বিশ্ব উর্দু দিবস
| বিশ্ব উর্দু দিবস | |
|---|---|
| আনুষ্ঠানিক নাম | বিশ্ব ইকবাল দিবস |
| পালনকারী | পাকিস্তান ও ভারত |
| ধরন | আন্তর্জাতিক |
| উদযাপন | সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, মুশায়েরা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান |
| তারিখ | ৯ নভেম্বর |
| সংঘটন | বার্ষিক |
| সম্পর্কিত | ইকবাল দিবস |
বিশ্ব উর্দু দিবস (উর্দু: عالمی یومِ اردو) বিখ্যাত উর্দু কবি ডক্টর আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর ৯ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।[১]
এই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো উর্দু ভাষার জনপ্রিয়তা তুলে ধরা এবং এর গুরুত্বের প্রশংসা করা। উর্দু ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। এটি পাকিস্তানের জাতীয় ভাষা।
আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল
[সম্পাদনা]আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বিশ্বে এই দিনটি উদযাপিত হয়।[২]
আল্লামা ইকবাল ছিলেন একজন মহান উর্দু কবি এবং চিন্তাবিদ। তিনি তার আত্ম-চেতনার দর্শনের মাধ্যমে উপমহাদেশের যুবসমাজের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন। ইকবাল মুসলিম উম্মাহকে তাদের গৌরবময় অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেন।
উদযাপন
[সম্পাদনা]এই দিনে পাকিস্তান ও ভারতের সমস্ত বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানে উর্দুর গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং ইকবালের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
- সেমিনার
- সিম্পোজিয়াম
- উর্দু ভাষাকে কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায় এবং অ-উর্দুভাষীদের কাছে পৌঁছানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা।
- মুশায়েরা (কবি সম্মেলন)
উর্দু কবি, লেখক এবং মাদ্রাসায় পুরস্কার বিতরণ
[সম্পাদনা]উর্দু ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, দিল্লি এবং কিছু জনকল্যাণমূলক সংস্থা এই দিনে উর্দু কবি, লেখক এবং মাদ্রাসায় পুরস্কার বিতরণ করে।[৩]
বিশ্ব উর্দু দিবসের তারিখ পরিবর্তনের দাবি
[সম্পাদনা]কিছু মানুষ উর্দুকে কেবল মুসলিমদের ভাষা হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, উর্দু অনুষ্ঠানে অমুসলিম উর্দু কবি, লেখক, শিক্ষক এবং উর্দু প্রেমীদের অবদানকে আরও বেশি করে তুলে ধরা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেস এবং অল ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব উর্দু টিচার্স অব কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয় যে, ৩১ মার্চ উর্দু দিবস পালন করা উচিত। এর কারণ হলো, এই দিনে পণ্ডিত দেব নারায়ণ পাণ্ডে এবং জয় সিং বাহাদুর উর্দুর অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন।
ইকবালের বিপরীতে এই দুই ব্যক্তি উর্দু কবি ছিলেন না। তারা ছিলেন 'উর্দু রক্ষাকারী দল'-এর সমর্থক, যারা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে উর্দুকে দ্বিতীয় দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে অনশন করেছিলেন। পাণ্ডে ২০ মার্চ ১৯৬৭ সালে কানপুরে কালেক্টরেট অফিসের সামনে অনশনে বসেন, আর জয় সিং লখনউতে বিধানসভার সামনে বিক্ষোভকারী দলের অংশ ছিলেন। পাণ্ডে ৩১ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন এবং এর কয়েকদিন পর জয় সিং-ও উর্দুর তরে প্রাণ বিসর্জন দেন।[৪]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ World Urdu Day, Urdu Day। "World Urdu Day"। ১২ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০২৩।
- ↑ Urdu, allama Iqbal। "Iqbal and Urdu"।
- ↑ 'World Urdu Day' Awards announced - Oneindia
- ↑ ‘Iqbal’s birthday shouldn’t be observed as Urdu Day’ | Mumbai News - Times of India