বিষয়বস্তুতে চলুন

অষ্টক গীত ও নৃত্য: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট বানান ঠিক করছে, কোনো সমস্যায় তানভিরের আলাপ পাতায় বার্তা রাখুন
(বট বানান ঠিক করছে, কোনো সমস্যায় তানভিরের আলাপ পাতায় বার্তা রাখুন)
(বট বানান ঠিক করছে, কোনো সমস্যায় তানভিরের আলাপ পাতায় বার্তা রাখুন)
{{unreferenced|date=অক্টোবর ২০১২}}
 
'''অষ্টক গান''' বা '''অষ্টক নাচ''' বাংলাদেশের প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতির একটি অন্যতম প্রধান ধারা। এটি সাধারণতঃ চৈত্র সংক্রান্তীর নানাবিধ আচার-অনুষ্ঠানেরঅণুষ্ঠানের সময় পরিবেশিত হয়ে থাক।
 
সাধারণভাবে, চৈত্র মাসের শেষ-তিন দিন “গাজন উত্সব”-এর আনুষঙ্গিক “নীলের / শিবের গাজন” উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষতঃ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সংগঠিত লোকজ মেলায় বিভিন্ন ধরনের গান ও আচার-অনুষ্ঠানাদিতেঅণুষ্ঠানাদিতে অন্যতম প্রধান আনুষঙ্গিক পরিবেশনা হিসেবে আয়োজন করা হয় '''অষ্টক গীত ও নৃত্য'''।<ref name=asa/>
 
== সাধারণ ধারণা ==
বাংলায় ষড়ঋতুর পরিক্রমায় বসন্তের শেষ ভাগে ও গ্রীস্মেরগ্রিস্মের পূর্ব-ভাগে অনুষ্ঠিতঅণুষ্ঠিত হয় গ্রামীনগ্রামীণ জনপদের অন্যতম প্রধান লোকজ-উৎসব “চৈত্র-সংক্রান্তী”। এসময়ই মূলতঃ বাংলার লোকজ উৎসবের অন্যতম প্রধান ধারা “গাজন”-এর শাখা “নীলের / শিবের গাজন” অনুষ্ঠিতঅণুষ্ঠিত হয় এবং এই উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষতঃ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জমে উঠে এক-ধরনের লোকজ মেলার যা চৈত্রের শেষ-তিন দিন বিভিন্ন ধরনের গান ও আচার-অনুষ্ঠানাদিঅণুষ্ঠানাদি পালনের মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়। আর এ-সময় এ অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষ তাদের চলমান ঐতিহ্য অনুসারেঅণুসারে পরিবেশন করে থাকে অষ্টক গীত / নৃত্যের।
 
বাংলাদেশের ও পশ্চিমবঙ্গের পূর্বাংশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম একটি প্রধান উপাদান হলো এই অষ্টক গীত / নৃত্যের পরিবেশনা; যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান অবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তার প্রেয়সী শ্রীরাধিকা দেবীর প্রণয়-লীলার পটভূমিতে রচিত। এটি এ-অঞ্চলের অধিবাসীদের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসব “চৈত্র-সংক্রান্তী”-এর সাথেই মূলতঃ সম্পর্কিত তবে এটি শিবের স্থলে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম-লীলা বিষয়ক আখ্যান ও লোকপুরাণ অবলম্বনে পরিবেশিত হয়ে থাকে। এর পরিবেশনাতে গ্রামের ছোট ছোট ছেলে-ছোকরারা শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধিকা দেবী ও রাধার শখী গোপীদের সাজ সেজে দুই দলে বিভক্ত হয়ে গান ও নাচ সহযোগে সাধারণতঃ রাধা-কৃষ্ণের “নৌকা-বিলাস” পালা অভিনয় করে থাকে।
 
“চৈত্র-সংক্রান্তী” উৎসবের কয়েকদিন পূর্ব হতে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির সামনে একদল শিল্পী গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানঅণুষ্ঠান আয়োজনের লক্ষ্যে অর্থ সংগ্রহ করে; যেখানেও আমরা অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের গীত / নৃত্যের পরিবেশনার মধ্যে কখনো কখনো অষ্টক গীত / নৃত্য-এর পরিবেশনা দেখতে পাই। আর এক্ষেত্রে বিষয়-বস্তু হিসেবে থাকে শিব, রাধা-কৃষ্ণ, নিমাই সন্ন্যাসী, গৌরী, বক্ষ্রা, বিষ্ণু, চন্ডিদাস-রজকিনী, বেহুলা-লখিন্দর এই অষ্ট-প্রসঙ্গ।
 
== উৎপত্তি ও নামকরণ ==
ঠিক কি কারণে বা কোথা থেকে “অষ্টক” নামক গীত / নৃত্যের উদ্ভব ঘটেছে সে সম্পর্কে সঠিকভাবে কোনো তথ্য-বৃত্তান্ত জানা যায় না; বরং এই বিষয়ে নান-ধরনের মতামত প্রচলিত রয়েছে। কেউ বলেন, “এতে আটটি বৈষ্ণবীয় প্রসঙ্গ থাকায়”; কেউ বলেন, “প্রতি দলে আট জনে মিলে রাধা-কৃষ্ণের উক্তি-প্রত্যুক্তিমূলক নাট্যধর্মী গীত পরিবেশন করায়”; কারো মতে, “এটি শ্রীকৃষ্ণের অষ্টপ্রহরের লীলা-সংক্রান্ত নাট্যগীতি হওয়ায়”- একে “অষ্টক গীত / নৃত্য” বলা হয়। আবার এ সম্পর্কে কোন কোন গবেষকের মতে, “এ-সব গানে সনাতন ধর্মীদের অষ্ট-অবতার রাধা, কৃষ্ণ, সুবল, বিশাখা, ললিতা, বৃন্দা, বড়িমাই ও বলরাম-এর বিভিন্ন কার্য-চরিত্রের সমন্বয় ঘটেছে বলে এটি অষ্টক গীত / নৃত্য বলে পরিচিত”; বিপরীতে অপর একদল বলেন, “অবতার শ্রীকৃষ্ণ তার অষ্ট বা আটজন সখীকেশখীকে নিয়ে লীলা করতেন এবং এ-গানে সেই উপাখ্যান আলোচিত হয় বলে একে অষ্টক গীত / নৃত্য বলে”। অন্য-দিকে, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, এই গীত / নৃত্যে “বাসলী দেবী”-এর বন্দনাও রয়েছে, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন বড়ু চন্ডীদাস রচিত “শ্রীকৃষ্ণকীর্তন” কাব্যের ভণিতায়ও লক্ষণীয়; তাই বলা যায় উৎস যা-ই হোক না কেন, লোক-সংস্কৃতির এই ধারাটি সুদূর প্রাচীন কাল হতে এদেশের লোক-মানসের সাথে প্রচলিত প্রথার একটি অংশ হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।
 
বিভিন্ন অঞ্চলে একে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করা হয়; যেমনঃ ওপার বাংলার মুর্শিদাবাদ ও মালদহ অঞ্চলে “অষ্টকগান” নামে, এপার বাংলার বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলে ‘‘অষ্টগান’’ নামে, ফরিদপুর / বরিশাল অঞ্চলে “অষ্টক গীত / নৃত্য” নামে এটি পরিচিত।
 
== অষ্টক গীত / নৃত্যের পরিবেশনার সময়-কাল ==
সাধারণত এই গীত / নৃত্য নীলের / শিবের গাজন উপলক্ষে প্রচলিত “চৈত্র-সংক্রান্তি”-এর সময় পরিবেশিত হয়। এতে মধ্যাহ্ন সূর্যকে গীত / নৃত্যের মাধ্যমে বন্দনা করতে হয় বলে এটি সাধারণত দিনের বেলায় পরিবেশন করা হয়; তবে আমাদের দেশের কিছু কিছু অঞ্চল, যেমনঃ নড়াইল ও খুলনায় এটি রাতের বেলায়ও যাত্রা-পালার ন্যায় পরিবেশিত হয়। “চৈত্র-সংক্রান্তি”-এর সময় অনুষ্ঠিতঅণুষ্ঠিত চড়ক পূজার একটি অন্যতম অঙ্গ হলো অষ্টক গীত / নৃত্যের পরিবেশনা; যদিও চড়ক পূজা শিবের তুষ্টি ও পূণ্যার্থে অনুষ্ঠিতঅণুষ্ঠিত হয়, তবুও এর অঙ্গ হিসেবে কি কারণে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম-লীলার বর্ণনামূলক অষ্টক গীত / নৃত্যের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে তার উৎস সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে পারিনা।
 
এছাড়াও “জন্মাষ্টমী”-তে এবং “অষ্ট-প্রহর ব্যাপী” অনুষ্ঠিতঅণুষ্ঠিত “নাম-সংকীর্তন” অনুষ্ঠানেঅণুষ্ঠানে-ও অষ্টক গীত / নৃত্য পরিবেশিত হয়ে থাকে।
 
== পরিবেশনা খুটি-নাটি ==
=== পরিবেশনার ধরণধরন ===
অষ্টক গীত / নৃত্য পরিবেশনার দুটি ধরন রয়েছে; এক. পাট নাচানির সময় পালা গানের সহায়ক হিসেবে; যেখানে গ্রামের ছোট ছেলে-মেয়েরা রাধা-কৃষ্ণ এবং শখি সেজে প্রেমের গান গায় এবং দুই. “চৈত্র-সংক্রান্তি”-এর দিন রাত্রে যাত্রা-পালার মাধ্যমে; যেখানে অভিনয়ের মাধ্যমে সংলাপ ও গানে কৃষ্ণ ও রাধার প্রেম-লীলার আখ্যান পরিবেশিত হয়।
 
=== গানের ভাব ও ভাষা ===
অষ্টক গীত / নৃত্যে গানের ভাষা আটপৌরে ও অতি সাধারণ হলেও এর আবেগ ও ভাবের প্রকাশ খুব হৃদয়গ্রাহী ও মনোমুগ্ধকর। এই গান সাধারণতঃ খেয়ালের ঢঙে গাওয়া হয় এবং গানে স্থায়ী ও অন্তরা নামক দুটি স্তবক থাকে; যাতে অন্তরাগুলি ভগ্ন ত্রিপদীর আঙ্গিকে রচিত। শিব ও অন্যান্য অবতারদের সম্পর্কে গাওয়া গানগুলোতে হালকা রসের মাধ্যমে শিব-পার্বতীর দাম্পত্য জীবনের দ্বন্দ্ব্বদ্বন্দ্ব্ব্ব ও ভালাবাসার প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট অবতারের মহিমা ও যাপিত জীবনালেখ্য দেখানে হয়; আর কৃষ্ণ-রাধার সম্পর্কিত গানগুলোতে অনুরাগঅণুরাগ-অভিমানের প্রাধ্যন্য থাকে। উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশের গ্রামেগুলোর পার্শ্বেই রয়েছে নদী আর তার নিকটে বা পারাপারে দেখা যায় খোলা মাঠ যেখানে দৈনন্দিন বাজার বা হাট বসে, আর এসব বাজার বা হাটে কিংবা পাশ্ববর্তী গ্রামে নদী পারাপারের মাধ্যমেই যেতে হয়ে; অষ্টক গীত / নৃত্যে নদী পারাপারের এই চিরন্তন দৃশ্যই কৃষ্ণ-রাধা প্রণয়-আখ্যানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় যা “রাধা-কৃষ্ণের নৌকা বিলাস পালা” নামে পরিচিত।
 
=== পরিবেশক দল ===
১০ থেকে ১২ জন শিল্পী নিয়ে অষ্টক গীত / নৃত্য দল গঠিত হয়; আর তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে থাকে। এতে একজন প্রধান গায়েন (যিনি সূত্রধর বা “সরকার” নামে পরিচিত), একজন করে কৃষ্ণবেশি বালক ও রাধাবেশি বালক (ক্ষেত্র বিশেষে বালিকা) থাকে; এ ছাড়াও একজন পরিচালক / পরিবেশক এবং আরও তিন বা ততোধিক পরিবেশনকারী থাকেন। সূত্রধর বা “সরকার” গানের শুরু ও গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তার নির্দেশ অনুসারেইঅণুসারেই অন্যান্য কুশীলবরা রীতিনীতি ও প্রয়োজনীয় তাল-লয় ও ধাপ-সমূহ রক্ষা করে পরিবেশনা সচল রাখে; আর এতে কখনো জোরালো ও চটুল - আবার কখনো ধীর লয়ে গাইতে থাকা গানের মধ্যে মধ্যে চলতে থাকে নৃত্যের প্রদর্শন।
 
=== ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র ===
অষ্টক গীত / নৃত্য পরিবেশনের অনুষাঙ্গিকরূপেঅণুষাঙ্গিকরূপে বাঁশি, ঢোল, হারমোনিয়াম, মন্দিরা ও খোল বা মৃদঙ্গ, করতাল, ঘুঙুর ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এই সব বাদ্যযন্ত্রীদেরকে বিভিন্ন নামে সম্বোধন করা হয়, যেমনঃ খুলি, হারমোনিয়াম মাস্টার ইত্যাদি।
 
== পরিবেশনার পদ্ধিত ==
১,০৭,৮৪০টি

সম্পাদনা