বেতাগী ইউনিয়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বেতাগী
ইউনিয়ন
৭নং বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ
বেতাগী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
বেতাগী
বেতাগী
বাংলাদেশে বেতাগী ইউনিয়নের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°২৬′ উত্তর ৯২°০০′ পূর্ব / ২২.৪৩৩° উত্তর ৯২.০০০° পূর্ব / 22.433; 92.000স্থানাঙ্ক: ২২°২৬′ উত্তর ৯২°০০′ পূর্ব / ২২.৪৩৩° উত্তর ৯২.০০০° পূর্ব / 22.433; 92.000
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা চট্টগ্রাম জেলা
উপজেলা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা
সরকার
 • চেয়ারম্যান নুর কুতুবুল আলম
আয়তন
 • মোট ১৭.৭২ কিমি (৬.৮৪ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ৪৯,৪৮৪
 • ঘনত্ব ২৮০০/কিমি (৭২০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৫৮.২১%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৪৩৪৮ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

বেতাগী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন

আয়তন[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়নের আয়তন ৪৩৭৮ একর (১৭.৭২ বর্গ কিলোমিটার।[১]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বেতাগী ইউনিয়নের লোকসংখ্যা ৪৯,৪৮৪ জন।

  • পুরুষ : ২৪,৭৪৯ জন
  • মহিলা : ২৪,৭৩৫ জন[২]

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণায় বেতাগী ইউনিয়নের অবস্থান। এ ইউনিয়নের উত্তরে পোমরা ইউনিয়ন, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভারাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়ন; পূর্বে কর্ণফুলি নদী, সরফভাটা ইউনিয়নবোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন; দক্ষিণে কর্ণফুলি নদীবোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়ন অবস্থিত।

নামকরণ[সম্পাদনা]

গ্রামের নাম বেতাগী হবার কোন প্রামাণ্য ঐতিহাসিক সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। কিংবদন্তী অনুসারে উপদ্বীপ সদৃশ জনপদটির প্রায় মধ্যাঞ্চল দিয়ে বেতের আগার মতো সর্পিল গতিতে প্রবাহিত বেতাগী খালের উভয় তীরে ঘন বেতবনের নামানুসারে গ্রামের নাম হয়েছে ‘বেতাগি’ (বেতের অগ্রভাগ) অর্থাৎ বেতাগী। নাম প্রসঙ্গে দুই বেহাই-এর মধ্যে একটি রসিকতা গল্পও শোনা যায়। ভিন্ন গ্রাম থেকে বেতাগীর বেহাই বাড়ীতে আগত বেহাই নাকি বলেছিলেন, “বেতাগীর মানুষ বে-ত্যাগী” অর্থাৎ ত্যাগ করতে জানেনা। তাই গ্রামের নাম হয়েছে বে-ত্যাগী অর্থাৎ বেতাগী। জবাবে বেতাগীর বেহাই নাকি বলেছিলেন, “আরে না না, এখানে ব্যথার ঘি অর্থাৎ ব্যথা উপশমের ঘি পাওয়া যেতো বলে গ্রামের নাম হয় ব্যথার ঘি অর্থাৎ বেতাগী। দুই বেহাই এর মধ্যে নিছক একটি রসিকতার গল্প ছাড়া কিছু নয়। তবে একটি কৌতূহলের বিষয় হচেছ যে বাংলাদেশের বরিশাল, কুষ্টিয়া, পাবনা প্রভৃতি জিলাতেও বেতাগী নামের থানা কিংবা গ্রামের অস্তিত্ব মেলে। এই মিলের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা পন্ডিতগণের গবেষনার বিষয়। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাদ্বয়ের প্রায় মাঝখানে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী এই তিন থানার সঙ্গমস্থলে রাঙ্গুনিয়া থানার অন্তবর্তী হচ্ছে বেতাগী ইউনিয়ন।[৩]

ইতিহাস ও ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

বেতাগী এলাকা কত প্রাচীন তা জানার মত ঐতিহাসিক তথ্য এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ইউনিয়নের চম্পাতলী এলাকার আশেপাশের ভূগর্ভে কিছু পুরাকীর্তির নিদর্শন পাওয়া গেছে। এলাকাটির দক্ষিণাংশে পাহাড়ের ঢালে মাটির নিচে ১৯৫৬ সালের জানুয়ারী মাসে ১০×৭×২ ইঞ্চি মাপের মধ্যযুগীয় ইটের গাঁথুনিযুক্ত একটি পাতকুয়া আবিস্কৃত হয়। সেই পাতকুয়ায় নাকি পিতল নির্মিত একটি প্রাচীন ছোট বৌদ্ধমূর্তিও পাওয়া গিয়েছিলো। পশ্চিম দিকে খোন্দকার বাগিচা নামক কবরস্থানের পাহাড়টিতে কবর খননের সময়ে মাঝে মাঝে একই মাপের প্রাচীন ইস্টক নির্মিত দেওয়ালের নিদর্শন পাওয়া যায়। পাহাড়টির দক্ষিন দিকে নিচে বর্তমানে বিলুপ্ত হলদ্যা পুকুরের পাড় থেকে মাটি খনন করে ডেকচি পূর্ণ স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কারের জনরবও শোনা গেছে। এই সমস্ত বাস্তব তথ্য ও জনরব থেকে অনুমান করা হয়ে যে, কয়েক শতাব্দী আগে এলাকাটিতে ধনশালী আরাকানী বৌদ্ধদের বসতি ছিলো। তাছাড়া মধ্য বেতাগীর গাবগুলাতল থেকে মালেকার বাপের বাড়ীর সামনের জগন্নাথ পুকুরের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত ইটের গাঁথুনিযুক্ত রাস্তায়, গোলাম আলী চৌধুরীর নির্মিত মসজিদের সিমেন্ট বিহীন পাকা দেওয়ালে, জান আলী ইজারাদের তেরজুরী (treasury সরকারী কোষাগার)–র ভগ্নাংবশেষে, ধামাই পুল ও গোলাম আলী চৌধুরী সড়ক (বেপারীর জাঙ্গাল) এর ২টি নাশিতে ৬.৫×৩×২.৫ ইঞ্চি মাপের অনেক ইট দেখতে পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এই সমস্ত ইট মধ্যযুগীয় স্থাপত্যে ব্যবহৃত ছিল বলে এই সমস্ত স্থাপনাকে মনে করা হয় মধ্যযুগীয় পুরাকীর্তির নিদর্শন। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানের নামেও পাওয়া যায় মোগল, আরাকানী, ত্রিপুরা, প্রভৃতি আমলের নামের ইঙ্গিত। যেমন, বদরের দীঘি, নঈয়ারখিল, খাজাঞ্চীর দীঘি, লাওসি পুকুর, পরাণগোমস্তা পুকুর, বিষকরমের পুকুর, বেপারীর জাঙ্গাল, মির্জাখীল প্রভৃতি নাম উল্লেখ করা যায়। বেপারীর জাঙ্গালের উত্তর ধারে পাহাড়ের পশ্চিম ঢালে মহাকাশের সাক্ষীরূপে দণ্ডায়মান সুবিস্তৃত ডালপালা শোভিত বটবৃক্ষটি নাকি ২০০ বৎসরের ও বেশী প্রাচীন। আমাদের পূর্ববর্তী দুই প্রজন্মের লোককে বলতে শুনেছি তারা শৈশব থেকে বটবৃক্ষটিকে একই অবস্থায় একই আকারে দেখেছেন। জাপানে নাকি এরূপ প্রাচীন গাছকে জাতীয় রত্নরূপে সংরক্ষণ করা হয় সরকারী উদ্যোগে। এই বটগাছটিকেও জাতীয় ঐতিহ্যর সাক্ষীরুপে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। কিংবদন্তী আছে যে, এই বটগাছটিরই পাশে ছিলো আরেকটি বিরাট বটগাছ যাকে বলা হতো “আটকড়ি”র বটগাছ। এই বটবৃক্ষ তলে নাকি ছিলো ফেরীঘাট যেখান থেকে সেকালের মুদ্রায় আটটি কড়ি দিয়ে হাটহাজারী থানার ফতেয়াবাদের “ঝরঝরি” বটতল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ দরিয়া পারাপার করা হত। তাই বটগাছটির নাম হয় আটকড়ির বটগাছ। এমন কিংবদন্তীও আছে যে এই বটতলা থেকে ফেরী নৌকা দেয়াঙের পাহাড়েও যাতায়াত করত। এই সমস্ত কিংবদন্তী থেকে অনুমান করা হয় যে এককালে কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণে খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ, তৈলারদ্বীপ, হাবিলাসদ্বীপ, ধলঘাট প্রভৃতি স্থানের নাম একটি সুবিস্তৃত দরিয়ার অস্থিত্বের কাহিনীকেই সমর্থন করে। প্রায় ২০০ বছর আগে বেতাগীতে কিছু বিদ্বান ও পণ্ডিত ব্যক্তির বসতি ছিল। তাদের অন্যমত একজন হচ্ছেন মদন-পণ্ডিত যিনি “ছোটঠাকুর” নামেই বেশী পরিচিত। শোনা যায় আরাকানী রাজসভার একজন সভাপণ্ডিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয়, যোগাযোগ ও আনাগোনা ছিল। মদন-পণ্ডিত কৃষিকার্য করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একবার কৃষি মৌসুমে আরাকানী রাজসভার পণ্ডিত বেতাগীর মদন-পণ্ডিতে সঙ্গে দেখা করতে এসে দেখতে পান মদন পণ্ডিত যালাক্ষেতে থেকে একান্ত মনে যালা তুলছেন। সারাদেহ জলাকাদায় একাকার। তাঁর এই কিম্ভূতকিমাকার মূর্তিটি দেখে আরাকানী পণ্ডিত ছড়া কেটে বলেছিলেন- “এ্যাকি মদন ভেরকেডি বদন যালা হারিতে পারে! পূর্বে আছিলো মদন লক্ষী বদন, যমে হরি নিলো তারে।” অর্থাৎ ধানের চারা তোলার অবস্থায় কাদামাখা মদন-পণ্ডিতের কি যে কিম্ভূতকিমাকার মূর্তি! আগে যে সুন্দর দেহটি ছিলো, যম সেই সুন্দর চেহারা হরণ করে নিয়ে গেছে। তাই এই অবস্থা।[৪]

প্রশাসনিক কাঠামো[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়ন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আওতাধীন ৭নং ইউনিয়ন পরিষদ। এ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আওতাধীন। এ ইউনিয়ন জাতীয় সংসদের ২৮৪নং নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-৭ এর অংশ।

ওয়ার্ডভিত্তিক এ ইউনিয়নের গ্রামগুলো হল:

০১ ১নং ওয়ার্ড
  • পশ্চিম বেতাগী
০২ ২নং ওয়ার্ড
  • ঢেমিরছড়া
০৩ ৩নং ওয়ার্ড
  • মধ্য বেতাগী (রামগতির হাট সংলগ্ন, গাবগুলা তল)
  • আন্দরঘোনা (চম্পাতলী)
০৪ ৪নং ওয়ার্ড
  • মধ্য বেতাগী (রহমানিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন, কুলালপাড়া, স'মিল ঘাট)
০৫ ৫নং ওয়ার্ড
  • বেতাগী বড়ুয়া পাড়া
  • পূর্ব বেতাগী (সিকদার পাড়া)
০৬ ৬নং ওয়ার্ড
  • তিনচৌদিয়া
  • ডিঙ্গললোঙ্গা
  • বানিয়াখোলা
০৭ ৭নং ওয়ার্ড
  • পূর্ব বেতাগী (মির্জাখীল)
  • দক্ষিণ চেংখালী (দক্ষিণাংশ)
০৮ ৮নং ওয়ার্ড
  • কাউখালী
  • উত্তর চেংখালী (দক্ষিণাংশ)
  • দক্ষিণ চেংখালী (উত্তরাংশ)
০৯ ৯নং ওয়ার্ড
  • গুনগুনিয়া বেতাগী
  • উত্তর চেংখালী (উত্তরাংশ)

[৫]

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়নে শিক্ষিতের হার প্রায় ৬৫%। এ ইউনিয়নে ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি মাদ্রাসা, ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯টি কিন্ডারগার্টেন ও ১৪টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা রয়েছে।[৬]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

মাধ্যমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

[৭]

মাদ্রাসা[সম্পাদনা]

[৮]

নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

[৯]

প্রাথমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  • কাউখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • গুনগুনিয়া বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • ঢেমিরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • তিনচৌদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • পশ্চিম বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • পূর্ব বেতাগী হাফেজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • প্রফেসর আব্দুল হালিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • বড়ুয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • বিপিন বিহারী পাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • বেতাগী চেংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • মধ্য বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

[১০]

কিন্ডারগার্টেন[সম্পাদনা]

  • কর্ণফুলি মডার্ন কেজি স্কুল
  • তিনচৌদিয়া ডিঙ্গললোঙ্গা শিশু নিকেতন
  • দীপন কিন্ডারগার্টেন
  • পূর্ব বেতাগী ওয়ায়েজ উদ্দীন শাহ (রহ.) কেজি স্কুল
  • বেতাগী পাবলিক স্কুল
  • মাদ্রাসা ইশকে মুস্তফা (দ.)

যাতায়াত ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়কগুলো হল:

  • হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক (রাউজান-বেতাগী)
  • শান্তির হাট-রামগতির হাট সংযোগ সড়ক
  • আমান উল্লাহ সড়ক (গোচরা চৌমুহনী-বেতাগী স'মিল)
  • গশ্চি নয়াহাট-লাম্বুরহাট-রামগতির হাট সড়ক

সড়কপথে প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম সিএনজি চালিত অটোরিক্সা।

এছাড়া কালুরঘাট-বেতাগী স'মিল নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

গ্রাম ও প্রকৃতি[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়নে বেতাগী (৬ মৌজা), ঢেমিরছড়া, আন্দরঘোনা, বানিয়াখোলা, ডিঙ্গললোঙ্গা (২ মৌজা), তিনচৌদিয়া, চেংখালী (২ মৌজা), কাউখালী ও গুনগুনিয়া বেতাগী এই ১৬টি মৌজা রয়েছে। তন্মধ্যে নদী তীরবর্তী বেতাগীর ৫ মৌজা এবং কাউখালী ও গুনগুনিয়া বেতাগী বাদ দিলে অবশিষ্ট মৌজাগুলো পাহাড়ময়।

মোটামুটিভাবে সমগ্র বেতাগী ইউনিয়নের অর্ধাংশ সমতল ভূমি এবং বাকি অর্ধাংশ অসংখ্য ‘ঘোনা’ ও ‘থলি’ (উপত্যকা) খচিত পাহাড়ী ভূমি। বিভিন্ন পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়েছে কতগুলো ছড়া ও খাল। ছড়াগুলো বর্ষাকালে পানিপূর্ণ থাকলেও শুকনো মৌসুমে শুষ্ক বালুকাময়। কর্ণফূলি-বিধৌত সমতল ভূমি, উঁচুনিচু পাহাড় ও টিলার বনজঙ্গল, ছড়া, ও খাল, সবুজ উপত্যকা আর গভীর নীলাকাশ মিলে বেতাগী ইউনিয়নের নিসর্গ শোভাকে করেছে এতই মনোরম যে আরব্যরজনীর কাহিনীর মতোই একজন আরব বাদশা এখানকার পাহাড়ে নির্মাণ করছেন তার বিনোদনের জন্য একটি সুরম্য উদ্যান-অট্টালিকা। হগ চট্টগ্রাম শহর থেকে কর্ণফুলি নদীর উজানে প্রায় ১২ মাইল কিংবা কালুরঘাট সেতু থেকে একই নদীপথে প্রায় ৬ মাইল যাবার পর নদী যেখানে ধ্বনি ও প্রতিধ্বনির জন্য সুপরিচিত কুশল্যা পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে বাঁ দিকে মোড় নিয়েছে সেখানে উপবদ্বীপাকার যে ভূখণ্ড সেটি হচ্ছে বেতাগী। অথবা চট্টগ্রাম শহর থেকে এশিয়ান হাইওয়ে এবং তার পরে কাপ্তাই সড়ক ধরে যেতে যেতে সড়কটি যেখানে প্রথম পাহাড়ী এলাকায় প্রবেশ করেছে সেখানে পাহাড়তলী চৌমুহনী থেকে ডান দিকে মোড় নিয়ে প্রায় তিন মাইল গিয়ে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত বেতাগী। কাপ্তাই সড়ক ধরে পাহাড়তলী চৌমুহনী থেকে আরো প্রায় দুই/তিন মাইল গিয়ে শান্তির হাট বা গোচরা চৌমুহনী থেকে ডান দিকে মোড় নিয়েও বেতাগী যাওয়া চলে। শীত-বসন্ত-গ্রীষ্ম ঋতুর শান্ত নদী কর্ণফুলির ধীর প্রবাহিত স্রোতধারায় চাঁদনি রাতে চন্দ্রালোকের প্রতিবিম্ব দুলিয়ে মাল্লাদের ভটিয়ালী গানের সুর যেমন গ্রামীণ জনজীবনে মৃদু স্পন্দন জাগায় তেমনি আবার ঘোর বর্ষায় বেগবতী কর্ণফুলি রুদ্ররুপ গ্রামবাসীর মনে সৃষ্টি করে প্রচণ্ড ত্রাস। এই দুই ঋতুতে কর্ণফুলি নদীর দুই পরস্পরবিরোধী রুপ বেতাগী এলাকাতেই বেশী পরিস্ফুট এবং বেতাগীবাসীর চিরপরিচিত। বেতাগীর দক্ষিণ উপকূলে যেখানে গোলাম বেপারী হাট অবস্থিত ছিল সেখানেই নদীটি বেশী প্রশস্থ।[১১]

ভাষা ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

আমাদের দেশের বিশেষ করে চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চলে ঘরে বাইরে সদাসর্বদা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। তবে অন্য ভাষায়ও বেতাগী ইউনিয়নের লোকের দক্ষতা রয়েছে।[১২]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়নের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কৃষিখাতে। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবি, বিভিন্ন পেশাজীবি, ব্যবসায়ী আর প্রবাসী রয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়নে প্রায় ৫০টি মসজিদ, ১টি ঈদগাহ, ১টি মন্দির, ১টি প্যাগোডা রয়েছে।[১৩]

খাল ও নদী[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়নের পূর্ব ও দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কর্ণফুলি নদী[১৪]

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য হাট হল রামগতির হাট।[১৫] গোলাম বেপারী হাট নামেও পশ্চিম বেতাগীর কর্ণফুলির তীরে একটি হাট ছিল, যা এখন বিলুপ্ত। এছাড়াও গাবগুলাতল, বেতাগী স'মিল, বড়ুয়া পাড়া, তিনচৌদিয়া, মির্জাখীল, কাউখালী, গুনগুনিয়া বেতাগী এসব এলাকায় নিয়মিত বাজার বসে।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • পাল আমলের বুদ্ধমূর্তি

৫নং ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়া বৌদ্ধ বিহারে সংরক্ষিত রয়েছে।

  • চম্পাতলী পাহাড় ও আবাসন প্রকল্প

রাউজান পাহাড়তলী থেকে দক্ষিণে তিন কিলোমিটার। পোমরা শান্তির হাট থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে ২.৫ কিলোমিটার। সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। [১৬]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বেতাগী ইউনিয়ন ইতিহাস ও ঐতিহ্যে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি আলোকিত মানুষ দ্বারা আলোকিত। বেতাগী ইউনিয়ন কিছু ক্ষণজন্মা আলোকিত ব্যক্তিত্বের জন্ম দিয়েছে। যাঁরা দেশ ও বিশ্বের কাছে বেতাগীকে করেছেন আরো সুপরিচিত। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • হাফেজ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহ.)

মুহাজিরে মক্কী, তাপস

  • সৈয়দ আহমদুল হক

প্রতিষ্ঠাতা, রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, বেতাগী গুডউইল স্কুল ফাউন্ডেশন।

  • খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী জাহাঙ্গীর

সাবেক বিচারপতি, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

  • মোহাম্মদ আবুল হায়াত চৌধুরী

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়

  • ইসকান্দার আহমদ চৌধুরী

যার সার্বিক প্রচেষ্টায় রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় জাপানীদের সহযোগীতায় স্কুল ভবন নির্মিত হয়। [১৭]

জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

  • বর্তমান চেয়ারম্যান: নুর কুতুবুল আলম[১৮]

চেয়ারম্যানগণের তালিকা[সম্পাদনা]

ক্রম নং চেয়ারম্যানের নাম সময়কাল
০১ নজমুল হক চৌধুরী ?-১৯৯৩
০২ বদিউল আলম তালুকদার ১৯৯৩-১৯৯৮
০৩ ফজলুল করিম মিনা ১৯৯৮-২০০৩
০৪ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ২০০৩-২০১১
০৫ পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন ২০১১-২০১৬
০৬ নুর কুতুবুল আলম ২০১৬-বর্তমান

[১৯]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  • শ্যামল মাটির ধরাতলে

লেখক: আবুল হায়াত চৌধুরী ও ইসকান্দর আহমদ চৌধুরী

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE
  2. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c75ee866-2144-11e7-8f57-286ed488c766
  3. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c41a784f-2144-11e7-8f57-286ed488c766
  4. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c41a784f-2144-11e7-8f57-286ed488c766
  5. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c75ee866-2144-11e7-8f57-286ed488c766
  6. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c2c87104-2144-11e7-8f57-286ed488c766
  7. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/view/high_school
  8. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/view/madrasa
  9. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/view/junior_school
  10. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/view/primary_school
  11. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c41a784f-2144-11e7-8f57-286ed488c766
  12. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c53c53ea-2144-11e7-8f57-286ed488c766
  13. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/view/religious_institutes
  14. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c4de3515-2144-11e7-8f57-286ed488c766
  15. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/view/hat_bazar_list
  16. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/view/tourist_spot
  17. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c41a7096-2144-11e7-8f57-286ed488c766
  18. http://www.bhorerkagoj.net/print-edition/2016/05/30/90896.php
  19. http://betagiup.chittagong.gov.bd/site/page/c41a9458-2144-11e7-8f57-286ed488c766

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]