"রুডলফ কারনাপ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
(± 5টি বিষয়শ্রেণী হটক্যাটের মাধ্যমে)
'''রুডলফ কারনাপ''' ([[জার্মান ভাষা|জার্মান]]: Rudolf Carnap) (মে ১৮, ১৮৯১ – সেপ্টেম্বর ১৪, ১৯৭০) একজন [[জার্মানি|জার্মান]] দার্শনিক যিনি ১৯৩৫ সালের আগে [[ইউরোপ|ইউরোপে]] এবং এরপর থেকে [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে]] সক্রিয় ছিলেন। তিনি [[ভিয়েনা চক্র|ভিয়েনা চক্রের]] প্রধান সারির সদস্য এবং [[যৌক্তিক ইতিবাদ|যৌক্তিক ইতিবাদের]] প্রখ্যাত সমর্থক।
==দার্শনিক কর্ম==
কারনাপ [[জেনা বিশ্ববিদ্যালয়|জেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে]] স্থান-কালের এক্সিওম্যাটিক[[স্বতঃসিদ্ধ তত্ত্ব (axiomatic theory)ব্যবস্থা]] নামের একটি থিসিস লেখার কাজ সম্পন্ন করেন। [[পদার্থবিদ্যা]] বিভাগের কাছে তার এ-থিসিস ‘খুব দার্শনিকতাপূর্ণ’ (Too much philosophical) এবং দর্শন বিভাগের ব্রুনো বাউখের ([[:en:Bruno Bauch)|ব্রুনো বাউখের]] কাছে ‘বিশুদ্ধ পদার্থবিদ্যা’ (pure physics) মনে হলো। ব্রুনো বাউখের দীক্ষায় এই থিসিস সম্পন্ন করার সময় তিনি সতর্কতার সাথে কান্তের ক্রিটিক অব পিওর রিজন (critique of pure reason) পড়েছিলেন। ব্রুনো বাউখের পরিদর্শনে তিনি আরো একটি থিসিস লেখার কাজ সম্পন্ন করেন, যেটা অনেকটা গোঁড়া কান্তীয় (Kantian)। এ-থিসিস ‘দার রউম’ (Der Raum, ১৯২২, বাংলায়, ‘স্থান’) নামে প্রকাশিত হয়েছিলো। এই থিসিসে তিনি ফরমাল, ফিজিক্যাল ও পারসেপচ্যুয়াল স্থানের (formal, physical and perceptual (e.g., visual) spaces) মধ্যকার পার্থক্য পরিষ্কার করেন।
[[গাণিতিক যুক্তিবিদ্যারযুক্তিবিজ্ঞান|গাণিতিক (Mathematicalযুক্তিবিজ্ঞানের]] Logic)[[গট্‌লব ফ্রেগে|গটলব প্রেগের (Gottlob Frege)]] কোর্সের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন। ফ্রেগের কোর্সটা ছিল [[বার্ট্রান্ড রাসেল|বার্ট্রান্ড রাসেলের]] (Bertrand Russell) যুক্তিবিদ্যক ও দার্শনিক কাজের উপর। কোর্সটা থেকে তিনি একটা দার্শনিক বোধ লাভ করেন, যেটা পরবর্তীতে তার কাজের সহায়ক হয়েছিলো। তিনি যৌক্তিক অগ্রসরণের সাথে গতানুগতিক দর্শনকে অতিক্রম করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন। তিনি রাসেলকে চিঠি লিখেছেন। রাসেল কারনাপের উপকারের স্বার্থে তার Principia Mathematica থেকে একটা দীর্ঘ গদ্য দেওয়ার মাধ্যমে সাড়া দিয়েছেন। ১৯২৪ ও ১৯২৫ সালের দিকে তিনি ফেনোমেনোলজির প্রবর্তক এডমুন্ড হুসার্ল আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থিত হন।
কারনাপ ১৯২৩ সালের কনফারেন্সে [[হ্যান্স রিচেনবাখেররিচেনবাখ|হ্যান্স (Hans Reichenbach)রিচেনবাখের]] সাথে যখন পরিচিত হন, তখন এক আত্মীযতামূলক প্রেরণা আবিষ্কার করেন। রিচেনবাখ তাকে [[ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়|ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের]] অধ্যাপক [[মরিস শ্লিক|মরিস শ্লিকের]] সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। শ্লিক কারনাপকে পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে তার বিভাগে শিক্ষকতা করার সুযোগ করে দেন। তিনি [[ভিয়েনা চক্র|ভিয়েনা চক্রের]] সদস্য হন। এ-চক্রের সাথে বিখ্যাত আর যারা ছিলেন: হ্যান্স হ্যান, ফেডরিখ ভাইজম্যান, ওটো নিউরাথ ও হার্বাট ফেইগল। যখন [[লুডভিগ ভিতগেনস্তাইন|ভিতগেনস্তাইন]] ভিয়েনা পরিদর্শনে এসেছেন, তার সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান তিনি। তিনি হান ও নিউরাথের সাথে যুক্ত হয়ে ১৯২৯ সালে ভিয়েনা চক্রের মেনিফেস্টো রচনা করেন এবং হ্যান্স রিচেনবাখের সাথে দর্শন-জার্নাল ''[[:en:Erkenntnis|Erkenntnis]]'' সম্পাদনা করেন।
 
===যৌক্তিক ইতিবাদ===
রুডলফ কারনাপ [[যৌক্তিক ইতিবাদ|যৌক্তিক ইতিবাদের]] প্রখ্যাত প্রখ্যাত সমর্থক।
==== ছদ্ম-বাক্য====
ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি [[অধিবিদ্যা]] বর্জন করেন। অধিবিদ্যার বাক্যগুলোকে প্রকৃত বাক্য হিসেবে গণ্য না করে ছদ্ম-বাক্য হিসেবে গণ্য করেন। ফলে এগুলো সত্য মিথ্যা কোনোটাই নয়, বরং অর্থহীন। যেসব বাক্য আপাতদৃষ্টিতে বাক্য বলে প্রতীয়মান হয়, কিন্তু ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণে টিকে না, সেগুলোকে তিনি ছদ্ম-বাক্য বা ছদ্ম-বচন (pseudo-statement) বলে উল্লেখ করেন। দু’ধরণের ছদ্ম-বাক্য আছে বলে তিনি মনে করেন: প্রথমত, এমন কতগুলো [[অধিবিদ্যা|অধিবিদ্যক]] বচন রয়েছে, যেগুলোর প্রায়োগিক মূল্য আছে বলে সাধারণভাবে মনে করা হয়, কিন্তু ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণে পড়ে এগুলো ব্যবহারিক গুরুত্ব হারায়; দ্বিতীয়ত, আরেক ধরণের ছদ্ম-বাক্য রয়েছে যার অন্তর্ভুক্ত শব্দগুলো অর্থপূর্ণ হলেও ভাষার যৌক্তিক অন্বয়ের (Logical Syntax of Language) নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে অর্থহীন হয়ে পড়ে। অধিবিদ্যক বাক্যগুলো অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না বলে অর্থহীন। অভিজ্ঞতাভিত্তিক [[ভাষা]] এমন সব শব্দ নিয়ে গঠিত যেগুলোর অর্থ ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণ থেকে প্রাপ্ত। অধিবিদ্যা অতীন্দ্রিয় সত্তা সম্পর্কে আমাদের কোনো নতুন তথ্য দেয় না। ফলে, সত্তা সম্পর্কীয় এসব বাক্য অর্থহীন।
৩৭৫টি

সম্পাদনা

পরিভ্রমণ বাছাইতালিকা