুষ);
103. অসভ্য = নয় সভ্য (নঞ তৎপুরুষ);
104. অসম্মত = নয় সম্মত (নঞ তৎপুরুষ);
105. অসুস্থ = নয় সুস্থ (নঞ তৎপুরুষ);
106. অহিত = নয় হিত (নঞ তৎপুরুষ);
107. অহোরাত্র = অহঃ ও রাত্রি (দ্বন্দ্ব);
108. অহর্নিশ = অহঃ ও নিশা (দ্বন্দ্ব);
109. আক্কেলদাঁত = আক্কেল সূচক দাঁত (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
110. আক্ষেপানুরাগ = আক্ষেপ দ্যোতক অনুরাগ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
111. আকাল = নয় কাল (নঞ তৎপুরুষ);
112. আকাশপ্রদীপ = আকাশে প্রদত্ত প্রদীপ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
113. আকাশ-পাতাল = আকাশ ও পাতাল (দ্বন্দ্ব);
114. আকাশবাণী = আকাশ মাধ্যমে প্রেরিত বাণী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
115. আকণ্ঠ = কণ্ঠ পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
116. আকর্ণ = কর্ণ পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
117. আকাঁড়া = নয় কাঁড়া (নঞ তৎপুরুষ);
118. আঁখিপাখি = আঁখি রূপ পাখি (রূপক কর্মধারয়);
119. আঁখিপদ্ম = আঁখি পদ্মের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
120. আগাগোড়া = আগা হতে গোড়া পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
121. আগাছা = নয় গাছা (নঞ তৎপুরুষ);
122. আগেপিছে = আগে ও পিছে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
123. আছোলা = নয় ছোলা (নঞ তৎপুরুষ);
124. আজানু = জানু পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
125. আজীবন = জীবন পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
126. আজন্ম = জন্ম হইতে (অব্যয়ীভাব);
127. আটচালা = আট চালার সমাহার (দ্বিগু);
128. আটটি চালা যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
129. আত্মীয়-স্বজন = আত্মীয় ও স্বজন (দ্বন্দ্ব);
130. আত্মজ = আত্মা হতে জন্মে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
131. আদ্যন্ত = আদি হইতে অন্ত (অপাদান তৎপুরুষ);
132. আদি হতে অন্ত পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
133. আদব-কায়দা = আদব ও কায়দা (দ্বন্দ্ব);
134. আঁধারঘর = আঁধার যে ঘর (সাধারণ কর্মধারয়);
135. আধমরা = আধ ভাবে মরা (কর্ম তৎপুরুষ);
136. আনাড়ী = নেই নাড়ী যার (নঞ বহুব্রীহি);
137. আপাদমস্তক = পাদ হতে মস্তক পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
138. আবাল্য = বাল্য হইতে (অব্যয়ীভাব);
139. আবালবৃদ্ধবনিতা = বালক হতে বৃদ্ধ ও বনিতা (অব্যয়ীভাব);
140. আমৃত্যু = মৃত্যু পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
141. আমরা = তুমি আমি ও সে (দ্বন্দ্ব);
142. আমরণ = মরণ পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
143. আমূল = মূল পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
144. আলুনী = নয় লুনী (নঞ তৎপুরুষ);
145. আলুসিদ্ধ = সিদ্ধ যে আলু (সাধারণ কর্মধারয়);
146. আশালতা = আশা রূপ লতা (রূপক কর্মধারয়);
147. আশাহত = আশার দ্বারা আহত (করণ তৎপুরুষ);
148. আশীবিষ = আশীতে বিষ যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
149. আশৈশব = শৈশব পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
150. আয়কর = আয়ের উপর কর (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
151. আয়ব্যয় = আয় ও ব্যয় (দ্বন্দ্ব);
152. ইচ্ছামৃত্যু = ইচ্ছা সম্মত মৃত্যু (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
153. ইত্যাদি = ইতি আদিতে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
154. ইন্দ্রজিৎ = ইন্দ্রকে জয় করেছেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
155. উচ্চ-নীচ = উচ্চ ও নীচ (দ্বন্দ্ব);
156. উদ্বাস্তু = বাস্তু থেকে উৎখাত (অব্যয়ীভাব);
157. উদ্বেল = বেলাকে অতিক্রম করে (অব্যয়ীভাব);
158. উপকণ্ঠ = কণ্ঠের সমীপে (অব্যয়ীভাব);
159. উপকথা = কথা সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
160. উপাচার্য = আচার্য সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
161. উপেন্দ্র = ইন্দ্রের পশ্চাৎ (অব্যয়ীভাব);
162. উপনদী = ক্ষুদ্র নদী (অব্যয়ীভাব);
163. উপপ্রধান = প্রধান সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
164. উপপদ = ক্ষুদ্র পদ (অব্যয়ীভাব);
165. উপপর্ব = ক্ষুদ্র পর্ব (অব্যয়ীভাব);
166. উপবিভাগ = ক্ষুদ্র বিভাগ (অব্যয়ীভাব);
167. উপবন = বনের সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
168. উপভাষা = ভাষার সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
169. উপমন্ত্রী = মন্ত্রীর সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
170. উপরাষ্ট্রপতি = রাষ্ট্রপতি সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
171. উপলক্ষ্য = লক্ষ্যের সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
172. উপসাগর = ক্ষুদ্র সাগর (অব্যয়ীভাব);
173. ঊনপঞ্চাশ = ঊন যে পঞ্চাশ (সাধারণ কর্মধারয়);
174. ঊর্ণনাভ = ঊর্ণ নাভিতে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
175. ঋণগ্রস্ত = ঋণ দ্বারা গ্রস্ত (করণ তৎপুরুষ);
176. ঋণমুক্ত = ঋণ হইতে মুক্ত (অপাদান তৎপুরুষ);
177. ঋত্বিক = ঋতুতে যজন করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
178. একঘরে = এক ঘরে বাস করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
179. একাদশ = এক অধিক দশ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
180. একান্নবর্তী = একান্ন বর্তন করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
181. একটিমাত্র = কেবল একটি (নিত্য সমাস);
182. একনিষ্ঠ = একে নিষ্ঠা যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
183. একনিষ্ঠা = একে নিষ্ঠা (অধিকরণ তৎপুরুষ);
184. একরোখা = একদিকে রোখ যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
185. এণাক্ষী = এণের অক্ষির মতো অক্ষি যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
186. ওষ্ঠাগত = ওষ্ঠে আগত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
187. ক্রিয়াকর্ম = ক্রিয়া ও কর্ম (দ্বন্দ্ব);
188. ক্রীড়ামত্ত = ক্রীড়ায় মত্ত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
189. ক্রয়বিক্রয় = ক্রয় ও বিক্রয় (দ্বন্দ্ব);
190. ক্ষীরোদ = ক্ষীর হয়েছে উদ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
191. ক্ষণজন্মা = ক্ষণে জন্ম যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
192. ক্ষণস্থায়ী = ক্ষণকাল ব্যাপী স্থায়ী (ব্যাপ্তি অর্থে কর্ম তৎপুরুষ);
193. ক্ষমাসুন্দর = ক্ষমায় সুন্দর (অধিকরণ তৎপুরুষ);
194. ক্ষমতাসীন = ক্ষমতায় আসীন (অধিকরণ তৎপুরুষ);
195. ক্ষুরধার = ক্ষুরের ধারের মতো ধার যাতে (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
196. কাজকর্ম = কাজ ও কর্ম (দ্বন্দ্ব);
197. কাজলকালো = কাজলের মতো কালো (উপমান কর্মধারয়);
198. কাঞ্চনপ্রভ = কাঞ্চনের প্রভার মতো প্রভা যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
199. কাটাকাটি = পরস্পরকে কাটা (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
200. কাঠকাটা = কাঠকে কাটা (কর্ম তৎপুরুষ);
201. কাঠঠোকরা = কাঠে ঠোকরায় যে (উপপদ তৎপুরুষ);
202. কানকাটা = কান কাটা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
203. কানাকানি = কানে কানে যে কথা (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
204. কানাকড়ি = কানা যে কড়ি (সাধারণ কর্মধারয়);
205. কান-ভাঙানো = কানকে ভাঙানো (কর্ম তৎপুরুষ);
206. কাপুরুষ = কু যে পুরুষ (সাধারণ কর্মধারয়);
207. কাপড়কাচা = কাপড়কে কাচা (কর্ম তৎপুরুষ);
208. কারাবরুদ্ধ = কারায় অবরুদ্ধ (অধিকরণ তৎপুরুষ);
209. কালিদাস = কালীর দাস (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
210. কালীপদ = কালীর পদ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
211. কালপুরুষ = কাল যে পুরুষ (সাধারণ কর্মধারয়);
212. কালবৈশাখী = বৈশাখী কালের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
213. কালসলিল = কাল রূপ সলিল (রূপক কর্মধারয়);
214. কায়দাকানুন = কায়দা ও কানুন (দ্বন্দ্ব);
215. কীটদষ্ট = কীট দ্বারা দষ্ট (করণ তৎপুরুষ);
216. কচুপোড়া = পোড়া যে কচু (সাধারণ কর্মধারয়);
217. কীর্তিধ্বজা = কীর্তি রূপ ধ্বজা (রূপক কর্মধারয়);
218. কোণঠাসা = কোণে ঠাসা (অধিকরণ তৎপুরুষ);
219. কোমরজল = কোমর পর্যন্ত জল (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
220. কোলকুঁজো = কোলে কুঁজো (অধিকরণ তৎপুরুষ);
221. কোলাকুলি = কোলে কোলে যে আলিঙ্গন (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
222. কোলেপিঠে = কোলে ও পিঠে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
223. কটাক্ষপাত = কটাক্ষের পাত (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
224. কুটিরশিল্প = কুটির জাত শিল্প (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
225. কণ্ঠাগত = কণ্ঠে আগত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
226. কৃত্তিবাস = কৃত্তি বাস যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
227. কৃতকার্য = কৃত কার্য যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
228. কৃতবিদ্য = কৃত হয়েছে বিদ্যা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
229. কথামৃত = কথা অমৃতের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
230. কদাকার = কু আকার যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
231. কৃদন্ত = কৃৎ অন্তে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
232. কনকাঞ্জলি = কনক পূর্ণ অঞ্জলি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
233. কপোতাক্ষ = কপোতের অক্ষির মতো অক্ষি যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
234. কবিকুল = কবির কুল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
235. কবিগুরু = কবিদের গুরু (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
236. কুবের = কু বের যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
237. কুম্ভকার = কুম্ভ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
238. কুম্ভকর্ণ = কুম্ভের মতো কর্ণ যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
239. কমবেশি = কম ও বেশি (দ্বন্দ্ব);
240. কমলাক্ষ = কমলের মতো অক্ষি যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
241. কমলেশ = কমলার ঈশ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
242. কর্মকার = কর্ম করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
243. কর্মকুশল = কর্মে কুশল (অধিকরণ তৎপুরুষ);
244. কর্মনাশা = কর্ম নাশ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
245. কর্মব্যস্ত = কর্মে ব্যস্ত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
246. কর্ম-বিরতি = কর্ম হইতে বিরতি (অপাদান তৎপুরুষ);
247. করপল্লব = কর পল্লবের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
248. কলাবেচা = কলাকে বেচা (কর্ম তৎপুরুষ);
249. কুশাসন = কু যে সাসন (সাধারণ কর্মধারয়);
250. কৃষ্ণসর্প = কৃষ্ণ সর্প (নিত্য সমাস);
251. কুসুমাকীর্ণ = কুসুম দ্বারা আকীর্ণ (করণ তৎপুরুষ);
252. কড়াপাক = কড়া যে পাক (সাধারণ কর্মধারয়);
253. কাঁচকলা = কাঁচা কলা (নিত্য সমাস);
254. কাঁচাকলা = কাঁচা যে কলা (সাধারণ কর্মধারয়);
255. কাঁচামিঠে = কাঁচা অথচ মিঠে (সাধারণ কর্মধারয়);
256. কাঁচপোকা = পোকা কাঁচের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
257. খালবিল = খাল ও বিল (দ্বন্দ্ব);
258. খাসমহল = খাস যে মহল (সাধারণ কর্মধারয়);
259. খেচর = খে চরে যে (অলুক্ উপপদ তৎপুরুষ);
260. খেয়াঘাট = খেয়ার জন্য ঘাট (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
261. খোকাখুকু = খোকা ও খুকু (দ্বন্দ্ব);
262. খুল্লতাত = খুল্ল যে তাত (সাধারণ কর্মধারয়);
263. খুশমেজাজ = খুশ মেজাজ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
264. খড়্গহস্ত = খড়্গ হস্তে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
265. খড়কুটো = খড় ও কুটো (দ্বন্দ্ব);
266. খোঁজখবর = খোঁজ ও খবর (দ্বন্দ্ব);
267. গ্রামান্তর = অন্য গ্রাম (নিত্য সমাস);
268. গ্রামছাড়া = গ্রাম হইতে ছাড়া (অপাদান তৎপুরুষ);
269. গ্রামসভা = গ্রামের সভা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
270. গ্রাসাচ্ছাদন = গ্রাস ও আচ্ছাদন (দ্বন্দ্ব);
271. গগনচুম্বী = গগন চুম্বন করে যা (উপপদ তৎপুরুষ);
272. গঙ্গাধর = গঙ্গার ধর (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
273. গঙ্গাপ্রাপ্ত = গঙ্গাকে প্রাপ্ত (কর্ম তৎপুরুষ);
274. গঙ্গাস্নান = গঙ্গায় স্নান (অধিকরণ তৎপুরুষ);
275. গাছপাকা = গাছে পাকা (অধিকরণ তৎপুরুষ);
276. গা-ঢাকা = গা কে ঢাকা (কর্ম তৎপুরুষ);
277. গানবাজনা = গান ও বাজনা (দ্বন্দ্ব);
278. গালাগালি = পরস্পরকে গালি দিয়ে বিবাদ (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
279. গায়েহলুদ = গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে (অলুক্ বহুব্রীহি);
280. গিরিশ = গিরিতে শয়ন করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
281. গিরীশ = গিরির ঈশ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
282. গীতিনাট্য = গীতিধর্মী নাট্য (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
283. গোপ = গো পালন করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
284. গোবেচারা = গো'র ন্যায় বেচারা (উপমান কর্মধারয়);
285. গোস্পদ = গো'র পদ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
286. গৌরাঙ্গ = গৌর অঙ্গ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
287. গণ্যমান্য = যিনি গণ্য তিনিই মান্য (সাধারণ কর্মধারয়);
288. গণ্ডগ্রাম = গণ্ড যে গ্রাম (সাধারণ কর্মধারয়);
289. গণিতজ্ঞ = গণিত জানেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
290. গুণিসমাজ = গুণীর সমাজ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
291. গত্যন্তর = অন্য গতি (নিত্য সমাস);
292. গুপ্তচর = গুপ্ত চরে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
293. গুপ্ত যে চর (সাধারণ কর্মধারয়);
294. গুরুদেব = যিনি গুরু তিনিই দেব (সাধারণ কর্মধারয়);
295. গরমিল = নয় মিল (নঞ তৎপুরুষ);
296. মিলের অভাব (অব্যয়ীভাব);
297. গরহাজির = নয় হাজির (নঞ তৎপুরুষ);
298. গল্পগুচ্ছ = গল্পের গুচ্ছ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
299. গলাগলি = গলায় গলায় যে মিল (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
300. গলাধাক্কা = গলায় ধাক্কা (অধিকরণ তৎপুরুষ);
301. গৃহাগত = গৃহে আগত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
302. গৃহান্তর = অন্য গৃহ (নিত্য সমাস);
303. গৃহপ্রবেশ = গৃহে প্রবেশ (অধিকরণ তৎপুরুষ);
304. গৃহবাস = গৃহে বাস (অধিকরণ তৎপুরুষ);
305. গৃহস্থ = গৃহে থাকে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
306. গাঁটকাটা = গাঁটকে কাটা (কর্ম তৎপুরুষ);
307. গোঁজামিল = গোঁজা দ্বারা মিল (করণ তৎপুরুষ);
308. ঘাস-কাটা = ঘাসকে কাটা (কর্ম তৎপুরুষ);
309. ঘি-ভাত = ঘি মেশানো ভাত (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
310. ঘোরাঘুরি = কেবল ঘোরা (নিত্য সমাস);
311. ঘোষ-জা = ঘোষ হইতে জাত (অপাদান তৎপুরুষ);
312. ঘটনাবহুল = ঘটনা দ্বারা বহুল (করণ তৎপুরুষ);
313. ঘনকৃষ্ণ = ঘনের ন্যায় কৃষ্ণ (উপমান কর্মধারয়);
314. ঘনঘটা = ঘনের ঘটা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
315. ঘনশ্যাম = ঘনের মতো শ্যাম (উপমান কর্মধারয়);
316. ঘরেবাহিরে = ঘরে ও বাহিরে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
317. ঘরজামাই = ঘরে পালিত জামাই (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
318. ঘরপাগল = ঘরের জন্য পাগল (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
319. চক্রপাণি = চক্র পাণিতে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
320. চাকভাঙা = চাক হইতে ভাঙা (অপাদান তৎপুরুষ);
321. চালাক-চতুর = চালাক ও চতুর (দ্বন্দ্ব);
322. চালভাজা = ভাজা যে চাল (সাধারণ কর্মধারয়);
323. চাষবাস = চাষ ও বাস (দ্বন্দ্ব);
324. চিত্তাকর্ষক = চিত্ত আকর্ষণ করে যা (উপপদ তৎপুরুষ);
325. চিন্তাণ্বিত = চিন্তা দ্বারা অণ্বিত (করণ তৎপুরুষ);
326. চিন্তাশীল = চিন্তা শীল যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
327. চিরকৃতজ্ঞ = চিরকাল ব্যাপী কৃতজ্ঞ (ব্যাপ্তি অর্থে কর্ম তৎপুরুষ);
328. চিরশত্রু = চিরকাল ব্যাপী শত্রু (ব্যাপ্তি অর্থে কর্ম তৎপুরুষ);
329. চিরস্মরণীয় = চিরকাল ব্যাপী স্মরণীয় (ব্যাপ্তি অর্থে কর্ম তৎপুরুষ);
330. চিরসুখী = চিরকাল ব্যাপী সুখী (ব্যাপ্তি অর্থে কর্ম তৎপুরুষ);
331. চিরসৌন্দর্য = চির স্থায়ী সৌন্দর্য (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
332. চিহ্নমাত্র = কেবল চিহ্ন (নিত্য সমাস);
333. চিড়েচ্যাপ্টা = চিড়ের ন্যায় চ্যাপ্টা (উপমান কর্মধারয়);
334. চৌদিক = চৌ দিকের সমাহার (দ্বিগু);
335. চৌপদী = চৌ পদের সমাহার (দ্বিগু);
336. চণ্ডীদাস = চণ্ডীর দাস (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
337. চণ্ডীমণ্ডপ = চণ্ডীর নিমিত্তে মণ্ডপ (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
338. চতুরঙ্গ = চতুঃ অঙ্গের সমাহার (দ্বিগু);
339. চতুষ্পদী = চতুঃ পদের সমাহার (দ্বিগু);
340. চন্দ্রশেখর = চন্দ্র শেখর যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
341. চুনকালি = চুন ও কালি (দ্বন্দ্ব);
342. চরিতামৃত = চরিত রূপ অমৃত (রূপক কর্মধারয়);
343. চরণাশ্রিত = চরণকে আশ্রিত (কর্ম তৎপুরুষ);
344. চরণপদ্ম = চরণ পদ্মের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
345. চলচ্চিত্র = চলৎ যে চিত্র (সাধারণ কর্মধারয়);
346. চুলচেরা = চুলকে চেরা (কর্ম তৎপুরুষ);
347. চাঁদমুখ = মুখ চাঁদের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
348. ছাইভষ্ম = ছাই ও ভষ্ম (দ্বন্দ্ব);
349. ছাগদুগ্ধ = ছাগীর দুগ্ধ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
350. ছাত্রাবাস = ছাত্রের নিমিত্তে আবাস (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
351. ছাতাপেটা = ছাতা দ্বারা পেটা (করণ তৎপুরুষ);
352. ছায়াতরু = ছায়া দানকারী তরু (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
353. ছায়াবৃতা = ছায়া দ্বারা আবৃতা (করণ তৎপুরুষ);
354. ছায়াস্নিগ্ধ = ছায়া দ্বারা স্নিগ্ধ (করণ তৎপুরুষ);
355. ছিন্নবস্ত্র = ছিন্ন যে বস্ত্র (সাধারণ কর্মধারয়);
356. ছিন্নশাখা = ছিন্ন হয়েছে শাখা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
357. ছেলে-ছোকরা = ছেলে ও ছোকরা (দ্বন্দ্ব);
358. ছেলেভুলানো = ছেলেকে ভুলানো (কর্ম তৎপুরুষ);
359. ছেলেমেয়ে = ছেলে ও মেয়ে (দ্বন্দ্ব);
360. ছোটোবড়ো = ছোটো ও বড়ো (দ্বন্দ্ব);
361. ছন্নমতি = ছন্ন হয়েছে মতি যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
362. জ্ঞাতিশত্রু = যিনি জ্ঞাতি তিনিই শত্রু (সাধারণ কর্মধারয়);
363. জ্ঞানেন্দ্রিয় = জ্ঞান লাভের ইন্দ্রিয় (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
364. জ্ঞানবৃক্ষ = জ্ঞান রূপ বৃক্ষ (রূপক কর্মধারয়);
365. জ্ঞান-বিশিষ্ট = জ্ঞান দ্বারা বিশিষ্ট (করণ তৎপুরুষ);
366. জ্ঞানমাত্র = কেবল জ্ঞান (নিত্য সমাস);
367. জ্ঞানরহিত = জ্ঞান দ্বারা রহিত (করণ তৎপুরুষ);
368. জগজ্জননী = জগতের জননী (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
369. জগদ্বিখ্যাত = জগতে বিখ্যাত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
370. জাদুকর = জাদু করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
371. জানাজানি = পরস্পর জানা (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
372. জামাইবাবু = যিনি জামাই তিনিই বাবু (সাধারণ কর্মধারয়);
373. জামাইষষ্ঠী = জামাইয়ের কল্যাণ্যে ষষ্ঠী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
374. জীবন-ইতিহাস = জীবনের ইতিহাস (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
375. জীবনানন্দ = জীবন ব্যাপী আনন্দ (ব্যাপ্তি অর্থে কর্ম তৎপুরুষ);
376. জীবনযুদ্ধ = জীবন রূপ যুদ্ধ (রূপক কর্মধারয়);
377. জীবনতরী = জীবন রূপ তরী (রূপক কর্মধারয়);
378. জীয়নকাঠি = জীয়নের নিমিত্তে কাঠি (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
379. জেলখালাস = জেল হইতে খালাস (অপাদান তৎপুরুষ);
380. জোরবরাত = জোর যে বরাত (সাধারণ কর্মধারয়);
381. জটাজাল = জটা রূপ জাল (রূপক কর্মধারয়);
382. জন্মান্তর = অন্য জন্ম (নিত্য সমাস);
383. জন্মাষ্টমী = জন্ম সংলগ্না অষ্টমী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
384. জনপ্রতি = জনে জনে (অব্যয়ীভাব);
385. জনসাধারণ = সাধারণ যে জন (সাধারণ কর্মধারয়);
386. জনহিত = জনের নিমিত্তে হিত (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
387. জপতপ = জপ ও তপ (দ্বন্দ্ব);
388. জপমালা = জপের জন্য মালা (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
389. জরাজীর্ণ = জরা দ্বারা জীর্ণ (করণ তৎপুরুষ);
390. জলকর = জলের জন্য কর (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
391. জলাতঙ্ক = জল হইতে আতঙ্ক (অপাদান তৎপুরুষ);
392. জলে-কাদায় = জলে ও কাদায় (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
393. জলযান = জলে চলার যান (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
394. জলতোলা = জলকে তোলা (কর্ম তৎপুরুষ);
395. জল-পিপাসা = জলের পিপাসা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
396. জলপূর্ণ = জল দ্বারা পূর্ণ (করণ তৎপুরুষ);
397. জলস্থল = জল ও স্থল (দ্বন্দ্ব);
398. ঝরাপাতা = ঝরা যে পাতা (সাধারণ কর্মধারয়);
399. ঝড়-বাদল = ঝড় ও বাদল (দ্বন্দ্ব);
400. যুক্তিযুক্ত = যুক্তি দ্বারা যুক্ত (করণ তৎপুরুষ);
401. যুগান্তর = অন্য যুগ (নিত্য সমাস);
402. টাকাপয়সা = টাকা ও পয়সা (দ্বন্দ্ব);
403. টানাটানি = পরস্পরকে টানা (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
404. যাবজ্জীবন = জীবন পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
405. যে-সে = যে ও সে (দ্বন্দ্ব);
406. যৌবনদীপ্ত = যৌবন দ্বারা দীপ্ত (করণ তৎপুরুষ);
407. যজ্ঞাগার = যজ্ঞের আগার (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
408. যথাক্রম = ক্রমকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব);
409. যথাজ্ঞান = জ্ঞানকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব);
410. যথাপূর্ব = পূর্বকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব);
411. যথাবিধি = বিধিকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব);
412. যথার্থ = অর্থকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব);
413. যথারীতি = রীতিকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব);
414. যথাশক্তি = শক্তিকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব);
415. যথাসাধ্য = সাধ্যকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব);
416. যথেষ্ট = ইষ্টকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব);
417. যূথভ্রষ্ট = যূথ হইতে ভ্রষ্ট (অপাদান তৎপুরুষ);
418. যুধিষ্ঠির = যুধি স্থির (অলুক্ অধিকরণ তৎপুরুষ);
419. যন্ত্রচালিত = যন্ত্র দ্বারা চালিত (করণ তৎপুরুষ);
420. যূপকাষ্ঠ = যূপের নিমিত্তে কাষ্ঠ (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
421. যশোলিপ্সা = যশের লিপ্সা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
422. ঠাকুরঘর = ঠাকুরের জন্য ঘর (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
423. ডাক্তারবাবু = যিনি ডাক্তার তিনিই বাবু (সাধারণ কর্মধারয়);
424. ডাকমাশুল = ডাকের জন্য মাশুল (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
425. ডানপিটে = ডান্ডা পিটিয়া থাকে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
426. ঢেঁকিছাঁটা = ঢেঁকি দ্বারা ছাঁটা (করণ তৎপুরুষ);
427. ণিজন্ত = ণিচ্ অন্তে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
428. ত্রিকুট = ত্রি কুটের সমাহার (দ্বিগু);
429. ত্রিপদী = ত্রি পদের সমাহার (দ্বিগু);
430. ত্রিফলা = ত্রি ফলের সমাহার (দ্বিগু);
431. ত্রিবেণী = ত্রি বেণীর সমাহার (দ্বিগু);
432. ত্রিভুবন = ত্রি ভুবনের সমাহার (দ্বিগু);
433. ত্রিলোচন = ত্রি লোচন যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
434. ত্রয়োদশ = ত্রি অধিক দশ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
435. তালকানা = তালে কানা (অধিকরণ তৎপুরুষ);
436. তালিকাভূক্ত = তালিকায় ভূক্ত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
437. তীর্থাগত = তীর্থে আগত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
438. তীর্থযাত্রা = তীর্থের নিমিত্তে যাত্রা (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
439. তেতলা = তিনটি তলা যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
440. তেপান্তর = তে প্রান্তরের সমাহার (দ্বিগু);
441. তেলে-বেগুনে = তেলে ও বেগুনে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
442. তৈল-নিষিক্ত = তৈল দ্বারা নিষিক্ত (করণ তৎপুরুষ);
443. তোমরা = তুমি ও সে (দ্বন্দ্ব);
444. তৃণশূন্য = তৃণ দ্বারা শূন্য (করণ তৎপুরুষ);
445. তদ্ভব = তৎ হইতে ভব (অপাদান তৎপুরুষ);
446. তন্দ্রাভিভূত = তন্দ্রায় অভিভূত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
447. তনুমন = তনু ও মন (দ্বন্দ্ব);
448. তপোবন = তপের নিমিত্তে বন (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
449. তপোবল = তপের বল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
450. তর্কপটু = তর্কে পটু (অধিকরণ তৎপুরুষ);
451. তুলনামূলক = তুলনা মূলে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
452. তৃষ্ণার্ত = তৃষ্ণা দ্বারা ঋত (করণ তৎপুরুষ);
453. দ্বাদশ = দ্বি অধিক দশ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
454. দ্বিজশ্রেষ্ঠ = দ্বিজের শ্রেষ্ঠ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
455. দ্বিপ = দ্বি পান করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
456. দ্বীপ = দ্বি অপ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
457. দ্রুতগামী = দ্রুত ভাবে গামী (কর্ম তৎপুরুষ);
458. দুগ্ধজাত = দুগ্ধ হইতে জাত (অপাদান তৎপুরুষ);
459. দানধ্যান = দান ও ধ্যান (দ্বন্দ্ব);
460. দান-সামগ্রী = দানের সামগ্রী (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
461. দাবানল = দাবজাত অনল (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
462. দারোগাবাবু = যিনি দারোগা তিনিই বাবু (সাধারণ কর্মধারয়);
463. দাসদাসী = দাস ও দাসী (দ্বন্দ্ব);
464. দিগন্ত = দিকের অন্ত (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
465. দিগম্বর = দিক অম্বর যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
466. দিনকে-দিন = দিনে দিনে (অব্যয়ীভাব);
467. দিনান্তর = অন্য দিন (নিত্য সমাস);
468. দিনভর = দিন পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব);
469. দিনরাত = দিন ও রাত (দ্বন্দ্ব);
470. দিব্যচক্ষু = দিব্য যে চক্ষু (সাধারণ কর্মধারয়);
471. দিবাকর = দিবা করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
472. দিবারাত্র = দিবা ও রাত্রি (দ্বন্দ্ব);
473. দিবস-রজনী = দিবস ও রজনী (দ্বন্দ্ব);
474. দিলদরিয়া = দিল রূপ দরিয়া (রূপক কর্মধারয়);
475. দিশাহারা = দিশা হারিয়েছে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
476. দীনদরিদ্র = দীন ও দরিদ্র (দ্বন্দ্ব);
477. দীনদুঃখী = দীন ও দুঃখী (দ্বন্দ্ব);
478. দীর্ঘজীবন = দীর্ঘকাল ব্যাপী জীবন (ব্যাপ্তি অর্থে কর্ম তৎপুরুষ);
479. দীর্ঘস্থায়ী = দীর্ঘকাল ব্যাপী স্থায়ী (ব্যাপ্তি অর্থে কর্ম তৎপুরুষ);
480. দেনা-পাওনা = দেনা ও পাওনা (দ্বন্দ্ব);
481. দেবতাদনুজ = দেবতা ও দনুজ (দ্বন্দ্ব);
482. দেবদেবী = দেব ও দেবী (দ্বন্দ্ব);
483. দেবমন্দির = দেবের জন্য মন্দির (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
484. দেশে-বিদেশে = দেশে ও বিদেশে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
485. দেশোদ্ধার = দেশকে উদ্ধার (কর্ম তৎপুরুষ);
486. দেশছাড়া = দেশ হইতে ছাড়া (অপাদান তৎপুরুষ);
487. দেশনেতা = দেশের নেতা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
488. দেশমাতৃকা = দেশ রূপ মাতৃকা (রূপক কর্মধারয়);
489. দেহান্তর = অন্য দেহ (নিত্য সমাস);
490. দোনলা = দুটি নল যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
491. দোফলা = দুবার ফলে যে (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
492. দুধেভাতে = দুধে ও ভাতে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
493. দনুজ = দনুতে জন্ম যার (উপপদ তৎপুরুষ);
494. দম্পতি = জায়া ও পতি (দ্বন্দ্ব);
495. দুর্ভিক্ষ = ভিক্ষার অভাব (অব্যয়ীভাব);
496. দর্শনমাত্র = কেবল দর্শন (নিত্য সমাস);
497. দর্শনশাস্ত্র = দর্শন বিষয়ক শাস্ত্র (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
498. দূরাগত = দূর হইতে আগত (অপাদান তৎপুরুষ);
499. দূরবস্থা = দুঃ অবস্থা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
500. দলছাড়া = দল হইতে ছাড়া (অপাদান তৎপুরুষ);
501. দলপতি = দলের পতি (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
502. দশানন = দশটি আনন যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
503. দশাবতার = দশ অবতারের সমাহার (দ্বিগু);
504. দশভূজা = দশ ভূজ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
505. দৃষ্টিহীন = দৃষ্টি দ্বারা হীন (করণ তৎপুরুষ);
506. দৃষ্টপূর্ব = পূর্বে দৃষ্ট (অধিকরণ তৎপুরুষ);
507. দস্যুদল = দস্যুর দল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
508. দস্তুরমতো = দস্তুর অনুযায়ী (অব্যয়ীভাব);
509. দৃঢ়প্রতিজ্ঞ = দৃঢ় প্রতিজ্ঞা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
510. দয়ামায়া = দয়া ও মায়া (দ্বন্দ্ব);
511. দাঁতকপাটি = দাঁতে কপাটি (অধিকরণ তৎপুরুষ);
512. দুঃস্থ = দুঃখে থাকে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
513. ধ্যানমগ্ন = ধ্যানে মগ্ন (অধিকরণ তৎপুরুষ);
514. ধ্যানলীন = ধ্যানে লীন (অধিকরণ তৎপুরুষ);
515. ধানক্ষেত = ধানের ক্ষেত (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
516. ধান-কাটা = ধানকে কাটা (কর্ম তৎপুরুষ);
517. ধানজমি = ধানের জন্য জমি (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
518. ধানদূর্বা = ধান ও দূর্বা (দ্বন্দ্ব);
519. ধামাধরা = ধামা ধরে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
520. ধনীদরিদ্র = ধনী ও দরিদ্র (দ্বন্দ্ব);
521. ধূমকেতু = ধূম কেতু যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
522. ধর্মঘট = ধর্ম রক্ষার জন্য ঘট (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
523. ধর্মাগত = ধর্মকে আগত (কর্ম তৎপুরুষ);
524. ধর্মান্তর = অন্য ধর্ম (নিত্য সমাস);
525. ধরাশায়ী = ধরায় শায়ী (অধিকরণ তৎপুরুষ);
526. ধূলি-ধূসর = ধূলি দ্বারা ধুসর (করণ তৎপুরুষ);
527. ন্যায়ান্যায় = ন্যায় ও অন্যায় (দ্বন্দ্ব);
528. ন্যূন = নেই ঊন (নঞ তৎপুরুষ);
529. নাতিদীর্ঘ = নয় অতি দীর্ঘ (নঞ তৎপুরুষ);
530. নাদাপেটা = নাদার মতো বড় পেট যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
531. নাবালক = নয় বালক (নঞ তৎপুরুষ);
532. নামকীর্তন = নামের কীর্তন (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
533. না-মঞ্জুর = নয় মঞ্জুর (নঞ তৎপুরুষ);
534. নামধাম = নাম ও ধাম (দ্বন্দ্ব);
535. নামমাত্র = কেবল নাম (নিত্য সমাস);
536. নাড়িভুঁড়ি = নাড়ি ও ভুঁড়ি (দ্বন্দ্ব);
537. নাড়ী-টেপা = নাড়ীকে টেপা (কর্ম তৎপুরুষ);
538. নিখিল = নেই খিল যেখানে (নঞ বহুব্রীহি);
539. নিখুঁত = নিঃ খুঁত যার (নঞ বহুব্রীহি);
540. নির্জীব = নিঃ জীব যার (নঞ বহুব্রীহি);
541. নির্বিকল্প = নেই বিকল্প যার (নঞ বহুব্রীহি);
542. নির্বিগ্ন = বিঘ্নের অভাব (অব্যয়ীভাব);
543. নির্বিশেষ = নিঃ বিশেষ যাতে (নঞ বহুব্রীহি);
544. নির্ভেজাল = নেই ভেজাল (নঞ তৎপুরুষ);
545. নির্ভুল = নিঃ ভুল যাতে (নঞ বহুব্রীহি);
546. নির্লজ্জ = নেই লজ্জা যার (নঞ বহুব্রীহি);
547. নিরাময় = নেই আময় যার (নঞ বহুব্রীহি);
548. নিরাশা = নেই আশা (নঞ তৎপুরুষ);
549. নিরপেক্ষ = নেই অপেক্ষা যাতে (নঞ বহুব্রীহি);
550. নিরর্থক = নেই অর্থ যার (নঞ বহুব্রীহি);
551. নিশাকর = নিশা করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
552. নিশাচর = নিশা চরে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
553. নিশিদিন = নিশি ও দিন (দ্বন্দ্ব);
554. নিষ্কলঙ্ক = নেই কলঙ্ক যার (নঞ বহুব্রীহি);
555. নীরাকার = নীরের আকার (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
556. নীরজ = নিঃ রজ যার (নঞ বহুব্রীহি);
557. নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
558. নীলকমল = নীল যে কমল (সাধারণ কর্মধারয়);
559. নীলাম্বর = নীল অম্বর যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
560. নীললোহিত = নীল অথচ লোহিত (সাধারণ কর্মধারয়);
561. নজরবন্দী = নজরের দ্বারা বন্দী (করণ তৎপুরুষ);
562. নদীমাতৃক = নদী মাতা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
563. নদনদী = নদ ও নদী (দ্বন্দ্ব);
564. ননীগোপাল = ননী লোভী গোপাল (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
565. নৃপ = নৃ পালন করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
566. নবান্ন = নব যে অন্ন (সাধারণ কর্মধারয়);
567. নবীন-বরণ = নবীনকে বরণ (কর্ম তৎপুরুষ);
568. নবযৌবন = নব যে যৌবন (সাধারণ কর্মধারয়);
569. নবপল্লব = নব যে পল্লব (সাধারণ কর্মধারয়);
570. নবরাত্র = নব রাত্রের সমাহার (দ্বিগু);
571. নবরত্ন = নব রত্নের সমাহার (দ্বিগু);
572. নভোনীল = নভঃর ন্যায় নীল (উপমান কর্মধারয়);
573. নভশ্চর = নভঃ চরে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
574. নরাধম = অধম যে নর (সাধারণ কর্মধারয়);
575. নরোত্তম = নর মধ্যে উত্তম (অধিকরণ তৎপুরুষ);
576. নরদেব = নর দেবের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
577. নরনারী = নর ও নারী (দ্বন্দ্ব);
578. নষ্টনীড় = নষ্ট যে নীড় (সাধারণ কর্মধারয়);
579. নষ্টবুদ্ধি = নষ্ট হয়েছে বুদ্ধি যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
580. নিঃশঙ্ক = নিঃ শঙ্কা যার (নঞ বহুব্রীহি);
581. প্রাণিবিদ্যা = প্রাণি বিষয়ক বিদ্যা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
582. প্রাণপ্রিয় = প্রাণ হইতে প্রিয় (অপাদান তৎপুরুষ);
583. প্রাতর্ভ্রমণ = প্রাতে ভ্রমণ (অধিকরণ তৎপুরুষ);
584. প্রিয়ংবদা = প্রিয় বলে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
585. প্রিয়সখ = প্রিয় যে সখ (সাধারণ কর্মধারয়);
586. প্রিয়সখা = প্রিয় সখা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
587. প্রেমদরিয়া = প্রেম রূপ দরিয়া (রূপক কর্মধারয়);
588. প্রজাপালক = প্রজার পালক (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
589. প্রত্যক্ষ = অক্ষির সম্মুখে (অব্যয়ীভাব);
590. প্রত্যঙ্গ = অঙ্গে অঙ্গে ক্ষুদ্র অঙ্গ (অব্যয়ীভাব);
591. প্রতিক্রিয়া = ক্রিয়ার বিপরীতে (অব্যয়ীভাব);
592. প্রতিক্ষণ = ক্ষণে ক্ষণে (অব্যয়ীভাব);
593. প্রতিকূল = কূলের বিপরীতে (অব্যয়ীভাব);
594. প্রতিঘাত = ঘাতের বিপরীতে (অব্যয়ীভাব);
595. প্রতিচ্ছবি = ছবির সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
596. প্রতিজন = জনে জনে (অব্যয়ীভাব);
597. প্রতিদান = দানের বিপরীতে (অব্যয়ীভাব);
598. প্রতিদিন = দিন দিন (অব্যয়ীভাব);
599. প্রতিধ্বনি = ধ্বনি সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
600. প্রতিপক্ষ = পক্ষের বিপরীতে (অব্যয়ীভাব);
601. প্রতিফল = ফলের বিপরীতে (অব্যয়ীভাব);
602. প্রতিবাদ = বাদের বিপরীতে (অব্যয়ীভাব);
603. প্রতিমাস = মাসে মাসে (অব্যয়ীভাব);
604. প্রতিমূর্তি = মূর্তির সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
605. প্রতিলিপি = লিপির সদৃশ (অব্যয়ীভাব);
606. প্রতিশোধ = শোধের বিপরীতে (অব্যয়ীভাব);
607. প্রথাবদ্ধ = প্রথার দ্বারা বদ্ধ (করণ তৎপুরুষ);
608. প্রদোষ = প্রো দোষা যেখানে (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
609. প্রপিতামহ = পিতামহের পূর্ব (অব্যয়ীভাব);
610. প্রপৌত্র = পৌত্রের পর (অব্যয়ীভাব);
611. প্রভাহীন = প্রভা দ্বারা হীন (করণ তৎপুরুষ);
612. প্রশাখা = ক্ষুদ্র শাখা (অব্যয়ীভাব);
613. পকেটমার = পকেট মারে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
614. পকেটমারা = পকেটকে মারা (কর্ম তৎপুরুষ);
615. পঙ্কজ = পঙ্কে জন্মে যা (উপপদ তৎপুরুষ);
616. পাটক্ষেত = পাটের জন্য ক্ষেত (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
617. পাঠান্তর = অন্য পাঠ (নিত্য সমাস);
618. পাণ্ডুলিপি = পাণ্ডু যে লিপি (সাধারণ কর্মধারয়);
619. পাদোদক = পাদস্পৃষ্ট উদক (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
620. পাদটীকা = পাদে লিখিত টীকা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
621. পাদপ = পা দ্বারা পান করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
622. পান্থনিবাস = পান্থের নিমিত্তে নিবাস (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
623. পান্নাসবুজ = পান্নার ন্যায় সবুজ (উপমান কর্মধারয়);
624. পানাসক্ত = পানে আসক্ত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
625. পানিফল = পানিতে জন্মানো ফল (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
626. পাপপুণ্য = পাপ ও পুণ্য (দ্বন্দ্ব);
627. পাপবুদ্ধি = পাপে বুদ্ধি যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
628. পাপমতি = পাপে মতি যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
629. পার্শ্বচর = পার্শ্বে চরে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
630. পারিজাত = পারি হইতে জাত (অপাদান তৎপুরুষ);
631. পারদর্শী = পার সর্শন করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
632. পালতোলা = পাল তোলা যাতে (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
633. পাহাড়-পর্বত = পাহাড় ও পর্বত (দ্বন্দ্ব);
634. পিতামাতা = পিতা ও মাতা (দ্বন্দ্ব);
635. পিতৃদেব = যিনি পিতা তিনিই দেব (সাধারণ কর্মধারয়);
636. পিতৃমাতা = পিতার মাতা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
637. পিনাকপাণি = পিনাক পাণিতে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
638. পীতাম্বর = পীত যে অম্বর (সাধারণ কর্মধারয়);
639. পঞ্চানন = পঞ্চ আনন যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
640. পঞ্চনদ = পঞ্চ নদের সমাহার (দ্বিগু);
641. পঞ্চপ্রদীপ = পঞ্চ প্রদীপের সমাহার (দ্বিগু);
642. পঞ্চবটী = পঞ্চ বটের সমাহার (দ্বিগু);
643. পঞ্চভূত = পঞ্চ ভূতের সমাহার (দ্বিগু);
644. পঞ্চরাত্র = পঞ্চ রাত্রের সমাহার (দ্বিগু);
645. পঠনপাঠন = পঠন ও পাঠন (দ্বন্দ্ব);
646. পুণ্যাহ = পুণ্য যে অহ (সাধারণ কর্মধারয়);
647. পুণ্যতিথি = পুণ্য যে তিথি (সাধারণ কর্মধারয়);
648. পণ্ডিতমহল = পণ্ডিতের মহল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
649. পত্রাবৃত = পত্র দ্বারা আবৃত (করণ তৎপুরুষ);
650. পুত্রশোক = পুত্রের জন্য শোক (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
651. পুত্রহীন = পুত্র দ্বারা হীন (করণ তৎপুরুষ);
652. পতিব্রতা = পতি ব্রত যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
653. পথ-ঘাট = পথ ও ঘাট (দ্বন্দ্ব);
654. পথিকৃৎ = পথ করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
655. পথচলা = পথে চলা (অধিকরণ তৎপুরুষ);
656. পথেঘাটে = পথে ও ঘাটে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
657. পথসভা = পথে অনুষ্টিত সভা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
658. পদ্মাসন = পদ্ম আসন যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
659. পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
660. পদানত = পদে আনত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
661. পদার্পণ = পদের অর্পণ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
662. পদধূলি = পদের ধূলি (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
663. পদব্রজ = পদ চালিত ব্রজ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
664. পূর্ণচন্দ্র = পূর্ণ যে চন্দ্র (সাধারণ কর্মধারয়);
665. পূর্বাহ্ন = অহের পূর্ব (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
666. পূর্বপুরুষ = পূর্ব যে পুরুষ (সাধারণ কর্মধারয়);
667. পূর্বরাত্র = রাত্রির পূর্ব (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
668. পরাধীন = পরের অধীন (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
669. পরীক্ষার্থী = পরীক্ষার অর্থী (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
670. পরোক্ষ = অক্ষির বিরুদ্ধে (অব্যয়ীভাব);
671. পরদোষ = পরের দোষ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
672. পুরবাসিনী = পুরে বাস করে যে নারী (উপপদ তৎপুরুষ);
673. পরভৃত = পরের দ্বারা ভৃত (করণ তৎপুরুষ);
674. পরমেশ্বরী = পরমা যে ঈশ্বরী (সাধারণ কর্মধারয়);
675. পুরুষোত্তম = উত্তম যে পুরুষ (সাধারণ কর্মধারয়);
676. পুরুষসিংহ = পুরুষ সিংহের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
677. পল্লীগ্রাম = যা পল্লী তাই গ্রাম (সাধারণ কর্মধারয়);
678. পয়োধর = পয়ঃ ধারণ করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
679. পাঁচফোড়ন = পাঁচ ফোড়নের সমাহার (দ্বিগু);
680. পাঁজিপুঁথি = পাঁজি ও পুঁথি (দ্বন্দ্ব);
681. ফি-মাস = মাসে মাসে (অব্যয়ীভাব);
682. ফি-সন = সনে সনে (অব্যয়ীভাব);
683. ফুটিফাটা = ফুটির মতো ফাটা (উপমান কর্মধারয়);
684. ফণীভূষণ = ফণী ভূষণ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
685. ফুলকপি = কপি ফুলের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
686. ফলাহার = ফল যোগে আহার (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
687. ফুলবাগান = ফুলের বাগান (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
688. ফুলবাবু = ফুল যে বাবু (সাধারণ কর্মধারয়);
689. ফাঁসিকাঠ = ফাঁসির নিমিত্তে কাঠ (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
690. ব্যাঘ্রভয় = ব্যাঘ্র হইতে ভয় (অপাদান তৎপুরুষ);
691. ব্যবসা-বাণিজ্য = ব্যবসা ও বাণিজ্য (দ্বন্দ্ব);
692. ব্যর্থ = বিগত অর্থ যার (নঞ বহুব্রীহি);
693. বউঠাকুরানী = বউ অথচ ঠাকুরানী (সাধারণ কর্মধারয়);
694. বউভাত = বউ দ্বারা ভাত পরিবেশনের অনুষ্ঠান (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
695. বৃক্ষরাজি = বৃক্ষের রাজি (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
696. বুকে-পিঠে = বুকে ও পিঠে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
697. বুকভরা = বুক ভরে যাতে (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
698. বাক্যালাপ = বাক্যের মাধ্যমে আলাপ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
699. বাগদত্তা = বাক্ দ্বারা দত্তা (করণ তৎপুরুষ);
700. বাটাভরা = বাটায় ভরা (অধিকরণ তৎপুরুষ);
701. বাপ-মা = বাপ ও মা (দ্বন্দ্ব);
702. বামেতর = বাম হইতে ইতর (অপাদান তৎপুরুষ);
703. বার্তাবহ = বার্তা বহন করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
704. বালিকা-বিদ্যালয় = বালিকাদের জন্য বিদ্যালয় (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
705. বাস্তুহারা = বাস্তু হারিয়েছে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
706. বায়ুপূর্ণ = বায়ু দ্বারা পূর্ণ (করণ তৎপুরুষ);
707. বিজোড় = নেই জোড় (নঞ তৎপুরুষ);
708. বিদ্যানুরাগ = বিদ্যায় অনুরাগ (অধিকরণ তৎপুরুষ);
709. বিদ্যাভবন = বিদ্যার ভবন (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
710. বিদ্যালয় = বিদ্যার আলয় (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
711. বিদ্যাহীন = বিদ্যা দ্বারা হীন (করণ তৎপুরুষ);
712. বিদেশ = নয় দেশ (নঞ তৎপুরুষ);
713. বিদেশাগত = বিদেশ হইতে আগত (অপাদান তৎপুরুষ);
714. বিধিবদ্ধ = বিধি দ্বারা বদ্ধ (করণ তৎপুরুষ);
715. বিধবা = বি হয়েছে ধব যার (নঞ বহুব্রীহি);
716. বিন্দুবিসর্গ = বিন্দু ও বিসর্গ (দ্বন্দ্ব);
717. বিনিদ্র = বিগত হয়েছে নিদ্রা যার (নঞ বহুব্রীহি);
718. বিপত্নীক = বি পত্নী যার (নঞ বহুব্রীহি);
719. বিপদাপন্ন = বিপদকে আপন্ন (কর্ম তৎপুরুষ);
720. বিপন্মুক্তি = বিপদ হইতে মুক্তি (অপাদান তৎপুরুষ);
721. বিভুঁই = নেই ভুঁই (নঞ তৎপুরুষ);
722. বিমাতা = বি যে মাতা (সাধারণ কর্মধারয়);
723. বিলাতফেরত = বিলাত হইতে ফেরত (অপাদান তৎপুরুষ);
724. বিশ্বামিত্র = বিশ্বের মিত্র (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
725. বিশ্বজিৎ = বিশ্ব জয় করেছে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
726. বিশ্বনাথ = বিশ্বের নাথ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
727. বিশ্ববিখ্যাত = বিশ্বে বিখ্যাত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
728. বিশ্বভারতী = বিশ্বের ভারতী (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
729. বিশ্রামকক্ষ = বিশ্রামের নিমিত্তে কক্ষ (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
730. বিশ্রী = বিগত শ্রী যার (নঞ বহুব্রীহি);
731. বিশালাক্ষ = বিশাল অক্ষি যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
732. বিশেষজ্ঞ = বিশেষ জানেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
733. বিশ-পঁচিশ = বিশ হইতে পঁচিশ (অপাদান তৎপুরুষ);
734. বিষজ্বালা = বিষের জ্বালা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
735. বিস্ময়াণ্বিত = বিস্ময় দ্বারা অণ্বিত (করণ তৎপুরুষ);
736. বিস্ময়াপন্ন = বিস্ময়কে আপন্ন (কর্ম তৎপুরুষ);
737. বিসদৃশ = নয় সদৃশ (নঞ তৎপুরুষ);
738. বিহগ = বিহায়সে গমন করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
739. বিড়াল-তপস্বী = বিড়াল সদৃশ তপস্বী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
740. বিয়েপাগল = বিয়ের জন্য পাগল (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
741. বীণাপাণি = বীণা পাণিতে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
742. বীতরাগ = বিগত হয়েছে রাগ যার (নঞ বহুব্রীহি);
743. বীতশ্রদ্ধ = বিগত হয়েছে শ্রদ্ধা যার (নঞ বহুব্রীহি);
744. বেইমান = নেই ইমান যার (নঞ বহুব্রীহি);
745. বেগতিক = নয় গতিক (নঞ তৎপুরুষ);
746. বেচাকেনা = বেচা ও কেনা (দ্বন্দ্ব);
747. বেঠিক = নয় ঠিক (নঞ তৎপুরুষ);
748. বেতার = বে তার যাতে (নঞ বহুব্রীহি);
749. বেতাল = নয় তাল (নঞ তৎপুরুষ);
750. বেদনার্ত = বেদনা দ্বারা ঋত (করণ তৎপুরুষ);
751. বেপরোয়া = বে পরোয়া যে (নঞ বহুব্রীহি);
752. বেরসিক = নয় রসিক (নঞ তৎপুরুষ);
753. বেসামাল = নেই সামাল (নঞ তৎপুরুষ);
754. বেহায়া = বে হায়া যার (নঞ বহুব্রীহি);
755. বেহুঁশ = বে হুঁশ যার (নঞ বহুব্রীহি);
756. বেয়াদব = বে আদব যার (নঞ বহুব্রীহি);
757. বোধোদয় = বোধের উদয় (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
758. বৌদ্ধধর্ম = বৌদ্ধদের ধর্ম (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
759. বজ্রকঠিন = বজ্রের ন্যায় কঠিন (উপমান কর্মধারয়);
760. বজ্রাহত = বজ্র দ্বারা আহত (করণ তৎপুরুষ);
761. বজ্রপাণি = বজ্র পাণিতে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
762. বজ্রমুষ্ঠি = বজ্র সদৃশ মুষ্ঠি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
763. বটবৃক্ষ = বট নামক বৃক্ষ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
764. বুদ্ধিহীন = বুদ্ধি দ্বারা হীন (করণ তৎপুরুষ);
765. বদনাম = বদ যে নাম (সাধারণ কর্মধারয়);
766. বদহজম = বদ যে হজম (সাধারণ কর্মধারয়);
767. বধূবরণ = বধূকে বরণ (কর্ম তৎপুরুষ);
768. বন্যাত্রাণ = বন্যা হইতে ত্রাণ (অপাদান তৎপুরুষ);
769. বৃন্তচ্যূত = বৃন্ত হইতে চ্যূত (অপাদান তৎপুরুষ);
770. বন্ধনমুক্তি = বন্ধন হইতে মুক্তি (অপাদান তৎপুরুষ);
771. বনগমন = বনে গমন (অধিকরণ তৎপুরুষ);
772. বনেজঙ্গলে = বনে ও জঙ্গলে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
773. বনেবাদাড়ে = বনে ও বাদাড়ে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
774. বনফুল = বনের ফুল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
775. বনবাস = বনে বাস (অধিকরণ তৎপুরুষ);
776. বর্ণচোরা = বর্ণ চুরি করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
777. বরকনে = বর ও কনে (দ্বন্দ্ব);
778. বরযাত্রী = বরের অনুগামী যাত্রী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
779. বরদ = বর দান করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
780. বলাবলি = কেবল বলা (নিত্য সমাস);
781. বংশধর = বংশের ধর (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
782. বসন্তসখা = বসন্ত সখা যার (বহুব্রীহি);
783. বসুন্ধরা = বসু ধরে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
784. বহুপত্নীক = বহু পত্নী যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
785. বয়নশিল্প = বয়ন নামক শিল্প (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
786. বাঁচামরা = বাঁচা ও মরা (দ্বন্দ্ব);
787. ভ্রাতৃতুল্য = ভ্রাতার তুল্য (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
788. ভ্রাতৃদ্বিতীয়া = ভ্রাতার কল্যাণে দ্বিতীয়া (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
789. ভাইবোন = ভাই ও বোন (দ্বন্দ্ব);
790. ভাগ্যদেবতা = ভাগ্য নিয়ন্ত্রক দেবতা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
791. ভাঙাগড়া = ভাঙা ও গড়া (দ্বন্দ্ব);
792. ভাত-কাপড় = ভাত ও কাপড় (দ্বন্দ্ব);
793. ভালোমন্দ = ভালো ও মন্দ (দ্বন্দ্ব);
794. ভাষান্তর = অন্য ভাষা (নিত্য সমাস);
795. ভিক্ষান্ন = ভিক্ষার্জিত অন্ন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
796. ভিক্ষামাত্র = কেবল ভিক্ষা (নিত্য সমাস);
797. ভিক্ষালব্ধ = ভিক্ষা দ্বারা লব্ধ (করণ তৎপুরুষ);
798. ভোগবর্জিত = ভোগ দ্বারা বর্জিত (করণ তৎপুরুষ);
799. ভূজঙ্গ = ভূজ অঙ্গ যার (উপপদ তৎপুরুষ);
800. ভূতপূর্ব = পূর্বে ভূত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
801. ভবসিন্ধু = ভব রূপ সিন্ধু (রূপক কর্মধারয়);
802. ভূমিষ্ঠ = ভূমিতে থাকে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
803. ভরপেট = ভরা যে পেট (সাধারণ কর্মধারয়);
804. ভয়ডর = ভয় ও ডর (দ্বন্দ্ব);
805. মুক্তাবলয় = মুক্তা খচিত বলয় (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
806. মুক্তিসংগ্রাম = মুক্তির জন্য সংগ্রাম (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
807. মুখচন্দ্র = মুখ চন্দ্রের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
808. মুখেভাত = মুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে (অলুক্ বহুব্রীহি);
809. মুখশশী = মুখ শশীর ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
810. মৃগনয়না = মৃগের নয়নের মতো নয়ন যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
811. মৃগশিশু = মৃগীর শিশু (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
812. মাঝদরিয়া = দরিয়ার মাঝ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
813. মাঝনদী = নদীর মাঝ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
814. মা-ঠাকরুন = যিনি মা তিনিই ঠাকরুন (সাধারণ কর্মধারয়);
815. মাঠে-ময়দানে = মাঠে ও ময়দানে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
816. মাতৃদায় = মাতার মৃত্যুজনিত দায় (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
817. মাতৃভক্তি = মাতায় ভক্তি মাতার প্রতি ভক্তি (অধিকরণ তৎপুরুষ);
818. মাতৃভাষা = মাতার ভাষা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
819. মাতৃহারা = মাতা হারিয়েছে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
820. মাধব = মা'র ধব (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
821. মানপত্র = মান নির্দেশক পত্র (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
822. মানবমানবী = মানব ও মানবী (দ্বন্দ্ব);
823. মাপকাঠি = মাপের জন্য কাঠি (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
824. মা-মরা = মা মরা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
825. মালাকার = মালা করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
826. মায়াকান্না = মায়া প্রকাশক কান্না (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
827. মায়াচ্ছন্ন = মায়া দ্বারা আচ্ছন্ন (করণ তৎপুরুষ);
828. মায়াডোর = মায়া রূপ ডোর (রূপক কর্মধারয়);
829. মায়াবদ্ধ = মায়া দ্বারা বদ্ধ (করণ তৎপুরুষ);
830. মায়ামুক্ত = মায়া হইতে মুক্ত (অপাদান তৎপুরুষ);
831. মায়েঝিয়ে = মায়ে ও ঝিয়ে (অলুক্ দ্বন্দ্ব);
832. মিঠেকড়া = মিঠে অথচ কড়া (সাধারণ কর্মধারয়);
833. মিথ্যাবাদী = মিথ্যা বলে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
834. মিষ্টান্ন = মিষ্ট যে অন্ন (সাধারণ কর্মধারয়);
835. মিহিদানা = মিহি দানা যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
836. মীনাক্ষী = মীনের অক্ষির মতো অক্ষি যার (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি);
837. মেঘাচ্ছন্ন = মেঘ দ্বারা আচ্ছন্ন (করণ তৎপুরুষ);
838. মেঘমুক্তি = মেঘ হইতে মুক্তি (অপাদান তৎপুরুষ);
839. মেঘমেদুর = মেঘের ন্যায় মেদুর (উপমান কর্মধারয়);
840. মৌচাক = মৌয়ের চাক (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
841. মৌমাছি = মৌ সঞ্চয়কারী মাছি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
842. মৌলবীসাহেব = যিনি মৌলবী তিনিই সাহেব (সাধারণ কর্মধারয়);
843. মৃত্যুঞ্জয় = মৃত্যুকে জয় করেছেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
844. মৃত্যুত্তীর্ণ = মৃত্যু হইতে উত্তীর্ণ (অপাদান তৎপুরুষ);
845. মৃত্যুভয় = মৃত্যু হইতে ভয় (অপাদান তৎপুরুষ);
846. মতান্তর = অন্য মত (নিত্য সমাস);
847. মতিচ্ছন্ন = ছন্ন যে মতি (সাধারণ কর্মধারয়);
848. মদ্যপ = মদ্য পান করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
849. মৃদুভাষিণী = মৃদু ভাবে ভাষিণী (কর্ম তৎপুরুষ);
850. মধ্যবিত্ত = মধ্য বিত্ত যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
851. মধ্যরাত্র = রাত্রির মধ্য (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
852. মন্ত্রিসভা = মন্ত্রির সভা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
853. মন্ত্রপূত = মন্ত্র দ্বারা পূত (করণ তৎপুরুষ);
854. মন্বন্তর = অন্য মনু (নিত্য সমাস);
855. মনোজ = মন হতে জন্ম যার (উপপদ তৎপুরুষ);
856. মনোলোভা = মন লুব্ধ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
857. মনমাঝি = মন রূপ মাঝি (রূপক কর্মধারয়);
858. মনমরা = মনে মরা (অধিকরণ তৎপুরুষ);
859. মর্মাহত = মর্মে আহত (অধিকরণ তৎপুরুষ);
860. মরুভূমি = মরুময় ভূমি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
861. মলয়ানিল = যা মলয় তাই অনিল (সাধারণ কর্মধারয়);
862. মশা-মাছি = মশা ও মাছি (দ্বন্দ্ব);
863. মহাজন = মহৎ যে জন (সাধারণ কর্মধারয়);
864. মহাধন = মহৎ যে ধন (সাধারণ কর্মধারয়);
865. মহানদী = মহা যে নদী (সাধারণ কর্মধারয়);
866. মহাপ্রাণ = মহান প্রাণ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
867. মহাষ্টমী = মহতী যে অষ্টমী (সাধারণ কর্মধারয়);
868. মহাষষ্ঠী = মহতী যে ষষ্ঠী (সাধারণ কর্মধারয়);
869. মহাসভা = মহতী যে সভা (সাধারণ কর্মধারয়);
870. মহোপাধ্যায় = মহান যে উপাধ্যায় (সাধারণ কর্মধারয়);
871. মহৎপ্রাণ = মহতের প্রাণ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
872. মড়াকান্না = মড়ার নিমিত্তে কান্না (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
873. রক্তচন্দন = রক্ত যে চন্দন (সাধারণ কর্মধারয়);
874. রক্ষাকবচ = রক্ষার জন্য কবচ (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
875. রঙ্গমঞ্চ = রঙ্গের নিমিত্তে মঞ্চ (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
876. রাজ্যচ্যূত = রাজ্য হইতে চ্যূত (অপাদান তৎপুরুষ);
877. রাজ্যপাল = রাজ্য পালন করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
878. রাজ্যহীন = রাজ্য দ্বারা হীন (করণ তৎপুরুষ);
879. রাজকর = রাজার উদ্দেশ্যে কর (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
880. রাজা-বাদশা = যিনি রাজা তিনিই বাদশা (সাধারণ কর্মধারয়);
881. রাজধানী = রাজার ধানী (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
882. রাজনীতি = রাজার অনুসৃত নীতি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
883. রাজপুত্র = রাজার পুত্র (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
884. রাজপথ = পথের রাজা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
885. রাজবাড়ি = রাজার বাড়ি (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
886. রাজভয় = রাজা হইতে ভয় (অপাদান তৎপুরুষ);
887. রাজমিস্ত্রী = মিস্ত্রীদের রাজা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
888. রাজর্ষি = যিনি রাজা তিনিই ঋষি (সাধারণ কর্মধারয়);
889. রাজরোগ = রোগের রাজা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
890. রাজসখ = রাজার সখা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
891. রাজসন্ন্যাসী = যিনি রাজা তিনিই সন্ন্যাসী (সাধারণ কর্মধারয়);
892. রাজসর্প = সর্পের রাজা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
893. রাজহংস = হংসের রাজা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
894. রাতকানা = রাতে কানা (অধিকরণ তৎপুরুষ);
895. রান্নাঘর = রান্নার জন্য ঘর (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
896. রামছাগল = রাম যে ছাগল (সাধারণ কর্মধারয়);
897. রূচিকর = রূচি করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
898. রুচিসম্পন্ন = রুচি অনুযায়ী সম্পন্ন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
899. রোগগ্রস্ত = রোগ দ্বারা গ্রস্ত (করণ তৎপুরুষ);
900. রোগাক্রান্ত = রোগ দ্বারা আক্রান্ত (করণ তৎপুরুষ);
901. রোগ-জীর্ণ = রোগ দ্বারা জীর্ণ (করণ তৎপুরুষ);
902. রোগমুক্ত = রোগ হইতে মুক্ত (অপাদান তৎপুরুষ);
903. রোগ-শীর্ণ = রোগ দ্বারা শীর্ণ (করণ তৎপুরুষ);
904. রোষাণ্বিত = রোষ দ্বারা অণ্বিত (করণ তৎপুরুষ);
905. রোষানল = রোষ রূপ অনল (রূপক কর্মধারয়);
906. রৌদ্রতপ্ত = রৌদ্র দ্বারা তপ্ত (করণ তৎপুরুষ);
907. রজনীশ = রজনীর ঈশ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
908. রণবীর = রণে বীর (অধিকরণ তৎপুরুষ);
909. রথদেখা = রথকে দেখা (কর্ম তৎপুরুষ);
910. রুদ্রবীণা = রুদ্র যে বীণা (সাধারণ কর্মধারয়);
911. রূপান্তর = অন্য রূপ (নিত্য সমাস);
912. রসজ্ঞ = রস জানেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
913. রসপুষ্ট = রস দ্বারা পুষ্ট (করণ তৎপুরুষ);
914. লক্ষ্মীছাড়া = লক্ষ্মী দ্বারা ছাড়া (করণ তৎপুরুষ);
915. লক্ষ্মীশ্রী = লক্ষ্মী যুক্তা শ্রী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
916. লাটসাহেব = যিনি লাট তিনিই সাহেব (সাধারণ কর্মধারয়);
917. লাঠালাঠি = লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
918. লাঠিখেলা = লাঠি দ্বারা খেলা (করণ তৎপুরুষ);
919. লালনীল = লাল ও নীল (দ্বন্দ্ব);
920. লিপিবদ্ধ = লিপি দ্বারা বদ্ধ (করণ তৎপুরুষ);
921. লোকগীতি = লোকসমাজে প্রচলিত গীতি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
922. লোকান্তর = অন্য লোক (নিত্য সমাস);
923. লোকজন = লোক ও জন (দ্বন্দ্ব);
924. লোকদেখানো = লোককে দেখানো (কর্ম তৎপুরুষ);
925. লোকভয় = লোক হইতে ভয় (অপাদান তৎপুরুষ);
926. লোকলজ্জা = লোক হইতে লজ্জা (অপাদান তৎপুরুষ);
927. লোক-লস্কর = লোক ও লস্কর (দ্বন্দ্ব);
928. লোকহিত = লোকের নিমিত্তে হিত (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
929. লোনাজল = লোনা যে জল (সাধারণ কর্মধারয়);
930. শ্বেতপদ্ম = শ্বেত যে পদ্ম (সাধারণ কর্মধারয়);
931. শ্রীনিবাস = শ্রীর নিবাস (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
932. শ্রীভ্রষ্ট = শ্রী হইতে ভ্রষ্ট (অপাদান তৎপুরুষ);
933. শ্রীশ = শ্রীর ঈশ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
934. শক্তিহীন = শক্তি দ্বারা হীন (করণ তৎপুরুষ);
935. শঙ্কর = শম্ করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
936. শাখামৃগ = শাখা বিহারী মৃগ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
937. শাপমুক্ত = শাপ হইতে মুক্ত (অপাদান তৎপুরুষ);
938. শাস্ত্রজ্ঞ = শাস্ত্র জানেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
939. শিক্ষায়তন = শিক্ষার জন্য আয়তন (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
940. শিবদুর্গা = শিব ও দুর্গা (দ্বন্দ্ব);
941. শিবনাথ = যিনি শিব তিনিই নাথ (সাধারণ কর্মধারয়);
942. শিশিরস্নাত = শিশির দ্বারা স্নাত (করণ তৎপুরুষ);
943. শিশুবিভাগ = শিশুদের জন্য বিভাগ (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
944. শিশুসাহিত্য = শিশুদের জন্য সাহিত্য (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
945. শূচিবস্ত্র = শূচি যে বস্ত্র (সাধারণ কর্মধারয়);
946. শোকাকুল = শোক দ্বারা আকুল (করণ তৎপুরুষ);
947. শোকানল = শোক রূপ অনল (রূপক কর্মধারয়);
948. শোকার্ত = শোক দ্বারা ঋত (করণ তৎপুরুষ);
949. শোকসভা = শোক প্রকাশক সভা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
950. শোণিতার্দ্র = শোণিত দ্বারা আর্দ্র (করণ তৎপুরুষ);
951. শত্রুঘ্ন = শত্রুকে বধ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
952. শতাব্দী = শত অব্দের সমাহার (দ্বিগু);
953. শবযাত্রা = শব বাহকের যাত্রা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
954. শবদাহ = শবের দাহ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
955. শুভদ = শুভ দেয় যে (উপপদ তৎপুরুষ);
956. শূলপাণি = শূল পাণিতে যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
957. শশিশেখর = শশি শেখর যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
958. শস্যশ্যামল = শস্য দ্বারা শ্যামল (করণ তৎপুরুষ);
959. শহিদ-দিবস - শহিদ স্মরণে পালিত দিবস (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
960. শাঁখ-আলু - আলু শাঁখের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
961. ষোড়শ = ষট্ অধিক দশ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
962. ষড়ঋতু = ষড় ঋতুর সমাহার (দ্বিগু);
963. ষড়ানন = ষট্ আনন যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি);
964. স্তন্যপায়ী = স্তন্য পান করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
965. স্নাতকোত্তর = স্নাতক হইতে উত্তর (অপাদান তৎপুরুষ);
966. স্নানযাত্রা = স্নানের উদ্দেশ্যে যাত্রা (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
967. স্নানসিক্ত = স্নান দ্বারা সিক্ত (করণ তৎপুরুষ);
968. স্নেহশীতল = স্নেহ দ্বারা শীতল (করণ তৎপুরুষ);
969. স্পর্শমণি = স্পর্শ সিদ্ধ মণি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
970. স্বক্ষেত্র = স্ব এর ক্ষেত্র (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
971. স্বাধীন = স্ব এর অধীন (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
972. স্বাধীনতা-দিবস = স্বাধীনতা স্মরণে পালিত দিবস (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
973. স্বার্থপর = স্বার্থে পর (অধিকরণ তৎপুরুষ);
974. স্বদেশপ্রেম = স্বদেশের নিমিত্তে প্রেম (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
975. স্বর্গচ্যূত = স্বর্গ হইতে চ্যূত (অপাদান তৎপুরুষ);
976. স্বর্গোদ্যান = স্বর্গের উদ্যান (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
977. স্বর্ণ = সু অর্ণ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
978. স্বর্ণমুদ্রা = স্বর্ণ নির্মিত মুদ্রা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
979. স্মৃতিমন্দির = স্মৃতির উদ্দেশ্যে মন্দির (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
980. স্মৃতিসৌধ = স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
981. স্মরণাতীত = স্মরণকে অতীত (কর্ম তৎপুরুষ);
982. সক্রিয় = ক্রিয়ার সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
983. সখাসখী = সখা ও সখী (দ্বন্দ্ব);
984. সুগন্ধি = সু গন্ধ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
985. সঙ্গীহীন = সঙ্গী দ্বারা হীন (করণ তৎপুরুষ);
986. সাকার = আকারের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
987. সাজঘর = সাজের জন্য ঘর (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
988. সাধনভজন = সাধন ও ভজন (দ্বন্দ্ব);
989. সাবধান = অবধানের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
990. সাবলীল = অবলীলার সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
991. সার্থক = অর্থের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
992. সারদা = সার দেন যে দেবী (উপপদ তৎপুরুষ);
993. সাশ্রয় = আশ্রয়ের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
994. সায়াহ্ন = অহের সায় (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
995. সিতাসিত = সিত ও অসিত (দ্বন্দ্ব);
996. সিদ্ধার্থ = সিদ্ধ হয়েছে অর্থ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
997. সচকিত = চকিতের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
998. সূচিশিল্প = সূচিসাধ্য শিল্প (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
999. সচরাচর = চরাচরের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1000. সেতার = সেহ্ তারের সমাহার (দ্বিগু);
1001. সেনানী = সেনাকে নেয় দেয় যে (উপপদ তৎপুরুষ);
1002. সোদর = সমান উদর যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
1003. সোনামুখ = মুখ সোনার ন্যায় (উপমিত কর্মধারয়);
1004. সোনারূপা = সোনা ও রূপা (দ্বন্দ্ব);
1005. সোল্লাস = উল্লাসের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1006. সজ্জন = সৎ যে জন (সাধারণ কর্মধারয়);
1007. সটীক = টীকার সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1008. সুযোগসন্ধানী = সুযোগ সন্ধান করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
1009. সত্যাগ্রহ = সত্যে আগ্রহ (অধিকরণ তৎপুরুষ);
1010. সত্যনিষ্ঠ = সত্যে নিষ্ঠা যার (ব্যধিকরণ বহুব্রীহি);
1011. সত্যবাদী = সত্য বলে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
1012. সত্যভ্রষ্ট = সত্য হইতে ভ্রষ্ট (অপাদান তৎপুরুষ);
1013. সত্বর = ত্বরার সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1014. সূত্রধার = সূত্র ধারণ করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
1015. সূত্রধর = সূত্র ধারণ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
1016. সতেজ = তেজের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1017. সতর্ক = তর্কের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1018. সদর্থক = সৎ অর্থ যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
1019. সুদর্শন = সু দর্শন যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
1020. সুধাকর = সুধার আকর (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
1021. সুধী = সু ধী যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
1022. সধবা = ধবের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1023. সন্তান-সন্ততি = সন্তান ও সন্ততি (দ্বন্দ্ব);
1024. সপ্তাহ = সপ্ত অহের সমাহার (দ্বিগু);
1025. সুপ্তোত্থিত = অগ্রে সুপ্ত পশ্চাতে উত্থিত (সাধারণ কর্মধারয়);
1026. সপ্তদশ = সপ্ত অধিক দশ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
1027. সপ্তপদী = সপ্ত পদের সমাহার (দ্বিগু);
1028. সপুত্র = পুত্রের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1029. সপরিবার = পরিবারের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1030. সফল = ফলের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1031. সব্যসাচী = সব্য হস্ত সচন করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
1032. সবাক = বাকের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1033. সংবাদপত্র = সংবাদের উদ্দেশ্যে পত্র (নিমিত্ত তৎপুরুষ);
1034. সবান্ধব = বান্ধবের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1035. সবিশেষ = বিশেষের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1036. সবেগ = বেগের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1037. সবজান্তা = সব জানে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
1038. সবল = বলের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1039. সভাপতি = সভার পতি (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
1040. সম্মুখ = মুখের অভিমুখে (অব্যয়ীভাব);
1041. সমক্ষ = অক্ষির নিকটে (অব্যয়ীভাব);
1042. সমন্ত্রক = মন্ত্রের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1043. সর্পভয় = সর্প হইতে ভয় (অপাদান তৎপুরুষ);
1044. সর্বাঙ্গসুন্দর = সর্বাঙ্গে সুন্দর (অধিকরণ তৎপুরুষ);
1045. সর্বত্রগামী = সর্বত্র গমন করেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
1046. সর্বনাশা = সর্ব নাশ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
1047. সর্বহারা = সর্ব হারিয়েছেন যিনি (উপপদ তৎপুরুষ);
1048. সরোজ = সরঃ জন্মে যা (উপপদ তৎপুরুষ);
1049. সরোবর = সরস মধ্যে বর (অধিকরণ তৎপুরুষ);
1050. সুরসিদ্ধ = সুর দ্বারা সিদ্ধ (করণ তৎপুরুষ);
1051. সশ্রদ্ধ = শ্রদ্ধার সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1052. সশঙ্ক = শঙ্কার সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1053. সশরীর = শরীরের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1054. সৃষ্টিছাড়া = সৃষ্টি হইতে ছাড়া (অপাদান তৎপুরুষ);
1055. সস্নেহ = স্নেহের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1056. সসম্ভ্রম = সম্ভ্রমের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1057. সসম্মান = সম্মানের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1058. সহোদর = সমান উদর যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
1059. সহজ = সহ জন্মে যা (উপপদ তৎপুরুষ);
1060. সহজ-সরল = যা সহজ তাই সরল (সাধারণ কর্মধারয়);
1061. সুহৃদ = সু হৃদয় যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
1062. সহৃদয় = হৃদয়ের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1063. সহর্ষ = হর্ষের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি);
1064. সিঁদুররাঙা = সিঁদুরের মতো রাঙা (উপমান কর্মধারয়);
1065. সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
1066. সিংহশিশু = সিংহের ন্যায় শিশু (উপমিত কর্মধারয়);
1067. হা-ঘর = ঘরের অভাব (অব্যয়ীভাব);
1068. হাটবাজার = হাট ও বাজার (দ্বন্দ্ব);
1069. হাতঘড়ি = হাতে পরার ঘড়ি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
1070. হাতাহাতি = হাতে হাতে যে যুদ্ধ (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
1071. হাতেখড়ি = হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে (অলুক্ বহুব্রীহি);
1072. হাতছানি = হাত দ্বারা ছানি (করণ তৎপুরুষ);
1073. হাত-দেখা = হাতকে দেখা (কর্ম তৎপুরুষ);
1074. হাতধরা = হাত দিয়ে ধরা (করণ তৎপুরুষ);
1075. হাত-পা = হাত ও পা (দ্বন্দ্ব);
1076. হানাহানি = পরস্পরকে হানা (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
1077. হাভাত = ভাতের অভাব (অব্যয়ীভাব);
1078. হারজিত = হার ও জিত (দ্বন্দ্ব);
1079. হাসাহাসি = হাসতে হাসতে যে কাজ (ব্যতিহার বহুব্রীহি);
1080. হাসি-খেলি = হাসি ও খেলি (দ্বন্দ্ব);
1081. হাসিঠাট্টা = হাসি ও ঠাট্টা (দ্বন্দ্ব);
1082. হিতকর = হিত করে যা (উপপদ তৎপুরুষ);
1083. হীনশক্তি = হীন হয়েছে শক্তি যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
1084. হেডমাষ্টার = হেড যে মাষ্টার (সাধারণ কর্মধারয়);
1085. হতভাগা = হত হয়েছে ভাগ্য যার (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি);
1086. হৃদয়াকাশ = হৃদয় রূপ আকাশ (রূপক কর্মধারয়);
1087. হরিণ = হরণ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ);
1088. হররোজ = রোজ রোজ (অব্যয়ীভাব);
1089. হলঘর = যা হল তাই ঘর (সাধারণ কর্মধারয়);
1090. হলুদবাটা = বাটা যে হলুদ (সাধারণ কর্মধারয়);
1091. হৃষ্টপুষ্ট = যে হৃষ্ট সে পুষ্ট (সাধারণ কর্মধারয়);
1092. হস্তিমূর্খ = হস্তির ন্যায় মূর্খ (উপমান কর্মধারয়);
1093. হস্তশিল্প = হস্ত নির্মিত শিল্প (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);
1094. হংসডিম্ব = হংসীর ডিম্ব (সম্বন্ধ তৎপুরুষ);
1095. হাঁটাহাঁটি = কেবল হাঁটা (নিত্য সমাস);
1096. হাঁটুজল = হাঁটু পরিমাণ জল (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়);