বেন বার্নেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বেন বার্নেট
Ben Barnett c1930.jpg
আনুমানিক ১৯৩০ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে বেন বার্নেট
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামবেঞ্জামিন আর্থার বার্নেট
জন্ম(১৯০৮-০৩-২৩)২৩ মার্চ ১৯০৮
অবার্ন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু২৯ জুন ১৯৭৯(1979-06-29) (বয়স ৭১)
নিউক্যাসল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরন
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক১০ জুন ১৯৩৮ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২০ আগস্ট ১৯৩৮ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৭৩
রানের সংখ্যা ১৯৫ ৫৫৩১
ব্যাটিং গড় ২৭.৮৫ ২৭.৫১
১০০/৫০ ০/১ ৪/৩১
সর্বোচ্চ রান ৫৭ ১৩১
বল করেছে ২৪
উইকেট
বোলিং গড় ২০.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/২ ২১৬/১৪১
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ আগস্ট ২০১৯

বেঞ্জামিন আর্থার বার্নেট (ইংরেজি: Ben Barnett; জন্ম: ২৩ মার্চ, ১৯০৮ - মৃত্যু: ২৯ জুন, ১৯৭৯) ভিক্টোরিয়ার অবার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৮ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। শৌখিন অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলার হিসেবে ওল্ড স্কচ কলেজিয়ান্স ক্লাবের অধিনায়কত্ব করেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ ক্রিকেটে বাকিংহামশায়ার, এমসিসি ও মাইনর কাউন্টিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে কার্যকরী ব্যাটিং করতেন বেন বার্নেট

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

শান্তপ্রকৃতির খেলোয়াড় হিসেবে বেন বার্নেটের বেশ সুনাম ছিল। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় উইকেট-রক্ষক ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের বর্ণাঢ্যময় জীবনে খেলোয়াড় ও প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত বেন বার্নেটের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।

মেলবোর্নের স্কচ কলেজে পড়াশুনো করেছিলেন তিনি। তারা ছয় ভাই-বোন ছিলেন। ১৯২০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৩০-এর দশক পর্যন্ত হথর্ন/ইস্ট মেলবোর্ন ও ভিক্টোরিয়ার পক্ষে খেলেছেন। ১৯২৭ সালে বিদ্যালয় দল থেকে সরাসরি হথর্ন ইস্ট মেলবোর্ন প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ লাভ করেন। শুরুরদিকে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো বোলিং করতেন। আকস্মিকভাবে উইকেট-রক্ষণের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। দুই বছরের মধ্যে ভিক্টোরিয়া দলের সাথে যুক্ত হন। ১৯২৯ সালে জে. এল. এলিছের স্থলাভিষিক্ত হবার পূর্বে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ১৩১ রান তুলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব-পর্যন্ত রাজ্য দলের নিয়মিত উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

ভিক্টোরিয়ার পক্ষে ২৮.৮৮ গড়ে ২,৭৭৩ রান তুলেন। তন্মধ্যে, অপরাজিত ১০৪ রানের ইনিংস রয়েছে তার। এছাড়াও, ১৯৪০ সালে যুদ্ধে যাবার পূর্বেকার শেফিল্ড শিল্ডের শেষের দিক থেকে দ্বিতীয় খেলায় ৯২ রান তুলেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন বেন বার্নেট। ১০ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নটিংহামে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২০ আগস্ট, ১৯৩৮ তারিখে ওভালে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৩৪ সালে ডব্লিউ. এ. ওল্ডফিল্ডের সহকারী হিসেবে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে সংরক্ষিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে অংশ নেন তিনি। এরপর ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ড গমন করলেও তেমন সফলতা পাননি। এ সফরে জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার বার্ট ওল্ডফিল্ড ও সমবয়সী ডন টলনের সাথে কিছুটা বিতর্কিত পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন। ওভাল টেস্টে ইংরেজ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লেন হাটনকে ৪০ রানের মাথায় ফ্লিটউড-স্মিথের চায়নাম্যানে স্ট্যাম্পিং করতে ব্যর্থ হন। সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার পর হাটন তৎকালীন টেস্ট রেকর্ড হিসেবে ৩৬৪ রান তুলেন। হেডিংলি টেস্টে ৫৭ রান তুলে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন ও অস্ট্রেলিয়া দল অ্যাশেজ করায়ত্ত্ব করে।

বেশ কয়েক বছর চাঙ্গিতে যুদ্ধবন্দী ছিলেন। সাড়ে তিন বছর জাপানীদের হাতে যুদ্ধবন্দী ছিলেন। এরপর হথর্ন ইস্ট মেলবোর্ন ক্লাবে সহঃসভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। আমৃত্যু ক্লাবের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। যুদ্ধ পরবর্তীকালে শেফিল্ড শিল্ডের কোন খেলায় অংশ না নিলেও হথর্ন ইস্ট মেলবোর্নের পক্ষে খেলেন।

ইংল্যান্ডে অবস্থান[সম্পাদনা]

১৯৪৯ সালে অস্ট্রেলীয় ঔষধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাজ্যে স্থানান্তরিত হন। এ পর্যায়ে আরও দুইটি অধ্যায় অতিবাহিত করেন। বাকিংহামশায়ারের সফলতম খেলোয়াড়ের পাশাপাশি লন্ডনে ক্রীড়া ও সেবা সংস্থায় প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন। লন্ডনে ২০ বছর অবস্থান করেছিলেন। এ সময়ে আইসিসি ও আন্তর্জাতিক লন টেনিস ফেডারেশনে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে আন্তর্জাতিক লন টেনিস ফেডারেশনের সহঃসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। এ পদে বেশ কয়েকবছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক লন টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও, ইম্পেরিয়াল সার্ভিসম্যান্স লেজিওনের পক্ষেও একই দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭৪ সালে অবসর গ্রহণের পর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন। ১৯৭৭ সালে ক্রীড়া ও ক্রীড়াজগতে বর্ণাঢ্যময় জীবন অতিবাহনের স্বীকৃতিস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ান মেডেল লাভ করেন।

১৯৫১ সালে মাইনর কাউন্টিতে প্রথম খেলেন। তবে, ১৯৬৪ সালে ব্যবসায়িক চাপ বৃদ্ধির ফলে ৫৬ বছর বয়সে অবসর নেন। ১৯৫২ সালে সফলতম মৌসুম অতিবাহিত হয় বেন বার্নেটের। দ্রুতলয়ে ব্যাটিং ও উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি অধিনায়কত্ব লাভ করেন। ১৯৪৬ সালের পর প্রথম চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা পায় তার দল। পরবর্তী শীতকালে কমনওয়েলথ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ভারত গমন করেন। ঐ কাউন্টি দলের পক্ষে পাঁচ সেঞ্চুরি সহযোগে ৩,২২২ রান তুলেন। ১৯৫৪ সালে জেন্টলম্যানের পক্ষে খেলেন। ১৯৬১ সালে হ্যাস্টিংস উৎসবের খেলায় ৫৩ বছর বয়সে সর্বশেষ খেলেন।

পুরনো সেনা সদস্য ও বন্ধুর সাথে স্বাক্ষাৎকালে ২৯ জুন, ১৯৭৯ তারিখে ৭১ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউক্যাসল এলাকায় বেন বার্নেটের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Australia – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]