বাগো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাগো (পূর্বের বানান পেগু[১]; বর্মী: ပဲခူးမြို့), যা হানতাওয়াদি নামে পরিচিত ছিল, মিয়ানমারের বাগো অঞ্চলের রাজধানী এবং একটি শহর। এটি ইয়াঙ্গুনের উত্তর-পূর্বে ৯১ কিলোমিটার (৫৭ মাইল) দূরে অবস্থিত।

বাগো

ပဲခူးမြို့
শহর
বাগো স্কাইলাইন
বাগো মিয়ানমার-এ অবস্থিত
বাগো
বাগো
মিয়ানমারে বাগোর অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ১৭°২০′১২″ উত্তর ৯৬°২৮′৪৭″ পূর্ব / ১৭.৩৩৬৬৭° উত্তর ৯৬.৪৭৯৭২° পূর্ব / 17.33667; 96.47972
দেশ মিয়ানমার
বিভাগ বাগো অঞ্চল
শহরাঞ্চলবাগো শহরাঞ্চল
প্রতিষ্ঠা১১৫২ খ্রিস্টাব্দ
উচ্চতা১৩ ফুট (৪ মিটার)
জনসংখ্যা (২০১৪)
 • মোট২,৫৪,৪২৪
 • নৃগোষ্ঠীবামার শান বর্মী চীনা বর্মী ভারতীয় কাড়েন
 • ধর্মবৌদ্ধধর্ম
সময় অঞ্চলমায়ানমার মান সময় (ইউটিসি+ ৬.৩০)

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

বর্মী নাম বাগো (ပဲခူး) সম্ভবত মন ভাষার স্থানের নাম বাগাও (মন ভাষা: ဗ ဂေါ,) থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে বর্মী সরকার সারা দেশে ইংরেজি স্থানের নাম পরিবর্তন না করা পর্যন্ত বাগো পেগু নামে পরিচিত ছিল। বাগো আগে হানতাওয়াদি (বর্মী: ဟံသာဝတီ; মন: ဟံသာ ဝ တဳ হংসাওয়াতোয়ী; পালি: হাশবতী) নামে পরিচিত ছিল, এটি একটি বর্মী-মন রাজ্যের নাম।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

শোয়েথালইয়াউং বৌদ্ধ মন্দিরে বুদ্ধের ৫৪ মিটার (১৭৭ ফুট) প্রতিমা। এটি ৯৯৪ সালে রাজা মিগাদেপা দ্বারা তৈরি হয়েছে।

মন ভাষার বিভিন্ন বর্ষপঞ্জিতে বাগোর প্রতিষ্ঠা তারিখগুলো প্রকাশিত হয়, এদের মধ্যে ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১১৫২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সালের উল্লেখ রয়েছে। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে বর্মী প্রশাসনিক গ্রন্থ জাবু কুঞ্চা অনুযায়ী পেগু ১২৭৬/৭৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[২] চীনা সূত্রগুলো রাজা সপ্তম জয়াভরমন যে ১১৯৯ সালে পেগুকে খমের সাম্রাজ্যের ভূখণ্ডে যুক্ত করেছে তার উল্লেখ করে।[৩] স্থান হিসেবে পেগুর প্রথম দিকের প্রমাণ কেবল প্যাগান আমলের (১২১২ এবং ১২৬৬) শেষ অবধিতে পাওয়া যায়। তখন এটি প্রাদেশিক রাজধানী নয়, মাত্র একটি ছোট শহর ছিল। প্যাগান সাম্রাজ্যের পতনের পরে, বাগো ১২৯০ এর দশকে হানতাওয়াদি রাজ্যের অংশ হয়ে যায়।

এই অঞ্চলটি মন ভাষাভাষীর রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল হওয়ায় ছোট বসতিটি ১৪ শতাব্দীতে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৩৬৯ সালে, রাজা বিন্নইয়া উ বাগোকে রাজধানী করেছিলেন। ১৫৩৮ সালে রাজ্যের পতনের আগ পর্যন্ত এই শহরটি রাজধানী ছিল।

রাজা রাজাদারিতের রাজত্বকালে বাগো এবং আভা রাজ্য চল্লিশ বছরের যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। রানী শিন সাওবু যখন বৌদ্ধ ভিক্ষু ধামমাজেদীকে (১৪৭১-১৪৯২) তার উত্তরসূরির জন্য বেছে নেয় তখন রানীর শান্তিপূর্ণ রাজত্বের অবসান ঘটে। ধামমাজেদির অধীনে বাগো বাণিজ্য ও থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্মের কেন্দ্রে পরিণত হয়।

১৫১৯ সালে, কোচিনের পর্তুগিজ বসতি ক্যাসাডো থেকে আগত ব্যবসায়ী আন্তোনিও কোরিয়া বাগোতে অবতরণ করেন। বাগ তখন পর্তুগিজদের কাছে পেগু নামে পরিচিত ছিল। তিনি কোচিন থেকে মরিচের জন্য নতুন বাজারের সন্ধান করেছিলেন।[৪][৫] এক বছর পরে পর্তুগিজ ভারতের গভর্নর ডায়োগো লোপস ডি সেকুইরা পেগুতে একজন রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করেছিলেন।

একটি প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসাবে, শহরটিতে প্রায়শই ইউরোপীয়রা আসত। এর মধ্যে ১৫০০ এর দশকের শেষদিকে গ্যাসপারো বালবি এবং রাল্ফ ফিচ এখানে এসেছিল। ইউরোপীয়রা প্রায়শই এর বিশালতা সম্পর্কে মন্তব্য করেছিল।

১৫৯৯ সালে টাঙ্গোট ও আরাকানের রাজাদের দ্বারা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর পেরুতে পর্তুগিজ বিজয়কে ম্যানুয়েল দে আব্রেউ মৌসিনহো বর্ণনা করেছিলেন ''Breve discurso em que se conta a conquista do Reino do Pegú na India oriental feita pelos portugueses em tempo do vice-rei Aires de Saldanha, sendo capitão Salvador Ribeiro de Sousa, chamado Massinga, natural de Guimarães, a quem os naturais do Pegú elegeram por seu rei no ano de 1600" (পূর্ব ভারতের পেগু বিজয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা যখন ভাইসরয় আয়েরস সাল সালদানার সময়ে অধিনায়ক সালভাদোর রিবেইরো দে সউসা, ম্যাসিঙ্গা নামে পরিচিত, ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাজা হিসাবে নির্বাচিত ছিলেন) নামক বইয়ে। ফার্নো মেন্ডেসের "পেরেগ্রিনিয়াম" এর সাথে এটি ১৭১১ থেকে ১৮২৯ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছিল।

রাজধানীটি টুঙ্গুর ভাইসরয়, টুঙ্গুর দ্বিতীয় মিনে থিহথু দ্বারা লুট করা হয়েছিল এবং তারপরে বর্মী-সিয়ামীয় যুদ্ধের সময় (১৫৯৪-১৬০৫) রাখাইনের ভাইসরয় দ্বারা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজা নন্দা বাইন এটি পরিত্যাগ করার পর থেকে নির্জন হওয়ার পর রাজা আনউকপেটলুন হংকসওয়াদিকে পুনর্নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি কেবলমাত্র একটি অস্থায়ী প্রাসাদ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল।[৬]

বর্মী রাজধানী ১৬৩৪ সালে আভাতে স্থানান্তরিত হয়। ১৭৪০ সালে মন গোষ্ঠী বিদ্রোহ করে পুনরুদ্ধার হানতাওয়াদি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। তবে, ১৭৫৭ সালের মে মাসে এক বামার রাজা আলাউংপায়া শহরটি দখল করেছিলেন।

বাগো রাজা বোদাওয়াপায়া (রাজত্ব ১৭৮২-১৮১৯) পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। তবে ততক্ষণে নদীটি শহরটিকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে পথ পরিবর্তন করেছিল। এটি পূর্বের গুরুত্বটি কখনই অর্জন করতে পারেনি। দ্বিতীয় অ্যাংলো-বর্মী যুদ্ধের পরে, ব্রিটিশরা ১৮৫২ সালে বাগোকে দখল করে। ১৮৬২ সালে ব্রিটিশ বার্মা প্রদেশটি গঠিত হয় এবং রাজধানী ইয়াঙ্গুনে স্থানান্তরিত হয়। বর্মী শব্দ ও উচ্চারণের সাথে ব্রিটিশদের উচ্চারণে যথেষ্ট পার্থক্য থাকায় বাগোর নাম ''পেগু'' নামে পরিচিত হয়।

১৯১১ সালে, হানতাওয়াদিকে নিচু বার্মার বাগো (বা পেগু) অঞ্চলের একটি জেলা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল। এটি ইয়াঙ্গুন জেলাতে অবস্থিত, যেখান থেকে এই শহরটি ১৮৮০ সালে একটি পৃথক জেলা তৈরি করতে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। এর ক্ষেত্রফল ৭,৮৩০ বর্গ কিলোমিটার (৩,০২৩ বর্গমাইল)। ১৯০১ সালে এর জনসংখ্যা ছিল ৪৮,৪১১ জন। গত দশকে জনসংখ্যা ২২% বৃদ্ধি পেয়েছে। হানতাওয়াদি এবং হিনতাদা এই প্রদেশের দুটি সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা ছিল।

হানতাওয়াদি, যেমনটি ১৯১১ সালে গঠিত হয়েছিল, ইরাবদী নদী এবং পেগু রেঞ্জের মাঝামাঝি সমুদ্র থেকে প্রসারিত বিস্তৃত সমভূমি দ্বারা তৈরি। জেলার সদর দপ্তর ছিল রাঙ্গুনে, যা একটি উপ-বিভাগীয় সদর দপ্তরও ছিল। দ্বিতীয় উপ-বিভাগটির সদর দপ্তর ইনসেইনে ছিল, যেখানে বিশাল রেলওয়ের কাজ ছিল। চাষাবাদ প্রায় পুরোপুরি ভাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তবে এখানে প্রচুর শাকসবজি এবং ফলের বাগান ছিল।

বর্তমানে হানতাওয়াদি বাগো শহরের একটি ওয়ার্ড।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১৪[সম্পাদনা]

২০১৪ মিয়ানমার আদমশুমারি অনযায়ী বাগোর জনসংখ্যা ছিল ২,৫৪,৪২৪ জন যা বাগো শহরাঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ৫১.৮%।[৭] বাগো ৩৪টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।[৭]

জলবায়ু[সম্পাদনা]

বাগো, মিয়ানমার (১৯৮১–২০১০)-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
উৎস: Norwegian Meteorological Institute[৮]

উল্লেখযোগ্য স্থান[সম্পাদনা]

মাহাযেদি প্যাগোডা থেকে তোলা ছবি।
  • শোয়েথালইয়াউং বৌদ্ধ মন্দির
  • শোয়েমাওদাও প্যাগোডা
  • কিয়াকপুন প্যাগোডা
  • কানবাওযাথআদি প্রাসাদ
  • কালইয়ানি অরডিনেশন হল
  • মাহাযেদি প্যাগোডা
  • শোয়েগুগইইয়ি প্যাগোডা
  • শোয়েগুগালে প্যাগোডা
  • বাগো সিতাউং খাল

খেলা[সম্পাদনা]

  • গ্র্যান্ড রয়াল স্টেডিয়াম

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

  • বাগো জেনারেল হাসপাতাল (৫০০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল)
  • বাগো ঐতিহ্যগত ঔষধ হাসপাতাল

শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • বাগো বিশ্ববিদ্যালয়
  • বেসিক এডুকেশন হাই স্কুল নং. ১ বাগো
  • বেসিক এডুকেশন হাই স্কুল নং. ৩ বাগো

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. চিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "Pegu"। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ21 (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা 58। [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্রসহ ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে উদ্ধৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে]]
  2. Aung-Thwin 2017: 332
  3. Chatterji, B. (1939). JAYAVARMAN VII (1181-1201 A.D.) (The last of the great monarchs of Cambodia). Proceedings of the Indian History Congress, 3, 380. Retrieved September, 2 2020, from www.jstor.org/stable/44252387
  4. Luís Filipe Tomás (১৯৭৬)। "A viagem de António Correia a Pegu em 1519" (PDF) (portuguese ভাষায়)। Junta de Investigações do Ultramar, [Lisboa]। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-০৫ 
  5. Malekandathil, Pius M C (২০১০-১০-২৬)। "ORIGIN AND GROWTH OF LUSO-INDIAN COMMUNITY in Portuguese Cochin and the maritime trade of India, 1500-6663" (PDF)। Pondicherry University। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-০৫ |
  6. Rajanubhab, D., 2001, Our Wars With the Burmese, Bangkok: White Lotus Co. Ltd., আইএসবিএন ৯৭৪৭৫৩৪৫৮৪
  7. "Bago Township Report" (PDF)2014 Myanmar Population and Housing Census। অক্টোবর ২০১৭। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  8. "Myanmar Climate Report" (PDF)। Norwegian Meteorological Institute। পৃষ্ঠা 23–36। ৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০১৮ 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

International Dictionary of Historic Places: Asia and Oceania