বিষয়বস্তুতে চলুন

মাটি: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

২৫,৫০৪ বাইট বাতিল হয়েছে ,  ৩ বছর পূর্বে
(0টি উৎস উদ্ধার করা হল ও 1টি অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হল। #IABot (v2.0beta14))
 
== মাটির গুণাগুণ ==
পৃথিবী পৃষ্ঠের যে অংশ থেকে উদ্ভিদ খাদ্য সংগ্রহ করে তাই মাটি। পুকুরের পানি সংলগ্ন ১৫-২০ সেমি. মাটি পানির সাথে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিয়ে থাকে। মাটি ও পানির গুণাগুণের ওপরই মাছের উৎপাদন প্রাথমিকভাবে নির্ভর করে। কোন জলাশয়ের পানি ধারণের আধার হলো মাটি। ভাল মাটিতে যেমন ভাল ফসল হয় ঠিক তেমনি ভাল মাটির পুকুরেও মাছের ভাল উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। জলাশয়ের উৎপাদন ক্ষমতা প্রাথমিকভাবে মাটির ধরনের ওপর নির্ভর করে। উর্বর মাটিতে খনন করা পুকুরে সাধারণভাবে মাছের উৎপাদনও ভাল হয়। উর্বর মাটির পুকুর মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির জন্য অধিক পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেয়। সুতরাং মাছ চাষে মাটির গুণাগুণের গুরুত্ব অপরিসীম।
 
মাছ চাষের ক্ষেত্রে মাটি ও পানির ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণ অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে। মাছ তার জীবন ধারণের সব কাজ পুকুর-জলাশয়ের পানির মধ্যেই সম্পন্ন করে থাকে। এসব কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পুকুরের বা জলজ পরিবেশের বিভিন্ন গুণাবলী যথাযথ মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন।
 
কোন জলাশয়ের পানি ধারণের আধার হলো মাটি। মাটিতে বিদ্যমান বিভিন্ন উপাদান পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ কোন জলাশয়ের উৎপাদন ক্ষমতা প্রাথমিকভাবে ঐ জলাশয়ের মাটির ধরনের ওপর নির্ভর করে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লাভজনকভাবে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জলজ পরিবেশ এবং পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমিত প্রাচুর্যতা। পানির প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রধানত মাটির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ তথা মাটির উর্বরতার ওপর নির্ভর করে।
 
পুকুরের মাটির গুণাগুণ যথাযথ মাত্রার না হলে নিম্নরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারেঃ:
 
মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদিত হবে না;
বাহির থেকে দেয়া সম্পূরক খাদ্যের অপচয় হবে;
মাছের বৃদ্ধি আশানুরূপ হবে না;
মাছ রোগ বালাই-এ আক্রান্ত হবে ও মারা যেতে পারে;
মাছের উৎপাদন কম হবে।
 
মাটি হলো ভূপৃষ্ঠের উপরিতলের নরম খনিজ এবং জৈব উপাদানের মিশ্রণ যা উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মাটি প্রধানতঃ ৪ টি প্রধান উপাদান সমন্বয়ে গঠিত। এগুলো নিচে উল্লিখিত হলোঃ
 
বায়ু - ২৫ %;
পানি - ২৫%;
 
সুতরাং মাটি কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় এই তিন ধরণের পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত। নিচে মাটির বিভিন্ন উপাদানের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলোঃ
 
খনিজ পদার্থ
জৈব পদার্থ
মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ যে কোন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি অপরিহার্য উপাদান। জৈব পদার্থ পুকুরের তলায় মাটিকে সজীব ও সক্রিয় রাখে এবং পানি চুয়ানো বন্ধ করে মাটির পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে। জৈব পদার্থ ফরফরাস ও নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস। জলজ পরিবেশে জৈব পদার্থ আবহাওয়া থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন ধারণ করে।
 
অতিরিক্ত মাত্রায় জৈব পদার্থ পানির পিএইচ কমিয়ে দিয়ে পানি দূষিত করে। আবার কখনও দূষণ দূর করতে জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা হয়। ডুবন্ত কণার কারণে পানি ঘোলা হলে জৈব পদার্থ প্রয়োগে তা দূর করা যায়। পুকুর বা জলাশয়ের মাটিতে সাধারণভাবে শতকরা ১.০-২.০ ভাগ জৈব কার্বন থাকলে পানির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
 
নিচের ছকে পুকুরের মাটির বিভিন্ন গুণাগুণের অনুকূল মাত্রা দেয়া হলো-
মাটির গুণাগুণের নাম অনুকূল মাত্রা
পিএইচ ৬.৫-৯.০
জৈব কার্বন ১.৫-২০%
জৈব পদার্থ ২.৫-৪.৩ (মি.গ্রা./১০০গ্রা.)
নাইট্রোজেন ৮-১০ মি.গ্রা./১০০গ্রা.
ফসফরাস ১০-১৫ মি. গ্রা./১০০গ্রা.
 
পুকুরের উৎপাদনশীলতায় তলার কাদার প্রভাব
পানির গুণগতমান বিশেষ করে রাসায়নিক গুণাগুণ অনেকাংশে পুকুরের তলদেশের মাটির গুণাগুণের দ্বারা প্রভাবিত হয়। পুকুরের তলদেশের মাটি যদি অম্লীয় হয় তাহলে ঐ পুকুরের পানিও অম্লীয় হবে। আবার যদি কোন পুকুরের তলদেশের মাটিতে পুষ্টিকারক পদার্থ কম থাকে তাহলে ঐসব পুকুরের পানিতেও পুষ্টিকারক পদার্থের পরিমাণ কম পরিলক্ষিত হবে। যদিও পানির গুণগতমান অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাটির গুণগতমানের ওপর নির্ভরশীল তবুও পুকুরের অবস্থানগত কারণেও জৈবিক উৎপাদনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
 
পুকুরে উৎপাদনশীলতার অধিকাংশই নির্ভর করে তলদেশের মাটির ওপর। যদি অনুবর্বর কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা হয় এবং বাহির থেকে কোন প্রকার পুষ্টিকারক উপাদান সরবরাহ করা না হয় তবে সেই পুকুর হবে অনুৎপাদনশীল এবং খননকৃত পুকুরটির মাটি যদি উর্বর হয় তবে সেই পুকুর হবে উৎপাদনশীল। সর্বোত্তম পুকুরের তলদেশের মাটি হচ্ছে সেই মাটি যে মাটিতে জৈব পদার্থসমূহের পচন তাড়াতাড়ি হয় এবং মাটি ও পানির আন্তঃক্রিয়া সার্বক্ষণিক চলে এবং তলদেশের মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকারক পদার্থসমূহ সহজেই পানিতে মুক্ত হয়। দোঁআশ মাটিতে সার প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কাদা মাটি মাছ চাষের জন্য কম উপযোগি কারণ কাদা মাটি খুব বেশি কমপ্যাক্ট এবং পানি শোষণ ক্ষমতা বেশি। তলদেশে কাদাযুক্ত পুকুর খুব বেশি উৎপাদনশীল। সার প্রয়োগের মাধ্যমে পুকুরের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টিকারক পদার্থ সমূহের সরবরাহের মাধ্যমে পুকুরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং এতে করে মাছের অধিক উৎপাদনও নিশ্চিত হবে।এক গবেষণায় দেখা গেছে (হেরিক এবং তার সহকর্মী, ১৯৮৪) পুকুরের তলদেশীয় মাটির রাসায়নিক ধর্মাবলী অনেকাংশে পার্শ্ববর্তী জমির মাটির সাথে পারম্পরিকভাবে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত এবং পাশ্ববর্তী জমি থেকে আসা পুষ্টিকারকের কারণে ঐ পুকুরের তলদেশের মাটিতে পুষ্টিকারক পদার্থের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
 
পুকুরের তলানী থেকে পুষ্টিকারক পদার্থসমূহের অবমুক্তি কিংবা ধারণ ক্ষমতা নির্ভর করে পানির বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ধর্ম এবং তলদেশের কাদা ও পুকুরে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার কর্মকান্ড দ্বারা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌত-রাসায়নিক প্রভাবসমূহ যা তলদেশীয় মাটি ও পানির সাথে আন্তঃক্রিয়া করে থাকে তা মূলতঃ নির্ভর করে তলদেশীয় মাটির ধরণ, তাপমাত্রা, গভীরতা, পানির ঘনত্ব, দ্রবীভূত অক্সিজেন, পিএইচ এবং মোট ক্ষারকত্বের ওপর। তাছাড়া আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক আছে, সে গুলো হলো- আবহাওয়া, ঋতু, ওয়াটার শেড, পানি চুয়ানো ইত্যাদি।
 
সারণি-: বিভিন্ন মাটির বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা
 
মাটির প্রকার বিস্তৃতি বৈশিষ্ট্য প্রভাব ক্ষতির প্রভাব নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ব্যবস্থা
গড় বা লাল মাটি অঞ্চল ঢাকা জেলার উত্তরাংশ, টাংঙ্গাইল জেলার পূর্বাংশ, ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, নোয়াখালী-কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার এলাকা বিশেষ। অতি ক্ষুদ্র বা সুক্ষ্ম কণার সমন্বয়ে গঠিত, বর্ণ লালচে, লোহার পরিমাণ বেশি, জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, চুন প্রভৃতি কম, পিএইচ মান ৫.৫-৬.০ পানি ঘোলাটে হতে পারে। মাছের ফুলকা ও চেখে ঘা হতে পারে। প্রাকৃতিক খাদ্যকণা তৈরি বাধাগ্রস্থ হয়। কাতলা, সিলভার কার্প, রুই, নাইলোটিকা, রাজপুঁটি চাষের উপযোগি। ঘোলাত্ব দূর করতে প্রতি শতকে চুন ১.৫-২.০ কেজি জিপসাম ১.০-২.০ কেজি অথবা ফিটকিরি ০.৫-০.৬ কেজি প্রয়োগ করা যেতে পারে। তলদেশে বিচরণকারী মাছ কম সংখ্যক মজুদ করা উচিত। পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো যায়।
গড় বা লাল মাটি অঞ্চল ঢাকা জেলার উত্তরাংশ, টাংঙ্গাইল জেলার পূর্বাংশ, ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, নোয়াখালী-কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার এলাকা বিশেষ। অতি ক্ষুদ্র বা সুক্ষ্ম কণার সমন্বয়ে গঠিত, বর্ণ লালচে, লোহার পরিমাণ বেশি, জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, চুন প্রভৃতি কম, পিএইচ মান ৫.৫-৬.০ পানি ঘোলাটে হতে পারে। মাছের ফুলকা ও চেখে ঘা হতে পারে। প্রাকৃতিক খাদ্যকণা তৈরি বাধাগ্রস্থ হয়। কাতলা, সিলভার কার্প, রুই, নাইলোটিকা, রাজপুঁটি চাষের উপযোগী। ঘোলাত্ব দূর করতে প্রতি শতকে চুন ১.৫-২.০ কেজি জিপসাম ১.০-২.০ কেজি অথবা ফিটকিরি ০.৫-০.৬ কেজি প্রয়োগ করা যেতে পারে। তলদেশে বিচরণকারী মাছ কম সংখ্যক মজুদ করা উচিত। পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো যায়।
বরেন্দ্র দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ, বগুড়া জেলার পশ্চিমাংশ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এটেল প্রকৃতির, হলুদ রং, লোহা ও এ্যালুমিনিয়ামের ভাগ বেশি নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের অভাব আছে। পিএইচ মান ৬.০-৬.৫ দীর্ঘ খরায় পুকুর শুকিয়ে অথবা অত্যধিক শীতে পানি শীতল হয়ে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হয়। মৌসুমী বর্ষণে পানি ঘোলা হয়। ব্যবস্থাপনা সাপেক্ষে যে কোন মাছ চাষ করা যায় পুকুরে কিছু ভাসমান আগাছা রেখে তাপ থেকে মাছ রক্ষা করা যায। বিকল্প উৎসে পানি মজুদ করে খরার প্রতিক্রিয়া রোধ করা য়ায়। তীব্র শীতে সার ও খাদ্য প্রয়োগ সীমিত বা বন্ধ রাখতে হবে।
ব্রক্ষ্মপুত্রের পাললিক অঞ্চল বৃহত্তর ময়মনসিংহ (গড়াঞ্চল ব্যতীত), জামালপুর, [[শেরপুর জেলা|শেরপুর]], ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার সমতল এলাকা। পলিযুক্ত, ধূসর থেকে গাঢ় ধূসর রং, এটেল বা দো-আঁশ প্রকৃতির উর্বর মাটি চুন বা ক্যালসিয়ামের ভাগ কম। পিএইচ মান ৫.৫-৬.৮ আবহাওয়া সারা বছর মাছের অনুকূলে থাকে। কোথাও কোথাও ডুবন্ত জলজ আগাছায় চাষ ক্ষতিগস্ত হয়, যে কোন প্রজাতির মাছ চাষ করার উপযোগি। ২-৩ বছরে একবার পুকুর শুকিয়ে তৈরি করা উচিত। নিয়মিত চুন ব্যবহার করতে হবে।
তিস্তার পলিমাটি অঞ্চল দিনাজপুর জেলার উত্তরাংশ, ঠাকুরগাঁও রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, বগুড়া জেলার পূর্বাঞ্চল, সিরাজগঞ্জ জেলার অধিকাংশ অঞ্চল বেলে দো-আঁশ বা বালিময় পলিতে গঠিত জৈব পদার্থ ও চুনের ভাগ কম। পিএইচ মান ৬.০-৬.৫ পানি ধারণক্ষমতা সীমিত। পরিবেশ যে কোন মাছ চাষের উপযোগি। হ্যাচারি বা নার্সারি এবং চিংড়ি চাষও লাভজনক। চুন ও জৈব সার নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। পুকুর শুকিয়ে যেতে পারে এমন অঞ্চলে স্বল্প চাষ মেয়াদী মাছ চাষ করা উচিত।
গঙ্গার পলিমাটি অঞ্চল মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, শরিয়তপুর, মাদারীপুর গোপালগঞ্জ, যশোর মাগুড়া, নড়াইল, চুড়াডাংঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, খুলনা সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নবাবগঞ্জ, নাটোর ও পাবনা জেলা। এঁটেল, দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির উর্বর মাটি; চুন বা ক্যালসিয়াম ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ। পিএইচ মান ৭.০-৭.৫ পানি ধারণক্ষমতা বেশি। পরিবেশ যে কোন মাছ চাষের উপযোগি। হ্যাচারি বা নার্সারি ও চিংড়ি চাষ লাভজনক। পুকুর শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পুকুর গভীর করা উচিত নয়। পুকুরের তলদেশের বালির উপর পলিযুক্ত এটেল মাটি বিছিয়ে ভালভাবে পিটিয়ে শক্ত করে দিয়ে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো যায়। প্রয়োজনে রাজপুঁটি, নাইলোটিকা প্রভৃতি মাছ চাষ করা যায়।
লবণাক্ত মাটি অঞ্চল খুলনা ও বরিশাল জেলার অংশবিশেষ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুণা এবং ভোলার সমুদ্রবর্তী ও চরাঞ্চল। এলাকা বিশেষে দো-আঁশ প্রকৃতির ও লবণাক্ত; পটাশ, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ। পিএইচ মান ৭.০-৮.৫ লবণাক্ততা বেড়ে গেলে মাটির বাঁধন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। চিংড়ি চাষ লাভজনক। নাইলোটিকাও চাষ করা যেতে পারে। রুইজাতীয় মাছচাষের সুযোগ সীমিত। পুকুরের পাড়ের মাটির বাঁধন দৃঢ় করার জন্য পাড়ে লতা-গুল্ম জন্মানো উচিত। জীব কণার ভারসাম্য রক্ষায় জৈব সার ব্যবহার করা যায়। পুকুরের সদ্ব্যবহার করতে প্রয়োজনে পাঙ্গাস, ভেটকি, মাগুর প্রভৃতি মাছ চাষ করা যায়।
পাহাড়িয়া অঞ্চল চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, নেত্রকোণা জেলার পাহাড়ী এলাকা, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার অঞ্চল বিশেষ। নূড়ি, নূড়ি পাথর, বালি ও পাথুরে কণার সংমিশ্রণে লালচে এটেল প্রকৃতির মাটি: জৈব পদার্থের পরিমাণ কম। পিএইচ মান ৭-৮.৫ পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যকণা কম জন্মে। পানি ঘোলাটে হতে পারে। মাছের ফুলকা বা চোখে সৃষ্টি হতে পারে। জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। পাড়ে ঘাস লাগিয়ে ঘোলাত্ব কমানো যায়। প্রয়োজনে তলদেশে বিচরণ করে এমন মাছ কম সংখ্যক মজুদ করতে হবে।
এসিড সালফেট অঞ্চল লবণাক্ত অঞ্চলেরই এলাকাবিশেষ, খুলনা ও সাতক্ষিরা জেলার সমুদ্রবর্তী অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকা। লোহা ও হাইড্রোজেন সালফাইট সমৃদ্ধ হলুদ রংয়ের মাটি। পিএইচ মান ৫ এর নিচে। প্রাকৃতিক খাদ্যকণা উৎপাদনের পরিবেশ বজায় থাকে না। মাছের ফুলকা, চামড়া বা চোখে ক্ষত হতে পারে। মাছ চাষে অনুপযোগী। মাটি শোধন করে মাছ চাষ করতে হবে। মাটি নিরপেক্ষ করার জন্য জৈব পদার্থ ও চুন ব্যবহার করতে হবে। বড় আকারের পোনা মজুদ করতে হবে।
 
== প্রকারভেদ ==