বিষয়বস্তুতে চলুন

বিশ্ব-ব্যবস্থাদি তত্ত্ব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
২০০০ সালে তথাকথিত বাণিজ্যিক মর্যাদা অনুযায়ী বিশ্বের দেশগুলির একটি মানচিত্র, যেখানে বিশ্ব ব্যবস্থাজনিত স্বতন্ত্রীকরণ পদ্ধতি অনুসারে দেশগুলিকে কেন্দ্রীয় (নীল), অর্ধ-প্রান্তিক (হলুদ) এবং প্রান্তিক (লাল) - এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। চেজ-ডান, কাওয়ানা ও ব্রুয়ার (২০০০)-এর তালিকার উপর ভিত্তি করে মানচিত্রটি অঙ্কন করা হয়েছে।[১]
১৯৬৫ সালে বাণিজ্য, সামরিক হস্তক্ষেপ, কূটনীতি ও চুক্তির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন 'খণ্ড'-তে রঙিন সংকেতে নির্দেশিত দেশগুলির একটি বিশ্ব মানচিত্র: [২]
  খণ্ড A
  খণ্ড B
  খণ্ড C & with dashed lines indicates colonies of Block C countries
  খণ্ড C'
  খণ্ড D
  খণ্ড D'
  খণ্ড E
  খণ্ড E'
  খণ্ড F
  খণ্ড F'

বিশ্ব-ব্যবস্থাদি তত্ত্ব (যা বিশ্ব-ব্যবস্থাদি বিশ্লেষণ বা বিশ্ব-ব্যবস্থাদি দৃষ্টিকোণ নামেও পরিচিত) বিশ্ব ইতিহাস ও সামাজিক পরিবর্তন গবেষণায় ব্যবহৃত একটি বহুমুখী পদ্ধতি যা জাতিরাষ্ট্র নয়, বরং বিশ্ব-ব্যবস্থাকে সামাজিক বিশ্লেষণের প্রাথমিক একক (তবে একচেটিয়া নয়) হিসেবে জোর দেয়।[৩] বিশ্ব-ব্যবস্থাদি তাত্ত্বিকরা যুক্তি দেন যে তাদের তত্ত্ব রাষ্ট্রের উত্থান-পতন, আয় বৈষম্য, সামাজিক অস্থিরতা ও সাম্রাজ্যবাদ সফলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।

"বিশ্ব-ব্যবস্থা" বলতে সেই আন্তঃআঞ্চলিক ও বহুজাতিক শ্রম বিভাজনকে বোঝায়, যা বিশ্বের দেশগুলিকে কেন্দ্রীয়, অর্ধ-প্রান্তিক এবং প্রান্তিক দেশে বিভক্ত করেছে।[৪] কেন্দ্রীয় দেশগুলির রয়েছে উচ্চতর দক্ষতা ও পুঁজিনিবিড় শিল্প। এর বিপরীতে বিশ্বের অবশিষ্ট অংশের বৈশিষ্ট্য হল দক্ষতার স্বল্পতা, শ্রমনিবিড় শিল্প এবং কাঁচামাল উত্তোলনের উপর জোর।[৫] এই ব্যবস্থাটিতে কেন্দ্রীয় দেশগুলির আধিপত্য ক্রমাগত শক্তিশালী হতে থাকে।[৫] কাঠামোটি শ্রম বিভাজনের দ্বারা একীভূত। এটি একটি বিশ্ব-অর্থনীতি যার শেকড় পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে নিহিত।[৬] বিশ্ব-ব্যবস্থা ভৌগোলিকভাবে সম্প্রসারিত এবং অর্থনৈতিকভাবে জোরালো হওয়ার সাথে সাথে কিছু সময়ের জন্য কিছু কিছু দেশ বিশ্বের একাধিপতিতে পরিণত হয়েছে। যেমন বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে, এই একাধিপতির মর্যাদা নেদারল্যান্ডস থেকে যুক্তরাজ্যের হাত ঘুরে সর্বশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গেছে।[৫]

বিশ্ব ব্যবস্থাদি তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা হলেন মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী ইমানুয়েল ওয়ালারস্টিন।[৭] বিশ্ব-ব্যবস্থাদি বিশ্লেষণের উপাদানগুলি হল ফরাসি ইতিহাসবিদ ফেরনঁ ব্রোদেলের প্রস্তাবিত লোঁগ দ্যুরে, জার্মান-মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ আন্ড্রে গুন্ডার ফ্রাঙ্কের "অনুন্নয়নের উন্নয়ন" এবং একক-সমাজ অনুমান।[৮] লোঁগ দ্যুরে হল দৈনন্দিন কার্যকলাপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ধারণা, যার মাধ্যমে সামাজিক ব্যবস্থাগুলি ক্রমাগত পুনরুৎপাদন করা হয়।[৮] "অনুন্নয়নের উন্নয়ন" ধারণাটি প্রান্তিক দেশগুলির অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াগুলিকে কেন্দ্রীয় দেশগুলির উন্নয়নের বিপরীত হিসাবে বর্ণনা করে। দরিদ্র দেশগুলি সেই কারণেই দরিদ্র থেকে যায়, যাতে কয়েকটি দেশ ধনী হতে পারে।[৮] পরিশেষে, একক-সমাজ অনুমান বহু-সমাজ অনুমানের বিরোধিতা করে এবং বিশ্বকে একটি সামগ্রিক একক হিসেবে দেখে।[৮]

সম্পর্কিত গবেষণা সাময়িকী

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ Chase-Dunn, Christopher; Kawano, Yukio (২০০০)। "Trade Globalization since 1795: Waves of Integration in the World-System": ৭৭–৯৫। ডিওআই:10.2307/2657290। আইএসএসএন 0003-1224। জেস্টোর 2657290। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য) See appendix with the country list ("Table A2"). Some countries with a population of less than one million were excluded from the analysis.
  2. ↑ Snyder, David; Kick, Edward L. (১ মার্চ ১৯৭৯)। "Structural Position in the World System and Economic Growth, 1955–1970: A Multiple-Network Analysis of Transnational Interactions": ১০৯৬–১১২৬। ডিওআই:10.1086/226902। আইএসএসএন 0002-9602। ৮ এপ্রিল ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২২। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  3. ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "IW" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. ↑ The dictionary of anthropology। Wiley-Blackwell। ১৯৯৮। পৃ. ৪৯৮–৪৯৯। আইএসবিএন ১-৫৭৭১৮-০৫৭-৭। ২৬ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৬।
  5. 1 2 3 Frank Lechner, Globalization theories: World-System Theory ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৩-০৪-২৯ তারিখে, 2001
  6. ↑ Wallerstein, Immanuel Maurice (২০০৪)। World-systems analysis: An introduction। Duke University Press। পৃ. ২৩–২৪।
  7. ↑ Chirot, Daniel; Hall, Thomas D. (১৯৮২)। "World-System Theory": ৮১–১০৬। ডিওআই:10.1146/annurev.so.08.080182.000501। আইএসএসএন 0360-0572। জেস্টোর 2945989। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  8. 1 2 3 4 Taylor, P. J. (২০১৮)। Political Geography: world-economy, nation-state, and locality (English ভাষায়) (7 সংস্করণ)। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮১১৩৮০৫৮২৬২। {{বই উদ্ধৃতি}}: |author1= অনুপস্থিত (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]


বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]