ব্যবহারকারী:Khurshiduzzaman Ahmed

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
খুরশীদুজ্জামান আহমেদ

১৯৬৬ সালের ১২ অক্টোবর লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিরাম গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন খুরশীদুজ্জামান আহমেদ। পিতা আলহাজ করিম উদ্দিন আহমেদ ,মাতা শামসুন্নাহার করিম ।১৯৯৪ সালে কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।২০০২ সালে একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বিদ্যালয়টি বাংলাদেশের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালে জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি হয়ে কানাডার কিংস্টনের কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে " স্কুল ম্যানেজমেন্ট " এর বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান।

২০১০সালে British Council এর Schools online প্রোগ্রামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অন্তর্ভুক্ত করেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ । তিনি ২০১২ সালে  ব্রিটিশ কাউন্সিলের একজন স্কুল এম্বাসেডর ( Schools Ambassador) নিযুক্ত হন। ২০১৩ সালে  দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ইউনেস্কোর আয়োজনে "ই-লার্নিং" শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বৃটিশ কাউন্সিল এর সহযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ কাউন্সিল এর কানেক্টিং ক্লাসরুমস এর আওতায় লন্ডনের স্যার জন ক্যাশ রেড কোট সেকেন্ডারী স্কুল ভিজিট করেন।

কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সংক্ষেপে কে,ইউ,পি স্কুল বলা হয়|  লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে এ স্কুলটিতে বিতর্ক চর্চা যেন এখন নিয়মিত আবশ্যিক কাজে পরিনত হয়েছে। এ স্কুলের বিতর্ক চর্চার ইতিহাস অনেক পুরাতন হলেও নিবিড় ভাবে চর্চা শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। ২০১২ সালে  ব্র্যাক- এটিএন বাংলা ও ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির  ‘বিতর্ক বিকাশ’ জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অত্র স্কুলের  শিক্ষার্থীদের মধ্যে জান্নাতুন নাঈম সোমা, মোঃ শাহনেওয়াজ সম্রাট,হুমাইয়া আক্তার হ্যাপী,  রেহেনা আফরোজ রুমা ,মোঃ তারিকুল ইসলাম  তুহিন ও সুমাইয়া বিনতে কাওসার তিথিদের একটি দল প্রথম বছরেই জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় গৌরব অর্জন করে।

বিতর্কে দেশসেরা লালমনিরহাট জেলার এই  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু প্রথমবারের পর পুনরায় ২০১৩ সালে জান্নাতুন নাঈম সোমা, রেহেনা আফরোজ রুমা,আমীর সোহেল রাব্বী, ইশরাত জাহান টুম্পা ও আলীরাজ সঞ্চয় এর একটি দল জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে জয় রথ। ২০১৪ সালে প্রথম আলো ও পেপসোডেন্ট এর আয়োজনে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত অংশগ্রহণ এই টিম। এবার দল চ্যাম্পিয়ন না হলেও বারোয়ারী বিতর্কে জান্নাতুল নাঈম সোমা জাতীয়ভাবে  “ সেরাদের-সেরা”  হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

২০১৪ সালেই  বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, রংপুর অঞ্চলের আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগীতায় কে,ইউ,পি স্কুল চ্যাম্পিয়ন হয় এবং শ্রেষ্ঠ বক্তাদের মধ্যে বারোয়ারী বিতর্ক হলে সেখানেও  আলীরাজ আনছারী চ্যাম্পিয়ন হয়।

জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর আয়োজন ২০১৩ সালে উপস্থিত বিতর্কে কে ইউ পি স্কুলের দল জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে। ২০১৩ সালে ইসলামিক ফাঊন্ডেশন আয়োজিত তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় জাতীয় ভাবে শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় শাহনেওয়াজ সম্রাট। শুধু দলগতভাবে নয় একক অর্জনেও সেরা শিক্ষার্থীরা। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত একক বক্তৃতায় আমীর সোহেল রাব্বী জাঁতীয় ভাবে স্বর্ণ পদক লাভ করে।  ২০১৭ সালেও বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত “ধারাবাহিক গল্প” বলা প্রতিযোগিতায় দশম শ্রেণির ছাত্রী হাবিবা সুলতানা বন্যা জাতীয় ভাবে শ্রেষ্ঠ হয় এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আব্দুল হামিদ মহোদয়ের হাত থেকে স্বর্ণ পদক গ্রহণ করেন।

২০১৬ সালের শুরুতেই আফিয়া জাহিন রোদসী জাঁতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে একক বিতর্কে” জাঁতীয় ভাবে অংশগ্রহণ করে তাঁরা বিভাগীয় পর্যায়ে সেরাদের তালিকায় থাকে।  গত ৬ ও ৭ মে, ২০১৬ তারিখে জাঁতীয় মানবাধিকার কমিশন, বিডিএফ ও ইউনিসেফ আয়োজিত জাঁতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রংপুর অঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হয়ে  জাতীয়ভাবে উক্ত দল   রানার আপ হয়।

‘সমকাল বিজ্ঞান বিষয়ক বিতর্ক - ২০১৬’ এ স্কুলের দল রংপুর বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয় । তাঁদের বির্তক বাসনা অদম্য তাই ২০১৭ তে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত হলেও ‘সমকাল বিজ্ঞান বিষয়ক বিতর্ক ২০১৭’ তে পূনরায় জাতীয় ভাবে রানার-আপ হয়।  

প্রতি বছরেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ছাত্রছাত্রীরা অংশ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করেন প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ। তিনি ২০১৭ সালে ৯-১৩ ফেব্রুয়ারী এ বিদ্যালয় থেকে দুই কৃতি ছাত্রী সহকারী শিক্ষক জনাব বদলুল আলম এর নেতৃত্বে  উম্মে হাবিবা লিমা ও আফিয়া জাহীন রোদসি এশিয়ান ইংলিশ অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় প্রেরণ করেন এখানে সর্বকনিষ্ট অংশগ্রহণকারী উম্মে হাবিবা লিমা " পাবলিক স্পিকিং " বিষয়ে অক্টো-ফাইনালিস্ট হওয়ার গৌরব অর্জণ করে । ২০১৮ সালে নেপালের  পোখারায় ৬-৯ জানুয়ারী আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাবল চ্যাম্পিয়নশীপে ১৯ জন শিক্ষার্থীর একটি দল বাংলাদেশ থেকে সড়ক পথে নিয়ে যান । তার শিক্ষার্থী আবু সাকিব চৌধুরী চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০১৮ এর ফেব্রুয়ারীতে  GEIST International Foundation এর  আয়োজনে Global competence Award ২১টি দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অত্র প্রতিষ্ঠান 1st Runner-Up এর যোগ্যতা ও Award  লাভ করে।  মার্চে বৃটিশ কাউন্সিল আয়োজিত International School Award অত্র প্রতিষ্ঠানটি লাভ করে।

২০০৮ সালে তিনি " বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি " লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর থেকে পরিচালিত a2i এর ICT4E এর একজন জেলা এ এম্বাসেডর নির্বাচিত হন।