বিষয়বস্তুতে চলুন

অষ্টক গীত ও নৃত্য: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

===পরিবেশনার ধরণ===
অষ্টক গীত / নৃত্য পরিবেশনার দুটি ধরণ রয়েছে; এক. পাট নাচানির সময় পালা গানের সহায়ক হিসেবে; যেখানে গ্রামের ছোট ছেলে-মেয়েরা রাধা-কৃষ্ণ এবং সখি সেজে প্রেমের গান গায় এবং দুই. “চৈত্র-সংক্রান্তি”-এর দিন রাত্রে যাত্রা-পালার মাধ্যমে; যেখানে অভিনয়ের মাধ্যমে সংলাপ ও গানে কৃষ্ণ ও রাধার প্রেম-লীলার আখ্যান পরিবেশিত হয়।<br />
 
 
===গানের ভাব ও ভাষা===
অষ্টক গীত / নৃত্যে গানের ভাষা আটপৌরে ও অতি সাধারণ হলেও এর আবেগ ও ভাবের প্রকাশ খুব হৃদয়গ্রাহী ও মনোমুগ্ধকর। এই গান সাধারণতঃ খেয়ালের ঢঙে গাওয়া হয় এবং গানে স্থায়ী ও অন্তরা নামক দুটি স্তবক থাকে; যাতে অন্তরাগুলি ভগ্ন ত্রিপদীর আঙ্গিকে রচিত। শিব ও অন্যান্য অবতারদের সম্পর্কে গাওয়া গানগুলোতে হালকা রসের মাধ্যমে শিব-পার্বতীর দাম্পত্য জীবনের দ্বন্দ্ব ও ভালাবাসার প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট অবতারের মহিমা ও যাপিত জীবনালেখ্য দেখানে হয়; আর কৃষ্ণ-রাধার সম্পর্কিত গানগুলোতে অনুরাগ-অভিমানের প্রাধ্যন্য থাকে। উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশের গ্রামেগুলোর পার্শ্বেই রয়েছে নদী আর তার নিকটে বা পারাপারে দেখা যায় খোলা মাঠ যেখানে দৈনন্দিন বাজার বা হাট বসে, আর এসব বাজার বা হাটে কিংবা পাশ্ববর্তী গ্রামে নদী পারাপারের মাধ্যমেই যেতে হয়ে; অষ্টক গীত / নৃত্যে নদী পারাপারের এই চিরন্তন দৃশ্যই কৃষ্ণ-রাধা প্রণয়-আখ্যানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় যা “রাধা-কৃষ্ণের নৌকা বিলাস পালা” নামে পরিচিত।</p>
 
===পরিবেশক দল===
১০ থেকে ১২ জন শিল্পী নিয়ে অষ্টক গীত / নৃত্য দল গঠিত হয়; আর তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে থাকে। এতে একজন প্রধান গায়েন (যিনি সূত্রধর বা “সরকার” নামে পরিচিত), একজন করে কৃষ্ণবেশী বালক ও রাধাবেশী বালক (ক্ষেত্র বিশেষে বালিকা) থাকে; এ ছাড়াও একজন পরিচালক / পরিবেশক এবং আরও তিন বা ততোধিক পরিবেশনকারী থাকেন। সূত্রধর বা “সরকার” গানের শুরু ও গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তার নির্দেশ অনুসারেই অন্যান্য কুশীলবরা রীতিনীতি ও প্রয়োজনীয় তাল-লয় ও ধাপ-সমূহ রক্ষা করে পরিবেশনা সচল রাখে; আর এতে কখনো জোরালো ও চটুল - আবার কখনো ধীর লয়ে গাইতে থাকা গানের মধ্যে মধ্যে চলতে থাকে নৃত্যের প্রদর্শন।
 
===ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র===
অষ্টক গীত / নৃত্য পরিবেশনের অনুষাঙ্গিকরূপে বাঁশি, ঢোল, হারমোনিয়াম, মন্দিরা ও খোল বা মৃদঙ্গ, করতাল, ঘুঙুর ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এই সব বাদ্যযন্ত্রীদেরকে বিভিন্ন নামে সম্বোধন করা হয়, যেমনঃ খুলি, হারমোনিয়াম মাস্টার ইত্যাদি।
 
==পরিবেশনার পদ্ধিত==
২৯,২৫৯টি

সম্পাদনা