বিষয়বস্তুতে চলুন

"উইকিপিডিয়া:খেলাঘর ২" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট: স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার করেছে
(সৌদি খেজুর!, বানান সংশোধন, রচনাশৈলী)
(বট: স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার করেছে)
ট্যাগ: প্রতিস্থাপিত হাতদ্বারা প্রত্যাবর্তন
{{খেলাঘর}}<!-- অনুগ্রহপূর্বক এই লাইনটি অপসারণ করবেন না -->
{{খেলাঘর}}<!-- অনুগ্রহপূর্বক এই লাইনটি অপসারণ করবেন না -->মানুষ প্রকৃতির সন্তান। তাইতো,অস্তিত্ব রক্ষার্থে পৃথিবীর পরিবেশের সাথে মানিয়ে তার সান্নিধ্যে থাকতে হয়। যান্ত্রিক এই যুগে মানুষ বারবার তা ভুলে যায়। করোনা কালে প্রায় সবার মনোজগতে প্রকৃতি প্রেম জাগ্রত। ধনী-গরিব-মধ্যবিত্ত অনেককে অবরুদ্ধতার মাঝে গাছ ও গৃহপালিত প্রানিদের পরিচর্যা করতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, সব সময় মানুষের সংস্পর্শে থাকা বিখ্যাত তারকা খচিত মানুষ, বর্তমানে সঙ্গনিরোধ জীবনে, জীবের সান্নিধ্যে থাকার জন্য মরিয়া। তাইতো, তাঁদের অধিকাংশ এখন গাছ-পালা পরিচর্যায় ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁদের হাতের সংস্পর্শে ফুল ফলে ভরে উঠছে গাছগুলো, সৌখিন বৃক্ষ প্রেমিদের খবর ফলাও করে প্রকাশিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্র-পত্রিকাতে..,সাধারন মানুষও ব্যতিক্রম নয়, তাদের খবর কয়জনে বা রাখে..!
 
আমার বাবা, একজন নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। তার বিচরণ ছিলো বাড়ি আর অফিস। অবসর সময়ে মনোযোগ দিয়ে, টিভি দেখা, পত্রিকা পড়া, সংবাদ শোনা…,একসময় রেডিও ছিলো তাঁর নিত্যসঙ্গী। বৃক্ষের প্রতি তার প্রেম অতুলনীয়, মাঝে মধ্যে গাছের প্রতি বাবার অতি ভালোবাসা দেখে সন্তান হিসেবে হিংসা হতো কিন্তু কখন যেন মনের অজান্তেই বাবার এই বৃক্ষপ্রেম মনের মাঝে সঞ্চালিত হয়। তিঁনি সৌদি খেজুরের আটি (বীজ) হতে চারা উৎপাদনে ব্যর্থ হয়েছিলেন বারবার। আমরাও যেমনি পয়সা পুঁতে জল-পানি দিয়ে কত সাধনা করেছি পয়সার গাছের অপেক্ষায় ! তাইতো শিশুকালে, কাঁটাওয়ালা নিরস খটখটে খেজুর গাছ দেখে, অবাক বিস্ময় ভাবনা হতো, এমন একটি গাছ হতে কেমন করে সুমিষ্ট রস হয়। আবার তা জ্বাল দিলে গুড় হয়। এর আবিষ্কারকই বা কে ! এখনো তা অজানা ! সম্ভবত কোন অখ্যাত কৃষক হবেন..!
 
বাড়ির গৃহকর্মী অমেলার মা আমাদের চড়ক পূজার সময় কাঁটাওয়ালা খেজুর গাছে ও আগুনের উপরে সন্যাসীদের নাচানাচি দেখাতে নিয়ে যেত, যা এখনও বিস্ময়কর ঘটনা। মথু নামের এক দলিত সম্প্রদায়ের বাল্যবন্ধু সেই গাছের খেজুর গোপনে দিয়ে বলতো, ‘এটা খেলে অনেক শক্তি হবে’ সেই ভরসায় মথুর সাথে কালী সাধনা করতে, আমাবস্যার রাতে শ্মশানে.., থাক সে প্রসঙ্গ-
 
স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য কারণে, যে বিষয়টি মাথায় ঢোকে তা অতি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়। সেই কারণে হয়তো অধিকাংশের বিরক্তির কারণ হয় । তাই, কিছু বিষয় যেমন জীবনে ঝড়ের মতো আসে ঢেউয়ের মতো চলে যায়। কিন্তু বৃক্ষপ্রেম অমলিন। ব্যতিক্রমধর্মী বৃক্ষের বীজ ও চারা সংগ্রহের জন্য স্থান-কাল-পাত্র কিছুই মাথায় থাকে না । সেই কারণে, সফরসঙ্গীদের অনেক সময় বিরক্তির কারণ হতে হয়।
 
যে মানুষগুলো সত্যই বৃক্ষকে ভালোবাসে, তাদের প্রতি আপন মহিমায় অকৃত্রিম প্রেম জাগ্রত হয় ! তাইতো, সারাজীবন নীলার জন্য নীল পদ্ম খুঁজতে খুঁজতে হয়রান কিন্তু তা অজানাই থেকে গেল তার কাছে ! এখনো নীল পদ্ম খোঁজা অব্যাহত আছে। একদিন দুজনে রিক্সা চড়ে ঘোরার পথে দৃশ্যমান হয়, সেই অমূল্য রতন ! নীল পদ্মের মতোই অনেকটা, এক জলাশয়ে ফুটে আছে ! কাদা মাটি মেখে তা সংগ্রহ। সঙ্গীনিটি অত্যন্ত সৌখিন ও খুঁতখুঁতে স্বভাবের। তাঁর কাপড়-গায়ে-পায়ে মনের অজান্তে কাদায় মাখামাখি। রাগের বদলে সে, হেসেই কুটিকুটি..!
 
কোথায় যেন পড়েছিলাম। এক যুবক পরিবারের সমস্ত সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনে জীবিকার সন্ধানে, সৌদি আরব গমন করেন। সেখানে, সুবিধা করতে না পেরে দেশে চলে আসেন। বিদেশ হতে কিছুই আনার সামর্থ্য ছিলোনা। তবে, ব্যতিক্রমধর্মী স্বপ্নের বীজ বুনে, যুবকটি হাফ-বস্তা খেজুরের বীজ সঙ্গে আনে ! তার বাবা ছেলেটিকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, আর বীজগুলি ফেলে দেন গরুর গোবরের ভাগাড়ে। কিছুদিন পর তা হতে প্রকৃতিগত ভাবে, চারা গজাতে থাকে। পরবর্তীতে যুবকটি সেই সৌদি খেজুর গাছ হতেই স্বাবলম্বী হয়।
 
খবরটি পড়ার পর হতে প্রতি রমজানে, খেজুরের বীজ গুলি যত্ন করে রোপন করি কিন্তু ফলাফল শূন্য…! এবার করোনা কালে, অতি দুঃখের মাঝে আশার সঞ্চার হয়। অনেক দিনের সাধনা পূর্ণ হলো। বেশ কয়টি খেজুরের বীজ হতে চারা হয়েছে। জানিনা এগুলো বৃক্ষতে রূপান্তরিত হবে কিনা। হলেও ফল ধরবে কিনা। ধরলেও তা দেখে যাবার সুযোগ হবে কিনা। যেভাবে মানুষ এখন করোনাতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাতে, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সব সাদা-কালো…! তবে, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামত এসে গেছে, এমন অবস্থায় তোমাদের কারো হাতে যদি ছোট একটি খেজুরগাছ থাকে, তাহলে সে যেন গাছটি রোপণ করে দেয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৯০২; আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৪৭৯; মুসনাদে বাজজার, হাদিস: ৭৪০৮)। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত; বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করতে অনেকবার নির্দেশনা দিয়েছেন মহানবী (সা.)।
৯৬,৩১৮টি

সম্পাদনা