বিষয়বস্তুতে চলুন

জওহরলাল নেহেরু: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

এই ব্যক্তির নামের বানান হিসেবে বাংলায় "নেহেরু" বানান অধিক প্রচলিত।
(আফতাবুজ্জামান জওহরলাল নেহ্‌রু কে জওহরলাল নেহেরু শিরোনামে স্থানান্তর করেছেন)
(এই ব্যক্তির নামের বানান হিসেবে বাংলায় "নেহেরু" বানান অধিক প্রচলিত।)
{{Infobox Prime Minister
|name = পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুনেহেরু
|image = Jnehru.jpg
|caption = ১৯৪৭ পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুনেহেরু
|imagesize = 200px
|birth_date = {{জন্ম তারিখ|1889|11|14|df=y|bn=yes}}
<!-- Do not add flag icons to place of birth/death, per [[Wikipedia:Don't overuse flags]] -->
|birth_place = [[এলাহাবাদ]], ([[ব্রিটিশ ভারত]])
|death_date = {{মৃত্যু তারিখ ও বয়স|1964|05|27|1889|11|14|bn=yes}}
|children = [[ইন্দিরা গান্ধী]]
}}
'''পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুনেহেরু''' ({{lang-hi|जवाहरलाल नेहरू}} ''জাভ়াহার্‌লাল্‌ নেহ্‌রু''; [[আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা|আ-ধ্ব-ব]]: [dʒəvaːhərlaːl nehruː]) ([[১৪ই নভেম্বর]], ১৮৮৯—[[২৭শে মে]], ১৯৬৪) [[ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস|ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের]] রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং [[ভারত|স্বাধীন ভারতের]] প্রথম [[ভারতের প্রধানমন্ত্রী|প্রধানমন্ত্রী]]। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, আদর্শবাদী, পণ্ডিত এবং কূটনীতিবিদ নেহরুনেহেরু ছিলেন একজন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। লেখক হিসেবেও নেহরুনেহেরু ছিলেন বিশিষ্ট। ইংরেজিতে লেখা তার তিনটি বিখ্যাত বই- 'একটি আত্মজীবনী' (An Autobiography), 'বিশ্ব ইতিহাসের কিছু চিত্র' (Glimpses of World History), এবং 'ভারত আবিষ্কার' (The Discovery of India) চিরায়ত সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করেছে।
 
তার পিতা [[মতিলাল নেহেরু]] একজন ধনী ব্রিটিশ ভারতের নামজাদা ব্যারিস্টার ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর তত্ত্বাবধানে নেহেরু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তীকালে তার মেয়ে [[ইন্দিরা গান্ধী]] ও দৌহিত্র [[রাজীব গান্ধী]] ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
[[মহাত্মা গান্ধী|গান্ধীর]] দর্শন ও নেতৃত্ব জওহরলাল নেহেরুকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। এর আগে গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকার চুক্তিবদ্ধ ভারতীয় শ্রমিকদের এক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ভারতে ফিরে গান্ধী চাম্পারান ও খেদাতে কৃষক ও মজুরদের ব্রিটিশ সরকারের চাপিয়ে দেওয়া ট্যাক্সের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য সংগঠিত করেন। গান্ধীর নীতি ছিল ''সত্যাগ্রহ'' ও ''অহিংসা''। চাম্পারান আন্দোলনের সময় নেহেরু গান্ধীর সাথে পরিচিত হন এবং তাকে সাহায্য করেন।
 
[[চিত্র:Nehru Gandhi 1937.jpg|right|thumb|মহাত্মা গান্ধীর সাথে নেহরুনেহেরু (বামে), ১৯৩৭]]
[[চিত্র:Jawaharlal Nehru Signature.svg|thumb|নেহেরুর স্বাক্ষর]]
মহাত্মা গান্ধীর প্রভাবে নেহেরু পরিবার তাদের ভোগ-বিলাসের জীবন ত্যাগ করেন। তখন থেকে নেহেরু খাদির তৈরি কাপড় পড়তেন। গান্ধীর প্রভাবে নেহেরু ভগবত [[গীতা]] পাঠ এবং যোগ-ব্যায়াম শুরু করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও গান্ধীর কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন এবং গান্ধীর সাথেই বেশির ভাগ সময় কাটাতেন। একজন বিশিষ্ট সংগঠক হিসেবে নেহেরু উত্তর ভারতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেন, বিশেষ করে [[যুক্ত প্রদেশ]], [[বিহার]] ও কেন্দ্রীয় প্রদেশগুলোতে। পিতা মতিলাল ও গান্ধী গ্রেফতার হবার পর নেহেরু তার মা ও বোনদের সহ কয়েক মাস কারাবরণ করেন। গান্ধী ঐ সময় কারাগারে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ১৯২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চৌরিচৌরাতে বাইশজন পুলিশকে বিদ্রোহীরা হত্যা করলে গান্ধী এহেন হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিবাদে গান্ধী অনশন ত্যাগ করেন। এ ঘটনার পরে মতিলাল নেহেরু কংগ্রেস ছেড়ে স্বরাজ পার্টিতে যোগ দেন, যদিও নেহেরু গান্ধীর সাথে কংগ্রেসে থেকে যান।
 
== মৃত্যু ==
১৯৬২ সালের ১ম [[ভারত-চীন যুদ্ধ|ভারত-চীন যুদ্ধের]] পরে নেহরুনেহেরু অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং [[কাশ্মীর|কাশ্মীরে]] কিছুদিন বিশ্রাম নেন। ১৯৬৪ সালের মে মাসে কাশ্মীর থেকে ফেরার পরে নেহরুনেহেরু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অবশেষে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে নেহেরু তার কার্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
 
== তথ্যসূত্র ==