বিষয়বস্তুতে চলুন

বিশ্বতাত্ত্বিক ধ্রুবক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ল্যামডা-শীতল তমোপদার্থ প্রতিমানে মহাবিশ্বের কালানুক্রমের রূপরেখা। এই কালানুক্রমের শেষ এক-তৃতীয়াংশের ত্বরিত সম্প্রসারণ তমোশক্তি-প্রধান যুগকে নির্দেশ করে।

ভৌত বিশ্বতত্ত্বে বিশ্বতাত্ত্বিক ধ্রুবক একটি সহগ, যা আলবার্ট আইনস্টাইন প্রাথমিকভাবে সাধারণ আপেক্ষিকতার ক্ষেত্র সমীকরণে সংযোজন করেছিলেন। এজন্য এটি আইনস্টাইনের বিশ্বতাত্ত্বিক ধ্রুবক নামেও পরিচিত। এটিকে সাধারণত গ্রিক বড় হাতের ল্যামডা অক্ষর Λ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে আইনস্টাইন এটি পরিত্যাগ করলেও আরও পরে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত স্থানের শক্তিঘনত্ব বা শূন্যস্থানের শক্তি প্রকাশের জন্য পুনরায় ধ্রুবকটির প্রবর্তন হয়। এটি তমোশক্তির ধারণার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।[]

১৯১৭ সালে আইনস্টাইন[] মহাবিশ্বকে স্থির অবস্থায় ব্যাখ্যা করার জন্য মহাকর্ষের প্রভাবের প্রতিসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে এই ধ্রুবকটি প্রবর্তন করেন। সে সময় স্থির মহাবিশ্বের ধারণাই প্রচলিত ছিল। কিন্তু এডউইন হাবল মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ নিশ্চিত করার পর আইনস্টাইনের বিশ্বতাত্ত্বিক ধ্রুবকটি পরিত্যক্ত হয়।[] ১৯৩০-এর দশক থেকে ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ পর্যন্ত অধিকাংশ পদার্থবিজ্ঞানী মনে করতেন যে বিশ্বতাত্ত্বিক ধ্রুবকের মান শূন্য।[] ১৯৯৮ সালে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ যে ত্বরান্বিত হচ্ছে, তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর এই ধারণা পরিবর্তিত হয়। এই আবিষ্কার থেকে ইঙ্গিত মেলে যে বিশ্বতাত্ত্বিক ধ্রুবকের মান সম্ভবত ধনাত্মক।[]

১৯৯০-এর দশক থেকে পরিচালিত গবেষণাগুলিতে বেরিয়ে আসে যে বিশ্বতাত্ত্বিক নীতি সত্য হলে মহাবিশ্বের মোট ভর-শক্তি ঘনত্বের প্রায় ৬৮% তমোশক্তির কারণে ঘটে।[][][] বিশ্বতাত্ত্বিক ধ্রুবক Λ এই তমোশক্তির সবচেয়ে সরল ব্যাখ্যা এবং এটি ল্যামডা-শীতল তমোপদার্থ প্রতিমান নামে পরিচিত বিশ্বতত্ত্বের আদর্শ প্রতিমানে ব্যবহৃত হয়।

আধুনিক কণাপদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্ব অনুসারে, শূন্যস্থানকে শূন্যাবস্থা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়, যা বহুসংখ্যক কোয়ান্টাম ক্ষেত্রের সমষ্টি। এই ক্ষেত্রগুলির প্রত্যেকটিই তাদের ভূমি অবস্থায় (অর্থাৎ সর্বনিম্ন শক্তিঘনত্বে) সর্বত্র বিদ্যমান শূন্য-বিন্দু শক্তির কারণে কোয়ান্টাম ওঠানামা প্রদর্শন করে। তাত্ত্বিকভাবে এই শূন্য-বিন্দু ওঠানামাগুলির অবদান বিশ্বতাত্ত্বিক ধ্রুবক ল্যামডা-তে (Λ) প্রতিফলিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব গণনায় শূন্যস্থানের শক্তির মান অত্যন্ত বিশাল পাওয়া যায়।[] কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্ব থেকে প্রাপ্ত তাত্ত্বিক শূন্যস্থানের শক্তি এবং বিশ্বতত্ত্ব থেকে পর্যবেক্ষিত শূন্যস্থানের শক্তির মধ্যে এই বিপুল অমিল আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান অমীমাংসিত সমস্যা। কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্ব থেকে তাত্ত্বিকভাবে পূর্বাভাসকৃত মান বিশ্বতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ দ্বারা নির্ণীত মানের তুলনায় প্রায় ১০১২০ গুণ বেশি, যা "পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তাত্ত্বিক পূর্বাভাস" হিসেবে অভিহিত হয়েছে।[১০] এই সমস্যাটি বিশ্বতাত্ত্বিক ধ্রুবক সমস্যা নামে পরিচিত এবং এটি বিজ্ঞানের অন্যতম গভীর রহস্য। বহু পদার্থবিজ্ঞানীর মতে, "প্রকৃতিকে সম্পূর্ণরূপে বোঝার চাবিকাঠি শূন্যস্থানের মধ্যেই নিহিত।"[১১]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "CC Definition" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. Einstein (১৯১৭).
  3. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Rugh 2001 3" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Λ = 0?" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  5. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "1998 Discovery" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  6. Ellis, G. F. R. (২০০৯)। "Dark energy and inhomogeneity"Journal of Physics: Conference Series১৮৯ (1) 012011। বিবকোড:2009JPhCS.189a2011Eডিওআই:10.1088/1742-6596/189/1/012011এস২সিআইডি 250670331
  7. Colin, Jacques; Mohayaee, Roya; Rameez, Mohamed; Sarkar, Subir (২০ নভেম্বর ২০১৯)। "Evidence for anisotropy of cosmic acceleration"Astronomy and Astrophysics৬৩১: L১৩। আরজাইভ:1808.04597বিবকোড:2019A&A...631L..13Cডিওআই:10.1051/0004-6361/201936373এস২সিআইডি 208175643। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০২২
  8. Redd (২০১৩)
  9. Rugh ও Zinkernagel (২০০১), পৃ. 1
  10. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "CC Problem" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  11. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "CC Problem 3" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি

উৎসপঞ্জি

[সম্পাদনা]

মূল রচনাবলী

[সম্পাদনা]

গৌণ রচনাবলী: সংবাদ, জনপ্রিয় বিজ্ঞান নিবন্ধ ও গ্রন্থ

[সম্পাদনা]

গৌণ রচনাবলী: পর্যালোচনা নিবন্ধ, একক গবেষণাগ্রন্থ ও পাঠ্যপুস্তক

[সম্পাদনা]