এটি একটি ভাল নিবন্ধ। আরও তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

বারো মাম্প

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বারো মাম্প এবং সেইন্ট মাইকেল’স চার্চ

বারো মাম্প ইংলিশ কাউন্টি সমারসেটের বারোব্রিজ গ্রামে অবস্থিত একটি পাহাড় এবং ঐতিহাসিক স্থান। এটি সাউথলেক মুরের অধিনস্থ একটি শিডিউল্ড স্মৃতিস্তম্ভ যার মধ্যে পাহাড়ের উপর গির্জার ধ্বংসাবশেষটি গ্রেড ২ তালিকাভুক্ত ভবন

পাহাড়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত যার উপর থেকে দেখা যায় টোন নদী এবং ক্যারি নদীর পুরনো প্রবাহের সাথে প্যারেট নদীর সংযোগস্থল। যদিও স্থানটিতে রোমান পরিদর্শনের প্রমাণ পাওয়া যায়, স্থানটির প্রথম দুর্গকরণ ছিল নরমান মোট নির্মাণ। এটিকে রাজা আলফ্রেডের দুর্গ বলা হয়, যদিও আলফ্রেড দ্য গ্রেটের ব্যবহারের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি। পঞ্চদশ শতাব্দীতে পাহাড়ের উপর একটি মধ্যযুগীয় গির্জা নির্মাণ করা হয়েছিল। পাহাড়ের উপর থাকা বর্তমান ধ্বংসপ্রাপ্ত গির্জাটি ১৭৯৩ সালে নির্মিত হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে স্থান এবং ধ্বংসাবশেষটি যুদ্ধের স্মারক হিসেবে জাতীয় তহবিলে দান করা হয়।

ভূতত্ত্ব[সম্পাদনা]

বারোব্রিজ গ্রাম থেকে বারো মাম্প

পাহাড়টি ২৪ মিটার (৭৯ ফু) উঁচু,[১] পাহাড়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত যেখানে টোন নদী এবং ক্যারি নদীর পুরনো প্রবাহের সাথে প্যারেট নদীর সংযোগ ঘটে। এটি চারপাশের নিচু সমারসেট মালভূমি থেকে উঁচুতে অবস্থিত।[২] এটি ট্রায়াসিক বেলে পাথর দিয়ে তৈরি যা কেউপার মার্ল চিহ্নিত মার্সিয়া মাডস্টোন গ্রুপে অবস্থিত।[২][৩]

প্রাথমিক ব্যবহার[সম্পাদনা]

বারো মাম্প সেইন্ট মাইকেল’স বারো বা টাটেয়াটে নামেও পরিচিত।[৪] 'বারো' এবং 'মাম্প' উভয় শব্দের অর্থ পাহাড়।[৫]

প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপে দেখা গেছে যে একটি মৃৎপাত্রের টুকরা এবং কিছু মুদ্রাসহ কিছু রোমান সামগ্রী স্থানটির কাছে পাওয়া[৬] যা এর নদী সংযোগস্থলে অবস্থানের সাথে যোগ করলে এর বাণিজ্যিক ব্যবহারকে নির্দেশ করে।[৭][৮][৯] বর্গাকার গর্তগুলো খননের সময় চিহ্নিত হয়েছে যাদের মধ্যে একটি মধ্যযুগীয় কুয়া এবং স্তম্ভের গর্ত হতে পারে এবং এগুলো এডাল্টারিন দুর্গের অংশ হতে পারে।[৪][১০][১১] এটি সম্ভবত একটি নরমান মোট ছিল যার সাথে সংযুক্ত ছিল একটি চত্ত্বরবিশিষ্ট পথ যা পাহাড়কে পেঁচিয়ে দুর্গে পৌঁছায়।[১২] শীর্ষস্থানের মালভূমিটি ৪৫ মিটার (১৫০ ফু) লম্বা ও ২৫ মিটার (৮০ ফু) চওড়া এবং শীর্ষ প্রবণভূমিটি মোটের উপর ঢাল সৃষ্টি করে। মোটটি ১১৩৫ থেকে ১১৫৩ সালের অরাজকতার সময় গঠিত হয়ে থাকতে পারে।[১০] স্থানটিকে রাজা আলফ্রেডের দুর্গ বলা হয়েছে কিন্তু এটির দুর্গ হওয়ার[১১] বা এটির মহান আলফ্রেডের সাথে সম্পর্ক থাকার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি।[১৩] শুধুমাত্র কাছের এথেলনি অ্যাবের মালিকানাটি রাজা আলফ্রেডের ছিল যা তিনি স্থাপন করেছিলেন এবং এটি বারো মাম্পের সাথে একটি পায়ে চলা পথ দিয়ে সংযুক্ত।[১৪][১৫] [১৬] নবম শতাব্দীর শেষের দিকে এটিকে এথেলনির রাজকীয় দ্বীপের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাব্যুহ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।[১৭]

খননের ফলে পাহাড়ের উপর ১২শ শতাব্দীর পাথুরে ভবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে যা এডাল্টারিন দুর্গের অংশ হতে পারে।[৬] ঢিবির পাশের দিকটি কৃষিকাজের জন্য একটু উঁচু করা হয়ে থাকতে পারে যেহেতু মধ্যযুগে নিয়মিত বন্যা হত।[১৪]

বারো মাম্পের উপর সেইন্ট মাইকেল’স গির্জার ধ্বংসাবশেষ

উইলিয়াম ওরচেস্টার আনুমানিক ১৪৮০ সালে সর্বপ্রথম এই জায়গার লিপিবদ্ধ উল্লেখ করেন যখন তিনি একে মাইঘেল-বোরো হিসেবে নির্দেশ করেন। নির্মিত সেইন্ট মাইকেলে নামে উৎসর্গকৃত একটি মধ্যযুগীয় গির্জা যা কমপক্ষে মধ্য পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মিত এবং এটি এথেলনি অ্যাবের সম্পত্তি ছিল। এটি ইংরেজ গৃহযুদ্ধের সময় ১৬৪২ এবং ১৬৪৫ সালে রাজকীয় বাহিনীর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ১৬৮৫ সালে মনমাউথ বিদ্রোহের চলাকালীন সময় রাজার সেনাবাহিনীর একটি উপদল এটি দখল করে।[১৩]

অষ্টাদশ শতাব্দীর পুননির্মান[সম্পাদনা]

১৭৯৩ সালে একটি দক্ষিণ টাউয়ার, ৩ সারির নেভ এবং দক্ষিণ বারান্দা, লাল ইটসহ বর্গাকার এবং সারিবদ্ধ লিয়াস এবং হ্যামস্টোন সজ্জিত গির্জাটি পুননির্মাণ করা হয়।[১০] উইলিয়াম পিট দ্য ইয়াঙ্গার এবং অ্যাডমিরাল হুডের অনুদান সত্ত্বেও সম্পূর্ণ পুননির্মানের প্রচেষ্টা যথেষ্ট অর্থের অভাবে অসমাপ্ত থেকে যায়।[১২] ১৮৩৮ সালে পাহাড়ের নিচের বদলে এলাকার জন্য একটি গির্জা নির্মিত হয়।[১০] বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বারো মাম্পের ধ্বংসাবশেষের উত্তর-পশ্চিম কোণে কিছু সংস্কার করা হয়।[১০]

ধ্বংসপ্রাপ্ত গির্জাটি কিছু গির্জার মধ্যে একটি যা জন মিচেলের প্রস্তাবিত লে রেখায় পড়ে। সেইন্ট মাইকেলস গির্জার সাথে লে রেখা দ্বারা সংযুক্ত অন্যান্য গির্জাগুলো হলো অথেরি এবং গ্ল্যাস্টনবারি টরে নির্মিত গির্জা।[১৮]

স্মৃতিস্তম্ভ[সম্পাদনা]

স্মৃতিস্তম্ভের ফলক

পাহাড় এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত গির্জাসহ ৩.৫৭৩ হেক্টর (৮.৮৩ একর) জায়গাটি ১৯৪৬ সালে মেজর আলেক্সান্ডার গোল্ড বেরেট দ্বারা[১৯] জাতীয় তহবিলে দান করা হয়। এখানে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সমারসেটের ১১,২৮১[২০] জন ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভটি তৈরি হয়।[২১] বারো মাম্পের মাটি গড়িয়ে পার্শ্ববর্তী কৃষকের জমিতে ঢুকে পড়লে উৎপাতের জন্য জাতীয় তহবিলের নামে আদালতে মামলা করা হয়। ধ্বংসাবশেষটি ১৯৬৩ সালে গ্রেড ২ তালিকাভুক্ত ভবন ঘোষণা করা হয়।[২২] এটি ১৯৪৯ সাল থেকে একটি শিডিউল্ড স্মৃতিস্তম্ভ ভবন।[১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Burrow Mump" (ইংরেজি ভাষায়)। European Garden Heritage Network। ১৭ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  2. হকিন্স ১৯৮২, পৃ. ১৬।
  3. "Geology of Britain viewer" (ইংরেজি ভাষায়)। British Geological Survey। ২৯ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  4. "Burrow Mump, Burrowbridge" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য গেটহাউস। ২৬ জুলাই ২০১৭। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  5. কপেন্স, ফিলিপ"Glastonbury: England's oldest sacred landscape?" (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  6. "The Burrow Mump Excavations"Taunton Courier, and Western Advertiser। ২২ এপ্রিল ১৯৩৯। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০British Newspaper Archive-এর মাধ্যমে। (সদস্যতা নেয়া প্রয়োজন (সাহায্য)) 
  7. জেনকিন্স, প্যালডেন। "Burrowbridge Mump" (ইংরেজি ভাষায়)। প্যালডেন জেনকিন্স। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  8. "Burrow Mump, Burrowbridge"Somerset Historic Environment Record (ইংরেজি ভাষায়)। সমারসেট কাউন্টি কাউন্সিল। ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  9. "Roman coin hoard, Burrow Wall Rhyne, Burrowbridge"Somerset Historic Environment Record (ইংরেজি ভাষায়)। সমারসেট কাউন্টি কাউন্সিল। ২১ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  10. ঐতিহাসিক ইংল্যান্ড"Burrow Mump: a motte castle, later chapel and associated earthworks (1011823)"ইংল্যান্ডের জন্য জাতীয় ঐতিহ্য তালিকা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  11. "Burrow Mump"Pastscape। Historic England। ১৭ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  12. "Burrow Mump, Burrowbridge"Somerset Historic Environment Record (ইংরেজি ভাষায়)। সমারসেট কাউন্টি কাউন্সিল। ১৭ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  13. অ্যাডকিন্স ও অ্যাডকিন্স ১৯৯২, পৃ. ৩২-৩।
  14. "Report for Aerial Survey Component Block 2: Somerset Levels" (PDF)The Aggregate Landscape of Somerset: Predicting the Archaeological Resource। ইংলিশ হেরিটেজ। পৃষ্ঠা ২৩–৪। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  15. "Burrow Mump"। European Garden Heritage Network। ২৩ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  16. উইলিয়ামস ও উইলিয়ামস ১৯৯২, পৃ. ৪৪।
  17. Interpretive signs at the foot of Burrow Mump & brochure/map (মানচিত্র)। National Trust, Levels and Moors Partnership। 
  18. "The St. Michael's Ley, England"। Ancient-Wisdom। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  19. "Acquisitions Up to December 2011"। National Trust। পৃষ্ঠা ৬। ১৪ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৫ 
  20. ড্যানিং ১৯৮৩, পৃ. ১০১।
  21. লিট-হজ ১৯৮৫, পৃ. ৮২।
  22. ঐতিহাসিক ইংল্যান্ড"Remains of Church on Burrow Mump (1344609)"ইংল্যান্ডের জন্য জাতীয় ঐতিহ্য তালিকা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

উৎস[সম্পাদনা]

অ্যাডকিন্স, লেসলি; অ্যাডকিন্স, রয় (১৯৯২)। আ ফিল্ড গাইড টু সমারসেট আর্কিওলজি (ইংরেজি ভাষায়)। Stanbridge: Dovecote press। আইএসবিএন 0-946159-94-7ওএল 11569687Mওসিএলসি 60057435 
ড্যানিং, রবার্ট (১৯৮৩)। আ হিস্টরি অব সমারসেট (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসবিএন 0-85033-461-6ওএল 2907769Mওসিএলসি 11158599 
হকিন্স, ডেসমন্ড (১৯৮২)। এভালন এবং সেজমুরবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসবিএন 0-86299-016-5ওএল 3055526Mওসিএলসি 8814115 
কুইন, টম (২০০৮)। হিডেন ব্রিটেন (ইংরেজি ভাষায়)। New Holland Publishers। পৃষ্ঠা 22–23। আইএসবিএন 9781847731296 
লিট-হজ, লরনি (১৯৮৫)। কিউরিওসিটিস অব সমারসেট (ইংরেজি ভাষায়)। Bodmin: Bossiney Books। আইএসবিএন 0-906456-98-3 
উইলিয়ামস, রবিন; উইলিয়ামস, রমনি (১৯৯২)। দ্য সমারসেট লেভেলস (ইংরেজি ভাষায়)। Ex Libris Press। আইএসবিএন 978-0948578380ওসিএলসি 60096427 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

স্থানাঙ্ক: ৫১°০৪′০৬″ উত্তর ২°৫৫′১৪″ পশ্চিম / ৫১.০৬৮৪০° উত্তর ২.৯২০৪৯° পশ্চিম / 51.06840; -2.92049