বিষয়বস্তুতে চলুন

বোহেমীয় মোমডানা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বোহেমীয় মোমডানা
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Aves
বর্গ: Passeriformes
পরিবার: Bombycillidae
গণ: Bombycilla
প্রজাতি: B. garrulus
দ্বিপদী নাম
Bombycilla garrulus
(Linnaeus, 1758)
B. garrulus–এর বিস্তৃতি

বোহেমীয় মোমডানা হচ্ছে প্যাসারিন জাতের পাখি যারা ইউরেশিয়ার উত্তরাঞ্চলের জঙ্গলে এবং উত্তর আমেরিকায় বাস করে।

এর পালক মূলত হালকা বাদামি-ধূসর রঙের, যা পাখিটিকে নরম ও মসৃণ এক চেহারা দেয় এবং তার প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে যেতে সাহায্য করে। এর সবচেয়ে দৃষ্টি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো মুখের কালো দাগ এবং মাথার উপরের সূচালো ঝুঁটি, যা তাকে এক বিশেষ ও আকর্ষণীয় চেহারা দিয়েছে। ডানাগুলোর ওপর সাদা ও উজ্জ্বল হলুদ রঙের নকশা রয়েছে, আর কিছু পালকের আগা লালচে, যা গলিত মোমের ফোঁটার মতো দেখায়। এই লালচে আগার জন্যই পাখিটির ইংরেজি নাম হয়েছে “Waxwing” বা বাংলায় “মোমডানা”।

এই পাখিটির দুই বা তিনটি উপপ্রজাতি আছে, তবে তাদের মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্য, সাধারণত পালকের রঙের গভীরতা বা দাগের ছায়ার মধ্যে সীমিত। পুরুষ ও স্ত্রী পাখির চেহারায় তেমন কোনো পার্থক্য নেই, তাই তাদের আলাদা করা কঠিন। তবে অল্পবয়সী পাখিগুলোকে সহজে চেনা যায়, কারণ তাদের রঙ তুলনামূলকভাবে ফিকে, দাগগুলো স্পষ্ট নয় এবং তাদের ডানায় সাধারণত মোমের মতো লাল আগা থাকে না বা খুব অল্প থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পালকও ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও বর্ণিল হয়ে ওঠে, এবং প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মতো আকর্ষণীয় চেহারা লাভ করে।আকার এবং পাখনার পার্থক্যের কারণে এরা সিডার মোমডানা এবং জাপানী মোমডানা থেকে আলাদা পাখি।

বম্বিসিল্লা গারুলাস অন্টারিও, কানাডা

শ্রেণীবিন্যাস

[সম্পাদনা]

ওয়াক্সউইং বম্বিসিলিডি পরিবারের ছোট লেজের পাখি। ক্যারোলাস লিনিয়াস ১৭৫৮ সালে তার সিস্টেমা ন্যাচারাই গ্রন্থে এদেরকে উল্লেখ করেন Lanius Garrulus নামে। ১৮০৮ সালে লুই জ্য পিয়েরে ভিয়েইল্লট এদেরকে বর্তমান গোত্র বোম্বিসিল্লাতে স্থানান্তরিত করেন। গোত্র নাম বোম্বিসিল্লা এসেছে গ্রীক শব্দ বোমবাক্স থেকে যার অর্থ সিল্ক এবং আধুনিক লাতিন সিল্লা থেকে যার অর্থ লেজ।

বর্ণনা

[সম্পাদনা]

বোহেমীয় মোমডানা এর দৈর্ঘ্য ১৯-২৩ সেমি এবং ডানার বিস্তৃতি ৩২-৩৫.৫ সেমি এবং গড় ওজন ৫৫ গ্রাম[]। এদের লেজ খাঁটো। এরা পরিচর্যার মাধ্যমে এদের নরম ঘন পালককে সবসময় ভালো অবস্থায় রাখে।

বাসস্থান

[সম্পাদনা]

এরা ইউরেশিয়ার উত্তরাঞ্চলে এবং উত্তর আমেরিকায় বাস করে। ইউরেশিয়া তে এরা গাছেই বাসা বাঁধে। এরা অভিবাসী ধরনের পাখি। খাবার থাকলে এরা থাকে। খাবার ফুরিয়ে গেলে এরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

স্বভাব

[সম্পাদনা]

ফেব্রুয়ারি/মার্চে এরা এদের শীতকালীন আবাস থেকে ফিরতে শুরু করে। উত্তরাঞ্চলের পাখিরা এপ্রিল/মে'র আগে নিজেদের আবাসভূমিতে ফিরতে পারে না। এরা জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বাসা বাঁধে। ভালো বাসা বাঁধার জায়গা পেলে কয়েক জোড়া পাখি পাশাপাশি বাসা বাঁধে। স্ত্রী পাখি ১৩/১৪ দিন একাই ডিমে তা দেয়। পুরুষ পাখিটি স্ত্রী পাখিটির জন্য খাবার নিয়ে আসে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. BirdLife International (২০১৬)। "Bombycilla garrulus"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬ e.T22708146A87399543। আইইউসিএনডিওআই:10.2305/IUCN.UK.2016-3.RLTS.T22708146A87399543.en। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২১
  2. Witmer, Mark C. (২০২০)। "Bohemian Waxwing (Bombycilla garrulus), version 1.0"Birds of the World (ইংরেজি ভাষায়)। ডিওআই:10.2173/bow.bohwax.01আইএসএসএন 2771-3105

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]