বৈঠালেজি জলধেনু
| বৈঠালেজি জলধেনু সময়গত পরিসীমা: প্রারম্ভিক প্লাইস্টোসিন – বর্তমান | |
|---|---|
| ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বৈঠালেজি জলধেনু (Trichechus manatus) | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ: | Animalia |
| পর্ব: | Chordata |
| শ্রেণী: | Mammalia |
| বর্গ: | Sirenia |
| পরিবার: | Trichechidae |
| উপপরিবার: | Trichechinae |
| গণ: | Trichechus Linnaeus, 1758 |
| আদর্শ প্রজাতি | |
| Trichechus manatus Linnaeus, 1758 | |
বৈঠালেজি জলধেনু (ইংরেজি: Manatee; পরিবার Trichechidae; গণ Trichechus) হলো বড় আকারের সম্পূর্ণ জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা Sirenia বর্গের অন্তর্ভুক্ত এবং সাধারণভাবে “সমুদ্রের গাভী” নামে পরিচিত। বর্তমানে বৈঠালেজি জলধেনুর তিনটি জীবিত প্রজাতি স্বীকৃত রয়েছে: আমাজনীয় বৈঠালেজি জলধেনু (Trichechus inunguis), ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বৈঠালেজি জলধেনু (Trichechus manatus) এবং ওয়েস্ট আফ্রিকান বৈঠালেজি জলধেনু (Trichechus senegalensis)। এরা সর্বোচ্চ প্রায় ৪.০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন প্রায় ৫৯০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।[১]
বৈঠালেজি জলধেনুর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এদের লেজ। এদের লেজ চওড়া, সমতল ও বৈঠার মতো আকৃতির, যা সাঁতারের সময় ধীরে ও স্থিরভাবে এগোতে সাহায্য করে। এই বৈশিষ্ট্যটি সাধারণ জলধেনু (dugong) থেকে বৈঠালেজি জলধেনুকে স্পষ্টভাবে আলাদা করে। সাধারণ জলধেনুর লেজ ডলফিন বা তিমির লেজের মতো অর্ধচন্দ্রাকার, মাঝখানে স্পষ্ট খাঁজ থাকে এবং দুই পাশে দুটি চওড়া অংশ দেখা যায়। সাধারণ জলধেনুর লেজ বৈঠার মতো নয়।
বৈঠালেজি জলধেনু সম্পূর্ণ উদ্ভিদভোজী। এরা মিঠা পানি ও লোনা পানির মিলিয়ে ৬০টিরও বেশি প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ খেয়ে থাকে। এদের খাদ্যের মধ্যে জলজ ঘাস, ভাসমান উদ্ভিদ, শৈবাল এবং নদী ও মোহনার উদ্ভিদ অন্তর্ভুক্ত।
এরা সাধারণত অগভীর উপকূলীয় অঞ্চল, জলাভূমি, নদী, মোহনা এবং খাল-বিল এলাকায় বসবাস করে। বৈঠালেজি জলধেনু মিঠা পানি ও লোনা পানি—উভয় পরিবেশেই দীর্ঘ সময় বসবাস করতে পারে। এদের বিস্তৃতি ক্যারিবীয় সাগর, মেক্সিকো উপসাগর, আমাজন অববাহিকা এবং পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ।
বৈঠালেজি জলধেনু অত্যন্ত ধীরগতির ও শান্ত স্বভাবের প্রাণী। এই স্বভাবের কারণে এরা প্রায়ই মানুষের তৈরি নৌযান ও জাহাজের সঙ্গে দুর্ঘটনায় পড়ে। মানুষের কর্মকাণ্ড, যেমন আবাসস্থল ধ্বংস এবং নৌকার প্রপেলারের আঘাত, এদের মৃত্যুর প্রধান কারণ। অনেক বৈঠালেজি জলধেনুর শরীরে একাধিক প্রপেলার-সৃষ্ট দাগ পাওয়া গেছে। প্রাকৃতিক মৃত্যুর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ঠান্ডা তাপমাত্রা, রোগ এবং শিশু বৈঠালেজি জলধেনুর ক্ষেত্রে কুমিরের আক্রমণ উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "West Indian Manatee Facts and Pictures -- National Geographic Kids"। National Geographic (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৬।