বিষয়বস্তুতে চলুন

অষ্টক গীত ও নৃত্য: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

 
==সাধারণ ধারণা==
চিরায়ত বাঙালির সংস্কৃতিতে ধর্ম এবং কর্ম – এই দু’য়েরই রয়েছে সমান অংশগ্রহণ। এদেশের কৃষিজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে আমরা দেখতে পাই নৃত্য-গীতের দ্বারা চলে ঈশ্বর আর অবতারদের তুষ্ট করার নিরন্তন প্রক্রিয়া। বাংলা ষড়ঋতুর পরিক্রমায় বসন্তের শেষ ভাগে ও গ্রীস্মের পূর্ব-ভাগে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীন জনপদের অন্যতম প্রধান লোকজ-উৎসব “চৈত্র-সংক্রান্তী”। এসময়ই মূলতঃ বাংলার লোকজ উৎসবের অন্যতম প্রধান ধারা “গাজন”-এর শাখা “নীলের / শিবের গাজন” অনুষ্ঠিত হয় এবং এই উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষতঃ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জমে উঠে এক-ধরনের লোকজ মেলার যা চৈত্রের শেষ-তিন দিন বিভিন্ন ধরনের গান ও আচার-অনুষ্ঠানাদি পালনের মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়। আর এ-সময় এ অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষ তাদের চলমান ঐতিহ্য অনুসারে পরিবেশন করে থাকে অষ্টক গীত / নৃত্যের।<br />
 
বাংলাদেশের ও পশ্চিমবঙ্গের পূর্বাংশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম একটি প্রধান উপাদান হলো এই অষ্টক গীত / নৃত্যের পরিবেশনা; যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান অবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তার প্রেয়সী শ্রীরাধিকা দেবীর প্রণয়-লীলার পটভূমিতে রচিত। এটি এ-অঞ্চলের অধিবাসীদের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসব “চৈত্র-সংক্রান্তী”-এর সাথেই মূলতঃ সম্পর্কিত তবে এটি শিবের স্থলে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম-লীলা বিষয়ক আখ্যান ও লোকপুরাণ অবলম্বনে পরিবেশিত হয়ে থাকে। এর পরিবেশনাতে গ্রামের ছোট ছোট ছেলে-ছোকরারা শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধিকা দেবী ও রাধার সখী গোপীদের সাজ সেজে দুই দলে বিভক্ত হয়ে গান ও নাচ সহযোগে সাধারণতঃ রাধা-কৃষ্ণের “নৌকা-বিলাস” পালা অভিনয় করে থাকে।<br />
 
“চৈত্র-সংক্রান্তী” উৎসবের কয়েকদিন পূর্ব হতে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির সামনে একদল শিল্পী গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান আয়োজনের লক্ষ্যে অর্থ সংগ্রহ করে; যেখানেও আমরা অন্যান্য বিভিন্ন ধরণের গীত / নৃত্যের পরিবেশনার মধ্যে কখনো কখনো অষ্টক গীত / নৃত্য-এর পরিবেশনা দেখতে পাই। আর এক্ষেত্রে বিষয়-বস্তু হিসেবে থাকে শিব, রাধা-কৃষ্ণ, নিমাই সন্ন্যাসী, গৌরী, বক্ষ্রা, বিষ্ণু, চন্ডিদাস-রজকিনী, বেহুলা-লখিন্দর এই অষ্ট-প্রসঙ্গ।
 
==শিল্পী-দের কথা==
২৯,২৫৪টি

সম্পাদনা