বাঙালি বিবাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাঙালি বিবাহ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করা হয়ে থাকে, যা অনেকসময় কয়েক দিন ধরে পালিত হয়ে থাকে৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিবাহের অনুষ্ঠান শুরু হয় কাবিনের(বিবাহের নথিভূক্তকরণ ও দেন মোহর ধার্যকরণ) মাধ্যমে এবং শেষ হয় বৌ-ভাত(সাধারণত বর পক্ষের পরিবারের মাধ্যমে বৌ-ভাতের আয়োজন করা হয়ে থাকে) অনুষ্ঠানের মাধ্যমে৷ যদিও বাংলার বিভিন্ন অংশে বিবাহ অনুষ্ঠানের আচার-রীতি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে, তবে বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ আচার-রীতিকে দু-রকমভাবে ভাগ করা যেতে পারে৷ তা হল: ঘটি এবং বাঙাল আচার-অনুষ্ঠান৷[১]

অনুষ্ঠান আয়োজন[সম্পাদনা]

ঐতিহ্যগতভাবে বিবাহের সম্পর্ক তৈরি হয় ঘটক বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে, যিনি সাধারণত পরিবারটির বন্ধু, আত্মীয় কিংবা শুধুমাত্র একজন মাধ্যম হতে পারেন৷ বিয়ের ঘটক পাত্র ও পাত্রী পক্ষের লোকজনকে পাত্র কিংবা পাত্রী সম্পর্কে অবহিত করেন৷ যদি বিয়ের সম্পর্ক ঠিক হয়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটককে একটা সন্মানী দেওয়া হয়ে থাকে৷ পরিবারের লোকজন বিয়ের জন্য সাধারণত তাদের একই জাত, ধর্ম এবং একই মর্যাদাসম্পন্ন পরিবার খুঁজে থাকে৷

পাকা-দেখা অথবা পাত্রী-পাত্র দেখা[সম্পাদনা]

বাঙালি সমাজে প্রেম-ভালোবাসার কোনো সরাসরি সামাজিক অনুমোদন নেই কিন্তু এরপরেও প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ের পূর্বে তাদের স্ব-স্ব পরিবার হতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং সম্মতির প্রয়োজন হয়, অন্যথায় পালিয়ে বিয়ের মত ঘটনা দেখা দেয়।[২][৩][৪] বিয়ের আগে অভিভাবকেরাই মেয়েদের জন্য বর এবং ছেলেদের জন্য কনে ঠিক করে। একটি অনুষ্ঠান ‘পাকা-দেখা’(ঘটিদের ক্ষেত্রে) অথবা পা্ত্রী-পা্ত্র দেখা, যা বাঙালদের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, বিয়ের পূর্বে উভয়পক্ষকে আসন্ন বিয়ের পূর্ব প্রস্তুতি কিংবা পরিকল্পনা নিতে সাহায্য করে৷ যার ফলে উভয় পরিবার পক্ষ আসন্ন বিয়ের সঠিক দিন তারিখ কিংবা লগ্ন ইত্যাদি নির্ধারণ করে৷ পাত্র বা পাত্রী পক্ষের যদি কোনো চাহিদা থেকে থাকে তবে তাও সাধারণত এ দিনেই উল্লেখ করা হয়৷

গায়ে হলুদ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে বউ এর বন্ধু এবং পরিবার অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তার শরীরে হলুদ লাগান অনুষ্ঠান

বিয়ের অনুষ্ঠানের পূর্বে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত হয়৷ বরের জন্য একটি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান এবং কনের জন্য একটি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে৷

বিবাহ অনুষ্ঠান[সম্পাদনা]

গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের পর বিয়ের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে৷ অনুষ্ঠানটি কনেপক্ষের মাধ্যমে আয়োজিত হয়ে থাকে৷ বর এবং বর এর বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজন একত্রে যাদেরকে বরযাত্রী বলা হয়ে থাকে, সাধারণত সন্ধ্যার পূর্বে কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়৷ বরযাত্রী রওনা হওয়ার পূর্বে বর সাধারণত তার মার নিকট হতে আশীর্বাদ গ্রহণ করে৷ বরসহ বরযাত্রী যখন কনের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন কনেপক্ষের আত্মীয়স্বজন তাদেরকে অভ্যর্থনা জানায়৷ এসময় বরপক্ষের লোকজনকে আ্প্যায়িতও করা হয়ে থাকে৷ পরবর্তীতে পন্ডিত বা কাজীর মাধ্যমে বর বা কনের ধর্ম অনুসারে নির্দিষ্ট আচার পালনের মাধ্যমে বিবাহ সুসম্পন্ন করা হয়ে থাকে৷ বিয়ের সময় সাধারণত উভয় পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকেন৷

বৌ-ভাত[সম্পাদনা]

পরের দিন অর্থাৎ সাধারণত বরের বাড়িতে কনের দ্বিতীয় দিন বৌ-ভাত অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে৷ এ দিন কনে অর্থাৎ যে এখন বৌ, সে তার আত্মীয়স্বজনদের আপ্যায়িত করে৷ সাধারণত দুপূরের খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে৷ সন্ধ্যায় সাধারণত বরের আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের আমন্ত্রন ও আপ্যায়ন করা হয়ে থাকে৷ কনের আত্মীয়স্বজনরাও বরের আত্মীয়স্বজনদের অভ্যর্থনা জানিয়ে থাকেন৷ এ উপলক্ষ্যে একটি বড় ধরনের ভোজ অনুষ্ঠান, যাকে ‘প্রীতি ভোজ’ বলা হয়ে থাকে, অনুষ্ঠিত হয়৷ এছাড়াও কনে পক্ষ ও বর পক্ষের মধ্যে উপহার আদান-প্রদান হয়ে থাকে৷

ফুল শয্যা[সম্পাদনা]

ফুল শয্যা হচ্ছে বর ও বধূর মিলনের রাত৷ কনের পক্ষ হতে দেওয়া ফুল দ্বারা কনে বা বধূ নিজেকে সজ্জিত করে এবং বাসর ঘরটিকেও ফুল ও অন্যান্য উপকরণ দ্বারা সজ্জিত করা হয়৷ এটি বিবাহিত দম্পত্তির জন্য একটি স্মরণীয় রাত৷

অষ্ট মঙ্গলা[সম্পাদনা]

বাঙালি হিন্দুদের ক্ষেত্রে বিয়ের আটদিন পরে সাধারণত এ অনুষ্ঠান পালন করা হয়ে থাকে৷ এ ক্ষেত্রে বিবাহিত দম্পত্তি কনের বাড়িতে যায় এবং তিনরাত সেখানে অবস্থান করে৷

সিলেটের বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে এ অনুষ্ঠানটি “ফিরা-যাত্রা” নামে পরিচিত৷

রেফারেন্স[সম্পাদনা]

  1. "Bengali Hindu Wedding Rituals"। hinduism.about.com। 
  2. "Love, elopement, and all that"dhakatribune.comDhaka Tribune। ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৯, ২০১৮ 
  3. "BANGLADESH-CULTURE: Marriage is a Family Decision"Inter Press Service 
  4. "6 Places In The World Where Arranged Marriages Is Traditional & Historically Practiced"Elite Daily