বিষয়বস্তুতে চলুন

বেদুইনদের সম্মান বিধি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

শরাফ এবং ইরদ হলো বেদুইনদের সম্মান-ভিত্তিক নীতিমালা। আতিথেয়তা ও সাহস/বীরত্ব-এর পাশাপাশি, এগুলো বেদুইন নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ দিক।[১] বেদুইন বিচার ব্যবস্থা এই সম্মানবোধ ভিত্তিক নিয়মের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছিল, যদিও বর্তমানে অনেক বেদুইন শরিয়া আইন বা জাতীয় দণ্ডবিধি মেনে বিচার পদ্ধতি গ্রহণ করছে, ফলে এই পুরনো নিয়মগুলো ব্যবহারের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মরুওয়া

[সম্পাদনা]

মরুওয়া শব্দের অর্থ হতে পারে ‘পুরুষোচিততা’, কিন্তু এর তাৎপর্য আরও বিস্তৃত। এটি একদিকে যুদ্ধের সাহস বোঝাত, আবার কষ্ট সহ্য করা, ধৈর্য ধারণ এবং গোত্রের প্রতি নিষ্ঠা রাখার আদর্শকেও বোঝাত। এই গুণের মানে ছিল গোত্রপ্রধান (সাইয়্যিদ)-এর প্রতি আনুগত্য রাখা, নিজের নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করেও। ব্যক্তিগত বা গোত্রের ওপর করা অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়াকে একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখা হতো।[২]

এই ধারণাটি ছিল আইনবিহীন অঞ্চলে গোত্রের টিকে থাকার জন্য কার্যকর একটি পন্থা। যখন কেউ এই সম্মানবোধ লঙ্ঘন করত, তখন রক্ত প্রতিশোধের হুমকি গোত্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করত, বিশেষ করে যেসব এলাকায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ ছিল না।[২]

ইরদ (আরবি: عرض) হলো নারীদের জন্য বেদুইনদের সম্মানবোধ। একজন নারী জন্মসূত্রে ইরদ নিয়ে জন্মান, কিন্তু যৌন শৃঙ্খলাভঙ্গের মাধ্যমে তা হারাতে পারেন। এটি কৌমার্য থেকে আলাদা, কারণ এটি আবেগগত ও ধারণাগত বিষয়। একবার হারালে, ইরদ আর ফিরে পাওয়া যায় না।[১]

শরাফ হলো পুরুষদের জন্য সাধারণ বেদুইন সম্মানবোধ। এটি অর্জন করা যায়, বৃদ্ধি পেতে পারে, হারানোও যায়, আবার পুনরুদ্ধারও সম্ভব। শরাফ মানে পরিবারের নারীদের ইরদ রক্ষা, সম্পত্তি রক্ষা, গোত্রের সম্মান বজায় রাখা এবং (যদি গোত্রটি বসতি স্থাপন করে থাকে) গ্রাম রক্ষা করা।[১]

দিয়াফা

[সম্পাদনা]

দিয়াফা (আরবি: ضيافة) শরাফের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত একটি গুণ। প্রয়োজনে শত্রুকেও আশ্রয় ও খাবার দেওয়া আবশ্যক, এবং এটি কয়েকদিন পর্যন্ত হতে পারে। দারিদ্র্য এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় না। উদারতা এই গুণের সাথে সম্পর্কিত, এবং অনেক বেদুইন সমাজে উপহার দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং তা প্রত্যাখ্যান করা যায় না। সমাজে দরিদ্রদের দেখভাল করা হয় এবং যাকাত প্রদান অনেক সমাজে আবশ্যিক।[৩]

হামাসা

[সম্পাদনা]

হামাসা (সাহস/বীরত্ব) শরাফের সাথে সম্পর্কযুক্ত আরেকটি গুণ। এটি গোত্রের পক্ষে লড়াই করার মানসিকতা ও আসবিয়া (গোত্রীয় সংহতি ও ভারসাম্য) রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এটি মরুওয়া (পুরুষোচিততা)-র সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। এটি সাধারণত ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা, যেমন (পুরুষদের) সুন্নতকরণ সহ্য করার ক্ষমতা বোঝায়।[৩]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 পাতাই, রাফায়েল। আরব মানসিকতা। চার্লস স্ক্রিবনার'স সন্স: নিউ ইয়র্ক, ১৯৭৩।
  2. 1 2 আর্মস্ট্রং, ক্যারেন (১৯৯৯)। ঈশ্বরের ইতিহাস। ভিনটেজ। পৃ. ১৫৬–১৫৭।
  3. 1 2 ব্লেক, মার্থা। ঘিন্নাওয়া: বেদুইন নারীদের কবিতা কিভাবে সামাজিক প্রকাশ সম্পূরক করে।