বিল মেরিট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বিল মেরিট
বিল মেরিট.jpg
১৯৩৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে বিল মেরিট
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামউইলিয়াম এডওয়ার্ড বিল মেরিট
জন্ম(১৯০৮-০৮-১৮)১৮ আগস্ট ১৯০৮
সামনার, নিউজিল্যান্ড
মৃত্যু৯ জুন ১৯৭৭(1977-06-09) (বয়স ৬৮)
ক্রাইস্টচার্চ, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক গুগলি
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ )
১০ জানুয়ারি ১৯৩০ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৯ জুলাই ১৯৩১ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১২৫
রানের সংখ্যা ৭৩ ৩১৪৭
ব্যাটিং গড় ১০.৪২ ১৯.৯১
১০০/৫০ ০/০ ০/১২
সর্বোচ্চ রান ১৯ ৮৭
বল করেছে ৯৩৬ ২৪২৫৫
উইকেট ১২ ৫৩৭
বোলিং গড় ৫১.৪১ ২৫.৪৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩৭
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/১০৪ ৮/৪১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/- ৫৮/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ মে ২০১৯

উইলিয়াম এডওয়ার্ড বিল মেরিট (ইংরেজি: Bill Merritt; জন্ম: ১৮ আগস্ট, ১৯০৮ - মৃত্যু: ৯ জুন, ১৯৭৭) ক্রাইস্টচার্চের সামনার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩০ থেকে ১৯৩১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ লেগ ব্রেকগুগলি বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন বিল মেরিট

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত বিল মেরিটের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্লাঙ্কেট শীল্ডে ক্যান্টারবারির পক্ষে খেলতে শুরু করেন। ওতাগোর বিপক্ষে ৮/৬৮ পান। ফলশ্রুতিতে, ১৯২৬-২৭ মৌসুমের গ্রীষ্মে সফরকারী এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। প্রথম ইনিংসে লেগ ব্রেক ও গুগলি বোলিংয়ে ৭/৮৮ পান। এরফলে, চারটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের পরই ১৯২৭ সালে ইংল্যান্ড গমনের উদ্দেশ্যে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে বিল মেরিটকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে, এ সফরে কোন টেস্ট খেলা অন্তর্ভূক্ত ছিল না।

২৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৩.৬৪ গড়ে ১০৭ উইকেট নিয়ে দলের অন্যতম উইকেট শিকারীতে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি ১৯.৫৪ গড়ে ১৬৯ রান তুলেছিলেন। আরও সহায়তা পেলে এ পরিসংখ্যান আরও উজ্জ্বলতর হতে পারতো। তবে, শুরুরদিকের এ সফলতা পরবর্তীকালে আর পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। এ প্রসঙ্গে উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, তিনি নিশানা বরাবর বলের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। তবে, সামনের দিনগুলোয় তিনি নিঃসন্দেহে দলের কাণ্ডারীর ভূমিকায় অগ্রসর হবেন বলে ধারনা করা যায়।[১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন বিল মেরিট। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। একই দলের বিপক্ষে ২৯ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে ওভালে সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের টেস্ট মর্যাদা লাভের পর নিশ্চিতভাবেই তাকে দলের অন্যতম সদস্যরূপে রাখা হয়। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে এ. এইচ. এইচ. জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দল নিউজিল্যান্ড সফরে আসে। তবে, দর্শনীয় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। চার টেস্টে অংশগ্রহণ করে ৫০-এর অধিক গড়ে মাত্র আট উইকেট শিকার করেছিলেন। তবে, অন্য যে-কোন নিউজিল্যান্ডীয় খেলোয়াড়ের তুলনায় সর্বাধিক বোলিং করেছিলেন বিল মেরিট। ওভারপিছু ৩.৬ রান দেন যা ঐ সময়ের জন্যে বেশ খরুচে বোলিং ছিল।

ইংল্যান্ড গমন, ১৯৩১[সম্পাদনা]

১৯৩১ সালের ফিরতি সফরে ইংল্যান্ড গমন করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৯৯ উইকেট পান। কিন্তু টেস্টে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ফলে, সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে বাদ পড়েন। অবশ্য, ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডের ঐ টেস্টটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল।[২] উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, তিনি তার স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করছেন। কিন্তু বেশ কয়েকটি খেলাতেই অনেকগুলো বাজে বল ছুড়েছেন। অধিক কার্যকারিতাসম্পন্ন লেগ ব্রেকের তুলনায় গুগলি বল মারার কারণেই এ সমস্যায় নিপতিত হয়ে আছেন।

১৯৩১ সালে ইংল্যান্ডে ২৬.৪৮ গড়ে ৯৯ উইকেট পেলেও টেস্টে পুরোপুরি ব্যর্থতার প্রতিচিত্র তুলে ধরেন। অবশ্য এ সফরেই তিনি তার সেরা খেলা উপহার দিয়েছিলেন। লর্ডসে এমসিসি’র বিপক্ষে সেরা খেলা উপহার দেন। দুই দিনের অধিক সময় বৃষ্টির কবলে পড়ে নিউজিল্যান্ড দল ৩০২/৯ করে ইনিংস ঘোষণায় যায়। এমসিসি দল ১৩২ রানে গুটিয়ে গেলে ফলো-অনের কবলে টম লরি বিল মেরিটকে বোলিং উদ্বোধনে নিয়ে আসেন। দ্বিতীয় ইনিংসে একাধারে বোলিং করে ৭/২৮ লাভ করে এমসিসিকে ৪৮ রানে গুটিয়ে ফেলতে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। এরফলে নিউজিল্যান্ড একাদশ ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভে সমর্থ হয়।[৩]

আবারও তিনি শত উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারতেন। তবে, সফরের শেষদিনে নিউজিল্যান্ড দল ফিল্ডিং করলেও তাকে বোলিং করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯৩১ সালের সফর শেষে বিল মেরিট ইংল্যান্ডে অবস্থান করেন। ম্যানচেস্টারভিত্তিক রিশ্টন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে লীগ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন। তবে, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃক কমপক্ষে দুই বছর খেলার উপর বাঁধানিষেধ উপেক্ষা করে অগ্রসর হয়েছিলেন তিনি। এ পর্যায়ে সহস্রাধিক উইকেট ও সাত সহস্রাধিক রান তুলেন।[৪] রিশ্টনে থাকাকালে তিনি সফলতম অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

রিশ্টনে দুই মৌসুম খেলার পর ইস্ট ল্যাঙ্কাশায়ারে খেলেন।[৫] যুদ্ধের পরও তিনি লীগ ক্রিকেটে খেলা অব্যাহত রাখেন। শীতকালে উইগান ও হলিফ্যাক্স দলের পক্ষে রাগবি লীগে অংশ নেন। ক্যান্টারবারি দলের পক্ষে উইং থ্রী-কোয়ার্টায় এলাকায় খেলতেন।[৬] মেরিটের ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায়, মূলতঃ ব্যবসায়িক কারণে তিনি ইংল্যান্ডে অবস্থান করেছেন। নিউজিল্যান্ড দলের বেশ কয়েকজন সদস্য বেকার অবস্থায় থাকার বিষয়টি ওয়াকিবহাল থাকায় তিনিও তাদের সাথে একত্রে অবস্থানের কথা চিন্তায় আনেননি।[৪]

নিউজিল্যান্ডে তিনি আরও তিন মৌসুম খেলেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে সর্বশেষ খেলেন। ক্যান্টারবারি দলকে প্রশিক্ষণ দেন ও প্লাঙ্কেট শীল্ডের তিন খেলায় অংশ নিয়ে ৩১ উইকেট দখল করেন ও তৎকালীন রেকর্ড গড়েন। এ সংগ্রহটি বেশ কয়েকবছর রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত ছিল।[৭] ঐ মৌসুমের সর্বশেষ খেলায় ওতাগোর বিপক্ষে ১৮১ রান খরচায় ১৩ উইকেট লাভ করেছিলেন তিনি।[৮] এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে ৩৮৫ উইকেট নিয়ে বেশ কিছুদিন রেকর্ডধারী হন।

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৮ থেকে ১৯৪৬ সময়কালে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে ৪১টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ২৬ গড়ে ১৫১ উইকেট ও ব্যাট হাতে ১৯.৭৫ গড়ে রান পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ৮৭ রান।

১৯৩৮ সালে আবাসকালীন শর্তাবলী পূরণের পর নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলার যোগ্যতা লাভ করেন। ঐ ক্লাবেই নিউজিল্যান্ডীয় টেস্ট দলীয়সঙ্গী কেন জেমস উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এ পর্যায়ে খেলায় তার অনেকগুলো ক্যাচ খসে যায় ও বোলিংয়েও অনেক রান দিয়ে ফেলেন। তাসত্ত্বেও, বেশকিছু কার্যকরী মারমুখী ও আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেছিলেন। ১৯৩৯ সালে কাউন্টি দলটির পক্ষে পূর্ণাঙ্গ মৌসুম খেলেন। ১৯৩৯ সালে কেটারিংয়ে অনুষ্ঠিত খেলায় সাসেক্সের বিপক্ষে মাত্র সাতান্ন মিনিটে ৮৭ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান তুলেছিলেন। ৯২৬ রানের পাশাপাশি ৮৭ উইকেট দখল করেন। তবে, ঐ মৌসুমে আট বলে ওভার সংখ্যা ছিল ও ওভারপ্রতি প্রায় পাঁচ রান দিয়েছিলেন। প্রথম খেলাতেই কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ১২ উইকেট নিয়ে প্রায় চার বছরের মধ্যে দলকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে জয়ের সন্ধান করেন। এরপর মে, ১৯৩৯ সালের শেষদিকে পরের খেলায় ছয় উইকেট লাভ করে মে, ১৯৩৫ সালের পর লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো জয়লাভ করে তার দল।

ওয়াল্টার হ্যামন্ড তার এক লেগ ব্রেক ডেলিভারিকে গোখরাতুল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। অত্যন্ত বিপজ্জ্বনক ঐ বলটি তিনি স্বার্থকতার সাথে মোকাবেলা করার সৌভাগ্যের অধিকারী হন।[৪] বলে আরও স্পিন আনয়ণকালে নাকানিচুবানি খেতেন ও বলের নিশানা হারিয়ে যেতো।

অবসর[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে আরও এক মৌসুম খেলেন। তবে, সাপ্তাহিক চুক্তিতে খেলতেন। ১৯৪৬ সালের পর লীগ ক্রিকেটে পূর্ণাঙ্গভাবে সময় দেন। এরপর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে একবার নিউজিল্যান্ড প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। এ সময় ওরচেস্টারশায়ারের ডাডলিতে সফলতম ব্যবসায়ী হিসেবে সময় অতিবাহিত করতেন।[৬]

অবসর গ্রহণের পর বিবিসি ধারাভাষ্যকারদের দলে যোগ দেন। ১৯৫৮ ও ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ড দল ইংল্যান্ড সফরে আসলে টেস্ট খেলার ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করেন।[৯]

১৯২৭ সালে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করে। এম. এল. পেজ, সি. জে. অলিভার ও ডব্লিউ. এইচ. কানিংহামের সাথে তিনিও ক্যান্টারবারি থেকে এ দলটিতে খেলেন। তন্মধ্যে, তিনিই প্রথম মৃত্যুমুখে পতিত হন। ৯ জুন, ১৯৭৭ তারিখে ৬৯ বছর বয়সে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে বিল মেরিটের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Wisden, 1928, p. 452.
  2. Wisden, 1932, p. 5.
  3. R.T. Brittenden, Great Days in New Zealand Cricket, A.H. & A.W. Reed, Wellington, 1958, pp. 74-79.
  4. Mace, Devon V. (ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৬)। "SPIN: A New Zealand story"Mind The Windows। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২১, ২০১৭ 
  5. Nigel Stockley। "Bill Merritt"CricketArchive। Lancashire League Cricket। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২১, ২০১৭ 
  6. Bill Merritt at Cricinfo
  7. R.T. Brittenden, New Zealand Cricketers, A.H. & A.W. Reed, Wellington, 1961, p. 114.
  8. Canterbury v Otago, 1935-36
  9. Christopher Martin-Jenkins, Ball by Ball, Grafton, London, 1990, pp. 182, 186.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]