ব্যবহারকারী:Nokib Sarkar/বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড' বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের প্রাক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞানের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা। [১] ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (বিডিবিও) কমিটি এবং সমকাল যৌথভাবে এর আয়োজন করে থাকে। [২] বিশেষ সহযোগী, প্রশিক্ষণ সহযোগী এবং কারিগরি সহযোগী হিসেবে রয়েছে যথাক্রমে কথাপ্রকাশ, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজি এবং ল্যাব বাংলা। প্রতিযোগিতাটি পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে: আঞ্চলিক উৎসব, জাতীয় উৎসব, প্রাক-ক্যাম্প নির্বাচনী, জাতীয় বায়োক্যাম্প এবং বর্ধিত বায়োক্যাম্প। প্রতিটি ধাপে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ধাপে অংশ নিতে পারে। সর্বশেষ ধাপের শেষে নির্বাচিত চারজন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে। [৩] জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজনের করা ছাড়াও বিডিবিও এমন সব সংগঠন এবং ব্যক্তিদের সহায়তা দেয় যারা নিজেরা জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন করতে আগ্রহী বা জীববিজ্ঞানের বিস্তার এবং জনপ্রিয়করণের জন্য কাজ করছে। এটি বাস্তবায়িত হয় বায়োটক (জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিক গণবক্তৃতা কার্যক্রম), প্যারালাল বায়োলজি স্কুল (সারাদেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জীববিজ্ঞানের প্রসারের লক্ষ্যে জনসংযোগ ও শিক্ষা কর্মসূচি), জনপ্রিয় ও একাডেমিক উভয় ধাঁচের জীববিজ্ঞান-সংক্রান্ত প্রকাশনা ইত্যাদির মাধ্যমে। [৪] বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের জাতীয় ছুটির দিনসমূহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান সম্পর্কিত বিশেষ দিনগুলি উদযাপন করে। যেমন: ডিএনএ দিবস, ডারউইন দিবস, দ্বিজেন শর্মা স্মরণ দিবস ইত্যাদি। [৫]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০১২ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজিত হয়। [৬] তখন থেকে প্রতি বছরই নিয়মিতভাবে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সদস্যপদ প্রাপ্তির মানদণ্ড অনুযায়ী বিডিবিও ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (আইবিও) প্রথম পর্যবেক্ষক প্রেরণ করে। ২০১৬ সালে আইবিও কমিটির পূর্ণ সদস্য হওয়ার সময় থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে আইবিওতে প্রতিযোগিতা করেছে।[৭]

বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক উৎসবসমূহ যতগুলো অঞ্চলে আয়োজিত হয় তার প্রতিটিতে একটি করে আঞ্চলিক কমিটি রয়েছে এবং সেগুলোর সমন্বয় সাধনের জন্য রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী [৮]

জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের নিয়ম[সম্পাদনা]

অংশগ্রহণকারী আসন্ন আইবিও-এর আগের বছরের জুলাইতে একজন শিক্ষার্থী কোন শ্রেণীতে ছিল/আছে তার উপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদেরকে তিনটি একাডেমিক ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয় এবং অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক ও জাতীয় উৎসব নিম্নলিখিত ক্যাটাগরি অনুসারে সম্পন্ন হয়।

  1. জুনিয়র: ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণী / সমমানের
  2. সেকেন্ডারি: নবম-দশম শ্রেণী / এসএসসি পরীক্ষার্থী / ও-লেভেল / সমমানের
  3. হায়ার সেকেন্ডারি: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী / এইচএসসির পরীক্ষার্থী / এ-লেভেল / সমমানের

উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন শিক্ষার্থী আইবিও ২০২০ এর জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশগ্রহন করে এবং ২০১৯-এর জুলাইয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত হয়, তবে তার ক্যাটাগরি জুনিয়র হবে যদিও সে ২০২০ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ছে।

ভাষা ও মাধ্যম[সম্পাদনা]

নিবন্ধনকালে প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার পছন্দের ভাষা বেছে নিতে পারেন। পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্রটি তার কাঙ্খিত ভাষায় সরবরাহ করা হয়। অতএব, আইবিও সহ বাছাইপর্বের কোনো ধাপের ক্ষেত্রেই ভাষাগত বাধা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

পরীক্ষা পদ্ধতি ও বিষয়াবলী[সম্পাদনা]

আইবিও নির্দেশিকা অনুযায়ী, জীববিজ্ঞানের সাতটি প্রধান বিষয়ে দক্ষতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয় - কোষবিদ্যা ও প্রাণরসায়ন, উদ্ভিদ অঙ্গসংসস্থান ও শারীরতত্ত্ব, প্রাণি অঙ্গসংসস্থান ও শারীরতত্ত্ব, বংশগতিবিদ্যা ও জৈব অভিব্যক্তি, বাস্তুবিদ্যা, প্রাণি-আচরণবিদ্যা এবং বায়োসিস্টেমেটিক্স ও বায়োইনফরমেটিক্স। সাধারণত অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক ও জাতীয় উৎসবের অভীক্ষায় বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পদ্ধতি (এমসিকিউ) অনুসরণ করা হয়। প্রাক-ক্যাম্প নির্বাচনী পরীক্ষায় সংক্ষিপ্ত লিখিত প্রশ্ন (এমসিকিউ) থাকে। [৯] আঞ্চলিক উৎসবের আঞ্চলিক উৎসবের প্রশ্নপত্র প্রণয়নে প্রধানত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকগুলি এবং জাতীয় উৎসব ও তদূর্ধ পর্যায়ের প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য উচ্চতর পাঠ্যবই ও বৈজ্ঞানিক জার্নালসমূহ অনুসরণ করা হয়। জাতীয় বায়োক্যাম্প সাধারণত ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজিতে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে মূলত কাঠামোবদ্ধ বিষয়ানুগ ব্যবহারিক পরীক্ষা (ওএসপিই) দ্বারা জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক কাজে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। [১০] যেসব শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে উপরের চারটি ধাপ উত্তীর্ণ হয় তাদেরকে সর্বশেষ ধাপ বর্ধিত বায়োক্যাম্পে আহ্বান করা হয়। এই ধাপে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক - উভয় প্রকার মূল্যায়ন করা হয়। সবশেষে চারজন শিক্ষার্থীকে বেছে নেওয়া হয় আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। তাদের সাথে থাকেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত দুইজন আন্তর্জাতিক জুরি যারা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জীববিজ্ঞান বা তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক।

শর্তাবলী[সম্পাদনা]

দ্বাদশ শ্রেণি বা এ-লেভেল পর্যন্ত যেকোনো শিক্ষার্থী জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে প্রতিযোগিতা করতে পারে যদি সে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত হয়, আসন্ন আইবিও যে বছর হবে সেই বছরের পয়লা জানুয়ারির পূর্বে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি না হয়ে থাকে, আসন্ন আইবিও যে বছর হবে সেই বছরের পয়লা জুলাই যদি তার তার বয়স কুড়ি বছরের কম হয় এবং ইতোমধ্যে আইবিওতে দুইবার অংশগ্রহণ না করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্তরে বা তার উপরের স্তরের জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। বিডিবিওর স্বেচ্ছাসেবকদের "এনজাইম" বলা হয়। [১০]

আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বিজয়ীরা[সম্পাদনা]

প্রতিবছর সারা বিশ্বের নিবন্ধনকৃত সদস্যদেশগুলোর নিজ নিজ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (আইবিও) প্রতিযোগিতা। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো আইবিওতে বাংলাদেশের পক্ষে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করে অদ্বিতীয় নাগ। [১১] তার পরের বছর বাংলাদেশ দল তিনটি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করে। [১২] বাংলাদেশের পক্ষে আইবিওতে সম্মাননা অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিম্নরূপ:

সাল আইবিও ভেন্যু প্রতিযোগীর নাম পদক
২০১৬ ভিয়েতনাম মাইশা মুনাওয়ারা প্রমি মেরিট
ওয়াসিক হাসান মেরিট
২০১৭ যুক্তরাজ্য মাইশা মুনাওয়ারা প্রমি মেরিট
নাজমুস সাদাত মেরিট
২০১৮ ইরান অদ্বিতীয় নাগ ব্রোঞ্জ
২০১৯ হাঙ্গেরি অদ্বিতীয় নাগ ব্রোঞ্জ
মাধব বৈদ্যন শঙ্করণ ব্রোঞ্জ
রাফসান রহমান রায়ান ব্রোঞ্জ

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bangladesh Biology Olympiad" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৪ 
  2. "bdbo Central Committee 2019-20 – Bangladesh Biology Olympiad" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৪ 
  3. "International Biology Olympiad"International Biology Olympiad (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৪ 
  4. "জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড সংকলন"www.goodreads.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৪ 
  5. "বিবর্তন ও ধর্ম সাংঘর্ষিক নয়"সমকাল (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৪ 
  6. "ফরিদপুরে জীববিজ্ঞান উৎসব অনুষ্ঠিত"www.prothom-alo.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৪ 
  7. "IBO member countries and regions"International Biology Olympiad (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৪ 
  8. "bdbo Central Committee 2019-20 – Bangladesh Biology Olympiad" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৪ 
  9. ফারুকী, ফারিহা; সাইদ, নাদিয়া; আরাজ, সাহিরা; সামি, মুনিযা এ; আমির, মুহাম্মদ (২০১৮-১২-২৪)। "A Comparison Between Written Assessment Methods: Multiple-choice and Short Answer Questions in End-of-clerkship Examinations for Final Year Medical Students"কিউরিয়াস (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 2168-8184ডিওআই:10.7759/cureus.3773পিএমআইডি 30820392পিএমসি 6389017অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  10. Nayar, U.; Malik, S. L.; Bijlani, R. L. (১৯৮৬-০৫-০১)। "Objective structured practical examination: a new concept in assessment of laboratory exercises in preclinical sciences"Medical Education20 (3): 204–209। আইএসএসএন 0308-0110ডিওআই:10.1111/j.1365-2923.1986.tb01169.xপিএমআইডি 3724576 
  11. [১]
  12. [২]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]