বিজয় মাঞ্জরেকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বিজয় মাঞ্জরেকার
বিজয় মাঞ্জরেকার.png
১৯৫২ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে বিজয় মাঞ্জরেকার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামবিজয় লক্ষ্মণ মাঞ্জরেকার
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
সম্পর্কসঞ্জয় মাঞ্জরেকার (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক৩০ ডিসেম্বর ১৯৫১ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫ বনাম নিউজিল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৫ ১৯৮
রানের সংখ্যা ৩২০৮ ১২৮৩২
ব্যাটিং গড় ৩৯.১২ ৪৯.৯২
১০০/৫০ ৭/১৫ ৩৮/৫৬
সর্বোচ্চ রান ১৮৯* ২৮৩
বল করেছে ২০৪ ১৪১১
উইকেট ২০
বোলিং গড় ৪৪.০০ ৩২.৮৫
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ১/১৬ ৪/২১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৯/২ ৭২/৬
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭

বিজয় লক্ষ্মণ মাঞ্জরেকার (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৩১ - মৃত্যু: ১৮ অক্টোবর, ১৯৮৩) বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫১ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে ভারত দলের পক্ষে ৫৫ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন বিজয় মাঞ্জরেকার। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও দলের প্রয়োজনে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ছিলেন তিনি। কাটার ও হুকের সাহায্যে ব্যাটিংকালে রানের ফুলঝুরি ঝরাতেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে অফ-স্পিনার ও উইকেট রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন।

রঞ্জী ট্রফিতে ৬টি দলের পক্ষে খেলেছেন তিনি। বোম্বে, বাংলা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৫৭.৪৪ গড়ে ঐ প্রতিযোগিতায় ৩,৭৩৪ রান তুলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫১ সালে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বিজয় মাঞ্জরেকারের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। অভিষেকেই ৪৮ রানের দর্শনীয় ইনিংস উপহার দেন তিনি। একই দলের বিপক্ষে জুন, ১৯৫২ সালে হেডিংলিতে ১৩৩ রানের মনোজ্ঞ প্রথম শতরানের সন্ধান পান। এটিই ইংল্যান্ডে তাঁর প্রথম টেস্ট ছিল ও বয়স মাত্র ২০ ছিল। তিনি যখন ব্যাটহাতে মাঠে নামেন, তখন ভারতের সংগ্রহ ছিল ৩৪২। ট্রুম্যান, বেডসারলেকারের ন্যায় বিখ্যাত বোলারদের উপস্থিতি স্বত্ত্বেও তিনি ছিলেন বেশ সপ্রতিভ।

১৯৫২ সালের হেডিংলি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বিধ্বস্ত ভারত দলের ০/৪ সূচনায় পঙ্কজ রায়, দত্তজীরাও গায়কোয়াড় ও মাধব মন্ত্রীর সাথে তিনিও জড়িত ছিলেন। ফ্রেড ট্রুম্যানের বোলিং তোপের মুখে পড়েন তাঁরা।

বিজয় হাজারের সাথে ২২২ রানের জুটি গড়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা জানান দেন। তবে শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতার পথে নিজের ওজন ও পায়ের কারুকাজ বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন ৩৯ গড়ে পৌঁছে। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেরা সিরিজ খেলেন। ৮৩.৭১ গড়ে ৫৮৬ রান তুলেন। তন্মধ্যে খেলোয়াড়ী জীবনে সংগৃহীত ৭ সেঞ্চুরির মধ্যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৮৯ রানের ইনিংস খেলেন ফিরোজ শাহ কোটলা মাঠে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ৫৯ ও ৩৯ রানের ইনিংস খেলে টেস্ট জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। জীবনের শেষ ইনিংসেও বেশ ভালো খেলেন। ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ সালে মাদ্রাজের এমএচিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ কীর্তিগাঁথা রচনা করেন।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

কোন ছক্কা বাদেই সর্বাধিক ৩,২০৮ রান তুলে রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের জোনাথন ট্রট তাঁর এ রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলে নিজের করে নেন। [১]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৮ অক্টোবর, ১৯৮৩ তারিখে ৫২ বছর বয়সে মাদ্রাজে বিজয় মাঞ্জরেকারের দেহাবসান ঘটে। ভারতের প্রথিতযশা টেস্ট ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের পিতা তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Walmsley, Keith (২০০৩)। Mosts Without in Test Cricket। Reading, England: Keith Walmsley Publishing Pty Ltd। পৃষ্ঠা 457। আইএসবিএন 0947540067 .

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]