বিমান গোয়েন্দা অধিদপ্তর (বাংলাদেশ)
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রতীক | |
| সংস্থার রূপরেখা | |
|---|---|
| গঠিত | ১৯৭৭ |
| ধরন | সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা |
| সদর দপ্তর | ঢাকা সেনানিবাস, বাংলাদেশ |
| সংস্থা নির্বাহী |
|
| মূল সংস্থা | বাংলাদেশ বিমানবাহিনী |
বিমান গোয়েন্দা অধিদপ্তর (ইংরেজি: Directorate of Air Intelligence; সংক্ষিপ্ত: DAI; বাংলা: বিমান গোয়েন্দা অধিদপ্তর) হলো বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমানিক অপারেশনের জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং বিতরণের দায়িত্ব পালন করে। অধিদপ্তরটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিমান মূলকার্যালয়ে অবস্থিত এবং বিমান বাহিনীর প্রধান এর কাছে রিপোর্ট করে।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]বিমান গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উৎপত্তি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ-এর পরবর্তী সময়ে। যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন সেক্টরে গেরিলা গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, যা স্বাধীনতা-উত্তরকালে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা কাঠামোর ভিত্তি হয়। প্রথমে এটি অফিস অব এয়ার ইন্টেলিজেন্স (OAI) নামে কাজ শুরু করে।
১৯৭৭ সালের বাংলাদেশ বিমানবাহিনী বিদ্রোহ-এর পর এটি পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপান্তরিত হয়। বিদ্রোহকালে বিমানবাহিনীর সদস্যরা জিয়াউর রহমানের সরকার উৎখাত করার চেষ্টা করে, যাতে কমপক্ষে ছয়জন অফিসার নিহত হয়। বিদ্রোহ দমনের পর সামরিক গোয়েন্দা কাঠামো পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার ফলে ডিজিএফআই গঠিত হয় এবং বিমান গোয়েন্দা অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা হয়।[১] এই পুনর্গঠন জিয়াউর রহমান-এর নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়।
কাঠামো
[সম্পাদনা]অধিদপ্তরটি হায়ারার্কিক্যাল কাঠামোর অধীনে কাজ করে, যার শীর্ষে একজন
- এয়ার কমোডোর পদের পরিচালক থাকেন। তাঁর অধীনে:
- ডেপুটি পরিচালক (গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদের)
- স্টাফ অফিসার (উইং কমান্ডার এবং নিম্নপদের)
এটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর চারটি প্রধান শাখার (অপারেশনস অ্যান্ড ট্রেনিং, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, মেইনটেন্যান্স, প্ল্যানিং) অধীনে স্থান পায়।[২]
কার্যাবলী
[সম্পাদনা]বিমান গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মূল দায়িত্বসমূহ:
- অপারেশনাল গোয়েন্দা: বিমানিক হুমকি, শত্রু ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক বিমানিক কার্যকলাপের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ।
- নিরাপত্তা যাচাই: অফিসার ক্যাডেট, সরবরাহকারী এবং বিমানবাহিনীতে যোগদানকারীদের পটভূমি যাচাই।
- সমন্বয় ও যোগাযোগ: ডিজিএফআই, সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাথে তথ্য আদান-প্রদান।
- কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স: বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, যেমন বিদেশী গুপ্তচরবৃত্তির প্রচেষ্টা।
অধিদপ্তরটি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিমানবাহিনীর কনটিনজেন্টের জন্য গোয়েন্দা ব্রিফিং প্রদান করে।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা
[সম্পাদনা]- ১৯৭৭ বিমানবাহিনী বিদ্রোহ: বিদ্রোহ দমন এবং পরবর্তী পুনর্গঠন অধিদপ্তরের গঠনের মাইলফলক।
- ভারতীয় গুপ্তচরবৃত্তি কেলেঙ্কারি, ২০২৪-২০২৫: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের সময় কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং -এর গুপ্তচর নেটওয়ার্ক প্রকাশ পায়। বিমান গোয়েন্দা অধিদপ্তর ভিডিও এবং ছবির ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্কোয়াড্রন লিডার আব্দুল্লাহ ইবনে আলতাফসহ সাতজন উচ্চপদস্থ অফিসারকে চিহ্নিত করে, যারা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ডিজিএফআই-এর সাথে যৌথ তদন্তে আলতাফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।তবে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) এই দাবিকে ভুল বলে খারিজ করে দিয়েছে এবং বলেছে যে কোনো উচ্চপদস্থ অফিসারকে RAW-এর সাথে যুক্ততার কারণে অবসরে পাঠানো হয়নি। [৩][৪][৫]
- যৌথ অভিযান: ডিজিএফআই-এর সাথে যৌথ গুপ্তচরবৃত্তি-বিরোধী অভিযান পরিচালনা, যেমন ২০২৫ সালের পাকিস্তানের সাথে গোয়েন্দা সহযোগিতা।[৬]
সূত্রসূচি
[সম্পাদনা]- ↑ Special to the New York Times (২ অক্টোবর ১৯৭৭)। "Bangladesh Says It Has Put Down An Armed Coup"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ Shafqat, Sahiba (২০২২)। "Bangladesh: Intelligence Culture and Reform Priorities"। ResearchGate। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Bangladesh's Interim Government has sent high-ranking air guard officers and police officers to retirement who worked as India's RAW informants"। Global Defense Corp। ৪ আগস্ট ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "RAW network inside Bangladesh Air Force Exposed"। DefencePK। ৪ আগস্ট ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "ISPR bins allegations of RAW network in BAF"। Jagonews24। ৪ আগস্ট ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Bangladesh's DGFI on a secret mission to Pakistan to meet ISI to counter India"। The Economic Times। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৫।