বিষয়বস্তুতে চলুন

"ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
|প্রথমাংশ=
}}
</ref> দরিদ্র, আর্ত ও পীড়িত কখনওইকখনোই তার দ্বার থেকে শূন্য হাতে ফিরে যেত না। এমনকি নিজের চরম অর্থসঙ্কটের সময়ও তিনি ঋণ নিয়ে পরোপকার করেছেন‌। তার পিতামাতার প্রতি তাঁর ঐকান্তিক ভক্তি ও বজ্রকঠিন চরিত্রবল বাংলায় প্রবাদপ্রতিম। [[মাইকেল মধুসূদন দত্ত]] তাঁর মধ্যে দেখতে পেয়েছিলেন প্রাচীন ঋষির প্রজ্ঞা, ইংরেজের কর্মোদ্যম ও বাঙালি মায়ের হৃদয়বৃত্তি।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.anandabazar.com/editorial/an-article-on-ishwar-chandra-vidyasagar-1.1106143|শিরোনাম=বিদ্যাসাগরের অন্তরালে ঈশ্বরচন্দ্র|ওয়েবসাইট=anandabazar.com|সংগ্রহের-তারিখ=২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০}}</ref>
 
বাঙালি সমাজে বিদ্যাসাগর মহাশয় আজও এক প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। [[পশ্চিমবঙ্গ|পশ্চিমবঙ্গের]] [[পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা|পশ্চিম মেদিনীপুরে]] তার স্মৃতিরক্ষায় স্থাপিত হয়েছে [[বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়]]। রাজধানী [[কলকাতা|কলকাতার]] আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন [[বিদ্যাসাগর সেতু]] তারই নামে উৎসর্গিত।
 
== জীবনী ==
=== বংশ- পরিচয় ===
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষগণ অধুনা [[পশ্চিমবঙ্গ|পশ্চিমবঙ্গের]] [[হুগলি জেলা|হুগলি জেলার]] অন্তর্গত বনমালীপুর নামক গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।<ref name="ReferenceA">''বিদ্যাসাগর-জীবনচরিত ও ভ্রমনিরাশ'', শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন , বুকল্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড, কলিকাতা, ১৯৪৭ সাল, পৃ. ৪</ref><ref>''বিদ্যাসাগর'' (চতুর্থ সংস্করণ), শ্রীবিহারিলাল সরকার প্রণীত , শাস্ত্র-প্রকাশ কার্য্যালয় থেকে শ্রীহরিপদ চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত, কলিকাতা, ১৩২৯ বঙ্গাব্দ, পৃ. ১৪</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=বিদ্যাসাগরের ছেলেবেলা|শেষাংশ=মিত্র|প্রথমাংশ=ইন্দ্র|তারিখ=|বছর=প্রথম সংস্করণ ১৯৭১|প্রকাশক=আনন্দ পাবলিশার্স|অবস্থান=|পাতাসমূহ=৯৬|আইএসবিএন=978-81-7066-731-5}}</ref>
 
[[চিত্র:Bhagabati Devi.jpg|থাম্ব|ভগবতী দেবী, বিদ্যাসাগরের মাতা]]
[[চিত্র:বীরসিংহে ঈশ্বরচন্দ্রের বাড়ি-৩.jpg|থাম্ব|বীরসিংহ গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান]]
১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর (১২২৭ বঙ্গাব্দের ১২ আশ্বিন, মঙ্গলবার) [[ব্রিটিশ ভারত|ব্রিটিশ ভারতের]] [[বাংলা প্রেসিডেন্সি|বাংলা প্রেসিডেন্সির]] বীরসিংহ গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরবন্দ্যোপাধ্যায় শর্মা জন্মগ্রহণ করেন।<ref name="sahitya-akademi">{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ=লাল |প্রথমাংশ=মোহন |শিরোনাম=দি এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইন্ডিয়ান লিটারেচার |প্রকাশক=[[সাহিত্য অকাদেমি]] |বছর=২০০৬|পাতাসমূহ=৪৫৬৭–৪৫৬৯ |অধ্যায়=ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|ইউআরএল=http://books.google.co.in/books?id=KnPoYxrRfc0C&pg=PA4567 | আইএসবিএন=9788126012213}}</ref> এই গ্রামটি অধুনা [[ভারত|ভারতের]] [[পশ্চিমবঙ্গ]] রাজ্যের [[পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা|পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার]] অন্তর্গত হলেও, সেই যুগে ছিল [[হুগলি জেলা|হুগলি জেলার]] অন্তর্ভুক্ত।<ref>''বিদ্যাসাগর ও অন্যেরা'', আনিসুজ্জামান, পত্রভারতী (বইসাঁকো), কলকাতা, ২০২০ (ভারতীয়) সংস্করণ, পৃ. ১১</ref> ঈশ্বরচন্দ্রের পিতার নাম ছিল ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতার নাম ছিল ভগবতী দেবী। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের আদি নিবাস ছিল অধুনা হুগলি জেলার বনমালীপুর গ্রাম।<ref name="ReferenceA"/> ঈশ্বরচন্দ্রের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণ ছিলেন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে সুপণ্ডিত ব্যক্তি। তিনিই ঈশ্বরচন্দ্রের নামকরণ করেছিলেন। ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় [[কলকাতা|কলকাতায়]] স্বল্প বেতনের চাকরি করতেন। সেই কারণে ঈশ্বরচন্দ্রের শৈশব বীরসিংহেই তাঁর মা ও ঠাকুরমার সঙ্গে অতিবাহিত হয়। <ref name=":0" />
 
=== শিক্ষাজীবন ===
১৮২৮ সালের নভেম্বর মাসে পাঠশালার শিক্ষা সমাপ্ত করে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য পিতার সঙ্গে কলকাতায় আসেন। তাদের সঙ্গে কলকাতায় এসেছিলেন কালীকান্ত ও চাকর আনন্দরাম গুটিও। কথিত আছে, পদব্রজে মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় আসার সময় পথের ধারে মাইলফলকে ইংরেজি সংখ্যাগুলি দেখে তিনি সেগুলি অল্প আয়াসেই আয়ত্ত করেছিলেন। কলকাতার [[বড়বাজার (কলকাতা)|বড়বাজার]] অঞ্চলের বিখ্যাত সিংহ পরিবারে তারা আশ্রয় নেন। এই পরিবারের কর্তা তখন জগদ্দুর্লভ সিংহ। ১৮২৯ সালের ১ জুন সোমবার কলকাতা গভর্নমেন্ট [[সংস্কৃত কলেজ|সংস্কৃত কলেজে]] ( যা বর্তমানে  [[সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল]] নামে পরিচিত) ব্যাকরণের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই সংস্কৃত কলেজের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৮২৪ সালে; অর্থাৎ, ঈশ্বরচন্দ্রের এই কলেজে ভর্তি হওয়ার মাত্র পাঁচ বছর আগে। তার বয়স তখন নয় বছর। এই কলেজে তার সহপাঠী ছিলেন [[মদনমোহন তর্কালঙ্কার]]। বিদ্যাসাগরের আত্মকথা থেকে জানা যায়, মোট সাড়ে তিন বছর তিনি ওই শ্রেণিতে অধ্যয়ন করেন।
 
ব্যাকরণ পড়ার সময় ১৮৩০ সালে সংস্কৃত কলেজের ইংরেজি শ্রেণিতেও ভর্তি হন ঈশ্বরচন্দ্র। ১৮৩১ সালের মার্চ মাসে বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতীত্বেরকৃতিত্বের জন্য মাসিক পাঁচ টাকা হারে বৃত্তি এবং ‘আউট স্টুডেন্ট’ হিসেবে একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ ও আট টাকা পারিতোষিক পান। সংস্কৃত কলেজে মাসিক বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রদের ‘পে স্টুডেন্ট’ ও অন্য ছাত্রদের ‘আউট স্টুডেন্ট’ বলা হত। অন্যদিকে তিন বছর ব্যাকরণ শ্রেণিতে পঠনপাঠনের পর বারো বছর বয়সে প্রবেশ করেন কাব্য শ্রেণিতে। সে যুগে এই শ্রেণির শিক্ষক ছিলেন বিশিষ্ট পণ্ডিত [[জয়গোপাল তর্কালঙ্কার]]। ১৮৩৩ সালে ‘পে স্টুডেন্ট’ হিসেবেও ঈশ্বরচন্দ্র ২ টাকা পেয়েছিলেন। ১৮৩৪ সালে ইংরেজি ষষ্ঠশ্রেণির ছাত্র ঈশ্বরচন্দ্র বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য ৫ টাকা মূল্যের পুস্তক পারিতোষিক হিসেবে পান। এই বছরই ক্ষীরপাই নিবাসী শত্রুঘ্ন ভট্টাচার্যের কন্যা দীনময়ী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ হয়।
 
১৮৩৫ সালে ইংরেজি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রূপে ''পলিটিক্যাল রিডার নং ৩'' ও ''ইংলিশ রিডার নং ২'' পারিতোষিক পান। এই বছরই নভেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ থেকে ইংরেজি শ্রেণি উঠিয়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বর্ষে সাহিত্য পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে পনেরো বছর বয়সে প্রবেশ করেন অলংকার শ্রেণিতে। অলংকার শাস্ত্র একটি অত্যন্ত কঠিন বিষয়। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই তিনি ''সাহিত্য দর্পণ'', ''কাব্যপ্রকাশ'' ও ''রসগঙ্গাধর'' প্রভৃতি অলংকার গ্রন্থে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
১৮৩৬ সালে অলংকার পাঠ শেষ করেন। বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে ''[[রঘুবংশম্]]'', ''সাহিত্য দর্পণ'', ''কাব্যপ্রকাশ'', ''রত্নাবলী'', ''মালতী মাধব'', ''[[উত্তর রামচরিত]]'', ''[[মুদ্রারাক্ষস]]'', ''[[বিক্রমোর্বশী]]'' ও ''[[মৃচ্ছকটিক]]'' গ্রন্থ পারিতোষিক পান। ১৮৩৭ সালের মে মাসে তার ও মদনমোহনের মাসিক বৃত্তি বেড়ে হয় আট টাকা।
 
এই বছরই ঈশ্বরচন্দ্র স্মৃতি শ্রেণিতে ভর্তি হন (এই অংশের সমতুল্য আজকের [[সংস্কৃত কলেজ]]-র পঠন)। সেই যুগে স্মৃতি পড়তে হলে আগে বেদান্ত ও ন্যায়দর্শন পড়তে হত। কিন্তু ঈশ্বরচন্দ্রের মেধায় সন্তুষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে সরাসরি স্মৃতি শ্রেণিতে ভর্তি নেন। এই পরীক্ষাতেও তিনি অসামান্য কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন এবং হিন্দু ল কমিটির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। [[ত্রিপুরা|ত্রিপুরায়]] জেলা জজ পণ্ডিতের পদ পেয়েও পিতার অনুরোধে তা প্রত্যাখ্যান করে ভর্তি হন বেদান্ত শ্রেণিতে। শম্ভুচন্দ্র বাচস্পতি সেই সময় বেদান্তের অধ্যাপক। ১৮৩৮ সালে সমাপ্ত করেন বেদান্ত পাঠ। এই পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ''[[মনুসংহিতা]]'', ''প্রবোধ চন্দ্রোদয়'', ''অষ্টবিংশতত্ত্ব'', ''দত্তক চন্দ্রিকা'' ও ''দত্তক মীমাংসা'' গ্রন্থ পারিতোষিক পান। সংস্কৃতে শ্রেষ্ঠ গদ্য রচনার জন্য ১০০ টাকা পুরস্কারও পেয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র। ১৮৪০-৪১ সালে ন্যায় শ্রেণিতে পঠনপাঠন করেন ঈশ্বরচন্দ্র। এই শ্রেণিতে দ্বিতীয় বার্ষিক পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে তিনি পারিতোষিক পান। ন্যায় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ১০০ টাকা, পদ্য রচনার জন্য ১০০ টাকা, দেবনাগরী হস্তাক্ষরের জন্য ৮ টাকা ও বাংলায় [[ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি|কোম্পানির]] রেগুলেশন বিষয়ক পরীক্ষায় ২৫ টাকা-সর্বসাকুল্যে ২৩৩ টাকা পারিতোষিক পেয়েছিলেন। বিদ্যাসাগর '''<nowiki/>'ঈশ্বরচন্দ্র শর্ম্মাশর্মা'''' নামে স্বাক্ষর করতেন৷
 
=== বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ ===
জন্ম গ্রহণজন্মগ্রহণ কালে তার পিতামহ তার বংশানু্যায়ী নাম রেখেছিলেন "ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়"। ১৮৩৯ সালের ২২ এপ্রিল হিন্দু ল কমিটির পরীক্ষা দেন ঈশ্বরচন্দ্র। এই পরীক্ষাতেও যথারীতি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ১৬ মে ল কমিটির কাছ থেকে যে প্রশংসাপত্রটি পান, তাতেই প্রথম তার নামের সঙ্গে 'বিদ্যাসাগর' উপাধিটি ব্যবহৃত হয়। এই প্রশংসাপত্রটি ছিল নিম্নরূপ :
 
{{Quote box
১৪৭টি

সম্পাদনা