বিষয়বস্তুতে চলুন

বিল'ইন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিল'ইন
ডি-টাইপ পৌরসভা (গ্রাম পরিষদ)
আরবি প্রতিলিপি
  আরবিبلعين
  লাতিনBilin (অনানুষ্ঠানিক)
বিল'ইনের দৃশ্য
বিল'ইনের দৃশ্য
ফিলিস্তিন গ্রিড১৫৬/১৪৮
রাষ্ট্রফিলিস্তিন রাষ্ট্র
প্রদেশরামান্লাহ ও আল-বিরাহ
সরকার
  ধরনগ্রাম পরিষদ
  পৌরসভার প্রধানআহমেদ ইসা আবদুল্লাহ ইয়াসিন
আয়তন
  মোট৩৯৮৩ দুনামs (৪.০ বর্গকিমি or ১.৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১৭)[]
  মোট২,১৩৭
  জনঘনত্ব৫৩০/বর্গকিমি (১,৪০০/বর্গমাইল)
নামের অর্থবেলাইন (ব্যক্তিগত নাম)[]

বিল'ইন (আরবি: بلعين) হলো রামান্লাহ ও আল-বিরাহ প্রদেশে অবস্থিত একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম। এটি মধ্য পশ্চিম তীরের রামান্লাহ শহর থেকে ১২ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত। ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বিল'ইনের জনসংখ্যা ছিল ২,১৩৭ জন।[] ২০০০ এর দশকে গ্রামটি ইসরায়েলি দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবাদের জন্য পরিচিতি লাভ করে।[][][]

নামকরণ

[সম্পাদনা]

'বিল'ইন' (Bilʽīn) নামটি কনানীয় বা হিব্রু শব্দ 'বালিন' থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যেখানে ব্যঞ্জনবর্ণের স্থান পরিবর্তন ঘটেছে।[]

ক্লদ রেনিয়ার কনডার বিল'ইনকে বাইবেলে উল্লেখিত 'বালাত' হিসেবে শনাক্ত করার প্রস্তাব করেছিলেন। অন্যদিকে, মাইকেল আভি-ইউনাহ পরামর্শ দিয়েছিলেন যে এটি তালমুদে বর্ণিত 'বালাহ' হতে পারে।[] তবে, ইসরায়েল ফিঙ্কেলস্টাইন এবং লেডারম্যান তাদের গবেষণার ভিত্তিতে এই উভয় সম্ভাবনাকেই নাকচ করে দিয়েছেন।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
বিল'ইনের প্রধান মসজিদ

এখানে হেলেনিস্টিক, বাইজেন্টাইন, ক্রুসেডার/আইয়ুবীয় এবং মামলুক আমলের মৃৎপাত্রের টুকরো পাওয়া গেছে।[] ক্লদ রেনিয়ার কনডার বিল'ইনকে বাইবেলে উল্লেখিত 'বালাত' হিসেবে শনাক্ত করার প্রস্তাব করেছিলেন, যেখানে মাইকেল আভি-ইউনাহ এটি তালমুদে বর্ণিত 'বালাহ' হতে পারে বলে মত দেন।[] তবে, ইসরায়েল ফিঙ্কেলস্টাইন এবং লেডারম্যান তাদের প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে এই উভয় সম্ভাবনাকেই বাতিল করে দিয়েছেন।[]

অটোমান আমল

[সম্পাদনা]

এখানে প্রাথমিক অটোমান আমলের মৃৎপাত্রের টুকরো পাওয়া গেছে।[] ১৮৬৩ সালে ফরাসি অভিযাত্রী ভিক্টর গুয়েরিন দূর থেকে গ্রামটি দেখেছিলেন এবং এটিকে একটি ছোট পল্লী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।[] অন্যদিকে, ১৮৭০ সালের একটি সরকারি অটোমান গ্রাম তালিকায় এখানে ৩২টি বাড়ি এবং ১৪৭ জন বাসিন্দার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (যদিও এই জনসংখ্যায় কেবল পুরুষদের গণনা করা হয়েছিল)।[১০][১১] ১৮৮২ সালে পিইএফের 'সার্ভে অফ ওয়েস্টার্ন প্যালেস্টাইন'-এ বিল'ইনকে (তৎকালীন নাম 'বেলইন') "পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত একটি ছোট্ট গ্রাম" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[১২]

ব্রিটিশ ম্যান্ডেট আমল

[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ ম্যান্ডেট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত ১৯২২ সালের ফিলিস্তিন আদমশুমারিতে বিল'ইনের জনসংখ্যা ছিল ১৩৩ জন, যারা সবাই মুসলিম ছিলেন।[১৩] ১৯৩১ সালের আদমশুমারিতে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬৬ জনে দাঁড়ায়, যেখানে মোট ৩৯টি বাড়িতে সকলেই মুসলিম ছিলেন।[১৪]

১৯৪৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রামটিতে ২১০ জন মুসলিম বাসিন্দা ছিল।[১৫] একটি সরকারি ভূমি ও জনসংখ্যা জরিপ অনুসারে গ্রামের মোট ভূমির পরিমাণ ছিল ৩,৯৯২ দুনাম[১৬] এর মধ্যে ১,৪৫০ দুনাম জমি ছিল বাগান ও সেচযোগ্য জমি এবং ৮০০ দুনাম জমি শস্য চাষের জন্য ব্যবহৃত হতো।[১৭] এছাড়া ৬ দুনাম জমি জনবসতি এলাকা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ ছিল।[১৮]

জর্ডানি আমল

[সম্পাদনা]

১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং ১৯৪৯ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর, বিল'ইন জর্ডানের শাসনাধীনে আসে। ১৯৬১ সালের জর্ডানি আদমশুমারিতে এখানে ৩৬৫ জন বাসিন্দা পাওয়া যায়।[১৯]

১৯৬৭-পরবর্তী কাল

[সম্পাদনা]

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর থেকে বিল'ইন ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অধীনে রয়েছে। ১৯৯৫ সালে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। গ্রামটি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বেষ্টনী এবং ইসরায়েলি বসতি মোদিইন ইল্লিতের সংলগ্ন। ঐতিহাসিকভাবে একটি ছোট কৃষিপ্রধান গ্রাম হলেও বর্তমান বিল'ইন রামান্লাহ শহরের পশ্চিম প্রান্ত থেকে নয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নীল রোগাচেভস্কির মতে, বিল'ইনকে ফাতাহ আন্দোলনের একটি আদর্শিক দুর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অনেক কর্মচারী এখানে বসবাস করেন।[২০]

আদালতের রায়

[সম্পাদনা]

বিল'ইন গ্রামটি গ্রিন লাইন থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। ইসরায়েলের পশ্চিম তীরের বেষ্টনী গ্রামটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে, যার ফলে এটি তার চাষযোগ্য জমির ৬০ শতাংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।[২১] ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) একটি পরামর্শমূলক মতামত প্রদান করে যে, "অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল কর্তৃক এই প্রাচীর নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী"।[২২]

২০০৫ সালে বিল'ইনের স্থানীয় কাউন্সিল নেতা আহমেদ ইসা আবদুল্লাহ ইয়াসিন হাইকোর্ট অফ জাস্টিসে গ্রামের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ইসরায়েলি মানবাধিকার আইনজীবী মাইকেল স্ফার্ডকে নিয়োগ করেন। ২০০৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, আদালত সরকারকে বিল'ইনের কাছে প্রাচীরের রুট পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি দোরিত বিনিশ তার রায়ে লেখেন: "আমরা এই বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারিনি যে, বিল'ইনের জমির উপর দিয়ে যাওয়া বর্তমান রুটটি নিরাপত্তা বা সামরিক কারণে বহাল রাখা প্রয়োজন।" ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায় যে তারা এই রায়কে সম্মান জানাবে[২৩][২৪] এবং ২০১১ সালে তারা একটি বিকল্প পথে প্রাচীরটি স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে বর্তমান বেষ্টনীর একটি অংশ ভেঙে ফেলতে শুরু করে।[২৫]

২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে, পশ্চিম তীরের সুপ্রিম প্ল্যানিং কাউন্সিল (এসপিসি) সেই প্রকল্পটিকে "বৈধতা" দেয়, যেটিকে তৎকালীন 'হারেৎজ' পত্রিকা "পশ্চিম তীরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অবৈধ নির্মাণ প্রকল্প" হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এই প্রকল্পটি ছিল কট্টর-অর্থোডক্স ইসরায়েলি বসতি মোদিইন ইল্লিতের মাতিইয়াহু ইস্ট পাড়ায় নির্মিত ৪২টি ভবন, যার মধ্যে প্রায় ১,৫০০টি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। কানাডিয়ান নিবন্ধিত কোম্পানি 'গ্রিন পার্ক' ও 'গ্রিন মাউন্ট' এবং আরও দুটি কোম্পানি 'আইন আমি' ও 'হেফজিবা' এই নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছিল।[২৬] এসপিসি যখন তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে, তখন ভবনগুলো নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল।[২৬] এর প্রতিবাদে, মাইকেল স্ফার্ড ইসরায়েলি এনজিও পিস নাউ এবং বিল'ইনের বাসিন্দাদের পক্ষে হাইকোর্ট অফ জাস্টিসে (এইচসিজে) একটি আবেদন করেন এবং নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানান। এর আগের বছর পিস নাউ এবং বিল'ইন বাসিন্দাদের করা অন্য একটি আবেদনের ভিত্তিতে আদালত ভবনগুলোর নির্মাণ ও সেখানে বসবাস স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিল।[২৬]

স্ফার্ড অভিযোগ করেন যে, পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ যারা জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য বিল'ইন বাসিন্দাদের দাবি শুনতে অস্বীকার করেছিল, তারা এই নির্মাণের অবৈধতা সম্পর্কে সচেতন থাকা সত্ত্বেও তা বন্ধ করেনি। তিনি আরও দাবি করেন যে, বেষ্টনী স্থানান্তরের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি এমনভাবে রুট পরিকল্পনা করেছিল যাতে মোদিইন ইল্লিতের সম্প্রসারণের জন্য বিল'ইনের শত শত দুনাম কৃষি জমি দখল করা যায়।[২৬] ২০০৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ হাইকোর্ট সরকারকে পশ্চিম তীরের বেষ্টনীর ১.৭ কিলোমিটার অংশ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার ঠিক পরের দিন, আদালত মাতিইয়াহু ইস্ট নির্মাণ সংক্রান্ত দেড় বছর আগে করা আবেদনটি খারিজ করে দেয়। আদালত রায় দেয় যে বিদ্যমান ভবনগুলো বহাল থাকতে পারে, তবে বসতি স্থাপনকারী, রাষ্ট্র এবং নির্মাণ কোম্পানিগুলোকে আবেদনকারীদের ১৬০,০০০ শেকেল (NIS) আদালত ফি পরিশোধের নির্দেশ দেয়।[২৭] আবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে বসতি নির্মাণের কিছু জমি বিল'ইন বাসিন্দাদের মালিকানাধীন, তবে রাষ্ট্র দাবি করে যে মাতিইয়াহু ইস্টের জমি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি।[২৭][২৮] এই রায় সম্পর্কে 'হারেৎজ' জানায় যে, "আদালত এই যুক্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আবেদনগুলো কয়েক বছর আগেই করা উচিত ছিল... নির্মাণ কোম্পানি হেফজিবা দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর যে শত শত বসতি স্থাপনকারী অ্যাপার্টমেন্টগুলো দখল করে নিয়েছে, রাষ্ট্র তাদের সরিয়ে দেবে না... [এবং] আদালত আপাতদৃষ্টিতে এই এলাকার বর্তমান অবস্থাকেই (স্ট্যাটাস কুয়ো) অনুমোদন দিয়েছে—অর্থাৎ পাড়ার বিদ্যমান অংশটি টিকে থাকবে, তবে এটি সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে না।"[২৭]

বিল'ইনের 'পপুলার কমিটি অ্যাগেইনস্ট দ্য ওয়াল'ের সদস্য এবং বিল'ইন গ্রাম পরিষদের সচিব মোহাম্মদ খতিব বলেন, তাঁরা "এই বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো অব্যাহত রাখবেন কারণ এগুলো বিল'ইন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি"।[২৯]

'নিউ লেফট রিভিউ'ের তথ্যমতে, বিল'ইনের চারপাশের বসতিগুলোতে ইসরায়েলি ব্যবসায়ী লেভ আভনেরোভিচ লেভিয়েভ এবং শায়া বয়মেলগ্রিন তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অর্থায়ন করছেন।[৩০][৩১]

স্থানীয় বিক্ষোভ

[সম্পাদনা]
বিল'ইনে ২০০৫ সালের একটি বিক্ষোভ

২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে, ইয়াদ বার্নাতের নেতৃত্বে বিল'ইন পপুলার কমিটি অ্যাগেইনস্ট দ্য ওয়াল পশ্চিম তীরের বিচ্ছেদ প্রাচীর নির্মাণের বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক বিক্ষোভের আয়োজন করে আসছে।[৩২][৩৩][] এই বিক্ষোভগুলো গণমাধ্যমের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এতে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি ইসরায়েলি বামপন্থী গোষ্ঠী যেমন গুশ শালোম, অ্যানার্কিস্ট অ্যাগেইনস্ট দ্য ওয়াল এবং ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি মুভমেন্ট অংশগ্রহণ করে। এই বিক্ষোভগুলো গ্রাম থেকে প্রাচীর নির্মাণের স্থান পর্যন্ত মিছিল আকারে পরিচালিত হয়, যার লক্ষ্য থাকে নির্মাণ কাজ বন্ধ করা এবং ইতিমধ্যে নির্মিত অংশগুলো ভেঙে ফেলা। ইসরায়েলি বাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রাচীরের কাছে যেতে বাধা দিতে সবসময় হস্তক্ষেপ করে এবং এতে সাধারণত সহিংসতার সৃষ্টি হয়, যেখানে বিক্ষোভকারী ও সৈন্য উভয়ই গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।[৩৪][৩৫][৩৬][৩৭][৩৮] কোনো কোনো বিক্ষোভকারী বিক্ষোভে গ্যাস মাস্ক ব্যবহার করতে শুরু করেন।[৩৯] কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হওয়া এই সাপ্তাহিক বিক্ষোভগুলোতে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক কর্মীরা সমবেত হন।[৩৯] ২০০৫ সালে ছদ্মবেশী ইসরায়েলি সৈন্যরা স্বীকার করেছিল যে, তারা অন্য ইসরায়েলি সৈন্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছিল যাতে এর দায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপানো যায় এবং ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করার অজুহাত তৈরি করা যায়।[৪০]

বিল'ইনে বিক্ষোভকারীদের পাথর নিক্ষেপ

২০০৫ সালের জুনে একজন বিক্ষোভকারীর ছুড়ে মারা পাথরের আঘাতে একজন ইসরায়েলি সৈন্য তার একটি চোখ হারান। একই ঘটনায় রাবার বুলেট ব্যবহারের ফলে সাতজন বিক্ষোভকারী আহত হন, যাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।[৩৪]

২০০৫ সালের গ্রীষ্মে বিল'ইনের দুটি বিক্ষোভের বিস্তারিত বিবরণ আইরিশ সাংবাদিক ডেভিড লিঞ্চ তার 'এ ডিভাইডেড প্যারাডাইস: অ্যান আইরিশম্যান ইন দ্য হোলি ল্যান্ড' বইয়ে তুলে ধরেছেন।[৪১] ২০০৬ সালের আগস্টে লেবানন যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ দমনে ইসরায়েল সীমান্ত পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং রাবার-কোটেড বুলেট ব্যবহার করে। লিমোর গোল্ডস্টেইন নামে একজন ইসরায়েলি আইনজীবী দুবার গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।[৪২]

বিক্ষোভকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০০৭ সালের এপ্রিলে গ্রামে বেশ কিছু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।[৪৩]

উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংঘাত নিরসনে কাজের জন্য ১৯৭৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মাইরেড ম্যাগুয়ার, ২০০৭ সালের এপ্রিলে একটি বিক্ষোভের সময় রাবার-কোটেড বুলেটের আঘাতে পায়ে চোট পান এবং জানা গেছে যে তিনি প্রচুর পরিমাণে কাঁদানে গ্যাস গ্রহণ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।[৪৪]

বিল'ইন গ্রামের ফ্রিডম স্ট্রিট বা স্বাধীনতা সড়ক

২০০৮ সালের জুনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট লুইসা মরগানতিনি এবং ইতালীয় বিচারক জুলিও তোসকানো বিল'ইনে আহত হন।[৪৫] ২০০৯ সালের এপ্রিলে বিল'ইনের বাসিন্দা বাসেম ইব্রাহিম আবু-রাহমা বুকে উচ্চ গতির টিয়ার গ্যাস ক্যানিস্টারের আঘাতে নিহত হন।[৪৬][৪৭]

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ব্যবহৃত গোলাবারুদ নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করার পর ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে 'বিল'ইন পপুলার কমিটি অ্যাগেইনস্ট দ্য ওয়াল'ের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আবু রাহমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অস্ত্র রাখা, উস্কানি দেওয়া এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সৈন্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ আনা হয়।[৪৮] অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, এক 'সন্দেহজনক প্রমাণের' ভিত্তিতে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে তার বিচার করা হয় এবং "অবৈধ বিক্ষোভ আয়োজন ও অংশগ্রহণ" এবং "উস্কানি দেওয়ার" অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।[৪৯] তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল তিনজন শিশু যারা অভিযোগ করেছিল যে তিনি পাথর ছুড়তে উৎসাহিত করেছিলেন; যদিও পরবর্তীতে আদালতে তারা জানায় যে চাপের মুখে তারা এই মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিল।[৪৯] ডেসমন্ড টুটু তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান।[৫০] ২০১০ সালের ১৮ নভেম্বর তার মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তাকে আটকে রাখা হয় এবং ২০১১ সালের জানুয়ারিতে তার এক বছরের সাজা আরও চার মাস বাড়ানো হয়। তিনি ইসরায়েলের অফার কারাগারে মোট ১৫ মাস সাজা খাটেন। ডেভিড ডিন শুলম্যান তাকে গান্ধীর অহিংস নীতি বা সত্যাগ্রহের একজন প্রবক্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।[৫১] '+৯৭২ ম্যাগাজিন' তাকে ২০১০ সালের 'পারসন অব দ্য ইয়ার' হিসেবে নির্বাচিত করে।[৫২]

২০১০ সালের ১৫ মার্চ, ইসরায়েলি সৈন্যরা বিল'ইনে প্রবেশ করে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেয়, যেখানে বিচ্ছেদ প্রাচীর এবং শহরের মধ্যবর্তী এলাকাকে 'বদ্ধ সামরিক অঞ্চল' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই আদেশ অনুযায়ী প্রতি শুক্রবার সকাল ০৮:০০ থেকে রাত ২০:০০ পর্যন্ত এই এলাকা বন্ধ থাকে, যে সময়ে সাধারণত বিক্ষোভগুলো হয়। এই নিষেধাজ্ঞা বিল'ইনের ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য না হলেও ইসরায়েলি নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক কর্মীদের এই অঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।[৫৩]

২০০৫ সাল থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিল'ইনের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিক্ষোভগুলোকে চিত্রায়িত করে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা হয়, যার নাম ছিল 'ফাইভ ব্রোকেন ক্যামেরাস'। ইমাদ বার্নাত এবং গাই দাভিদি পরিচালিত এই ছবিটি ২০১২ সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং উৎসবে 'ওয়ার্ল্ড সিনেমা ডকুমেন্টারি ডিরেক্টিং' পুরস্কার জয় করে।[৫৪] এটি ৮৫তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে 'সেরা প্রামাণ্যচিত্র' বিভাগে মনোনীত হয়েছিল।[৫৫]

২০১২ সালে মোহাম্মদ বারাকাহের বিচারের সময় আইডিএফের ছদ্মবেশী সৈন্যরা সাক্ষ্য দিয়েছিল যে, তারা বিল'ইন বিক্ষোভের সময় অন্য আইডিএফ সৈন্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছিল।[৫৬]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

বাসেম আবু রাহমা

[সম্পাদনা]

২০০৯ সালের ১৭ এপ্রিল, ২৯ বছর বয়সী বাসেম আবু রাহমা বিল'ইনে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন ইসরায়েলি বাহিনীর ছোড়া টিয়ার গ্যাস ক্যানিস্টারের আঘাতে বুকে চোট পেয়ে নিহত হন।[৫৭]

তার মৃত্যুর এই ঘটনাটি ২০১১ সালের চলচ্চিত্র 'ফাইভ ব্রোকেন ক্যামেরাস'-এ চিত্রায়িত হয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি'তসেলেম জানিয়েছে যে, সেই বিক্ষোভের তিনটি আলাদা ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বাসেম যখন নিহত হন, তখন তিনি কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন না এবং ইসরায়েলি সৈন্যদের জীবনের জন্যও কোনো হুমকি ছিলেন না। ইসরায়েলের সামরিক প্রসিকিউটর জেনারেল ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রমাণের অভাব দেখিয়ে তদন্তটি বন্ধ করে দেন। তদন্ত বন্ধের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাসেমের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনজীবী এমিলি শেফার ওমের-ম্যান এবং মাইকেল স্ফার্ড আপিল করেন এবং তারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তে গড়িমসি করার অভিযোগ আনেন। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল, বিচারপতি মেনি মাজুজ নির্দেশ দেন যে রাষ্ট্রকে এই পিটিশনের জবাব ২৫ মে-র মধ্যে জমা দিতে হবে।[৫৮]

বাসেমের হত্যাকাণ্ডের ওপর ফরেনসিক আর্কিটেকচারেরএকটি তদন্তে এই উপসংহারে পৌঁছানো হয়েছে যে, "ঘাতক টিয়ার গ্যাসটি হত্যা বা পঙ্গু করার উদ্দেশ্যেই ছোড়া হয়েছিল।" ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তারা আরও যোগ করে যে: "ইসরায়েলি হাইকোর্ট রায় দিয়েছে যে, যদিও সামরিক পুলিশ এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল (অভ্যন্তরীণ সামরিক তদন্তকারী) তদন্তের নথিপত্র হারিয়ে ফেলাসহ বিভিন্ন অবহেলা করেছেন, তবুও এর অর্থ এই নয় যে বাসেম আবু রাহমার মৃত্যুর জন্য কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হবে বা দায়ী করা হবে।"[৫৯]

জাওয়াহের আবু রাহমা

[সম্পাদনা]

২০১০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর একটি সাপ্তাহিক বিক্ষোভের পর ৩৬ বছর বয়সী জাওয়াহের আবু রাহমা মারা যান।[৬০] প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালীন টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাসের আক্রমণে তিনি গুরুতর আহত হন। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ মিটার দূরে তার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।[৬১][৬২] গ্যাসের কারণে দমবন্ধ হয়ে আসার পর তাকে রামান্লাহর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে চিকিৎসায় সাড়া না দিয়ে পরের দিন তিনি মারা যান। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) সদস্যরা দাবি করেন যে, আবু রাহমা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন এমন কোনো প্রমাণ নেই অথবা টিয়ার গ্যাসেই তার মৃত্যু হয়েছে এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তারা আরও দাবি করেন যে, আবু রাহমার মৃত্যু নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে অসঙ্গতি রয়েছে।[৬৩] এসব প্রতিবেদনে উল্লিখিত আইডিএফ সৈন্যদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।[৬৪] ২০১১ সালের ১লা জানুয়ারি তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে আইডিএফের এই সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সময় বেশ কয়েকজন ইহুদি ইসরায়েলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।[৬৫] জাওয়াহের ছিলেন বিল'ইনের প্রখ্যাত সক্রিয়কর্মী বাসেম আবু রাহমার বোন, যিনি ২০০৯ সালে আইডিএফের হাতে নিহত হয়েছিলেন।[৬৬]

প্রকাশিত একটি মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, "মৃত্যুর কোনো স্পষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি, দাফন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছিল এবং কোনো ময়নাতদন্ত করা হয়নি। তথ্যে আরও জানা গেছে যে, আবু রাহমাকে অস্বাভাবিক পরিমাণে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, যা সাধারণত বিষক্রিয়া, ওষুধের ওভারডোজ বা লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।"[৬৭] তবে, আইডিএফের একজন মুখপাত্র আবু রাহমার মৃত্যুতে চিকিৎসার অবহেলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।[৬৮]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Preliminary Results of the Population, Housing and Establishments Census, 2017 (পিডিএফ)Palestinian Central Bureau of Statistics (PCBS) (প্রতিবেদন)। State of Palestine। ফেব্রুয়ারি ২০১৮। পৃ. ৬৪–৮২। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৩
  2. Palmer, 1881, p. 226
  3. 'A decade of anti-wall struggle,' আল জাজিরা ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
  4. Yael Marom, 'IDF: Palestinian nonviolent protest is an ideological crime,' +972 magazine ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
  5. 1 2 Hammad, Suzanne H.; Falk, Richard A. (২০২৪)। Emplaced resistances in occupied Palestine: stories of a village, its people, and their land। Lanham: Rowman & Littlefield। পৃ. ৩২–৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৮৬৬১-২০৪-৫
  6. Marom, Roy; Zadok, Ran (২০২৩)। "Early-Ottoman Palestinian Toponymy: A Linguistic Analysis of the (Micro-)Toponyms in Haseki Sultan's Endowment Deed (1552)"Zeitschrift des Deutschen Palästina-Vereins (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩৯ (2)।
  7. 1 2 Avi-Yonah, Michael (১৯৭৬)। "Gazetteer of Roman Palestine"Qedem: ৩৪। আইএসএসএন 0333-5844
  8. 1 2 3 4 Finkelstein, 1997, p. 157
  9. Guérin, 1869, p. 121
  10. Socin, 1879, p. 144 এটি রামলে জেলার বাইত নবালা-এর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে
  11. Hartmann, 1883, p. 140 এখানেও ৩২টি বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে
  12. Conder and Kitchener, 1882, SWP II, p. 296
  13. Barron, 1923, Table V, Sub-district of Gaza, p. 20
  14. Mills, 1932, p. 19
  15. Government of Palestine, Department of Statistics, 1945, p. 29
  16. Government of Palestine, Department of Statistics. Village Statistics, April, 1945. Quoted in Hadawi, 1970, p. 66
  17. Government of Palestine, Department of Statistics. Village Statistics, April, 1945. Quoted in Hadawi, 1970, p. 114
  18. Government of Palestine, Department of Statistics. Village Statistics, April, 1945. Quoted in Hadawi, 1970, p. 164
  19. Government of Jordan, Department of Statistics, 1964, p. 26
  20. Neil Rogachevsky "Rent-a-Crowd Fridays in Palestine" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১০-১১-৩০ তারিখে, the-american-interest.com, Nov–Dec 2010.
  21. "Judges mend fences with village cut in two"The Sydney Morning Herald। ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭।
  22. "Legal Consequences of the Construction of a Wall in the Occupied Palestinian Territory: Advisory Opinion"CasesInternational Court of Justice। ৯ জুলাই ২০০৪। ৩০ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০০৭
  23. Asser, Martin (৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। "West Bank village hails victory"BBC News। BBC MMVII। ২৩ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭
  24. Kershner, Isabel (৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। "Israeli Court Orders Barrier Rerouted"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৮
  25. Pfeffer, Anshel (২২ জুন ২০১১)। "Defense Ministry begins dismantling section of West Bank barrier"Haaretz। ২৩ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০১১The Ministry of Defense has begun in recent days dismantling a section of the West Bank separation barrier near the village of Bil'in, four years after the High Court of Justice ruled that the barrier's route must be redrawn.
  26. 1 2 3 4 "Planning council approves illegal West Bank building plan"। Ha'aretz। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। ১৬ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  27. 1 2 3 "High Court: Controversial settlement neighborhood to remain in place"। Ha'aretz। ৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  28. "High Court to hear Bil'in petition"। Jerusalem Post। ৩১ জুলাই ২০০৮।
  29. Khatib, Mohammed (২০ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। "Bil'in will continue to struggle against the wall and settlements"। Zmag। ২৫ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০১৪
  30. Algazi, Gadi (জুলাই–আগস্ট ২০০৬)। "Offshore Zionism"New Left ReviewII (40)। New Left Review।
  31. "Under the Guise of Security" (পিডিএফ)। B'Tselem Behaymos। ২৮ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০০৭
  32. "Contact Us"। Friends of Freedom and Justice Bilin। ২১ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬
  33. Hammad, Suzanne Hassan (২০২৩)। Emplaced Resistances in Occupied Palestine: Stories of a Village, Its People, and Their Land। Rowman & Littlefield। পৃ. ৩২–৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৮৬৬১-২০৪-৫
  34. 1 2 "Soldier hit by stone during anti-fence protest loses-eye"www.haaretz.com। ৩ জুন ২০০৫। ২৬ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০
  35. "Hundreds mark second anniversary of Bil'in barrier"haaretz.com। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। ২৬ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০বিক্ষোভকারীরা তাদের বিক্ষোভকে অহিংস বলে দাবি করেন, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সৈন্যরা টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড বোমা এবং রাবার-কোটেড স্টিল বুলেট নিক্ষেপ করে এবং বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোড়ে। ফিলিস্তিনিদের ছোড়া পাথরে এক সৈন্য তার চোখ হারায় এবং দাঙ্গা দমনের পদক্ষেপের সময় তিনজন ফিলিস্তিনিও তাদের একটি করে চোখ হারায়।
  36. "22 wounded in weekly Bil'in anti-separation fence protest"haaretz.com। ২০ মার্চ ২০০৭। ২৬ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০
  37. "Israel pays NIS 3.25 million to protester shot by Border Police"haaretz.com। ২৮ জুলাই ২০০৯। ২৯ অক্টোবর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০
  38. "Mass demonstration in Bil'in marks five years of protests against West Bank separation fence"haaretz.com। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০
  39. 1 2 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১০-১১-৩০ তারিখে, the-american-interest.com, Nov–Dec 2010.
  40. Chaim Levinson, "Undercover Israeli combatants threw stones at IDF soldiers in West Bank" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে, Haaretz, 7 May 2012.
  41. A Divided Paradise: An Irishman in the Holy Land (New Island), David Lynch, Chapter One, Under Fire in Bil'in, pp. 1-31
  42. Laub, Karin (১৬ মে ২০০৮)। "Arab village's fence war wins some Israeli hearts"। FOXNews.com। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৮
  43. "Bil'in Conference 2007"। International Solidarity Movement against Israel। ২১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০০৭
  44. Waked, Ali (২০ জুন ১৯৯৫)। "Nobel peace laureate Corrigan injured in anti-fence protest"Ynetnews। Ynetnews.com। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০
  45. BBC EU VIPs hurt at West Bank protest
  46. "Palestinian killed in Bilin protest"Ynetnews। Ynetnews.com। ২০ জুন ১৯৯৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০
  47. "MEMORIAL: Remembering Bassem Abu Rahmah of Bil'in"। ১৭ এপ্রিল ২০১০। ৭ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১১
  48. Daniel Edelson (২৩ ডিসেম্বর ২০০৯)। "Bil'in resident charged with displaying used bullets"Ynetnews। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৬
  49. 1 2 "Israeli military court extends jail term for Palestinian anti-wall activist", Amnesty International, 11 January 2011.
  50. Amira Hass (২৪ ডিসেম্বর ২০০৯)। "For Palestinians, possession of used IDF arms is now a crime"Haaretz। ২ মার্চ ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৬
  51. David Dean Shulman, "Salt march to the Dead Sea: Gandhi's Palestinian reincarnation" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২৩-০২-২৪ তারিখে, Harper's, June 2011 edition, page 78.
  52. "+972 Magazine's Person of the Year: Abdullah Abu Rahmah", +৯৭২ ম্যাগাজিন, 30 December 2010.
  53. "Maan News Agency: Masked soldiers post closed zone signs in Bil'in, Ni'lin"। Maannews.net। ২৪ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০
  54. "5 Broken Cameras"। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০১২
  55. "2013 Oscar Nominees"। ২৯ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৩
  56. Chaim Levinson, "Undercover Israeli combatants threw stones at IDF soldiers in West Bank": testimony by commander of the Israeli Prison Service's elite 'Masada' unit sheds light on IDF methods in countering demonstrations against barrier ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে, Haaretz, 7 May 2012.
  57. McCarthy, Rory (১৭ এপ্রিল ২০০৯)। "Tear gas canister shot kills Palestinian demonstrator"The Guardian। London, UK।
  58. "Six years later, Abu Rahmeh family still fighting for justice", Ma'an News Agency, 11 April 2015.
  59. The Killing Of Bassem Abu Rahma, Forensic Architecture
  60. Sherwood, Harriet (৬ জানুয়ারি ২০১১)। "Israeli military and Palestinians clash over death of West Bank woman"The Guardian। London, UK।
  61. Goodman, Amy (৪ জানুয়ারি ২০১১), "Eyewitnesses Describe Death of Palestinian Woman in Israeli Tear Gas Attack", Democracy Now!: The War and Peace Report, ১৭ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১১
  62. Garcia-Navarro, Lourdes (৪ জানুয়ারি ২০১১), "Activists Accuse Israel Of Cracking Down On Dissent", NPR, ২৪ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১১
  63. IDF: No proof Palestinian woman died from tear gas at protest ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ জুলাই ২০১৫ তারিখে, haaretz.com; accessed 27 January 2016.
  64. Kershner, Isabel (৪ জানুয়ারি ২০১১), "Debate Surrounds Death of Palestinian Woman", The New York Times, সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১১
  65. Karon, Tony (৪ জানুয়ারি ২০১১), "Israeli Leftists Show Alliance in Wake of Palestinian's Death", TIME, ৬ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১১
  66. Kershner, Isabel (১ জানুয়ারি ২০১১)। "Tear Gas Kills a Palestinian Protester"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১৮
  67. Medical report on death of Jawaher Abu Rahmah, ynetnews.com; accessed 27 January 2016.
  68. IDF Spokesman denies Jawaher Abu Rahmah died of medical negligence, 972mag.com; accessed 27 January 2016.

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]