ব্যক্তিত্বের অর্চনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সোভিয়েত পোস্টারে স্ট্যালিন, সোভিয়েত আজারবাইজান, ১৯৩৮

ব্যক্তিত্বের অর্চনা (cult of personality) , বা নেতার অর্চনা বলতে বুঝায় যখন একটি দেশের শাসনব্যবস্থা - অথবা একজন শাসক - বিভিন্ন কৌশল যেমন- গণমাধ্যম, অপপ্রচার, বড় মিথ্যা, প্রদর্শনী, শিল্পকলা, দেশপ্রেম, সরকার সমর্থিত আন্দোলন এবং সমাবেশ; এইগুলো ব্যবহার করে চাটুকারিতা এবং প্রশংসার মধ্য দিয়ে মানুষের মনে ঐ নেতার একটি আদর্শিক, বীরত্বপূর্ণ এবং উপাসনামূলক চিত্র তৈরি করে। সাধারণত রাষ্ট্র নিজে বা এক-দলীয় সরকারের দল কিংবা রাষ্ট্রের প্রভাবশালী-দল সামাজিক প্রকৌশল (social engineering techniques) দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত করে। এই বৈশিষ্ট বাদ দিলে এটিকে এক প্রকার দেবত্বারোপ(Apotheosis) মতবাদের মত বলা যায়। এই ব্যক্তিত্বের অর্চনা সাধারণত সমগ্রতাবাদী বা স্বৈরাচারী দেশগুলিতে দেখা যায়।

১৯৫৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির ২০ তম কংগ্রেসের শেষ দিনে ক্রুশ্চেভের দ্য কাল্ট অব পার্সোনালিটি এবং এটির ফলাফল নামক গোপন বক্তৃতায় এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। ভাষণে, ক্রুশ্চেভ যিনি কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সেক্রেটারি, এবং দেশটির নেতা ছিলেন - তিনি জোসেফ স্টালিনের সিংহীকরণ এবং আদর্শিকরণ।আদর্শিকরণের সমালোচনা করেছিলেন এবং একইসাথে তখনকার কমিউনিস্ট সমসাময়িক মাও সেতুং এর মতবাদ যে মূল মার্কসবাদী মতবাদের বিরোধী ছিলো তাও তিনি বলেন। সোভিয়েত ইউনিয়নে স্টালিনাইজেশনের বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে এই গোপন ভাষণটি প্রকাশ্যে আনা হয়।

পটভূমি[সম্পাদনা]

প্রাইমা পোর্টার অগাস্টাস, খ্রিষ্টীয় প্রথম শতাব্দী

প্রাচীন রোমের রাজ্যের সম্রাট এবং তাদের পরিবারের কিছু সদস্যদের মধ্যে এটি প্রথমে চিহ্নিত করা হয়। ইতিহাস জুড়ে, রাজা এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রায়শই প্রচুর শ্রদ্ধার সাথে এবং অতি-মানবিক গুণাবলির অধিকারী হিসেবে ধরা হত। রাজার শাশ্বত অধিকারের নীতি আনুযায়ী, উদাহরণস্বরূপ, মধ্যযুগের ইউরোপে 'ইশ্বরের ইচ্ছায়'ই শাসকরা অধীনস্থ হয়েছে বলে বলা হত। । প্রাচীন মিশর, জাপান সম্রাজ্য, ইনকা, অ্যাজটেকস, তিব্বত, সিয়াম (বর্তমানে থাইল্যান্ড ) এবং রোমান সাম্রাজ্যে রাজাদের ঐশ্বিরিক-রাজা" হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হত।

১৮ ও ১৯ শতকে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকাতে গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ ধারণাগুলি ছড়িয়ে পড়ায় শাসকশ্রেণীদের পক্ষে এই ধারণাটা মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে রেডিওর মতো গণমাধ্যম বিকাশের ফলে রাজনৈতিক নেতারা জনগণের কাছে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি খুব সুন্দরভাবে প্রচার করতে পারছিল। যা আগে কখনও সম্ভব ছিলো না। ঠিক এভাবেই এই ২০ শতাব্দীতেই সবচেয়ে বেশী কুখ্যাত এরকম শাসকের আবির্ভাব হয়। প্রায়শই এরা রাজনৈতিক ধর্মের মোড়কেই এটি করতো। [১]

"পার্সোনালিটি কাল্ট (ব্যক্তিত্বের অর্চনা)" শব্দটি সম্ভবত ইংরেজিতে ১৮০০-১৮৫০ সালের দিকে ফরাসি এবং জার্মান ভাষায় সমসাময়িক ব্যবহারের সাথে সাথেই ব্যবহৃত হয়েছিলো। [২] প্রথমে এটির কোনও রাজনৈতিক ধারণা ছিল না তবে পরিবর্তে রোমান্টিক "জিনিয়াস কাল্ট " এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ছিল। কার্ল মার্ক্সের জার্মান রাজনৈতিক কর্মী, উইলহেলম ব্লোসকে ১০ নভেম্বর ১৮৭৭-তে একটি চিঠিতে এই শব্দটির প্রথম রাজনৈতিক ব্যবহার করা হয়।

উত্তর কোরিয়ানরা মনসুডে গ্র্যান্ড স্মৃতিসৌধে কিম ইল-গাঙা (বাম) এবং কিম জং- ইল- এর মূর্তির সামনে মাথা নত করছেন

আমরা কেউই জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেই না। একটি প্রমাণ দেইঃ . আমি এই ব্যক্তিত্বের অর্চানাকে কেমন পছন্দ করি না যখন এরকম গণসম্মান[...] জানানোর ব্যপার ঘটে, আমি কাউকে এরকম সম্মানের মধ্যে দেখতে চাইনা। [...][২][৩]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

কোন নেতার মধ্যে এই ব্যক্তিত্বের অর্চনা কিভাবে গঠিত হয় তা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। ঐতিহাসিক জ্যান প্যাম্পার লিখেছেন যে, আধুনিক কালের ব্যক্তিত্ব অর্চনা পাঁচটি বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে যা তাদেরকে তাদের "পূর্বসূরিদের" থেকে আলাদা রাখে: এইসব অর্চনা হবে 'ধর্ম ধর্মণিরপেক্ষ' এবং "জনপ্রিয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক"; নেতা সবসময় পুরুষ হবে; কেবল শাসক শ্রেণীদের টারগেট না করে তারা গোটা জনগোষ্ঠীকে টারগেট করে; তারা গণমাধ্যম ব্যবহার করে; যেখানে "প্রতিদ্বন্দ্বী অর্চনার সংস্কৃতি"কে বাধা দেওয়ার জন্য গণমাধ্যমগুলোকে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে তারা সবসময় মুখিয়ে থাকে। [৪]

গণমাধ্যমের ভূমিকা[সম্পাদনা]

উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

ছবি[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Plamper (2012), pp.13–14
  2. Heller, Klaus (২০০৪)। Personality Cults in Stalinism। Isd। পৃষ্ঠা 23–33। আইএসবিএন 978-3-89971-191-2 
  3. Blos, Wilhelm। "Brief von Karl Marx an Wilhelm Blos"Denkwürdigkeiten eines Sozialdemokraten। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  4. Plamper (2012), p.222