বিষয়বস্তুতে চলুন

বাচ্চা বাজি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সমরকন্দ শহরে (বর্তমান উজবেকিস্তান) একটি বাচা নৃত্য পরিবেশন করছে; আনু.১৯১০

বাচ্চা বাজি ( ফার্সি:[] بچه بازی; আক্ষ.'"ছেলে খেলা"')[] ছিল আফগানিস্তানবুখারা আমিরাতে প্রচলিত একটি বালক-প্রীতিমূলক প্রথা, যেখানে পুরুষরা কিশোর-কিশোরী বয়সীদের শোষণ, দাসত্ব ও যৌন নির্যাতন করত। কখনো কখনো তাদের ঐতিহ্যগতভাবে নারী ও মেয়েদের পরিহিত পোশাক পরিয়ে বিনোদনের জন্য নাচতে বাধ্য করত। []যে ব্যক্তি ছোট ছেলেদের প্রতি এমন আচরণ করত, তাকে বাচা বাজ (আক্ষরিক অর্থে "ছেলে খেলোয়াড়") বলা হত[] এবং ছোট ছেলেকে ফার্সিতে বাচ্চা বলা হয়।

এমন ছেলেরা সাধারণত দরিদ্র ও ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উঠে আসত; যেমন রাস্তায় থাকা আত্মীয়-স্বজনহীন শিশু বা যারা নিজেদের পরিবার থেকে অপহৃত হতো।[][][১০] কিছু ক্ষেত্রে চরম দারিদ্র্য বা অনাহারের চাপে পড়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিজেদের অল্পবয়সি ছেলে সন্তানদের বাচ্চা বাজদের কাছে বিক্রি করে দিত অথবা খাবার কিংবা অর্থের বিনিময়ে তাদের তথাকথিত “দত্তক” হিসেবে দিতে রাজি হতো।[] এই বাচ্চা ছেলেদেরকে তাদের পৃষ্ঠপোষক বা মালিকের সমস্ত আদেশ মানতে বাধ্য করা হতো। তাদের মেয়েদের পোশাক পরতে বাধ্য করা হতো এবং নাচ-গান ও যৌন বিনোদনের মাধ্যমে অনুরাগী ও মালিকদের মনোরঞ্জন করতে হতো। মূলত বিনোদনের উদ্দেশ্যেই এভাবে বাচ্চা ছেলেদের শোষণ করা হতো; তবে কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাদের নানা কাজে, এমনকি সামরিক কার্যক্রমেও ব্যবহার করা হতো।[১১] অনেক ক্ষেত্রে তাদের দেহরক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হতো।[] মূলত সামাজিক কলঙ্ক, ঘৃণা ও অপমানের মুখোমুখি হয়ে এই অল্পবয়সী ছেলেরা তাদের মালিকদের তীব্রভাবে ঘৃণা করত। একই সঙ্গে তারা যৌন নির্যাতনেরও শিকার হতো,[১২] যার ফলে তাদের মনে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষত তৈরি হত। এই নির্যাতনের প্রভাবে তারা নানা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় ভুগতে থাকে এবং আজীবন মানসিক আঘাত বহন করে। অনেক ক্ষেত্রে এ মানসিক যন্ত্রণা সামাল দিতে না পেরে পরবর্তীতে তারা মাদকদ্রব্য ও মদ্যপানের মত জিনিসের প্রতি ঝুুঁকে পড়ত।[]

আফগানিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনামলে বাচ্চাবাজি প্রথাটিকে সরকারিভাবে অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।[১০][১৩][১৪] তবুও এই প্রথাটি ব্যাপকভাবে চালু ছিল এবং এতে জোর জবরদস্তি ও বলপ্রয়োগ ছিল খুবই সাধারণ বিষয়। আফগানিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান যে, এ ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করতে তারা অক্ষম ছিলেন। কারণ বাচ্চা বাজিতে জড়িত অনেক পুরুষই ছিলেন ক্ষমতাধর এবং ভারী অস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধবাজ কমান্ডার বা নেতা।[১৫][১৬][১৭] এছাড়া বাচ্চা বাজি বিরোধী আইনবিধি প্রভাবশালী অপরাধীদের ক্ষেত্রে খুবই কম কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হতো। এমনকি কিছু পুলিশ সদস্যও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।[১৮][১৯] বাচ্চা বাজি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও[২০] অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীদের বদলে ভুক্তভোগী ছেলেদেরই অভিযুক্ত করে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতো।[]

তালেবান শাসনামলেও এই প্রথার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রয়েছে।[২০] তবে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে এই প্রথা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কারণ এমন ঘটনায় ভুক্তভোগী বা তার পরিবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আদালতের শরণাপন্ন হতে চায় না। কিছু গবেষক ও বিশেষজ্ঞের মতে, ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রথাটি ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে কম সংঘটিত হচ্ছে এবং রাজধানী কাবুলের মতো এলাকায় এটি ক্রমশ তীব্র সামাজিক ও নৈতিক নিন্দার মুখে পড়ছে। [২১]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"বাচ্চা বাজি" একটি যৌগিক ফার্সি শব্দ; যা ফার্সি ভাষার শব্দ "বাচ্চা" (بچه), যার অর্থ ‘শিশু’ বা ‘কিশোর ছেলে’ এবং "বাজি" (بازی) শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো ‘খেলা’ বা ‘ক্রীড়া’। পরবর্তীতে শব্দটিতে উজবেক ভাষার প্রভাব এসে যায় এবং এটি রূপান্তরিত হয়ে "বাচা বোজি" (Бача бози) আকার ধারণ করে। রুশ ভাষাভাষী এলাকাগুলোতেও এই প্রথা ও ধারণাটি একই নামেই পরিচিত ছিল। এর শাব্দিক অর্থ হলো, "শিশু খেলা" বা "শিশুদের নিয়ে খেলা" এবং এটি নেতিবাচক অর্থ প্রদান করে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

বাচ্চা বাজির উৎপত্তি

[সম্পাদনা]

পণ্ডিততুর্কি জাতিবিশেষজ্ঞ ইনগেবর্গ বালডাউফ ১৯৮৮ সালে তার গবেষণায় বাচ্চা বাজি প্রথার উৎপত্তি সম্পর্কে বলেন যে, এই প্রথাটি হঠাৎ করে আফগান বা মধ্য এশীয় সমাজে সৃষ্টি হয়নি; বরং এটি প্রাচীন বিশ্বের অন্য সংস্কৃতি ও সমাজ থেকে মধ্য এশিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছে। বালডাউফ ধারণা করেন যে, বাচ্চা বাজির উৎস হেলেনিস্টীয় যুগের গ্রিকো-ব্যাক্ট্রীয় সংস্কৃতিতে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে মহান আলেকজান্ডারের অভিযানের পর ব্যাক্ট্রিয়া ও সোগদিয়া অঞ্চলে গ্রিক শাসন ও সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করে। এই অঞ্চলে গ্রিক সামাজিক রীতিনীতি স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যায়। প্রাচীন গ্রিক সমাজে প্রচলিত পেডারাস্টি নামক একধরণের সামাজিক প্রথায় প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা কিশোর ছেলেদের সঙ্গে সামাজিক ও যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। এই সম্পর্ককে তখন অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষামূলক, অভিভাবকত্বমূলক ও সামাজিক মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখা হতো। বালডাউফ মনে করেন যে, প্রাচীন গ্রিকের এই ধারণার সঙ্গে বাচ্চা বাজির প্রথাগত রূপের একটি সুস্পষ্ট মিল রয়েছে; বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও কিশোরের মধ্যে ক্ষমতা, ভূমিকা ও সামাজিক অবস্থানের বিভাজনের দিক থেকে। এছাড়া তিনি আরেকটি সম্ভাব্য উৎস হিসেবে প্রাচীন চীনা সভ্যতার কথাও উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিক নথি ও সাহিত্য থেকে জানা যায়, প্রাচীন চীনে পুরুষ-পুরুষ সম্পর্ক, বিশেষ করে কিশোর ছেলেদের প্রতি আকর্ষণ সামাজিকভাবে পরিচিত ও কিছু ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ছিল। মধ্য এশিয়া ও চীনের মধ্যে রেশম পথের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান চলেছিল। এই যোগাযোগের ফলে চীনা সামাজিক ধারণা ও আচরণ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষভাবে পূর্ব তুর্কিস্তানে (বর্তমান শিনচিয়াং) এই ধরনের বালকপ্রীতি প্রথার ঐতিহাসিক উপস্থিতি বালডাউফের এই ধারণাকে আরো জোরালো করে। তার মতে, গ্রিকো-ব্যাক্ট্রিয়ান প্রভাব ও চীনা সাংস্কৃতিক প্রভাব—এই দুই ধারার সংমিশ্রণই মধ্য এশিয়ার কিছু অঞ্চলে পরবর্তীতে বাচ্চা বাজি প্রথা প্রচলনে ভূমিকা রাখতে পারে।[২২]

দ্য জার্নাল অব ট্র্যাফিকিং অ্যান্ড হিউম্যান এক্সপ্লয়টেশনের (২০১৯) অনুযায়ী, কিছু নৃতত্ত্ববিদ মনে করেন, বাচ্চা বাজি প্রথাটির প্রাথমিক সূচনা গ্রিক-ম্যাসিডোনীয় বিজয়ের সময় মধ্য এশিয়ায় ঘটে থাকতে পারে প্রাচীন। আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী যখন ব্যাক্ট্রিয়া ও পার্শ্ববর্তী মধ্য এশীয় অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখন গ্রিক সংস্কৃতির কিছু সামাজিক ও যৌন আচরণ সেখানকার স্থানীয় সমাজে প্রভাব ফেলেছিল বলে ধারণা করা হয়। সেই প্রভাবের ফলেই বাচ্চা বাজির মতো একটি প্রথা ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে পারে। গবেষণাপত্রটি আরো জানায় যে, আফগানিস্তানে বাচ্চা বাজি সম্পর্কিত অনেক পুরোনো কবিতা, লোকসাহিত্য ও গান পাওয়া যায়, যা কেবল ইসলামি যুগের নয়; বরং কিছু কবিতা ইসলাম-পূর্ব সময় এমনকি অষ্টম শতাব্দীরও আগের বলে মনে করা হয়।[২৩] অন্যদিকে, দ্য জার্নাল অব কনটেম্পোরারি এশিয়ান স্টাডিজে (২০১৮) বলা হয়েছে যে, গবেষকরা সাধারণভাবে ধারণা করেন যে, বাচ্চা বাজির অস্তিত্ব প্রাচীনকাল থেকেই ছিল। তবে তারা সতর্ক করে জানান যে, প্রথাটিকে সরাসরি প্রাচীন পেডারাস্টির প্রথার সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি না, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কারণ প্রাচীন যুগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক, নৃতাত্ত্বিক ও তুলনামূলক গবেষণার অভাব রয়েছে। এই সীমিত তথ্যের কারণে গবেষকেরা এখনো এমন কোনো বিশ্লেষণ উপস্থাপন করতে পারেননি, যা থেকে বলা যেতে পারে যে, বাচ্চা বাজি সরাসরি গ্রিক পেডারাস্টি থেকে উদ্ভূত, নাকি মধ্য এশিয়ায় বিকশিত হয়েছে।[২৪]

তুর্কিস্তানে বাচ্চা বাজি

[সম্পাদনা]
রুশ তুর্কিস্তানে একজন বাচ্চা ও তার প্রাপ্তবয়স্ক অনুরাগীদের চিত্রায়ন; আনুমানিক ১৮৬৮ সাল।

বালডাউফের মতে, মধ্যযুগীয় মধ্য এশিয়ায় বাচ্চা বাজি প্রথাটি ত্রয়োদশ শতাব্দীতে সামাজিকভাবে স্বীকৃত ছিল এবং এটি খোরাসান অঞ্চল থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল।[১১] পরবর্তীতে রুশরা যখন মধ্য এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে, তখন উনিশ শতকে তারা বুখারা আমিরাত ও এর আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় ‘বাচ্চা বাজি’ নামে পরিচিত এই প্রথার মুখোমুখি হয়। [] এই প্রথায় কিশোর ছেলেদের মেয়েদের পোশাক পরিয়ে নাচানো হতো। এটি বিশেষভাবে উজবেকতুর্কমেন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি প্রচলিত ছিল।[২৫] রুশরা এই প্রথা সম্পর্কে অনেক বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যায়; কারণ তাদের কাছে এই ধরনের বিপরীত লিঙ্গের পোশাক পরিধান ও তৎসংশ্লিষ্ট যৌনাচরণ অত্যন্ত অদ্ভুত ও বিস্ময়কর মনে হয়েছিল। একই সঙ্গে তারা সমাজের ওপর এর সামাজিক ও যৌন প্রভাব সম্পর্কেও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।[২৬]

এই প্রথাটি শুধু অল্পবয়সি ছেলেদের নারীর পোশাক পরিয়ে নাচে অংশ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চারা নিজেদের অনুরাগীদের জন্য যৌন সেবাও প্রদান করত। আধুনিক উজবেক সাহিত্যের প্রথম দিককার ঔপন্যাসিক আব্দুল্লাহ কাদিরিসহ অনেক উজবেক লেখক ও বুদ্ধিজীবী তৎকালীন মাদ্রাসার ছাত্রদের মধ্যে সমলিঙ্গের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। কাদিরি নিজেও মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া বহু ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি মাদ্রাসার দুই ছাত্রের মধ্যে গড়ে ওঠা এক করুণ প্রেমকাহিনির আধা-আত্মজীবনীমূলক বিবরণ রেখে গেছেন। পরবর্তীকালে মার্ক ওয়েইল এই কাহিনিটিকে নাট্যরূপে রূপান্তর করেন এবং ইলখোম থিয়েটারে মঞ্চস্থ করেন। ইলখোম থিয়েটার ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম স্বাধীন থিয়েটার এবং এটি সোভিয়েত দখলীকৃত উজবেকিস্তানের একমাত্র স্বনির্ভর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছিল।[২৭]

১৯২৩ সালে আঁকা সমরকন্দ শহরের একটি বাচ্চার চিত্রকর্ম (বর্তমান এটি উজবেকিস্তানের অন্তর্গত)।

রুশরা মধ্য এশিয়ায় বাচ্চা বাজি প্রথার সাথে পরিচিত প্রথম বিদেশি পর্যটক ছিল। তবে তাদের ছাড়াও অনেক পশ্চিমা ভ্রমণকারী তুর্কিস্তান অঞ্চলে ভ্রমণের সময় প্রথাটির বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছে। বিশেষ করে ১৮৭২–১৮৭৩ সালের দিকে ইউজিন স্কাইলার তৎকালীন বুখারা আমিরাতের ছেলেদের নৃত্যচর্চা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে, বুখারার বাচ্চাদের অন্যান্য অঞ্চলের নারী নৃত্যশিল্পীদের প্রতিস্থাপন করার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হতো। এজন্য সাধারণ নৃত্যশিল্পীদের মতো তারাও নাচ-গান শিখতো; কিন্তু তাদের উপস্থাপনা বালকপ্রীতি ও কামুক আচরণের সঙ্গে জড়িত ছিল।[২৮] স্কাইলারের মতে, এই নৃত্যগুলো সামাজিকভাবে সরাসরি অশ্লীল ছিল, তবুও এতে কামুকতা ও লোলুপতার প্রকাশ ঘটত। তার বর্ণনা অনুযায়ী, বাচ্চাদের নৃত্যশিল্পও কখনো কখনো তাদের প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের প্রতি যৌন সঙ্কেত বহন করত, যা স্থানীয় সমাজের মধ্যে একটি স্বীকৃত ও সংবেদনশীল প্রথা ছিল। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, তাশখন্দে এই প্রথা ১৮৭২ সালের মধ্যে পর্যন্ত চলছিল এবং তখনো বাচ্চারা শহরে জনসমক্ষে নাচ ও প্রদর্শনী চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে সেই বছর তাশখন্দে একটি ভয়াবহ কলেরা মহামারি দেখা দিলে সমাজে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে। মহামারির প্রভাবে মোল্লারা ঘোষণা দেন যে, নাচ আল্লাহর বাণীর পরিপন্থী। এর সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের অনুরোধে রুশ কর্তৃপক্ষ সেই বছরের গ্রীষ্মে সার্বজনিক নৃত্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে। ফলে ১৮৭২ সালের পর থেকে তাশখন্দে বাচ্চাদের নৃত্যের প্রকাশ্য চর্চা বন্ধ হয়ে যায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তবে স্কাইলার আরো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, ওই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি; কারণ স্থানীয় বণিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা বাজেম নামে পরিচিত নৃত্যের জন্য একেবারেই উচ্ছ্বসিত ছিল। স্কাইলার আরও লিখেছেন যে, যখন কোনো প্রিয় নর্তক তার নৃত্য পেশা চালিয়ে যেতে অসক্ষম হয়ে যেত বা বয়সের কারণে সে অবসর নিতে বাধ্য হয়, তখন তার ধনী অনুরাগী ও সমর্থকরা ব্যবসায়িকভাবে তাকে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করতেন। তাই কোনো নর্তক তার নৃত্যের পেশা থেকে অবসর নিলেও তার সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনুরাগীরা তাকে কোনো ব্যবসা বা জীবিকা শুরু করতে সহায়তা করতেন। মূলত এসব কারণেই বাচ্চাদের নৃত্য পেশা সহজে বন্ধ করা যায়নি। [২৮]

একজন তুর্কিস্তানি বাচ্চা, আনু.১৮৭০

কাউন্ট কনস্টান্টিন কনস্টান্টিনোভিচ পাহলান ১৯০৮ এবং ১৯০৯ সালে যখন এই অঞ্চলে ভ্রমণ করছিলেন, তখন তিনি স্থানীয় ছেলে নৃত্যশিল্পীদের প্রদর্শিত বিভিন্ন নাচের অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং সে ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনাও করেছিলেন। তিনি শুধু দেখেই ক্ষান্ত হননি; বরং চাইতেন যে, এই নৃত্যশিল্পীদের কাজ চিরস্থায়ীভাবে রেকর্ড রাখা হোক। তাই তিনি তাদের ছবি তোলার জন্যও বিশেষভাবে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর অংশ হিসেবে তিনি সেই সময়কার নৃত্য প্রথা ও নাচের ভঙ্গিমা নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে ভবিষ্যতের জন্য এই তথ্য সংরক্ষিত থাকে:[২৯][৩০][৩১]

কুশনগালিচা আনা হলো এবং আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে সেই আরামদায়ক আসনের উপর বসে পড়লাম। মহলটিতে বড় বড় কার্পেট বিছানো হয়েছে, যা গোটা হলের পরিবেশ আরো চমকপ্রদ ও আরামদায়ক করে তুলেছিল। স্থানীয়রা ধীরে ধীরে তাদের নার্গিলে ফুঁকছিল এবং ভদ্রভাবে তারা আমাদেরও এমনটি করার প্রস্তাব করেছিল। তখনই বিখ্যাত খিভার বাচ্চরা (যারা নৃত্য ও বিনোদনের জন্য পরিচিত ছিল) দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। পর্দার পেছনে একটি ঐকবাদনদল দাঁড় করানো ছিল, যা মূলত যুগল বাঁশি, টিম্পানি ও ছয়টি মানুষের আকারের বড় রূপালী শিং দিয়ে গঠিত হয়েছিল এবং তারা নৃত্যের জন্য সঙ্গীত পরিবেশন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমাদের ঠিক সামনের দিকে একটি দরজা সামান্য খোলা ছিল, যা দিয়ে হেরেমের (মহিলাদের জন্য বিশেষ কক্ষ) দিকে দেখা যাচ্ছিল। তখন আমরা ঝলমলে চোখের একটি চমক দেখতে পেলাম। কিছু বন্দি দরজার দিকে ছুটে এসে সেখানে ভিড় জমাল এবং তারা আমাদের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকাচ্ছিল। তারাও আমাদের মতো ছোট বাচ্চাদের নৃত্য প্রদর্শনী উপভোগ করতে চাইছিল। সেই সময় ঐকবাদনদল বাজানো শুরু করল, যা একটি অদ্ভুত ও করুণ সুরের সাথে মিলে গেল। মূল তালটি টিম্পানির স্পন্দন দিয়ে আরো জোরালো হয়ে উঠল। তারপর চারজন বাচ্চা তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান গ্রহণ করে কার্পেটে দাঁড়াল। বাচ্চারা ছিলেন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক, যাদের কাজ হলো নির্দিষ্ট ধরনের নৃত্য পরিবেশন করা। তারা খালি পায়ে নারীদের পোশাকের অনুকরণে তৈরি পোশাক পরেছিল: উজ্জ্বল রঙের রেশমের দীর্ঘ শূট, যা হাঁটুর নিচে পর্যন্ত নেমে আসে। এটি ছিল পায়ের চারপাশে শক্তভাবে বাঁধা সঙ্কুচিত পায়জামার মতো দেখতে। তাদের হাত ও বাহু চকচকে আংটি ও কংকালপত্র দিয়ে সাজানো রয়েছে, যা নৃত্য চলার সময় ঝলমল করছে। তাদের চুল ছিল দীর্ঘ, যা কাঁধের নিচ পর্যন্ত নেমে আসে; তবে মাথার সামনের অংশ ছিল সম্পূর্ণ খালি। হাত-পায়ের নখ ছিল লাল রঙে রঙানো এবং ছিল ভ্রু অতিশয় কালো। তাদের প্রদর্শিত নৃত্যের মধ্যে ছিল শরীরকে নরম ও নমনীয়ভাবে বাঁকানো; কোমর ও পা ছন্দের সাথে সাথে সামনে-পিছনের দিকে নড়াচড়া করা এবং হাত ও বাহু কাঁপাতে কাঁপাতে উঁচু করে রাখা। এভাবে আস্তে আস্তে নর্তকদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলল; বৃত্তটি বড় হতে লাগল এবং সঙ্গীতের তালের তীক্ষ্ণতাও ক্রমশ বাড়তে থাকল। স্থানীয় দর্শকরা দরজার সামনে ভিড় করে নর্তকদের দিকে তাকাচ্ছিল এবং তাদের চোখে উজ্জ্বলতা ও মুগ্ধতার ঝিলিক ফুটছিল। সেই সময় প্রশিক্ষিত নর্তক বাচ্চারা তীব্র ও ধারালো সুরে গান গাইছিল এবং সেই সুরের ছন্দের সাথে তাদের নাচের তালের মিল ছিল একেবারে নিখুঁত; যখন সঙ্গীতের তীব্রতা যত বাড়ছিল, তখন নাচের উত্তেজনাও বেড়ে চলছিল। এভাবে যত সময় গড়িয়ে যেতে লাগল, নর্তকদের সংখ্যা বাড়তে থাকল; বৃত্তটি ক্রমশ বড় হতে লাগল; সঙ্গীতও ক্রমে তীব্রতর হতে লাগল। স্থানীয় দর্শকদের চোখে প্রশংসার ঝিলিক ফুটতে লাগল। বাচ্চারা সেই ক্রমবর্ধমান সঙ্গীতের তাল অনুযায়ী একটি তীক্ষ্ণ সুর উচ্চারণ করতে লাগল। কেউ ব্যাখ্যা করল যে, তারা প্রেম ও নারীর সৌন্দর্য নিয়ে গান গাইছে। নর্তকীরা ক্রমে ক্রমে দ্রুত নাচতে লাগল, যতক্ষণ না তারা ক্লান্ত ও প্রেমের মায়াজালে মোহিত হয়ে শেষ পর্যন্ত মাটিতে পড়ে গেল। এরপর তাদের পরে আরো নর্তক আসত এবং এভাবে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত চলতেই থাকত। তবে থিমটা সাধারণত প্রায়ই একই রকমই থাকত।

১৯০৯ সালে তাশখন্দে অনুষ্ঠিত "মধ্য এশিয়ার কৃষি, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনীতে” দুইজন বাচ্চা নর্তক অংশগ্রহণ করে। তারা হল ১৬ বছর বয়সী হাদজি-বাচ্চা এবং ১০ বছর বয়সী সাইদ-বাচ্চা, যারা মার্গিলান উযেদ থেকে এসেছিলেন। এই প্রদর্শনীর সময় দর্শকরা তাদের নৃত্য ও গান দেখে ক্রমাগত আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন এবং অনেক সময় তাদের মাঝে হাসি ও আনন্দ ভেসে উঠছিল। এই দৃশ্য লক্ষ্য করে স্থানীয় কয়েকজন গবেষক তাদের পরিবেশিত গানের কথাগুলো লিখে সংরক্ষণ করেছিলেন, যেন পরবর্তীতে এই নাচ ও সাংস্কৃতিক প্রথা বিশ্লেষণ করা।[৩২] তারপর সেই গানগুলো মূল “সার্ট ভাষায়” প্রকাশিত হয়েছিল এবং তার সঙ্গে রুশ অনুবাদও ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অনেক বড় বড় শহরে বাচ্চা বাজির জনপ্রিয়তা কমে যায়। নৃত্য ইতিহাসবিদ অ্যানথনি শে'র মতে, এর মূল কারণ ছিল ভিক্টোরীয় যুগের অত্যধিক সংযমশীলতা এবং রুশ, ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশিক শক্তিদের সমালোচনা। সেই সঙ্গে পশ্চিমা ঔপনিবেশিক মূল্যবোধ গ্রহণ করে নেওয়া স্থানীয় নতুন শাসক শ্রেণিও এই প্রথা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। [৩৩] তবে মধ্য এশিয়ার প্রজাতন্ত্রগুলোতে কখনোই বাচ্চা বাজি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়নি; বরং গোপনে এর অনুশীলন চলতে হতে থাকে এবং "বদ্ধকামরার" কার্যকলাপে পরিণত হয়।[৩৪]

আফগানিস্তানে বিস্তার

[সম্পাদনা]

১৮ শতকের শেষের দিকে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে “বাচ্চা নর্তক" প্রথা বেশ জনপ্রিয় ছিল। তৎকালীন আফগান শাসক আমির আবদুর রহমান খানের দরবার পরিদর্শনকারী ব্রিটিশ গভর্নর লর্ড কার্জন নিজের স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন যে, আফগানিস্তানে বাচ্চাদের নৃত্য অত্যন্ত পছন্দনীয় ও জনপ্রিয় বিনোদন ছিল। এটি শুধু রাজদরবারের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সামাজিক অনুষ্ঠান ও জমায়েতেও এই ধরনের নৃত্য অনুষ্ঠান লক্ষ করা যেত। ১৮৯০-এর দশকের শুরুর দিকে আব্দুর রহমান খানের ব্যক্তিগত সার্জন হিসেবে নিযুক্ত ব্রিটিশ চিকিৎসক জন আলফ্রেড গ্রে'র বর্ণনায় দেখা যায় যে, দরবারে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে প্রায় ডজনখানেক তেরো থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী ছেলে থাকতো। তাদের চুল অতি দীর্ঘ হতো এবং তারা মেয়েদের পোশাক পরে নাচতো। তারা সেই সময়কার দরবারের বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং তাদের নৃত্যকে শুধু আনন্দ ও বিনোদন হিসেবেই দেখা হতো না, বরং এটি সামাজিক মর্যাদা ও সংস্কৃতির একটি অংশ ছিল। তৎকালীন আফগান বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক মাহমুদ তারজি তার স্মৃতিকথায় আরো উল্লেখ করেছেন যে, উনিশ শতকের শেষের দিকে কাবুলে জনসমাবেশ এবং সামাজিক জমায়েতে বাচ্চা নর্তকদের পাশাপাশি কঞ্চিনি বা মেয়ে নৃত্যশিল্পীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যেত। তারজির বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, শুধুমাত্র দরবারেই নয়; সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও এই নৃত্যশিল্পীরা বিনোদনের অংশ হিসেবে উপস্থিত থাকতেন এবং তাদের ক্রীড়া, নৃত্যভঙ্গি ও সাজসরঞ্জাম দর্শকদের আকর্ষণ করত।[৩৫]

তবে আব্দুর রহমান খানের সময়ে বাচ্চা বাজির অর্থ ছিল বাচ্চাদের নাচ দেখানো এবং তাদেরকে দেহরক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা; বাচ্চাদের সাথে যৌন সম্পর্কের অর্থে নয়। এই বাচ্চাদের মূলত গোলাম-বাচা (‘দাস সন্তান’) নামে ডাকা হতো। তারা বড় হয়ে সর্বাধিনায়ক, কোষাধ্যক্ষ ও আমীরের ব্যক্তিগত দেহরক্ষক হিসেবে কাজ করতো।[৩৫]

আফগানিস্তানের আমীর আবদুর রহমান খান রাজপ্রসাদে তার তিনজন গোলাম-বাচ্চা দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে আছেন; আনু.১৯০০

আফগানিস্তানে বাচ্চা বাজির শাস্তি

[সম্পাদনা]

১৮৮০-এর দশকে আফগান রাজপ্রাসাদে স্বল্পমেয়াদে চালু হওয়া গোলাম বাচ্চা প্রথাটি পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আফগান সমাজেও ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তাই আমির আব্দুর রহমান খানের নাতি আমানউল্লাহ খান নৈতিক ও সামাজিক কারণে এই প্রথা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মনে করতেন যে, এই ধরনের প্রথা মূলত সাবেক দাসপ্রথাশিশুশ্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তা আধুনিক রাষ্ট্র ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমানউল্লাহ খান শুধুমাত্র প্রথাটি বাতিল করেননি, বরং এটিকে আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেন। [৩৬][পৃষ্ঠা নম্বর প্রয়োজন]

১৯২১ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত আফগানিস্তানের প্রথম সাধারণ দণ্ডবিধির ১৭০ নম্বর ধারায় এই উদ্দেশ্য বাচ্চা রাখার জন্য ১,০০০–৫,০০০ রুপি জরিমানা ও জেলশাস্তির বিধান রাখা হয়েছিল। এটি আধুনিক আফগানিস্তানের ইতিহাসে বাচ্চা বাজি সম্পর্কিত প্রথম আইন ছিল। একই দণ্ডবিধির ১৬৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে যে, বাচ্চাদের সঙ্গে ‘ঘৃণ্য কাজ’ (ফেলে শানিই‘) করা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।[]

এরপর ১৯২৪ সালের সাধারণ দণ্ডবিধিতে একটি ধারা যোগ করা হয়: "যদি আমরাদ (ছেলে) নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী [যৌন আচরণে] অংশগ্রহণ করে, তাহলে তাকেও সেই একই শাস্তি দেওয়া হবে, যা বিচারক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য নির্ধারণ করবেন। এই দণ্ডিবিধিতে শাস্তি নির্ধারণের ক্ষমতা পুনরায় ধর্মগুরুদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল।

সংগীতবিদ জন বেইলি মন্তব্য করেছিলেন যে, ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে আফগানিস্তানের হেরাতে বাচ্চাদের নৃত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অনুষ্ঠান বা সমাবেশ আয়োজন করা অনুমোদিত ছিল না। এর প্রধান কারণ ছিল, এই ধরনের সমাবেশে প্রায়শ সহিংস ঝগড়া ও মারামারি শুরু হতো, যা অধিকাংশ সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সমাজ এমন অনুষ্ঠানের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করত।[৩৬] একই সময়ে ১৯৭০-এর দশকে জার্মান নৃবিজ্ঞানের গবেষকরা আফগানিস্তানের উত্তরে উজবেক জনগোষ্ঠীর মধ্যে “বাচ্চা নৃত্য” বা বাচাবোজলিক প্রথার বিস্তৃতি লক্ষ্য করেছিলেন। তারা দেখেছেন যে, এই প্রথা শুধু গ্রামীণ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা শহুরে ও শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী মহলেও চর্চিত ছিল। তবে অনেকেই এটি স্বীকার করতেন না। এর ব্যাখ্যায় বেশিরভাগ আফগান বুদ্ধিজীবী হয়তো বলতেন যে, “আমাদের আফগান জাতিগত গোষ্ঠীতে এমন প্রথার প্রচলন নেই অথবা এটিকে গ্রামীণ সমাজের অশিক্ষা, লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক পৃথকীকরণ ও সীমিত যৌন অভ্যাস হিসেবে উল্লেখ করতেন। তারা এটিকে একটি গ্রামীণ ও প্রান্তিক সামাজিক আচরণ হিসেবে গণ্য করতেন। গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয় যে, বাচ্চা ও বাচ্চাবাজের মধ্যে হালকা চুম্বন ও কোমল স্পর্শের মত কিছুটা শারীরিক সখ্যতা অলিখিতভাবে সমাজে অনুমোদিত ছিল। তবে যৌন সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ছিল। যদি এই সম্পর্ক যৌনতায় রূপ নিত, তাহলে এটি তৎক্ষণাৎ শেষ হয়ে যেত এবং তারা সামাজিকভাবে তীব্র নিন্দার মুখে পড়ত। এসব বিবেচনায় গবেষকরা ধারণা করেন, যদিও বাচ্চাবাজি প্রথা সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে উপস্থিত ছিল, তবে এটি নিয়ন্ত্রিত ও সীমিত আকারে চালু ছিল[৩৬]

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ লাশা চান্টৌরিদজের মতে, আফগানিস্তানে সমাজতান্ত্রিক (সোভিয়েত-সমর্থিত) যুগে বাচ্চা বাজি সম্পর্কিত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, সোভিয়েতরা ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে মধ্য এশিয়ায় এমন কর্মকাণ্ডের জন্য দোষীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করেছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটে ধারণা করা যায় যে, আফগানিস্তানেও তারা এই প্রথাকে সহ্য করত না। তৎকালীন আফগানিস্তানে স্থিতিশীল সরকার ছিল, যা সাংবিধানিক আইন-কানুন কার্যকর করত এবং প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান বজায় রাখত। পাশাপাশি, যুদ্ধের অনুপস্থিতি ও আপেক্ষিকভাবে নিম্ন দারিদ্র্য থাকায় দেশের ভেতরে যৌন সম্পর্ক ও শিশুদের নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটার সুযোগ সীমিত ছিল।[৩৭] সোভিয়েত–আফগান যুদ্ধের সময় বিশেষ করে মুজাহিদিন গোষ্ঠীগুলির মধ্যে আইনশৃঙ্খলার অভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে সীমিত আকারে বাচ্চা বাজি প্রথা ছড়িয়ে পড়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। তখন কিছু ব্যক্তি কনিষ্ঠ পুরুষ সৈন্যদের যৌন দাস হিসেবে রাখত, যাদের “চাই বয়” বলা হতো এবং এটি তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদার একটি প্রতীক হিসেবে গণ্য হতো বলে কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে। পরবর্তীতে তালেবানের প্রথম শাসনামলে উত্তর জোটের যোদ্ধা কমান্ডাররাও অনুরূপ প্রথা চালু রেখেছিল।[১৩][৩৭]

তালেবান গঠনের পটভূমি

[সম্পাদনা]

কিছু বিবরণ অনুসারে, আফগানিস্তানের তৎকালীন নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি স্থানীয় যুদ্ধবাজ নেতাদের মাঝে "বাচ্চা বাজি" প্রথার ব্যাপক প্রচলনও মোল্লা মুহাম্মদ উমর কর্তৃক তালেবানকে সংগঠিত করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।[১৩][৩৭] ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি যুদ্ধপ্রধানদের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কারণ শিশুদের ওপর তাদের চালানো যৌন নির্যাতন ও অবমাননাকর আচরণ তাকে অসুস্থ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।[৪২]

আফগানিস্তান থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ নজিবউল্লাহ যখন পদত্যাগ করেন, তখন দেশটি ব্যাপক অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়ে। দেশের বিভিন্ন মুজাহিদিন গোষ্ঠী একে অপরের সঙ্গে সম্পূর্ণ ক্ষমতার জন্য লড়াই শুরু করে। সেই সংঘাতকালের শুরুতে মোল্লা ওমর নিশ্চুপ ছিলেন এবং তিনি নিজের পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। কিন্তু ধীরে ধীরে দেশ জুড়ে নৃশংস অব্যবস্থা ও সামাজিক বিভ্রাট ছড়িয়ে পড়লে তিনি তা প্রতিহত করার জন্য পরিকল্পনা শুরু করেন। বিশেষ করে বাচ্চা বাজির মতো শিশু নির্যাতন ও শোষণমূলক প্রথা তার মনে গভীর বিরক্তি সৃষ্টি করে। এই নৃশংসতা ও অনৈতিকতার কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে এসে নিজের ছাত্র ও পরিচিত স্থানীয় লোকদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। ১৯৯৪ সালে মুল্লা উমরের এক স্বপ্নে একজন মহিলা তাকে বলেন: "আমাদের তোমার সাহায্য প্রয়োজন; তোমাকে এগিয়ে এসে এই বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটাতে হবে; আল্লাহ তোমার সঙ্গে থাকবেন"।[৪৩] এই স্বপ্ন মোল্লা উমরের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তখন থেকে তিনি একটি সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন, যা প্রাথমিকভাবে মাত্র ৫০ জনেরও কম সশস্ত্র মাদ্রাসাছাত্র নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এই ছাত্রদেরই প্রথমে ‘তালেবান’ (পশতু ভাষায় ‘ছাত্র’) নামে ডাকা হতো। উমরের অনুসারীরা মূলত আফগানিস্তানের বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে উঠে এসেছিল; বিশেষ করে কন্দাহার অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলি থেকে। তবে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী আফগান শরণার্থী শিবির থেকেও অনেককে নিয়োগ করা হয়েছিল। গৃহযুদ্ধের সময় যোদ্ধারা প্রধানত দুর্নীতি, আইনি বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধবাজ নেতাদের কুশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। এই কারণে সাধারণ আফগান জনগণ তাদের প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানায় এবং সমর্থন করে। কারণ সেই সময়ে তারা যুদ্ধ, অরাজকতা, নিরাপত্তাহীনতা ও যুদ্ধবাজ নেতার জুলুমে অতিষ্ঠ ছিল।[৪৩]

১৯৯৪ সালে মোল্লা উমর কান্দাহারে কয়েকজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে তালেবান আন্দোলন গঠন করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই এই গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তৎকালীন আফগানিস্তানে চলমান গৃহযুদ্ধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িত অন্যান্য মুজাহিদিন ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তালেবান যোদ্ধারা একের পর এক সামরিক বিজয় অর্জন করে। এর ফলস্বরূপ, ১৯৯৬ সালের মধ্যে তালেবান আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকা দখল করতে সক্ষম হয় এবং এর অন্যান্য আফগান প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে। এই বিজয়ের পর মোল্লা উমরের নেতৃত্বে তালেবান একটি সুন্নি ইসলামি আমিরাত প্রতিষ্ঠা করে এবং সেই আমিরাতের নাম দেওয়া হয় আফগানিস্তান ইসলামি আমিরাত[৪৪] এতে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব একটি উচ্চ পরিষদের হাতে ছিল, যার প্রধান ছিলেন মোল্লা উমর নিজেই। এই শাসনব্যবস্থায় শরিয়াহ অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়। তখন রাষ্ট্রের আওতায় সামাজিক আচরণ, পোশাক, বিচারব্যবস্থা, নারী ও পুরুষের ভূমিকাসহ জনজীবনের প্রায় সব দিক নিয়ন্ত্রিত ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।[৪৩]

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের শুরুর দিকে মোল্লা উমর ১৬টি রাইফেলসহ মাত্র ৩০ জন শিষ্যকে নেতৃত্ব দিয়ে এক যুদ্ধবাজ নেতার কবল থেকে দুইজন অল্পবয়সি মেয়েকে উদ্ধার করেন। ওই যুদ্ধবাজ নেতা মেয়েদের অপহরণ করে তাদের ধর্ষণ করেছিল। পরে ওমরের অনুসারীরা তাকে একটি ট্যাংকের কামানের নলে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়।[৪৫] আরেকটি ঘটনা ১৯৯৪ সালে তালেবানরা কান্দাহার দখল করার কয়েক মাস আগে ঘটেছিল। তখন দুইজন মিলিশিয়া কমান্ডারের মধ্যে একজন কিশোরকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ বিরোধ সৃষ্টি হয়। কারণ তারা দুজনই সেই কিশোর ছেলেটির সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করেছিল এবং এই বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় মোল্লা উমরের অনুসারীরা হস্তক্ষেপ করে এবং সেই ছেলেটিকে মুক্ত করে আনে। এই ঘটনার পর খুব দ্রুতই বিভিন্ন স্থান থেকে তালেবানের কাছে মানুষের আবেদন আসতে থাকে। তারা চাইছিল যে, মোল্লা উমর যেন অন্যান্য বিরোধ ও অবিচারের ক্ষেত্রেও মধ্যস্থতা করেন। এর ফলে তার নেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি ধীরে ধীরে গতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করে। এক বছরের মধ্যেই আন্দোলনটি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয় এবং বছরের শেষের দিকে বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে প্রায় ১২,০০০ জন ছাত্র তার আন্দোলনে যুক্ত হয়। তবে এদের মধ্যে কিছু পাকিস্তানি স্বেচ্ছাসেবকও ছিল, যারা উপজাতীয় অঞ্চলগুলোর পশতুন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।[৪৪]

১৯৯৬ সালে তালেবান ক্ষমতায় আরোহণ করে শরিয়াহ আইন কার্যকর করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বাচ্চা বাজি প্রথাটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তালেবান শাসনামলে এই প্রথায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয় এবং তালেবান আইনে বাচ্চা বাজির জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় প্রায় সম্পূর্ণভাবেই এই প্রথাটি নির্মূল করতে সক্ষম হয়।[৩৭]:৩৭

২০০১ সালের মার্কিন আগ্রাসনের পর পুনরুত্থান

[সম্পাদনা]

২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনের ফলে তালেবান শাসনের পতন ঘটে। এরপর পুনরায় আফগানিস্তানে বাচ্চা বাজি প্রথা বিস্তার লাভ করে। গবেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ ছিল সাবেক যুদ্ধবাজ নেতা ও কমান্ডারদের পুনরায় রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন। এছাড়া দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ব্যাপক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণেও প্রথাটি ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ শুরু করে। [১৩] তালেবান আমলে প্রথাটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদের পতনের পর অনেক অঞ্চলে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। সমসাময়িক কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বর্তমান বিশ্বে আফগানিস্তান এমন কয়েকটি দেশের একটি, যেখানে ‘বাচ্চাদের’ (দাড়িহীন কিশোর) ঘিরে গড়ে ওঠা এক বিশেষ নান্দনিক-যৌনতাবিষয়ক সামাজিক ধারণা এখনো জনচেতনায় টিকে আছে।[৪৬] এই ধারণায় কিশোরদের সৌন্দর্য, পোশাক, নৃত্য ও তৎসম্পর্কিত প্রকাশ্য বিনোদনের উপাদান সামাজিকভাবে স্বীকৃত বা অন্তত সহনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রথার স্থায়িত্ব ও পুনরুত্থানের পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ কাজ করে।[৪৬] এসবের মধ্যে রয়েছে চরম দারিদ্র্য, যা শিশুদের অর্থনৈতিক শোষণের ঝুঁকিতে ফেলে; কঠোর লিঙ্গবিভাজন, যার ফলে নারী-পুরুষের স্বাভাবিক সামাজিক মেলামেশা সীমিত হয়ে পড়েছে এবং টানা কয়েক দশকের যুদ্ধ, যা সামাজিক নীতি, আইন ও নৈতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। [৪৬]

২০১১ সালে জাতিসংঘ ও আফগানিস্তান সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় রাধিকা কুমারস্বামী ও আফগান সরকারি কর্মকর্তারা একটি কর্মপরিকল্পনায় স্বাক্ষর করেন। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে বাচ্চা বাজি প্রথার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে শিশুদের সুরক্ষার জন্যে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়।[৪৭] ২০১৪ সালে আফগানিস্তান স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের জাতীয় পর্যায়ের শিশু অধিকার কমিশনার সুরাইয়া সুবরাং বলেন যে, যেসব অঞ্চলে বাচ্চা বাজি চর্চা করা হতো, সেসব এলাকার সংখ্যা কমার বদলে বরং আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।[] ২০১৭ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের প্রচলিত আইনে বাচ্চা বাজি প্রথাকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা কিংবা এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো নির্দিষ্ট ধারা বা বিধান ছিল না। ফলে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে এই অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ও সুসংহত পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি নতুন দণ্ডবিধি কার্যকর হয়, যেখানে প্রথমবারের মতো বাচ্চা বাজির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে আইনগতভাবে এই প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়।[৪৮]

২০১২ সালের ডিসেম্বরে আফগান সীমান্ত পুলিশের এক কমান্ডারের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে এক কিশোর প্রতিশোধস্বরূপ আট প্রহরীকে হত্যা করে। সে প্রহরীদের জন্য মাদক মেশানো খাবার প্রস্তুত করে তাদের খাওয়ায় এবং পরে দুই বন্ধুর সহায়তায় তাদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পর তারা প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। [৪৯]

২০১৪ সালে আফগানিস্তান স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, যারা বাচ্চা বাজি প্রথা অনুসরণ করে, তাদের মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ পুরুষই মাত্র একজন নারীর সঙ্গে বিবাহিত।[] আফগান ইসলামি পণ্ডিতরা মনে করেন যে, বাচ্চা বাজি ইসলামি আইনের লঙ্ঘন; কারণ এটিও একধরণের সমকামিতা। অন্যদিকে কিছু আধুনিকতাবাদী আফগান বিশ্বাস করেন যে, ইসলাম কেবল একজন পুরুষের সঙ্গে অপর একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে; কিন্তু কোনো বালকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে তারা সেইভাবে নিষিদ্ধ মনে করেন না। []

২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তর আফগানিস্তানের বাগলন প্রদেশে তালেবান যোদ্ধারা “বাচ্চা বাজির” (বালকপ্রীতি) অভিযোগে এক ব্যক্তি ও এক কিশোর বালককে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর আগে তালেবানরা ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে তাকে বালকটির সঙ্গে আটক করে এবং পরিবারের সদস্যদের সামনে দুজনকেই গুলি করে হত্যা করে।[৫০]

মার্কিন সামরিক বাহিনী ও বাচ্চা বাজি প্রথা

[সম্পাদনা]

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে ফাঁস হওয়া একটি মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় উত্তর আফগানিস্তানে বাচ্চা বাজি প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশ পায়। ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয় যে, আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত বেসরকারি সামরিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ডাইনকর্পের অধীনে কর্মরত বিদেশি ঠিকাদাররা এই প্রথায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিল। তারা ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর ছেলেদের ‘বাচ্চা নৃত্যশিল্পী’ হিসেবে ভাড়া করে নিজেদের বিনোদনের জন্য ব্যবহার করত।[৫১]

ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, উত্তর আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত কিছু বিদেশি প্রশিক্ষক ও ঠিকাদার মাদক সেবনে জড়িত ছিল এবং একই সঙ্গে তারা স্থানীয়ভাবে প্রচলিত "বাচ্চা বাজি" প্রথার অংশ হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের অর্থের বিনিময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত করত। এসব অনুষ্ঠানে ছেলেদের নারীদের পোশাক পরিয়ে গান ও নৃত্যের মাধ্যমে বিনোদনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হত, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আফগান আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর আফগান সরকারের উচ্চপর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তৎকালীন আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ হানিফ আতমার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানান যে, ডাইনকর্প পরিচালিত আফগান পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হোক, যেন এ ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায় এবং এর জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তবে এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাবুলস্থ দূতাবাস জানায় যে, ডাইনকর্পের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আইনি কাঠামোর কারণে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর ওপর সরাসরি সামরিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা “আইনগতভাবে সম্ভব নয়। দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্তাবলি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ওসব কেন্দ্রের দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেয় না। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, এটি আফগানিস্তানে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি, বেসরকারি সামরিক ঠিকাদারদের জবাবদিহির অভাব এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন শোষণের মত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।[৫২]

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এই ঘটনাটিকে “প্রশ্নবিদ্ধ ব্যবস্থাপনা তদারকির” একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি ডাইনকর্প কর্মীরা একটি কোম্পানির বিদায় অনুষ্ঠানে এক কিশোর ছেলেকে ভাড়া করে একটি গোত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করিয়েছিল। এই দুইটি ঘটনা আফগান সরকারের মধ্যে বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর ওপর আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জোরদার করতে সহায়তা করে। এর ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আতমার প্রস্তাব দেন যে, অতিরিক্ত চাপের মুখে থাকা আফগান পুলিশ বাহিনীই দক্ষিণ আফগানিস্তানে সামরিক কনভয়গুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করুক। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই একটি ফরমান জারি করেন, যাতে সেই বছরের শেষ নাগাদ সব বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানি বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়; তবে পরবর্তীতে এই নির্দেশনায় কিছুটা শিথিলতা আসে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু মার্কিন সেনাকে জানানো হয়েছিল যে, এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে “কিছুই করা যাবে না”। তাই তারা এমন ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছিল; এমনকি যদি তা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতেও ঘটে।[৫৩] এতে বোঝা যায় যে, বাচ্চা বাজি প্রথাটি স্থানীয়ভাবে কতটা গভীরভাবে প্রোথিত ছিল, যা অনেক সময় মার্কিন বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত প্রশিক্ষণ শিবিরেও সংঘটিত হতো। বাচ্চা বাজির অভিযোগে স্থানীয় সরকারী কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও কখনোই তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ২০১০–২০১৬ সালে ক্ষমতাগত কাঠামো ও স্থানীয় নীতির কারণে মার্কিন সেনারাও এমন পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত ছিল।[৫৪]

২০১৫ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল যে, আফগান মিত্রদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যে মার্কিন সেনাদেরকে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো উপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।[৫৫] প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, প্রায় এক দশক যাবত মার্কিন সেনারা তাদের মিত্রদের দ্বারা শিশু নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে অনুমতিপ্রাপ্ত ছিল না।[৫৬]

"বাচ্চা বাজি" প্রথার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সামাজিক বিজ্ঞানী আন্নামারিয়া কার্ডিনাল্লিকে এই সমস্যার তদন্ত করার জন্য নিয়োগ দেয়। কারণ আইসাফ (আইএসএএফ) সৈন্যরা পাহারায় থাকাকালীন প্রায়শ দেখতে পেতেন যে, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা হাতে হাত দিয়ে ছোট ছোট ছেলেদের সঙ্গে হাঁটছেন। জোটের সৈন্যরা প্রায়শ লক্ষ্য করতেন যে, কিছু আফগান যুবক তাদের 'স্পর্শ করার বা তাদের সাথে অশ্লীল আচরণ' করার চেষ্টা করছে, যা সৈন্যরা সাধারণত বুঝতে পারত না।[৫৭]

২০১১ সালে আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশে একজন মা রিপোর্ট করেছিল যে, তার ১২ বছর বয়সী ছেলে আবদুর রহমান নামী আফগান জাতীয় পুলিশের এক কমান্ডার দ্বারা দুই সপ্তাহ যাবত একটি বিছানায় চেইন বাঁধা অবস্থায় ধর্ষিত হয়। এরপর যখন তিনি আব্দুর রহমানের মুখোমুখি হওয়া হন, সে হাসতে হাসতে তা স্বীকার করে নিয়েছিল। ঘটনার পর মার্কিন বিশেষায়িত বাহিনীর দুই সৈন্য আব্দুর রহমানকে মারধর করে বেস থেকে বের করে দেয়।[৫৮] পরবর্তীতে ওই দুই সৈন্যকে জোরপূর্বক সামরিক বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল; কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর তারা পুনঃনিয়োগ পায়।[৫৯] এই ঘটনার কারণে পরবর্তীতে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় “নির্যাতন, অবহেলা ও নৈতিক অবক্ষয় সীমিতকরণে মার্কিন দায়িত্ব বাধ্যতামূলক করণ", ("ম্যানডেটিং আমেরিকার’স রেসপনসিবিলিটি টু লিমিট অ্যাবিউজ, নেগলিজেন্স অ্যান্ড ডিপ্র্যাভিটি") যা সংক্ষেপে “মার্টল্যান্ড আইন” নামেও পরিচিত। এটি মার্কিন বিশেষায়িত বাহিনীর ১ম শ্রেণীর সার্জেন্ট চার্লস মার্টল্যান্ডের নামে নামকরণ করা হয়েছে।[৬০]

২০১৩ সালে "ভাইস মিডিয়ার" ডকুমেন্টারি “দিস ইস হোয়াট উইনিং লুকস লাইকে" স্বাধীন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা বেন অ্যান্ডার্সন আফগানিস্তানের সংগিন শহরে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কিশোর ও যুবকদের উপর সংঘটিত যৌন নিপীড়ন, অপহরণ এবং হত্যার মতো ঘটনাগুলো উপস্থাপন করেছেন। ডকুমেন্টারিতে অ্যান্ডারসন বিভিন্ন দৃশ্যে মার্কিন সামরিক কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, যেখানে তারা স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যে অসুবিধা অনুভব করছেন তা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে, সেখানে কিশোর ও যুবকদের উপর পুলিশ সদস্যদের স্পষ্ট যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ করার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। একটি উল্লেখযোগ্য দৃশ্যে দেখা যায় যে, একজন মার্কিন সামরিক পরামর্শক তখনকার একজন কর্মরত পুলিশ প্রধানের সঙ্গে কথা বলছেন। এই ঘটনাটি ঘটে যখন একজন কিশোর পুলিশ ব্যারাক থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়। পরামর্শক প্রস্তাব দেন যে, ব্যারাকটিতে অনুসন্ধান করা হোক এবং যদি কোন পুলিশ সদস্যকে কিশোরদের উপর যৌন নিপীড়নে লিপ্ত পাওয়া যায়, তাহলে তাকে গ্রেফতার ও জেল খাটাতে হবে। তবে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাটি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী এবং কিশোরদের মধ্যে যা ঘটে, তা স্বতঃস্ফূর্ত ও সম্মতিপূর্ণ। তিনি বলেন: “[ছেলেরা] সেখানে থাকতে ভালোবাসে এবং রাতে স্বেচ্ছায় নিজেদের নিতম্ব এগিয়ে দেয়।” তিনি আরো দাবি করেন, এটি আফগান সমাজে ঐতিহাসিক ও প্রথাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত। এরপর তিনি ব্যাঙ্গামো ভঙ্গিতে প্রশ্ন করেন: “যদি [আমার কমান্ডাররা] এই ছেলেদের নিতম্ব ব্যবহার না করতে পারে, তাহলে তারা কী ব্যবহার করবে? তাদের নিজেদের দাদীমার যোনি?” ডকুমেন্টারির এমন দৃশ্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যৌন নিপীড়নের এই প্রথা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, তা স্থানীয় আইনি সংস্থার নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিতেও থামানো যায়নি। এছাড়া চলচ্চিত্রটি দেখায় যে, বিদেশি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী কিভাবে এই প্রথা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্থানীয় আইনি ব্যবস্থা অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষম ছিল।[৬১]

২০১৫ সালে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে, আফগানিস্তানে মোতায়েন থাকা মার্কিন কমান্ডাররা সৈন্যদের নির্দেশ দিয়েছিল যে, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত শিশু যৌন নিপীড়নকে এড়িয়ে যেতে হবে। তবে “যখন ধর্ষণকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়", তখন প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। সাক্ষাৎকার ও আদালতের রেকর্ড অনুসারে, মার্কিন সেনাদেরকে কিছু বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; এমনকি যখন তাদের আফগান মিত্ররা তাদের সামরিক ঘাঁটিতে বালকদের প্রতি নির্যাতন করে, তখনোও। তবে মার্কিন সেনারা ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছিলেন যে, শিশুদের প্রতি এমন আচরণকারীদের বহিষ্কারের পরিবর্তে তাদেরকে তালেবানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে নেতৃত্ব জন্য গ্রামগুলিতে পুলিশ কমান্ডারের পদে বসানো হচ্ছে, যেখানে তারা অবাধেই শিশুদের শোষণ করতে পারবে।[৬২][৬৩] সামরিক আইনজীবী অ্যানি ব্যারি ব্রুটন মন্তব্য করেন যে, পেন্টাগনহোয়াইট হাউস উভয়ই মার্কিন সরকারের চাপে এসব ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকে এবং এর সম্পূর্ণ দোষ চাপিয়ে দেয় আফগান সরকারের উপর। [৬৪]

২০১৭ সালের জুন মাসে আফগানিস্তান পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিশেষ পরিদর্শক কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, মার্কিন প্রতিরক্ষাদপ্তর আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ৫,৭৫৩টি অভিযোগ পেয়েছিল, যাদের মধ্যে কিছু অভিযোগ যৌন নির্যাতনের সাথে সম্পর্কিত ছিল। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর মোট ৭৫টি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত করছিল, যার মধ্যে ৭টি শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা ছিল।[৬৫] দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সেই প্রতিবেদনের আলোকে জানায়, মার্কিন আইন অনুযায়ী এমন ঘটনা ঘটানো বাহিনীর জন্য সামরিক সাহায্য বন্ধ করা উচিত ছিল; কিন্তু তা কখনো কার্যকর করা হয়নি। আফগানিস্তানের এক মিলিশিয়া কমান্ডার একটি শিশুকে যৌন দাস হিসেবে রাখার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মার্কিন বিশেষায়িত বাহিনীর কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ড্যান কুইনকে তার কমান্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।[৬৬]

যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি

[সম্পাদনা]

২০২২ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রত্যাহারের পর তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে এলেও বাচ্চা বাজি প্রথাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়নি। একাধিক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, তালেবান শাসিত আফগানিস্তান ইসলামি আমিরাতেও সীমিত আকারে শিশু পাচার ও বাচ্চা বাজির মত প্রথা প্রচলিত রয়েছে। কারণ এমন ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোর ও তার পরিবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আদালতের শরণাপন্ন হতে চায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীদের দণ্ডিত করার ঘটনাও ঘটেছে।[৬৭][৬৮] ২০২২ সালের গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ এগেইনস্ট ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বর্তমানও এই প্রথার প্রচলন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং হয়তো আরো বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।[৬৭][৬৯] কারণ তালেবানদের সঙ্গীত ও নৃত্য নিষিদ্ধের ফলে প্রকাশ্যে নাচ-গান বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে "বাচ্চা বাজদের" চিহ্নিত করা আরো কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।[৭০]

সাহিত্যে

[সম্পাদনা]

খালেদ হোসেইনির ২০০৩ সালের "নিউ ইয়র্ক টাইমসের সর্বাধিকবিক্রিত উপন্যাস 'দ্য কাইট রানারে' ২১শ শতকের আফগানিস্তানের বাচ্চা বাজি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র আমির দেখেছে যে, হাসান নামের হাজারা জাতিগোষ্ঠীভুক্ত তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিভাবে আসেফ নামক একজন কিশোর দ্বারা যৌন নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। তখন সোভিয়েত –আফগান যুদ্ধের কারণে আমির আফগানিস্তান ত্যাগ করে এবং দীর্ঘ পনেরো বছর পরে দেশে এসে সে জানতে পারে যে, হাসানকে তালেবান হত্যা করেছে এবং হাসানের সন্তান সোহারাব অনাথ হয়ে গেছে। আমির আফগানিস্তানে এসে তাকে দত্তক নেওয়ার চেষ্টা করে; কিন্তু সেখানে সে জানতে পারে যে, অনাথাশ্রমের দুর্নীতিপ্রবণ ব্যবস্থাপক সোহারাবকে সেই আসেফের কাছে বাচ্চা হিসেবে বিক্রি করেছে, যে এক দশক আগে তার বাবা হাসাকে যৌন নিগ্রহ করেছিল।[৭১] উপন্যাসটির পর্যালোচনায় একজন পণ্ডিত লিখেছেন যে, বর্ণবাদ ও জাতিগত বিদ্বেষ কিভাবে বাচ্চা বাজির অস্তিত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করেছে, উপন্যাসটিতে সেই বিষয়টি ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি উপন্যাসটি বাচ্চা হিসেবে নিগ্রহের শিকার হওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদী ও প্রজন্মান্তরিক মানসিক আঘাতের প্রভাবও তুলে ধরেছে।[৭২]

২০০৭ সালে হোসেইনির উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে একই নামে একটি মার্কিন নাটকীয় চলচ্চিত্র মুক্তি পায়, যা মার্ক ফোরস্টার পরিচালনা করেন এবং ডেভিড বেনিওফ এর চিত্রনাট্য রচনা করেন। মুক্তির কিছুদিন পরই চলচ্চিত্রটি আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ চলচ্চিত্রে দেখানো হয় যে, একজন পশতুন লোক এক হাজারা কিশোরকে তার বাচ্চা হিসেবে দাসত্বে আবদ্ধ করে রেখেছে। ফলে স্থানীয় উপজাতির মধ্যে প্রতিশোধমূলক সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়, বিশেষ করে পশতুন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে।[৭৩]

এরপর "ক্লভার ফিল্মস" ও আফগান সাংবাদিক নাজিবুল্লাহ কুরাইশি যৌথভাবে আফগানিস্তানের বাচ্চা বাজি প্রথা নিয়ে একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলেন, যার নাম দেওয়া হয় “দ্য ড্যান্সিং বয়জ অফ আফগানিস্তান। এই তথ্যচিত্রটি ২০১০ সালের মার্চে যুক্তরাজ্যে প্রদর্শিত হয়[৭৪] এবং পরের মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রচারিত হয়।[৭৫] হাফিংটন পোস্টের সাংবাদিক নিকোলাস গ্রাহাম এই তথ্যচিত্রকে "আকর্ষণীয় ও ভয়াবহ” হিসেবে প্রশংসা করেছেন।[৭৬] তথ্যচিত্রটি ২০১১ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টার্ন্যাশনাল যুক্তরাজ্য মিডিয়া পুরস্কারে ডকুমেন্টারি বিভাগে পুরস্কার জিতে নেয়।[৭৬]

রসার ও সোহন কর্তৃক রচিত গীতিনাট্য “দ্য বয় হু ড্যান্সড অন এয়ার” ২০১৭ সালে অফ-অফ-ব্রডওয়েতে প্রথম প্রদর্শিত হয়।[৭৭] তারা উপরোল্লিখিত "ক্লভার ফিল্মস" ও নাজিবুল্লাহ কুরাইশি কর্তৃক নির্মিত “দ্য ড্যান্সিং বয়েজ অফ আফগানিস্তান" থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি নির্মাণ করে।[৭৮] এই গীতিনাট্যের কাহিনী পাইমান নামে এক ছোট বালকের জীবনকাহিনীর ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল, যে পূর্বে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরণের দাসত্বে বাধ্য ছিলেন এবং এখন তার দাসত্বের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মুক্তির কাছাকাছি সময়ে ফেদা নামে একজন "বাচ্চা" পাইমানের জীবনে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর তারা দুজন একসাথে পালিয়ে মুক্তির পথ খুঁজে বের করার কথা ভাবতে শুরু করে। এদিকে তাদের স্বামীসুলভ মালিক জাহান্দার ও জেমা আফগান সমাজে প্রচলিত সামাজিক নিয়ম ও সংস্কৃতির সঙ্গে আমেরিকীয় সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এভাবেই কাহিনী ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রেম, দাসত্ব ও সামাজিক সংঘাত ও পরিবর্তনের মধ্যে ঘুরপাক খায়। গীতিনাট্যটি সমালোচক ও পর্যালোচকদের থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়; কেউ গল্পের গভীরতা ও চরিত্রগুলোর আবেগপূর্ণ উপস্থাপনাকে প্রশংসা করেছেন; কেউ এর নাটকীয়তা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। জেসি গ্রিন দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে গীতিনাট্যটি পর্যালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, এই কাজটি [খুব জটিল ও ভিন্ন ধরণের উৎস থেকে তৈরি করা হয়েছে]...এখানে আকর্ষণীয় উপাদান বিপজ্জনকভাবে উচ্চ (খুব বেশি), যা প্রযোজনা দলকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে করতে হয়েছে। তবে তিনি এর প্রেমের বর্ণনার প্রশংসা করলেও চেয়েছেন যে, গল্পটি যদি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা অর্জনের চেষ্টা না করত, তাহলে আরো ভালো হত।[৭৮] নিউ ইয়র্ক থিয়েটারে জোনাথান ম্যান্ডেল উল্লেখ করেছেন যে, জাহান্দার নামের পার্শ্বচরিত্রটির মাধ্যমে তারা [রসার ও সোহন] নিজেদের পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি এবং গল্লের কাল্পনিক রোম্যান্সের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন। তবে এই ছোট গল্পটি মূল গল্পের পটভূমি ভালোভাবে বোঝাতে পারেনি।[৭৯] থিয়েটার-ম্যানিয়ার পর্যালোচনায় বলা হয়েছে যে, এটি “মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উভয় দিক থেকেই প্রভাবশালী। যারা মার্কিন গীতিনাট্যের ভবিষ্যতের ব্যাপারে যত্নশীল, তাদের এখনই এটি দেখতে যাওয়া উচিত। এটি তাদের জন্যও দেখা উচিত, যারা সেই দেশের প্রতি সহানুভূতিশীল, যেখানে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।[৭৭]

২০২০ সালের জুলাইতে মূল মঞ্চাভিনয়ের একটি অনলাইন সম্প্রচার প্রকাশিত হলে এটি আফগান সমাজে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়, বিশেষ করে এলজিবিটি-সমর্থক সম্প্রদায়ের মধ্যে। তারা দাবি করেন যে, এতে শিশুদের যৌন শোষণকে রোমান্টিকায় ভরপুর করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।[৮০] এছাড়াও তারা বলেন যে, শ্বেতাঙ্গ আমেরিকীয় লেখকরা আফগানিস্তানের “বাচ্চা বাজি” প্রথাকে ভুলভাবে প্রচলিত ও স্বীকৃত সংস্কৃতি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন এবং এতে প্রাচ্যতত্ত্বের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। এই সমালোচনার কারণে মঞ্চাভিনয় ও অনলাইন সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই নিজেদের অংশগ্রহণের জন্য ক্ষমা চান এবং লাইভ সম্প্রচারটি নির্ধারিত সময়ের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কিছু আফগান লোকের সঙ্গে পরামর্শ করার পর এটির নির্মাতা টিম রসার ও চার্লি সোহন একটি বিবৃতিতে স্বীকার করেন যে, “এর শো তৈরির সময় কোনো আফগান ব্যক্তির মতামত বা অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই তারা শো-র সমস্ত বিতরণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং পূর্বে অর্জিত অর্থ আফগান দাতব্য সংস্থায় দান করেন।[]

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

আরো পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • Abdi, Ali (২০২২)। "Bachah-bāzī: A Socio-Erotic Tradition"। Afghanistan (2): ১৫৩–১৭১। ডিওআই:10.3366/afg.2022.0091এস২সিআইডি 252611948
  • I. Baldauf (1990): "Bacabozlik: boylove, folksong and literature in Central Asia", Paidika: The Journal of Pædophilia 12:2.6, pp. 12–31.
  • Confessions of an Afghan Boy Sex Slave, Newsweek (2015).
  • Forgotten No More: Male Child Trafficking in Afghanistan, Hagar International (2014).
  • Kandahar Journal; Shh, It's an Open Secret: Warlords and Pedophilia, The New York Times (2002).

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Nordland, Rod (২৩ জানুয়ারি ২০১৮)। "Afghan Pedophiles Get Free Pass From U.S. Military, Report Says"The New York Times। ২৭ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০১৮
  2. 1 2 Haidare, Sodaba (১১ আগস্ট ২০২০)। "'Bacha bazi' outrage after pandemic takes play to the small screen"BBC News। ২৮ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২১
  3. 1 2 Jones, Samuel V. (২৫ এপ্রিল ২০১৫)। "Ending Bacha Bazi: Boy Sex Slavery and the Responsibility to Protect Doctrine"Indiana International & Comparative Law Review২৫ (1)। Indiana University Indianapolis: ৬৩–৭৮। ডিওআই:10.18060/7909.0005আইএসএসএন 2169-3226
  4. 1 2 "Causes and Consequences of Bachabazi in Afghanistan"Afghanistan Independent Human Rights Commission। ১৮ আগস্ট ২০১৪।
  5. "Boys in Afghanistan Sold Into Prostitution, Sexual Slavery"। Digital Journal। ২০ নভেম্বর ২০০৭। ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত Internet Archive এর মাধ্যমে।
  6. Londoño, Ernesto। "Afghanistan sees rise in 'dancing boys' exploitation"Washington Post। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ Internet Archive এর মাধ্যমে।
  7. [][][][][]
  8. 1 2 3 4 Jones, Samuel V. (২৫ এপ্রিল ২০১৫)। "Ending Bacha Bazi: Boy Sex Slavery and the Responsibility to Protect Doctrine"Indiana International & Comparative Law Review২৫ (1)। Indianapolis, Indiana, USA: Indiana University Indianapolis: ৬৩–৭৮। ডিওআই:10.18060/7909.0005আইএসএসএন 2169-3226
  9. 1 2 3 Arni Snaevarr (১৯ মার্চ ২০১৪)। "The dancing boys of Afghanistan"United Nations Regional Information Centre for Western Europe (UNRIC)। ৮ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  10. 1 2 Qobil, Rustam (৭ সেপ্টেম্বর ২০১০)। "The Sexually Abused Dancing Boys of Afghanistan"BBC News। ১৮ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০১৬I'm at a wedding party in a remote village in northern Afghanistan.
  11. 1 2 Abdi, Ali (জানুয়ারি ২০২৩)। "The Afghan Bachah and its Discontents: An Introductory History" (পিডিএফ)Iranian Studies৫৬ (1)। Cambridge University Press: ১৬১–১৮০। ডিওআই:10.1017/irn.2022.42আইএসএসএন 0021-0862
  12. "Bacha bazi: the scandal of Afghanistan's abused boys"The Week। ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ২২ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২০
  13. 1 2 3 4 Mondloch, Chris (২৮ অক্টোবর ২০১৩)। "Bacha Bazi: An Afghan Tragedy"Foreign Policy। Washington, D.C., USA। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১৫
  14. Wijngaarden, Jan Willem de Lind van (অক্টোবর ২০১১)। "Male adolescent concubinage in Peshawar, Northwestern Pakistan"Culture, Health & Sexuality১৩ (9)। Taylor & Francis, Ltd: ১০৬১–১০৭২। ডিওআই:10.1080/13691058.2011.599863জেস্টোর 23047511পিএমআইডি 21815728এস২সিআইডি 5058030। ৪ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২০
  15. "Transcript: The Dancing Boys of Afghanistan"PBS। ২০ এপ্রিল ২০১০।
  16. Roshni Kapur, The Diplomat। "Bacha Bazi: The Tragedy of Afghanistan's Dancing Boys"The Diplomat। ৮ মার্চ ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  17. "Afghan boy dancers sexually abused by former warlords"Reuters। ১৮ নভেম্বর ২০০৭। ১১ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৫
  18. Quraishi, Najibullah Uncovering the world of "bacha bazi" at The New York Times 20 April 2010
  19. Bannerman, Mark The Warlord's Tune: Afghanistan's war on children ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ আগস্ট ২০১৭ তারিখে at Australian_Broadcasting_Corporation 22 February 2010
  20. 1 2 "Bacha bazi: Afghanistan's darkest secret"Human Rights and discrimination (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২২ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০১৯
  21. "The Afghan Bachah and its Discontents: An Introductory" (পিডিএফ)
  22. Baldauf, Ingeborg (১৯৮৮)। Die Knabenliebe in Mittelasien: Bacabozlik [Boy-love in Central Asia: 'Bacabozlik']। Berlin: Free University of Berlin। পৃ. ৫; ৭৯—৮৮। আইএসবিএন ৩-৯২৩৪৪৬-২৯-২
  23. Akhtar, Anwar (২০১৯)। "The Neglected Boys of War: Trapped in a Vicious Cycle of Slavery and Sexual Abuse"Uitgeverij Paris। Journal of Trafficking and Human Exploitation (JTHE)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০২৫
  24. "A Tradition of Pederasty"Synergy: The Journal of Contemporary Asian Studies (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০২৫
  25. Kushelevskiy, Vladimir (১৮৯১)। В новом краю. Роман-хроника из времён завоевания Туркестанского края. Том. 1. Ташкент, 1913 [In a New Land. A Chronicle Novel from the Time of the Conquest of the Turkestan Region. Vol 1. Tashkent, 1913] (রুশ ভাষায়)। A. L. Kirsner। পৃ. ৯৪–৯৮।
  26. Ilyin, Nikolai (১৮৯১)। Материалы для медицинской географии и санитарного описания Ферганской области. Том II [Materials for Medical Geography and Sanitary Description of the Ferana Region. Vol II] (রুশ ভাষায়)। New Margelan Press। পৃ. ৪৫১–৪৫৮।
  27. Qodiriy, Abdullah (১৯১৫)। Juvonboz. To'liq asarlar to'plami. 6-jildlik, 1-jild [Juvonboz. Complete Works Collection. VI Volumes, Vol. II] (উজবেক ভাষায়)। Abdulla Qodiriy। পৃ. ১৯–২৬।
  28. 1 2 Schuyler, Eugene (১৮৭৬)। Turkistan: Notes of a Journey in Russian Turkistan, Khokand, Bukhara and Kuldja (Vol I. সংস্করণ)। London: Sampson, Low, Marston, Searle & Rivington) 1876। পৃ. ১৩২–১৩৩।
  29. Pahlen, Count (১৯০৯)। Mission to Turkestan: Being the memoirs of Count K. K. Pahlen। Translation by Mr. N. Couriss।
  30. "Pastimes of Central Asians. Group of Male Musicians Posing with Several Batchas, or Dancing Boys"। ১৮৬৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০১৪
  31. "Pastimes of Central Asians. Group of Male Musicians Posing with Several Batchas, or Dancing Boys, 2"World Digital Library। ১৮৬৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০১৪
  32. Ilkin, B. (১৯১০)। "Songs of the Bacha: Kaufman Collection, for the 25th anniversary of the death of Adjutant General K.P. von Kaufman, the conqueror of Central Asia, Moscow, 1910"Песни бачей: Кауфманский сборник, изданный в память 25 лет, истекших со дня смерти покорителя Туркестанского края, генерал-адъютанта К. П. фон-Кауфмана I-го, Москва, 1910
  33. Shay, Anthony (৭ জুলাই ২০০৮)। "The Male Dancer in the Middle East and Central Asia"
  34. "Men on Top: Sexual Economy of Bacha Bazi in Afghanistan" (পিডিএফ)A time-honoured tradition among the Khanates in 18th and 19th centuries, bacha bazi was banned in the early 20* century in the region. However, in spite of the religious and state-led prohibition, it did not disappear completely. Bacha bazi simply became an underground activity during Soviet control of the Central Asian republics.
  35. 1 2 "The Afghan Bachah and its Discontents: An Introductory History"{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  36. 1 2 3 Abdi, Ali (জানুয়ারি ২০২৩)। "The Afghan Bachah and its Discontents: An Introductory History" (পিডিএফ)Iranian Studies৫৬ (1)। Cambridge University Press: ১৬১–১৮০। ডিওআই:10.1017/irn.2022.42আইএসএসএন 0021-0862
  37. 1 2 3 4 Tchantouridze, Lasha (১০ নভেম্বর ২০২১)। "In Afghanistan: Western and Soviet Methods of Counterinsurgency"Security Science Journal (2)। Washington, D.C.: Institute for Science and International Security: ২২–৪০। ডিওআই:10.37458/ssj.2.2.10। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৫
  38. "Mullah Mohammad Omar, Taliban leader – obituary"The Daily Telegraph। ৩১ জুলাই ২০১৫। পৃ. ৩৫। ১২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  39. Zaman, Muhammad Qasim; Stewart, Devin J. (২০১৯)। The Princeton Encyclopedia of Islamic Political ThoughtPrinceton University Pressআইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৯১-১৩৪৮৪-০ Google Books এর মাধ্যমে।
  40. Capon, Felicity (২ আগস্ট ২০১৫)। "Why the New Taliban Leader Could Be a Disaster for Peace in Afghanistan"Newsweek। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
  41. Gunaratna, Rohan; Woodall, Douglas (২০১৫)। Afghanistan after the Western Drawdown। Rowman & Littlefield। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৪২২-৪৫০৬-৮ Google Books এর মাধ্যমে।
  42. [৩৮][৩৯][৪০][৪১]
  43. 1 2 3 Dexter Filkins, The Forever War (New York: Vintage Books/Random House, 2009; orig. ed. 2008), p.30.
  44. 1 2 "আফগানিস্তানের ইতিহাস (তিন খণ্ড) - মাওলানা ইসমাইল রেহান | afganistaner ethihash | Wafilife.com"www.wafilife.com। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  45. National Geographic (২০০৭)। Inside The TalibanNational Geographic (Documentary)। Afghanistan। ৭ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  46. 1 2 3 Abdi, Ali (জানুয়ারি ২০২৩)। "The Afghan Bachah and its Discontents: An Introductory History"Iranian Studies৫৬ (Special Issue 1: Parsis and Iranians in the Modern Period): ১৬১–১৮০। ডিওআই:10.1017/irn.2022.42
  47. "New UN-Afghan pact will help curb recruitment, sexual abuse of children – UN"UN News। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১। ২৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০২১
  48. Gevorgyan, Maria; Matevosyan, Armen (ডিসেম্বর ২০২৩)। "Bacha Bazi: Unraveling Debate between Crime Against Humanity and Regional Tradition"European Journal of Law and Political Science (6): ৩৯। ডিওআই:10.24018/ejpolitics.2023.2.6.111। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৫
  49. Nordland, Rod (২৭ ডিসেম্বর ২০১২)। "Betrayed While Asleep, Afghan Police Die at Hands of Their Countrymen"The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২৪
  50. "Taliban kill 2 people over "bacha bazi" in Baghlan"Salam Watandar। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬।
  51. "Wikileaks: Dincorp pimped boys in Afghanistan"VremeBelgrade, Serbia। ৯ ডিসেম্বর ২০২৪।
  52. Boone, Jon (২ ডিসেম্বর ২০১০)। "Foreign contractors hired Afghan 'dancing boys', WikiLeaks cable reveals"The Guardian। London। ২১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬
  53. Rempfer, Kyle (১৮ নভেম্বর ২০১৭)। "DoD IG: US troops were told to ignore child sex abuse by Afghan forces"Marine Corps TimesTegna Inc.
  54. "Implementation of the DoD Leahy Law Regarding Allegations of Child Sexual Abuse by Members of the Afghan National Defense and Security Forces DODIG-2018-018"United States Department of Defense। ১৬ নভেম্বর ২০১৭।
  55. Rivett-Carnac, Mark (২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "U.S. Troops Told to Ignore Sexual Abuse of Boys by Afghan Forces, Report Says"Time
  56. Miller, Leila (২৮ নভেম্বর ২০১৭)। "Pentagon Accused of Blocking Report On Child Sex Abuse By Afghan Allies"PBS
  57. Brinkley, Joel (২৯ আগস্ট ২০১০)। "Afghanistan's dirty little secret"Sfgate। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০১৬
  58. Jahner, Kyle (৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "'One of the best': Defenders show support for ousted Green Beret"। ২৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০১৬
  59. Mark, David (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "Green Beret who beat Afghan official over alleged child assault to stay in Army"CNN। ২ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০১৬
  60. Jahner, Kyle (২ মার্চ ২০১৬)। "'Martland Act' would empower U.S. troops to block sexual abuse on foreign soil"। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০১৬
  61. "This Is What Victory Looks Like" . Vice, 6 May 2013
  62. Goldstein, Joseph (২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "U.S. Soldiers Told to Ignore Sexual Abuse of Boys by Afghan Allies"The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
  63. The Editorial Board (২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "Ignoring Sexual Abuse in Afghanistan"The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। ২৭ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
  64. Bruton, Annie Barry (২০১৯)। "Bacha Bazi and Human Rights Violations in Afghanistan: Should the U.S. Military Have Done More to Protect Underage Boys?"Kentucky Law Journal১০৮ (1)। University of Kentucky College of Law: ১৮৫। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৫
  65. "Child Sexual Assault in Afghanistan:Implementation of the Leahy Laws and Reports of Assault by Afghan Security Forces" (পিডিএফ)Special Inspector General for Afghanistan Reconstruction। জুন ২০১৭। ১ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
  66. Nordland, Rod (২৩ জানুয়ারি ২০১৮)। "Afghan Pedophiles Get Free Pass From U.S. Military, Report Says"The New York Times। ২৭ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০১৮
  67. 1 2 "2024 Trafficking in Persons Report: Afghanistan"United States Department of State। ২০২৪। Although bacha bazi is officially banned, the practice has continued after the Taliban takeover. Observers reported that Taliban members were, in some cases, perpetrators of bacha bazi. ... Observers reported bacha bazi victims were hesitant to report their exploitation out of fear of punishment from the Taliban and social stigma. ... Observers report cases of bacha bazi by the Taliban and nearly all armed groups. Bacha bazi survivors reported to NGOs an 'overwhelming understanding that bacha bazi is committed by the powerful, including community leaders ....'
  68. "Country policy and information note: unaccompanied children, Afghanistan"UK Visas and Immigration। নভেম্বর ২০২৪। According to a June 2024 report by UN Women 'Bacha bazi has been notoriously difficult to monitor, as it is practiced discreetly ... mainly by higher-ranking, well-connected Afghan men. While the Taliban outlawed this practice during the period of Taliban regime rule between 1996 and 2001, it has not been explicitly addressed by the DFA since their seizure of State power in August 2021. ... The USDOL 2023 report noted '…the Taliban considered some child trafficking victims, especially those engaged in bacha bazi or in armed conflict, as criminals, housing them in juvenile detention centers, and subjecting them to physical abuse and other forms of ill treatment rather than referring them to victim support services.
  69. Hoang, Thi (মে ২০২২)। "Human trafficking in the Afghan context: Caught between a rock and a hard place?" (পিডিএফ)। Geneva: Global Initiative Against Transnational Organized Crime। পৃ. ৫। Given the various reports of the Taliban's human trafficking practices over the past two decades, such as the use of bacha bazi ... it can therefore be expected that, under the Taliban's rule, current human rights violations and human trafficking practices will continue and often be amplified in the name of preserving traditional values and cultural norms.
  70. "Conflict-related sexual violence: New dangers facing men and boys in Afghanistan" (পিডিএফ)All Survivors Project। জানুয়ারি ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৫
  71. Hosseini, Khaled (২৯ মে ২০০৩)। The Kite Runner। United States: Riverhead Books। আইএসবিএন ১-৫৭৩২২-২৪৫-৩
  72. Thakur, Pallavi (১ ডিসেম্বর ২০২০)। "Khaled Hosseini's The Kite Runner: Unveiling the Trauma of Adolescent Boys Trapped in Afghanistan's Culturally Legitimised Paedophilia-'Bacha Bazi'"Rupkatha Journal on Interdisciplinary Studies in Humanities১২ (5)। ডিওআই:10.21659/rupkatha.v12n5.rioc1s9n5। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২৫
  73. "Kite Runner banned in Afghanistan"BBC News। ১৭ জানুয়ারি ২০০৮।
  74. "True Stories: The Dancing Boys of Afghanistan" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ আগস্ট ২০১০ তারিখে, 29 March 2010
  75. "The Dancing Boys of Afghanistan" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ জুলাই ২০১১ তারিখে, PBS Frontline TV documentary, 20 April 2010.
  76. 1 2 "Amnesty announces 2011 Media Awards winners"। Amnesty International UK (AIUK)। ২৪ মে ২০১১। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০১৩
  77. 1 2 Stewart, Zachary (২৫ মে ২০১৭)। "The Boy Who Danced on Air"TheaterMania। ২৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২১
  78. 1 2 Green, Jesse (২৫ মে ২০১৭)। "Review: Tackling a Major Taboo in 'The Boy Who Danced on Air'"The New York Times। ২৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২১
  79. Mandell, Jonathan (২৮ মে ২০১৭)। "The Boy Who Danced on Air Review: Afghan Slaves in Homoerotic Musical"New York Theater। ২৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২১
  80. "Afghan Diaspora Organizations and Members Condemn Racist Musical"। Afghan Diaspora For Equality & Progress। ১৬ জুলাই ২০২০। ২৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২১

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
  1. ফার্সি উচ্চারণ: [ba.t͡ʃʰæ bäː.zíː]
  2. According to a 2014 report on bachah-bāzi by Afghanistan Independent Human Rights Commission (AIHRC), the leading Afghan human rights organization, the practice remains "normal and customary" in some areas of Afghanistan, and bachahs play (or are forced to play) the roles of "bodyguards, apprentices, and servants at home, shop, bakery, workshop, hotels, restaurants and other paid jobs" (Saramad et al., "Bachabazi," 3; the report’s introduction by Sima Samar, the then-head of the AIHRC).
  3. The term was known to be 'bacha bozi' by the Russians, derived from an Uzbekified pronunciation of the Persian word 'bacha bāzi'
  4. ন্যায়মন্ত্রণালয়ের নেজামনামার (১৯২৪) ধারা ১৩৫।
উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি