বিষয়বস্তুতে চলুন

"আখড়াই গান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বিষয়বস্তু যোগ
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
(বিষয়বস্তু যোগ)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
'''আখড়াই গান''' ভারতের [[পশ্চিমবঙ্গ]] রাজ্যের একটি আঞ্চলিক শ্রেণীর গান।
 
অষ্টাদশ শতকে বাংলা গানের যে ধারাগুলি বিশেষ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম একটি হলো আখড়াই গান। মনে করা হয় সেন রাজাদের আমলে নৃত্যগীত সহযোগে যে শাস্ত্রীয় গীতের প্রচলন ছিল তারই একটি শাখা 'আখড়াই' নামে পরিচিত হয়েছিল। অন্যমতে, 'গীতগোবিন্দে' উল্লিখিত 'প্রবন্ধম্' শৈলী নানা বিবর্তনে নাটগীতি থেকে আখড়াই গান এর রূপ নিয়েছে। আবুল ফজলের 'আইন ই আকবরী' থেকেও জানা যায় যে গায়ক বাদক ও নর্তক দের যৌথ সম্প্রদায় কে 'আখড়া' বলা হত। শাস্ত্রীয় তাল সমন্বিত প্রেমগীতিই পরিবেশন করতেন তাঁরা। এই আখড়াই সঙ্গীতই কালক্রমে স্বভাব কবিদের জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে 'কবির লড়াই' তথা কবিগানের জন্ম দিয়েছে।
== সংক্ষিপ্ত বিবরণ ==
 
ধারণা করা হয়ে থাকে যে, এই গানটির উৎপত্তি বৈষ্ণবদের আখড়ায় হওয়াতে একে "আখড়াই গান" বলা হয়। এটি কোলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সমূহে প্রচলিত ছিলো; তবে এদের মধ্যে শান্তিপুর ও চুঁচুড়াই প্রধান। এতে ‘খেউড়’ ও ‘প্রভাতি’ পর্যায় দুটি থাকায় এটিকে কবিগানের পূর্বরূপগুলোর একটি বলে মনে করা হয়।<ref>Das, Kishoriranjan, Radha Birbhumer Kaviwala O Kavigan, Paschim Banga, Birbhum Special Issue, pp. 289–309, (in Bengali), February 2006, Information and Culture Deptt., Government of West Bengal</ref> মহারাজ নবকৃষ্ণ দেবের সভাগায়ক কলুই চন্দ্র সেন এই গানের উদ্ভাবক বলে মনে করা হয়। [[রামনিধি গুপ্ত]] যিনি “নিধু বাবু” নামে সমধিক পরিচিত, তিনি আখড়াই গানের শ্রেষ্ঠ গায়ক ছিলেন।<ref>''বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অভিধান'', সম্পাদক: বীতশোক ভট্টাচার্য, প্রকাশক: বাণী শিল্প, কলকাতা। প্রথম সংস্করণ ১৯৮৩, পৃষ্ঠা: ৬২।</ref>
কবি ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত তার 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার ১২৬০ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় লিখেছেন যে প্রায় দেড় শত বৎসর পূর্বে শান্তিপুরের ভদ্র সন্তানেরা আখড়াই গানের সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ আখড়াই প্রায় তিনশত বৎসরেরও বেশি পুরনো সঙ্গীত ধারা। অষ্টাদশ শতকে আখড়াই গানের দুটি শাখা ছিল- একটি খেউর, এবং অন্যটি প্রভাতী। খেউর ছিল অত্যন্ত অশ্লীল, প্রভাতীও সুশ্রাব্য ছিল না। মনে করা হয় গৌড়বঙ্গ উদ্ভূত হয়ে, শান্তিপুর-কৃষ্ণনগর অঞ্চলে অবস্থিতির পর অষ্টম শতকে চুঁচুড়া হয়ে আখড়াই গান কলকাতায় প্রবেশ করে। কলকাতায় প্রবেশ করার পর আখড়াই গানকে অনেকটা শালীন করে তোলা হয় এবং সেইসঙ্গে ভবানী বিষয়ক এক নতুন অংশ এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়।
 
আখড়াই গানে ঢোল, কাঁসি প্রভৃতি দেশীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো হতো। চুঁচুড়া অঞ্চলে ঢোল-কাঁসি থেকে হাঁড়ি-কলসি মিলিয়ে মোট বাইশ রকমের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হতো। সেই জন্য সেখানকার দলের নাম হয়েছিল 'বাইশেরা'।
 
রামনিধি গুপ্ত(নিধুবাবু) ও তার আত্মীয় কুলুই চন্দ্র সেন আখড়াই গানের সংশোধন করেন। পরে ছাপরা থেকে ফিরে এসে নিধুবাবুও ভদ্র আখড়াই গান শেখানোর জন্য কলকাতায় এক আখড়াই শিক্ষাকেন্দ্র খোলেন। এছাড়াও কলকাতার সৌখিন ব্যাক্তিদের কেউ কেউ আরো কয়েকটি আখড়াই শিক্ষাকেন্দ্র খোলেন। নিধুবাবুর প্রভাবে টপ্পার গায়ন রীতি এবং তানপুরা, বেহালা, সেতার, বীণা, বাঁশি, জলতরঙ্গ, ঢোল প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রের সমাহারে বিভিন্ন রাগ রাগিনী তে বাজানো সাজের বাজনা বা অর্কেস্ট্রা এই গানে স্থান করে নেয়। এইভাবে আখড়াই গান উচ্চাঙ্গের বৈঠকী গানে পর্যবসিত হয়। আখড়াই গানে রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবুই শ্রেষ্ঠ শিল্পী।
 
আখড়াই এর ভবানী বিষয়ক অংশে পার্বতী সম্পর্কিত গান, খেউড়ে লৌকিক প্রেমের তীব্র মিলন আকাঙ্ক্ষা এবং প্রভাতীতে রজনি প্রভাতের অবসন্নতা জনিত বেদনার গান গাওয়া হতো। প্রতি অংশে মহড়া, কিতেন আর অন্তরা থাকতো। গানগুলি মূলত পয়ার ত্রিপদীতে রচিত হতো। উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত আখড়াই গান বেশ জনপ্রিয় ছিল। তারপর অন্যান্য গানের স্রোতে এটি হারিয়ে যেতে বসে।
 
== আরও দেখুন ==
৫টি

সম্পাদনা