বেরিলিয়াম অক্সাইড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বেরিলিয়াম অক্সাইড
Unit cell, ball and stick model of beryllium oxide
BeO sample.jpg
নামসমূহ
পছন্দসই ইউপ্যাক নাম
Beryllium(II) monoxide
পদ্ধতিগত ইউপ্যাক নাম
Oxoberyllium
অন্যান্য নাম
Beryllia, Thermalox, Bromellite, Thermalox 995.[১]
শনাক্তকারী
ত্রিমাত্রিক মডেল (জেমল)
বেইলস্টেইন রেফারেন্স 3902801
সিএইচইবিআই
কেমস্পাইডার
ইসিএইচএ ইনফোকার্ড ১০০.০১৩.৭৫৮
ইসি-নম্বর
এমইএসএইচ beryllium+oxide
আরটিইসিএস নম্বর
  • DS4025000
ইউএনআইআই
ইউএন নম্বর 1566
বৈশিষ্ট্য
BeO
আণবিক ভর ২৫.০১ g·mol−১
বর্ণ Colourless, vitreous crystals
গন্ধ Odourless
ঘনত্ব 3.01 g/cm3
গলনাঙ্ক ২,৫০৭ °সে (৪,৫৪৫ °ফা; ২,৭৮০ K)
স্ফুটনাঙ্ক ৩,৯০০ °সে (৭,০৫০ °ফা; ৪,১৭০ K)
0.00002 g/100 mL
ব্যান্ড ব্যবধান 10.6 eV
Thermal conductivity 330 W/(K·m)
প্রতিসরাঙ্ক (nD) 1.719
গঠন
স্ফটিক গঠন Hexagonal
Space group P63mc
Point group C6v
Coordination
geometry
Tetragonal
আণবিক আকৃতি Linear
তাপ রসায়নবিদ্যা
তাপ ধারকত্ব, C 25.5 J/(K·mol)
স্ট্যন্ডার্ড মোলার
এন্ট্রোফি
এস২৯৮
13.73–13.81 J/(K·mol)
গঠনে প্রমান এনথ্যাল্পির পরিবর্তন ΔfHo২৯৮ −599 kJ/mol[২]
−582 kJ/mol
ঝুঁকি প্রবণতা
প্রধান ঝুঁকিসমূহ Very toxic, carcinogen
জিএইচএস চিত্রলিপি The skull-and-crossbones pictogram in the Globally Harmonized System of Classification and Labelling of Chemicals (GHS) The health hazard pictogram in the Globally Harmonized System of Classification and Labelling of Chemicals (GHS)The environment pictogram in the Globally Harmonized System of Classification and Labelling of Chemicals (GHS)
জিএইচএস সাংকেতিক শব্দ বিপদজনক
জিএইচএস বিপত্তি বিবৃতি H301, H315, H317, H319, H330, H335, H350, H372
জিএইচএস সতর্কতামূলক বিবৃতি P201, P260, P280, P284, P301+310, P305+351+338
এনএফপিএ ৭০৪
প্রাণঘাতী ডোজ বা একাগ্রতা (LD, LC):
2062 mg/kg (mouse, oral)
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য অনাবৃতকরণ সীমা (NIOSH):
TWA 0.002 mg/m3
C 0.005 mg/m3 (30 minutes), with a maximum peak of 0.025 mg/m3 (as Be)[৩]
Ca C 0.0005 mg/m3 (as Be)[৩]
Ca [4 mg/m3 (as Be)][৩]
সম্পর্কিত যৌগ
Beryllium telluride
সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা ছাড়া, পদার্থসমূহের সকল তথ্য-উপাত্তসমূহ তাদের প্রমাণ অবস্থা (২৫ °সে (৭৭ °ফা), ১০০ kPa) অনুসারে দেওয়া হয়েছে।
☒না যাচাই করুন (এটি কি YesY☒না ?)
তথ্যছক তথ্যসূত্র

বেরিলিয়াম অক্সাইড একটি অজৈব যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত হলো BeO। এটি বেরিলিয়া নামেও পরিচিত। এই কঠিন যৌগটি হীরা ছাড়া অন্য কোনও অধাতুর তুলনায় তাপ পরিবাহিতা বেশি। এটি একটি উল্লেখযোগ্য বৈদ্যুতিক অন্তরক এবং বেশিরভাগ ধাতুর চেয়ে বেশি।[৪] অনিয়তকার কঠিন অবস্থায় বেরিলিয়াম অক্সাইডের রঙ সাদা। এর গলনাঙ্ক ২৫০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গলনাঙ্ক বেশি হওয়ায় এটি রিফ্রাকটারী (তাপরোধকারী উপাদান) তৈরির উপাদান হিসাবে ব্যবহার হয়।[৫]

প্রস্তুতি এবং রাসায়নিক ধর্ম[সম্পাদনা]

বেরিয়েলিয়াম কার্বোনেটকে ভস্মীকরণ করে বা বেরিলিয়াম হাইড্রক্সাইডকে জল বিয়োজন করে বা ধাতব বেরিলিয়ামকে জ্বলিয়ে বেরিলিয়াম অক্সাইড তৈরি করা যেতে পারে:

BeCO3 → BeO + CO2
Be(OH)2 → BeO + H2O
2 Be + O2 → 2 BeO

বায়ুতে বেরিলিয়ামকে জ্বালালে বেরিলিয়াম অক্সাইড এবং বেরিলিয়াম নাইট্রাইডের এর মিশ্রণ তৈরি হয়।[৪] অন্যান্য দ্বিতীয় শ্রেণির মৌলের (ক্ষারীয় ধাতব ধাতু) দ্বারা গঠিত অক্সাইডগুলির মতো বেরিলিয়াম অক্সাইড শুধুমাত্র ক্ষারীয় হয় না। এর ধর্ম উভধর্মী হয়, অর্থাৎ আম্লিক ও ক্ষারীয় হয়।

ব্যবহার[সম্পাদনা]

বেরিলিয়াম অক্সাইড সাদা গুঁড়ো অনিয়তকার পদার্থ হিসাবে উৎপাদন করা হয়। এই সাদা গুঁড়ো পদার্থ থেকে সিন্টারিং পদ্ধতির সাহায্যে বড় বড় আকারের ব্লক তৈরি করা হয়। সিন্টারিং পদ্ধতি হলো তাপ বা চাপের দ্বারা পদার্থের গলনাঙ্কে না পৌঁছে উপাদানগুলির একটি কঠিন ভর তৈরি করার পদ্ধতি। এমনিতে সিন্টারিং পদ্ধতিতে পাওয়া বড় আকৃতির বেরিলিয়াম অক্সাইডের উপাদানগুলি বর্ণহীন হয়। তবে কার্বনের মতো অশুদ্ধি থাকলে এগুলি বিভিন্ন রঙের হতে পারে।

সিন্টারিং পদ্ধতিতে তৈরি বেরিলিয়াম অক্সাইডের সিন্টারড খুব স্থিতিশীল সিরামিক।[৬] রকেট ইঞ্জিনে বেরিলিয়াম অক্সাইডের ব্যবহার রয়েছে।[৭] দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মধ্যে যে অ্যালুমিনাইজড আয়না থাকে সেই আয়নার স্বচ্ছ আবরক হিসাবে বেরিলিয়াম অক্সাইডের প্রলেপ দেওয়া হয়।

সুরক্ষা[সম্পাদনা]

বেরিলিয়াম অক্সাইডের গুঁড়ো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ হিসাবে ধরা হয়।[৮] এর গুঁড়ো বেরিলিওসিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জিজনিত ফুসফুসের রোগের কারণ হতে পারে। গুঁড়ো অবস্থা ছাড়া বেরিলিয়াম অক্সাইড নিয়তকার কঠিন হলে সেটির নড়াচড়া করা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। তবে এটিকে ভাঙ্গা বা গুঁড়ো করার কাজে ঝুঁকি রয়েছে যদি ঠিক মতো সুরক্ষাবিধি পালন না করা হয়।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "beryllium oxide – Compound Summary"PubChem Compound। USA: National Center for Biotechnology Information। ২৭ মার্চ ২০০৫। Identification and Related records। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১১ 
  2. Zumdahl, Steven S. (২০০৯)। Chemical Principles 6th Ed.। Houghton Mifflin Company। আইএসবিএন 978-0-618-94690-7 
  3. "NIOSH Pocket Guide to Chemical Hazards #0054" (ইংরেজি ভাষায়)। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ (NIOSH)। 
  4. Greenwood, Norman N.; Earnshaw, Alan (1997). Chemistry of the Elements (2nd ed.). Butterworth-Heinemann. ISBN 978-0-08-037941-8.
  5. Raymond Aurelius Higgins (2006). Materials for Engineers and Technicians. Newnes. p. 301. ISBN 0-7506-6850-4.
  6. Günter Petzow, Fritz Aldinger, Sigurd Jönsson, Peter Welge, Vera van Kampen, Thomas Mensing, Thomas Brüning "Beryllium and Beryllium Compounds" in Ullmann's Encyclopedia of Industrial Chemistry 2005, Wiley-VCH, Weinheim. ডিওআই:10.1002/14356007.a04_011.pub2
  7. Ropp, Richard C. (২০১২-১২-৩১)। Encyclopedia of the Alkaline Earth Compounds (ইংরেজি ভাষায়)। Newnes। আইএসবিএন 9780444595539 
  8. "Hazardous Substance Fact Sheet" (PDF)। New Jersey Department of Health and Senior Services। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ১৭, ২০১৮ 
  9. "Beryllium Oxide Safety"American Beryllia। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৩-২৯