বেদবতী নদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বেদবতী নদীর ওপর বাণীবিলাস বাঁধ

বেদবতী নদী ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের একটি নদী; এটি তুঙ্গভদ্রা নদীর একটি শাখানদী। পশ্চিমঘাটের বাববুদানগিরি পর্বতমালা থেকে উতপন্ন হয়ে কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যগুলির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তুঙ্গভদ্রা নদীতে মিশে গেছে। বেদবতীকে কর্ণাটকের বেল্লারী জেলা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে হাগারিও বলা হয়। বেদ ও অবথি নামের দুটি নদী বাববুদানগিরি পর্বতমালার সহ্যাদ্রি পার্বত্য অঞ্চলের পূর্ব অংশে উতপন্ন হয়ে, পূর্বে প্রবাহিত হয় এবং পুরার নিকটে মিলিত হয়ে বেদবতী নদী গঠন করে । সেখান থেকে নদীটি চিকমাগালুর জেলার কদুর তালুক দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপরে এটি যথাক্রমে চিত্রদুর্গ জেলার হোসদুর্গা তালুক, হিরিউর তালুক এবং চালাকেরে তালুকে প্রবেশ করে।

বেদবতীর তীরে, হোসাদুর্গা তালুকের কেলডুতে শ্রী আঞ্জনেয় মন্দির নামে একটি বিখ্যাত মন্দির রয়েছে।

হিরিউর তালুকে বেদবতী নদীর ওপর নির্মিত বাণীবিলাস সাগর বাঁধটি এক শতাব্দী পূর্বে ১৮৯৭ থেকে ১৯০৭ সালের মধ্যে নির্মিত। বাণীবিলাস সাগর মারিকানিয়েভ নামেও পরিচিত। এটি স্যার এম বিশ্বেশ্বরাইয়া নির্মিত প্রথম বাঁধ এবং এটি দুটি পাহাড়ের মধ্যে নির্মিত প্রথম প্রাকৃতিক জলাধার। এখানে "কণিভ মারিয়াম্মা" নামে এক দেবীর প্রতি উত্সর্গীকৃত একটি মন্দিরও রয়েছে। মেরিকানিয়েভ চিত্রদুর্গ জেলার একটি বিখ্যাত পর্যটক আকর্ষণ। জলাশয়ের নিকটে একটি বাগান রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন।

হিরিউর তালুকের কুডালাহল্লীতে বেদবতীর সাথে সুবর্ণমুখী নামক একটি নদী এসে মিলিত হয়েছে। এটি স্থানীয়দের দ্বারা 'পুণ্যভূমি' বা 'সেক্রেড ল্যান্ড' হিসাবে বিবেচিত হয়। বেদবতী নদীটি হিরিউর থেকে নারায়ণপুর, পরশুরামপৌড়া, বৃন্দাবনহাল্লির দিকে প্রবাহিত হয়, যেখানে নদীটি বৃত্তাকারে প্রবাহিত হয়, এবং পরে যজুর (মোডালা জাজুর), নাগগোন্ডনাহল্লি, জনমাদ্দী হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবেশ করে। নাগাগন্ডনাহলির তীরে একটি জনপ্রিয় বার্ষিক মেলা রয়েছে। বেদবতী নদীর ওপারে রয়েছে একটি গ্রাম জাজুর। জজুর গ্রামে রয়েছে করিয়াম্মা, অঞ্জনেয়, শিব, শ্রী কোদনন্দ রাম, লক্ষ্মণ, সীতা, অঞ্জনা, এবং নগরকত্তে এবং শ্রী শঙ্করাচার্যের মন্দিরগুলি।

বেদবতী নদীটি তুঙ্গভদ্রা নদীর একটি শাখা নদী এবং বেল্লারি জেলার সিরুগুপা তালুকের সিদ্ধারাগোন্ডে গ্রামে তুঙ্গভদ্রা নদীর সাথে মিলিত হয়। বেদবতী নদীর মোট দৈর্ঘ্য ৩৯১ কিলোমিটার। এটি একটি মৌসুমী নদী এবং কেবল বর্ষাকালে প্রবাহিত হয় এবং বছরের বেশিরভাগ সময় শুকনো থাকে।

সরকার গ্রীষ্মকালে শুকিয়ে যাওয়া চিকমাগালুর জেলার বেদবতী নদীকে নতুন করে সঞ্চারিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জলসম্পদের অত্যধিক শোষণ এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে গ্রীষ্মে এটি শুষ্ক থাকে। গত ২০ বছরে, নদীটি কেবল বর্ষাকালে পুরো প্রবাহে প্রবাহিত হয়েছিল। পরিকল্পনায় ৮১০ টিরও বেশি জল সংগ্রহের কাঠামো যেমন পেরকোলশন ওয়েল, ইনজেকশন ওয়েল এবং পুকুরগুলির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]