বাহরাইনে নারীর অধিকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাহরাইনে একটি মেয়ে

বাহরাইনে নারীর অধিকার দ্বারা সূচিত রাজনৈতিক সংস্কারের একটি ভিত্তিপ্রস্তর হল রাজা হামাদ কর্তৃক ২০০২ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রথমবারের মহিলাদের ভোট প্রদানের ক্ষমতা প্রদান এবং প্রার্থী হিসাবে জাতীয় নির্বাচনের প্রতিদন্ধিতার অধিকার প্রদান। সমান রাজনৈতিক অধিকারের সম্প্রসারণের সঙ্গে সরকারের মধ্যে কর্তৃত্বের পদে নারীদের উন্নীত করার জন্য সচেতনতামূলক অভিযান করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

মহিলাদের ভোট দেওয়ার পদক্ষেপটি ২০০২ সালে বেশ কয়েকটি বিস্তৃত রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ ছিল, যা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদ প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি প্রত্যক্ষ করেছে। নারীদের ২০০২ সালের আগে কোনো রাজনৈতিক অধিকার ছিল না এবং তারা নির্বাচনে ভোট দিতে পারত না এবং প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতেও পারত না।

যাইহোক, বাহরাইন সমাজের কিছু অংশ থেকে রাজনৈতিক অধিকার সম্প্রসারণের ব্যাপারে কিছু দ্বিধা ছিল, ২০০১ সালে বাহরাইনের ৬০% নারী মহিলাদের ভোট বাড়ানোর বিরোধিতা করেছিল। [১]

যদিও২০০২ সালে পৌরসভা ও সংসদ উভয় নির্বাচনে অনেক মহিলা প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু কেউই পদে নির্বাচিত হননি। আল ওয়েফাক, আল- মেনবার ইসলামিক সোসাইটি এবং আসলাহ এর মত ইসলামী দলগুলির প্রার্থী তালিকায় কোন নারী প্রার্থী ছিল না।

সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের খারাপ ফলাফলের পর, একজন খ্রিস্টানসহ ছয়জন নারীকে পার্লামেন্টের চেম্বার শুরা কাউন্সিলে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে বাহরাইন তার প্রথম মহিলা মন্ত্রী, ডাঃ নাদা হাফফাদকে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদে এবং ২০০৫ সালে, দ্বিতীয় মহিলা মন্ত্রী ডাঃ ফাতিমা আলবালুশি'কে মন্ত্রিসভায় নিযুক্ত করেন। একজন ইহুদি কর্মী হাউদা এজরা ননুকে ২০০৫ সালে শুরা কাউন্সিলের নিযুক্ত করা হয়েছিল, যিনি ২০০৪ সাল থেকে বাহরাইন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সোসাইটির [২] যা বাহরাইনে মৃত্যুদণ্ড পুনঃপ্রবর্তনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছিল। শুরা সদস্য আলেস সামান ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে আরব বিশ্বে প্রথম নারী হিসাবে শুরা কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করেন। প্রধান মহিলা সংস্থা সুপ্রিম কাউন্সিল ফর উইমেনেরএ প্রধান মিসেস লুলওয়া আল আওধীকে 'সম্মানিত ক্যাবিনেট মন্ত্রী' উপাধি দেওয়া হয়।

২০০৬-এর নির্বাচন[সম্পাদনা]

২০০৬ সালের বাহরাইনের সাধারণ নির্বাচনে ১৮ জন মহিলা প্রার্থী দাঁড়িয়েছিলেন। বেশিরভাগ মহিলা প্রার্থীরা বামপন্থী দল বা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যেখানে কোনো ইসলামী দল থেকে মহিলার প্রতিনিধিত্ব করেনি, যদিও সালাফবাদী দল আসালাহই একমাত্র দল, যারা প্রকাশ্যে মহিলাদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিরোধিতা করেছিল। নির্বাচনী এলাকায় তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন থেকে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করার কারণে একমাত্র মহিলা প্রার্থী লতিফা আল গাউদ নির্বাচনে জয়ী হন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Archived copy"। ২০০৭-০৩-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-৩০ 
  2. Habib Toumi (২০০৫-০৯-০৪)। "Bahraini Jewish woman elected rights body head"। gulfnews.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৫-৩১