বিষয়বস্তুতে চলুন

বাহমানী-বিজয়নগর মহাযুদ্ধ (১৩৬২-১৩৬৭)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

১৩৬২ থেকে ১৩৬৭ সাল পর্যন্ত চলমান বাহমানি-বিজয়নগর যুদ্ধ,[] চতুর্দশ এবং পঞ্চদশ শতাব্দীতে দাক্ষিণাত্য ভারতে বাহমানি সালতানাত এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্যের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংঘাত। বাহমানি শাসক প্রথম মুহম্মদ শাহ তার রাজ্যে বিজয়নগরের মুদ্রা নিষিদ্ধ করলে উভয় রাজ্যেই মুদ্রা গ্রহণ বিষয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই পদক্ষেপটি বিজয়নগরের প্রথম বুক্কা রায়কে কানহাইয়ার ওয়ারঙ্গলের তৎকালীন শাসক মুসুনুরি নায়ক এবং স্থানীয় পোদ্দারদের সাথে একটি জোট গঠন করতে প্ররোচিত করে, যার ফলে বাহমানি মুদ্রা ধ্বংস হয় এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় যা সরাসরি যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। এটি ছিল ভারতে প্রথম যুদ্ধ যেখানে ইউরোপীয়রা দাক্ষিণাত্যে যুদ্ধ করেছিল এবং পদাতিক বাহিনী ব্যবহার করা হয়েছিল।

সংঘাতটি আরও তীব্রতর হয় যখন বাহমানিরা ঘোড়া ব্যবসা নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ ওয়ারাঙ্গলের রাজপুত্রকে মৃত্যুদন্ড দেয়। এই ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত ওয়ারঙ্গলকে প্রজারাষ্ট্রে পরিণত করে যার ফলে দুই শক্তির মধ্যে শত্রুতা আরও উসকে যায়। যুদ্ধ অগ্রগতির সাথে সাথে, মুদগাল এবং কাউথালে বিজয়নগর বাহিনীর উপর বাহমানিদের জয়লাভের ফলে বেসামরিক জনগণের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। ১৩৬৭ সালে, মুহাম্মদ শাহ বিজয়নগর অবরোধ করেন যেখানে পরপর দুটি পরাজয়ের পর বুক্কা রায় আত্মগোপন করে এবং বিজয়নগরের জনসংখ্যাকে গণহত্যা করেন। শেষে বুক্কা রায় শান্তিচুক্তি করতে বাধ্য হন। তবে, সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। পরবর্তী যুদ্ধগুলি বিজয়নগরের সম্পদ এবং জনসংখ্যাকে আরও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। ওয়ারঙ্গলের শাসক কানহাইয়া এই অভিযানের সময় বাহমানি সুলতানকে বিখ্যাত তখত-এ-ফিরোজা সিংহাসন হাদিয়া পেশ করেন।

শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে যার লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যত সংঘাতে বেসামরিক গণহত্যা প্রতিরোধ করা। চুক্তিটি চতুর্দশ শতাব্দীর দাক্ষিণাত্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত চিহ্নিত করে। এই যুদ্ধ আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে জটিল গতিশীলতা এবং এ অঞ্চলের বেসামরিক জনগোষ্ঠীর উপর সংঘাতের বিধ্বংসী প্রভাবকে ব্যক্ত করে।

পটভূমি

[সম্পাদনা]

কান্নানুরের যুদ্ধে মাদুরাই সালতানাতের কাছে পরাজয় ঘটলে রাজা বীর বল্লাল ৩য় এর মৃত্যুর মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের হৈসল রাজবংশের পতন ঘটে। এসময় কতিপয় রাজকর্মকর্তা রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ছিল তিনজন। তারা হল প্রথম হরিহর, প্রথম বুক্কা রায়, তাদের দুইজন ভাতুষ্পুত্র এবং বুক্কার পুত্র কম্পন। প্রথম হরিহর মারাঠা অঞ্চল শাসন করত, অন্যদিকে প্রথম বুক্কা রায় হাম্পি এবং দ্বারসমুদ্র শাসন করত। তাদের ছোট দুই ভাই ছোট পদে অধিষ্ঠিত ছিল আর বুক্কার পুত্র কম্পন ছিল হৈসল রাজার খাসকামরা প্রধান। এই চার ভাতৃ এবং তাদের ভাতুষ্পুত্রই চতুর্দশ শতাব্দীতে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে। এদিকে বাহমানিরা দাক্ষিণাত্যে তাদের ক্ষমতা সুসংহত করে এবং দিল্লির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। প্রথম হরিহর বিজয়নগরের প্রথম রাজা হন। তিনি বাহমানি সালতানাতের আলাউদ্দিন বাহমান শাহের স্বাধীনতা স্বীকার করে নেন। হরিহরের মৃত্যুর সময়, পাঁচ ভাতৃসংঘের মধ্যে একমাত্র জীবিত প্রতিনিধি ছিলেন বুক্কা রায়। এদিকে দিল্লি সালতানাতের ফিরোজ শাহ তুঘলক যখন ঘোষণা করেন যে, তিনি দক্ষিণকে দিল্লির শাসনাধীনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন না; তখন বিজয়নগর এবং বাহমানীর শাসকরা এই উদ্বেগ থেকে স্বস্তি লাভ করে। কিন্তু উভয়ের মাঝে স্বাধীনভাবে বৈরিতা তৈরী হয়।[] একই সময়ে কাকতীয় রাজবংশের অন্তর্ভুক্ত কানহাইয়া বা কনহাইয়া নায়ক[] বা কন্যা নায়ক নামেও পরিচিত[] শাসক বিজয়নগর রাজ্যের মধ্যেই মুসুনুরি নায়ক প্রধান হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।[]

আলাউদ্দিন বাহমান শাহের ওফাতের পর তার পুত্র মুহাম্মদ শাহ প্রথম বাহমানি সালতানাতের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।[] প্রথম মুহাম্মদ শাহের শাসনামলে বাহমানী ও বিজয়নগরের মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত হয়। [] সাধারণত, দুই রাজ্যের মধ্যে ধর্মীয় বৈষম্যের কারণে তাদের দ্বন্দ্বকে ধর্মীয় যুদ্ধ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। যার ফলে ধারণা করা হয় যে বিজয়নগর সাম্রাজ্য বাহমানীদের ভ্যাসাল রাজ্য ছিল। আদতে এই ধারণাগুলি মধ্যযুগীয় যুগের অতিরঞ্জন ছিল। বাস্তবে, বাহমনি এবং বিজয়নগরের মধ্যে যুদ্ধগুলি ধর্মীয় প্রকৃতির কারণে হয় নাই, বরং সম্পদ এবং অঞ্চল অধিগ্রহণের জন্য ধর্মনিরপেক্ষ একটি বৈরিতা ছিল। এই বৈরিতায় বাহমানিদের বিজয় সত্ত্বেও, বিজয়নগর কখনই কোনো সময়েই অঙ্গরাজ্যতার নতি স্বীকার করেনি।[]

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, কৃষ্ণা ও তুঙ্গভদ্রা নদীর মধ্যে ভূমি প্রসারণ পশ্চিম চালুক্য, চোল, সেইসাথে যাদব এবং হৈসলসহ বিভিন্ন রাজবংশের মধ্যে বিবাদের একটি বিন্দু হয়ে উঠেছিল। হৈসল ও যাদব সাম্রাজ্য ইতোপূর্বে বাহমানী এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্যের দাবি করা অঞ্চলগুলির উপর শাসন করত। যখন এসব সাম্রাজ্যের অবশিষ্টাংশ থেকে বাহমানী এবং বিজয়নগরের উদ্ভব ঘটে, তখন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তদুপরি, এই দুটি রাষ্ট্র গঠনের চারপাশের অনন্য পরিস্থিতি তাদের মধ্যে ঘন ঘন যুদ্ধকে একটি সাধারণ ঘটনা করে তুলে। সূচনাকালে, প্রতিটি রাজ্যই রায়চুর দোয়াব দূর্গের শুধুমাত্র কিছু অংশ অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হয়ে, তবুও পূর্বসূরিদের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসাবে উভয় রাজ্যই সমগ্র অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্খা করত।[]

ভূমিকা

[সম্পাদনা]

সুলতান বাহমান শাহ তার শাসনামলে বিজয়নগরের স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন নিষিদ্ধ করেন। জবাবে, বুক্কা রায়া বিদ্রোহ করেন এবং দাক্ষিণাত্যের পোদ্দারদের সমর্থনে বাহমানি মুদ্রা গলিয়ে দেন। [] বাহমানিরা এর বিরুদ্ধে পোদ্দারদের সতর্ক করে। ১৩৪০ সালের মধ্যেই বাহমানি অঞ্চলের সমস্ত পোদ্দার এবং টাকশালাদের বন্দী করে হত্যা করা হয়। তাদের বংশধরদের পরবর্তী চল্লিশ বছর ব্যবসা পরিচালনা করতে নিষিদ্ধ করা হয়। [১০]

আলাউদ্দিন বাহমান শাহের মুদ্রা

বিজয়নগরের রাজা বুক্কা রায়, সার্বভৌমত্বের চিহ্ন হিসাবে স্বর্ণমুদ্রা জারি করার বাহমানী দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এবং রায়চুর দোয়াব দূর্গ বিজয়নগরের কাছে হস্তান্তর করার তলব করেন। এদিকে ওয়ারাঙ্গলের শাসক কানহাইয়া কৌলাসের দুর্গের দাবি করে বসেন, যা পূর্বে বাহমান শাহকে দেওয়া হয়েছিল। আবার তার পুত্র মুহাম্মদ শাহও পিতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এই দূর্গের দাবি করে বসে।[] এদিকে বুক্কা রায় বাহমানিদেরকে দাক্ষিণাত্য আক্রমণ করার জন্য দিল্লি সালতানাতের জোটে যোগদানের হুমকিও দিয়েছিলেন। কিন্তু বাহমানি সুলতান মুহাম্মদ শাহ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত তার প্রত্যুত্তর দিতে বিলম্বিত করেন। অবশেষে যখন তিনি প্রতিক্রিয়া জানালেন, তখন তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে কেন তার অঙ্গরাজ্য বিজয়নগর তার অভিষেকের সময় তাকে উপহার পাঠাননি। এটি অন্তত একবার করা উচিত ছিল।[১০] মুহম্মদ শাহের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বিজয়নগর ও ওয়ারাঙ্গলের শাসকদেরকে বাহমানীদের বিরুদ্ধে জোট গঠনে উদ্বুদ্ধ করে।[]

কৌলাসের যুদ্ধ (১৩৬২)

[সম্পাদনা]

১৩৬২ সালে, ওয়ারাঙ্গলের রাজা তাঁর পুত্র বিনায়ক দেবকে ওয়ারঙ্গল থেকে পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে কৌলাস দুর্গে প্রেরণ করেন। কানহাইয়াকে সাহায্য করার জন্য বিজয়নগর বিশ হাজার সৈন্য পাঠায়। এর জবাবে সুলতান মুহম্মদ শাহ, আমিরুল উমরা বাহাদুর খান, আজম-ই-হুমায়ুন এবং সফদর খান সিস্তানিকে বিদর ও বেরারের সেনাবাহিনীসহ প্রেরণ করেন। যুদ্ধটি কৌলাসের নিকটে সংঘটিত হয়। বাহমানীরা ওয়ারাঙ্গলের বাহিনীকে পরাজিত করে এবং ওয়ারঙ্গলের সদর দরজা পর্যন্ত তাড়া করে।[] কানহাইয়াকে এক লক্ষ স্বর্ণ হুন মুক্তিপণ এবং পঁচিশটি যুদ্ধ হাতি বাহমানীদের কাছে সমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ের পর বাহাদুর খান বাহমানীদের রাজধানী গুলবর্গায় ফিরে আসেন।[১১]

মূলযুদ্ধ

[সম্পাদনা]

বিনায়ক দেবের গ্রেফতারী ও মৃত্যুদন্ড (১৩৬২)

[সম্পাদনা]

কানহাইয়ার সাথে বিরোধের রেষ কাটতে না কাটতেই অল্প সময়ের মধ্যেই মুহাম্মদ শাহ জানতে পারেন যে, কানহাইয়ার ছেলে বিনায়ক দেব ঘোড়া ব্যবসায়ীদের কম দামে ঘোড়া বিক্রি করতে বাধ্য করছে, তবে সেরা ঘোড়াগুলো বাহমানি সুলতানের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। হারুন খান শেরওয়ানীর মতে, ঘোড়া সংরক্ষণের খবরটি ঘোড়া ব্যবসায়ীদেরই রটানো ছিল।[]

মুহাম্মদ শাহ বিনায়ককে তার এমন কর্মের জন্য শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিনায়ক যখন পালমেটে ছিলেন, শাহ তার কিছু যোদ্ধাকে নিঃস্ব সম্পত্তিহারা ব্যক্তিদের ছদ্মবেশে পাঠান। পালমেটে বিশৃঙ্খলা শুরু হয় এবং এ সুযোগে যোদ্ধারা অস্ত্র বের করে বিনায়ককে গ্রেপ্তার করে। এরই পরে, শাহ ওয়ারাঙ্গলে অভিযান করে বিনায়ক দেবকে বন্দী করেন এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিনায়কের মৃত্যুতে অন্ধ্রের লোকেরা ক্ষুব্ধ হয়। শাহ যখন বিদারে ফিরে আসছেন, তখন তারা ছাদ এবং গাছ থেকে আক্রমণ শুরু করে যার ফলে তার চার হাজার লোকের মধ্যে তিন হাজার লোকের ক্ষতি হয় এবং শাহ নিজেই একটি মাস্কেট বলের আঘাতে ক্ষত হয়। []

গোলকুন্ডা দখল (১৩৬৩)

[সম্পাদনা]

বিনায়ক দেবের মৃত্যুদণ্ডে দুই রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। কানহাইয়া দিল্লির সম্রাট ফিরুজ শাহ তুঘলকের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করে এবং বিনিময়ে তার অঙ্গরাজ্যে দাখিল হওয়ার প্রস্তাব দেয়। এদিকে ফিরুজ শাহ তার পূর্বসূরি মুহম্মদ বিন তুঘলকের চেয়ে অনেক ভিন্ন কিসিমের ছিলেন এবং সামরিক প্রচেষ্টার চেয়ে শান্তিপূর্ণ সাধনা পছন্দ করতেন। সম্ভবত তার এই ধর্মীয় গোড়ামী স্বধর্মীদের বিরুদ্ধে গিয়ে হিন্দুদের সাহায্য করা থেকেও বিরত রেখেছিল। ফলে তিনি আবেদনে সাড়া দিলেন না। ইতোমধ্যে, এই আলাপচারীতা মুহম্মদ শাহ তেলেঙ্গানাকে সম্পূর্ণরূপে জয়ের দৃঢ়সংকল্প করতে উৎসাহিত করে। []

গোলকুণ্ডার দুর্গ, গোলকুণ্ডা সালতানাত দ্বারা নির্মিত

পরবর্তীকালে মুহাম্মদ শাহ, সাফদার খান সিস্তানি ও আজম-ই হুমায়ুনকে তার রাজধানীতে ডেকে পাঠান। মন্ত্রী মালিক সাইফুদ্দিন ঘোরীর কাছে প্রশাসনের দায়িত্ব অর্পণ করে তিনি কৌলাসে যাত্রা করেন এবং আজম-ই হুমায়ুনকে বিদার ও মহুরের সৈন্যবাহিনী দিয়ে গোলকুন্ডায় প্রেরণ করেন। তিনি সফদর খান সিস্তানিকে কানহাইয়ার রাজধানী ওয়ারাঙ্গলের দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন। এদিকে কানহাইয়া বিজয়নগরের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে কিন্তু বিজয়নগরে সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধের কারণে কোন সাহায্য পাননি।[] আসন্ন হুমকি বুঝতে পেরে কানহাইয়া ভয়ে পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যায়। শাহ দুই বছর তেলেঙ্গানায় অবস্থান করেন এবং ওয়ারাঙ্গল অবরোধ করেন। [১১] অবশেষে ১৩৬৪ সালে, কানহাইয়া শাহের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তেরো কোটি সোনার হুন প্রদান করেন, এছাড়াও গোলকুন্ডাকে বাহমানীদের হাতে তুলে দেন। ফলশ্রুতিতে, তেলেঙ্গানার শাসক কানহাইয়া বাহমানীদের পুতুলে পরিণত হন।[][] কানহাইয়া বাহমানী সুলতানকে বিখ্যাত তখত-এ-ফিরোজা সিংহাসন উপহার দেন। মুহম্মদ শাহ আজম-ই-হুমায়ুনকে গোলকুণ্ডার তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন।[]

ওয়ারাঙ্গল এবং বিজয়নগরের রাজাগণ নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ করে ফেলেন। ওয়ারাঙ্গালে মিত্র যখন ধ্বংসের মুখোমুখি তখন বুক্কা রায় ইচ্ছা প্রকাশ করলেই কম শক্তি দিয়েও তাদের সাহায্যে আসতে পারতেন। তা না করে তিনি ফিরুজ শাহের সাহায্য চেয়ে এবং দাক্ষিণাত্যে তাদের অঞ্চল পুনরুদ্ধার করার প্রস্তাব দিয়ে দিল্লিতে দূত পাঠান। কিন্তু ফিরোজ শাহ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ব্যস্ত ছিলেন এবং কোন পদক্ষেপ নিতে অক্ষম ছিলেন।[১২]

মুহাম্মদ শাহের আক্রমণের কারণ

[সম্পাদনা]

সুলতান ১ম মুহাম্মদ শাহ বিজয়নগরের আচরণে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং কানহাইয়া সংকট সমাধানের সাথেই প্রতিবেশী বিজয়নগরের উপর আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। সংঘাত শুরু করার পূর্বে তিনি বিজয়নগরে একটি চিঠি পাঠান যাতে তার পুত্র মুজাহিদ শাহের বিয়েতে অংশ নিতে যাওয়া দিল্লি থেকে আগত তিনশ সঙ্গীত শিল্পীদের অর্থ দেওয়ার দাবি করে বসেন। [] সেই সময় শাহের প্রমত্ততার ঘোরে চিঠির খসড়া এভাবেই তৈরি হয়। এমন কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে বুক্কা রায় বার্তাবাহকদের একইরকম অসম্মান প্রদর্শন করে শাস্তি দিয়ে প্রতিশোধ নেন। শীর্ষস্থান অর্জনের জন্য, বুক্কা যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং ১৩৬৬ সালে একটি আগাম আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেন [১২]

কিছু বর্ণনামতে, বুক্কা নয় হাজার পদাতিক, ৮ হাজার অশ্বারোহী ও তিন হাজার হস্তি আরোহীর এক বিশাল সেনাবাহিনী তৈরী করেন। [] অন্য বর্ণনামতে, ১ লক্ষ পদাতিক, ৩০ হাজার অশ্বারোহী ও ৩ হাজার হস্তি আরোহীর বাহিনী গঠন করা হয়।[১২] তুঙ্গাভদ্র পার করে তিনি মুগদাল দুর্গের অভিমূখে অভিযান করেন এবং দখল করেন। মুগদাল দূর্গ ৮ হাজার লোকের সমাগমে রক্ষিত ছিল। বুক্কা রায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সকলকেই হত্যার আদেশ দেন এবং তন্মধ্যে একজনকে ছেড়ে দিয়ে বাহমানী সুলতানের কাছে গিয়ে ঘটনা জানানোর জন্য পাঠান।[][১২]

ঘটনা শুনে বিচলিত সুলতান তার পুত্র মুজাহিদকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং মন্ত্রী মালিক সাইফুদ্দিন ঘোরীকে দেশ ও কোষাগারের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রদান করেন। এরপর সৈন্যবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন এবং এক লাখ বিজয়নগরীকে বধ করার শপথ করে কৃষ্ণ নদী পার হন।[][]

মুদ্গালের যুদ্ধ (1366)

[সম্পাদনা]

আসন্ন হুমকি সম্পর্কে অবগত হয়েই বুক্কা বিজয়নগরে তার সমস্ত গণিমত প্রেরণ করে আগাম পদক্ষেপ নেন। এবং নিজেই সুলতানের আগমনের অপেক্ষায় থাকেন। পরের দিন তিনি তার বাহিনীকে ক্যাম্প থেকে চার মাইল দূরে সরিয়ে নেন, কিন্তু রাতারাতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিজয়নগর সেনাবাহিনীর চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বুক্কার দুর্দশা উপলব্ধি করে, শাহ পরদিন সকালেই ময়দানে চমক দেবার জন্য দ্রুত অগ্রসর হন।[১২]

সুলতানকে দেখে সম্মুখ বিপদ বুঝতে পেরে বুক্কা কোনপ্রকার প্রতিরোধের প্রস্তাব না দিয়ে বরং কিছু নির্বাচিত সৈন্য নিয়ে আদোনি দুর্গের দিকে পালিয়ে যান এবং সবকিছু পিছনে ফেলে আসেন। বুক্কা তার বোনের ছেলের কাছে দুর্গ ন্যস্ত করে পালিয়ে যান। [] মুহম্মদ শাহ তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে বিজয়নগর শিবিরে প্রবেশ করেন এবং তার শপথ পূর্ণ করে। তিনি বুক্কার রেখে যাওয়া সবাইকে হত্যা করেন। ফিরিশতার মতে এ সংখ্যাটি ছিল ৭০ হাজার, অন্যদিকে বিজয়নগরের ঐতিহাসিক সূত্রের দাবি সংখ্যাটি ছিল ৯০ হাজার। [][১২] তিনি দুই হাজার হাতি, তিনশত বন্দুকের গাড়ি, সাতশত আরবী দ্রুত ঘোড়া এবং একটি রত্নখচিত সিংহাসন লাভ করেন।[] এইভাবে, তিনি বিজয়নগরের হাত থেকে মুদগলকে পুনরুদ্ধার করেন।[]

মুদগাল দুর্গ

কাউথালের যুদ্ধ (১৩৬৬)

[সম্পাদনা]

আদোনি দূর্গে পৌঁছেই বুক্কা তার সদর দপ্তর তথায় স্থাপন করে এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে। তিনি তার সেনাপতি মল্লিনাথকে বাহমানীদের মোকাবিলা করার জন্য প্রেরণ করেন।[১২] এদিকে মুহম্মদ শাহ বর্ষাকাল মুদগালে কাটান। বর্ষা শেষ হলে শাহ একটি বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হন এবং তুঙ্গভদ্র অতিক্রম করে বিজয়নগর অঞ্চলে প্রবেশ করেন। এই অভিযানে ভারতে সর্বপ্রথম কামান ব্যবহার করা হয়।[১৩] বুক্কা তার দুর্গ থেকে বের হয়ে তার ভাগ্নেকে দুর্গের সেনাপতি নিযুক্ত করেন। মল্লিনাথ যিনি ভোজ মাল নামেও পরিচিত ছিল তাকে সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করেন।[]

মল্লিনাথ বিজয়ের প্রতি এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে তিনি বুক্কা রায়কে জিজ্ঞাসা করে বসেন, তিনি সুলতানকে জীবিত আনবেন নাকি মৃত নিয়ে আসবেন । এমনকি শাহকে হত্যা করে বিজয়নগর সিংহাসনের সামনে ফেলে দেওয়ার জন্য বুক্কার কাছ থেকে অনুমতি প্রার্থনা করেন। [] মুহম্মদ শাহ তুঙ্গভদ্র অতিক্রম করে পনের হাজার অশ্বারোহী ও পঞ্চাশ হাজার পদাতিক সৈন্য নিয়ে সিরুগুপ্পায় পৌঁছে যান। ইতোমধ্যে মল্লিনাথ চল্লিশ হাজার অশ্বারোহী এবং পাঁচ লক্ষ পদাতিক সৈন্যবাহিনীর নেতৃত্ব দেন।[১২] মুহাম্মদ শাহ তার সেনাপতি খান মুহম্মদকে দশ হাজার অশ্বারোহী এবং ত্রিশ হাজার পদাতিক বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। ১৩৬৬ সালের ২০শে জুলাই বাহমানী ও বিজয়নগরের মধ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। []

যুদ্ধটি কাউথাল নামক একটি স্থানের কাছে সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে মুসা খান বাহমানি সেনাবাহিনীর ডান দিকের নেতৃত্বে ছিলেন আর ঈসা খান বাম দিকের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। খান মুহাম্মদ কেন্দ্রের নেতৃত্ব দেন। মুসা খান এবং ঈসা খান উভয়েই মাস্কেট বলের আঘাতে নিহত হন। এই পর্যায়ে ঘটনা বাহমানী বাহিনীকে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করে।[][১২] কিন্তু যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিন হাজার অশ্বারোহী নিয়ে মুহাম্মদ শাহ উপস্থিত হন। দুই বাহিনী মুখোমুখী যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং খান মোহাম্মদের শের-ই শিকার নামক হাতিটি সেনাপতি মল্লিনাথের দিকে অগ্রসর হয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। [] বিজয়নগর বাহিনী নির্মমভাবে পরাজিত হয়। বাহমানীরা বিজয়নগর বাহিনীর উপর গণহত্যা চালায়। মল্লিনাথের ক্ষত এতই মারাত্মক ছিল যে এর ফলে তার মৃত্যু হয়। এবং এভাবেই বিজয়নগরের পরাজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হয়। [১২]

বিজয়নগর অবরোধ (১৩৬৬)

[সম্পাদনা]

যুদ্ধের পরাজয় বুক্কা রায়ের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।[১২] আদোনিতে এক সপ্তাহ কাটানোর পর, মোহাম্মদ শাহ নিজেই বিজয়নগরের দিকে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেন। বুক্কা রায় পূর্ণ শক্তির সাথে তার রাজধানীকে রক্ষা করতে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। তারা বাহমানীদের উপর এমন চাপ সৃষ্টি করে যে তারা তুঙ্গভদ্রার দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পশ্চাদপসরণকারী বাহিনীকে বুক্কা রায় তাড়া করতে সক্ষম হয় এবং গেরিলারা পাশ থেকে প্রবেশ করে বাহমানি বাহিনীর কিছু অংশ ঘেরাও করে ফেলে। সুলতান তার নিজ এলাকায় পিছু হটতে বাধ্য হন। এদিকে সুলতানের বাহিনীকে পিছনে ফেলতে পেরে বিজয়নগরের সৈন্যরা নাচ, গান ও মদ্যপানে উন্মত্ত মেতে উঠে। এদিকে নিজ ভূমিতে পৌঁছে শাহ, বুক্কা রায়ের শিবিরে আক্রমণের নির্দেশ দেন এবং বাহমানীরা বিজয়নগর শিবিরে মারাত্মক আক্রমণ শুরু করে। বুক্কা রায় ভয়ে তার সম্পূর্ণ বাহিনী নিয়ে নিজস্ব রাজধানীতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। []

মুহম্মদ শাহ বুক্কা রায়কে পিছু করেন, কিন্তু রায় কোনক্রমে তার রাজধানীর ভিতরে প্রবেশ করে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। এটা দেখে মুহাম্মদ শাহ অবরোধের নির্দেশ দেন। বুক্কা বিজয়নগরের ভেতর থেকে যুদ্ধে করতে চান, কিন্তু তার অবশিষ্ট দশ হাজার সৈন্যদেরকে শাহ কতল করে ফলে তাদের হারিয়ে আরও একটি বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হন বুক্কা। এরপর তিনি বিজয়নগরের সীমানা দেওয়ালেরও পিছু হটেন এবং নিজেকে আত্মগোপন করে। [১২] মুহম্মদ শাহ মনে করেন যে, শুধু বিজয়ই সমস্যার সমাধান নয়, বরং বিজয়নগরকে ধ্বংস করে দিতে হবে। তাই তিনি ধ্বংসের আদেশ দেন এবং সম্পদ লুণ্ঠন করতে শুরু করে। তিনি বেসামরিক গণহত্যা শুরু করেন, যার ফলে দশ হাজার ব্রাহ্মণ সহ প্রায় ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ লোক মারা যায়। কর্ণাটকের জেলাটি এতটাই বিধ্বস্ত হয়েছিল যে বিরান ভূমি থেকে স্বাভাবিক জনসংখ্যার স্তরে ফিরে আসতে ৬ দশকেরও বেশি সময় লেগেছিল।[][১২] শেষ পর্যন্ত ব্রাহ্মণ সমাজ ও অন্যান্য হিন্দু প্রধানদের প্রতিবাদের মুখে বুক্কা রায় শান্তি প্রার্থনা করতে বাধ্য হন। ফিরিশতার বর্ণনামতে, দিল্লীর সেই সুরকারদের অর্থ প্রদান করার পরই সুলতান তার তরবারি খাপবদ্ধ করেন।[]

পরবর্তী পরিসংখ্যান

[সম্পাদনা]

বুক্কা রায় সুলতানের শিবিরে দূত প্রেরণ করে শান্তি প্রার্থনা করেন এবং দুই রাজ্যের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য আবেদন করেন। এই কথা শুনে সুলতান মুহাম্মাদ শাহ মুচকি হেসে উত্তর দেন যে, তিনি কোষাগার থেকে দিল্লির সেই সঙ্গীতজ্ঞদের হাদিয়া পরিশোধ করা ছাড়া তিনি আর কিছুই চান না। এভাবেই তিনি ফিরতি পত্রে উল্লেখ করেন। সুরকাররা সুলতানের কাছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা সুলতানকে উল্লেখ করেন যে, এই গণহত্যা সম্পূর্ণরূপে ইসলামী অনুশাসনের বিরুদ্ধাচরণ। কারণ এই গণহত্যায় ঈমান আনয়নের ফরিয়াদপ্রার্থীদেরকেও হত্যা করা হয়, অনেক নারী ও শিশুকেও হত্যা করা হয়, যা ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম। সুরকারদের এই আবেদনে শাহ গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন এবং সাথে সাথেই ফরমান জারী করে দেন যে, ভবিষ্যতের যে কোনও অভিযানে কেবলমাত্র প্রকৃত যোদ্ধা ছাড়া আর কাউকেই হত্যা করা যাবে না এবং কোনও যুদ্ধবন্দীর ক্ষতি করা যাবে না।[] তারপরে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এই শর্তে যে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে বন্দী বা বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা করবে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উভয়পক্ষই বেশ কয়েকবার এই চুক্তি লঙ্ঘন করে। []

ত্রিশ বছরের শান্তি স্থাপনের পর, দ্বিতীয় হরিহর ১৩৯৮ সালে তাজউদ্দীন ফিরুজ শাহের আমলে বাহমানীদের সাথে আরেকটি যুদ্ধে জড়ান।[১৪]

এছাড়াও দেখুন

[সম্পাদনা]
  • বাহমানি-বিজয়নগর যুদ্ধ (১৩৯৮)
  • স্বর্ণকার কন্যার যুদ্ধ
  • বিজয়নগর অবরোধ

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ওয়াটসন, অ্য়াডাম (১৯৬৪)। দি ওয়ার অফ দ্যা গোল্ডস্মিথ'স ডটার (ইংরেজি ভাষায়)। শ্যাতো এন্ড উইন্ডুস। পৃ. ৫।
  2. 1 2 3 4 5 অ্যালেন, জন (১৯৬৪)। দ্যা কেমব্রিজ শর্টার হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। শ্রী চাদ। পৃ. ১৭২।
  3. গিব, হ্যামিলটন আলেক্সান্দার রসকীন (১৯৯৩)। দি এনসাইক্লোপেডিয়া অফ ইসলাম (ইংরেজি ভাষায়)। ব্রিল। পৃ. ৪৫৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-০৯৪১৯-২
  4. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 শেরওয়ানী, হারুন খান (১৯৮৫)। দি বাহমানীস অফ দাক্কান (ইংরেজি ভাষায়)। মুন্শিরাম মনোহরলাল। পৃ. ৮৮–৯৭।
  5. Allan 1964, পৃ. 277।
  6. সেন, সেইলেন্দ্রা (১৫ মার্চ ২০১৩)। এ টেক্সটবুক অফ মেডিয়েভ্যাল ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি (ইংরেজি ভাষায়)। রত্নসাগর P. লিমিটেদ। পৃ. ১০৬–১০৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮০৬০৭-৩৪-৪
  7. Sinha, নরেন্দ্র কৃষ্ণ; ব্যানার্জি, অনিল চন্দ্র (১৯৬৩)। হিস্টরী অফ ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। অ্যা মূখার্জী। পৃ. ২৯৩।
  8. 1 2 3 4 5 6 7 8 নিযামী, খালিক আহমদ; হাবিব, মুহাম্মদ (১৯৮২)। অ্যা কম্প্রিহেনসিভ হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া: দি দিল্লি সালতানাত, A.D. ১২০৬-১৫২৬ (ইংরেজি ভাষায়)। পিপল'স পাবলিশিং হাউজ। পৃ. ১০৪৬–১০৪৯।
  9. পয়েল প্রাইস, জন ক্যাডোগান (১৯৫৮)। আ হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া ফ্রম দি এয়ারলিস্ট টাইমস টু 1939 (ইংরেজি ভাষায়)। টি. নেলসন। পৃ. ২০৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-৭০০৮৮-৮১-১ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)
  10. 1 2 Allan 1964, পৃ. 172-173।
  11. 1 2 বর্ম, অমৃত (১৯৮৫)। ফোর্টস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। পৃ. ৫১।
  12. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 শর্মা, পি. শ্রী রাম (১৯৯২)। অ্যা হিস্টরি অফ বিজয়নগর এম্পায়ার (ইংরেজি ভাষায়)। প্রভাকর পাবলিকেশনস। পৃ. ২৮–৩০।
  13. জ্যাক, টনি (৩০ নভেম্বর ২০০৬)। Dictionary of Battles and Sieges [3 volumes]: A Guide to 8,500 Battles from Antiquity through the Twenty-first Century [3 volumes] (ইংরেজি ভাষায়)। ব্লুস্ম্বারি পাবলিশিং ইউএসএ। পৃ. ৫১৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩১৩-০২৭৯৯-৪
  14. Jaques 2006, পৃ. 547।