বেকা উপত্যকা
বেকা উপত্যকা পূর্ব লেবাননের একটি উর্বর কৃষি অঞ্চল । [১] এর জলবায়ু ভূমধ্যসাগরীয়, শীতকালে আর্দ্রতা বেশি ও তুষারপাত হয় এবং গ্রীষ্মকাল শুষ্ক ও উষ্ণ থাকে। [২]
জলবায়ু
[সম্পাদনা]উত্তরে সীমিত বৃষ্টিপাত হয়। এই উপত্যকায় উৎপন্ন হয়েছে দুটি নদী : ওরন্তেস (আসি), যা উত্তরে সিরিয়া এবং তুরস্কে প্রবাহিত হয়, এবং লিতানি, যা দক্ষিণে এবং তারপর পশ্চিমে ভূমধ্যসাগরে প্রবাহিত হয়। [৩]
খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে বেকা উপত্যকা লেভান্তের রোমান প্রদেশগুলির শস্যের উৎস হিসেবে কাজ করত। বর্তমানে এই উপত্যকায় লেবাননের ৪০ শতাংশ আবাদযোগ্য জমি আছে। [৪] উপত্যকার উত্তর প্রান্ত বৃষ্টিপাত কম এবং মাটি কম উর্বর, যা মূলত পশুপালক যাযাবরদের চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দক্ষিণে, অধিক উর্বর মাটিতে গম, ভুট্টা, তুলা এবং শাকসবজির মতো ফসল চাষ করা হয় ।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]প্রাগৈতিহাসিক
[সম্পাদনা]বেকা উপত্যকার পূর্বে অবস্থিত বালবেকে ৮০০০-৯০০০ বছর আগের বসতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।বেকা উপত্যকায় লেবানন পর্বতের পাদদেশের সমভূমিতে অবস্থিত আরদ ত্লাইলিতে ৫৭৮০-৫৭১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান রয়েছে এবং এখানে হালাফ সংস্কৃতির অন্তর্গত মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে। [৫] লাবওয়ে লেবাননের বালবেক-হারমেল গভর্নরেটের বালবেক জেলায় অবস্থিত একটি গ্রাম, যেখানে নব্যপ্রস্তর যুগ থেকে জনবসতি রয়েছে। [৫]
ব্রোঞ্জ যুগ
[সম্পাদনা]মধ্য ব্রোঞ্জ যুগ IIA- এ, বেকা উপত্যকার কাতনা এবং হাজোরের মধ্যে একটি মহাসড়ক ছিল। ব্রোঞ্জ যুগে বেকা উপত্যকা আমকু নামে পরিচিত ছিল।অঞ্চলটি আমুরু এবং কাতনার আমোরাইট রাজ্যগুলির অংশ ছিল।১৩৫০ - ১৩৩৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শহরের দুই শাসক শাতিয়া এবং আবদি-রিশা দ্বারা লিখিত আমার্না পত্রালাপে বালবেকের দক্ষিণ-পশ্চিমের এনিশাসির উল্লেখ পাওয়া যায়। [৬]
লৌহ যুগ
[সম্পাদনা]প্রারম্ভিক লৌহ যুগে বেকা উপত্যকা ফিনিশীয় ও আরামাইক -ভাষী জনগোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ে। খ্রিস্টপূর্ব ১১শ এবং ১০ম শতাব্দীতে, আরামীয়রা আরাম-জোবাহ (সোবাহ নামেও পরিচিত) রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, যার উল্লেখ বাইবেলে রয়েছে। অনেক পণ্ডিত মনে করেন এটি বেকা উপত্যকায় অবস্থিত ছিল। [৭]
হেলেনিস্টিক এবং রোমান যুগ
[সম্পাদনা]আলেকজান্ডারের সময়কালে উপত্যকাটি ইতুরিয়ানদের দ্বারা অধ্যুষিত ছিল । ‘আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের ইতিহাস’ অনুসারে, ইতুরিয়ানরা প্রায় ৩০ জন ম্যাসিডোনীয়কে হত্যা করেছিল, যা আলেকজান্ডারকে তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করতে প্ররোচিত করে। পরবর্তীকালে, ইতুরিয়ানরা সেলিউসিড সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চালকিস রাজ্য গঠন করে। অবশেষে তাদের অঞ্চলটি রোমান সিরিয়ার সাথে একীভূত হয়ে যায়।
পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল হিসেবে উপত্যকাটি রোমান সাম্রাজ্যের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এটি এর বহু মন্দিরের জন্য পরিচিত ছিল। পালমিরার রানি জেনোবিয়ার উপত্যকাটিকে পালমিরার সাথে সংযুক্ত করার জন্য ‘জেনোবিয়ার খাল নির্মাণ’ করেছিলেন।
জেলা এবং শহর
[সম্পাদনা]বেকার বৃহত্তম শহর এবং প্রশাসনিক রাজধানী জাহলে। জাহলের অধিকাংশ বাসিন্দা লেবানিজ খ্রিস্টান। উপত্যকার আনজার শহরে প্রধানত আর্মেনীয় লেবানিজ জনগোষ্ঠী বাস করে। পূর্বে অবস্থিত মাজদাল আনজার শহরে সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। বেকা, বালবেক এবং হারমেল- এর উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোর অধিকাংশ বাসিন্দা লেবানিজ শিয়া, তবে দেইর আল-আহমার শহরের বাসিন্দারা খ্রিস্টান । বালবেক এবং হারমেল জেলায় একটি খ্রিস্টান ও সুন্নি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রয়েছে, যারা প্রধানত সিরিয়ার সীমান্তবর্তী আরও উত্তরে অবস্থিত।পশ্চিম বেকা জেলার অন্যান্য শহরগুলো হলো মাশঘারা, সাবঘিনে, কামেদ আল লাউজ, কাব ইলিয়াস, সোহমোর এবং ইয়োহমোর ।

ল্যান্ডমার্ক
[সম্পাদনা]

- বালবেকের প্রাচীন রোমান ধ্বংসাবশেষ
- বেকা উপত্যকার মন্দিরসমূহ
- আনজারের উমাইয়া ধ্বংসাবশেষ
- বেকা-র আওয়ার লেডি, একটি মারিয়ান তীর্থস্থান
- বেচুয়াতের আওয়ার লেডির অভয়ারণ্য
- টেমনিন এল-ফোকার রোমান নিম্ফিয়াম
- লেবাননের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কারাউন হ্রদ
- কামিদ আল লজের ফিনিশীয় ধ্বংসাবশেষ
- লিব্বায়ার রোমান ধ্বংসাবশেষ
- কাব ইলিয়াসের রোমান ধ্বংসাবশেষ
- উপত্যকার উত্তর প্রান্তে হারমেলের পিরামিড টাওয়ার
- কারাক নুহে অবস্থিত নূহের সমাধি, নূহের প্রতি উৎসর্গীকৃত একটি উপাসনালয়।
- মাজদাল আঞ্জার মন্দির
- বালবেকের উমাইয়া মসজিদ
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]বাহ্যিক লিঙ্ক
[সম্পাদনা]- বেকা ফটো গ্যালারি ইয়া লিবনান
- ↑ "Global eye – Spring 2006 – Eye on Lebanon – The Bekaa Valley"। ১১ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Neal, Mark (২৩ মে ২০১৯), "Beqaa Valley", A Dictionary of Business and Management in the Middle East and North Africa (ইংরেজি ভাষায়), Oxford University Press, ডিওআই:10.1093/acref/9780191843266.001.0001, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-১৮৪৩২৬-৬, সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২৪
- ↑ Masri, Rania (১ জানুয়ারি ১৯৯৭), "Environmental Challenges in Lebanon", Challenging Environmental Issues (ইংরেজি ভাষায়), Brill, পৃ. ৭৩–১১৫, ডিওআই:10.1163/9789004475076_006, আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-৪৭৫০৭-৬, সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২৪
- ↑ "Lebanon's Neglected Agricultural Potential - a Story of Baalbek"। welthungerhilfe.org.tr (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২৪।
- 1 2 Copeland, Lorraine (১৯৬৯)। Neolithic Village Sites in the South Beqaa, Lebanon (ইংরেজি ভাষায়)। উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "Copeland1969" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে - ↑ Safadi, Crystal (২০১৫)। "The Beqa'a Valley During the Early Bronze Age: A GIS Approach to Settlement Patterns."।
- ↑ Abousamra, Gaby (২৫ মার্চ ২০১৯), "Biblical Ṣobah: a Location Attempt", Aramaean Borders (ইংরেজি ভাষায়), Brill, পৃ. ২৩২–২৩৩, ডিওআই:10.1163/9789004398535_011, আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-৩৯৮৫৩-৫, সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২৪