বিষয়বস্তুতে চলুন

বৃহস্পতি অভিযান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শিল্পীর তুলিতে আঁকা - বৃহস্পতি গ্রহ অভিমুখে যাত্রা করা প্রথম মহাকাশযান পায়োনিয়ার ১০-এর একটি চিত্র।
বৃহস্পতি গ্রহের উদ্দেশ্যে প্রেরিত পূর্ববর্তী মহাকাশ অভিযানসমূহ

বৃহস্পতি গ্রহের অনুসন্ধান মূলত স্বয়ংক্রিয় মহাকাশযানের মাধ্যমে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে বৃহস্পতি মণ্ডলে জোভিয়ান সিস্টেমে পায়োনিয়ার ১০-এর পৌঁছানোর মাধ্যমে এই অভিযাত্রা শুরু হয় এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই গ্রহের আশেপাশে আরও আটটি মহাকাশ অভিযান সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে আরও দুটি মহাকাশযান পথিমধ্যে রয়েছে। এই অভিযানগুলির মধ্যে একটি ছাড়া সবকটি মিশনই পরিচালনা করেছে ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) এবং এই মিশনগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি ছাড়া বাকি সবগুলোই ছিল পার্শ্ব-অতিক্রমী উড্ডয়ন—যা গ্রহটিতে অবতরণ না করে বা কক্ষপথে প্রবেশ না করে দূর থেকে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে। এই অনুসন্ধান যানগুলোর কারণে বৃহস্পতি আমাদের সৌরজগতের বহিঃস্থ গ্রহগুলোর মধ্যে সর্বাধিকবার পরিদর্শন করা গ্রহে পরিণত হয়েছে; কারণ বহিঃস্থ সৌরজগতের প্রতিটি মিশনেই বৃহস্পতির পার্শ্ব-অতিক্রমী উড্ডয়ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ৫ জুলাই মহাকাশযান জুনো বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করে—যা ইতিহাসে দ্বিতীয় কোনো মহাকাশযানের এমন কৃতিত্ব। তবে জ্বালানির বিশাল চাহিদা এবং গ্রহটির চরম বিকিরণ বলয়ের প্রভাবের কারণে বৃহস্পতিতে মহাকাশযান পাঠানো অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ।

১৯৭৩ সালে বৃহস্পতি গ্রহ পরিদর্শনকারী প্রথম মহাকাশযান ছিল পায়োনিয়ার ১০, তার এক বছর পরে পায়োনিয়ার ১১ সেখানে পৌঁছায়। গ্রহের প্রথম নিকটবর্তী ছবি তোলার পাশাপাশি এই অনুসন্ধান যানগুলো এর চৌম্বকমণ্ডল এবং এর তরল অভ্যন্তরীণ গঠন আবিষ্কার করে। ১৯৭৯ সালে ভয়েজার ১ ও ভয়েজার ২ বৃহস্পতিতে পৌঁছে এর উপগ্রহসমূহ ও বলয় ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা চালায়; এ সময়েই তারা আইয়ো উপগ্রহের আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা এবং ইউরোপা উপগ্রহের পৃষ্ঠে বরফাকৃতি পানির উপস্থিতি আবিষ্কার করে। সূর্যের মেরু অঞ্চল পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে পাঠানো ইউলিসিস মহাকাশযান ১৯৯২ সালে এবং তারপরে ২০০৪ সালে বৃহস্পতির চৌম্বক মণ্ডল নিয়ে আরও গবেষণা করে। শনি গ্রহ অভিমুখী ক্যাসিনি প্রোবটি ২০০০ সালে বৃহস্পতির কাছে দিয়ে অতিক্রম করে এবং এর বায়ুমণ্ডলের অত্যন্ত বিস্তারিত ছবি সংগ্রহ করে। এরপর ২০০৭ সালে প্লুটো অভিমুখী মহাকাশযান নিউ হরাইজন্স বৃহস্পতির পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় এই গ্রহ ও এর উপগ্রহগুলোর বিভিন্ন ভৌত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও উন্নত পরিমাপ সম্পন্ন করে।

গ্যালিলিও মহাকাশযানটিই প্রথম বৃহস্পতির কক্ষপথে প্রবেশ করে, এটি ১৯৯৫ সালে সেখানে পৌঁছে ২০০৩ সাল পর্যন্ত গ্রহটি নিয়ে গবেষণা চালায়। এটি চারটি বৃহৎ গ্যালিলীয় উপগ্রহের প্রতিটির খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করে পর্যবেক্ষণ চালায় এবং এর মধ্যে তিনটির উপরিভাগে পাতলা বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্বের প্রমাণ খুঁজে পায়, পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠের নিচে তরল পানির অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাও খুঁজে বের করে। এটি গ্যানিমিড উপগ্রহের চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের অস্তিত্বও আবিষ্কার করে। বৃহস্পতির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এটি শুমেকার–লেভি ৯ ধূমকেতুর বৃহস্পতিতে সংঘর্ষের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করে। ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে এটি বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের ভেতরে একটি বায়ুমণ্ডলীয় অনুসন্ধান যান পাঠায়, যা এখন পর্যন্ত বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা একমাত্র মানবসৃষ্ট যান।

২০১১ সালে উৎক্ষেপিত জুনো মহাকাশযানটি ২০১৬ সালের জুলাই মাসে সফলভাবে বৃহস্পতির কক্ষপথে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং বর্তমানে এটি গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করে এর বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো বৃহস্পতির চৌম্বকক্ষেত্র ও বায়ুমণ্ডল নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালানো।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ২০১২ সালে তাদের কসমিক ভিশন কর্মসূচির[১][২] অংশ হিসেবে এল১-শ্রেণির জুস কক্ষপথযান মিশনটি নির্বাচন করে, যার উদ্দেশ্য ছিল বৃহস্পতির তিনটি গ্যালিলীয় উপগ্রহ অনুসন্ধান করা; এই মিশনে রাশিয়ার রসকসমসের পক্ষ থেকে একটি সম্ভাব্য গ্যানিমিড ল্যান্ডার সরবরাহের পরিকল্পনাও ছিল।[৩] জুস মহাকাশযানটি ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়।[৪] তবে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ান ল্যান্ডারটি বাস্তবায়িত হয়নি।[৫]

নাসা ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে ইউরোপা ক্লিপার নামে আরেকটি কক্ষপথযান মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে।

চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসন বৃহস্পতি গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ২০২৪ সালে দুটি ইন্টারস্টেলার এক্সপ্রেস মিশন উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছিল[৬][৭] এবং ২০২৯ সালের দিকে বৃহস্পতি ও এর উপগ্রহ ক্যালিস্টো অনুসন্ধানের জন্য তিয়ানওয়েন-৪ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল।[৮]

বহিঃস্থ সৌরজগতের (বৃহস্পতিসহ) পূর্ববর্তী এবং আসন্ন অভিযানগুলোর একটি তালিকা বহিঃস্থ গ্রহগুলিতে অভিযানের তালিকা-তে পাওয়া যাবে।

প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা

[সম্পাদনা]
মহাকাশযান ক্যাসিনির চোখে দেখা বৃহস্পতি

পৃথিবী থেকে সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহে পৌঁছাতে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। পৃথিবী থেকে একটি মহাকাশযানকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাতে প্রাথমিকভাবে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, কক্ষপথ থেকে বৃহস্পতি গ্রহে পৌঁছাতেও প্রায় সমপরিমাণ শক্তি ব্যয় হয়। জ্যোতির্গতিবিদ্যায় এই শক্তি ব্যয়কে মহাকাশযানের বেগের নিট পরিবর্তন বা ডেল্টা-ভি দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছাতে যেখানে ৯.০–৯.৫ কিমি/সেকেন্ড বেগের পরিবর্তন প্রয়োজন,[৯] সেখানে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বৃহস্পতিতে পৌঁছাতে প্রায় ৯ কিমি/সেকেন্ড ডেল্টা-ভি'র প্রয়োজন হয়।[১০] গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তার মহাকর্ষীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে (যেমন: পৃথিবী বা শুক্র গ্রহ দ্বারা) উৎক্ষেপণের সময় শক্তির প্রয়োজনীয়তা (অর্থাৎ জ্বালানি) কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে সরাসরি যাত্রাপথের তুলনায় এটি ব্যবহার করলে বৃহস্পতির মতো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগে।[১১] ডন মহাকাশযানে ১০ কিমি/সেকেন্ডের বেশি ডেল্টা-ভি সক্ষমতাসম্পন্ন আয়ন থ্রাস্টার ব্যবহার করা হয়েছিল। কোনো মাধ্যাকর্ষণ সহায়তা ছাড়াই পৃথিবীর সমান ব্যাসার্ধের একটি সৌর কক্ষপথ থেকে বৃহস্পতির পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার মিশন সম্পাদনের জন্য এই পরিমাণ ডেল্টা-ভি যথেষ্টর চেয়েও বেশি।[১২]

বৃহস্পতি গ্রহের এমন কোনো কঠিন ভূ-পৃষ্ঠ নেই যেখানে অবতরণ করা সম্ভব; কারণ এর বায়ুমণ্ডল এবং তরল অভ্যন্তরীণ ভাগের মধ্যে একটি নিরবচ্ছিন্ন রূপান্তর ঘটে। এই বায়ুমণ্ডলের গভীরে প্রবেশকারী যেকোনো অনুসন্ধান যান শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতির অভ্যন্তরে বিদ্যমান প্রচণ্ড চাপের কারণে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।[১৩]

বৃহস্পতিতে অনুসন্ধান যান পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি প্রধান সমস্যা হলো বিকিরণের মাত্রা, কারণ গ্রহটির চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল আধানযুক্ত কণা দ্বারা পরিবেষ্টিত (এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য বৃহস্পতির চৌম্বক মণ্ডল দেখুন)। উদাহরণস্বরূপ, পায়োনিয়ার ১১ যখন গ্রহটির সবচেয়ে কাছে পৌঁছেছিল, তখন বিকিরণের মাত্রা এর পরিকল্পনাকারীদের পূর্বাভাসের চেয়ে দশ গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল; যার ফলে যানটি টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। কিছু ছোটখাটো ত্রুটি সত্ত্বেও অনুসন্ধান যানটি বিকিরণ বলয় অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু এটি আইও উপগ্রহের বেশিরভাগ ছবিই হারিয়ে ফেলে। কারণ বিকিরণের প্রভাবে পায়োনিয়ারের ইমেজিং ফটো পোলারিমিটার যন্ত্রটি ভুল সংকেত গ্রহণ করতে শুরু করেছিল।[১৪] পরবর্তী এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরও বেশি উন্নত ভয়েজার মহাকাশযানগুলোকে বৃহস্পতির বিকিরণের মাত্রা মোকাবিলা করার জন্য পুনরায় নকশা করতে হয়েছিল।[১৫] গ্যালিলিও মহাকাশযানটি আট বছর ধরে গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করার সময় এর বিকিরণ গ্রহণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছিল এবং এর ফলে বিভিন্ন সময়ে এর সিস্টেমগুলো বিকল হয়ে পড়েছিল। মহাকাশযানটির ঘূর্ণনবীক্ষকগুলোতে প্রায়ই ত্রুটি দেখা দিত এবং এর ঘূর্ণায়মান ও স্থির অংশগুলোর মধ্যে মাঝেমধ্যে বৈদ্যুতিক চাপ তৈরি হতো। এর ফলে যানটি বারবার সেফ মোডে চলে যেত, যার কারণে ১৬তম, ১৮তম এবং ৩৩তম কক্ষপথের সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়। এছাড়া বিকিরণের প্রভাবে গ্যালিলিওর অতি-স্থিতিশীল কোয়ার্টজ অসিলেটর-এ দশা পরিবর্তন ঘটেছিল।[১৬]

পার্শ্ব-পরিভ্রমণ অভিযানসমূহ

[সম্পাদনা]
দক্ষিণ মেরু (ক্যাসিনি; ২০০০)
দক্ষিণ মেরু (জুনো; ২০১৭)[১৭]

পায়োনিয়ার কর্মসূচি (১৯৭৩ এবং ১৯৭৪)

[সম্পাদনা]
১৯৭৪ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃহস্পতির চারপাশ দিয়ে পায়োনিয়ার ১১-এর পরিভ্রমণ পথের অ্যানিমেশন
       পায়োনিয়ার ১১ ·       বৃহস্পতি ·       আইয়ো ·       ইউরোপা  ·       গ্যানিমিড  ·       ক্যালিস্টো
পায়োনিয়ার ১০ ছিল বৃহস্পতি পরিভ্রমণকারী প্রথম মহাকাশযান।

বৃহস্পতি গ্রহ অনুসন্ধানে প্রথম মহাকাশযান ছিল পায়োনিয়ার ১০, যা ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে গ্রহটির পাশ দিয়ে উড়ে যায়, এর বারো মাস পরে পায়োনিয়ার ১১ একই পথ অনুসরণ করে। পায়োনিয়ার ১০ প্রথম বৃহস্পতি এবং এর গ্যালিলীয় উপগ্রহগুলোর কাছ থেকে ছবি তোলে। মহাকাশযানটি গ্রহটির বায়ুমণ্ডল নিয়ে গবেষণা করে, এর চৌম্বক ক্ষেত্রের অস্তিত্ব শনাক্ত করে, বিকিরণ বলয় পর্যবেক্ষণ করে এবং নিশ্চিত করে যে বৃহস্পতি মূলত তরল পদার্থ দিয়ে গঠিত।[১৮][১৯] ১৯৭৪ সালের ৩ ডিসেম্বর পায়োনিয়ার ১১ বৃহস্পতির মেঘের স্তর থেকে প্রায় ৪৩,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গ্রহটির সবচেয়ে কাছে পৌঁছেছিল। এটি বৃহস্পতির বৃহৎ লাল বিন্দুর নাটকীয় সব ছবি সংগ্রহ করে, গ্রহটির বিশাল মেরু অঞ্চল প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষণ করে এবং বৃহস্পতির উপগ্রহ ক্যালিস্টোর ভর নির্ধারণ করে। এই দুটি মহাকাশযান থেকে সংগৃহীত তথ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের ভবিষ্যৎ অনুসন্ধান যানগুলোর নকশা উন্নত করতে সাহায্য করেছিল, যাতে সেই বিশাল গ্রহের চারপাশের প্রতিকূল পরিবেশের সাথে আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে।[১৫][২০]

ভয়েজার কর্মসূচি (১৯৭৯)

[সম্পাদনা]
বৃহস্পতির কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় ভয়েজার ১ থেকে ধারণকৃত সময়ের ব্যবধানে তোলা ছবির ধারাবাহিকতা

১৯৭৯ সালের জানুয়ারি মাসে ভয়েজার ১ বৃহস্পতির ছবি তোলা শুরু করে এবং ৫ মার্চ বৃহস্পতির কেন্দ্র থেকে ৩,৪৯,০০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করে তার নিকটতম অবস্থানে পৌঁছায়।[২১] এই নিকটবর্তী অবস্থান উচ্চতর রেজোলিউশনের ছবি তোলার সুযোগ করে দিয়েছিল, যদিও এই পার্শ্ব-পরিভ্রমণের সময়কাল ছিল সংক্ষিপ্ত। ফলে বৃহস্পতির উপগ্রহ, বলয়, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বিকিরণ পরিবেশের অধিকাংশ পর্যবেক্ষণই করা হয়েছিল নিকটতম অবস্থানের আগের ও পরের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, যদিও ভয়েজার ১ এপ্রিল মাস পর্যন্ত গ্রহটির ছবি তোলা অব্যাহত রেখেছিল। এর পরপরই ভয়েজার ২ একই পথে যাত্রা করে, যা ১৯৭৯ সালে ৯ জুলাই[২২] গ্রহের মেঘের উপরিস্তর থেকে ৫,৭৬,০০০ কিলোমিটার দূরে তার সবচেয়ে কাছে পৌঁছায়।[২৩][২৪] এই অনুসন্ধান যানটি বৃহস্পতির বলয় আবিষ্কার করে, এর বায়ুমণ্ডলে জটিল সব ঘূর্ণাবর্ত পর্যবেক্ষণ করে এবং উপগ্রহ আইয়োতে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি শনাক্ত করে। এছাড়া এটি গ্যানিমিডে ভূত্বকীয় পাত সংস্থান তত্ত্বের সদৃশ একটি প্রক্রিয়া এবং ক্যালিস্টোতে অসংখ্য গর্ত পর্যবেক্ষণ করে।[২৫]

ভয়েজার অভিযানসমূহ গ্যালিলীয় উপগ্রহগুলো সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে ব্যাপকভাবে উন্নত করেছে এবং বৃহস্পতির বলয়ও আবিষ্কার করেছে। এই যানগুলো গ্রহের বায়ুমণ্ডলের প্রথম কাছ থেকে তোলা ছবি সংগ্রহ করে, যা প্রকাশ করে, যা বৃহৎ লাল বিন্দুকে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে চলমান একটি জটিল ঝড় হিসাবে প্রকাশ করেছিল। এছাড়া অন্যান্য ছোট ছোট ঝড় এবং ঘূর্ণাবর্ত গ্রহটির ডোরাকাটা মেঘের স্তরে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায় (ডানে দেওয়া অ্যানিমেশনটি দেখুন)।[২২] বৃহস্পতির বলয়ের ঠিক বাইরে কক্ষপথে প্রদক্ষিণরত অ্যাড্রাস্টিয়া এবং মেটিস নামক দুটি নতুন ছোট উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়; যা কোনো মহাকাশযান দ্বারা শনাক্তকৃত বৃহস্পতির প্রথম উপগ্রহ।[২৬][২৭] এছাড়া অ্যামালথিয়া এবং আইয়োর কক্ষপথের মাঝে থিবি নামক তৃতীয় একটি নতুন উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়।[২৮]

উপগ্রহ আইয়োতে আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা আবিষ্কার ছিল এই অভিযানের সবচেয়ে বড় ও অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার; কারণ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুতে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ করার ঘটনা ছিল এটিই প্রথম। 'ভয়েজার' মহাকাশযান দুটি যৌথভাবে আইয়োতে নয়টি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত নথিবদ্ধ করেছিল এবং দুই ভয়েজারের পরিভ্রমণকালীন সময়ের ব্যবধানে আরও অন্যান্য অগ্ন্যুৎপাত ঘটার প্রমাণ সংগ্রহ করেছিল।[২৯]

ভয়েজার ১ থেকে প্রাপ্ত নিম্ন-রেজোলিউশনের ছবিগুলোতে ইউরোপা উপগ্রহের পৃষ্ঠে বিপুল সংখ্যক পরস্পরছেদী রৈখিক চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। শুরুতে বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন যে, এই চিহ্নগুলো হয়তো ভূ-ত্বকীয় ফাটল বা টেকটোনিক প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট গভীর ফাটল হতে পারে। তবে বৃহস্পতির আরও কাছ থেকে তোলা ভয়েজার ২-এর উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিগুলো বিজ্ঞানীদের বিভ্রান্ত করে তুলেছিল; কারণ এই ছবিগুলোতে দেখা যায় যে, ওই চিহ্নগুলোতে প্রায় কোনো উচ্চতা বা গভীরতার পার্থক্য নেই। এটি অনেককেই এই ধারণা করতে উদ্বুদ্ধ করে যে, এই ফাটলগুলো সম্ভবত পৃথিবীর বরফস্তরের মতো এবং ইউরোপার অভ্যন্তরে তরল পানি থাকতে পারে।[৩০] আইয়োর তুলনায় প্রায় দশভাগের একভাগ জোয়ার-ভাটা জনিত তাপের কারণে ইউরোপা অভ্যন্তরীণভাবে সক্রিয় হতে পারে। এর ফলে ধারণা করা হয় যে, এই উপগ্রহটির পানির বরফের তৈরি একটি পাতলা ভূ-ত্বক রয়েছে যার পুরুত্ব ৩০ কিলোমিটারের (১৯ মাইল) কম এবং এটি সম্ভবত ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) গভীর একটি মহাসাগরের ওপর ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।[৩১]

ইউলিসিস (১৯৯২, ২০০৪)

[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ইউলিসিস সৌর অনুসন্ধান যানটি বৃহস্পতির উত্তর মেরুর ৪৫১,০০০ কিলোমিটার দূর দিয়ে উড়ে যায়।[৩২] সূর্যের চারপাশে অত্যন্ত উচ্চ-নতিবিশিষ্ট একটি কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য ইউলিসিসের এই ঘূর্ণায়মান কৌশলের প্রয়োজন ছিল; যার ফলে ক্রান্তিবৃত্তের সাপেক্ষে এর নতি ৮০.২ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।[৩৩] এই বিশাল গ্রহের মহাকর্ষ বল মহাকাশযানটির উড্ডয়ন পথকে ক্রান্তিবৃত্তীয় সমতল থেকে নীচের দিকে এবং দূরে সরিয়ে দেয়, যা একে সূর্যের উত্তর ও দক্ষিণ মেরু প্রদক্ষিণকারী একটি চূড়ান্ত কক্ষপথে স্থাপন করে। অনুসন্ধান যানটির কক্ষপথের আকার এবং আকৃতি অনেক ছোট করে সমন্বয় করা হয়েছিল, যাতে এর অপসূর দূরত্ব প্রায় ৫ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক (সূর্য থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব) থাকে এবং এর অণুসূর দূরত্ব ১ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক এককের (সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব) কিছুটা বেশি থাকে। বৃহস্পতির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যানটি গ্রহটির চৌম্বকমণ্ডলের পরিমাপ করে।[৩৩] যেহেতু যানটিতে কোনো ক্যামেরা ছিল না, তাই কোনো ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যানটি পুনরায় বৃহস্পতির কাছাকাছি পৌঁছায়। এবার গ্রহটি থেকে এর দূরত্ব ছিল অনেক বেশি ছিল—প্রায় ১২ কোটি কিলোমিটার (০.৮ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক)—তবে তা সত্ত্বেও এটি বৃহস্পতি সম্পর্কে আরও কিছু পর্যবেক্ষণ করেছে।[৩৩][৩৪][৩৫]

ক্যাসিনি (২০০০)

[সম্পাদনা]

২০০০ সালে শনি গ্রহ অভিমুখে যাত্রাপথে ক্যাসিনি অনুসন্ধান যানটি বৃহস্পতির পাশ দিয়ে যায় এবং গ্রহটির এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের কিছু ছবি সরবরাহ করে। ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর এটি বৃহস্পতির নিকটতম অবস্থানে পৌঁছায় এবং অনেক বৈজ্ঞানিক পরিমাপ সম্পন্ন করে। মাসব্যাপী এই পরিভ্রমণকালে বৃহস্পতির প্রায় ২৬,০০০ ছবি তোলা হয়েছিল। এটি বৃহস্পতির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত বৈশ্বিক রঙিন প্রতিকৃতি তৈরি করেছে, যেখানে দৃশ্যমান ক্ষুদ্রতম বৈশিষ্ট্যগুলোর ব্যাস প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল)।[৩৬]

২০০৩ সালের ৫ মার্চ এই পরিভ্রমণের একটি প্রধান আবিষ্কার হিসেবে বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনের কথা ঘোষণা করা হয়। এর বায়ুমণ্ডলে আলোক অঞ্চলের সাথে অন্ধকার বলয়গুলি পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয় এবং ফ্যাকাশে মেঘ সহ অঞ্চলগুলিকে পূর্বে বিজ্ঞানীরা ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর অঞ্চল হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন, কারণ পৃথিবীতে মেঘগুলি সাধারণত উর্ধ্বগামী বাতাসের মাধ্যমেই তৈরি হয়। তবে ক্যাসিনি থেকে প্রাপ্ত ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে অন্ধকার বলয়ের ভেতরে উজ্জ্বল সাদা মেঘের অসংখ্য ছোট ছোট স্বতন্ত্র ঝোড়ো কোষ রয়েছে, যা পৃথিবী থেকে দেখা যায় না। নাসার গডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের অ্যান্থনি ডেল জেনিও বলেন, "বৃহস্পতির বলয়গুলি অবশ্যই বায়ুমণ্ডলীয় নিট-উর্ধ্বগামী গতির এলাকা হতে হবে, [তাই] অঞ্চলগুলির নিট-গতি অবশ্যই নিম্নগামী হতে হবে।"[৩৭]

অন্যান্য বায়ুমণ্ডলীয় পর্যবেক্ষণের মধ্যে বৃহস্পতির উত্তর মেরুর কাছে বৃহৎ লাল বিন্দুর সমান আকৃতির উচ্চ-বায়ুমণ্ডলীয় কুয়াশার একটি ঘূর্ণায়মান গাঢ় ডিম্বাকার অংশ দেখা গেছে। অবলোহিত চিত্রসমূহ মেরু অঞ্চলের কাছে বায়ু সঞ্চালনের নানা দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে গ্রহ-বেষ্টিত বায়ুর বলয় এবং তার পার্শ্ববর্তী বলয়গুলো বিপরীত দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। একই ঘোষণায় বৃহস্পতির বলয়ের প্রকৃতি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বলয়ের কণাগুলোর মাধ্যমে আলোর বিচ্ছুরণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, কণাগুলো অনিয়মিত আকৃতির (গোলকাকার নয়) এবং এগুলো সম্ভবত বৃহস্পতির উপগ্রহ—বিশেষ করে মেটিস ও অ্যাড্রাস্টিয়ার ওপর ক্ষুদ্র উল্কাপাতের ফলে ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে। ২০০০ সালের ১৯ ডিসেম্বর ক্যাসিনি মহাকাশযানটি হিমালিয়া উপগ্রহের একটি অত্যন্ত কম-রেজোলিউশনের ছবি তুলেছিল, তবে উপগ্রহটি অনেক দূরে থাকায় এর পৃষ্ঠের কোনো বিবরণ পাওয়া সম্ভব হয়নি।[৩৬]

নিউ হরাইজন্স (২০০৭)

[সম্পাদনা]
২০০৮ সালে নিউ হরাইজন্স থেকে ধারণকৃত উপগ্রহ আইয়োতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ভিডিও

প্লুটো অভিমুখে যাত্রাপথে নিউ হরাইজন্স অনুসন্ধান যানটি মহাকর্ষীয় সহায়তা নেওয়ার জন্য বৃহস্পতির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিল এবং ১৯৯০ সালের ইউলিসিসের পর এটিই ছিল বৃহস্পতির দিকে সরাসরি উৎক্ষেপণ করা প্রথম কোনো যান। এর লং রেঞ্জ রিকনেসান্স ইমেজার ২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতির প্রথম ছবি তুলে।[৩৮] মহাকাশযানটি ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে বৃহস্পতি জগতের আরও বিস্তারিত গবেষণা শুরু করে এবং ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এটি গ্রহটির সবচেয়ে কাছে পৌঁছায়।[৩৯][৪০][৪১]

বৃহস্পতির কাছাকাছি অবস্থানে থাকা অবস্থায় নিউ হরাইজন্সের যন্ত্রপাতির সাহায্যে বৃহস্পতির অভ্যন্তরীণ উপগ্রহগুলোর বিশেষ করে অ্যামলথিয়ার কক্ষপথের সূক্ষ্ম পরিমাপ করা হয়। যানটির ক্যামেরাগুলো আইয়ো উপগ্রহের আগ্নেয়গিরিগুলোর অবস্থা পরিমাপ করে, চারটি গ্যালিলীয় উপগ্রহই বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করে এবং দূরবর্তী উপগ্রহ হিমালিয়া ও এলারা সম্পর্কে দীর্ঘ-দূরত্বের গবেষণা চালায়।[৪২] এছাড়া মহাকাশযানটি বৃহস্পতির ছোট লাল বিন্দু, গ্রহটির চৌম্বকমণ্ডল এবং এর অতি সূক্ষ্ম বলয় ব্যবস্থা নিয়েও গবেষণা পরিচালনা করে।[৪৩]

২০০৭ সালের ১৯ মার্চ মহাকাশযানটির কমান্ড অ্যান্ড ডেটা হ্যান্ডলিং কম্পিউটারে একটি অসংশোধনযোগ্য মেমোরি ত্রুটি দেখা দেয় এবং এটি নিজে থেকেই পুনরায় চালু হয়, যার ফলে মহাকাশযানটি সেফ মোডে চলে যায়। দুই দিনের মধ্যে যানটি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তবে বৃহস্পতির ম্যাগনেটোটেইল সংক্রান্ত কিছু তথ্য হারিয়ে যায়। এই পরিভ্রমণে এছাড়া আর কোনো তথ্য হারানোর ঘটনা ঘটেনি। বৃহস্পতি জগতের বিশাল আকার এবং প্লুটোর তুলনায় পৃথিবীর সাথে এর আপেক্ষিক নৈকট্যের কারণে, নিউ হরাইজন্স প্লুটো অভিযানের চেয়ে বৃহস্পতি অভিযান থেকে পৃথিবীতে অনেক বেশি তথ্য পাঠিয়েছিল।

অরবিটার মিশন

[সম্পাদনা]

গ্যালিলিও (১৯৯৫-২০০৩)

[সম্পাদনা]
১৯৯৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০০৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃহস্পতির চারপাশে গ্যালিলিওর পরিভ্রমণ পথের অ্যানিমেশন।
       গ্যালিলিও ·       বৃহস্পতি গ্রহ ·       আইয়ো ·       ইউরোপা ·       গ্যানিমিড ·       ক্যালিস্টো

বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণকারী প্রথম মহাকাশযান ছিল গ্যালিলিও অরবিটার, যা ১৯৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতির কক্ষপথে প্রবেশ করে। এটি সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করে, ২০০৩ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতির সাথে নিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের সময় এটি ধ্বংস হওয়ার আগে ৩৫টি কক্ষপথ অতিক্রম করে।[৪৪] এই সময়ের মধ্যে এটি বৃহস্পতি জগত সম্পর্কে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করে; যদিও এর হাই-গেইন রেডিও ট্রান্সমিটিং অ্যান্টেনাটি সঠিকভাবে খুলতে ব্যর্থ হওয়ায় তথ্যের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল।[৪৫] আট বছর ধরে চলা এই গবেষণার প্রধান ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল সবকটি গ্যালিলীয় উপগ্রহ এবং সেই সাথে অ্যামলথিয়ার (প্রথম মহাকাশযান হিসেবে) পাশ দিয়ে একাধিকবার পরিভ্রমণ।[৪৬] এটি ১৯৯৪ সালে বৃহস্পতির দিকে ধাবমান ধূমকেতু শুমাকার-লেভি ৯-এর আছড়ে পড়ার ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিল এবং ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে একটি বায়ুমণ্ডলীয় অনুসন্ধান যন্ত্র অবমুক্ত করেছিল।[৪৭]

কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নেওয়া গ্যালিলিওর ধারাবাহিক ছবিগুলোতে দেখা যায় যে, ধূমকেতু শুমেকার-লেভি ৯-এর একটি খণ্ড বৃহস্পতির ওপর আছড়ে পড়ার পর গ্রহটির অন্ধকার অংশে একটি বিশাল অগ্নিগোলক আবির্ভূত হচ্ছে।

১৯৯৪ সালের ১৬ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে গ্যালিলিও মহাকাশযানের ক্যামেরাগুলো ধূমকেতু শুমেকার-লেভি ৯-এর টুকরোগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে, যখন সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃহস্পতির দক্ষিণ গোলার্ধে আছড়ে পড়ছিল। এটি ছিল সৌরজগতের বস্তুসমূহের মধ্যে পৃথিবী-বহির্ভূত কোনো সংঘর্ষের প্রথম সরাসরি পর্যবেক্ষণ।[৪৮] যদিও এই সংঘর্ষগুলো বৃহস্পতির সেই পাশে ঘটেছিল যা পৃথিবী থেকে দেখা যাচ্ছিল না, তবে সেই সময় গ্রহটি থেকে ১.৬ জ্যোতির্বিদ্যা একক দূরত্বে থাকা গ্যালিলিও সরাসরি এই ঘটনাগুলো দেখতে পেয়েছিল। এর যন্ত্রগুলিতে একটি বিশাল অগ্নিগোলক ধরা পড়েছিল, যার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২৪,০০০ কেলভিনে পৌঁছেছিল, সাধারণত বৃহস্পতির মেঘস্তরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১৩০ কেলভিনের (−১৪৩ °সি) কাছাকাছি থাকে। সেই সাথে অগ্নিগোলক থেকে নির্গত গ্যাস ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতায় পৌঁছেছিল।[৪৯]

১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে মহাকাশযান থেকে একটি বায়ুমণ্ডলীয় অনুসন্ধান যন্ত্র অবমুক্ত করা হয়, যা ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে একটি উচ্চ-মাধ্যাকর্ষণ অবতরণের পর, প্রোবটি তার তাপ নিরোধক ঢালের অবশিষ্টাংশ ফেলে দেয়। এরপর এটি প্যারাসুটের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলের ১৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এবং ৫৭.৬ মিনিট ধরে তথ্য সংগ্রহ করে। অবশেষে তীব্র চাপ ও তাপমাত্রার (পৃথিবীর স্বাভাবিক চাপের প্রায় ২২ গুণ এবং তাপমাত্রা ১৫৩° সেলসিয়াস) কবলে পড়ে এটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।[৫০] এর পরপরই এটি গলে গিয়ে থাকতে পারে এবং সম্ভবত বাষ্পীভূত হয়ে গিয়েছিল। গ্যালিলিও অরবিটার নিজেও একই ধরনের পরিণতির শিকার হয়, তবে তা ছিল আরও দ্রুতগতির। ২০০৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মহাকাশযানটিকে প্রতি সেকেন্ডে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রহটির দিকে পাঠানো হয়েছিল,[৪৫] যাতে এটি কোনোভাবে ইউরোপা উপগ্রহের ওপর আছড়ে পড়ে সেটিকে দূষিত না করতে পারে।[৫১]

গ্যালিলিও অভিযানের প্রধান বৈজ্ঞানিক ফলাফলগুলোর মধ্যে রয়েছে:[৫২][৫৩][৫৪][৫৫][৫৬]

  • অন্য কোনো গ্রহের বায়ুমণ্ডলে অ্যামোনিয়া মেঘের প্রথম পর্যবেক্ষণ—এই বায়ুমণ্ডলটি নিচের গভীর স্তর থেকে উঠে আসা উপাদান থেকে অ্যামোনিয়া বরফের কণা তৈরি করে;
  • আইয়োতে ব্যাপক আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার নিশ্চিতকরণ—যা পৃথিবীতে পাওয়া সক্রিয়তার তুলনায় ১০০ গুণ বেশি; এখানকার অগ্ন্যুৎপাতের তাপ এবং বারবার ঘটার প্রবণতা আদি পৃথিবীর কথা মনে করিয়ে দেয়;
  • আইয়োর বায়ুমণ্ডলে জটিল প্লাজমা মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, যা প্রকাণ্ড বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করে এবং বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের সাথে যুক্ত হয়;
  • ইউরোপার বরফাবৃত পৃষ্ঠের নিচে তরল মহাসাগর বিদ্যমান থাকার তত্ত্বকে সমর্থন করার মতো প্রমাণ প্রদান;
  • কোনো উপগ্রহের (গ্যানিমিড) চারপাশে একটি শক্তিশালী বা উল্লেখযোগ্য চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রথম শনাক্তকরণ;
  • চৌম্বকীয় তথ্যের এমন প্রমাণ যা ইঙ্গিত করে যে—ইউরোপা, গ্যানিমিড এবং ক্যালিস্টোর দৃশ্যমান পৃষ্ঠের নিচে একটি তরল-লবণাক্ত পানির স্তর রয়েছে;
  • ইউরোপা, গ্যানিমিড এবং ক্যালিস্টোতে একটি পাতলা বায়ুমণ্ডলীয় স্তরের অস্তিত্বের প্রমাণ, যা 'পৃষ্ঠ-সংলগ্ন এক্সোমণ্ডল' নামে পরিচিত;
  • বৃহস্পতির বলয় গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা লাভ (যা মূলত আন্তঃগ্রহীয় উল্কাপিণ্ডের আঘাতে গ্রহটির চারটি ছোট অভ্যন্তরীণ উপগ্রহ থেকে ছিটকে আসা ধূলিকণা দিয়ে তৈরি) এবং দুটি বাইরের বলয় পর্যবেক্ষণসহ অ্যামলথিয়ার কক্ষপথ বরাবর একটি পৃথক বলয়ের সম্ভাবনা যাচাই;
  • একটি দানবীয় গ্রহের চৌম্বকমণ্ডলের সামগ্রিক কাঠামো এবং এর গতিশীলতা শনাক্তকরণ।

২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নাসা গ্যালিলিও অভিযানের ফলাফলের ভিত্তিতে রিপোর্ট করে যে, বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপার বরফাবৃত ভূত্বকে "কাদামাটির মতো খনিজ" (বিশেষ করে ফিলোসিলিকেট) শনাক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণত জৈব পদার্থের সাথে সম্পর্কিত।[৫৭] বিজ্ঞানীদের মতে, এই খনিজগুলোর উপস্থিতি কোনো গ্রহাণু বা ধূমকেতুর সাথে সংঘর্ষের ফল হতে পারে।[৫৭]

জুনো (২০১৬ সাল থেকে)

[সম্পাদনা]
২০১৬ সালের ১ জুন থেকে ২০২৮ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃহস্পতির চারপাশে জুনোর পরিভ্রমণ পথের অ্যানিমেশন
       জুনো ·       বৃহস্পতি

বৃহস্পতি গ্রহকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার জন্য নাসা ২০১১ সালের ৫ আগস্ট জুনো উৎক্ষেপণ করে। এটি ২০১৬ সালের ৫ জুলাই বৃহস্পতির একটি মেরু কক্ষপথে প্রবেশ করে। মহাকাশযানটি গ্রহের গঠন, মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং মেরু অঞ্চলের চৌম্বকমণ্ডল নিয়ে গবেষণা করছে। এছাড়া জুনো বৃহস্পতির গঠন কীভাবে হয়েছিল সে সম্পর্কেও সূত্র অনুসন্ধান করছে, যার মধ্যে রয়েছে গ্রহটির কোনো পাথুরে কেন্দ্র আছে কি না, গভীর বায়ুমণ্ডলে পানির পরিমাণ কতটুকু এবং গ্রহের মধ্যে এর ভর কীভাবে বণ্টিত রয়েছে। জুনো বৃহস্পতির গভীর স্তরের বাতাস নিয়েও গবেষণা করে,[৫৮][৫৯] যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।[৬০][৬১]

প্রাথমিক ফলাফলের মধ্যে, জুনো বৃহস্পতির বজ্রপাত সম্পর্কে এমন সব তথ্য সংগ্রহ করেছে যা পূর্ববর্তী তত্ত্বগুলোকে সংশোধন করেছে।[৬২] জুনো বৃহস্পতির উত্তর মেরুর প্রথম দৃশ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বৃহস্পতির মেরুজ্যোতি, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করেছে।[৬৩]

জুনো এমন অনেক আবিষ্কার করেছে যা বৃহস্পতির গঠন সংক্রান্ত প্রচলিত তত্ত্বগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বৃহস্পতির মেরুগুলির উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এটি মেরুগুলিতে বিদ্যমান স্থিতিশীল ঘূর্ণিঝড়ের গুচ্ছের ছবি তোলে।[৬৪] এটি আরও দেখতে পায় যে, বৃহস্পতির চৌম্বকমণ্ডল বেশ অসম এবং বিশৃঙ্খল। জুনো তার মাইক্রোওয়েভ রেডিওমিটার ব্যবহার করে এটিও খুঁজে পেয়েছে যে বৃহস্পতির গায়ে দৃশ্যমান লাল ও সাদা রঙের বলয়গুলো এর বায়ুমণ্ডলের গভীরে শত শত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত, অথচ গ্রহটির অভ্যন্তরীণ অংশ সমানভাবে মিশ্রিত নয়। এর ফলে এই তত্ত্ব সামনে এসেছে যে—আগে যেমনটা ভাবা হতো, বৃহস্পতির কেন্দ্রটি সম্ভবত তেমন কোনো শক্ত কেন্দ্র নেই, বরং পাথর ও ধাতব হাইড্রোজেনেরবাঁকা লেখা টুকরো দিয়ে তৈরি একটি "অস্পষ্ট" কেন্দ্র রয়েছে। এই বিচিত্র কেন্দ্রটি সম্ভবত বৃহস্পতির গঠনকালের প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটা কোনো প্রচণ্ড সংঘর্ষের ফলে হতে পারে।[৬৫]

জুপিটার আইসি মুন্স এক্সপ্লোরার (পথিমধ্যে)

[সম্পাদনা]

ইএসএ-এর জুপিটার আইসি মুন্স এক্সপ্লোরার (জুস), ইএসএ-এর কসমিক ভিশন বিজ্ঞান কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এটি ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয় এবং অভ্যন্তরীণ সৌরজগতে বেশ কয়েকবার ধারাবাহিকভাবে উড়ে যাওয়ার পর ২০৩১ সালে বৃহস্পতিতে পৌঁছাবে।[৪][৬৬] ২০১২ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা জুস-কে তাদের প্রথম বৃহৎ অভিযান হিসেবে বেছে নেয়, ইজেএসএম-এ তার অবদান, জুপিটার গ্যানিমেড অরবিটার (জেজিও)-র স্থলাভিষিক্ত হয়।[৬৭] ইউরোপা জুপিটার সিস্টেম মিশনের জন্য অংশীদারিত্বের সমাপ্তি ঘটলেও, নাসা হার্ডওয়্যার এবং একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র প্রদানের মাধ্যমে এই ইউরোপীয় অভিযানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।[৬৮]

ইউরোপা ক্লিপার (পথিমধ্যে)

[সম্পাদনা]

ইউরোপা ক্লিপার হলো নাসার একটি অভিযান যা মূলত বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা নিয়ে গবেষণার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে।[৬৯] এটি ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর উৎক্ষেপণ করা হয়েছে[৭০] এবং ৫.৫ বছরের দীর্ঘ যাত্রা এবং মঙ্গল ও পৃথিবীর মহাকর্ষীয় সহায়তা গ্রহণের পর বৃহস্পতির কক্ষপথে প্রবেশ করবে। বিকিরণজনিত ক্ষতি কমাতে মহাকাশযানটি অন্তত ৪৯ বার ইউরোপার খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।[৬৯]

প্রস্তাবিত অভিযানসমূহ

[সম্পাদনা]

চীনের সিএনএসএ ২০২৬ সালে তাদের দুটি শেনসুয়ো (পূর্বে যা ইন্টারস্টেলার এক্সপ্রেস নামে পরিচিত ছিল) মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে, যা সৌরমণ্ডল অন্বেষণের পথে বৃহস্পতির পাশ দিয়ে উড়ে যাবে।[৬][৭] পৃথকভাবে, সিএনএসএ ২০৩০ সালের দিকে বৃহস্পতিতে তাদের তিয়ানওয়েন-৪ মিশন উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা ক্যালিস্টোর কক্ষপথে প্রবেশ করবে।[৭১][৭২][৮] এছাড়াও, তারা তারা বৃহস্পতির দিকে সৌর পোলার অরবিট অবজারভেটরি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে যা বৃহস্পতির মহাকর্ষীয় সহায়তা গ্রহণ করবে এবং ইউলেসিস মিশনের মতো একটি উচ্চ-নতিসম্পন্ন সৌর কক্ষপথে প্রবেশ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।[৭৩][৭৪]

ভারতের ইসরো ২০২০-এর দশকের মধ্যে বৃহস্পতিতে একটি ভারতীয় অভিযান শুরু করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে।[৭৫]

বাতিলকৃত অভিযানসমূহ

[সম্পাদনা]

বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা, গ্যানিমিড এবং ক্যালিস্টোর ভূগর্ভে তরল মহাসাগর থাকার সম্ভাবনার কারণে এই বরফাবৃত উপগ্রহগুলোকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তহবিলের অসুবিধার কারণে অগ্রগতি বিলম্বিত হয়েছে। ইউরোপা অরবিটার[৭৬] ছিল ইউরোপায় নাসার একটি পরিকল্পিত অভিযান, যা ২০০২ সালে বাতিল করা হয়।[৭৭] এর মূল লক্ষ্য ছিল ইউরোপার পৃষ্ঠের নিচে কোনো মহাসাগর আছে কি না তা নির্ধারণ করা এবং ভবিষ্যতে অবতরণকারী অভিযানের জন্য উপযুক্ত স্থান শনাক্ত করা। নাসার জিমো (জুপিটার আইসি মুন্স অরবিটার) ২০০৫ সালে বাতিল করা হয়েছিল,[৭৮] এবং ইউরোপীয় সংস্থা কর্তৃক একটি জোভিয়ান ইউরোপা অরবিটার অভিযানের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়েছিল;[৭৯] তবে পরবর্তীতে এগুলোর পরিবর্তে ইউরোপা জুপিটার সিস্টেম মিশন গ্রহণ করা হয়।

ইউরোপা জুপিটার সিস্টেম মিশন (ইজেএসএম) ছিল বৃহস্পতি এবং এর উপগ্রহগুলো অনুসন্ধানের জন্য নাসা/ইএসএ-এর একটি যৌথ প্রস্তাব। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করা হয় যে উভয় মহাকাশ সংস্থা টাইটান স্যাটার্ন সিস্টেম মিশনের আগে এই মিশনটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।[৮০][৮১] প্রস্তাবে ২০২০ সালের দিকে উৎক্ষেপণের তারিখ অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এটি নাসার নেতৃত্বাধীন জুপিটার ইউরোপা অরবিটার এবং ইএসএ-র নেতৃত্বাধীন জুপিটার গ্যানিমিড অরবিটার অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৮২][৮৩][৮৪] ইএসএ-এর এই অবদানটি সংস্থাটির অন্যান্য প্রকল্পের সাথে অর্থায়নের প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়েছিল।[৮৫] তবে নাসার অবদান জুপিটার ইউরোপা অরবিটার (জেইও)-কে প্ল্যানেটারি ডেকেডাল সার্ভে অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে মনে করেছিল। জরিপটি জেইও-র বদলে একটি সস্তা বিকল্পকে সমর্থন করেছিল।[৮৬] শেষ পর্যন্ত নাসা এবং ইএসএ (এবং জাক্সা) থেকে প্রস্তাবিত সব মহাকাশযানসহ পুরো ইজেএসএম মিশনটি বাতিল করা হয় (যার সাথে রসকসমসের বিভিন্ন প্রস্তাবও বাতিল হয়ে যায়)। তবে বাতিল হওয়া ইজেএসএম-এর ধারণা থেকেই পরবর্তীতে ইএসএ-র জুস এবং নাসার ইউরোপা ক্লিপার মহাকাশযান দুটি নির্মিত হয়।

মানবসমেত অন্বেষণ

[সম্পাদনা]

বিজ্ঞানীদের মতে বৃহস্পতির পাথুরে কেন্দ্রস্থলের বিস্তৃতি নির্ধারণের জন্য আরও প্রমাণের প্রয়োজন থাকলেও, এর গ্যালিলীয় উপগ্রহগুলো ভবিষ্যতে মানুষের অনুসন্ধানের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

২০০৩ সালে নাসা হিউম্যান আউটার প্ল্যানেটস এক্সপ্লোরেশন (হোপ) নামে একটি কর্মসূচি প্রস্তাব করে যার লক্ষ্য ছিল গ্যালিলীয় উপগ্রহগুলো অন্বেষণের জন্য নভোচারী পাঠানো।[৮৭] নাসা ২০৪০-এর দশকের কোনো এক সময়ে এই অভিযানের একটি সম্ভাব্য প্রচেষ্টার পূর্বাভাস দিয়েছে।[৮৮] ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে ঘোষিত ভিশন ফর স্পেস এক্সপ্লোরেশন নীতিমালায় নাসা মঙ্গলের পরবর্তী অভিযানগুলো নিয়ে আলোচনা করে এবং উল্লেখ করে যে, বৃহস্পতির উপগ্রহে "মানুষের গবেষণামূলক উপস্থিতি" কাঙ্ক্ষিত হতে পারে।[৮৯] জিমো মিশন বাতিল হওয়ার আগে নাসার তৎকালীন প্রশাসক শন ও'কিফ বলেছিলেন যে, "মানব অভিযাত্রীরা এর অনুসরণ করবে।"[৯০]

বৃহস্পতির চুম্বকীয় মণ্ডলে বিদ্যমান তীব্র বিকিরণ এবং গ্রহটির অত্যন্ত গভীর মহাকর্ষীয় কূপের কারণে সাধারণভাবে বৃহস্পতি মণ্ডল মানুষের অভিযানের জন্য বিশেষ প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে।

বৃহস্পতির বিকিরণ বলয়
উপগ্রহরেম/দিন
আইয়ো৩৬০০[৯১]
ইউরোপা৫৪০[৯১]
গ্যানিমিড৮[৯১]
ক্যালিস্টো০.০১[৯১]
পৃথিবী (সর্বোচ্চ)০.০৭
পৃথিবী (গড়)০.০০০৭

বৃহস্পতি গ্রহ আইয়োতে অবস্থানরত সুরক্ষাহীন নভোচারীদের দেহে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ সিভার্ট (৩৬০০ রেম) এবং ইউরোপাতে প্রতিদিন প্রায় ৫.৪ সিভার্ট (৫৪০ রেম) বিকিরণ নির্গত করবে,[৯১] যা একটি নির্ণায়ক বিষয়, কারণ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ০.৭৫ সিভার্ট বিকিরণের সংস্পর্শে আসা বিকিরণজনিত বিষক্রিয়ার জন্য যথেষ্ট এবং কয়েক দিনে প্রায় ৫ সিভার্ট বিকিরণ গ্রহণ করা প্রাণঘাতী।[৯১][৯২] ১৯৯৭ সালে আর্টেমিস প্রকল্প ইউরোপায় মানুষ পাঠানোর একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিল।[৯৩] এই পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযাত্রীরা ইউরোপার বরফস্তরে ছিদ্র করে নিচে প্রবেশ করবেন এবং সেখানে অনুমিত উপরি-পৃষ্ঠস্থ মহাসাগরে কৃত্রিম বায়ু-কুঠুরি তৈরি করে বসবাস করবেন।[৯৪]

গ্যানিমিড সৌরজগতের বৃহত্তম উপগ্রহ এবং এখন পর্যন্ত জানা সৌরজগতের একমাত্র উপগ্রহ যার নিজস্ব চৌম্বকমন্ডল রয়েছে। তবে এটি মহাজাগতিক রশ্মি থেকে উপগ্রহটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে সুরক্ষা দিতে পারে না, কারণ বৃহস্পতির বিশাল চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা আবৃত। গ্যানিমিডে প্রতিদিন প্রায় ০.০৮ সিভার্ট (৮ রেম) বিকিরণ নির্গত হয়।[৯১] অন্যদিকে ক্যালিস্টো বৃহস্পতির শক্তিশালী বিকিরণ বলয় থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এবং সেখানে প্রতিদিন মাত্র ০.০০০১ সিভার্ট (০.০১ রেম) বিকিরণের শিকার হয়।[৯১] তুলনায়, পৃথিবীতে একটি জীবন্ত প্রাণীর গ্রহণ করা গড় বিকিরণের পরিমাণ বছরে প্রায় ০.০০২৪ সিভার্ট; পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বিকিরণের সর্বোচ্চ মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ইরানের রামসার উষ্ণ প্রস্রবণের আশেপাশে, যা বছরে প্রায় ০.২৬ সিভার্ট।

হোপ গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ক্যালিস্টো। বৃহস্পতি থেকে এর দূরত্বের কারণে সেখানে বিকিরণের মাত্রা কম এবং ভূতাত্ত্বিক স্থিতিশীলতার কারণে ক্যালিস্টোর পৃষ্ঠে একটি ঘাঁটি তৈরির সম্ভাবনা প্রস্তাব করা হয়েছিল। গ্যালিলীয় উপগ্রহগুলোর মধ্যে ক্যালিস্টোই একমাত্র উপগ্রহ যেখানে মানবচালিত ঘাঁটি স্থাপন করা সম্ভব। আইয়ো, ইউরোপা এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্যানিমিডে আয়নাইজিং বিকিরণের মাত্রা মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল এবং এগুলোর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা এখনও উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি।[৮৭]

সম্ভাব্য সম্পদ আহরণ

[সম্পাদনা]

নাসা বহিঃস্থ গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডল থেকে খনিজ আহরণের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করেছে, বিশেষ করে হিলিয়াম-৩ সংগ্রহের জন্য, যা হিলিয়ামের একটি আইসোটোপ। এই আইসোটোপটি পৃথিবীতে অত্যন্ত বিরল এবং থার্মোনিউক্লিয়ার জ্বালানি হিসেবে এর প্রতি ইউনিটের ভর অনুযায়ী বাজারমূল্য অনেক বেশি হতে পারে।[৯৫][৯৬] কক্ষপথে স্থাপিত কারখানাগুলো এই গ্যাস আহরণ করতে পারে এবং তা ভ্রমণকারী মহাকাশযানগুলোতে সরবরাহ করতে পারে।[৯৭]

সৌরজগতের আরও দূরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য জ্বালানি উৎপাদন করতে পারে এমন একটি পৃষ্ঠতলীয় ঘাঁটি নির্মাণ করা সম্ভব হতে পারে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "JUICE is Europe's next large science mission"। European Space Agency। ২ মে ২০১২। ২০ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ এপ্রিল ২০১৫।
  2. ↑ "JUICE mission gets green light for next stage of development"। European Space Agency। ২৭ নভেম্বর ২০১৪। ১ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ এপ্রিল ২০১৫।
  3. ↑ "International Colloquium and Workshop—"Ganymede Lander: scientific goals and experiments""। Russia Space Research Institute (IKI)। Roscosmos। নভেম্বর ২০১২। ২৩ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১২।
  4. 1 2 "ESA Science & Technology - JUICE"। ESA। ৮ নভেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০২১।
  5. ↑ Zak, Anatoly (২২ জুলাই ২০১৭)। "Russian plan to land on Jupiter's moon Ganymede"। Russianspaceweb.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২৩।
  6. 1 2 Bergan, Brad (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২)। "China and NASA are developing next-gen Voyager-like spacecraft. But whose is better?"। interestingengineering.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৩।
  7. 1 2 O'Callaghan, Jonathan। "U.S. and Chinese Scientists Propose Bold New Missions beyond the Solar System"। Scientific American (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৩।
  8. 1 2 Andrew Jones published (২২ সেপ্টেম্বর ২০২২)। "China wants to probe Uranus and Jupiter with 2 spacecraft on one rocket"। Space.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৩।
  9. ↑ Burton, Rodney L.; Brown, Kevin; Jacobi, Anthony (২০০৬)। "Low Cost Launch of Payloads to Low Earth Orbit" (পিডিএফ)। Journal of Spacecraft and Rockets। ৪৩ (3): ৬৯৬–৬৯৮। বিবকোড:2006JSpRo..43..696B। ডিওআই:10.2514/1.16244। ২৯ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  10. ↑ Wong, Al (২৮ মে ১৯৯৮)। "Galileo FAQ – Navigation"। NASA। ৫ জানুয়ারি ১৯৯৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০০৬।
  11. ↑ Fischer, 1999, p. 44
  12. ↑ CRC Handbook of Chemistry and Physics, 64th EDITION, (C) 1983, page F-141
  13. ↑ Guillot, Tristan (১৯৯৯)। "A comparison of the interiors of Jupiter and Saturn"। Planetary and Space Science। ৪৭ (10–11): ১১৮৩–১২০০। আরজাইভ:astro-ph/9907402। বিবকোড:1999P&SS...47.1183G। ডিওআই:10.1016/S0032-0633(99)00043-4। এস২সিআইডি 19024073। ২০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
  14. ↑ Wolverton, Mark (২০০৪)। The Depths of Space। Joseph Henry Press। পৃ. ১৩০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০৯-০৯০৫০-৬।
  15. 1 2 "The Pioneer missions"। NASA। ২০০৭। ৩০ জানুয়ারি ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০০৯।
  16. ↑ Fieseler, P.D.; Ardalan, S.M.; Frederickson, A.R. (২০০২)। "The radiation effects on Galileo spacecraft systems at Jupiter"। IEEE Transactions on Nuclear Science। ৪৯ (6): ২৭৩৯। বিবকোড:2002ITNS...49.2739F। ডিওআই:10.1109/TNS.2002.805386।
  17. ↑ Chang, Kenneth (২৫ মে ২০১৭)। "NASA's Jupiter Mission Reveals the 'Brand-New and Unexpected'"। The New York Times। ১৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৭।
  18. ↑ Andrew P. Ingersoll; Carolyn C. Porco (জুলাই ১৯৭৮)। "Solar heating and internal heat flow on Jupiter"। Icarus। ৩৫ (1): ২৭–৪৩। বিবকোড:1978Icar...35...27I। ডিওআই:10.1016/0019-1035(78)90058-1।
  19. ↑ Michael Mewhinney (২০০৩)। "Pioneer spacecraft sends last signal"। NASA। ২৮ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০০৯।
  20. ↑ "Pioneer 11"। NASA। ১৩ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০০৯।
  21. ↑ Stone EC, Lane AL (জুন ১৯৭৯)। "Voyager 1 Encounter with the Jovian System"। Science। ২০৪ (4396): ৯৪৫–৯৪৮। বিবকোড:1979Sci...204..945S। ডিওআই:10.1126/science.204.4396.945। জেস্টোর 1748134। পিএমআইডি 17800428। এস২সিআইডি 44517302।
  22. 1 2 "Jupiter"। NASA Jet Propulsion Laboratory। ১৪ জানুয়ারি ২০০৩। ২৮ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০০৬।
  23. ↑ "First Close-up Image of Jupiter from Voyager 1 (NASA Voyager Jupiter Encounter Images)"। Ciclops.org। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০০৯।
  24. ↑ E. C. Stone; A. L. Lane (৫ অক্টোবর ১৯৭৯)। "Voyager 2 Encounter with the Jovian System"। Science। ২০৬ (4421): ৯২৫–৯২৭। বিবকোড:1979Sci...206..925S। ডিওআই:10.1126/science.206.4421.925। পিএমআইডি 17733909। এস২সিআইডি 46470902।
  25. ↑ Smith BA, Soderblom LA, Johnson TV, Ingersoll AP, Collins SA, Shoemaker EM, Hunt GE, Masursky H, Carr MH, Davies ME, Cook AF II, Boyce J, Danielson GE, Owen T, Sagan C, Beebe RF, Veverka J, Strom RG, Mccauley JF, Morrison D, Briggs GA, Suomi, VE (জুন ১৯৭৯)। "The Jupiter System Through the Eyes of Voyager 1"। Science। ২০৪ (4396): ৯৫১–৯৭২। বিবকোড:1979Sci...204..951S। ডিওআই:10.1126/science.204.4396.951। পিএমআইডি 17800430। এস২সিআইডি 33147728।
  26. ↑ Brian G. Marsden (২৬ আগস্ট ১৯৮০)। "Satellites of Jupiter"। IAU Circular (3507)। ৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০০৯।(discovery)
  27. ↑ Synnott, S.P. (১৯৮১)। "1979J3: Discovery of a Previously Unknown Satellite of Jupiter"। Science। ২১২ (4501): ১৩৯২। বিবকোড:1981Sci...212.1392S। ডিওআই:10.1126/science.212.4501.1392। আইএসএসএন 0036-8075। জেস্টোর 1686790। পিএমআইডি 17746259।
  28. ↑ Burns, J. A.; Simonelli; Showalter; Hamilton; Porco, Carolyn C.; Throop; Esposito (২০০৪)। "Jupiter's Ring-Moon System" (পিডিএফ)। Bagenal, Fran; Dowling, Timothy E.; McKinnon, William B. (সম্পাদকগণ)। Jupiter: The Planet, Satellites and Magnetosphere। পৃ. ২৪১। বিবকোড:2004jpsm.book..241B। ১২ মে ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০০৯।
  29. ↑ Strom, R. G.; এবং অন্যান্য (১৯৭৯)। "Volcanic eruption plumes on Io"। Nature। ২৮০ (5725): ৭৩৩–৭৩৬। বিবকোড:1979Natur.280..733S। ডিওআই:10.1038/280733a0। এস২সিআইডি 8798702।
  30. ↑ Paul M. Schenk; William B. McKinnon (মে ১৯৮৯)। "Fault offsets and lateral crustal movement on Europa: Evidence for a mobile ice shell"। Icarus। ৭৯ (1): ৭৫–১০০। বিবকোড:1989Icar...79...75S। ডিওআই:10.1016/0019-1035(89)90109-7।
  31. ↑ Buratti, B; Veverka, Joseph (১৯৮৩)। "Voyager photometry of Europa"। Icarus। ৫৫ (1): ৯৩। বিবকোড:1983Icar...55...93B। ডিওআই:10.1016/0019-1035(83)90053-2।
  32. ↑ Smith EJ, Wenzel KP, Page DE (সেপ্টেম্বর ১৯৯২)। "Ulysses at Jupiter: An Overview of the Encounter" (পিডিএফ)। Science। ২৫৭ (5076): ১৫০৩–১৫০৭। বিবকোড:1992Sci...257.1503S। ডিওআই:10.1126/science.257.5076.1503। জেস্টোর 2879932। পিএমআইডি 17776156। এস২সিআইডি 19307704। ৩ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
  33. 1 2 3 K. Chan; E. S. Paredes; M. S. Ryne (২০০৪)। "Ulysses Attitude and Orbit Operations: 13+ Years of International Cooperation" (পিডিএফ)। American Institute of Aeronautics and Astronautics। ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০০৬।
  34. ↑ Mckibben, R; Zhang, M; Heber, B; Kunow, H; Sanderson, T (২০০৭)। "Localized "Jets" of Jovian electrons observed during Ulysses' distant Jupiter flyby in 2003–2004"। Planetary and Space Science। ৫৫ (1–2): ২১–৩১। বিবকোড:2007P&SS...55...21M। ডিওআই:10.1016/j.pss.2006.01.007।
  35. ↑ "Ulysses – Science – Jupiter Distant Encounter Selected References"। NNASA। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০০৮।
  36. 1 2 Hansen CJ, Bolton SJ, Matson DL, Spilker LJ, Lebreton JP (২০০৪)। "The Cassini–Huygens flyby of Jupiter"। Icarus। ১৭২ (1): ১–৮। বিবকোড:2004Icar..172....1H। ডিওআই:10.1016/j.icarus.2004.06.018।
  37. ↑ "Cassini-Huygens: News-Press Releases-2003"। NASA। ২১ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০০৮।
  38. ↑ Alexander, Amir (২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "New Horizons Snaps First Picture of Jupiter"। The Planetary Society। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০০৬।
  39. ↑ "Jupiter, Ahoy!"। New Horizons Web Site। Johns Hopkins University। ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০০৮।
  40. ↑ Stern, S. Alan (২০০৮)। "The New Horizons Pluto Kuiper Belt Mission: An Overview with Historical Context"। Space Science Reviews। ১৪০ (1–4): ৩–২১। আরজাইভ:0709.4417। বিবকোড:2008SSRv..140....3S। ডিওআই:10.1007/s11214-007-9295-y। এস২সিআইডি 119197398।
  41. ↑ "NASA Spacecraft Gets Boost From Jupiter for Pluto Encounter."। The America's Intelligence Wire। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। ৫ জুলাই ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৪।
  42. ↑ Cheng, A. F.; Weaver, H. A.; Conard, S. J.; Morgan, M. F.; Barnouin-Jha, O.; Boldt, J. D.; Cooper, K. A.; Darlington, E. H.; এবং অন্যান্য (২০০৮)। "Long-Range Reconnaissance Imager on New Horizons"। Space Science Reviews। ১৪০ (1–4): ১৮৯–২১৫। আরজাইভ:0709.4278। বিবকোড:2008SSRv..140..189C। ডিওআই:10.1007/s11214-007-9271-6। এস২সিআইডি 118330150।
  43. ↑ "Fantastic Flyby"। NASA। ১ মে ২০০৭। ২৫ জুলাই ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০০৯।
  44. ↑ "Galileo Mission to Jupiter" (পিডিএফ)। NASA/Jet Propulsion Laboratory। ১০ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০০৯।
  45. 1 2 McConnell, Shannon (১৪ এপ্রিল ২০০৩)। "Galileo: Journey to Jupiter"। NASA/Jet Propulsion Laboratory। ৫ জানুয়ারি ১৯৯৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০০৬।
  46. ↑ Thomas, P.C.; Burns, J.A.; Rossier, L.; এবং অন্যান্য (১৯৯৮)। "The Small Inner Satellites of Jupiter"। Icarus। ১৩৫ (1): ৩৬০–৩৭১। বিবকোড:1998Icar..135..360T। ডিওআই:10.1006/icar.1998.5976।
  47. ↑ Williams, David R.। "Ulysses and Voyager 2"। Lunar and Planetary Science। National Space Science Data Center। ২৪ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০০৮।
  48. ↑ "Comet Shoemaker–Levy 9 Collision with Jupiter"। National Space Science Date Center, NASA। ফেব্রুয়ারি ২০০৫। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০০৮।
  49. ↑ Martin, Terry Z. (সেপ্টেম্বর ১৯৯৬)। "Shoemaker–Levy 9: Temperature, Diameter and Energy of Fireballs"। Bulletin of the American Astronomical Society। ২৮: ১০৮৫। বিবকোড:1996DPS....28.0814M।
  50. ↑ "Galileo Mission to Jupiter" (পিডিএফ)। NASA। ১০ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০০৮।
  51. ↑ "BBC News | SCI/TECH | Crash plan for Galileo spaceprobe"। 212.58.226.17:8080। ৩ মার্চ ২০০০। ১০ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০০৯।
  52. ↑ Rosaly M. C. Lopes; John R. Spencer. (২০০৭)। Io after Galileo : a new view of Jupiter's volcanic moon। Berlin: Springer। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৫৪০-৩৪৬৮১-৪।
  53. ↑ P. Bond (২০০৪)। Stepping stones to the cosmos : the story of planetary exploration। New York; Berlin: Springer। পৃ. ১৬৬–১৮২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৮৭-৪০২১২-৩।
  54. ↑ "Galileo Project Information"। Nssdc.gsfc.nasa.gov। ২৭ মে ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০০৯।
  55. ↑ "Solar System Exploration: Galileo Legacy Site: Discovery Highlights"। Solarsystem.nasa.gov। ৯ আগস্ট ২০০৭। ২ নভেম্বর ২০০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০০৯।
  56. ↑ Daniel Fischer (১৯৯৯)। Mission Jupiter : the spectacular journey of the Galileo spacecraft। New York: Copernicus। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৮৭-৯৮৭৬৪-৪।
  57. 1 2 Cook, Jia-Rui c. (১১ ডিসেম্বর ২০১৩)। "Clay-Like Minerals Found on Icy Crust of Europa"। NASA। ৩০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৩।
  58. ↑ NASA Selects New Frontiers Concept Study: Juno Mission to Jupiter | Jupiter Today – Your Daily Source of Jupiter News<!— Bot generated title —>
  59. ↑ "Juno – NASA's Second New Frontiers Mission to Jupiter"। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০০৭।
  60. ↑ Buckley, M. (২০ মে ২০০৮)। "Storm Winds Blow in Jupiter's Little Red Spot"। Johns Hopkins Applied Physics Laboratory। ৪ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০০৮।
  61. ↑ Steigerwald, Bill (১০ অক্টোবর ২০০৬)। "Jupiter's Little Red Spot Growing Stronger"। NASA Goddard Space Center। ৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০০৮।
  62. ↑ Connerney, John; এবং অন্যান্য (জুন ২০১৮)। "Prevalent lightning sferics at 600 megahertz near Jupiter's poles"। Nature। ৫৫৮ (7708): ৮৭–৯০। বিবকোড:2018Natur.558...87B। ডিওআই:10.1038/s41586-018-0156-5। পিএমআইডি 29875484। এস২সিআইডি 46952214।
  63. ↑ "Overview | Juno"। NASA। ১৯ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০২১।
  64. ↑ "NASA's Juno Navigators Enable Jupiter Cyclone Discovery"। NASA Jet Propulsion Laboratory (JPL) (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২২।
  65. ↑ Crockett, Christopher (৮ জুন ২০২০)। "What has the Juno spacecraft taught us about Jupiter?"। Astronomy.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২২।
  66. ↑ Witasse, O.; Altobelli, N.; Andres, R.; Atzei, A.; Boutonnet, A.; Budnik, F.; Dietz, A.; Erd, C.; Evill, R.; Lorente, R.; Munoz, C.; Pinzan, G.; Scharmberg, C.; Suarez, A.; Tanco, I.; Torelli, F.; Torn, B.; Vallat, C.; JUICE Science Working Team (জুলাই ২০২১)। JUICE (Jupiter Icy Moon Explorer): Plans for the cruise phase। Europlanet Science Congress (EPSC) 2021। ডিওআই:10.5194/epsc2021-358। ২৮ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২১।
  67. ↑ Amos, Jonathan (২ মে ২০১২)। "Esa selects 1bn-euro Juice probe to Jupiter"। BBC News Online। ১১ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩।
  68. ↑ "NASA and JPL Contribute to European Jupiter Mission"। JPL। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩।
  69. 1 2 "Europa Clipper"। Jet Propulsion Laboratory। NASA। নভেম্বর ২০১৩। ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩।
  70. ↑ Foust, Jeff (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১)। "NASA to use commercial launch vehicle for Europa Clipper"। SpaceNews। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
  71. ↑ Theresa, Deena (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২)। "China's Tianwen 4 to target Jupiter and Uranus with two spacecraft on one rocket"। interestingengineering.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৩।
  72. ↑ "China Unveils Plans to Send Spacecraft to Jupiter and Uranus"। Time (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২। ১৭ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৩।
  73. ↑ Jones, Andrew (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)। "China to send a spacecraft out of the ecliptic to study the Sun's poles"। SpaceNews (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
  74. ↑ Jones, Andrew [@AJ_FI] (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)। "China to launch the solar polar-orbit observatory mission in 2029 to study the Sun's poles" (টুইট)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ – টুইটার এর মাধ্যমে।
  75. ↑ "After Mars, ISRO targeting missions to Venus and Jupiter"। @businessline (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ জানুয়ারি ২০১৭। ২২ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৯।
  76. ↑ "The Europa Orbiter Mission Design"। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০০৯।
  77. ↑ "NASA Kills Europa Orbiter"। Space.com। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০২। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০০৯।
  78. ↑ Berger, Brian (৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫)। "White House scales back space plans"। NBC News। ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০০৭।
  79. ↑ Atzei, Alessandro (২৭ এপ্রিল ২০০৭)। "Jovian Minisat Explorer"। ESA। ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০০৮।
  80. ↑ Talevi, Monica; Brown, Dwayne (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯)। "NASA and ESA Prioritize Outer Planet Missions"। ২৫ আগস্ট ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  81. ↑ Rincon, Paul (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯)। "Jupiter in space agencies' sights"। BBC News। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  82. ↑ Tim Brice। "Outer Planet Flagship Mission: Jupiter Ganymede Orbiter (JGO) Concept"। Opfm.jpl.nasa.gov। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০০৯।
  83. ↑ OPF Study Team (২৮ আগস্ট ২০০৮)। "Outer Planet Flagship Mission: Briefing to the OPAG Steering Committee" (পিডিএফ)। Outer Planets Assessment Group। ১১ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০০৮।
  84. ↑ "Laplace: A mission to Europa & Jupiter system"। ESA। ১৪ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০০৯।
  85. ↑ Volonte, Sergio (১০ জুলাই ২০০৭)। "Cosmic Vision 2015–2025 Proposals"। ESA। ২ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  86. ↑ "Executive Survey (Visions and Voyages for Planetary Science 2013 – 2022)" (পিডিএফ)। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩।
  87. 1 2 Troutman, P.A.; Bethke, K.; এবং অন্যান্য (২৮ জানুয়ারি ২০০৩)। "Revolutionary Concepts for Human Outer Planet Exploration (HOPE)"। AIP Conference Proceedings। ৬৫৪: ৮২১–৮২৮। বিবকোড:2003AIPC..654..821T। ডিওআই:10.1063/1.1541373। এইচডিএল:2060/20030063128। এস২সিআইডি 109235313।
    Pat Troutman; Kristen Bethke (৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৩)। Revolutionary Concepts for Human Outer Planet Exploration (HOPE) (পিডিএফ)। SPACE TECHNOLOGY & APPLICATIONS INTERNATIONAL "Expanding the Frontiers of Space" FORUM (STAIF - 2003) February 2–6, 2003 Albuquerque, New Mexico। ১৯ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০০৯।
  88. ↑ Melissa L. McGuire; James Gilland (২০০৩)। "High Power MPD Nuclear Electric Propulsion (NEP) for Artificial Gravity HOPE Missions to Callisto" (পিডিএফ)। NASA। ৫ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০০৯।
  89. ↑ "Vision for Space Exploration" (পিডিএফ)। NASA। ২০০৩। ৪ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০০৯।
  90. ↑ "NASA plans to send new robot to Jupiter"। SpaceDaily। ২০০৪। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০০৯।
  91. 1 2 3 4 5 6 7 8 Frederick A. Ringwald (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০০)। "SPS 1020 (Introduction to Space Sciences)"। California State University, Fresno। ২৫ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০০৯।
  92. ↑ Robert Zubrin, Entering Space: Creating a Spacefaring Civilization, section: Colonizing the Jovian System, pp. 166–170, Tarcher/Putnam, 1999, আইএসবিএন ১-৫৮৫৪২-০৩৬-০.
  93. ↑ Kokh, Peter; Kaehny, Mark; Armstrong, Doug; Burnside, Ken (নভেম্বর ১৯৯৭)। "Europa II Workshop Report"। Moon Miner's Manifesto (110)। ৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০০৯।
  94. ↑ "Humans on Europa: A Plan for Colonies on the Icy Moon"। Space.com। ৬ জুন ২০০১। ২০ জুলাই ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০০৬।
  95. ↑ Robert Zubrin, Entering Space: Creating a Spacefaring Civilization, section: Settling the Outer Solar System: The Sources of Power, pp. 158–160, Tarcher/Putnam, 1999, আইএসবিএন ১-৫৮৫৪২-০৩৬-০
  96. ↑ Jeffrey Van Cleve; Carl Grillmair; Mark Hanna। Helium-3 Mining Aerostats in the Atmosphere of Uranus (পিডিএফ)। Abstract for Space Resources Roundtable (প্রতিবেদন)। ৩০ জুন ২০০৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০০৬।
  97. ↑ Bryan Palaszewski (অক্টোবর ২০০৬)। "Atmospheric Mining in the Outer Solar System" (পিডিএফ)। Glenn Research Center। ২৭ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০০৯।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]