বিষয়বস্তুতে চলুন

পদ্মা সেতু: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্প্রসারণ
(সম্প্রসারণ)
(সম্প্রসারণ)
|Cost = {{BDTConvert|30193|c}} <ref>https://www.thedailystar.net/backpage/padma-bridge-cost-rises-again-1593706</ref>
}}
'''পদ্মা সেতু''' বাংলাদেশের [[পদ্মা নদী|পদ্মা]] নদীর উপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে [[লৌহজং উপজেলা|লৌহজং]], [[মুন্সিগঞ্জ জেলা|মুন্সিগঞ্জের]] সাথে [[শরিয়তপুর জেলা|শরিয়তপুর]] ও [[মাদারীপুর জেলা|মাদারীপুর]] যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির (truss bridge) ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। [[পদ্মা নদী|পদ্মা]]-[[ব্রহ্মপুত্র নদ|ব্রহ্মপুত্র]]-[[মেঘনা নদী|মেঘনা]] নদীর আববাহিকায় ১৫০মিটার দৈর্ঘ্যর ৪১টি স্পান বসবে, ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় সেতু।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.prothomalo.com/bangladesh/article/391645/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81 |শিরোনাম=বাস্তবের পথে পদ্মা সেতু |শেষাংশ=প্রথম আলো |তারিখ=৮ ডিসেম্বর ২০১৪ |সংগ্রহের-তারিখ=৮ ডিসেম্বর ২০১৪}}</ref> সরকারের পরিকল্পনামাফিক ২০২০ সালের শেষের দিকে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ।<ref name="gla">{{সংবাদ উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.banglatribune.com/national/news/216879/%25E0%25A6%258F%25E0%25A6%2595-%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%259C%25E0%25A6%25B0%25E0%25A7%2587-%25E0%25A6%25AA%25E0%25A6%25A6%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25BE-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%25A4%25E0%25A7%2581 |শিরোনাম=এক নজরে পদ্মা সেতু |তারিখ=2018-05-18 |কর্ম=Bangla Tribune |সংগ্রহের-তারিখ=2018-05-24 |ভাষা=bn}}</ref> পদ্মা সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি জানিয়েছে, পদ্মা সেতু যান চলাচলের উপযোগী হতে ২০২২ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত লেগে যাবে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.bbc.com/bengali/news-55251316|শিরোনাম=পদ্মা সেতুতে বসেছে সর্বশেষ স্প্যান, গাড়ি চলবে কবে?|কর্ম=BBC News বাংলা|সংগ্রহের-তারিখ=2020-12-10|ভাষা=bn}}</ref>
 
প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে- মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট/উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা/দক্ষিণ পাড়)। এটির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণকৃত মোট জমির পরিমাণ ৯১৮ হেক্টর। নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ভাড়ার ভিত্তিতে আগামী ছয় বছরে অধিযাচন করা হবে।
 
== নির্মাণের ইতিহাস ==
২০১৬-১৭ সালে প্রকল্প প্রস্তুতির সাথে যুক্ত কিছু লোকের দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় বিশ্বব্যাংক তার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নেয় এবং অন্যান্য দাতারা সেটি অনুসরণ করে। এই ঘটনায় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় ও সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে জেলেও যেতে হয়েছিল। পরবর্তীতে এমন কোনও অভিযোগ প্রমাণ না পাওয়ায় কানাডিয়ান আদালত মামলাটি বাতিল করে দেয়। দুর্নীতি অভিযোগ পরবর্তীতে আদালতে খন্ডিত হয়। বর্তমানে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে।<ref name="com">{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/732298/%25E0%25A6%25AA%25E0%25A6%25A6%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25BE-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%25A4%25E0%25A7%2581-%25E0%25A6%25B9%25E0%25A6%259A%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%259B%25E0%25A7%2587-%25E0%25A6%2596%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%259A%25E0%25A6%2593-%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%25BE%25E0%25A7%259C%25E0%25A6%259B%25E0%25A7%2587 |শিরোনাম=পদ্মা সেতু হচ্ছে, খরচও বাড়ছে |ওয়েবসাইট=প্রথম আলো |ভাষা=bn |সংগ্রহের-তারিখ=2018-10-21}}</ref> AECOM এর ডিজাইনে পদ্মা নদীর উপর বহুমুখী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প 'পদ্মা বহুমুখী সেতুর' নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। মূল প্রকল্পের পরিকল্পনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট। সে সময় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্প পাস করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর ব্যয় আরও আট হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। ফলে পদ্মা সেতুর ব্যয় দাঁড়িয়েছে সব মিলিয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।<ref>https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1463076/</ref> বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বাসেক) ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের জন্য প্রাক যোগ্যতা দরপত্র আহবান করে। প্রথম পরিকল্পনা অনুসারে, ২০১১ সালের শুরুর দিকে সেতুর নির্মাণ কাজ আরম্ভ হওয়ার কথা ছিল<ref name="independent">{{সংবাদ উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.independent-bangladesh.com/2010120312125/country/funds-for-pawdda-bridge-arranged.html |শিরোনাম=Funds for Pawdda Bridge Arranged |তারিখ=4 December 2010 |কর্ম=Bangladesh News |সংগ্রহের-তারিখ=5 January 2011 |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20180205000834/http://www.independent-bangladesh.com/2010120312125/country/funds-for-pawdda-bridge-arranged.html |আর্কাইভের-তারিখ=৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ |অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ}}</ref> এবং ২০১৩ সালের মধ্যে প্রধান কাজগুলো শেষ হওয়ার কথা ছিল।<ref name="roadtraffic">{{সংবাদ উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.roadtraffic-technology.com/news/news103350.html |শিরোনাম=ADB Approves Loan for Bangladesh Bridge Project |তারিখ=30 November 2010 |সংগ্রহের-তারিখ=5 January 2011 |প্রকাশক=roadtraffic-technology.com}}{{Unreliable source?|reason=domain on WP:BLACKLIST|date=June 2016}}</ref> প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে- মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট/উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা/দক্ষিণ পাড়)। এটির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণকৃত মোট জমির পরিমাণ ৯১৮ হেক্টর।
 
=== প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ===
=== কর্মপরিকল্পনা ===
পদ্মা সেতুর ভৌত কাজকে মূলত পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে যথা— মূল সেতু, নদী শাসন, জাজিরা অ্যাপ্রোচ রোড, টোল প্লাজা ইত্যাদি। মাওয়া অ্যাপ্রোচ রোড, টোল প্লাজা ইত্যাদি এবং মাওয়া ও জাজিরা সার্ভিস এরিয়া। প্রকল্পে নিয়োজিত ডিজাইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মনসেল-এইকম’ ভৌত কাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রিকোয়ালিফিকেশন বিড ডকুমেন্ট প্রস্তুত, টেন্ডার আহ্বানের পর টেন্ডার ডকুমেন্ট মূল্যায়ন, টেন্ডার কমিটিকে সহায়তাসহ এ-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল ডিজাইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারক করত। ভৌত কাজের বিভিন্ন প্যাকেজের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি।
 
=== নদীশাসন ===
প্রথম দিকে পদ্মা নদীর তলদেশের মাটি খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয় সেতু নির্মাণকারী প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের। তলদেশে স্বাভাবিক মাটি পাওয়ার যায়নি। সেতুর পাইলিং কাজ শুরুর পরে সমস্যা দেখা যায়। প্রকৌশলীরা নদীর তলদেশে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় মাটি বদলে নতুন মাটি তৈরি করে পিলার গাঁথার চেষ্টা করে। স্ক্রিন গ্রাউটিং নামের এই পদ্ধতিতেই বসানো হয় পদ্মাসেতু। এরকম পদ্ধতির ব্যবহারের নমুনা বিশ্বে তেমন একটা নেই। এ প্রক্রিয়ায় ওপর থেকে পাইপের ছিদ্র দিয়ে কেমিক্যাল নদীর তলদেশে পাঠিয়ে মাটির শক্তিমত্তা বাড়ানো হয়েছে। তারপর ওই মাটিতে গেঁথে দেওয়া হয়েছে পিলার। এমন পদ্ধতির প্রয়োগ বাংলাদেশে এই প্রথম। গোটা বিশ্বেও এই পদ্ধতি প্রয়োগের নজির খুব একটা নেই। এ পদ্ধতিতে পাইলের সঙ্গে স্টিলের ছোট ছোট পাইপ ওয়েল্ডিং করে দেওয়া হয়।  পাইপের ভেতর দিয়ে এক ধরনের কেমিক্যাল পাঠিয়ে দেওয়া হয় নদীর তলদেশের মাটিতে। কেমিক্যালের প্রভাবে তখন তলদেশের সেই মাটি শক্ত রূপ ধারণ করে। একপর্যায়ে সেই মাটি পাইলের লোড বহনে সক্ষম হয়ে ওঠে। তখন আর পাইল বসাতে কোনো বাধা থাকে না।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://sarabangla.net/post/sb-377553/|শিরোনাম=পদ্মার তলে মাটি বদলে যেভাবে দাঁড়ালো পিলার, জানালেন জামিলুর রেজা|তারিখ=2020-01-17|ওয়েবসাইট=Sarabangla {{!}} Breaking News {{!}} Sports {{!}} Entertainment|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2020-12-10}}</ref>
 
=== অর্থনৈতিক গুরুত্ব ===
 
==পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সংক্ষিপ্তসার==
 
;নকশা: পদ্মা বহুমুখী সেতুর সম্পূর্ণ নকশা এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল তৈরি করে। পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অর্থায়নে তৈরি হয়েছে।
=== নকশা ===
;নকশা: পদ্মা বহুমুখী সেতুর সম্পূর্ণ নকশা এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল তৈরি করে। পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অর্থায়নে তৈরি হয়েছে।:
 
=== নির্মাণব্যয় ===
বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।।
 
=== স্প্যান বসানোর সময়ক্রম ===