বিষয়বস্তুতে চলুন

বাগদাদি জাদুঘর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাগদাদি জাদুঘর
المتحف البغدادي
বাগদাদি জাদুঘরের বাইরে
মানচিত্র
স্থাপিত১৯৪০
ভাঙ্গা হয়২০০৩ সালে এবং ২০০৮ সালে পুনরায় খোলা হয়
অবস্থানবাগদাদ, ইরাক
ধরনইতিহাস জাদুঘর
সংগ্রহলোকশিল্প, ব্যবসা, পেশা, স্থানীয় রীতিনীতি এবং রাস্তার জীবন

বাগদাদি জাদুঘর (আরবি: المتحف البغدادي) একটি স্থানীয় ইতিহাস জাদুঘর এবং একটি পর্যটন আকর্ষণ যা ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত।[][] এটি ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।[]

জাদুঘরটি দজলা নদীর কাছে আল-রুসাফা জেলায় অবস্থিত যেখানে এটি ১৮৬৯ সালের পুরাতন একটি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে।[] এটি বিভিন্ন সময়ের ৭০টি দৃশ্য উপস্থাপন করে যেখানে জীবন-আকারের মডেলের মাধ্যমে বাগদাদের জীবনধারা চিত্রিত হয়েছে। বিশেষ করে লোকজ কারুশিল্প, পেশা, প্রথা এবং রাস্তার জীবনের দৃশ্য। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন আক্রমণের কারণে জাদুঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।[] এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৮ সালের আগস্টে পুনরায় খোলা হয়।

বিষয়বস্তু

[সম্পাদনা]

জাদুঘরটি বাগদাদের ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক সময়কালকে নথিভুক্ত করে এবং ঐ সময়ের বাগদাদি জনগণের জীবনের বিস্তারিত তুলে ধরে। ফলস্বরূপ জাদুঘরটিতে পুরাতন সময়ের শিল্প উপকরণ, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রসহ ৭৭টি দৃশ্যে বিভক্ত ৩৮৫টি মূর্তি মডেল সংরক্ষিত রয়েছে। এই দৃশ্যগুলোর নান্দনিকতা ও বাস্তবতা জীবনযাত্রার সরলতা এবং সংহতি পুনরুদ্ধার করে যা প্রদর্শন করে কীভাবে বাগদাদি পরিবারগুলি তাদের জীবনের রীতিনীতি ও লোকজ ঐতিহ্য চর্চা করত সেইসঙ্গে গৃহস্থালির সরঞ্জাম এবং সামগ্রী ব্যবহার করত। জাদুঘরটি প্রাচীন বাগদাদিদের লোকসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার পাশাপাশি তাদের সমৃদ্ধ সামাজিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও তুলে ধরতে সহায়তা করে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাগদাদের অতীত সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।[]

জাদুঘরের একটি দৃশ্য যেখানে বাগদাদির জাফা উপস্থাপিত হয়েছে।

একটি দৃশ্যে পুরানো বাগদাদি পরিবারের মাতৃতান্ত্রিকতা তুলে ধরা হয়েছে যেখানে "উম ইব্রাহিম" চরিত্রটি তার ছেলে “ইব্রাহিম”-কে বিয়ের পরপরই মায়ের কথা ভুলে স্ত্রীর সঙ্গে চলে যাওয়ায় তিরস্কার করছেন। এটি অনেক প্রাচ্য সমাজে দেখা যায় এমন মায়েদের ছেলের প্রতি আবেগ ও সংযুক্তির প্রতিফলন। আরেকটি দৃশ্যে "জাফা" অনুষ্ঠানের চিত্র দেখা যায় যেখানে কনে তার পরিবার ও নারী বন্ধুদের সঙ্গে সঙ্গীত, নাচ ও করতালির মাধ্যমে বরের বাড়িতে যাত্রা করেন। অংশগ্রহণকারীরা বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত থাকে। অন্যান্য দৃশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ইরাকি মাকাম গায়ক ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী, খৎনার অনুষ্ঠান, বিকেলের চা-চক্র এবং আরও অনেক দৃশ্য। জাদুঘরের দৃশ্যগুলোকে 'আরব্য রজনি'-এর মতো মনে হয়। কারণ এখানে প্রাচীন বাগদাদি সংস্কৃতির উপস্থাপন একরকম গল্পের মতোই জীবন্তভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।[]

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Baghdadi Museum"TripAdvisor। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪
  2. {{ওয়েব উদ্ধৃতি |শিরোনাম=ইরাকিরা পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার স্মরণে আল-বাগদাদি জাদুঘর পরিদর্শন করে-Xinhua |url=https://english.news.cn/20221023/228c28b46f434eeea76f8b65f1476d4c/c.html |access-date=১৪ নভেম্বর ২০২৪ |website=english.news.cn}}
  3. 1 2 "বাগদাদি জাদুঘরে প্রাণ ফিরিয়ে আনার প্রচারণা"Iraq Directory। ২৪ এপ্রিল ২০০৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪
  4. "বাগদাদি জাদুঘরে প্রাণ ফিরিয়ে আনার প্রচারণা"Baghdad Creative City of Literature। ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪
  5. "المتحف البغدادي.. فلكلور شعبي ومعلم تراثي يضاهي المتاحف العالمية"مركز الاعلام الدولي (আরবি ভাষায়)। ১৫ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২৪
  6. "Baghdadi Museum Folklore Celebrates Old Ways of Iraq"thearabweekly.com