বানিয়াচং রাজবাড়ি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বানিয়াচং রাজবাড়ি
বানিয়াচং হাবিলি
প্রাক্তন নামগোবিন্দ সিংহ বনাম হবিব খাঁ
বিকল্প নামরাজা হবিব খাঁ
সাধারণ তথ্য
অবস্থা১৯৭১ সালে বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল বর্তমানে একটি স্নানাগার দুটি মসজিদ ও একটি পুরাতন ভবনের ধংস্বাবশেষ রয়েছে
ধরনবাসস্থান
অবস্থানবানিয়াচং উপজেলা
ঠিকানাবানিয়াচং বড়বাজার সংলগ্ন (হবিগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ১৮ কি.মি দূরবর্তী )
শহরবানিয়াচং উপজেলা, হবিগঞ্জ জেলা
দেশবাংলাদেশ
বর্তমান দায়িত্বআহমদ জুলকার নাঈন ( উত্তরসূরী)
খোলা হয়েছেঅজানা
স্বত্বাধিকারীহাবিব খাঁ (গোবিন্দ সিংহ)
কারিগরী বিবরণ
কাঠামোগত পদ্ধতিজমিদার ঈসা খাঁর বাড়ির আদলে নির্মিত। এর কারণ ঈসা খাঁর ছেলে মুসা খাঁর সাথে বানিয়াচং এর জমিদার আনোয়ার খাঁর সুসম্পর্ক ছিল। বাড়ির চতুর্দিকে ফুলের বাগান ও তিনটি প্রবেশদ্বার ছিল। এই সময় দুটি মসজিদ কারুকার্যে খচিত করা হয়
পদার্থইট, সুরকি ও রড
অন্যান্য তথ্য
পার্কিংবাড়ির সামনে রয়েছে সুবিশাল মাঠ
তথ্যসূত্র
ঐতিহাসিক বানিয়াচং ও কিংবদন্তি - আবু সালেহ আহমদ

বানিয়াচং রাজবাড়ি বাংলাদেশ এর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বানিয়াচং গ্রামে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বানিয়াচং রাজ্যটি গোবিন্দ সিংহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গোবিন্দ সিংহ পরবর্তীতে ধর্মান্তরীত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে রয়েছে এক উল্লেখযোগ্য কাহিনী জানা যায়, জগন্নাথপুরকে বানিয়াচংয়ের সাথে একত্রিত করতে চাইলে প্রায়ই গোবিন্দ সিংহের জগন্নাথপুরের রাজা বিজয় সিংহের বিবাদ সৃষ্টি হত। এক পর্যায়ে বিজয় সিংহের সাথে গোবিন্দ সিংহের তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বিজয় সিংহ পরাজিত হয়ে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের নিকট বিচার প্রার্থী হন। গোবিন্দ সিংহকে ধরে নেওয়ার জন্য দূত প্রেরণ করা হলে তিনি দূতকে পদাঘাত করেন।পরবর্তীতে গোবিন্দ সিংহ নিজের সাম্রাজ্যকে সুরক্ষিত করার জন্য তার লাউড় রাজ্যর রাজধানী বানিয়াচং এর চারদিকে নদীসম গড় খাই খনন করেন। এ খবরে চার্তুযের পন্থা অবলম্বন করে দিল্লি থেকে মনি বিক্রতা হিসেবে একদল লোক নৌকাযোগে বানিয়াচং রাজ্য প্রবেশ করে। মনি ক্রয়ের উদ্দেশ্য ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণে গোবিন্দ সিংহ নৌকায় আরোহণ করলে তাকে ধৃত করে রাজদরবারে নীত করা হয়। রাজ্য দখল ও দূত হত্যার জন্য তার প্রতি মৃত্যুদন্ডের আদেশ হয়। আদেশ রক্ষা করে গোবিন্দ সিংহ তার পন্ডিতের সাথে কথা বলার আরজ পেশ করেন, পন্ডিতকে বানিয়াচং থেকে নেয়া হয়। পন্ডিতের কথা মতো গোবিন্দ প্রাণ ভিক্ষা ও পুনরায় ধর্মীয় মতে বিচারটি করার আকুল আবেদন পেশ করেন। পন্ডিতের শেখানো কথায় গোবিন্দ সিংহ বলেন, আমি ইতিমধ্যেই হিন্দু থেকে মুসলমান হয়ে গিয়েছি। কলিমা পড়ানো হলো। গোবিন্দসিংহ বললেন,হিন্দু শাস্ত্র মতে মুসলমান হওয়া মৃত্যুর সমতুল্য। তখন দিল্লির সম্রাট হেসে বললেন" বিনায়ে জঙ্গ আস্ত আজা আয় হাবিবে মন" ইসলাম ধর্মে নবদীক্ষিত গোবিন্দ সিংহ হবিব খাঁ নাম ধারণ করেন এবং শাহী দরবার থেকে রাজ্যর সনদসহ শেখ, সৈয়দ , মোঘল,পাঠান, তাতীঁ, জেলে,কামার,কুমার সহ প্রায় তিনশ পরিবার নিয়ে বানিয়াচং এ প্রত্যাবর্তন করেন আনুমানিক ১৫৫৬ সালে তখন তিনি রাজবাড়ি পূর্ননির্মাণ করেন। এই বাড়ির ইতিহাস আইনি আকবরী, বাহারি স্থান ই গায়েবী, সিলেটের ইতিবৃত্ত এবং ঐতিহাসিক বানিয়াচং ও কিংবদন্তি, জালালাবাদের কথা, বানিয়াচং দর্পণ সহ অনেক গ্রন্হে উল্লেখ রয়েছে।

অবকাঠামো[সম্পাদনা]

রাজার পরর্বতী বংশধর চার ভাইয়ের মধ্যে চারটি তালুকে বিভক্ত করা অংশে নতুন করে অবকাঠামো গঠন করা হয়েছে। বাড়ির চারিদিকে রয়েছে সুবিন্যস্ত দেওয়াল। দক্ষিণ দিকে রয়েছে প্রায় ৫০টি দোকান কাঠা।

রাজবংশধরগণ[সম্পাদনা]

১।দেওয়ান আদম রাজা

২।দেওয়ান কুরবান রাজা(২ নং তাল্লুক)

৩।দেওয়ান আলম রাজা

৪।দেওয়ান আসাদ রাজা

দেওয়ান কুরবান রাজা'র বংশধরগণ হলেনঃ

১।দেওয়ান আমন রাজা ->দেওয়ান আরমান রাজা -> দেওয়ান এরফান রাজাঃ

১।দেওয়ান লুকমান রাজা

২।দেওয়ান গোফরান রাজা


২।দেওয়ান জামান রাজা ->দেওয়ান মামন রাজা ->দেওয়ান আজমান রাজাঃ

১।দেওয়ান উসমান রাজা

২।দেওয়ান সুলেমান রাজা

৩।দেওয়ান হুমায়ুন রাজা

৩।দেওয়ান আলী রাজা

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

বর্তমানে রাজবাড়িতে দেওয়ান আলি রাজার বংশধরেরা বাস করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • সিলেটের ইতিবৃত্ত, বানিয়াচং দর্পণ
  • ঐতিহাসিক বানিয়াচং ও কিংবদন্তি