বাডি ওল্ডফিল্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাডি ওল্ডফিল্ড
বাডি ওল্ডফিল্ড.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামনরম্যান ওল্ডফিল্ড
জন্ম(১৯১১-০৫-০৫)৫ মে ১৯১১
ডাকিনফিল্ড, চেশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১৯ এপ্রিল ১৯৯৬(1996-04-19) (বয়স ৮৪)
ক্লেভলিস, ল্যাঙ্কাশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান, আম্পায়ার, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৩১০)
১৯ আগস্ট ১৯৩৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৮ - ১৯৫৪নর্দাম্পটনশায়ার
১৯৩৫ - ১৯৩৯ল্যাঙ্কাশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৩২
রানের সংখ্যা ৯৯ ১৭,৮১১
ব্যাটিং গড় ৪৯.৫০ ৩৭.৮৯
১০০/৫০ ০/১ ৩৮/১০০
সর্বোচ্চ রান ৮০ ১৬৮
বল করেছে ১৯০
উইকেট
বোলিং গড় ৬০.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/– ৯৬/–

নরম্যান বাডি ওল্ডফিল্ড (জন্ম: ৫ মে, ১৯১১ - মৃত্যু: ১৯ এপ্রিল, ১৯৯৬) চেশায়ারের ডাকিনফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৯ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও নর্দাম্পটনশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন বাডি ওল্ডফিল্ড। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৫ সাল থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত বাডি ওল্ডফিল্ডের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে স্যার জুলিয়ান কানের দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড ও ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে ভারত গমন করেন। পূর্ণাঙ্গ শক্তিধর ভারতীয় আক্রমণ মোকাবেলা করে প্রথম তিনটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে সেঞ্চুরি করেন। এগারো মৌসুমে সহস্র রান ও ১৯৪৯ সালে একবার দুই সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। সব মিলিয়ে ৩৭.৯০ গড়ে ১৭,৮১১ রান তুলেন।

১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তার খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্ন ঘটে ও উদীয়মান টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের অবসান ঘটে। এরপর ক্লাব পরিবর্তন করেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ সময়কালে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলেন।

১৯২৯ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের কর্মী হিসেবে বাডি ওল্ডফিল্ড যোগদান করেন। তবে, ১৯৩৫ সালের পূর্ব-পর্যন্ত খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে তাকে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। খেলায় তার সাফল্যের কথা ক্রিকেট সাংবাদিক নেভিল কারদাস মন্তব্য করেন যে, বাডি ওল্ডফিল্ডের স্ট্রোকপ্লে দেখতে অনেকাংশে জনি টিল্ডসলে’র অনুরূপ ছিল।[১] ১৯৩৭ সালে এডি পেন্টারের সাথে ২৭১ রানের জুটি গড়েছিলেন। ঐ খেলায় এডি পেন্টার পাঁচ ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ৩২২ রান তুলেন। অদ্যাবধি পেন্টারের সংগ্রহটি ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের সংগ্রহ হিসেবে টিকে রয়েছে।[২] ১৯৩৮ সালে বাডি ওল্ডফিল্ড আবারও পেন্টারের সাথে জুটি গড়ে সফলতা পান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা ৩০৬ রানের নতুন রেকর্ড গড়েন। তাদের এ রেকর্ডটি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টিকেছিল। এ পর্যায়ে মাইক অ্যাথারটননীল ফেয়ারব্রাদার রেকর্ডটি নিজেদের করে নেন।[১]

ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ১৫১টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১২ সেঞ্চুরি সহযোগে ৩৫.৭২ গড়ে ৭০০২ রান তুলেন।[৩]

নর্দাম্পটনশায়ারে স্থানান্তর[সম্পাদনা]

যুদ্ধ শেষ হবার পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা শুরু হলে ৩৫ বছর বয়সী বাডি ওল্ডফিল্ড ল্যাঙ্কাশায়ারের কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তিতে একমত হতে পারেননি ও দল ত্যাগ করেন। অবশ্য, জীবনের শেষদিকে ল্যাঙ্কাশায়ার ত্যাগ করার বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন।[১]

১৯৪৬ সালে আর্থিক বিষয়ে মতবিরোধ ঘটায় ওল্ড ট্রাফোর্ডে খেলতে অস্বীকৃতিজ্ঞাপন করেছিলেন। আরেক দলত্যাগী আলবার্ট নাটারের সাথে চলে আসেন ও নিজস্ব দ্বিতীয় ক্লাব নর্দান্টসের পক্ষে পরবর্তী সাত মৌসুমে ব্যাটিং গড় বৃদ্ধিতে বেশ সচেষ্ট হন। সচরাচর পিছনের পায়ে ভর রেখে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন বাডি ওল্ডফিল্ড। স্পষ্টতঃই তিনি তার সমসাময়িক খেলোয়াড়দের চেয়ে এগিয়েছিলেন।

ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে দুই মৌসুম খেলেছিলেন বাডি ওল্ডফিল্ড।[৪] এরপর, ১৯৪৮ সালে নর্দাম্পটনশায়ারে যোগদান করেন। তিনি পূর্বোক্ত দলের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে তিনটি সেঞ্চুরি করেন। নিজস্ব দ্বিতীয় মৌসুমে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে ২,১৯২ রান তুলেন। এ সংগ্রহটি দলের রেকর্ডবিশেষ। এ পর্যায়ে তিনি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৫৩ সালে পিটার্সবোরায় ভিন্স ব্রডারিককে সাথে নিয়ে ৩৬১ রানের জুটি গড়েন।

ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ক্যাপ লাভ করতে না পারলেও ১৯৪৮ সালে তার এ অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর কারণে ক্যাপ লাভ করেন।[৫] ল্যাঙ্কাশায়ার থেকে চলে আসার আক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও নর্দাম্পটনশায়ারে তিনি অধিকতর সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৫৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ৩৮.৫১ গড়ে ৯,৩২১ রান তুলেন।[৩]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন বাডি ওল্ডফিল্ড। ১৯ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে ওভালে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

২৮ বছর বয়সে ১৯ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাডি ওল্ডফিল্ডের টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব একমাত্র টেস্টে তিনি ৮০ ও ১৯ রানের ইনিংস খেলতে সমর্থ হয়েছিলেন। এ খেলা শেষ হবার অল্প কয়েকদিন বাদেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে ও ১৯৪৮ সালের পূর্ব-পর্যন্ত তিনি আর কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেননি[১] ও দীর্ঘদিনের টেস্ট খেলার স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়।[৪]

১৯৩৯ সালে ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টাইরেল জনসনের বলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ওয়াল্টার কিটন প্রথম বলেই বিদেয় নিয়েছিলেন। এরপর তিনি লেন হাটনের সাথে যুক্ত হয়ে লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইন, ম্যানি মার্টিনডেল, টাইরেল জনসন ও বার্টি ক্লার্কের ন্যায় বোলারদেরকে মোকাবেলা করে ১৩১ রানের জুটি গড়েছিলেন।

ইংল্যান্ডের পক্ষে আশিজন খেলোয়াড় একটিমাত্র টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, বাডি ওল্ডফিল্ডের ন্যায় এতো অধিক রান তুলতে পারেননি। একমাত্র টেস্টে অংশ নিয়ে ইংরেজ খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশী রান সংগ্রহের রেকর্ড ধারণ করে আছেন।[১]

১৯৪৯-৫০ মৌসুমে কমনওয়েলথ একাদশের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৯৫৩ সালে নর্দাম্পটনশায়ার কর্তৃপক্ষ তাকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত করে এবং তিনি ও নাটার যৌথভাবে £২,৭২৮ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন।[১]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৫৪ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানান বাডি ওল্ডফিল্ড। এরপর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হন।[৪] ১৯৬০ ও ১৯৬২ সালে দুইটি টেস্ট খেলা পরিচালনা করেছিলেন তিনি।[৬] এরপর, ১৯৬৮ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের কোচ হিসেবে ফিরে আসেন। পাঁচ বছর এ দায়িত্ব পালন করেন।[১]

৮৫তম জন্মদিনের পূর্বে ব্ল্যাকপুলের কাছাকাছি ক্লেভলিসে নিজ গৃহে তার মৃত্যু হয়। ১৯ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে ৮৪ বছর বয়সে ল্যাঙ্কাশায়ারের ক্লেভলিস এলাকায় বাডি ওল্ডফিল্ডের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Buddy Oldfield, Cricinfo.com  Retrieved on 18 December 2008.
  2. Most runs in an innings for Lancashire, Cricket Archive  Retrieved on 17 October 2007.
  3. First-class batting and fielding for each team by Buddy Oldfieldঅর্থের বিনিময়ে সদস্যতা প্রয়োজন, CricketArchive.com  Retrieved on 18 December 2008.
  4. Stump the Bearded Wonder No 120, BBC Online, ১৩ এপ্রিল ২০০৬  Retrieved on 18 December 2008.
  5. Buddy Oldfieldঅর্থের বিনিময়ে সদস্যতা প্রয়োজন, CricketArchive.com  Retrieved on 18 December 2008.
  6. "A South African great arrives"। ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]