বার্ন্ট মাইকেল হোম্বে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বার্ন্ট মাইকেল হোম্বে
HolmboeBM2.jpg
বার্ন্ট মাইকেল হোম্বে
জন্ম(১৭৯৫-০৩-২৩)২৩ মার্চ ১৭৯৫
ভ্যাঙ্গ, নরওয়ে
মৃত্যু২৮ মার্চ ১৮৫০(1850-03-28) (বয়স ৫৫)
ক্রিসচিয়ানিয়া, নরওয়ে
জাতীয়তানরওয়েজিয়ান
কর্মক্ষেত্রগণিত
প্রতিষ্ঠানক্রিশ্চিয়ানিয়া ক্যাথেড্রাল বিদ্যালয়ে (১৮১৮-১৮২৬)
রয়েল ফ্রেডেরিক বিশ্ববিদ্যালয় (১৮২৬-১৮৫০)
প্রাক্তন ছাত্ররয়েল ফ্রেডেরিক বিশ্ববিদ্যালয়
(আংশিক আত্মপ্রচেষ্টা দ্বারা শিক্ষিত)
পরিচিতির কারণনিলস হেনরিক আবেল এর শিক্ষক
প্রভাবশালী পাঠ্যপুস্তক

বার্ন্ট মাইকেল হোম্বে (২৩ মার্চ, ১৭৯৫ - ২৮ মার্চ, ১৮৫০[১]) একজন নরওয়েজিয়ান গণিতবিদ ছিলেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই আত্মপ্রচেষ্টা দ্বারা শিক্ষিত হয়েছিলেন এবং ১৮১০ সাল পর্যন্ত তাকে কোন বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়নি। রয়েল ফ্রেডেরিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিস্টোফার হ্যান্সটেনের সহকারী হিসেবে সেই সংক্ষিপ্ত সময় তার কাছে একটি বাধা তৈরি করেছিল। ১৮১৮ সালে হোম্বেকে ক্রিস্টিয়ানিয়া ক্যাথেড্রাল বিদ্যালয়ে গনিতের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল যেখানে তার ভবিষ্যত বিখ্যাত গণিতবিদ নিলস হেনরিক আবেলের সাথে সাক্ষাত হয়। বিদ্যালয়ে ও ব্যাক্তিগত উভয়ভাবেই হোম্বের বিশ্বব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী গনিতের প্রভাব আবেলের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল। এই দুইজন বন্ধু হয়েছিল এবং আবেলের অকাল মৃত্যু পর্যন্ত তাই রয়ে ছিল। ১৮২৬ সালে হোম্বে রয়েল ফ্রেডেরিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান যেখানে তিনি ১৮৫০ সালে তার মৃতুর আগ পর্যন্ত কাজ করেছিলেন।

নরওয়ের মধ্য সময়ে গনিতে হোম্বের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য তার দুই খন্ডের পাঠ্যবই। এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ছিল কিন্তু ক্রিস্টোফার হ্যান্সটিনের বিকল্প প্রস্তাবের জন্য প্রতিযোগীতার সম্মুখীন হয়েছিল যা হতে পারে বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই নিয়ে নরওয়ের প্রথম দ্যুতিময় বিতর্ক।.[২]

শৈশব ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৭৯৫ সালে ভিকার জেনস হোম্বে(১৭৪৬-১৮২৩) এবং তার স্ত্রী ক্যাথরিন হোলস্ট (১৭৬৩-১৮২৩) এর পুত্র বার্ন্ট মাইকেল হোম্বে ভ্যাঙ্গে[১] জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার নয় ভাইবোনের সাথে এইডসবার্গ এ বড় হন এবং বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার আন্দ্রিয়াস হোম্বে তার বড়ভাই ছিলেন। হোম্বে ছোটবেলা থেকেই প্রাথমিক শিক্ষিত ছিল, কিন্তু ১৮১০ সালে তার মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে তাকে ক্রিস্টিয়ানা ক্যাথিড্রাল বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি গণিতে পাঠক্রম বহির্ভূত শিক্ষা নেন। নরওয়েজিয়ান ইতিহাসে একটি আলোড়নপূর্ণ বছর, ১৮১৪ সালে তিনি রয়েল ফ্রেডেরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন। নরওয়ে ১৩৯৭ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের একটি প্রদেশ ছিল, কিন্তু জানুয়ারী ১৮১৪ সালে কিল চুক্তিতে সুইডিশ নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। ১৭ মে সংবিধানে নরওয়ের স্বাধীনতার ঘোষণার অনুসারে, ১৮১৪ সালের  গ্রীষ্মকালে  সুইডেন একটি সামরিক অভিযান দ্বারা নরওয়ের বিপক্ষে জবাব দেয়। হোম্বে দেশে সুইডিশ সৈন্য উপস্থিতির জন্য বিরোধী ছাত্র দলের একজন মুখপাত্র ছিল।[৩] যেহেতু প্রতিষ্ঠা বার্ষিক বছর ১৮১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র সতের জন ছাত্র ছিল, সেই সময় ছাত্র সম্প্রদায় থেকে যেকোন অকপটতা অত্যন্ত দৃশ্যমান ছিল। [৪]

এবং তার ব্যক্তিগত গবেষণায়, হোম্বে সোরেন রাসমুসেন এর শিক্ষাদানকালে উপস্থিত ছিলেন। ১৮১৫ সালে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক, ক্রিস্টোফার হান্সটিনের অধীনে বৈজ্ঞানিক সহকারী হিসাবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তিনি নিজেই কিছু শিক্ষাদান করেছিলেন। ১৮১৮ সালের প্রথমে, হোম্বে  ক্রিস্টিয়ানা ক্যাথেড্রাল বিদ্যালয়ের গনিতের শিক্ষক হয়েছিলেন যে পদটি ১৮১৭ সালে খালি হয়েছিল। বিদ্যালয়ের অধ্যাপক, জাকব রোস্টেড, হোম্বের ভাই, যিনি গনিত নিয়ে পড়েছিলে্‌ন, ক্রিস্টোফার আন্দ্রিয়া্‌কে  পদটি গ্রহণ করতে আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন কিন্তু তিনি এটার পরিবর্তে ভাষাতত্ত্বে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ক্রিস্টোফার অন্যদের মধ্যে থেকে সংস্কৃত ভাষা গবেষণা করতে গিয়েছিলেন। হোম্বে তার এই শিক্ষায়  জোসেফ-লুইস ল্যাগ্রাঞ্জ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। [৩]

নিলস হেনরিক আবেল[সম্পাদনা]

ক্রিস্টিয়ানা ক্যাথেড্রাল বিদ্যালয়ে হোম্বে নিলস হ্যানরিক আবেলের সাথে ও তারপর এক শিষ্যের সাথে দেখা করেন।[৩]  হোম্বে দ্রুতই আবেলের প্রতিভা আবিষ্কার করলেন এবং তার রিপোর্ট কার্ড এ "দীপ্তিময় প্রতিভা" হিসেবে ঘোষণা করলেন।[quote ১][৫] যেহেতু বিদ্যালয়ের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিলো শাস্ত্রীয় শিক্ষা ও ল্যাটিন, তাই হোম্বে আবেলকে ব্যাক্তিগতভাবে পড়ালেন। আবেল জন্য তার ব্যক্তিগত সমর্থন "গণিতে [হোম্বেের] সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান" বলা হয়েছে। [quote ২][৩]

হোম্বে ও আবেল ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠে। হোম্বের ছোট দুই ভাই আবেলের সাথে পড়ত এবং বাকী তিনজন বন্ধুপূর্ণ ছিল। ক্রিস্টমাস উদযাপন করা সহ বিভিন্ন উপলক্ষে আবেল হোম্বের পরিবারের বাসভবন এইডসবার্গ এ আমন্ত্রিত হত। [৩]

১৮২৯ সালে ছাব্বিশ বছর বয়সে আবেল ক্ষয়রোগে মারা যান।[৬] আবেলের মৃত্যুর ১০ বছর পর হোম্বে দুই খন্ডে-Oeuvres complètes de N.H, আবেল ('NH, আবেল সম্পূর্ণ রচনা') সম্পাদিত ও রচনা করেন।[৩] তাই তিনিই ছিলেন প্রথম.[২]

পরবর্তী জীবন ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

হোম্বে ১৮২৫ সালে তার গনিতের প্রথম পাঠ্যবই প্রকাশ করেছিলেন। ২৭৪ পাতার এই বইটির নামকরণ করা হয়েছিল "Lærebog i Mathematiken. Første Deel" (গনিতের পাঠ্যবই , প্রথম খন্ড)। ১৮২৭ সালে তিনি আরো ১৫৫ পাতার গঠিত "Lærebog i Mathematiken. Første Deel" (গনিতের পাঠ্যবই , দ্বিতীয় খন্ড) এর দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশ করেছিলেন। তিনি তার লেখার পটভূমি হিসেবে তার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছিলেন, প্রধানত সারাংশে বইটির মূল উদ্দেশ্য ছিলো যুক্তিসম্মত চিন্তা ধীরে ধীরে প্রবেশ করানো। উদাহরনসরূপ, জ্যামিতির ক্ষেত্রে, এটি পাঠকদের কোন চিত্র কাগজে আকার পরিবর্তে হ্যদয়ে অনুভব করতে আকৃষ্ট করত। বইটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে ওঠেছিল এবং যথাক্রমে চার ও পাঁচ খন্ডে পুনর্মুদ্রণ হয়েছিল।  [৩]

১৮২৬ সালে হোম্বেকে রয়েল ফ্রেডেরিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।[৩] যেহেতু পরবর্তীতে তিনি সে সময় ইউরোপে ঘুরে বেরিয়েছিলেন, কেউ কেউ দাবী করে যে তার নিয়োগের জন্য আবেলের অনুপস্থিতি দায়ী ছিল।[৬] এছাড়াও হোম্বে একটি সামরিক কলেজে ১৮২৬ সাল থেকে তার মৃতু পর্যন্ত গণিত পড়ান এবং রয়াল ফ্রেড্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৩৪ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তার পরবর্তী পকাশনা Stereometrie (স্টেরিওমেট্রি) (১৮৩৩), Plan- og sfærisk Trigonometrie (সমতলীয় ও বর্তুলাকৃতি ত্রিকোণমিতি) (১৮৩৪) এবং Lærebog i den høiere Mathematik (উন্নত গণিত পাঠ্যপুস্তক) (১৮৪৯)। হোম্বের অলে জ্যাকব ব্রোচ (জন্ম ১৮১৮) সহ আবেল ও অনান্য গনিতবিদের উপর কর্তৃত্ব ছিল।[৩]

বিশ্ববিদ্যালয়ে হোম্বে পুনরায় ক্রিস্টোফার হ্যান্সটেনের সাথে দেখা করেন যিনি ১৮১৬ সালে সেখানে অধ্যাপক ছিলেন। ১৮৩৫ সালে, হ্যান্সটেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য তার নিজের গণিত পাঠ্যবই প্রকাশ করেন। হোম্বের বই এর প্রতিক্রিয়া এবং শিখনপদ্ধতি, এটি আরো বেশি কার্যত ছিল। হোম্বে মরগেনব্লাডেট সংবাদপত্রে বইটির একটি পর্যালোচনা লেখেন, যা বিদ্যালয়ে এটি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয়। অন্যান্য গণিতবিদদের আলোচনার সাথে একটি গণবিতর্ক চলে। এটাই দাবী করা হয় যে নরওয়েতে বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ের বিষয়ে প্রথম বিতর্ক। এরপর হ্যান্সটেনের পাঠ্যপুস্তক পুনর্মুদ্রণ করা হয়নি। [৩]

এছাড়াও হোম্বে বীমা সাথে জড়িত হয়ে ওঠেন। ১৮৩২ থেকে ১৮৪৮ পর্যন্ত তিনি বীমা কোম্পানি তত্ত্বাবধানের জন্য দেশের প্রথম পাবলিক কমিটি "private forsørgelses- og understøttelsesselskaper for Tilsynskomiteen" এর সদস্য ছিলেন। অন্য দিক ১৮৪৭ থেকে হোম্বে তার প্রাক্তন ছাত্র ওলে জ্যাকব ব্রোচ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বীমা কোম্পানি Gjensidige এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। [৩]

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে গনিতের শিক্ষকদের জন্য একটি বার্ন্ট মাইকেল হোম্বে স্মৃতি পুরস্কার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বার্ষিকভাবে পুরস্কারটি প্রদান করা হয়। প্রাইজমানি, ৫০,০০০ নরওয়েজিয়ান ক্রোন আবেল তহবিল থেকে নেওয়া হয় যা আবেল পুরস্কারকেও কাভার করে।[৫][৭] পুরস্কারটি নরওয়েজিয়ান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়। বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যান অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টম লিন্ডস্ট্রোম।[৮]

অসলোর মেজরস্টিউয়েনে হোম্বেস গেট নামে একটি রাস্তা বার্ন্ট মাইকেল হোম্বের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ১৮৭৯ সালের আগে এটা ক্রিস্টোফার হ্যান্সটিন এর নামে হ্যান্সটিনস গেট নামকরণ করা হয়েছিল। [৯]

বিবাহ ও সন্তানাদি[সম্পাদনা]

হোম্বে দুইবার বিবাহ করেছিলেন।[৩] তার প্রথম স্ত্রী, নিকোলিন এন্টোনি ফিঙ্কেনহেগেন, ১৮০৪ সালে টোটেনে জন্মগ্রহন করেছিলেন, ১৮৩৯ সালে বিয়ের পাঁচ বছর পর মারা যান। তাদের তিন কন্ন্যা ছিল, যাদের দুইজন (ফ্রেড্রিক এবং নিকোলিন জুনিয়র) সাবালকত্বে পৌঁছেছেন এবং একজন মৃতজাতক ছিল। ১৮৪২ সালে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইঞ্জবোর্গ থোর্ফকে বিবাহ করেছিলেন। সে ১৮১২ সালে ভসে জন্মগ্রহন করেছিল। এই বিয়ে দুটি পুত্র, ক্রিস্টোফার ও জেন্স এবং দুই কন্যা, ক্যাথরিন ও অলাভা, জন্ম দেয়। শুধুমাত্র জেন্স ও ক্যাথরিন সাবালকত্বে পৌঁছেছিল।[১০]

১৮৫০ সালে, বার্ন্ট মাইকেল হোম্বে মৃত্যুবরণ করেন[১] এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী তার চেয়ে ৩০ বছর বেশি জীবিত থাকেন।[১০]

তথ্যসূত্র এবং টীকা[সম্পাদনা]

  1. Quote: "Et udmerket mathematisk Genie."
  2. Quote: "... måten Holmboe støttet og hjalp Abel på, må sies å være hans viktigste bidrag til matematikken."
  1. Birkeland, Bent.
  2. "Holmboe, Bernt Michael".
  3. Stubhaug, Arild (25 May 2004).
  4. "Historikk for UiO" (in Norwegian).
  5. Stubhaug, Arild (17 March 2005).
  6. Fenstad, Håkon (1 January 1996).
  7. The Abel Prize web site, The Abel Fund: Activity Profile
  8. "Board of directors" (in Norwegian).
  9. Tvedt, Knut Are, ed. (2000).
  10. Genealogical entry for Bernt Michael Holmboe[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] – published by Fogd Jens Holmboes legat.