বিলাভড (উপন্যাস)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিলাভড
বিলাভড ১৯৮৭-এর সংস্করণের প্রচ্ছদ.jpg
প্রথম সংস্করণেপ্রচ্ছদ
লেখকটনি মরিসন
দেশমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ভাষাইংরেজি
ধরনমার্কিন সাহিত্য
প্রকাশকআলফ্রেড এ. নফ ইনকর্পোরেটেড
প্রকাশনার তারিখ
সেপ্টেম্বর ১৯৮৭
পৃষ্ঠাসংখ্যা৩২৪
আইএসবিএন১-৫৮০৬০-১২০-০
ওসিএলসি৬৩৫০৬৫১১৭
813.54
পূর্ববর্তী বইটার বেবি 
পরবর্তী বইজ্যাজ 

বিলাভড টনি মরিসন রচিত ১৯৮৭ সালের মার্কিন উপন্যাস। মার্কিন গৃহযুদ্ধের পরের সময়ের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটিতে প্রাক্তন এক ক্রীতদাস পরিবারের গল্প বিবৃত হয়েছে, যাদের সিনসিনাটির বাড়িটিতে পরশ্রীকাতর আত্মা ঘুরে বেড়ায়। বিলাভড একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত। মার্গারেট গার্নার নামে কেন্টাকির একজন ক্রীতদাস ১৮৫৬ সালে মুক্ত রাজ্য ওহাইওতে পালিয়ে যায়। সে ১৮৫৬ সালের পলাতক ক্রীতদাস আইনের অধীনে গ্রেফতারযোগ্য ছিল। মার্কিন মার্শালরা গার্নার ও তার স্বামীর কুটিরে হানা দিলে গার্নার তার সন্তানদের দাসত্বে ফিরে না যাওয়ার জন্য তাদের হত্যা করার চেষ্টা করে, এবং ইতোমধ্যে তার দুই বছর বয়সী মেয়েকে হত্যা করে।

মরিসন ১৯৭৪ সালে কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সংকলন দ্য ব্ল্যাক বুকের জন্য ১৮৫৬ সালে আমেরিকান ব্যাপ্টিস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত "আ ভিজিট টু দ্য স্লেভ মাদার হু কিলড হার চাইল্ড" নিবন্ধটি সম্পাদনা করতে গিয়ে গার্নারের সম্পর্কে জানতে পারেন।[১]

উপন্যাসটি ১৯৮৮ সালে কথাসাহিত্যে পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করে[২] এবং ১৯৮৭ সালে ন্যাশনাল বুক পুরস্কারের ফাইনালিস্ট ছিল।[৩] এটি অবলম্বনে ১৯৯৮ সালে একই নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, যাতে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেন ওপরা উইনফ্রি[৪] দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস কর্তৃক সংকলিত লেখক ও সাহিত্য সমালোচকদের জরিপে বইটি ১৯৮১ থেকে ২০০৬ সালের সেরা মার্কিন কল্পকাহিনী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।[৫]

প্রধান চরিত্রাবলি[সম্পাদনা]

সেথ

সেথ এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। সে সুইট হোম নামক একটি প্লান্টেশনে দাসত্ব থেকে পালিয়ে আসে। সে ১২৪-এ (১২৪ ব্লুস্টোন রোডে অবস্থিত একটি বাড়ি) বাস করে, যেখানে তার শিশু সন্তানকে হত্যা করার কারণে ভৌতিক বলে মনে করা হয়।

বিলাভড

বিলাভড এই উপন্যাসের প্রধান ধারণা। সেথের বাড়ির নিকটবর্তী জলাশয় থেকে রহস্যময়ভাবে ওঠে আসা তরুণী, যাকে মেলা থেকে ফেরার পথে সেথ, পল ডি ও ডেনভার তাদের দরজায় সামনে ভেজা অবস্থায় পায় এবং বাড়িতে নিয়ে যায়।

পল ডি

পল ডি তার ক্রীতদাস হিসেবে ব্যবহৃত নামটিই রেখে দেয়। সুইট হোমের সকল ক্রীতদাসকে এরকম নাম দেওয়া হত।

ডেনভার

ডেনভার সেথের একমাত্র সন্তান যে ১২৪ বাড়িতে থাকে। বিলাভডের হত্যার পর সেথ তার সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ডেনভার তার মায়ের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হয়।

বেবি সুগস

সেথের শাশুড়ী।

হল

বেবি সুগসের পুত্র এবং সেথের স্বামী। সুইট হোমে থাকাকালীন সেথ ও তার বিয়ে হয়। সেথের পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা আলাদা হয়ে যায়। তাকে কেবল অতীত স্মৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পল ডি সর্বশেষ ব্যক্তি যে হলকে সুইট হোমে মাখন তুলতে দেখেছে।

স্কুল শিক্ষক

স্কুল শিক্ষক সুইট হোমে বসবাসকারীদের প্রতি সহিংস, অত্যাচারী ও নিষ্ঠুর, সে তাদের প্রাণি হিসেবে দেখে। সেথ পালিয়ে গেলে সে তাকে ধরতে আসে, কিন্তু সেথ তার শিশুকন্যাকে হত্যা করে এবং গ্রেফতার হয়।

অ্যামি ডেনভার

সেথকে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সাহায্যকারী শ্বেতাঙ্গ তরুণী। অ্যামি তার সেবা করে এবং একটি ছোট নৌকায় সেথের কন্যার প্রসব করায়। সেথ তার নামানুসারে তার সন্তানের নামকরণ করে ডেনভার।

উপযোগকরণ[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে জোনাথন ডেমি একই নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এটি প্রযোজনা করেন এবং এতে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেন ওপরা উইনফ্রি[৬]

২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে বিবিসি রেডিও ৪ তাদের ১৫ মিনিটের নাটক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ১০ পর্বে বিলাভড সম্প্রচার করে। বেতার ধারাবাহিকটি উপযোগ করেন প্যাট্রিশিয়া কাম্পার।[৭]

সাহিত্য সমালোচনা[সম্পাদনা]

১৯৮৭ সালে বিলাভড প্রকাশিত হওয়ার পর বিপুল সমাদৃত হয়। বইটি ন্যাশনাল বুক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও এটি বিজয়ী হয়নি। এর প্রতিবাদে মায়া অ্যাঞ্জেলো, আমিরি বারাকা, জেইন কর্টেজ, অ্যাঞ্জেলা ডেভিস, আর্নেস্ট জে. গেইন্স, হেনরি লুইস গেটস জুনিয়র, রোজা গাই, জুন জর্ডান, পল মার্শাল, লুইস মেরিওয়েদার, ইউজিন রেডমন্ড, সোনিয়া সানচেজ, কুইন্সি ট্রুপ, জন এডগার ওয়াইডম্যানজন এ. উইলিয়ামস-সহ ৪৮ জন আফ্রিকী-মার্কিন লেখক ও সমালোচক একটি চিঠিতে স্বাক্ষর প্রদান করে যা ১৯৮৮ সালের ২৪শে জানুয়ারি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ-এ প্রকাশিত হয়।[৮][৯] তদুপরি, ১৯৮৮ সালে বিলাভড কথাসাহিত্যে পুলিৎজার পুরস্কার,[১০] এবং রবার্ট এফ. কেনেডি স্মারক বই পুরস্কার, মেলচার বই পুরস্কার, লিন্ডহার্স্ট ফাউন্ডেশন পুরস্কার ও এলমার হোমস বব্‌স্ট পুরস্কার অর্জন করে।[১১]

২০১৯ সালের ৫ই নভেম্বর বিবিসি নিউজ তাদের ১০০ "সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী" উপন্যাসের তালিকায় বিলাভড উপন্যাসটিকে তালিকাভুক্ত করে।[১২]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

  • কথাসাহিত্যে পুলিৎজার পুরস্কার, ১৯৮৮[১৩]
  • অ্যানিসফিল্ড-উল্‌ফ বই পুরস্কার, ১৯৮৮[১৪]
  • রবার্ট এফ. কেনেডি স্মারক বই পুরস্কার
  • মেলচার বই পুরস্কার
  • লিন্ডহার্স্ট ফাউন্ডেশন পুরস্কার
  • এলমার হোমস বব্‌স্ট পুরস্কার
  • ফাইনালিস্ট - ন্যাশনাল বুক পুরস্কার

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. গুলিমারি, পেলাগিয়া (২৯ মার্চ ২০১২)। Toni Morrison (ইংরেজি ভাষায়)। রুটলেজ। পৃষ্ঠা ৮১। আইএসবিএন 978-1-136-69868-2। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  2. হেভেসি, ডেনিস (১ এপ্রিল ১৯৮৮)। "Toni Morrison's Novel 'Beloved' Wins the Pulitzer Prize in Fiction"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  3. "National Book Awards 1987"ন্যাশনাল বুক ফাউন্ডেশন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  4. সাসকিন্ড, অ্যালেক্স (৮ আগস্ট ২০১৩)। "Oprah Winfrey on 'Lee Daniels' The Butler,' Returning to the Big Screen, and the Commercial Failure of 'Beloved'"মুভিফোন (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৪-০১-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  5. "What Is the Best Work of American Fiction of the Last 25 Years?"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ মে ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  6. "Beloved"টার্নার ক্লাসিক মুভিজ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  7. "BBC Radio 4 - 15 Minute Drama, Toni Morrison - Beloved, Episode 1"বিবিসি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  8. ম্যাকডোয়েল, এডউইন (১৯ জানুয়ারি ১৯৮৮)। "48 Black Writers Protest By Praising Morrison"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  9. "Writers Demand Recognition for Toni Morrison (1988)"AALBC.com’s Discussion Forums (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  10. আর, এলিনর (১ এপ্রিল ১৯৮৮)। "Morrison Novel 'Beloved' Wins Pulitzer Prize"দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  11. জিরো, ক্রিস্টোফার; নারিন্স, ব্রিগহাম (১৯৯৫)। "Beloved by Toni Morrison"। কনটেম্পরারি লিটারেরি ক্রিটিসিজম৮৭: ২৬১–৩১১। 
  12. "100 'most inspiring' novels revealed by BBC Arts"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  13. "Beloved, by Toni Morrison (Alfred A. Knopf)"পুলিৎজার পুরস্কার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 
  14. "Beloved"অ্যানিসফিল্ড-উল্‌ফ বই পুরস্কার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:টনি মরিসন