বাব আল-আসবাত মিনার

বাব আল-আসবাত মিনার (আরবি: منارة الأسباط) বা গোত্রের মিনার হল জেরুজালেমের একটি মিনার। এটি "সালাহিয়াহ মিনার" নামেও পরিচিত, যা এর নিকটবর্তী সালাহিয়াহ স্কুলের নামে নামকরণ করা হয়েছে।[১] এটি আল-আকসার চারটি মিনারের একটি এবং এটি উত্তর প্রাচীর বরাবর অবস্থিত।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]বাব আল-আসবাত মিনার মামলুক সুলতান আল-মালিক আশরাফ শাবানের (সুলতান হাসানের পুত্র) শাসনামলে ৭৬৯ হিজরি / ১৩৬৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। এটি নির্মাণ করেন প্রিন্স সাইফ আল-দীন কুতলু বাঘা, যিনি তখন জেরুজালেমের গভর্নর এবং দুই পবিত্র মসজিদের (হারামাইন) তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।[৩]
স্থাপত্য
[সম্পাদনা]১৫৮৬ খ্রিস্টাব্দে এক ভূমিকম্পে মিনারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অটোমানরা এটিকে পুনর্নির্মাণ করে ২৮.৫ মিটার উচ্চতায়, যা অটোমান স্থাপত্যশৈলীর একটি বৈশিষ্ট্য। এই পুনর্নির্মাণ কাজ করেন সুলতান মাহমুদ, যিনি সুলতান মুহাম্মদের পুত্র ছিলেন। ১০০৭ হিজরি / ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই কাজের জন্য ৩০০ সুলতানি দিনার বরাদ্দ দেন। এটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন আবদুল বাকি বেক (হারামাইন তত্ত্বাবধায়ক) ও আহমদ বেক (জেরুজালেম ও গাজার গভর্নর) এবং প্রকৌশলী মাহমুদ, যিনি মু'আল্লিম আবদুল মুহসিন ইবনে নুম্মার, খালাফ আল-মি'মার এবং মু'আল্লিম আলি ইবনে খলিলের সাথে এই প্রকল্পে কাজ করেন।[৪] মিনারটি একটি আয়তাকার ভিত্তির ওপর নির্মিত, যার ওপরে একটি ত্রিভুজাকৃতি স্থানান্তর অঞ্চল রয়েছে।[৫] মিনারের খিলান অংশের ওপরে এটি সরু হয়ে যায় এবং এতে বেশ কয়েকটি গোলাকার জানালা রয়েছে।[৬] মিনারের চূড়ায় একটি গম্বুজ রয়েছে।
১৩৪৬ হিজরি / ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে এক ভূমিকম্পে মিনারটি বিধ্বস্ত হয়। পরে সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিল একই বছরে এটি পুনর্নির্মাণ করে এবং মিনারের উচ্চতা বৃদ্ধি করে, যা এর দরজার ওপরে খোদাই করা শিলালিপিতে উল্লেখ আছে।
পরবর্তীতে ১৯২৭ সালের ভূমিকম্পের পর গম্বুজটি পুনর্গঠিত হয়।[৫] পরবর্তী পুনঃনির্মাণ ঘটে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পরে যখন ইসরায়েলি বাহিনী মিনারটিকে বোমা হামলার মাধ্যমে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এরপর মিনারটির একটি ব্যাপক পুনঃসংস্কার করা হয়। মূল কাঠামোর বেশিরভাগই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নতুনভাবে নির্মাণের সময় চূড়াটি সীসা দিয়ে আবৃত করা হয়।[৪]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ TİKA. (২০১৩)। Mescid-I Aksa Rehberi (Harem-i Şerif).।
- ↑ Menashe Har-El (এপ্রিল ২০০৪)। Golden Jerusalem। Gefen Publishing House Ltd। পৃ. ৩৩৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৬৫-২২৯-২৫৪-৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১০।
- ↑ Al-Jallad, I. (২০১৭)। معالم المسجد الأقصى تحت المجهر [আল-আকসা মসজিদের নিদর্শনসমূহ বিশ্লেষণে]। Baytul Maqdis Center for Literature.।
- 1 2 Ghosheh, M. Hashim. (২০০৫)। Guide to the Masjid al-Aqsa; an Architectural and Historical Guide to the Islamic Monuments in the Masjid al-Aqsa.। Ministry of Awqaf and Religious Affairs.।
- 1 2 বাব আল-আসবাত মিনার ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১১-০৬-২৯ তারিখে Archnet Digital Library.
- ↑ আল-আকসা গাইড Friends of al-Aqsa.
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]
- Burgoyne, Michael Hamilton (১৯৮৭)। Mamluk Jerusalem। British School of Archaeology in Jerusalem by the World of Islam Festival Trust। আইএসবিএন ০৯০৫০৩৫৩৩X। (পৃষ্ঠা ৪১৫−৪১৮)
- Berchem, van, Max (১৯২০)। MIFAO 45.2 Matériaux pour un Corpus Inscriptionum Arabicarum Part 2 Syrie du Sud T.3 Fasc. 2 Jérusalem Index général। কায়রো: Impr. de l'Institut français d'archéologie orientale।(LXXI)
- Berchem, van, M. (১৯২২)। MIFAO 43 Matériaux pour un Corpus Inscriptionum Arabicarum Part 2 Syrie du Sud T.1 Jérusalem "Ville" (ফরাসি এবং আরবি ভাষায়)। কায়রো: Impr. de l'Institut français d'archéologie orientale। (পৃষ্ঠা ৪০৩-৪১১)
- Berchem, van, M. (১৯২৭)। MIFAO 44 Matériaux pour un Corpus Inscriptionum Arabicarum Part 2 Syrie du Sud T.2 Jérusalem Haram। কায়রো: Impr. de l'Institut français d'archéologie orientale। (পৃষ্ঠা ১৩৩−১৩৬)