বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা
অবস্থান

তথ্য
ধরনসংযুক্ত কামিল মাদরাসা
নীতিবাক্যপড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ
প্রতিষ্ঠাতামৌলভী জাফর আলী (রহ.)
অধ্যক্ষমাওলানা মো.সিরাজুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত)
শিক্ষার্থী সংখ্যা১০০০ (প্রায়)
শ্রেণীইবতেদায়ী ১ম শ্রেণি থেকে কামিল (হাদিস)
ভাষাআরবী, বাংলা
আয়তন৫ একর (প্রায়)
ক্যাম্পাসের ধরনগ্রামীণ
ওয়েবসাইট

বাংলাদেশের আধ্যাতিক রাজধানী সিলেট বিভাগের সুনামগন্জ জেলাধীন ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের বুরাইয়া গ্রামে জেলার একমাত্র কামিল স্থরের ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা” অবস্থিত। বুরাইয়া গ্রামের পীরে কামিল মরহুম মাও. নিয়ামত উল্লাহ, মরহুম মাও. আলতাফুর রহমান এবং মরহুম পীর মাহমুদ আলী সাহেবানদের দোয়ার বদৌলতে বুরাইয়া চিছরাওলী গ্রামের হক্বানী আলেমে দ্বীন মরহুম মৌলভী জাফর আলী স্থানীয় মুরাব্বিয়ানদের সহযোগিতায় ১৯৬৭ সালে বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।[১]

অবস্থান[সম্পাদনা]

সিলেট বিভাগের সুনামগন্জ জেলাধীন ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বুরাইয়া গ্রামে বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা অবস্থিত।

ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

থাম্ব|বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসার বর্তমান ক্যাম্পাস তিনশত ষাট আউলিয়ার পদ স্পর্শিত পূণ্যভূমি সিলেটের হাওর অধ্যুষিত এক জনপদ সুনামগন্জ জেলার ছাতক উপজেলাধীন একটি গ্রামের নাম বুরাইয়া। প্রসিদ্ধ বারোজন সুফি-সাধকের মাতৃপল্লী এই গ্রামটি তৎকালীন সময়ে ভাটি বাংলার এক সু-সভ্য জনপদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। কালের পরিক্রমায় ধর্ম ও জ্ঞানচর্চা আর ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন ভিত্তিক গড়ে ওঠা পরিবেশ যেথায় আজো বিদ্যমান। এই গ্রামে জন্ম নেয়া মাও. নিয়ামত উল্লাহ , পীর মাহমুদ আলী এবং মাও. আলতাফুর রহমান ছিলেন বারো জন আলিমের মধ্যে অন্যতম। একদা কোনো এক রাতের পূন্য প্রহরে পীর মাহমুদ আলী স্বপ্নে দেখেন যে, বুরাইয়া গ্রামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হবে। একই স্বপ্ন দেখেন মাও. আলতাফুর রহমান । এরপর পীর মাহমুদ আলী পরলোক গমনের প্রাক্কালে তাঁর স্বপ্নে দেখা ঘটনার আবর্তে তৎকালীন সময়ে ১০০০ (এক হাজার) টাকা দান করেন ভাবি মাদরাসার তহবিলে। পরবর্তীতে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী বুরাইয়া গ্রামের অন্যতম হক্কানী আলিম মৌলভী জাফর আলী কলকাতাঢাকা আলীয়া মাদরাসায় শিক্ষা জীবন শেষ করে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বীনের খেদমত করে জীবনের সিংহভাগ অতিবাহিত করে অবশেষে জননী জন্ম ভূমির ¯স্নেহের টানে নিজ গ্রাম বুরাইয়া চিছরাওলীতে ফিরে আসেন। নিজ গ্রামে অবস্থানকালে মৌলভী জাফর আলী উপলদ্ধি করছিলেন পশ্চিম সিলেটে ইসলামী শিক্ষার অভাবের কথা। তাই তিনি পূর্ববর্তী ওলীদের অসিয়ত বাস্তবায়নার্থে ও ইসলামী শিক্ষার বিস্তারের উদ্দেশ্যে নিজ গ্রামে একটি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার সংকল্প করেন। অবশেষে পীর মাহমুদ আলী এর রেখে যাওয়া একহাজার টাকার তহবিল ও এলাকাবাসীর সাথে সলা-পরামর্শ করতঃ সবার সাহায্য সহযোগিতার ভিত্তিতে ১৩৭২ বাংলার ২২শে মাঘ ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে মৌলভী জাফর আলী একটি মসজিদ ভিত্তিক দ্বীনি শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মাদরাসাটি প্রথমে বুরাইয়া বাজারের মসজিদে ফুরকানিয়া মাদরাসা হিসেবে আরম্ভ করা হয়। বাংলাদেশের চিরা চরিত আবহাওয়া বৈশাখ মাসের কাল বৈশাখীর ঝড়ে মসজিদটি লন্ড ভন্ড হয়ে যায়, ফলে বুরাইয়া চিছরাওলী জামে মসজিদে মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক হিসেবে ছিলেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী জাফর আলীহাফিজ আলাউদ্দিন । পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে বর্তমান মাদরাসার স্থানে একটি টিনের ঘর তৈরি করা হয় এবং মাদরাসার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হয়। ঘরটির বেড়া ছিল খড় কোটার এবং বেঞ্চগুলি ছিল বাঁশের। বাঁশের খুটি ছনের ছাউনি ঘেরা প্রায় চার যুগ আগের সেই জীর্ণ কুটির খানি আজ গগণচুম্বি এক সুবিশাল ক্যাম্পাসে রুপান্তরিত হয়েছে। যে ক্যাম্পাসটি আজ দেশ-বিদেশে বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা নামে সুপরিচিত।[২]

দাখিল,আলিম,ফাযিল এবং কামিল শ্রেণির স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

সুনামগন্জ জেলার সর্বোচ্চ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা প্রথমে মসজিদ ভিত্তিক মক্তব হিসেবে চালু করা হলেও ১৯৬৭ সালে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হয়। ১৯৬৮ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দাখিল শ্রেণির স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭২ সালে আলিম শ্রেণির স্বীকৃতি পেয়ে ক্রমান্বয়ে ১৯৭৮ সালে ফাযিল শ্রেণির স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৩ সালে এই জ্ঞান বাগিচাটি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর কামিল শ্রেণির পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৩ থেকে অধ্যবদি দ্বীন ইসলামের ২য় উৎস হাদিস শরীফের দরস বিতরণ-গ্রহণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০০৬ সালে বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা কে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার অধীনে ফাযিলকে ডিগ্রী এবং কামিলকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা কে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে অধিভূক্ত করা হয়।[৩]

ক্যাম্পাস[সম্পাদনা]

থাম্ব|বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা ক্যাম্পাস বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা প্রায় ৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত বিশাল ক্যাম্পাস। মাদারাসায় বর্তমানে রয়েছে ২টি ৪তলা ও ১টি ১তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ১টি প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১টি বিজ্ঞান ভবন, ছাত্রদের জন্য ২টি আবাসিক হল, তাহফিজ বিভাগের জন্য একটি তাহফিজ ভবন, পুরুষদের জন্য ২তলা বিশিষ্ট বিশাল জামে মসজিদ, মহিলাদের নামাযের জন্য ৩তলা বিশিষ্ট মসজিদ এবং একটি সুবিশাল কুতুবখানা/লাইব্রেরী রয়েছে।[৩]

শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসায় বর্তমানে ইবতেদায়ী ১ম শ্রেণি থেকে কামিল (হাদিস) শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১০০০ (এক হাজার) শিক্ষার্থী রয়েছেন। [৩]

ছাত্র সংসদ[সম্পাদনা]

১৯৭৯ সালে বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসার ছাত্রদের কল্যাণে মুফতি আব্দুল খালিক এর তত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ছাত্র ইউনিয়ন‘। ছাত্র কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত ছাত্র ইউনিয়ন পরবর্তীতে ছাত্র পরিষদ“ নামকরণ করা হয়। বর্তমানে উহা ‘বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া ছাত্র সংসদ‘ নামে পরিচিত। [৪] 'বর্তমান ভি.পি মো. মুহাইমিনুল হক'

লাইব্রেরী[সম্পাদনা]

বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসায় নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি সংগ্রহের মাধ্যমে সুবিশাল একটি কুতুবখানা বা লাইব্রেরী রয়েছে।

মসজিদ[সম্পাদনা]

বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসায় পুরুষদের জন্য ২তলা বিশিষ্ট বিশাল জামে মসজিদ এবং মহিলাদের নামাযের জন্য ৩তলা বিশিষ্ট মসজিদ রয়েছে।

অর্জন[সম্পাদনা]

১. এ প্রতিষ্ঠান থকেে এবার (২০২০ইং) দাখিল পরীক্ষায় ৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে শতভাগ সাফল্য নিয়ে উর্ত্তীণ হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার র্শীষে স্থান করে নিয়েছে। এদের মধ্যে জিপিএ ফাইভ লাভ করেছে ৭জন শিক্ষার্থী। এ লাভ করছেে ৩৬জন, এ মাইনাস লাভ করছেে ৩৪জন ও বি লাভ করছেে দু'জনসহ মোট ৭৯জন শিক্ষার্থী।

২. ২০১১ সালে অধ্যক্ষ আবুল হাসান মো. নুরুল হক ও এলাকাবাসীর যোগ্য তৎপরতায় বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র (ছাতক-২) হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর ৫ম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসিজিডিসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও এ ক্যাম্পাস স্বীকৃতি লাভ করে। [৫]

অঙ্গ প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

০১. বুরাইয়া একাডেমি ( ইসলামিক কিন্ডারগার্টেন)

০২. তাহফিজুল কুরআন বিভাগ।

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা সাহিত্য বার্ষিকী নেদায়ে হক্ব-২০০৬
  2. বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা সাহিত্য বার্ষিকী আল-বালাগ-১৯৯০, নেদায়ে হক্ব-২০০৬, নেদায়ে হক্ব-২০১৪, নেদায়ে হক্ব-২০২০।
  3. প্রশাসনিক কার্যালয়, বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা।
  4. ছাত্র সংসদ, বুরাইয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা
  5. অফিস কক্ষ, বুরাইয়া কামিল মাদরাসা

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]