ব্যবহারকারী:Ahm masum/খেলাঘর১৮

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মসজিদ আল-আকসা

মসজিদুল আকসা
আল-আকসা মসজিদ জেরুজালেম-এ অবস্থিত
আল-আকসা মসজিদ
আল-আকসা মসজিদ
জেরুজালেমের পুরনো শহরে আল-আকসার অবস্থান ।
স্থানাঙ্ক: ৩১°৪৬′৩৪″ উত্তর ৩৫°১৪′০৯″ পূর্ব / ৩১.৭৭৬১৭° উত্তর ৩৫.২৩৫৮৩° পূর্ব / 31.77617; 35.23583স্থানাঙ্ক: ৩১°৪৬′৩৪″ উত্তর ৩৫°১৪′০৯″ পূর্ব / ৩১.৭৭৬১৭° উত্তর ৩৫.২৩৫৮৩° পূর্ব / 31.77617; 35.23583
অবস্থান জেরুজালেমের পুরনো শহর
প্রতিষ্ঠিত ৭০৫ সালে
শাখা/ঐতিহ্য ইসলাম
প্রশাসন জেরুজালেম ইসলামি ওয়াকফ
পরিচালনা






স্থাপত্য তথ্য
ধরণ প্রাথমিক ইসলামি, মামলুক
ধারণক্ষমতা ৫,০০০+
দৈর্ঘ্য ২৭২ ফুট
প্রস্থ ১৮৪ ফুট
আবৃত স্থান ১,৪৪,০০০ বর্গমিটার (১৫,৫০,০০০ বর্গফুট) [১] [২]
গম্বুজ ২টি বৃহৎ + দশটি ছোট
মিনার
মিনারের উচ্চতা ৩৭ মিটার (১২১ ফু) (শীর্ষতম)
ভবনের উপকরণ চুনাপাথর (বাইরের দেয়াল, মিনার, বহির্ভাগ), স্বর্ণ, সীসা ও পাথর (গম্বুজ), সাদা মার্বেল (ভেতরের স্তম্ভ) এবং মোজাইক[৩]

মসজিদুল আকসা (আরবি: المسجد الاقصى‎‎; আইপিএ: [ʔælˈmæsdʒɪd ælˈʔɑqsˤɑ] (এই শব্দ সম্পর্কেশুনুন)) (আল-আকসা মসজিদ বা বাইতুল মুকাদ্দাস [৪] [৫]বলেও পরিচিত) ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ[৬]জেরুজালেমের পুরনো শহরে এর অবস্থান। মসজিদের সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলাকুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। এই পুরো স্থানকে হারাম আল শরিফ বলা হয়।[৭] [৮] [৯] [১০] এছাড়াও স্থানটি এটি টেম্পল মাউন্ট বলে পরিচত এবং ইহুদি ধর্মে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। এখানে অবস্থিত সাখরা নামক পাথরের কারণে স্থানটি ধর্মীয় দিক দিয়ে গুরুত্ববহ। ইহুদি প্রথা অনুযায়ী এটি বেহেশতপৃথিবীর মধ্যকার আধ্যাত্মিক সংযোগ।[১১] ইসলামের বর্ণনা অণুযায়ী মুহাম্মদ (সা) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন।[১২][১৩] ইতিহাসবিদ পণ্ডিত ইবনে তাহমিয়া বলেছেন ," আসলে সুলাইমান (আঃ) এর তৈরি সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটির নামই হল মসজিদুল আল-আকসা"।[১৪] মুহাদ্দিসগণ এই বিষয়ে একমত যে সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটিই ইসলামের নবী সুলাইমান (আঃ) তৈরি করেছিলেন যা পরবর্তীতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল । [১৫] মুসলমানরা বিশ্বাস করে , নির্মাণের পর থেকে এটি ঈসা (আঃ) সহ অনেক নবীর দ্বারা এক আল্লাহকে উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যাবহার হয়ে এসেছে। [১৬] [১৭] [১৮] [১৯] [২০] এই স্থান মুসলিমদের প্রথম কিবলা[২১] [২২][২৩] [২৪] [২৫] [২৬] হিজরতের পর কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলে কাবা নতুন কিবলা হয়। [২৭] বর্তমানে "আল-আকসা" মসজিদটি আসলে কিবলি মসজিদ , মারওয়ানি মসজিদ ও বুরাক মসজিদ ৩টির সমন্বয় [২৮] যা "হারাম আল শরীফ" এর চার দেয়াল এর মধ্যেই অবস্থিত। [২৯] [৩০]

খলিফা উমর বর্তমান মসজিদের স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের যুগে মসজিদ পুনর্নির্মিত ও সম্প্রসারিত হয়। এই সংস্কার ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে তার পুত্র খলিফা প্রথম আল ওয়ালিদের শাসনামলে শেষ হয়। ৭৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ভূমিকম্পে মসজিদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর এটি পুনর্নির্মাণ করেন। পরে তার উত্তরসুরি আল মাহদি এর পুনর্নির্মাণ করেন। ১০৩৩ খ্রিষ্টাব্দে আরেকটি ভূমিকম্পে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফাতেমীয় খলিফা আলি আজ-জাহির পুনরায় মসজিদ নির্মাণ করেন যা বর্তমান অবধি টিকে রয়েছে। [৩১]

আল আকসা মসজিদের পূর্ব পাশের বিস্তৃত দৃশ্য । ইসলামে তৃতীয় পবিত্র স্থান ।

বিভিন্ন শাসকের সময় মসজিদে অতিরিক্ত অংশ যোগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গম্বুজ, আঙ্গিনা, মিম্বর, মিহরাব, অভ্যন্তরীণ কাঠামো। ১০৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করার পর তারা মসজিদকে একটি প্রাসাদ এবং একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত কুব্বাত আস সাখরাকে গির্জা হিসেবে ব্যবহার করত। সুলতান সালাহউদ্দিন জেরুজালেম পুনরায় জয় করার মসজিদ হিসেবে এর ব্যবহার পুনরায় শুরু হয়। আইয়ুবী, মামলুক, উসমানীয়, সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল ও জর্ডানের তত্ত্বাবধানে এর নানাবিধ সংস্কার করা হয়। বর্তমানে পুরনো শহর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তবে মসজিদ জর্ডা‌নি/ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন ইসলামি ওয়াকফের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। [৩২]

নাম উৎপত্তি[সম্পাদনা]

আল আকসার কিবলি মসজিদ এবং কুব্বাত সুলাইমান (১৯০৭ সালে প্রকাশিত চিত্র )।

মসজিদুল আকসা অর্থ দূরবর্তী মসজিদ। মিরাজের রাতে মুহাম্মদ (সা) বোরাকে চড়ে মক্কা থেকে এখানে এসেছিলেন মর্মে কুরআনে উল্লেখ রয়েছে।[৩৩][৩৪]

অনেক বছর ধরে মসজিদুল আকসা বলতে পুরো এলাকাকে বোঝানো হত এবং মসজিদকে আল-জামি আল-আকসা বলা হত। উসমানীয় শাসনামলে প্রশাসনিক কারণে[৭] পুরো পবিত্র স্থানটি হারাম আল শরিফ বলে পরিচিত হয়।[৩৫]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

হারাম আল শরিফের " দক্ষিণ দেয়ালসহ " মসজিদ । দেয়ালটি যেবুসিয়দের তৈরি ।যারা খ্রিষ্টের জন্মেরও ৩০০০ বছর পূর্বে ইসরাইলে বসবাস করতেন।
হারাম আল শরিফের " দক্ষিণ দেয়ালসহ " মসজিদটি । দেয়ালটি যেবুসিয়দের তৈরি ।যারা খ্রিষ্টের জন্মেরও ৩০০০ বছর পূর্বে ইসরাইলে বসবাস করতেন।
মুসলিম বিশ্বাস মতে "দক্ষিণ দেয়াল" এর নিকটেই কোথাও "বোরাককে" বেঁধে রেখে ছিলেন নবী (সাঃ)
মুসলিম বিশ্বাস মতে "দক্ষিণ দেয়াল" এর নিকটেই কোথাও "বোরাককে" বেঁধে রেখে ছিলেন নবী (সাঃ)

নির্মাণপূর্ব যুগ[সম্পাদনা]

১৮৯০ সালে তৈরি "হারাম আস শরীফ"(ইহুদী ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বিদের নিকট "টেম্পল মাউন্ট" নামে পরিচিত) বা[৩৬] "আল-আকসার" নক্সা । ইতিহাসবিদ পণ্ডিত ইবনে তাহমিয়া বলেছেন ," আসলে সুলাইমান (আঃ ) এর তৈরি সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটির নামই হল মসজিদুল আল-আকসা"।[৩৭] মুহাদ্দিসগণ এই বিষয়ে একমত যে সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটিই ইসলামের নবী সুলাইমান (আঃ) তৈরি করেছিলেন যা পরবর্তীতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল । [৩৮] [ টীকাঃ আল আকসা মসজিদ স্থাপনাটির (মুসলমানদের নিকট পবিত্র স্থানটুকু ) অবস্থান সম্বন্ধে একটি প্রচলিত ভুল ধারনা রয়েছে ।সবচেয়ে প্রচলিত , সোনালি গম্বুজওয়ালা স্থাপনাটি আসলে কুব্বাত আল শাখরা (ডোম অব দ্যা রক) [৩৯]। ধূসর সীসার প্লেট দ্বারা আচ্ছাদিত গম্বুজওয়ালা স্থাপনাটি আসলে কিবলি মসজিদ । "আল-আকসা" মসজিদটি আসলে কিবলি মসজিদ , মারওয়ানি মসজিদ ও বুরাক মসজিদ ৩টির সমন্বয় [৪০] যা "হারাম আস শরীফ" এর চার দেয়াল এর মধ্যেই অবস্থিত।[৪১] [৪২] ]

মসজিদুল আকসা হারাম আল শরিফে অবস্থিত। এই স্থান রাজা হেরোড দ্য গ্রেটের সময় ২০৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সম্প্রসারিত হয়। মসজিদ একটি প্লাটফর্মের উপর অবস্থিত যা হেরোডের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন স্থানগত অবস্থা কাটিয়ে উঠার জন্য নির্মাণ করেছিলেন। সেকেন্ড টেম্পলের সময় বর্তমান মসজিদের স্থানটিতে রয়েল স্টোয়া ছিল।[৪৩] ৭০ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেম অবরোধের সময় রোমানরা এটিকে টেম্পলের সাথে ধ্বংস করে দেয়।

একসময় ধারণা করা হত যে সম্রাট জাস্টিনিয়ানের সময় নির্মিত নিয়া চার্চ বর্তমান মসজিদুল আকসার স্থানে অবস্থিত ছিল। তবে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ইহুদি মহল্লার দক্ষিণ অংশে এর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়।[৪৪][৪৫]

১৯৩০ এর দশকে সংস্কারের সময় সরিয়ে নেয়া কাঠের বীম ও প্যানেল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে এগুলো লেবাননের সিডার এবং সাইপ্রেস দ্বারা নির্মিত ছিল। রেডিওকার্ব‌ন ডেটিং পরীক্ষায় এর কিছু ৯ম শতাব্দীর বলে জানা গেছে।[৪৬]

২০১২ খ্রিষ্টাব্দে বলা হয়েছিল যে ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দের জেরিকো ভূমিকম্পের পর হারাম আল শরিফে কাজ করা প্রত্নতাত্ত্বিক রবার্ট হ্যামিলটন আল আকসার মসজিদের নিচে ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছিলেন যা তিনি খননকাজ নিয়ে তার বইয়ে প্রকাশ করেননি। এর মধে রয়েছে বাইজেন্টাইন গির্জার মত ব্যবহৃত মোজাইক এবং দ্বিতীয় মন্দির সময়ের ইহুদি মিকভেহ।[৪৭][৪৮]

উমাইয়া যুগের নির্মাণ[সম্পাদনা]

বর্তমান স্থাপনাটি উমাইয়া যুগের। দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব প্রথম এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। কয়েকজন মুসলিম পন্ডিত যেমন মুজিরউদ্দিন আল-উলাইমি, জালালউদ্দিন সুয়ুতি ও শামসউদ্দিন আল-মুকাদ্দাসি বলেন যে খলিফা আবদুল মালিক ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদ পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন। সেসাথে তিনি কুব্বাত আস সাখরা নির্মাণ করেন।[৪৯][৫০] আবদুল মালিক মসজিদের কেন্দ্রীয় অক্ষ প্রায় ৪০ মিটার (১৩০ ফু) পশ্চিমে সরিয়ে আনেন যা হারাম আল শরিফ নিয়ে তার সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ ছিল। পুরনো অক্ষ একটি মিহরাব দ্বারা চিহ্নিত করা হয় যা "উমরের মিহরাব" বলে পরিচিত। কুব্বাত আস সাখরার উপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল মালিক তার স্থপতিদের দ্বারা নতুন মসজিদকে সাখরার সাথে এক সারিতে আনেন।[৫১]

অন্যদিকে ক্রিসওয়েলের মতে আবদুল মালিকের ছেলে প্রথম আল ওয়ালিদ মসজিদ পুনর্নির্মাণ করেন এবং দামেস্কের কর্মরা এতে কাজ করে। অধিকাংশ পন্ডিতদের একমত যে মসজিদের পুনর্নির্মাণ আবদুল মালিকের সময় শুরু হয় এবং আল ওয়ালিদের সময় তা শেষ হয়। ৭১৩-১৪ খ্রিষ্টাব্দে কয়েকটি ভূমিকম্পে জেরুজালেমের ক্ষতি হয় এবং মসজিদের পূর্ব অংশ ধ্বংস হয়। এ কারণে আল-ওয়ালিদের শাসনামলে পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

ভূমিকম্প ও পুনর্নির্মাণ[সম্পাদনা]

৭৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ভূমিকম্পে মসজিদুল আকসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর চার বছর পর আস-সাফাহ উমাইয়াদের উৎখাত করে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর ৭৫৩ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদ পুনর্নির্মাণের জন্য তার সংকল্প ব্যক্ত করেন এবং ৭৭১ খ্রিষ্টাব্দে তা সমাপ্ত হয়। ৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় একটি ভূমিকম্পের ফলে আল মনসুরের সংস্কারের সময়ের দক্ষিণ অংশ বাদে অনেক অংশ ধ্বংস হয়।[৫০][৫২] ৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে তার উত্তরসুরি খলিফা আল-মাহদি এর পুনর্নির্মাণ করেন। তিনি দৈর্ঘ্য কমিয়ে প্রস্থ বৃদ্ধি করেন।[৫০][৫৩] আল-মাহদির সংস্কার এ বিষয়ে প্রথম লিখিত বিবরণ বলে জানা যায় যা কাজের বর্ণনা প্রদান করে।[৫৪] ৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমে জন্ম নেয়া আরব ভূগোলবিদ শামসউদ্দিন আল-মুকাদ্দাসি লিখেছেন যে এসময় মসজিদে পনেরটি দরজা ও মুসল্লিদের ধারণের জন্য উত্তর দক্ষিণ বরাবর পনেরটি সারি ছিল।[৫২]

সালাহউদ্দিনের মিম্বরের দরজা, ১৯০০ এর দশকের প্রথমভাগ। নুরউদ্দিন জেনগির নির্দেশে এটি নির্মিত হয় তবে সালাহউদ্দিন এটি স্থাপন করেন।
সালাহউদ্দিনের মিম্বরের দরজা, ১৯০০ এর দশকের প্রথমভাগ। নুরউদ্দিন জেনগির নির্দেশে এটি নির্মিত হয় তবে সালাহউদ্দিন এটি স্থাপন করেন।

১০৩৩ খ্রিষ্টাব্দে আরেকটি ভূমিকম্প হয় ফলে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফাতেমীয় খলিফা আলি আজ-জাহির ১০৩৪ থেকে ১০৩৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মসজিদ পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করেন। এসময় মুসল্লিদের ধারণের জন্য পনেরটি মূল সারির সংখ্যা কমিয়ে সাতটি করা হয়।[৫২] আজ-জাহির কেন্দ্রীয় কক্ষের চারটি তোরণ এবং করিডোর নির্মাণ করেন যা বর্তমানে মসজিদের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।[৫৫] পারস্যের ভূগোলবিদ নাসির খসরু ১০৪৭ খ্রিষ্টাব্দে তার ভ্রমণের সময় মসজিদুল আকসার বর্ণনা দিয়েছেন:

"হারাম এলাকা জেরুজালেমের পূর্ব অংশে অবস্থিত; এবং (এই মহল্লার) বাজারের মধ্যে দিয়ে গিয়ে একটি বৃহৎ ও সুন্দর ফটক দিয়ে আপনি এই এলাকায় প্রবেশ করবেন... এই ফটক পার হওয়ার পর আপনি দুটি বৃহৎ স্তম্ভের সারির (রিওয়াক) ডানে থাকবেন যেগুলোর প্রত্যেকটিতে নয় ও বিশটি মার্বেল স্তম্ভ আছে, যেগুলোর শীর্ষ ও ভিত্তি রঙ্গিন মার্বেলের, এবং সংযুক্তিগুলো সীসার। স্তম্ভের শীর্ষে আর্চ উত্থিত যা চুন বা সিমেন্ট ছাড়া পাথরে নির্মিত, এবং প্রতিটি আর্চ পাঁচ বা ছয়টির বেশি পাথরের ব্লক দ্বারা তৈরী নয়। এই স্তম্ভসারিগুলো মাকসুরাহ নিয়ে যায়"।[৫৬]

১০৯৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ক্রুসেডের সময় ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে নেয়। তারা মসজিদকে "সলোমনের মন্দির" এবং কুব্বাত আস সাখরাকে টেমপ্লাম ডোমিনি (ঈশ্বরের গম্বুজ) নাম দেয়। কুব্বাত আস সাখরা এসময় অগাস্টিনিয়ানদের তত্ত্বাবধানে গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া শুরু হয়,[৫৭] আল-আকসা মসজিদকে রাজপ্রাসাদ ও পাশাপাশি ঘোড়ার আস্তাবল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১১১৯ খ্রিষ্টাব্দে একে নাইটস টেম্পলারদের সদরদপ্তর করা হয়। এ সময় মসজিদে কিছু অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে ছিল উত্তরের বারান্দা সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত এপস যোগ এবং একটি বিভক্তকারী দেয়াল নির্মাণ। কিছু স্থাপনার পাশাপাশি একটি নতুন মঠ ও গির্জা নির্মিত হয়।[৫৮] টেম্পলাররা দালানের পশ্চিম ও পূর্বে খিলানযুক্ত বর্ধি‌তাংশ নির্মাণ করে যার মধ্যে পশ্চিমেরটি বর্তমানে মহিলাদের নামাজের জায়গা এবং পূর্বেরটি ইসলামি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।[৫২]

সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে আইয়ুবীয়রা জেরুজালেম জয় করার পর মসজিদুল আকসায় কয়েকটি সংস্কার সাধিত হয়। [৫৯] [৬০] জুমার নামাজের জন্য মসজিদকে প্রস্তুতের নিমিত্তে জেরুজালেম জয়ের এক সপ্তাহের মধে ক্রুসেডারদের স্থাপন করা টয়লেট ও শস্যের গুদাম সরিয়ে ফেলা হয়।, মেঝে দামি কার্পেটে আচ্ছাদিত করা হয়, এবং ভেতরের অংশ গোলাপজল এবং সুগণ্ধি দিয়ে সুগণ্ধযুক্ত করা হয়।[৬১] সালাহউদ্দিনের পূর্বসূরি জেনগি সুলতান নুরউদ্দিন জেনগি ১১৬৮-৬৯ খ্রিষ্টাব্দে হাতির দাঁত ও কাঠ দিয়ে একটি মিম্বর নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন যা তার মৃত্যুর পর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। নুরউদ্দিনের মিম্বরটি সালাহউদ্দিন মসজিদে স্থাপন করেন।[৬২] দামেস্কের আইয়ুবী সুলতান আল-মুয়াজ্জাম ১২১৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনটি ফটকসহ উত্তরের বারান্দা নির্মাণ করেন। ১৩৪৫ খ্রিষ্টাব্দে আল-কামিল শামানের অধীনে মামলুকরা পূর্ব দিকে আরো দুটি সারি ও ফটক যুক্ত করে।[৫২]

উসমানীয়রা ১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতা নেয়ার পর মসজিদের কোনো বড় পরিবর্তন করেনি কিন্তু পুরো হারাম আল শরিফে সামগ্রিকভাবে পরিবর্তন আনা হয়। এসময় কাসিম পাশার ফোয়ারা (১৫২৭) নির্মিত হয়, রারাঞ্জ সেতু সংস্কার এবং তিনটি মুক্ত গম্বুজ নির্মিত হয়। এসকল স্থাপনা জেরুজালেম গভর্নরগণ নির্মাণ করিয়েছিলেন।[৬৩] সুলতানগণ মিনারের সম্প্রসারণ করেন।[৬৩] ১৮১৬ খ্রিষ্টাব্দে গভর্নর সুলাইমান পাশা আল-আদিল জীর্ণ অবস্থার কারণে মসজিদ সংস্কার করেন।[৬৪] [৬৫]

আধুনিক যুগ[সম্পাদনা]

১৮৫৭ সালে আল আকসার আল কিবলি মসজিদ (মিনারত সহ) ।
১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদের গম্বুজ। এটি এলুমিনিয়ামে নির্মিত হয়েছিল যা রূপার মত দেখাত, কিন্তু ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে এর মূল সীসার প্লেট স্থাপন করা হয়।
মসজিদটির ভেতরের কিছু দুষ্প্রাপ্য দৃশ্য
সীসার প্লেট দিয়ে গঠিত রূপালি গম্বুজ।

১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে বিশ শতকের প্রথম সংস্কার সাধিত হয়। এসময় জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি মুহাম্মদ আমিন আল-হুসাইনির অধীন সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল তুর্কি স্থপতি মিমার কামালউদ্দিন বেকে মসজিদুল আকসা ও এর পরিপার্শ্বের স্থাপনাগুলো সংস্কারের জন্য দায়িত্ব দেয়। এছাড়াও কাউন্সিল ব্রিটিশ স্থপতি, মিশরীয় প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সংস্কারে অবদান ও তদারকির দায়িত্ব দিয়েছিল। এই সংস্কারের মধ্যে ছিল মসজিদের প্রাচীন উমাইয়া ভিত্তি মজবুত করা, ভেতরের কলাম মজবুত করা, নতুন বীম যুক্তকরণ, একটি মঞ্চ নির্মাণ, আর্চ এবং মূল গম্বুজের ভেতরের অংশ সংরক্ষণ, দক্ষিণ দেয়াল পুনর্নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় সারির কাঠগুলো কংক্রিটের স্ল্যাব দ্বারা প্রতিস্থাপন। এসময় প্লাস্টারে ঢাকা পড়ে যাওয়া ফাতেমীয় আমলের মোজাইক ও খোদিত লিপি ফিরিয়ে আনা হয়। আর্চগুলো স্বর্ণ এবং সবুজ ছোপযুক্ত জিপসাম দ্বারা সৌন্দর্যমন্ডিত করা হয় এবং কাঠের বীমগুলো পিতল দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়। কিছু স্টেইন্ড গ্লাসের জানালা তাদের আব্বাসীয়ফাতেমীয় নকশা অপরিবর্তিত রেখে নতুন করা হয়।[৬৬] ১৯২৭ ও ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ভূমিকম্পে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তবে ১৯৩৮ ও ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে তা সারিয়ে তোলা হয়।[৫২]

১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ আগস্ট অস্ট্রেলীয় পর্যটক ডেনিস মাইকেল রোহান কর্তৃক মসজিদে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। রোহান ওয়ার্ল্ডওয়াইড চার্চ অফ গড নামক এভাঞ্জেলিকাল খ্রিষ্টান গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।[৬৭] তার ধারণা ছিল যে মসজিদুল আকসা পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে তিনি যীশুর দ্বিতীয় আগমনকে ত্বরান্বিত করতে পারবেন এবং ইহুদি মন্দির তৈরীর পথ করতে পারবেন। রোহানকে এরপর একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।[৬৮] এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই বছর রাবাতে মুসলিম দেশগুলোর এক বৈঠক অণুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ এর উদ্যোক্তা ছিলেন। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ওআইসি গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।[৬৯]

১৮৭৩ সালে তৈরি, ১ঃ৫০০ অনুপাতের মডেলে আল-আকসা ।

১৯৮০ এর দশকে গুশ এমুনিম আন্ডারগ্রাউন্ড নামক সংগঠনের সদস্য বেন শোশান ও ইয়েহুদা এতজায়ন আল-আকসা মসজিদ ও কুব্বাত আস সাখরা উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। এতজায়ন বিশ্বাস করতেন যে স্থাপনা দুটি উড়িয়ে দিলে তা ইসরায়েলের আধ্যাত্বিক জাগরনে ভূমিকা রাখবে এবং ইহুদি জনগণের সকল সমস্যা সমাধান করবে। তারা এও ধারণা করতেন যে তৃতীয় মন্দির মসজিদের স্থানে নির্মিত হতে হবে।[৭০][৭১] প্রথম ইন্তিফাদা চলার সময় ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জানুয়ারি ইসরায়েলি সেনারা মসজিদের বাইরে বিক্ষোভকারীদের উপর রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং এতে ৪০ জন মুসল্লি আহত হয়।[৭২][৭৩] ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ৮ অক্টোবর দাঙ্গায় ইসরায়েলি সীমান্ত পুলিশ কর্তৃক ২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১০০ জনের বেশি আহত হয়। টেম্পল মাউন্ট ফেইথফুল নামক ইহুদি ধর্মীয় গোষ্ঠী তৃতীয় মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করতে যাচ্ছে ঘোষণা করলে এই প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল।[৭৪][৭৫] [৭৬]

২০০০ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এরিয়েল শ্যারন এবং লিকুদ পার্টির সদসরা ১০০০ সশস্ত্র রক্ষীসহ আল-আকসা চত্বর পরিদর্শন করেন। ব্যাপক সংখ্যক ফিলিস্তিনি এর প্রতিবাদ করে। শ্যারন ও লিকুদ পার্টির সদস্যরা স্থানত্যাগ করার পর হারাম আল শরিফের প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি দাঙ্গা পুলিশের উপর পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার ছুড়লে ২৪ জন আহত হয়। এই পরিদর্শনের ফলে পাঁচ বছরব্যপী আন্দোলন চলে সাধারণভাবে আল-আকসা ইন্তিফাদা নামে পরিচিত। তবে কিছু ধারাভাষ্যকার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, যেমন ইমাদ ফালুজি ও আরাফাতের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে ইন্তিফাদা কয়েক মাস আগে ইয়াসির আরাফাতের ক্যাম্প ডেভিড আলোচনা থেকে ফেরার পর থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।[৭৭][৭৮][৭৯] ২৯ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি সরকার মসজিদে ২,০০০ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে। জুমার নামাজের পর একদল ফিলিস্তিনি মসজিদ ত্যাগ করার পর তারা পুলিশের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। পুলিশ এরপর মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়া শুরু করে ফলে চারজন নিহত ও প্রায় ২০০ জন আহত হয়।[৮০]

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ নভেম্বর ইসরায়েলি পুলিশ ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেম দখল করার পর প্রথমবার আল-আকসায় প্রবেশ করে বলে ইসলামিক ওয়াকফের পরিচালক শাইখ আজ্জাম আল-খতিব উল্লেখ করেছেন। পূর্ববর্তী মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয় এ পুলিশ হারাম আল শরিফ চত্বরে প্রবেশ করেছে, মসজিদে নয়।[৮১]

মিম্বর

স্থাপত্য[সম্পাদনা]

মসজিদটি হারাম আস-শরিফের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত
মসজিদটি হারাম আস-শরিফের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত
কুব্বাত আস সাখরা।এটি ইসলামী স্থাপত্যের সর্বপ্রাচীন নমুনা । মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে ইব্রাহিম আঃ) এখানেই তার পুত্র ইসমাইল আঃ) কে কুরবানি দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। [৮২] আদম (আঃ) কে সৃষ্টিরও ২০০০ বছর পূর্বে ফেরেশতারা এই জায়গায় এসেছিলেন এবং ইসরাফিল (আঃ) কেয়ামতের সময় এখানেই শিঙ্গায় ফুঁ দেবেন ।

আয়াতাকার আল-আকসা মসজিদ ও এর পরিপার্শ্ব মিলিয়ে আকার ১,৪৪,০০০ বর্গমিটার (১৫,৫০,০০০ ফু), [৮৩] [৮৪] [৮৫] তবে শুধু মসজিদের আকার প্রায় ৩৫,০০০ বর্গমিটার (৩,৮০,০০০ ফু) এবং ৫,০০০ মুসল্লি ধারণ করতে পারে।[৮৬] মসজিদ ৮৩ মি (২৭২ ফু) দীর্ঘ, ৫৬ মি (১৮৪ ফু) প্রশস্ত.[৮৬] সম্মুখবর্তী কুব্বাত আস সাখরায় ধ্রুপদি বাইজেন্টাইন স্থাপত্য দেখা গেলেও মসজিদুল আকসায় প্রথম দিককার ইসলামি স্থাপত্য দেখা যায়।[৮৭]

গম্বুজ[সম্পাদনা]

আবদুল মালিকের নির্মিত গম্বুজ বর্তমানে নেই। বর্তমান গম্বুজটি আজ-জাহির নির্মাণ করেছিলেন এবং এটি সীসার এনামেলওয়ার্ক আচ্ছাদিত কাঠ দ্বারা নির্মিত।[৪৯] ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে কংক্রিটে গম্বুজ পুনর্গঠিত হয় এবং সীসার এনামেলওয়ার্কের পরিবর্তে এনোডাইজড অ্যালুমিনিয়াম দ্বারা আচ্ছাদিত হয়। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে আজ-জাহিরের সময়কারমূল নকশা ফিরিয়ে আনার জন্য এলুমিনিয়ামের কভারের বদলে পুনরায় সীসা স্থাপন করা হয়।[৮৮]

উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমলে মিহরাবের সম্মুখে নির্মিত গম্বুজগুলোর মধ্যে টিকে রয়েছে এমন কয়েকটি গম্বুজের মধ্যে আল-আকসার গম্বুজ অন্যতম। অন্যগুলো হল দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ (৭১৫) এবং সুসার জামে মসজিদ (৮৫০)।[৮৯] গম্বুজের ভেতরে ১৪শ শতাব্দীর অলংকরণ রয়েছে। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের অগ্নিকান্ডের সময় এসকল অলংকরণ চিরতরে হারিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল কিন্তু ট্রাটেগিও প্রক্রিয়ায় তা ফিরিয়ে আনা হয়।[৮৮]

মিনার[সম্পাদনা]

১২৭৮ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত আল-ফাখারিয়া মিনার আল-আকসা মসজিদের চারটি মিনারের মধ্যে প্রথম নির্মিত হয়।

দক্ষিণ, উত্তর ও পশ্চিম পাশে মোট চারটি মিনার রয়েছে। প্রথম মিনারটি আল-ফাখারিয়া মিনার নামে পরিচিত যা ১২৭৮ খ্রিষ্টাব্দে দক্ষিণপশ্চিম অংশে নির্মিত হয়। মামলুক সুলতান লাজিন এটি নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন। এটি নির্মাণের তত্ত্বাবধায়ক আল-দিন আবদুর রহমানের বাবা ফখরউদ্দিন আল-খলিলির নামে নামকরণ করা হয়েছে। প্রথাগত সিরিয়ান শৈলীতে এটি নির্মিত হয়। এর ভিত্তি ও উলম্ব অংশ বর্গাকার এবং এটি তিনতলা বিশিষ্ট। মুয়াজ্জিনের বারান্দা দুই লাইন বিশিষ্ট মুকারনাস দ্বারা অলঙ্কৃত করা হয়েছে। কুলুংগি ঘিরে রয়েছে একটি বর্গাকার অংশ যা একটি সিসা আচ্ছাদিত পাথরের গম্বুজে শেষ হয়।[৯০]

গাওয়ানিমা মিনার।
উমর (রাঃ ) এর তৈরি আল-আকসার কিবলি মসজিদ (ভূগর্ভস্থ)। অভ্যন্তর ভাগ ও মিম্বর ।
দক্ষিন দেয়ালের পাস থেকে আল আকসা মসজিদ ।
আল আকসার অন্তরীক্ষ দৃশ্য ।

দ্বিতীয়টি গাওয়ানিমা মিনার বলে পরিচিত। এটি ১২৯৭-৯৮ খ্রিষ্টাব্দে স্থপতি কাজি শরফউদ্দিন আল-খলিলি কর্তৃক নির্মিত হয়। এটিও সুলতান লাজিনের আদেশে নির্মিত হয়েছিল। এটি ছয় তলা উচু এবং হারাম আল শরিফ প্রাঙ্গণের সর্বো‌চ্চ মিনার।[৯১] এই দুটি টাওয়ার সম্পূর্ণভাবে পাথরের তৈরি, শুধু মুয়াজ্জিনের বারান্দার শামিয়ানা কাঠের তৈরি। শক্ত কাঠামোর কারণে গাওয়ানিমা মিনার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মিনারটি পাথরের ছাচ ও গ্যালারির মাধ্যমে কয়েকটি তলায় বিভক্ত। প্রথম দুই তলা প্রশস্ত এবং টাওয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। পরের চারটি তলা সিলিন্ডার আকৃতির ড্রাম এবং কন্দ আকৃতির গম্বুজ নিয়ে গঠিত। প্রথম দুই তলায় সিড়ি বাইরে অবস্থিত। কিন্তু তৃতীয় তলা থেকে মুয়াজ্জিনের বারান্দা পর্যন্ত সিড়ি মিনারের ভেতরে পেচানোভাবে অবস্থিত।[৯২]

১৩২৯ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার মামলুক গভর্নর তানকিজ তৃতীয় মিনার নির্মাণের আদেশ দেন যা বাব আল-সিলসিলা নামে পরিচিত। এটি মসজিদের পশ্চিমে অবস্থিত। এই মিনার ঐতিহ্যবাহী সিরিয়ান বর্গাকার টাওয়ার রীতিতে নির্মিত এবং সম্পূর্ণ পাথর দ্বারা তৈরি।[৯৩]

সর্বশেষ মিনারটি ১৩৬৭ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়। এটি মিনারাত আল-আসবাত নামে পরিচিত। এটি সিলিন্ডার আকৃতির পাথরের উত্থিত অংশ দ্বারা গঠিত যা পরবর্তী কালের উসমানীয় সুলতানরা নির্মাণ করেছিলেন। এটি মামলুক নির্মিত বর্গাকার ভিত্তির উপর ত্রিকোণাকার রূপান্তরের অংশ থেকে উঠেছে।[৯৪] মুয়াজ্জিনের বারান্দায় উত্থিত অংশ সরু হয়ে যায় এবং এটি বৃত্তাকার জানালা যুক্ত যার শেষপ্রান্তে কন্দ আকৃতির গম্বুজ রয়েছে। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ভূমিকম্পের পর গম্বুজটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।[৯৪]

মসজিদের পূর্ব পাশে কোনো মিনার নেই। তবে ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ পঞ্চম মিনার নির্মাণের ইচ্ছা ঘোষণা করেন যা জাবাল আজ-জয়তুনের দিকে থাকবে। এই মিনার জেরুজালেমের পুরনো শহরের সবচেয়ে সুউচ্চ বলে পরিকল্পিত।[৯৫][৯৬]

আল আকসার আল কিবলি মসজিদের ডোম (অভ্যন্তরভাগ)।

বহির্ভাগ ও বারান্দা[সম্পাদনা]

মসজিদের বাইরের দিক। এটি ফাতেমীয়রা নির্মাণ করে। পরে ক্রুসেডার, আইয়ুবীয়মামলুকরা এর সম্প্রসারণ করে।

১০৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমীয় খলিফা আল-মুসতানসির নির্মাণ করেন। ক্রুসেডাররা তাদের শাসনামলে এর ক্ষতিসাধন করে। পরে আইয়ুবীরা এর সংস্কার করে। এই অংশে টাইলস দ্বারা আবৃত করা হয়।[৫২] জেরুজালেমের ক্রুসেডার অবকাঠামো থেকে বহির্ভাগের আর্চের জন্য উপকরণ সংগ্রহ করা হয়[৯৭] বহির্ভাগের পাথরের আর্চগুলো[৩৩] বেশিরভাগ রোমানেস্ক স্থাপত্য শৈলীর। মামলুকদের নির্মিত বাইরের আর্চ একইপ্রকার সাধারণ নকশা অণুসরণ করে। কেন্দ্রীয় আর্চে মসজিদের প্রবেশপথ অবস্থিত।[৯৮]

প্রথম ক্রুসেডের সময় নাইটস টেম্পলাররা বারান্দার কেন্দ্রীয় অংশ নির্মাণ করে। পরে সালাহউদ্দিনের ভাইপো আল-মুয়াজ্জাম ১২১৭ খ্রিষ্টাব্দে বারান্দা নির্মাণের আদেশ দেন।[৫২]

মসজিদের ভেতরের দৃশ্য, এতে স্তম্ভসহ কেন্দ্রীয় সারিটি দেখা যাচ্ছে।
মসজিদের ভেতরের দৃশ্য, এতে স্তম্ভসহ কেন্দ্রীয় সারিটি দেখা যাচ্ছে।

অভ্যন্তরভাগ[সম্পাদনা]

আল-আকসা মসজিদে সাতটি হাইপোস্টাইল অংশ রয়েছে এবং এর সাথে মসজিদের দক্ষিণ অংশের পূর্ব ও পশ্চিমে ছোট অংশ রয়েছে।[৫৩] আব্বাসীয়ফাতেমীয় আমলের ১২১টি স্টেইনড গ্লাসের জানালা রয়েছে। এগুলোর এক চতুর্থাংশ ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কার করা হয়।[৬৬]

মসজিদের অভ্যন্তরভাগে ৪৫টি স্তম্ভ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩৩টি সাদা মার্বেল এবং ১২টি পাথরের তৈরি।[৮৬] স্তম্ভের শীর্ষ চার প্রকারের: কেন্দ্রীয়গুলো ভারি এবং পুরনো শৈলীর। গম্বুজের নিচেরগুলো করিন্থিয়ান ধাচের এবং ইটালিয়ান সাদা মার্বেলে তৈরি। পূর্বের শীর্ষ ভারি ঝুড়ি আকৃতির এবং পূর্ব ও পশ্চিমেরগুলোও ঝুড়ি আকৃতির। স্তম্ভ এবং জোড়গুলো কাঠের বীম দ্বারা যুক্ত।[৮৬]

মসজিদের একটি বড় অংশ চুনকাম করা। কিন্তু গম্বুজের ড্রাম এবং এর নিচের দেয়াল মোজাইক ও মার্বেল সজ্জিত। [৯৯] ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইটালিয়ান শিল্পী কর্তৃক কিছু রঙ্গিন কাজ পুনরুদ্ধার করা হয়।[৮৬] মিশরের বাদশাহ ফারুক সিলিঙের রঙের জন্য অর্থ প্রদান করেছিলেন।[৯৮]

জেনগি সুলতান নুরউদ্দিন জেনগি আলেপ্পোর কারিগর আখতারিনিকে মিম্বর নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন। ক্রুসেডারদের হাত থেকে জেরুজালেম উদ্ধার করার পর এই মিম্বর মসজিদে উপহার হিসেবে দেয়ার কথা ছিল। এটি নির্মাণে ছয় বছর লাগে (১১৬৮-৭৪)। নুরউদ্দিন জেরুজালেম জয় করার আগে মারা যান। ১১৮৭ খ্রিষ্টাব্দে সালাহউদ্দিন জেরুজালেম জয় করেন এবং মিম্বরটি মসজিদে স্থাপন করেন। এর কাঠামো হাতির দাঁত এবং সুন্দরভাবে কাটা কাঠ দিয়ে গঠন করা হয়েছিল। আরবি ক্যালিগ্রাফি, জ্যামিতিক ও ফুলের নকশা এর কাঠের উপর খোদিত হয়।[১০০] ডেনিস মাইকেল রোহান এটি ধ্বংস করার পর এর স্থলে অন্য মিম্বর বসানো হয়। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে ইসলামি ওয়াকফের প্রধান আদনান আল-হুসাইনি বলেন যে একটি নতুন মিম্বর স্থাপন করা হবে;[১০১] ফেব্রুয়ারিতে এই মিম্বর স্থাপন করা হয়।[১০২] সালাহউদ্দিনের মিম্বরের নকশার ভিত্তিতে জামিল বাদরান এটি নির্মাণ করেন।[১০০] এটি জর্ডানে নির্মিত হয় এবং কারিগররা প্রাচীন কাঠখোদাই প্রক্রিয়ায় কাজ করেছেন। এটি যুক্ত করার পেরেকের বদলে কীলক ব্যবহার করা হয়। তবে নকশা করার কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়েছিল।[১০১]

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত: আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মাসজিদ তৈরী করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি বললাম, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আকসা। আমি বললাম, উভয় মসজিদের (তৈরীর) মাঝে কত ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। অতঃপর তোমার যেখানেই সালাতের সময় হবে, সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কেননা এর মধ্যে ফযীলত নিহিত রয়েছে।"

সহীহ বুখারী:খণ্ড ৮, বই ৫৫ ,হাদিস নংঃ ৫৮৫ [১০৩][১০৪][১০৫]

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যখন কুরাইশরা আমাকে অস্বীকার করল, তখন আমি কা‘বার হিজর অংশে দাঁড়ালাম। আল্লাহ্ তা‘আলা তখন আমার সামনে বায়তুল মুকাদ্দাসকে তুলে ধরলেন, যার কারণে আমি দেখে দেখে বাইতুল মুকাদ্দাসের নিদর্শনগুলো তাদের কাছে ব্যক্ত করছিলাম।

সহীহ বুখারী:খণ্ড ৫, বই ৫৮ ,হাদিস নংঃ ২২৬ [১০৬]

অজুর স্থান[সম্পাদনা]

মসজিদের "আল-কাস" নামক অজু স্থান।

মসজিদের প্রধান অজুর স্থান আল-কাস (কাপ) নামে পরিচিত। এটি মসজিদের উত্তরে মসজিদ ও কুব্বাত আস সাখরার মধ্যে অবস্থিত। মুসল্লিরা এখানে অজু করেন। ৭০৯ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়ারা এটি নির্মাণ করে। কিন্তু ১৩২৭-২৮ খ্রিষ্টাব্দে গভর্নর তানকিজ এটি আরো বড় করেন। একসময় এর জন্য পানি বেথলেহেমের কাছে সুলাইমানের সেতু থেকে সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে জেরুজালেমের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে পানি সরবরাহ করা হয়।[১০৭] ২০শ শতাব্দীতে আল-কাসে কল ও পাথরের তৈরি বসার স্থান স্থাপন করা হয়।[১০৮]

কাসিম পাশার ফোয়ারা ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে উসমানীয় আমলে নির্মিত হয়। এটি মসজিদের উত্তরে কুব্বাত আস সাখরার প্লাটফর্মে অবস্থিত। এটি মুসল্লিদের অজু ও খাবার পানি সরবরাহ করত। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এর ব্যবহার ছিল। বর্তমানে এটি স্মৃতিমূলক স্থাপনা হিসেবে রয়েছে।[১০৯]

কুব্বাত আল মিরাজ । মুসল মান রা বিশ্বাস করে মিরাজ এর রাত্রে এই নির্দিষ্ট স্থানটি থেকেই নবী (সাঃ ) ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেছিলেন ।[১১০][১১১]
কুব্বাত জিব্রাইল। জালালউদ্দিন সয়ূতি (রহঃ) এর মতে , মেরাজের রাত্রে ঊর্ধ্বাকাশে গমনের পূর্বে এই নির্দিষ্ট স্থানেই নবী (সাঃ) নবিগণ ও ফেরেস্তাদের সাথে নামাজ পড়েছিলেন । [১১২]
আল আকসা মসজিদের বুরাক মসজিদ। হারাম আস শরীফের দক্ষিণ-পশ্চিমস্থ কোনে এই ছোট স্থাপনাটি অবস্থিত। ইসলামের বর্ণনা অণুযায়ী মুহাম্মদ (সা) ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রার পূর্বে এখানেই বোরাককে বেঁধে রেখেছিলেন।[১১৩][১১৪] ডান পাশের দেয়ালটি হল পশ্চিম দেয়ালের বিপরীত পার্শ্ব।

ইসলামে ধর্মীয় গুরুত্ব[সম্পাদনা]

১৯০৭ সালে প্রকাশিত , বাব আল সিলসিলা সহ আল আকসা মসজিদের একাংশ।

ইসলামে আল-আকসা মসজিদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম অণুযায়ী এটি পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ [১১৫] যা মসজিদুল হারামের পরে নির্মিত হয়। কুরআনে মিরাজের ঘটনা উল্লেখ করার সময় এই স্থানের [১১৬]নাম নেয়া হয়েছে।রাশিদুন খিলাফত এর পরেও ইসলামি পণ্ডিতরা একে  ঐতিহ্যগতভাবে "আল-ইসরা " বলে উল্লেখ করত (যেহেতু সূরা বনী ইসরাঈল (রাত্রির যাত্রা) এ এটিকে উল্লেখ করা হয়েছিল) । এই সুনির্দিষ্ট আয়াতটি  ইসলামে "আল-আকসা" এর গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ।[১১৭] এই সুনির্দিষ্ট আয়াতটিতে বলা হয়েছে " পবিত্র ও মহিমময় তিনি  যিনি তাঁর বান্দাকে রাতারাতি  ভ্রমণ করিয়েছেন (মক্কার) মাসজিদুল হারাম হতে (ফিলিস্তীনের) মাসজিদুল আকসায় "। [১১৮] [১১৯] এই আয়াতটির অনুবাদ ও ব্যাখ্যায় প্রায় সব পণ্ডিতই সুনির্দিষ্টভাবে "আল-আকসা" ও "মসজিদ আল-হারাম" উল্লেখ করেছেন  এবং বর্ণিত "আল- আকসা" টি যে "জেরুজালেমে " অবস্থিত "আল-আকসা" টিই তা নিশ্চিত করেছেন (ড. মুজিবুর রহমান , শায়েখ আব্দুল হামিদ ফাইজী ও অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের  বঙ্গানুবাদেও তাই )।[১২০]

আরবি ( إِسْراءٌ ) শব্দের অর্থ হল , "রাতে নিয়ে যাওয়া "। পরে ( لَيْلًا ) উল্লেখ করে রাতের অল্প একটি সময়ের কথা বোঝানো হয়েছে যার জন্য ( لَيْلًا ) (অনির্দিষ্ট) ব্যাবহার করা হয়েছে (রাতের এক অংশে অথবা সামান্য অংশে )।  এবং সে সময়ের বাহনে মক্কা থেকে ক্বুদ্‌স  শহরে যেতে ৪০ দিন লাগত সেকারণে ‘মাসজিদুল আকসা’ (দূরতম মসজিদ) বলা হয়েছে। [১২১] মুফাসসিরগন এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে , এটি ছিল বনি ইসরাইলের দাওয়াততাবলিগের জায়গা এবং নামাযের কেবলা, যা মুসলমানদের কাছেও সম্মানিত ও পবিত্র ।[১২২]

অন্যান্য মুসলমান পণ্ডিতরা হারম আস শরীফ এর কার্যক্রম বিস্তারিত জানার জন্য তোরাহ্ (আরবিতে তাওরাত বলা হয় ) ব্যাবহার করেছিলেন। [১২৩] দূরত্বকে বলা হয় ( أَقْصَى)। ‘আল-বাইতুল মুকাদ্দাস’ বা ‘বাইতুল মাকদিস’ ফিলিস্তীন এর কদস অথবা জেরুজালেম বা (পুরাতন নাম) ঈলীয়া শহরে অবস্থিত। মক্কা থেকে ক্বুদ্‌স[১২৪] শহর চল্লিশ দিনের সফর। এই দিক দিয়ে মসজিদে হারামের তুলনায় বায়তুল মাকদিসকে ‘মাসজিদুল আকসা’ (দূরতম মসজিদ) বলা হয়েছে। [১২৫] [১২৬] [১২৭] [১২৮] [১২৯]

ইসরা ও মিরাজ[সম্পাদনা]

[১৩০] [১৩১] কুরআন ও ইসলামি বিবরণ অণুযায়ী আল-আকসা মসজিদে মুহাম্মদ (সা) মিরাজের রাতে বোরাকে চড়ে এসেছিলেন [১৩২] এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশের [১৩৩]দিকে যাত্রা করেন।[১৩৪] [১৩৫] তিনি এখানে নামাজ পড়েন এবং তার পেছনে অন্যান্য নবী রাসুলগণ নামাজ আদায় করেন।[১৩৬] [১৩৭] [১৩৮] [১৩৯] [১৪০] [১৪১] ফেরেশতা জিব্রাইল পুরো যাত্রায় তার সাথে ছিলেন।[১৪২][১৪৩][১৪৪] [১৪৫] [১৪৬]

প্রথম কিবলা[সম্পাদনা]

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, "যখন কুরাইশরা আমাকে অস্বীকার করল, তখন আমি কা‘বার হিজর অংশে দাঁড়ালাম। আল্লাহ্ তা‘আলা তখন আমার সামনে বায়তুল মুকাদ্দাসকে তুলে ধরলেন, যার কারণে আমি দেখে দেখে বাইতুল মুকাদ্দাসের নিদর্শনগুলো তাদের কাছে ব্যক্ত করছিলাম।"

ইসলামে আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। প্রথম দিকে মুসলিমরা এই স্থানকে কিবলা (দিক) হিসেবে ব্যবহার করত।[১৪৭] [১৪৮]হিজরতের পরে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ায় এর পরিবর্তে কাবা নতুন কিবলা হয়।[১৪৯][১৫০] মসজিদ আল কিবলাতাইনে নামাজের সময় এই আয়াত নাজিল হয়।[১৫১] [১৫২] এরপর থেকে কাবা কিবলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।[১৫৩] প্রথম দিকের মুফাসসিরদের (কুরআনের ব্যাখ্যাকারী) মতে , ৬৩৮ সালে জেরুজালেম বিজয়ের পর উমর ( রাঃ ) প্রবেশের সময় কাব আল আহবারের থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন (মসজিদ তৈরির জন্য সবচেয়ে উত্তম জায়গা কোনটি হতে পারে)। তিনি ছিলেন একজন ইহুদী থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত  ব্যাক্তি  যিনি মদিনা থেকে তার সাথে এসেছিলেন । [১৫৪] তিনি পরামর্শ   দিয়েছিলেন যে এটি  কুব্বাত আস-সাখরার ((ডোম অব দ্য রক) পেছনে হওয়া উচিৎ "...... এর ফলে গোটা জেরুজালেম আপনার সামনে থাকবে "। উমর (রাঃ) প্রত্যুত্তর দিলেন ,  " তোমার মত ইহুদীবাদের সাথে মিলে গেছে  !" । এই কথোপকথনের পরপরই  উমর (রাঃ)  একটি স্থান পরিষ্কার করতে শুরু করলেন । যেটি আবর্জনা ও রাবিশে পরিপূর্ণ ছিল । তিনি তার জোব্বাটি ব্যাবহার করলেন এবং অন্য সাহাবারা তাকে অনুকরণ করল যতক্ষণ না জায়গাটি পরিষ্কার হয়েছিল । উমর (রাঃ) এরপর সেই স্থানে নামাজ পড়লেন যেখানে নবী (সাঃ) মেরাজের পূর্বে নামাজ পড়েছিলেন বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করে থাকে ।[১৫৫] বর্ণনা অনুসারে উমর (রাঃ) সেই স্থানটিকে মসজিদ হিসেবে পুনঃনির্মাণ করেছিলেন ।[১৫৬] [১৫৭] যেহেতু দাউদ (আঃ)সুলাইমান (আঃ) এর প্রার্থনার স্থান হিসেবে পূর্ব থেকেই এটি একটি পবিত্র উপাসনার স্থান ,তাই উমর (রাঃ) স্থাপনাটির  দক্ষিণস্থ কোনে  এটি নির্মাণ করেন । যাতে কুব্বাত আস-সাখরা ((ডোম অব দ্য রক) মসজিদটি  ও ক্বাবার মধ্যস্থানে না পড়ে যায় এবং মুসলমানরা নামাজের সময় একমাত্র মক্কার দিকেই মুখ করতে পারে । [১৫৮]

ধর্মীয় মর্যাদা[সম্পাদনা]

জেরুজালেম ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান। [১৫৯] [১৬০] [১৬১] কুরআনের অনেক আয়াতই জেরুজালেমকে নির্দেশ করেছে যার কথা  একদম শুরুর দিকের ইসলামি পণ্ডিতরাও বলেছেন ।[১৬২] "জেরুজালেম " এর কথা হাদিসেও অনেকবার উল্লেখ করা হয়েছে ।এখানে অবস্থিত মসজিদুল আকসা ইসলামে তৃতীয় সম্মানিত মসজিদ । এবং একথা মধ্যযুগের অনেক লিপিতেও উল্লেখ করা হয়েছে ।[১৬৩] নবী (সাঃ) বলেছেন "একজন লোক ঘরে নামাজ পড়লে একটি নেকি পান, তিনি ওয়াক্তিয়া মসজিদে পড়লে ২৫ গুণ, জুমা মসজিদে পড়লে ৫০০ গুণ, মসজিদে আকসায় পড়লে ৫০ হাজার গুণ, আমার মসজিদে অর্থাৎ মসজিদে নববীতে পড়লে ৫০ হাজার গুণ এবং মসজিদুল হারাম বা কাবার ঘরে পড়লে এক লাখ গুণ সওয়াব পাবেন। (ইবনে মাজা, মিশকাত) ।[১৬৪] [১৬৫] ধর্মীয় কারণে যে তিনটি স্থানে সফরের কথা মুহাম্মদ (সা) বলেছেন এই স্থান তন্মধ্যে অন্যতম। [১৬৬] [১৬৭] [১৬৮] [১৬৯] [১৭০] [১৭১] [১৭২] [১৭৩][১৭৪] বাকি দুটি স্থান হল মসজিদুল হারামমসজিদে নববী। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশান (ওআইসি) , ইসলামে তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবে আল-আকসা মসজিদকে বোঝায় ( এবং এর উপর আরবদের সার্বভৌম কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি করে )।  [১৭৫]

মারওয়ান এর তৈরি আল-আকসার ভূগর্ভস্থ মারওয়ানি মসজিদ।মুসলমানরা বিশ্বাস করে এর কিছু রয়ে যাওয়া স্তম্ভ সুলায়মান আঃ) এর তৈরি । 

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

আল আকসা মসজিদের আল কিবলি মসজিদ ।পুরাতন অবকাঠামো (ভুগর্ভস্থ)। মুসলমানরা বিশ্বাস করে এর কিছু রয়ে যাওয়া স্তম্ভ সুলায়মান আঃ) এর তৈরি।
কুব্বাত আস সিলসিলা হল কুব্বাত আস সাখরার পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি গম্বুজ। এটি কোনো মসজিদ নয়। তবে এটিকে নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয় [১৭৬] I

১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ছয় দিনের যুদ্ধের আগ পর্যন্ত জর্ডানের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এর তত্ত্বাবধায়ক ছিল। যুদ্ধে ইসরায়েল জয়ী হওয়ার পর ইসলামি ওয়াকফ ট্রাস্টের হাতে মসজিদের ভার প্রদান করা হয়। তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদ এলাকায় টহল ও তল্লাশি চালাতে পারে। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের হামলার পর ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ স্থপতি, প্রযুক্তিবিদ ও কারিগরদের নিয়োগ করে নিয়মিত তত্ত্বাবধান কার্যক্রম চালায়। ইসরায়েলের ইসলামিক মুভমেন্ট এবং ওয়াকফ আল-আকসা ইন্তিফাদার পর থেকে হারাম আল শরিফে মুসলিম নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা চালিয়েছে। কিছু কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পরিত্যক্ত স্থাপনার সংস্কার[১৭৭] [১৭৮] [১৭৯] [১৮০]

মুহাম্মদ আহমেদ হুসাইন প্রধান ইমাম এবং আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে তাকে জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ দেন।[১৮১] ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি দ্বন্দ্ব্বের ক্ষেত্রে আল-আকসা মসজিদের অধিকার একটি ইস্যু। মসজিদসহ পুরো হারাম আল শরিফের উপর ইসরায়েল তার সার্বভৌমত্ব দাবি করে কিন্তু ফিলিস্তিনিদের দাবি এর অভিভাবকত্ব ইসলামি ওয়াকফের। ২০০০ ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলনে আলোচনায় ফিলিস্তিনিরা মসজিদ এবং পূর্ব জেরুজালেমের অন্যান্য ইসলামি স্থানগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে।[১৮২][১৮৩] [১৮৪] [১৮৫]

প্রবেশাধিকার[সম্পাদনা]

১২০৬ সালে তৈরি আল নিহায়া (ব্যাকারণ) মাদ্রাসা। বর্তমানে একটি লাইব্রেরী এবং জেরুজালেমের  শরিয়া কোর্টের সদরদপ্তর । [১৮৬]
মসজিদুল আকসার ভেতরে একজন ফিলিস্তিনি মুসলিমের কুরআন পাঠ।

ইসরায়েলের মুসলিম বাসিন্দা এবং পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা সাধারণত হারাম আল শরিফে প্রবেশ করতে পারে এবং মসজিদুল আকসায় নামাজ আদায় করতে পারে।[১৮৭] তবে কখনো কখনো কিছু কিছু মুসলিমের প্রবেশে বাধা প্রদান করে। [১৮৮] এই বিধিনিষেধের মাত্রা সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়। কখনো শুধু জুমার নামাজের সময় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।[১৮৯][১৯০] গাজার অধিবাসীদের জন্য বিধিনিষেধ অনেক বেশি কঠোর। ইসরায়েলি সরকারের দাবি যে নিরাপত্তার কারণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।[১৮৭][১৯১]

খননকার্য[সম্পাদনা]

১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের যুদ্ধের পর হারাম আল শরিফের বাইরে কয়েক দফা খননকার্য চালানো হয়েছে। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মসজিদের দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের দেয়ালের বাইরে খননকার্য শুরু করে। ফিলিস্তিনিদের বিশ্বাস জন্মায় যে মসজিদের ভিত্তি দুর্বল করার জন্য এই খননকার্য চালানো হয়। তবে ইসরায়েল এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।[১৯২] ইসরায়েলের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদের পশ্চিম অংশের নিচে ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে একটি সুরঙ্গ তৈরি করে।[৭৫] জেরুজালেমে ইউনেস্কোর বিশেষ দূত ওলেগ গ্রেবার বলেন যে ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনিজর্ডানি সরকারের মধ্যে স্থানের দায়িত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব্ব হারাম আল শরিফের দালান ও স্থাপনাগুলোর অবনতি হচ্ছে।[১৯৩] [১৯৪]

২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে এই বিভাগ কর্তৃক প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের অণুসন্ধানের জন্য খননকার্য শুরু হয়। সরকার এখানে একটি পায়ে চলা সেতু নির্মাণ করতে চেয়েছিল যা মাগরাবি ফটকের দিকে নিয়ে যাবে। এই স্থানটি হারাম আল শরিফ কমপ্লেক্সের একমাত্র স্থান যেখনে অমুসলিমরা প্রবেশ করে থাকে। এই অংশটি মসজিদ থেকে ৬০ মিটার (২০০ ফু) দূরে অবস্থিত ছিল।[১৯৫] এই খননকার্যের কারণে মুসলিম বিশ্বে নিন্দা উঠে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মসজিদের ভিত্তি ধ্বংস করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। ফিলিস্তিনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া খননকার্য প্রতিরোধের জন্য ফিলিস্তিনিদের এক হওয়ার ডাক দেন। অন্যদিকে ফাতাহ বলে যে তারা ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধবিরতি সমাপ্ত করবে।[১৯৬] ইসরায়েল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে।[১৯৭]



আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "What are Al Masjid Al Aqsa and the Dome of the Rock?"Al Masjid Al Aqsa (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৫-১০-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১৮ 
  2. "Al Shindagah"www.alshindagah.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১৮ 
  3. Al-Ratrout, H. A., The Architectural Development of Al-Aqsa Mosque in the Early Islamic Period (ইংরেজি ভাষায়), ALMI Press, London, 2004.
  4. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত করা মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব"www.dailyinqilab.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  5. "Bait Ul Maqdis - Wiki"www.askislampedia.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  6. "Timeline: Al-Aqsa Mosque"www.aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  7. Grabar, Oleg. "The Haram al-Sharif: An Essay in Interpretation." In Jerusalem, volume IV, Constructing the Study of Islamic Art. Hampshire: Ashgate Publishing Limited, 2005. First published in Bulletin of the Royal Institute for Inter-Faith Studies (ইংরেজি ভাষায়), 2 (2) (2000), pp. 1-13.
  8. Schieck, Robert (2008) in Geographical Dimension of Islamic Jerusalem, Cambridge Scholars Publishing; see also Omar, Abdallah (2009) al-Madkhal li-dirasat al-Masjid al-Aqsa al-Mubarak, Beirut: Dar al-Kotob al-Ilmiyaah; also by the same author the Atlas of Al-Aqsa Mosque (2010)
  9. "'হারাম আল শরিফ' বলায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ইসরায়েল"BBC বাংলা (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬-১০-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  10. "Jerusalem: Dividing al-Aqsa"www.aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  11. Friedlander, Gerald, Pirkê de rabbi Eliezer, Kegan Paul, Trench, Trubner & co. Ltd. , London, 1916, p.221
  12. "Me'raj – The Night Ascension"। Al-islam.org। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১২ 
  13. "Meraj Article"। Duas.org। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১২ 
  14. "A Muslim Iconoclast (Ibn Taymiyyeh) on the 'Merits' of Jerusalem and Palestine", by Charles D. Matthews, Journal of the American Oriental Society, volume 56 (1935), pp. 1–21. [Includes Arabic text of manuscript of Ibn Taymiyya's short work Qa'ida fi Ziyarat Bayt-il-Maqdis قاعدة في زيارة بيت المقدس]
  15. "The Farthest Mosque must refer to the site of the Solomon's Temple in Jerusalem on the hill of Moriah, at or near which stands the Dome of the Rock... it was a sacred place to both Jews and Christians... The chief dates in connection with the Temple in Jerusalem are: It was finished by Solomon about 1004 BCE; destroyed by the Babylonians under Nebuchadnezzar about 586 BCE; rebuilt under Ezra and Nehemiah about 515 BCE; turned into a heathen idol temple by one of Alexander the Great's successors, Antiochus Epiphanes, 167 BCE; restored by Herod, 17 BCE to 29; and completely razed to the ground by the Emperor Titus in 70. These ups and downs are among the greater signs in religious history." (Yusuf Ali, Commentary on the Koran, 2168.
  16. "The city of Jerusalem was chosen at the command of Allah by Prophet David in the tenth century BCE. After him his son Prophet Solomon built a mosque in Jerusalem according to the revelation that he received from Allah. For several centuries this mosque was used for the worship of Allah by many Prophets and Messengers of Allah. It was destroyed by the Babylonians in the year 586 BCE., but it was soon rebuilt and was rededicated to the worship of Allah in 516 BCE. It continued afterwards for several centuries until the time of Prophet Jesus. After he departed this world, it was destroyed by the Romans in the year 70 CE." (Siddiqi, Dr. Muzammil. Status of Al-Aqsa Mosque, IslamOnline, May 21, 2007. Retrieved July 12, 2007.)
  17. "Early Muslims regarded the building and destruction of the Temple of Solomon as a major historical and religious event, and accounts of the Temple are offered by many of the early Muslim historians and geographers (including Ibn Qutayba, Ibn al-Faqih, Mas'udi, Muhallabi, and Biruni). Fantastic tales of Solomon's construction of the Temple also appear in the Qisas al-anbiya', the medieval compendia of Muslim legends about the pre-Islamic prophets." (Kramer, Martin. The Temples of Jerusalem in Islam, Israel Ministry of Foreign Affairs, September 18, 2000. Retrieved November 21, 2007.)
    • "While there is no scientific evidence that Solomon's Temple existed, all believers in any of the Abrahamic faiths perforce must accept that it did." (Khalidi, Rashid. Transforming the Face of the Holy City: Political Messages in the Built Topography of Jerusalem, Bir Zeit University, November 12, 1998.)
  18. A Brief Guide to al-Haram al-Sharif, a booklet published in 1925 (and earlier) by the "Supreme Moslem Council", a body established by the British government to administer waqfs and headed by Hajj Amin al-Husayni during the British Mandate period, states on page 4: "The site is one of the oldest in the world. Its sanctity dates from the earliest (perhaps from pre-historic) times. Its identity with the site of Solomon's Temple is beyond dispute. This, too, is the spot, according to universal belief, on which 'David built there an altar unto the Lord, and offered burnt offerings and peace offerings.'(2 Samuel 24:25)"
  19. "The History of Palestine"www.albalagh.net। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  20. "Baitul Maqdis"TheFreeDictionary.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  21. "Where was the first Qibla of Islam?"islam.stackexchange.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  22. "প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা | daily nayadiganta"The Daily Nayadiganta। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  23. فتح الباري، ابن حجر العسقلاني، ج1، ص96.
  24. سنن الترمذي، كتاب الصلاة، بَاب مَا جَاءَ فِي ابْتِدَاءِ الْقِبْلَةِ، ص 169، حديث رقم 390.
  25. حديث تحويل القبلة.
  26. "First Qibla - Bayt al-Maqdis (Al-Aqsa)"moonsighting.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  27. "History of Qibla: The shift from Bait-ul Maqdas to Masjid-al Haram"IslamicFinder। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  28. "» 8 Things You Didn't Know About Masjid Al-Aqsa"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  29. المسجد الأقصى أولى القبلتين وثالث الحرمين - قناة الجزيرة
  30. IslamKotob। القرآن وتفسيره باللغة البنغالية। IslamKotob। 
  31. "Just Islam : History of Al Aqsa Mosque"www.justislam.co.uk। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  32. "আল আকসা মসজিদের ইতিকথা ও যায়নবাদী ইহুদী – খ্রিষ্টানদের ষড়যন্ত্র - BanglaPoint.com"www.banglapoint.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  33. "Al-Aqsa Mosque, Jerusalem" (ইংরেজি ভাষায়)। Atlas Travel and Tourist Agency। ২৬ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০০৮ 
  34. "Lailat al Miraj"BBC News (ইংরেজি ভাষায়)। BBC MMVIII। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০০৮ 
  35. Jarrar, Sabri (১৯৯৮)। Gülru Necipoğlu, সম্পাদক। Muqarnas: An Annual on the Visual Culture of the Islamic World (ইংরেজি ভাষায়) (Illustrated, annotated সংস্করণ)। BRILL। পৃষ্ঠা 85। আইএসবিএন 978-90-04-11084-7 
  36. "Baitul-Maqdis is Al-Aqsa mosque"Islamweb। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  37. "A Muslim Iconoclast (Ibn Taymiyyeh) on the 'Merits' of Jerusalem and Palestine", by Charles D. Matthews, Journal of the American Oriental Society, volume 56 (1935), pp. 1–21. [Includes Arabic text of manuscript of Ibn Taymiyya's short work Qa'ida fi Ziyarat Bayt-il-Maqdis قاعدة في زيارة بيت المقدس]
  38. "The Farthest Mosque must refer to the site of the Solomon's Temple in Jerusalem on the hill of Moriah, at or near which stands the Dome of the Rock... it was a sacred place to both Jews and Christians... The chief dates in connection with the Temple in Jerusalem are: It was finished by Solomon about 1004 BCE; destroyed by the Babylonians under Nebuchadnezzar about 586 BCE; rebuilt under Ezra and Nehemiah about 515 BCE; turned into a heathen idol temple by one of Alexander the Great's successors, Antiochus Epiphanes, 167 BCE; restored by Herod, 17 BCE to 29; and completely razed to the ground by the Emperor Titus in 70. These ups and downs are among the greater signs in religious history." (Yusuf Ali, Commentary on the Koran, 2168.
  39. nuraldeenblog (২০১৪-০২-১০)। "ডোম অফ দ্য রক ও মসজিদ আল-আকসা"Nuraldeen। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  40. "» 8 Things You Didn't Know About Masjid Al-Aqsa"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  41. المسجد الأقصى أولى القبلتين وثالث الحرمين - قناة الجزيرة
  42. IslamKotob। القرآن وتفسيره باللغة البنغالية। IslamKotob। 
  43. Netzer, 2008 (ইংরেজি ভাষায়) , pp.161–171.
  44. Nahman Avigad (১৯৭৭)। "A Building Inscription of the Emperor Justinian and the Nea in Jerusalem"। Israel Exploration Journal (ইংরেজি ভাষায়)। 27 (2/3): 145–151। 
  45. Robert Schick (২০০৭)। "Byzantine Jerusalem"। Zeidan Kafafi and Robert Schick। Jerusalem before Islam (ইংরেজি ভাষায়)। Archaeopress। পৃষ্ঠা 175। 
  46. N. Liphschitz, G. Biger, G. Bonani and W. Wolfli, Comparative Dating Methods: Botanical Identification and 14C Dating of Carved Panels and Beams from the Al-Aqsa Mosque in Jerusalem, Journal of Archaeological Science, (1997) (ইংরেজি ভাষায়) 24, 1045–1050.
  47. "Second Temple-era mikveh discovered under Al-Aqsa mosque" (ইংরেজি ভাষায়)। Israel Hayom। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৯, ২০১২ 
  48. "In honor of Jerusalem Day, MKs get to dig into past" (ইংরেজি ভাষায়)। Jerusalem Post। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ২৭, ২০১২ 
  49. Elad, Amikam. (1995). Medieval Jerusalem and Islamic Worship Holy Places, Ceremonies, Pilgrimage BRILL, pp.29–43. আইএসবিএন ৯০-০৪-১০০১০-৫.
  50. le Strange, Guy. (1890). Palestine under the Moslems, (ইংরেজি ভাষায়) pp.80–98.
  51. Grafman and Ayalon, (ইংরেজি ভাষায়) 1998, pp.1–15.
  52. Ma'oz, Moshe and Nusseibeh, Sari. (2000). Jerusalem: Points of Friction, and Beyond(ইংরেজি ভাষায়) BRILL. pp.136–138. আইএসবিএন ৯০-৪১১-৮৮৪৩-৬.
  53. Al-Aqsa Mosque Archnet Digital Library. (ইংরেজি ভাষায়)
  54. Jeffers, 2004, (ইংরেজি ভাষায়) pp.95–96.
  55. Elad, Amikam. (1995). Medieval Jerusalem and Islamic Worship Holy Places, Ceremonies, Pilgrimage BRILL, pp.29–43. আইএসবিএন ৯০-০৪-১০০১০-৫.
  56. "The travels of Nasir-i-Khusrau to Jerusalem, 1047 C.E" (ইংরেজি ভাষায়)। Homepages.luc.edu। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১০ 
  57. Pringle, (ইংরেজি ভাষায়) 1993, p. 403.
  58. Boas,(ইংরেজি ভাষায়) 2001, p.91.
  59. BDlive24, Online BanglaNews Portal ||। "মুসলিমদের হৃদয়স্পন্দন মসজিদুল আকসার ইতিহাস"বিডিলাইভ ২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  60. "আল আকসা মসজিদ সম্পর্কে কিছু তথ্য"Parstoday। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  61. Hancock, Lee. Saladin and the Kingdom of Jerusalem: the Muslims recapture the Holy Land in AD 1187. (ইংরেজি ভাষায়) 2004: The Rosen Publishing Group. আইএসবিএন ০-৮২৩৯-৪২১৭-১
  62. Madden, 2002, p.230.
  63. Al-Aqsa Guide Friends of Al-Aqsa 2007(ইংরেজি ভাষায়) .
  64. Pappe, Ilan (২০১২)। "Chapter 2: In the Shadow of Acre and Cairo: The Third Generation"। The Rise and Fall of a Palestinian Dynasty: The Huyaynis 1700 - 1948 (ইংরেজি ভাষায়)। Saqi Books। আইএসবিএন 9780863568015 
  65. "A history  of the Al Aqsa Mosque"www.arabworldbooks.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  66. Necipogulu, (ইংরেজি ভাষায়) 1996, pp.149–153.
  67. "The Burning of Al-Aqsa"Time Magazine (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ আগস্ট ১৯৬৯। পৃষ্ঠা 1। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০০৮ 
  68. "Madman at the Mosque"Time Magazine (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ জানুয়ারি ১৯৭০। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০০৮ 
  69. Esposito,(ইংরেজি ভাষায়) 1998, p.164.
  70. Dumper,(ইংরেজি ভাষায়) 2002, p.44.
  71. Rapoport, 2001 (ইংরেজি ভাষায়) , pp.98–99.
  72. OpenDocument Letter Dated 18 January 1988 from the Permanent Observer for the Palestine Liberation Organization to the United Nations Office at Geneva Addressed to the Under-Secretary-General for Human Rights Ramlawi, Nabil. Permanent Observer of the Palestine Liberation Organization to the United Nations Office at Geneva. (ইংরেজি ভাষায়)
  73. Palestine Facts Timeline, 1963–1988 Palestinian Academic Society for the Study of International Affairs.(ইংরেজি ভাষায়)
  74. Dan Izenberg, Jerusalem Post, (ইংরেজি ভাষায়) 19 July 1991
  75. Amayreh, Khaled. Catalogue of provocations: Israel's encroachments upon the Al-Aqsa Mosque have not been sporadic, but, rather, a systematic endeavor Al-Ahram Weekly. February 2007.
  76. Admin (২০০০-০১-০১)। "একটি রক্তাক্ত ভূ-খন্ডের লাল ইতিহাস| বাংলা ইসলামী সাইট"Bangla Islami site | বাংলা ইসলামী সাইট। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  77. "Provocative' mosque visit sparks riots"BBC News (ইংরেজি ভাষায়)। BBC MMVIII। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০০৮ 
  78. Khaled Abu Toameh। "How the war began" (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ মার্চ ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০০৬ 
  79. "In a Ruined Country" (ইংরেজি ভাষায়)। The Atlantic Monthly Online। সেপ্টেম্বর ২০০৫। 
  80. Dean, 2003, p.560.
  81. "Israeli occupation forces breach Al-Aqsa Mosque for the first time since 1967"Middle East Monitor (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  82. There was a dispute among early Islamic scholars regarding the identity of the son. Ibn Qutaybah and al-Tabari were of the opinion that it was Isaac as stated in Genesis. Paret, Rudi. "Ismāʿīl." Encyclopaedia of Islam, Second Edition. Edited by: P. Bearman, Th. Bianquis, C.E. Bosworth, E. van Donzel, W.P. Heinrichs. Brill. Published online 2002.
  83. "What are Al Masjid Al Aqsa and the Dome of the Rock?"Al Masjid Al Aqsa (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৫-১০-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১৮ 
  84. "Al Shindagah"www.alshindagah.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১৮ 
  85. "আসমানি গ্রন্থসমূহের নিদর্শনাবলী | ধর্মচিন্তা | The Daily Ittefaq"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  86. Al-Aqsa Mosque Life in the Holy Land. (ইংরেজি ভাষায়)
  87. Gonen, 2003, p.95.
  88. Al-Aqsa Mosque Restoration Archnet Digital Library. (ইংরেজি ভাষায়)
  89. Necipogulu, 1998, p.14.
  90. Menashe, 2004, (ইংরেজি ভাষায়) p.334.
  91. Brooke, Steven. Views of Jerusalem and the Holy Land. (ইংরেজি ভাষায়) Rizzoli, 2003. আইএসবিএন ০-৮৪৭৮-২৫১১-৬
  92. Ghawanima Minaret Archnet Digital Library. (ইংরেজি ভাষায়)
  93. Bab al-Silsila Minaret Archnet Digital Library. (ইংরেজি ভাষায়)
  94. Bab al-Asbat Minaret Archnet Digital Library. (ইংরেজি ভাষায়)
  95. Farrell, Stephen (১৪ অক্টোবর ২০০৬)। "Minaret that can't rise above politics"The Times (ইংরেজি ভাষায়)। London। ২৯ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১১ 
  96. Klein, Aaron (৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৭)। "Israel allows minaret over Temple Mount"YNet (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১১ 
  97. Hillenbrand, Carolle. (ইংরেজি ভাষায়) (2000). The Crusades: The Islamic Perspective Routeledge, p.382 আইএসবিএন ০-৪১৫-৯২৯১৪-৮.
  98. Al-Aqsa Mosque, Jerusalem Sacred Destinations.(ইংরেজি ভাষায়)
  99. উদ্ধৃতি খালি (সাহায্য) 
  100. Oweis, Fayeq S. (2002) The Elements of Unity in Islamic Art as Examined Through the Work of Jamal Badran(ইংরেজি ভাষায়) Universal-Publishers, pp.115–117. আইএসবিএন ১-৫৮১১২-১৬২-৮.
  101. Wilson, Ashleigh. Lost skills revived to replicate a medieval minbar. The Australian. (ইংরেজি ভাষায়) 2008-11-11. Access date: 8 July 2011.
  102. Mikdadi, Salwa D. Badrans: A Century of Tradition and Innovation, Palestinian Art Court Riweq Bienalle in Palestine. (ইংরেজি ভাষায়)
  103. সহীহ বুখারী, ৫:৫৮:২২৬ (ইংরেজি)
  104. "A history of the Al Asqa Mosque"Arab World Books (ইংরেজি ভাষায়)। 
  105. "Bangla Hadith - অধ্যায়ঃ ৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ)|সহীহ বুখারী (তাওহীদ)"হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৬;প্রকাশনীঃ তাওহীদ পাবলিকেশন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১০ 
  106. "সহীহ বুখারী (তাওহীদ),অধ্যায়ঃ ৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু 'আনহুম]-এর মর্যাদা ,হাদিস নাম্বার: 3886"। তাওহীদ পাবলিকেশন। 
  107. Dolphin, Lambert. The Temple Esplanade.
  108. Gonen, 2003 (ইংরেজি ভাষায়), p.28.
  109. Qasim Pasha Sabil. Archnet Digital Library. (ইংরেজি ভাষায়)
  110. Jonathan M. Bloom; Sheila Blair (২০০৯)। The Grove encyclopedia of Islamic art and architecture। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 76। আইএসবিএন 978-0-19-530991-1। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  111. Oleg Grabar (১ অক্টোবর ২০০৬)। The Dome of the Rock। Harvard University Press। পৃষ্ঠা 14। আইএসবিএন 978-0-674-02313-0। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  112. Prophet's Dome archnet.org [ত্রুটি: আর্কাইভের ইউআরএল অজানা] আর্কাইভকৃত [তারিখ অনুপস্থিত] তারিখে Archnet Digital Library.
  113. "Me'raj – The Night Ascension"। Al-islam.org। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১২ 
  114. "Meraj Article"। Duas.org। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১২ 
  115. صحيح مسلم، عن أبي ذر الغفاري، رقم: 520.
  116. Bukhari Volume 1, Book 7, Number 331
  117. "Meraj Article"duas.org (ইংরেজি)
  118. The Night Journey, Qurandislam
  119. "সূরাঃ আল-ইসরা | Al-Isra | سورة الإسراء / সুরা নম্বরঃ 17 আয়াতঃ 1 - Bangla Hadith"Bangla Hadith [????? ?????]। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২১ 
  120. Meri and Bacharach, 2006, p.50 (ইংরেজি)
  121. "Bangla Hadith -সুরার নামঃ আল-ইসরা/Al-Isra/سورة الإسراء"Bangla Hadith [????? ?????]। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  122. "PRIYO.COM"www.priyo.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  123. * "The Rock was in the time of Solomon the son of David 12 cubits high and there was a dome over it...It is written in the Tawrat [Bible]: 'Be happy Jerusalem,' which is Bayt al-Maqdis and the Rock which is called Haykal." al-Wasati, Fada'il al Bayt al-Muqaddas, ed. Izhak Hasson (Jerusalem, 1979) pp. 72ff.
  124. Patel, Ismail Adam (২০১৬-১২-২৩)। Virtues of Jerusalem: An Islamic Perspective (ইংরেজি ভাষায়)। Friends of Al Aqsa। আইএসবিএন 9780953653027 
  125. "তাফসীরে আহসানুল বায়ান,অনুবাদঃ শায়েখ আব্দুল হামিদ ফাইজী-সুরাঃ আল-ইসরা/Al-Isra/سورة الإسراء"Bangla Hadith [বাংলা হাদিস]। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১৭ 
  126. رواه النووي في المجموع، عن ميمونة بنت الحارث، ج8، ص278، وقال عنه: إسناده حسن.
  127. رواه المنذري في الترغيب والترهيب، عن أم سلمة، ج2، ص184، وقال عنه: إسناده صحيح.
  128. رواه السيوطي في الجامع الصغير، عن أم سلمة، رقم: 8544، وقال عنه: ضعيف.
  129. صحيح البخاري، رقم: 1995.
  130. Martin, Richard C.; Arjomand, Saïd Amir; Hermansen, Marcia; Tayob, Abdulkader; Davis, Rochelle; Voll, John Obert, সম্পাদকগণ (ডিসেম্বর ২, ২০০৩)। Encyclopedia of Islam and the Muslim WorldMacmillan Reference USA। পৃষ্ঠা 482। আইএসবিএন 978-0-02-865603-8 
  131. Bradlow, Khadija (আগস্ট ১৮, ২০০৭)। "A night journey through Jerusalem"Times Online। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২৭, ২০১১  [অকার্যকর সংযোগ]
  132. الطبقات الكبرى، ابن سعد البغدادي، ج1، ص213-215، دار صادر، بيروت.
  133. Bradlow, Khadija (আগস্ট ১৮, ২০০৭)। "A night journey through Jerusalem"Times Online। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২৭, ২০১১  [অকার্যকর সংযোগ]
  134. Richard C. Martin, Said Amir Arjomand, Marcia Hermansen, Abdulkader Tayob, Rochelle Davis, John Obert Voll, সম্পাদক (২ ডিসেম্বর ২০০৩)। Encyclopedia of Islam and the Muslim World (ইংরেজি ভাষায়)। Macmillan Reference USA। পৃষ্ঠা 482। আইএসবিএন 978-0-02-865603-8 
  135. "Significance of Masjid-Al-Aqsa in Jerusalem (Haram Al-Shareef)"IqraSense.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০৮-০১-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  136. Razzouq, Al-Arabee Ben। A Concise Children's Encyclopaedia Of Islam (ইংরেজি ভাষায়)। Darussalam Publishers। 
  137. "BBC - Religions - Islam: Lailat al Miraj"bbc.co.uk 
  138. كيف صعد الرسول الى السماء - موقع اقرأ عربي
  139. معجزة الإسراء والمعراج - الذاكر
  140. الإسراء والمعراج - موقع الشيخ عبد العزيز بن باز
  141. الإسراء والمعراج - الرحيق المختوم
  142. Religion and the Arts, Volume 12. 2008. p. 329-342 (ইংরেজি)
  143. Vuckovic, Brooke Olson (৩০ ডিসেম্বর ২০০৪)। Heavenly Journeys, Earthly Concerns: The Legacy of the Mi'raj in the Formation of Islam (Religion in History, Society and Culture) (ইংরেজি ভাষায়)। Routledgeআইএসবিএন 978-0-415-96785-3 
  144. সহীহ বুখারী, ৯:৯৩:৬০৮ (ইংরেজি)
  145. الآية الكبرى في شرح قصة الإسراء، السيوطي، دار الحديث، القاهرة، ط1988.
  146. فتح الباري، ابن حجر العسقلاني، ج7، ص196-218.
  147. Buchanan, Allen (২০০৪)। States, Nations, and Borders: The Ethics of Making Boundaries (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। আইএসবিএন 0-521-52575-6। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০০৮ 
  148. Short Biography of the Prophet & His Ten Companions (ইংরেজি ভাষায়)। Darussalam। ২০০৪-০১-০১। আইএসবিএন 9789960899121 
  149. Buchanan, Allen (২০০৪)। States, Nations, and Borders: The Ethics of Making Boundaries (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। আইএসবিএন 0-521-52575-6। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০০৮ 
  150. Shah, 2008, p.39. (ইংরেজি)
  151. Raby, 2004, p.298. (ইংরেজি)
  152. Patel, 2006, p.13. (ইংরেজি)
  153. Asali, 1990 (ইংরেজি ভাষায়) , p.105.
  154. Yakub of Syria (Ka'b al-Ahbar) Last Jewish Attempt at Islamic Leadership Committee for Historical Research in Islam and Judaism, © 2004–2012, accessed July 2013.[অকার্যকর সংযোগ] "He continued to follow Rabbinic tradition such that later Islamic historians questioned whether he ever 'converted' to Islam."
  155. Mosaad, Mohamed. Bayt al-Maqdis: An Islamic Perspective pp.3–8 (ইংরেজি)
  156. The Furthest Mosque, The History of Al – Aqsa Mosque From Earliest Times Mustaqim Islamic Art & Literature. 5 January 2008. (ইংরেজি)
  157. المدخل إلى دراسة المسجد الأقصى المبارك، عبد الله معروف، ص90-96، دار العلم للملايين، ط2009.
  158. Mosaad, Mohamed. Bayt al-Maqdis: An Islamic Perspective pp.3–8 (ইংরেজি)
  159. "ফিলিস্তিন ও বায়তুল মুকাদ্দাসের পবিত্রতা এবং মুসলিম উম্মাহর ঈমানী দায়িত্ব"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  160. Kantho, Kaler। "ইহুদিরা প্রথমদিকে বায়তুল মুকাদ্দাস প্রবেশে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল! | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  161. "Islamic History of Al Masjid Al Aqsa"Al Masjid Al Aqsa (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৫-১০-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  162. el-Khatib, Abdallah (১ মে ২০০১)। "Jerusalem in the Qur'ān"British Journal of Middle Eastern Studies (ইংরেজি ভাষায়)। 28 (1): 25–53। doi:10.1080/13530190120034549। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০০৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  163. Doninger, Wendy (১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯)। Merriam-Webster's Encyclopedia of World Religions (ইংরেজি ভাষায়)। Merriam-Webster। পৃষ্ঠা 70। আইএসবিএন 0-87779-044-2 
  164. Important Sites: Al-Aqsa Mosque (ইংরেজি)
  165. "Al-Aqsa Mosque, Why So Important? | About Islam"About Islam (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  166. www.smrumman.com, Selim Md. Rumman - rumman1972@gmail.com -। "মসজিদে আকসার মর্যাদা ও ইতিহাস – 24bdtimes"old.24bdtimes.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  167. "শিয়া ও মসজিদে আকসা"ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০০-০১-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  168. হেজাযী, তারেক আহমাদ। "শিয়া ও মসজিদে আকসা - বাংলা - তারেক আহমাদ হেজাযী"IslamHouse.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  169. رواه السيوطي في الجامع الصغير، عن جابر بن عبد الله، رقم: 5109، وقال عنه: إسناده حسن.
  170. رواه رواه إبراهيم بن طهمان في مشيخته(رقم62)، والطبراني في المعجم الأوسط (رقم 7180، 8465)، والحاكم في المستدرك رقم (4/554). و الحديث صحيح، صححه الطحاوي، والحاكم والذهبي، والألباني. وحسنه المنذري.
  171. حديث صلاة في مسجدي
  172. رواه أحمد في مسنده.
  173. টেমপ্লেট:مرجع ويب
  174. https://insideislam.wisc.edu/2012/02/important-sites-al-aqsa-mosque/ |Important Sites: Al-Aqsa Mosque
  175. "Resolution No. 2/2-IS"Second Islamic Summit Conference (ইংরেজি ভাষায়)। Organisation of the Islamic Conference। ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০০৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  176. Al-Aqsa Guide: 31. Dome of the Chain (Silsilah) Al Aqsa Friends 2007. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত অক্টোবর ৬, ২০০৮ তারিখে
  177. Social Structure and Geography Palestinian Academic Society for the Study of International Affairs.
  178. "অবরুদ্ধ বায়তুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধারে করণীয় | | Samakal Online Version"bangla.samakal.net। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  179. somoyerkonthosor (২০১৬-১০-২৬)। "পবিত্র আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের মালিকানাধীন – ইউনেসকো"সময়ের কণ্ঠস্বর। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  180. BanglaNews24.com। "মসজিদুল আকসার সঙ্গে ইহুদি ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই"banglanews24.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  181. Yaniv Berman, "Top Palestinian Muslim Cleric Okays Suicide Bombings", Media Line, 23 October 2006.
  182. Camp David Projections Palestinian Academic Society for the Study of International Affairs. July 2000.
  183. AlJazeeraBangla.com। "ইউনেসকোর রায়, মসজিদুল আকসার সঙ্গে ইহুদিদের সম্পর্ক নেই"AlJazeeraBangla.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  184. "টুডে ব্লগঃ মসজিদুল আকসার পুনরুদ্ধার ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা"A complete online magazine। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  185. "আল-আকসা মসজিদ বিভক্ত করতে নেসেটে নতুন বিল : আরব সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদ"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  186. "أخوات من أجل الأقصى - القبة النحوية"www.foraqsa.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  187. Mohammed Mar'i (১৪ আগস্ট ২০১০)। "Thousands barred from praying in Al-Aqsa" (ইংরেজি ভাষায়)। Arab News 
  188. "Playing with fire at Al-Aqsa"www.aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  189. "Fresh clashes mar al-Aqsa prayers" (ইংরেজি ভাষায়)। BBC News। ৯ অক্টোবর ২০০৯। 
  190. "Israel police, fearing unrest, limit al-Aqsa worship" (ইংরেজি ভাষায়)। i24news। এপ্রিল ১৪, ২০১৪। 
  191. "আল আকসা মসজিদের চারদিকে মনিটরিং ক্যামেরা বসাবে জর্ডান"মানবজমিন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২২ 
  192. Finkelstein, Israel (২৬ এপ্রিল ২০১১)। "In the Eye of Jerusalem's Archaeological Storm" (ইংরেজি ভাষায়)। The Jewish Daily Forward। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১১ 
  193. Abdel-Latif, Omayma (৮ আগস্ট ২০০১)। "'Not impartial, not scientific': As political conflict threatens the survival of monuments in the world's most coveted city, Omayma Abdel-Latif speaks to UNESCO's special envoy to Jerusalem"Al-Ahram Weekly (ইংরেজি ভাষায়)। Al-Ahram। ৫ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১১ 
  194. "Excavations Under Al-Aqsa An Imminent Danger"Islamweb। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৩ 
  195. Lis, Jonathan (২ ডিসেম্বর ২০০৭)। "Majadele: Jerusalem mayor knew Mugrabi dig was illegal"Haaretz। Haaretz। ১২ জুন ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০০৮ 
  196. Rabinovich, Abraham (৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৭)। "Palestinians unite to fight Temple Mount dig"The Australian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০০৮ 
  197. Friedman, Matti (১৪ অক্টোবর ২০০৭)। "Israel to resume dig near Temple Mount"USA Today (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০০৮ 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • আল আকসা মসজিদের ইতিকথা , তৃতীয় সংস্করন (২০০৮) , এ. এন. এম. সিরাজুল ইসলাম ,প্রকাশনীঃ বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার , আইএসবিএন ৯৮৪৮৪২০০৩৭
  • Marouf, Abdullah  । Introduction to the study of the Blessed Aqsa Mosque (Arabic ভাষায়) (1st 2006 সংস্করণ)। دار العلم للملايين। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]