বিষয়বস্তুতে চলুন

বিন্দুসার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিন্দুসার
চক্রবর্তী সম্রাট
মৌর্য্য সম্রাট
রাজত্বখ্রিস্টপূর্ব ২৯৮ – খ্রিস্টপূর্ব ২৭২
রাজ্যাভিষেকখ্রিস্টপূর্ব ২৯৮
পূর্বসূরিচন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য
উত্তরসূরিঅশোক
জন্মখ্রিস্টপূর্ব ৩২০
মৃত্যুখ্রিস্টপূর্ব ২৭২ (বয়স ৪৮ বছর)
দাম্পত্য সঙ্গীচারুমিত্রা
সুভদ্রাঙ্গী
বংশধরসুসীম
অশোক
বীতাশোক
রাজবংশমৌর্য্য
পিতাচন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য
মাতাদুর্ধরা[]
ধর্মবৈদিক ধর্ম[][]
আজীবিক

বিন্দুসার (সংস্কৃত: बिन्दुसार) বা সিংহসেন (সংস্কৃত: सिहंसेन) (খ্রিস্টপূর্ব ৩২০ - খ্রিস্টপূর্ব ২৭২) দ্বিতীয় মৌর্য্য সম্রাট ছিলেন, যিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের পর ২৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসন লাভ করেন। তিনি যিনি গ্রিকদের নিকট আমিত্রোখাতেস বা আল্লিত্রোখাদেস নামে পরিচিত ছিলেন, যা সংস্কৃত শব্দ অমিত্রঘাত (সংস্কৃত: अमित्रघात) বা শত্রু বিনাশকারী থেকে উদ্ভূত হয়েছে।[]

বিন্দুসার প্রথম মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য ও তাঁর পত্নী দুর্ধরার সন্তান ছিলেন। জন্মের সময় তার নাম রাখা হয় সিংহসেন। [] জৈন প্রবাদানুসারে, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের উপদেষ্টা চাণক্য শত্রু দ্বারা বিষপ্রয়োগে হত্যা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে শারীরিক প্রতিষেধক তৈরী করার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যকে তাঁর অজান্তে অল্প মাত্রায় বিষ পান করাতেন।[] একদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য তার বিষযুক্ত খাবার অন্তঃসত্ত্বা দুর্ধরার সঙ্গে ভাগ করে খেলে, দুর্ধরার মৃত্যু হয়। তাঁর সন্তানকে বাঁচাতে চাণক্য সদ্যমৃত দুর্ধরার পেট কেটে তাকে বের করে আনেন।[][]

সাম্রাজ্যলাভ

[সম্পাদনা]

২৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মাত্র বাইশ বছর বয়সে পিতৃসূত্রে বিন্দুসার এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। এই সাম্রাজ্যকে তিনি দক্ষিণ দিকে আরো প্রসারিত করেন এবং কলিঙ্গ, চের, পাণ্ড্যচোল রাজ্য ব্যতিরেকে সমগ্র দক্ষিণ ভারত ছাড়াও উত্তর ভারতের সমগ্র অংশ তাঁর করায়ত্ত হয়। তাঁর রাজত্বকালে তক্ষশীলার অধিবাসীরা দুইবার বিদ্রোহ করেন কিন্তু বিন্দুসারের পক্ষে তা দমন করা সম্ভব হয়নি।

বৌদ্ধ গ্রন্থানুসারে, বিন্দুসার ব্রাহ্মণ্য ধর্ম মত বিশ্বাস করতেন। তাঁর আধ্যাত্মিক শিক্ষক পিঙ্গলবস্ত বা জনাসন একজন ব্রাহ্মণ শৈব ছিলেন।[] বিন্দুসারের পত্নী সুভদ্রাঙ্গীও শৈব ধর্মমতে বিশ্বাসী ছিলেন।[১০] বিন্দুসার বেশ কিছু ব্রাহ্মণভট্টো বা ব্রাহ্মণ মঠেও দান ধ্যান করেন।[১১]

জনপ্রিয় মাধ্যমে

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Radha Kumud Mookerji (১৯৬৬)। Chandragupta Maurya and His Times: Madras University Sir William Meyer Lectures, 1940-41Motilal Banarsidass। পৃ. ২৩৪। আইএসবিএন ৮১২০৮০৪০৫৮
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; SMH_2001 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  3. Beni Madhab Barua (১৯৬৮)। Asoka and His Inscriptions। খণ্ড ১। The New Age। পৃ. ১৭১।
  4. Strabo (১৯০৩), The Geography of Strabo: Literally Translated, With Notes, খণ্ড ১, Translated by H. C. Hamilton, Esq. And W. Falconer, M.A., London: George Bell & Sons, পৃ. ১০৯, সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০১৩
  5. Hurry, Alain Daniélou ; translated from the French by Kenneth (২০০৩)। A brief history of India। Rochester. VT: Inner Traditions। পৃ. ১০৮আইএসবিএন ৯৭৮-০৮৯২৮১৯২৩২{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  6. Wilhelm Geiger (১৯০৮)। The Dīpavaṃsa and Mahāvaṃsa and their historical development in Ceylon। H. C. Cottle, Government Printer, Ceylon। পৃ. ৪০। ওসিএলসি 559688590
  7. M. Srinivasachariar। History of classical Sanskrit literature (3 সংস্করণ)। Motilal Banarsidass। পৃ. ৫৫০। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০২৮৪-১
  8. Jainism in South India by P. M. Joseph. International School of Dravidian Linguistics, 1997. আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮৫৬৯২-২৩-৪.
  9. Arthur Llewellyn Basham (১৯৫১)। History and doctrines of the Ājīvikas: a vanished Indian religion। foreword by L. D. Barnett (1 সংস্করণ)। London: Luzac। পৃ. ১৩৮, ১৪৬। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০১৩
  10. Anukul Chandra Banerjee (১৯৯৯)। Sanghasen Singh (সম্পাদক)। Buddhism in comparative light। Delhi: Indo-Pub. House। পৃ. ২৪। আইএসবিএন ৮১৮৬৮২৩০৪২। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০১৩
  11. Beni Madhab Barua; Ishwar Nath Topa (১৯৬৮)। Asoka and his inscriptions। খণ্ড ১ (3rd সংস্করণ)। Calcutta: New Age Publishers। পৃ. ১৭১। ওসিএলসি 610327889। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০১৩
বিন্দুসার
রাজত্বকাল শিরোনাম
পূর্বসূরী
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য
মৌর্য্য সম্রাট
খ্রিস্টপূর্ব ২৯৮ – খ্রিস্টপূর্ব ২৭২
উত্তরসূরী
অশোক