বৃক্কের রোগ
| বৃক্কের রোগ | |
|---|---|
| প্রতিশব্দ | কিডনির রোগ, রেনাল রোগ, নেফ্রোপ্যাথি |
| রোগাক্রান্ত বৃক্কের নমুনায় কর্টেক্স অংশে স্পষ্ট ফ্যাকাশেভাব দেখা যাচ্ছে, যা বেঁচে থাকা মেডুলার কলার তুলনায় অনেকটা গাঢ় রঙের। রোগী তীব্র বৃক্ক আঘাতসহ মৃত্যুবরণ করেন। | |
| বিশেষত্ব | বৃক্কবিজ্ঞান, বৃক্কশল্যবিদ্যা |
| জটিলতা | ইউরেমিয়া, মৃত্যু |
বৃক্কের রোগ (অথবা কিডনির রোগ ও রেনাল রোগ) যা প্রযুক্তিগতভাবে নেফ্রোপ্যাথি নামে পরিচিত, হলো বৃক্কের ক্ষতি বা রোগজনিত অবস্থা। নেফ্রাইটিস হলো একটি প্রদাহজনিত বৃক্করোগ এবং প্রদাহের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এর একাধিক প্রকারভেদ রয়েছে।প্রদাহ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়।নেফ্রোসিস হলো অপ্রদাহজনিত বৃক্করোগ। নেফ্রাইটিস এবং নেফ্রোসিস থেকে যথাক্রমে নেফ্রিটিক সিন্ড্রোম ও নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম এর উদ্ভব হতে পারে। বৃক্কের রোগ সাধারণত কিছুটা পরিমাণে বৃক্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে এবং এক পর্যায়ে বৃক্কের অকার্যকারিতা অর্থাৎ বৃক্কের সম্পূর্ণ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বৃক্কের অকার্যকারিতা হলো বৃক্করোগের শেষ পর্যায়, যেখানে ডায়ালাইসিস অথবা বৃক্ক প্রতিস্থাপনই একমাত্র চিকিৎসার বিকল্প।
দীর্ঘস্থায়ী বৃক্কীয় রোগ হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে বৃক্কের কার্যকারিতা (এবং/অথবা গঠনগত অস্বাভাবিকতা) তিন মাসের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়।[১] তীব্র বৃক্ক রোগকে বর্তমানে তীব্র বৃক্ক আঘাত নামে অভিহিত করা হয়, যা সাত দিনের মধ্যে বৃক্কের কার্যক্ষমতায় হঠাৎ ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাওয়ার মাধ্যমে চিহ্নিত হয়।
ডায়াবেটিসের ক্রমবর্ধমান প্রসার এবং বৈশ্বিক জনসংখ্যার বার্ধক্যের ফলে দীর্ঘস্থায়ী বৃক্কীয় রোগ ও মৃত্যুহারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে[২][৩] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে, “বৃক্কের রোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর কারণ হিসেবে উনবিংশ স্থান থেকে নবম স্থানে উঠে এসেছে এবং ২০০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।”[৪] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, বৃক্ক রোগের প্রবণতা ২০০৭ সালে প্রায় আট জনের মধ্যে এক জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে[৫] ২০২১ সালে সাত জনের মধ্যে এক জনে পৌঁছেছে।[৬]
কারণ
[সম্পাদনা]
বৃক্ক রোগের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: গ্লোমেরুলাসে ইমিউনোগ্লোবুলিন এ (IgA) অ্যান্টিবডির জমা হওয়া, ব্যথানাশক ঔষধের (অ্যানালজেসিক) ব্যবহার, জ্যান্থিন অক্সিডেজের অভাব, কেমোথেরাপির ওষুধের বিষক্রিয়া এবং সীসা বা এর লবণগুলির দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শ। নেফ্রোপ্যাথি সৃষ্টি করতে পারে এমন দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে লুপাস, বহুমূত্ররোগ (ডায়াবেটিস) এবং উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন), যা যথাক্রমে ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি এবং হাইপারটেনসিভ নেফ্রোপ্যাথির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ব্যাথানাশক
[সম্পাদনা]দীর্ঘদিন ধরে ব্যথানাশক ঔষধ সেবনের কারণে নেফ্রোপ্যাথি হতে পারে। যে ব্যথানাশক ঔষধগুলো বৃক্কের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাসপিরিন, প্যারাসিটামল, এবং নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস যেমন: আইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রক্সেন। নেফ্রোপ্যাথির এই রূপটি হলো "ক্রনিক অ্যানালজেসিক নেফ্রাইটিস", যা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহজনিত পরিবর্তন। এটি মূলত টিউবিউলের ক্ষয় ও সংকোচন (অ্যাট্রোফি), আন্তঃকোষীয় তন্তুগঠন (ইন্টারস্টিশিয়াল ফাইব্রোসিস) এবং প্রদাহের মাধ্যমে চিহ্নিত হয় (BRS প্যাথলজি, ২য় সংস্করণ)।
বিশেষত, ফেনাসেটিন নামক ব্যথানাশকের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের সাথে রেনাল প্যাপিলারি নেক্রোসিস (নেক্রোটাইজিং প্যাপিলিটিস) এর যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
ডায়াবেটিস
[সম্পাদনা]ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি একটি প্রগতিশীল বৃক্কের রোগ, যা গ্লোমেরুলির কৈশিকনালীর অ্যাঞ্জিওপ্যাথি বা রক্তনালির রোগের কারণে সৃষ্টি হয়। এটি নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম এবং গ্লোমেরুলির বিস্তৃত ক্ষত বা দাগ (স্কারিং) দ্বারা চিহ্নিত। এটি মূলত সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা ডায়াবেটিসর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং অনেক উন্নত দেশে ডায়ালাইসিসের অন্যতম প্রধান কারণ। এটি ডায়াবেটিসের একটি ক্ষুদ্র রক্তনালীর জটিলতা হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়।[৭]
অটোসোমাল ডমিনেন্ট পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ
[সম্পাদনা]গ্যাবো ১৯৯০ সালের গবেষণায় অটোসোমাল ডমিন্যান্ট পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (এডিপিকেডি) এবং এই রোগের বংশগত (জেনেটিক) প্রকৃতির বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা আরও বলেন, "অটোসোমাল ডমিন্যান্ট পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ হলো সবচেয়ে সাধারণ জেনেটিক রোগ, যা অর্ধ মিলিয়ন আমেরিকানকে আক্রান্ত করে।" ক্লিনিকাল লক্ষণসমূহ অন্তত দুটি ভিন্ন জিনের ত্রুটির ফলে দেখা দিতে পারে। এডিপিকেডি রোগের জন্য দায়ী একটি জিন ক্রোমোজোম ১৬-এর স্বল্প বাহুতে অবস্থিত।[৮] উক্ত নিবন্ধে আরও বলা হয় যে, মিলিয়ন সংখ্যক আমেরিকান এই রোগে আক্রান্ত এবং এটি অত্যন্ত সাধারণ রোগ হিসেবে বিবেচিত।
কোভিড-১৯
[সম্পাদনা]কোভিড-১৯ বৃক্ক রোগের সাথে সম্পর্কিত। কোভিড-১৯ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে, তীব্র বৃক্ক আঘাতের প্রবণতা প্রায় ২৮% এবং রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির প্রবণতা প্রায় ৯%।[৯]
খাদ্যাভ্যাস
[সম্পাদনা]প্রাণিজ প্রোটিন, প্রাণিজ চর্বি এবং কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে মাইক্রোঅ্যালবুমিনুরিয়া (যা বৃক্কের কর্মক্ষমতা হ্রাসের একটি প্রাথমিক লক্ষণ) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।[১০] এর বিপরীতে, ফলমূল, শাকসবজি ও সম্পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্যসমৃদ্ধ এবং মাংস ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কম থাকে এমন খাদ্যাভ্যাস বৃক্কের কর্মক্ষমতা অবনতি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এর কারণ হতে পারে যে প্রাণীজ প্রোটিন, প্রাণীজ চর্বি, কোলেস্টেরল এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি অ্যাসিড তৈরি করে, যেখানে ফল, সবজি, ডাল এবং সম্পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার বেশি ক্ষার তৈরি করে।[১১][১২][১৩][১৪][১৫][১৬][১৭][১৮][১৯]
আইজিএ নেফ্রোপ্যাথি
[সম্পাদনা]আইজিএ নেফ্রোপ্যাথি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে সাধারণ ধরনের গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস। প্রাথমিক আইজিএ নেফ্রোপ্যাথির বৈশিষ্ট্য হলো গ্লোমেরুলাসে আইজিএ অ্যান্টিবডির জমা। এই রোগের সাধারণ উপসর্গ (প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে) হলো পুনরাবৃত্ত প্রকট রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব (রক্তমেহ), যা সাধারণত একটি অস্পষ্ট ঊর্ধ্ব শ্বাসনালি সংক্রমণ (যেমন: সর্দি-কাশি) শুরুর এক বা দুই দিনের মধ্যেই দেখা দেয়।[২০] এ কারণে একে "সিনফ্যারিনজাইটিক হেম্যাচুরিয়া" বলা হয়। এর বিপরীতে, স্ট্রেপটোকক্কাল পরবর্তী গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস সাধারণত সংক্রমণের কয়েক সপ্তাহ পর ঘটে। কখনো কখনো পরিপাকতন্ত্র বা মূত্রনালির সংক্রমণও এই রোগ শুরুর কারণ হতে পারে। এই সব সংক্রমণের একটি সাধারণ দিক হলো, এগুলো মিউকোসাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে, যার ফলে শরীরে আইজিএ অ্যান্টিবডির উৎপাদন বেড়ে যায় এবং তা গ্লোমেরুলাসে জমা হয়ে রোগ সৃষ্টি করে।
আয়োডিনযুক্ত কনট্রাস্ট মিডিয়া
[সম্পাদনা]আইডিনযুক্ত কনট্রাস্ট মিডিয়ার কারণে সৃষ্ট বৃক্কের রোগকে কনট্রাস্ট-ইনডিউসড নেফ্রোপ্যাথি বা কনট্রাস্ট-সৃষ্ট তীব্র বৃক্ক আঘাত বলা হয়। বর্তমানে এই রোগের সৃষ্ট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার নয়। তবে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, কোষপতন উদ্দীপিতসহ কয়েকটি কারণ এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।[২১]
লিথিয়াম
[সম্পাদনা]লিথিয়াম হলো একটি ওষুধ যা প্রধানত দ্বিপ্রান্তিক ব্যাধি এবং স্কিজোঅ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘ সময় এই ওষুধ গ্রহণ করলে এটি নেফ্রোজেনিক ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস নামক রোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ক্ষতি বা নেফ্রোপ্যাথি ঘটাতে পারে।[২২]
লুপাস
[সম্পাদনা]ব্যয়বহুল চিকিৎসা সত্ত্বেও, লুপাস নেফ্রাইটিস বিশেষত পুনরাবৃত্তিমূলক বা প্রতিরোধী রোগীদের মধ্যে অসুস্থতা এবং মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অক্ষয় রয়েছে।[২৩]
জ্যান্থিন অক্সিডেজের ঘাটতি
[সম্পাদনা]বৃক্ক রোগের একটি সম্ভাব্য কারণ হলো পিউরিন বিপাক প্রক্রিয়ায় জ্যান্থিন অক্সিডেজ এনজাইমের কার্যক্ষমতা হ্রাস। সাধারণভাবে, জ্যান্থিন অক্সিডেজ হাইপোজ্যানথিনকে জ্যান্থিনে এবং পরে জ্যান্থিনকে ইউরিক অ্যাসিডে রূপান্তর করে। তবে জ্যান্থিন পানিতে খুব সহজে দ্রবীভূত হয় না। ফলে শরীরে জ্যান্থিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা স্ফটিক আকারে জমে বৃক্কে পাথর (কিডনি স্টোন) তৈরি করতে পারে এবং বৃক্কের ক্ষতি ঘটাতে পারে।এছাড়াও, জ্যান্থিন অক্সিডেজ প্রতিরোধকারী ওষুধ, যেমন অ্যালোপিউরিনল, অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্রহণ করলে নেফ্রোপ্যাথি (বৃক্কের ক্ষতি) সৃষ্টি হতে পারে।
বৃক্কের পলিসিস্টিক রোগ
[সম্পাদনা]নেফ্রোপ্যাথির আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হলো বৃক্কের ভেতরে সিস্ট বা তরল-ভর্তি থলির সৃষ্টি। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এই সিস্টগুলো বড় হতে থাকে, যা সাধারণত বৃক্কের অকার্যকারিতার কারণ হয়। বৃক্ক ছাড়াও যকৃত, মস্তিষ্ক এবং ডিম্বাশয়ের মতো অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও সিস্ট তৈরি হতে পারে।পলিসিস্টিক বৃক্ক রোগ একটি জেনেটিক বা বংশগত রোগ, যা পিকেডি১, পিকেডি২ এবং পিকেএইচডি১ জিনের পরিবর্তনের কারণে ঘটে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। পলিসিস্টিক বৃক্কের সংক্রমণ এবং ক্যান্সারের জন্য বেশি সংবেদনশীল হয়।
কেমোথেরাপির বিষাক্ততা
[সম্পাদনা]ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু থেরাপির সঙ্গে নেফ্রোপ্যাথি বা বৃক্কের রোগ যুক্ত হতে পারে।ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে বৃক্ক রোগের সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো তীব্র বৃক্ক আঘাত, যা সাধারণত কেমোথেরাপির পর বমি ও ডায়রিয়ার ফলে শরীরের পানিশূন্যতার কারণে হয়ে থাকে। কখনও কখনও এটি কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত ওষুধে বৃক্কে-বিষাক্ততার কারণেও হতে পারে। ক্যান্সার কোষ ভেঙে যাওয়ার কারণে (সাধারণত কেমোথেরাপির পর) বৃক্ক অকার্যকার হওয়াটা অনকোনেফ্রোলজির একটি বিশেষ দিক।[২৪] কিছু কেমোথেরাপির ঔষধ, যেমন: সিসপ্ল্যাটিন, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী বৃক্ক আঘাতের কারণ হতে পারে। নতুন কিছু ওষুধ, যেমন অ্যান্টি-ভাসকুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর, একই ধরনের বৃক্কে ক্ষতির পাশাপাশি প্রোটিনুরিয়া (প্রস্রাবে অস্বাভাবিক পরিমাণে প্রোটিন নির্গমন), উচ্চ রক্তচাপ এবং থ্রম্বোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথির মতো জটিলতার সাথেও সম্পৃক্ত।[২৫]
রোগ নির্ণয়
[সম্পাদনা]সম্ভাব্য বৃক্ক রোগের আদর্শ নির্ণয় প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা ইতিহাস (মেডিকেল হিস্টরি), শারীরিক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন), মূত্র পরীক্ষা (ইউরিন টেস্ট) এবং বৃক্কের আল্ট্রাসাউন্ড (রেনাল আল্ট্রাসনোগ্রাফি)। বৃক্কের রোগ নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনার জন্য আল্ট্রাসাউন্ড অপরিহার্য।[২৬]
চিকিৎসা
[সম্পাদনা]বৃক্ক রোগের চিকিৎসায় প্রধানত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, রোগের অগ্রগতি বাধা দেওয়া এবং রোগীর অন্যান্য সমসাময়িক রোগগুলোও চিকিৎসা করা হয়।[১]
ডায়ালাইসিস
[সম্পাদনা]বৃক্ক প্রতিস্থাপন
[সম্পাদনা]বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ বৃক্ক রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে রোগের শেষ পর্যায়ে ডায়ালাইসিস বা বৃক্ক প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়।[২৭] যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৬,৫০০ জন মানুষের বৃক্ক প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল।[২৭] তাদের মধ্যে ৫,০০০ জন বৃক্ক প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকাকালেই মৃত্যুবরণ করেন।[২৭] বর্তমানে বৃক্ক দাতার অভাব রয়েছে এবং ২০০৭ সালে সারা বিশ্বে মাত্র ৬৪,৬০৬টি বৃক্ক প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়।[২৭] দাতার এই ঘাটতির কারণে বিভিন্ন দেশ বৃক্কের উপর আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করতে বাধ্য হচ্ছে। ইরান ও সিঙ্গাপুরের মতো কিছু দেশ নাগরিকদের অর্থ প্রদানের মাধ্যমে বৃক্ক দানে উৎসাহিত করে অপেক্ষমাণ তালিকা বিলুপ্ত করার ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়াও, সারা বিশ্বে যে বৃক্ক প্রতিস্থাপন কার্যক্রম হয়, তার প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশই কালোবাজারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।[২৭] যুক্তরাষ্ট্রে কালোবাজার থেকে অঙ্গ ক্রয় করা বেআইনি।[২৮] বৃক্ক প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম লেখাতে হলে প্রথমে রোগীকে একজন চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে হয়, তারপর তাকে একটি দাতা হাসপাতাল নির্বাচন করে সেখানে যোগাযোগ করতে হয়। বৃক্ক প্রতিস্থাপনের জন্য রোগীকে দাতার সঙ্গে রক্তের গ্রুপ এবং মানব লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন মিলতে হবে। দাতার বৃক্ক থেকে সৃষ্ট অ্যান্টিবডির প্রতি রোগীর কোনো প্রতিক্রিয়া থাকতে পারবে না।[২৭][২৯]
পরিণতি
[সম্পাদনা]বৃক্কের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে। সাধারণত, বৃক্ক রোগের অগ্রগতি হালকা থেকে গুরুতর পর্যায়ের দিকে অগ্রসর হয়। কিছু বৃক্কের রোগ শেষপর্যন্ত বৃক্কের অকার্যকারিতা ঘটাতে পারে।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Kim, Kun Hyung; Lee, Myeong Soo; Kim, Tae-Hun; Kang, Jung Won; Choi, Tae-Young; Lee, Jae Dong (২৮ জুন ২০১৬)। "Acupuncture and related interventions for symptoms of chronic kidney disease"। The Cochrane Database of Systematic Reviews। ২০১৬ (৬): CD০০৯৪৪০। ডিওআই:10.1002/14651858.CD009440.pub2। পিএমসি 8406453। পিএমআইডি 27349639।
- ↑ Imai, Enyu; Matsuo, Seiichi (২৮ জুন ২০০৮)। "এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বৃক্কীয় রোগ"। দ্য ল্যানসেট। ৩৭১ (৯৬৩১): ২১৪৭–২১৪৮। ডিওআই:10.1016/S0140-6736(08)60928-9। পিএমআইডি 18586155। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ James, Matthew T; Hemmelgarn, Brenda R; Tonelli, Marcello (১০ এপ্রিল ২০১০)। "দীর্ঘস্থায়ী বৃক্কীয় রোগের প্রাথমিক স্বীকৃতি ও প্রতিরোধ"। দ্য ল্যানসেট। ৩৭৫ (৯৭২২): ১২৯৬–১৩০৯। ডিওআই:10.1016/S0140-6736(09)62004-3। পিএমআইডি 20382326। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ "মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণ" (ইংরেজি ভাষায়)। www.who.int। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ Coresh, Josef; Selvin, Elizabeth; Stevens, Lesley A.; Manzi, Jane; Kusek, John W.; Eggers, Paul; Van Lente, Frederick; Levey, Andrew S. (৭ নভেম্বর ২০০৭)। "যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘস্থায়ী বৃক্ক রোগের প্রাদুর্ভাব"। জেমা। ২৯৮ (১৭): ২০৩৮–২০৪৭। ডিওআই:10.1001/jama.298.17.2038। পিএমআইডি 17986697।
- ↑ "যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘস্থায়ী বৃক্কীয় রোগ, ২০২৩" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। www.cdc.gov। ১৫ মে ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ Longo et al., Harrison's Principles of Internal Medicine, 18th ed., p. 2982
- ↑ Gabow, Patricia A. (১ নভেম্বর ১৯৯০)। "অটোসোমাল ডমিনেন্ট পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ – কেবল একটি বৃক্কের রোগ নয়"। American Journal of Kidney Diseases। ১৬ (৫): ৪০৩–৪১৩। ডিওআই:10.1016/S0272-6386(12)80051-5। পিএমআইডি 2239929।
- ↑ সিলভার, স্যামুয়েল; বোবিয়াঁ-সুলিনি, উইলিয়াম; শাহ, প্রাকেশ; হারেল, শ্যাই; ব্লুম, ড্যানিয়েল; কিশিবে, তেরুকো; মেরাজ-মুন্নোজ, আলেজান্দ্রো; ওয়াল্ড, রন; হারেল, জিভ (৮ ডিসেম্বর ২০২০)। "কোভিড-১৯ সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে হঠাৎ কিডনি ক্ষতির প্রাদুর্ভাব: একটি সিস্টেম্যাটিক রিভিউ এবং মেটা-বিশ্লেষণ"। কিডনি মেডিসিন। ৩ (১): ৮৩–৯৮.e১। ডিওআই:10.1016/j.xkme.2020.11.008। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০২৪।
- ↑ Lin, Julie; Hu, Frank B.; Curhan, Gary C. (১ মে ২০১০)। "Associations of diet with albuminuria and kidney function decline"। Clinical Journal of the American Society of Nephrology। ৫ (৫): ৮৩৬–৮৪৩। ডিওআই:10.2215/CJN.08001109। পিএমসি 2863979। পিএমআইডি 20299364।
- ↑ Sebastian, Anthony; Frassetto, Lynda A.; Sellmeyer, Deborah E.; Merriam, Renée L.; Morris, R. Curtis (১ ডিসেম্বর ২০০২)। "আদিম কৃষি-পূর্ব হোমো স্যাপিয়েনস ও তাদের হোমিনিড পূর্বপুরুষদের খাদ্যতালিকায় মোট অম্লভার পরিমাণের একটি অনুমান"। The American Journal of Clinical Nutrition। ৭৬ (6): ১৩০৮–১৩১৬। ডিওআই:10.1093/ajcn/76.6.1308। পিএমআইডি 12450898।
- ↑ van den Berg, Else; Hospers, Frédérique A. P.; Navis, Gerjan; Engberink, Marielle F.; Brink, Elizabeth J.; Geleijnse, Johanna M.; van Baak, Marleen A.; Gans, Rijk O. B.; Bakker, Stephan J. L. (১ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "পশ্চাত্যধারায় বদলে যাওয়া দক্ষিণ-এশীয়দের মধ্যে ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ের বৃক্কের রোগে গড়ানোর পেছনে খাদ্যজনিত অম্লভার কী ভূমিকা রাখে"। ২৪ (১): ১১–১৭। ডিওআই:10.5301/jn.2010.5711। পিএমআইডি 20872351।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Brenner, B. M.; Meyer, T. W.; Hostetter, T. H. (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮২)। "প্রোটিনজাত খাদ্য গ্রহণ ও বৃক্ক রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকৃতি: বার্ধক্য, বৃক্কের আংশিক অপসারণ এবং স্বতঃসিদ্ধ বৃক্ক রোগের ক্ষেত্রে গ্লোমেরুলার স্ক্লেরোসিসের বিকাশে রক্তপ্রবাহ-সম্পর্কিত গ্লোমেরুলার ক্ষতির ভূমিকা"। The New England Journal of Medicine। ৩০৭ (১১): ৬৫২–৬৫৯। ডিওআই:10.1056/NEJM198209093071104। পিএমআইডি 7050706।
- ↑ Goraya, Nimrit; Wesson, Donald E. (১ জানুয়ারি ২০১৪)। "নেফ্রোপ্যাথির অগ্রগতিতে খাদ্যজনিত অম্ল কি একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান?"। American Journal of Nephrology। ৩৯ (২): ১৪২–১৪৪। ডিওআই:10.1159/000358602। পিএমআইডি 24513954।
- ↑ Scialla, Julia J.; Appel, Lawrence J.; Astor, Brad C.; Miller, Edgar R.; Beddhu, Srinivasan; Woodward, Mark; Parekh, Rulan S.; Anderson, Cheryl A. M. (১ জুলাই ২০১১)। "দীর্ঘস্থায়ী বৃক্ক রোগে আক্রান্ত আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে নিট অন্তর্জাত অম্ল উৎপাদন ও রক্তের বাইকার্বোনেটের অনুমান"। Clinical Journal of the American Society of Nephrology। ৬ (৭): ১৫২৬–১৫৩২। ডিওআই:10.2215/CJN.00150111। পিএমসি 3552445। পিএমআইডি 21700817।
- ↑ Kanda, Eiichiro; Ai, Masumi; Kuriyama, Renjiro; Yoshida, Masayuki; Shiigai, Tatsuo (১ জানুয়ারি ২০১৪)। "বয়স্কদের ক্ষেত্রে খাদ্যের অম্ল উপাদান গ্রহণ ও বৃক্ক রোগের ক্রমাগত অবনতি"। American Journal of Nephrology। ৩৯ (২): ১৪৫–১৫২। ডিওআই:10.1159/000358262। পিএমআইডি 24513976।
- ↑ Banerjee; Crews, Tanushree; Wesson, Deidra C.; Tilea, Donald E.; Saran, Anca; Rios Burrows, Rajiv; Williams, Nilka; Powe, Desmond E.; CDC Chronic Kidney Disease Surveillance Team, Neil R. (১ জানুয়ারি ২০১৪)। "মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে খাদ্যজনিত অম্লভার ও দীর্ঘস্থায়ী বৃক্ক রোগের সম্পর্ক"। BMC Nephrology। ১৫: ১৩৭। ডিওআই:10.1186/1471-2369-15-137। পিএমসি 4151375। পিএমআইডি 25151260।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: পতাকাভুক্ত নয় এমন বিনামূল্যে ডিওআই (লিঙ্ক) - ↑ Goraya, Nimrit; Simoni, Jan; Jo, Chan-Hee; Wesson, Donald E. (১ মার্চ ২০১৩)। "চতুর্থ স্তরের উচ্চ রক্তচাপসংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী বৃক্ক রোগে মেটাবলিক অ্যাসিডোসিসের চিকিৎসায় ফল ও শাকসবজি বনাম সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ব্যবহারের তুলনা"। Clinical Journal of the American Society of Nephrology। ৮ (৩): ৩৭১–৩৮১। ডিওআই:10.2215/CJN.02430312। পিএমসি 3586961। পিএমআইডি 23393104।
- ↑ Deriemaeker, Peter; Aerenhouts, Dirk; Hebbelinck, Marcel; Clarys, Peter (১ মার্চ ২০১০)। "নিরামিষভোজী ও আমিষভোজীদের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য নির্ধারণে পুষ্টিগত উপাদানের ভিত্তিতে অনুমান"। Plant Foods for Human Nutrition (Dordrecht, Netherlands)। ৬৫ (১): ৭৭–৮২। বিবকোড:2010PFHN...65...77D। ডিওআই:10.1007/s11130-009-0149-5। পিএমআইডি 20054653।
- ↑ D'Amico, G (১৯৮৭)। "বিশ্বে সবচেয়ে সাধারণ গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস: আইজিএ নেফ্রোপ্যাথি"। Q J Med। ৬৪ (২৪৫): ৭০৯–৭২৭। পিএমআইডি 3329736।
- ↑ Idee, J.-; Boehm, J.; Prigent, P.; Ballet, S.; Corot, C. (২০০৬)। "কনট্রাস্ট মিডিয়া-প্ররোচিত নেফ্রোপ্যাথির রোগজন্ম প্রক্রিয়ায় অ্যাপপটোসিসের ভূমিকা এবং ঔষধ নির্ধারণের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রতিরোধের দিকনির্দেশনা"। Anti-Inflammatory & Anti-Allergy Agents in Medicinal Chemistry। ৫ (২): ১৩৯–১৪৬। ডিওআই:10.2174/187152306776872442।
- ↑ Grünfeld, JP; Rossier, BC (মে ২০০৯)। "লিথিয়াম নেফ্রোটক্সিসিটি পুনঃমূল্যায়ন"। Nat Rev Nephrol। ৫ (৫): ২৭০–২৭৬। ডিওআই:10.1038/nrneph.2009.43। পিএমআইডি 19384328।
- ↑ Borchers, Andrea T.; Leibushor, Naama; Naguwa, Stanley M.; Cheema, Gurtej S.; Shoenfeld, Yehuda; Gershwin, M. Eric (১ ডিসেম্বর ২০১২)। "লুপাস নেফ্রাইটিস: একটি সমালোচনামূলক পর্যালোচনা"। Autoimmunity Reviews। ১২ (২): ১৭৪–১৯৪। ডিওআই:10.1016/j.autrev.2012.08.018। পিএমআইডি 22982174।
- ↑ Portilla, D; Safar, AM; Shannon, ML; Penson, RT (২০১৩)। Palevsky PM (সম্পাদক)। "সিসপ্লাটিনের কারণে সৃষ্ট বৃক্কে বিষক্রিয়া"। UpToDate। Waltham, MA: UpToDate।
- ↑ Robinson, Emily S. (১ নভেম্বর ২০১০)। "ভাস্কুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর সংকেত প্রণালী নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট উচ্চ রক্তচাপ: এর কারণসমূহ এবং বায়োমার্কার হিসেবে সম্ভাব্য ব্যবহার"। Seminars in Nephrology। ৩০ (৬): ৫৯১–৬০১। ডিওআই:10.1016/j.semnephrol.2010.09.007। পিএমসি 3058726। পিএমআইডি 21146124।
- ↑ হ্যানসেন, ক্রিস্টোফার লিন্ডস্কভ; নিলসেন, মাইকেল বাচম্যান; এওয়ার্টসেন, ক্যারোলিন (২৩ ডিসেম্বর ২০১৫)। "বৃক্কের আল্ট্রাসনোগ্রাফি: একটি চিত্রভিত্তিক পর্যালোচনা"। ডায়াগনস্টিকস। ৬ (১): ২। ডিওআই:10.3390/diagnostics6010002। পিএমসি 4808817। পিএমআইডি 26838799।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: পতাকাভুক্ত নয় এমন বিনামূল্যে ডিওআই (লিঙ্ক) - 1 2 3 4 5 6 টাবাররক, অ্যালেক্স (৮ জানুয়ারি ২০১০)। "দ্যা মিট মার্কেট"। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
- ↑ শেভ, টম (৭ মে ২০০৮)। "কীভাবে অঙ্গদান কাজ করে"। হাউ স্টাফ ওয়ার্কস। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৫।
- ↑ "অপেক্ষমাণ তালিকা"। www.kidneylink.org। ১৩ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৫।